বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৫ / ১০০ · ২,৪০১২,৫০০ / ১০,০৪৫

২,৪০১.
কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের কী ঘটে?
  1. বর্জন হয়
  2. পরিবর্তিত হয়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়। এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি।

গুণ:
(ক) ই, ঈ-স্থলে এ,
(খ) উ, ঊ-স্থলে ও,
(গ) ঋ-স্থলে অর্ হয়।
যেমন -
→ চিন্ + আ =চেনা (ই স্থলে এ হলো); √নী + আ = নেওয়া (ঈ স্থলে এ); √ধু + আ = ধোয়া (উ স্থলে ও); কৃ + তা = করতা > কর্তা (ঋ স্থলে অর্)।

বৃদ্ধি:
(ক) অ-স্থলে আ,
(খ) ই ও ঈ-স্থলে ঐ,
(গ) উ ও উ স্থলে ঔ,
(ঘ) ঋ-স্থলে আর্ হয়।
যেমন -
→ পচ্ + অ (ণক) = পাচক (পচ-এর অ স্থলে 'আ'); শিশু + অ (ষ্ণ)= শৈশব (ই স্থলে ঐ); যুব + অন= যৌবন (উ স্থলে ঔ); কৃ + ঘ্যণ = কার্য (ঋ স্থলে আর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪০২.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) গায়ক
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ: যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায়না তাকে মৌলিক শব্দ বলে যেমন:
- লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ। 

অন্যদিকে,
যোগরুঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যেসব শব্দ সর্ম্পূণভাবে সমস্যমান পদ  সমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরুঢ় শব্দ বলে।
- গায়ক- যৌগিক শব্দ যেমন: (গৈ+অক) গায়ক অর্থ গান করে যে 

রূঢ়ি শব্দ : 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।
আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস:  ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪০৩.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. খান-খানম
  2. মুহতারিম-মুহতারিমা
  3. মরদ-জেনানা
  4. কর্তা-কর্ত্রী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম-মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪০৪.
কোনটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) রোগমুক্ত
  2. খ) অকালপক্ব
  3. গ) রাতকানা
  4. ঘ) ঈশ্বরদত্ত
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অকালে পক্ব = অকালপক্ব ও রাতে কানা = রাতকানা সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত তৃতীয় তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৫.
সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হয়ে যে সমাস হয়, তাকে বলে-
  1. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• একশেষ দ্বন্দ্ব:
যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব। অন্যভাবে, যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয়  এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন:
- ভাই ও বোন = ভাই-বোন,
- মা ও বাপ = মা-বাপ,
- মাসি ও পিসি = মাসি-পিসি,
- চা ও বিস্কুট = চা-বিস্কুট, 
- মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত ইত্যাদি। 

• বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ,
- দিন ও রাত = দিনরাত,
- টক ও মিষ্টি = টকমিষ্টি,
- দেশে ও বিদেশে = দেশেবিদেশে,
- আয় ও ব্যয় = আয়-ব্যয়,
- জমা ও খরচ = জমা-খরচ,
- লাভ ও লোকসান = লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 

• বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- তেল, নুন ও লাকড়ি = তেল-নুন-লাকড়ি।
- সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি।
- স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৬.
কোনটি ধ্বনাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ক) ব্যাপার-স্যাপার
  2. খ) ফুসুর ফুসুর
  3. গ) কবি কবি
  4. ঘ) জ্বর জ্বর
ব্যাখ্যা
• শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার। যথা: 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুক ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, হিস হিস, ফুসুর ফুসুর

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪০৭.
‘সুরঙ্গ’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. অর্ধ-তৎসম
  3. আরবি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

সুরঙ্গ সংস্কৃত বা তৎসম ভাষার শব্দ।

সুরঙ্গ (বিশেষণ):
অর্থ -
১. অতি উজ্জ্বল রং বিশিষ্ট
২. সুড়ঙ্গ
শব্দের উৎস: সংস্কৃত {সু + রঙ্গ}

তৎসম ভাষার আরো শব্দ হল: অঞ্চল, পাত্র, পুত্র, ফল, পঞ্চম, ভাত, মানব, রাত্রি, ধর্ম, নদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৪০৮.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. রামছাগল
  2. সাজিরা
  3. প্রচলন
  4. সার্বভৌম
ব্যাখ্যা

• সার্বভৌম - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'সার্বভৌম' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : সর্বভূমি  + ষ্ণ।

অন্যদিকে,
- রামছাগল - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'রাম' রয়েছে।
- সাজিরা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'সা' রয়েছে।
- প্রচলন - তৎসম উপসর্গ 'প্র' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪০৯.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) বালিকাটি সুন্দর
  2. খ) নারীটি সুন্দর
  3. গ) মেয়েটি বিদ্বান
  4. ঘ) সুন্দর নারী
ব্যাখ্যা
বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।
যেমন : 
‘মেয়েটি সুন্দরী’ বলা যাবে না। বলতে হবে :
- মেয়েটি সুন্দর।
- সুন্দরী নারী।
- বালিকাটি সুন্দর।
- নারীটি সুন্দর। 
- মেয়েটি বিদ্বান। 
- মেয়েটি পাগল। 
- বালিকাটি অস্থির।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বই।
২,৪১০.
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. চা 
  2. চাহিদা 
  3. চাটাই 
  4. চাবি
ব্যাখ্যা

• চাবি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 



পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তুরুপ, তোয়ালে।

অন্যদিকে, 
• 'চা' চীনা শব্দ। 
• বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে 'চাহিদা' বাংলা শব্দ। এবং নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুসারে 'চাহিদা' পাঞ্জাবি ভাষার শব্দ। 
• 'চাটাই' দেশি শব্দ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৪১১.
‘ঝাল-টাল’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  2. বিভক্তিহীন শব্দদ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  4. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম।

অন্যদিকে: 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন-
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
- কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
 যেমন
- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
- ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
- কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪১২.
'উদ্বেল' শব্দটি কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
  1. চিন্তিত অর্থে
  2. আবেগ অর্থে
  3. অতিক্রান্ত অর্থে
  4. সামীপ্য অর্থে
ব্যাখ্যা
• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।
যথা:
- বেলাকে অতিক্রম = উদ্বেল;
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রম = উচ্ছৃঙ্খল;
- নুনের অভাব = আলুনি;
- ইষৎ উষ্ণ = ঈষদুষ্ণ;
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪১৩.
অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৪.
‘খয়ের’ শব্দটি কোন দেশীয় উপসর্গ?
  1. ক) উর্দু
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বিদেশি উপসর্গ নিম্নরূপ 
হিন্দি/উর্দু - হর।
আরবি - আম, খাস, লা, গর, খয়ের 
ফারসি - কার, কদ, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ডঃ সৌমিত্র শেখর।

২,৪১৫.
কোন সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না?
  1. ক) প্রাদি সমাস
  2. খ) নিত্য সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) অলুক সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না কিংবা তা করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য লাগে তাকে নিত্য সমাস বলে।
ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা ব্যাকাংশ যোগ করে এগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ করতে হয়।
যেমন : গ্রামান্তর = অন্য গ্রাম। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
২,৪১৬.
অবলম্বনের 'অব' উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. নিম্নে
  2. সম্যকভাবে
  3. প্রতিকূল
  4. প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
• 'অবলম্বন' শব্দে 'অব' উপসর্গটি 'সম্যক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার:
- অল্পতা অর্থে = অবশেষ, অবসান, অবেলা।
- হীনতা অর্থে = অবজ্ঞা, অবমাননা।
- নিম্নমুখী অর্থে = অবতরণ।
- সম্যকভাবে অর্থে = অবরোধ, অবগাহন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৭.
দ্বন্দ্ব সমাসে কোন পদের প্রাধান্য থাকে?
  1. পূর্বপদ
  2. পরপদ
  3. উভয়পদ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।  
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। 

অন্যদিকে: 
- দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪১৮.
কোনটি গ্রিক শব্দ?
  1. ডেঙ্গু 
  2. দাম
  3. সুড়ঙ্গ 
  4. ভবন
ব্যাখ্যা
• দাম (বিশেষ্য): 
- গ্রিক শব্দ।
অর্থ:
- মূল্য; ক্রয়-বিক্রয়ে দ্রব্যের বিনিময় নির্ধারণ;
- দর (ভাল দেখে কিনে লয় দিয়ে ভাল দাম-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর)। 
- বেতন; মজুরি। 
- বেশি মূল্য (কয় মণ পাট রেখেছিলাম, দামে বেচব-শওকত ওসমান)। 
- আলঙ্কারিক; মর্যাদা (কথার দাম)।

অন্যদিকে, 
• ডেঙ্গু (বিশেষ্য): 
- স্প্যানিশ শব্দ।
অর্থ:
এডিস মশাবাহিত ভাইরাস- জনিত ক্রান্তীয় অঞ্ছলের প্রাঙহাতী রগবিশেশ যার ফলে রক্তক্ষরণ - সহ গাঁট ও মাংস্পেশিতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

• সুরঙ্গ, সুড়ঙ্গ (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতি উজ্জ্বল রংবিশিষ্ট (যদ্যপি কনক অসি দেখিতে সুরঙ্গ কোথাও কাটিছে কেবা আপনার অঙ্গ-দৌলত উজির বাহরাম খান)। 

• ভবন (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
আলয়, গৃহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪১৯.
'কাঁচকলা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪২০.
'পাঠ্য' শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত হয়েছে?
  1. সংস্কৃত
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• ‘পঠ্‌’ সংস্কৃত ধাতু।
এটি দ্বারা গঠিত শব্দ- পঠন, পাঠ্য, পঠিত, পাঠক ইত্যাদি।
-------------------------
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এসকল ক্রিয়াপদেরমূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ধাতু ৩ প্রকার। যথা-
- মৌলিক ধাতু
- সাধিত ধাতু ও
- যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা ধাতু
- সংস্কৃত ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,

সংস্কৃত মূল ধাতু: 
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪২১.
'বর, ব, কম' কোন শ্রেণির উপসর্গ?
  1. দেশি উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বর, ব, কম - বিদেশি উপসর্গ (ফারসি উপসর্গ)।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪২২.
"অনুতাপ" শব্দে 'অনু' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পৌনঃপুন
  2. সঙ্গে
  3. পশ্চাত
  4. সাদৃশ্য
ব্যাখ্যা
'অনু' উপসর্গের ব্যব্যহার:
পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪২৩.
কোন পদের সঙ্গে "-টা, -টি" নির্দেশক বসে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
"-টা, -টি" নির্দেশকের ব্যবহার:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
যেমন,
- বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪২৪.
নিচের কোন শব্দটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) জীবন
  2. খ) গোয়ালা
  3. গ) গেট
  4. ঘ) ডিঙ্গি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
জীবন- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• প্রকৃতি- প্রত্যয়- জীব + অন।
• জীবন শব্দের অর্থ- প্রাণ, প্রাণধারণ, জীবৎকাল, আয়ু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,৪২৫.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. গুটিশুটি
  3. হাতে হাতে
  4. ঘুম ঘুম
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - হাতে হাতে; ঘুম ঘুম।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - ঠুকঠুক, কুটুস-কুটুস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২,৪২৬.
'ঊনবিংশতিতম' কোন সংখ্যার পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ?
  1. ১৯
  2. ২০১৯
  3. ১৯০০
  4. ৯৯
ব্যাখ্যা
১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যােগ করা হয়। যথা:
উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম),
বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম),
একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম),
আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম),
উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম),
আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম),
নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম),
নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২,৪২৭.
নিচের কোনটি 'কোরক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. ক) √ কুর্ + অক
  2. খ) √ কুর্ + নক
  3. গ) √ কুর্ + অ
  4. ঘ) √ কুর্ + নিক
ব্যাখ্যা
কোরক (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √কুর্+অক। 

• অর্থ:
→ মুকুল,
→ কলিকা,
→ কুঁড়ি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪২৮.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. জ্বলজ্বল
  2. ঝমঝম
  3. ঝিকিমিকি
  4. জ্বর জ্বর
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুবার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম. শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
অয়-টয়, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্টু-ফাট্টু, আগড়ম বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার। 

অনুকার ভিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, মোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, বারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
-----------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধান্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন-  সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল। অনেক সময়ে কল্পিত রানির ভিত্তিতের ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন- ফোড়া টনটন করে, গা ছমহন করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ
কুট-কুট, কোঁত-কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক-খক, দুম-দুম, ঢং-ঢং, চক-চক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে লন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে আাজানির আগমন ঘটে। যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত হলে তাকে পুনরাবৃত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন। জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথার জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (বাথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু(মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাগ), মনে মনে (হাস্য), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)। 

২,৪২৯.
কোনটি সঠিক প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. √নন্দ + অন = নন্দন
  2. প্রাচ্‌ + য = প্রাচ্য
  3. √দৃশ্‌ + নীয় = দর্শনীয়
  4. দিন + এক = দৈনিক
ব্যাখ্যা
- 'প্রাচ্য' শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 
- 'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্‌ + য। 

অন্যদিকে:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √নন্দি + অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √দৃশ্‌ + অনীয়।
- 'দৈনিক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়- দিন + ইক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪৩০.
'ডুবুরী' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ডুব্ + ঊরি
  2. √ডুব্ + ওরি
  3. √ডুব্ + আরি
  4. √ডুব্ + অরী
ব্যাখ্যা
• আরি বা আরী বিকল্পে রি / উরি- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো:
যেমন:
- √ডুব্ + আরি / উরি = ডুবুরী।

এরূপ কিছু কৃৎ-প্রত্যয়ের নিয়ম হলো:
• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ = √দা+তা = দাতা।
- √মা + তৃচ = √মা+তা = মাতা।

• সংস্কৃত অল্-প্রত্যয় এর (ল ইৎ হয়ে, অ থাকে):
- √জি + অল্ = জয়।
- √ক্ষি + অল্ = ক্ষয়।

• সংস্কৃত ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
যেমন:
- √পঠ্‌ + ণক = √পঠ্‌ + অক = পাঠক।

মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন-
- গৈ + ণক = গায়ক।
- √লিখ্‌ + ণক = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৩১.
কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. দিনরাত
  2. চোখেমুখে
  3. হাটবাজার
  4. অহিনকুল
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দিন ও রাত = দিনরাত; বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- হাট ও বাজার = হাটবাজার; সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- অহি ও নকুল = অহিনকুল; বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৩২.
মনমাঝি-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মনের মাঝি
  2. খ) মন রূপ মাঝি
  3. গ) মন মাঝির ন্যায়
  4. ঘ) মন ও মাঝি
ব্যাখ্যা

রূপক কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে ‘রূপ’ শব্দটি অথবা ‘ই’ শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ‘মন রূপ মাঝি = মনমাঝি’। এখানে ‘মন’ উপমেয় ও ‘মাঝি’ উপমান। কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৩৩.
'চোখের বালি' - কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. তৃতীয় 
  2. দ্বিতীয়া 
  3. অলুক
  4. চতুর্থী 
ব্যাখ্যা

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৩৪.
'সাজিরা' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'সাজিরা' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'সা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - সাজোয়ান, সাজিরা।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৩৫.
নিচের কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. পেরেক
  2. চাকু
  3. বোতাম
  4. পিস্তল
ব্যাখ্যা

• "চাকু" শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ফলাযুক্ত ছুরি।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজ শব্দ - পেরেক, বোতাম। 
ফরাসি শব্দ - পিস্তল।

আরো কয়েকটি তুর্কি শব্দ:
- কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৪৩৬.
'নীলবসনা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- হত হয়েছে যার শ্রী = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ, 
- পীত অম্বর যার = পীতাম্বর,
- নীল বসন যার = নীলবসনা (স্ত্রী),
- সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী,
- পুণ্য আত্মা যার = পুণ্যাত্মা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৩৭.
নিচের কোনটি তুর্কি ভাষার শব্দ?
  1. চাবি
  2. চাকু
  3. চামচ 
  4. চাবুক 
ব্যাখ্যা


 
 • তুর্কি ভাষার কিছু শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, চাকু, তুরক, তুরগ, বেগম, বাবা।

অন্যদিকে, 
----------------                    
• 'চাবি' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• 'চামচ' একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। এটি 'চমস' তৎসম শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
• 'চাবুক' ফারসি ভাষার শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।

২,৪৩৮.
'সাহিত্যসভা' এর সঠিক ব্যাস বাক্য কোনটি?
  1. ক) সাহিত্য রূপ সভা
  2. খ) সাহিত্য এবং সভা
  3. গ) সাহিত্য বিষয়ক সভা
  4. ঘ) সাহিত্য রচনা করে যে সভা
ব্যাখ্যা
'সাহিত্যসভা' এর সঠিক ব্যাস বাক্য = সাহিত্য বিষয়ক সভা
এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- 

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৩৯.
'জান্নাত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'জান্নাত' (বিশেষ্য)
- আরবি ভাষার শব্দ।
এর অর্থ:
- বেহেশত,
- স্বর্গ,
- অমর্ত্যলোক,
- স্বর্গের উদ্যান।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৪৪০.
‘হস্তী’ শব্দটির রূঢ়ি অর্থ নিচের কোনটি?
  1. হস্ত আছে যার
  2. বৃহদাকার পশু
  3. হাতের কারিগর
  4. শক্তিশালী যোদ্ধা
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৪১.
‘হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন?’ বাক্যে হাত’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আয়ত্তে আনা
  2. হস্তচ্যুত হওয়া
  3. কার্যে বিরতি
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
• হাত শব্দের ভিন্নার্থক প্রয়োগ: 
- কাজ করতে করতেই কাজে হাত আসবে। (দক্ষতা)
- হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন? (কার্যে বিরতি)
- সাহেবকে হাত করতে পারলেই কাজ হবে। (আয়ত্তে আনা)
- টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না। (হস্তচ্যুত)
- এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই। (প্রভাব)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২,৪৪২.
'প্রতাপ' শব্দে ‘প্র’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য অর্থে
  2. পরম্পরা অর্থে
  3. সম্যক অর্থে
  4. খ্যাতি অর্থে
ব্যাখ্যা
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪৩.
'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দরী
  2. ষোড়শী
  3. জেনানা
  4. খানম
ব্যাখ্যা
• 'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ — 'জেনানা'।

এখানে,
'মরদ' শব্দের অর্থ - পুরুষ, পতি। 
'জেনানা' শব্দের অর্থ - পত্নী, নারী।

• যেসব স্ত্রীবাচক শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে আগত তাদেরকে বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন-
- খান-খানম, 
- মরদ-জেনানা,
- মালেক-মালেকা, 

অন্যদিকে,
• সুন্দর - সুন্দরী,
• ষোড়শ - ষোড়শী
• খান - খানম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৪৪.
নিচের কোনটি সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) ঘুমা
  2. খ) পড়া
  3. গ) যোগ কর
  4. ঘ) কাট্‌
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
ধাতু ৩ প্রকারের। যথা -
১. মৌলিক ধাতু, 
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু। 

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলো সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন - চল্‌, পড়, কর্‌, শো, হ, খা ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা -
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।
=======================
অন্যদিকে, 
পড়া, ঘুমা- সাধিত ধাতুর উদাহরণ। 
যোগ কর- যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু। 

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয় তাই সংযোগমূলোক ধাতু।
যোগ(বিশেষ্য) + কর্‌(ধাতু) = 'যোগ কর'(সংযোগমূলোক ধাতু।

• সাধিত ধাতু: 
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে ‘আ’ প্রত্যয় যোগে সাধিত ধাতু গঠিত হয়।
- আবার যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করলে এক বা একাধিক প্রত্যয় পাওয়া যায় তাকেও সাধিত ধাতু বলা হয়।
যেমন:
- দেখ্‌ + আ= দেখা।
- পড়্‌ + আ = পোড়া।
- বল্‌ + আ = বলা।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৪৫.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভরপুর
  2. গরমিল
  3. আনকোরা
  4. উপনয়ন
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘গর’ যোগে গঠিত শব্দ- গরমিল।

অন্যদিকে,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - ভরপুর ও আনকোরা।
• তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- উপনয়ন।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪৬.
বাংলা উপসর্গ মোট কয়টি?
  1. ১৯ টি
  2. ২০ টি
  3. ২১ টি
  4. ২২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪৪৭.
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণিবিভাগ সম্ভব। যেমন: শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণিবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি।
যেমন:
• উৎস বিবেচনায় শব্দ — ৪ প্রকার।
যথা:
- তৎসম শব্দ;
- তদ্ভব শব্দ,
- দেশি শব্দ;
- বিদেশি শব্দ।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ২০১৯ অর্থ্যাৎ পুরাতন সংস্করণে উৎস বিবেচনায় শব্দকে ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমান ব্যাকরণ থেকে অর্ধ-তৎসম শব্দশ্রেণি বাদ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, শব্দের উৎস বিবেচনায় ৪ শ্রেণিতে বিভক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে।

• গঠন বিবেচনায় শব্দ ২ প্রকার।
যথা:
- মৌলিক শব্দ;
- সাধিত শব্দ।

• পদ বিবেচনায় শব্দ ৮ প্রকার।
যথা:
- বিশেষ্য;
- বিশেষণ,
- সর্বনাম;
- ক্রিয়া;
- ক্রিয়া বিশেষণ;
- যোজক;
- অনুসর্গ;
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৪৮.
উপমান কর্মধারয় সমাসের ক্ষেত্রে পরপদ সাধারণত কী হয়?
  1. অব্যয়
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৪৯.
কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলে?
  1. উপপদ
  2. প্রাতিপদিক
  3. প্রপদ
  4. পূর্বপদ
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় - কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ।

অন্যভাবে বলা যায় -
কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। 
যেমন: কুম্ভকার = কুম্ভ + কৃ + অ; এখানে ‘কুম্ভ’ উপপদ।

সুতরাং,
- কৃদন্ত পদের আগে নামপদ যুক্ত হলে থাকে উপপদ বলে।
- আর এই সমাসকে বলা হয় উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন : ছেলেধরা। এখানে, 'ধরা' কৃদন্ত পদের পূর্বে 'ছেলে' নাম পদ যুক্ত হয়েছে বলে 'ছেলে' শব্দটি উপপদ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৫০.
'হরহামেশা' শব্দের 'হর' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. উর্দু-হিন্দি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

- হর একটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গ।
- প্রত্যেক অর্থে হরহামেশা, হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৫১.
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. পাল
  2. বৃন্দ
  3. মালা
  4. আবলি
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক মানুষ প্রকাশক বহুবচনে নিম্নলিখিত বদ্ধরূপমূল ব্যবহৃত হয়-
গণ: জনগণ, শিক্ষকগণ, দেবগণ, নরগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ: শিক্ষকবৃন্দ, সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলি: সম্পাদকমণ্ডলি, শিক্ষকমণ্ডলি ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ইতর প্রাণিবাচক শব্দের শেষে এরা, সমূহ, সকল, সম, পাল, কুল, ব্যবহার করে একবচন থেকে বহুবচন করা হয়।
যেমন- গরুগুলি, পাখিরা, পাখিসব, বাচ্চাগুলো, গরুরপাল ইত্যাদি।

• বস্তুবাচক শব্দের শেষে আবলি, সমূহ, সকল, রাজি, গুচ্ছ, মালা, রাশি, পুঞ্জ ইত্যাদি যোগ করে বহুবচন প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বইসমূহ, বৃক্ষরাজি, পুষ্পগুচ্ছ, কেশরাশি, মেঘপুঞ্জ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫২.
"নাটিকা" শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রী বাচক?
  1. সমার্থে
  2. বিপরীত অর্থে
  3. ক্ষুদ্রার্থে
  4. বৃহদার্থে
ব্যাখ্যা
'নাটিকা’ শব্দটি 'ক্ষুদ্রার্থে' স্ত্রীবাচক শব্দ।

• ক্ষুদ্রার্থে 'ইকা' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ-
নাটক - নাটিকা;
মালা - মালিকা; 
গীত - গীতিকা;
পুস্তক - পুস্তিকা।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৫৩.
'ঈশ্বরদত্ত' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থী
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লোপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- ঈশ্বর কর্তৃক দত্ত = ঈশ্বরদত্ত, 
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৫৪.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. ক) কলম
  2. খ) রোজা
  3. গ) বোতল
  4. ঘ) তোশক
ব্যাখ্যা
• আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রোজা ও তোশক হচ্ছে ফারসি শব্দ।
বোতল হচ্ছে পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৫৫.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতু কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোন প্রকারভেদ নেই
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

ধাতু ৩ প্রকার। যথা:
১. মৌলিক ধাতু,
২. সাধিত ধাতু ও
৩. যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা:
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৫৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ঘোড়া
  2. পানসা
  3. চলন্ত
  4. ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, পানসা ইত্যাদি। 

শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৫৭.
নিচের কোনটির পুরুষবাচক শব্দ আছে?
  1. এয়ো
  2. দুলহা
  3. দাই
  4. সধবা
ব্যাখ্যা
• 'দুলহা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - দুলাইন/দুলহিন

তাছাড়া, 
উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে এয়ো, দাই, সধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।

• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
 যেমন:
- সতীন,
- সৎমা,
- এয়ো,
- দাই এবং
- সধবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৫৮.
নিচের কোন শব্দটির সঙ্গে 'গুচ্ছ' বহুবচন বোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়?
  1. পুস্তক
  2. কবিতা
  3. পর্বত
  4. তারকা
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
আবলি - পুস্তকাবলি।
গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
দাম - কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
নিকর - কমলনিকর।
পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
মালা - পর্বতমালা।
রাজি - তারকারাজি।
রাশি - বালিরাশি।
নিচয় - কুসুমনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৫৯.
অর্ধ তৎসম শব্দ শনাক্ত করুন।
  1. ক) ধর্ম
  2. খ) জ্যোছনা
  3. গ) হত্থ
  4. ঘ) গঞ্জ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ - ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, চন্দ্র।
অর্ধ তৎসম শব্দ - কুচ্ছিত, বোষ্টম, জ্যোছনা।
প্রাকৃত শব্দ - হত্থ, চম্মআর।
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৪৬০.
কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি কোনটি?
  1. কারক
  2. ধাতু
  3. বিভক্তি
  4. প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৬১.
'জাত' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জন + ক্ত
  2. √জা্‌ + ক্ত
  3. √জি + ত
  4. √জা + ত
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৬২.
'জ্বিন-পরি' কোন ধরনের শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মিলনার্থক 
  2. বিপরীতার্থক
  3. বিরোধার্থক
  4. সমার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -
১. মিলনার্থক শব্দযোগে : মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিরোধার্থক শব্দযোগে : দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে : হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৪৬৩.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. বৎস
  2. অসুখ
  3. পাঠক
  4. মেয়েলি
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী-হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা।
এইরকম:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'পাঠক' এবং 'মেয়েলি' যৌগিক শব্দ।
- 'অসুখ' হচ্ছে যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯, সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৪.
'রত্নশোভিত' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
• রত্নশোভিত = রত্ন দ্বারা শোভিত; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ, মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা।

- উন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: এক দ্বারা উন =একোন, বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন, জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য, পাঁচ দ্বারা কম =পাঁচ কম।

- উপকরণবাচক বিশেষ্য পদ পূর্বপদে বসলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা: স্বর্ণ দ্বারা মন্ডিত = স্বর্ণমণ্ডিত। এরূপ-হীরকখচিত, চন্দনচর্চিত, রত্নশোভিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪৬৫.
কোন সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
– যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
তুমি আমি ও সে = আমরা, 
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
- তেমনিভাবে, কালসাপ - নিত্য সমাসের উদাহরণ।

- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
২,৪৬৬.
পর্তুগিজ শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ভবন
  2. তোশক
  3. বেগম
  4. মাস্তুল
ব্যাখ্যা
• 'মাস্তুল' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আলপিন, পাউরুটি, ইংরেজ, সাবান, তােয়ালে, বালতি, নিলাম, আলকাতরা, মার্কা, জানালা, পেরেক, ক্ৰশ, পরাত (বৃহৎ থালা), বারান্দা, নােনা, যিশু, বেহালা, পেঁপে, পাচার, পেয়ারা, বােতাম, আলমারি, মিস্ত্রি, গামলা, ফিতা, সেমিজ, কামিজ, গির্জা, চাবি, পাদ্রি, আনারস, টুপি, বােমা, কেরানি, কামরা, আতা, তামাক, ইস্পাত, আয়া, আচার, পিস্তল, বেহালা, মাস্তুল, মাইরি, গুদাম ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- ভবন - তৎসত শব্দ।
- তোশক ও বেগম হলো তুর্কি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৭.
'তদ্ধিত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তদ্‌ + হিত
  2. তৎ + হিত
  3. তৎ + দিত
  4. তদ্‌ + ধিত
ব্যাখ্যা
'তদ্ধিত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ তদ্ + হিত। 
এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 
- হ পরে থাকলে ত এর স্থানে দ এবং দ এর স্থানে ধ হয়।
যেমন - উৎ + হার = উদ্ধার
             উৎ + হত = উদ্ধত
             তদ্ + হিত = তদ্ধিত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৬৮.
অস্পষ্টতা বোঝাতে খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অবগত
  2. উপবন
  3. আবডাল
  4. অনুচর
ব্যাখ্যা
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

অন্যদিকে,
• সাম্যক অর্থে ‘অব’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
• সদৃশ অর্থে সংস্কৃত ‘উপ’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - উপবন।

-------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৬৯.
সমাসের কাজ হলো -
  1. ভাষাকে সংক্ষপে করা
  2. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা
  3. শব্দ গঠন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সমাস:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৪৭০.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ধীরবুদ্ধি
  2. আয়তলোচনা
  3. বিপত্নীক
  4. সুন্দরলতা
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন-
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা,
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

-----------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যথা- বহুব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি। এখানে ‘বহু’ কিংবা ‘ব্রীহি’ কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়। যথা: আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী), মহান আত্মা যার= মহাত্মা, নীল বসন যার = নীলবসনা, স্থির প্রতিজ্ঞা যার = স্থিরপ্রতিজ্ঞ, ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি।

‘সহ’ কিংবা ‘সহিত' শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ' ও 'সহিত' এর স্থলে 'স' হয়। যেমন: বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, সহ উদর যার = সহোদর > সোদর। এরূপ- সজল, সফল, সদৰ্প, সলজ্জ, সকল্যাণ ইত্যাদি।

হুব্রীহি সমাসে পরপদে মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়। যেমন: নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক। এরূপ- সত্রীক, অপুত্রক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৭১.
‘অবেলায় আমি দিলেম পাড়ি, অথৈ সাগরে' এখানে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটি
ব্যাখ্যা
• ‘অবেলায় আমি দিলেম পাড়ি, অথৈ সাগরে' - দুইটি উপসর্গ রয়েছে।
- বাক্যে 'অবেলা', 'অথৈ' শব্দদ্বয় এ 'অ' উপসর্গটি রয়েছে।
- 'অ' - একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ সংখ্যা - ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 - বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে।
 - অর্থাৎ ৪টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
২,৪৭২.
'ইংরেজি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) জার্মান
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
ইংরেজি (বিশেষ্য) 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত
অর্থ: ইংরেজদের ভাষা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৪৭৩.
'মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ' -বাক্যে 'মরি মরি' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. সমন্বয়ী
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. অনুকার
ব্যাখ্যা
• 'মরি মরি ! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ।'- এ বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। 

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭৪.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. সতীন
  2. দাই
  3. সারী
  4. সধবা
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দের পুরুষবাচক শব্দ নেই।
উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে সতীন, দাই, সধবা-নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ।
শারি -এর পুরুষবাচক শব্দ শুক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

২,৪৭৫.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) দুঃখপ্রাপ্ত
  2. খ) হাতঘড়ি
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) ঘরজামাই
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত অপশনগুলোতে দুঃখপ্রাপ্ত তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
ধানের খেত = ধানখেত
পথের রাজা = রাজপথ
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

• অন্যান্য অপশন:
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি (কর্মধারয় সমাস)।
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই (কর্মধারয় সমাস)।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত (উপমান কর্মধারয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২,৪৭৬.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. সম
  2. পরা
  3. দুর
  4. অজ
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭৭.
কোন বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. ক) তিনিই সমাজের মাথা
  2. খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  3. গ) মাথা নেই তার মাথা ব্যাথা
  4. ঘ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
ব্যাখ্যা

মাথা শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়ােগঃ
রাস্তার মাথায়-(মিলন স্থলে)- রাস্তার মাথায় তার সঙ্গে দেখা।
মাথা গরম করা- (রাগান্বিত হওয়া)- মাথা গরম করে আর কী হবে?
রাগের মাথায়- (হঠাৎ ক্রোধবশত)- রাগের মাথায় কথাটা বলেছি।
মাথা হেঁট করা- (লজ্জায় মাথা নিচু করা)- মাথা হেঁট হবে কেন?
মাথা উঁচু করে চলা - (গর্বভরে চলা)- মাথা উচু করেই চলতে চাই।
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

২,৪৭৮.
'কালিকলম' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা;
- জন ও মানব = জনমানব;
- কালি ও কলম = কালিকলম;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৭৯.
শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √হণ্‌ + অল্‌ = হয়
  2. √হন্‌ + অল = হয়
  3. √হণ্‌ + অল্‌ = বধ
  4. √হন্‌ + অল = বধ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
- অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে):
→ জি + অল্ = জয়,
→ ক্ষি + অল্ = ক্ষয়।
এরূপ - ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ, বিলয়।

• ব্যতিক্রম: √হণ্ + অল্ = বধ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৮০.
"একতারা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফরাসি
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• "একতারা' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- যার একপ্রান্ত চামড়া দিয়ে আবৃত।
- গুপিযন্ত্র।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- নামাজ,
- দোজখ,
- মামলা,
- বান্দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪৮১.
নিচের কোনটি কৃদন্ত শব্দ?
  1. গর
  2. ওয়ালা
  3. আটিয়া
  4. কর্তব্য
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত,
- কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য

অন্যদিকে,
- ‘আটিয়া’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- ‘ওয়ালা’ ও ‘গর’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৮২.
প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুকরণ দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২,৪৮৩.
প্রাণভয় (প্রাণ যাওয়ার ভয়) কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক সমাস হচ্ছে- প্রাণভয় = প্রাণ যাওয়ার ভয়।
- এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
২,৪৮৪.
ভাবের গভীরতা বোঝাতে অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটিতে?
  1. বার বার সে কামান গর্জে উঠলো।
  2. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
  3. পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
  4. ছি ছি, তুমি কী করেছো?
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগলো।
- ছি ছি, তুমি কী করেছো?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠলো।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
 -ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
২,৪৮৫.
'পলান্ন' শব্দের বাসবাক্য-
  1. ক) পলের অন্ন
  2. খ) পল দ্বারা অন্ন
  3. গ) পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন
  4. ঘ) পল (মাংস) দ্বারা মিশ্রিত অন্ন
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত শব্দের সঠিক বাসবাক্য 'পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন'।
- এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারায় সমাসের অন্তর্গত।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস :
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার।
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি।
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই।
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ।
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
২,৪৮৬.
বেহেশত কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
ফারসি শব্দের উদাহরণ হলো- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২,৪৮৭.
কোনটি নিত্য নারীবাচক শব্দ নয়?
  1. কনিষ্ঠা 
  2. অসতী
  3. রজঃস্বলা
  4. গর্ভবতী
ব্যাখ্যা

কনিষ্ঠা নিত্য নারীবাচক শব্দ নয়। 
- কনিষ্ঠা হচ্ছে আ প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ।

• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নারীবাচক।
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ যেমন:
- অসতী,
- কুলটা,
- গর্ভবতী,
- সতীন,
- বিধবা,
- বারবানিয়া (অন্যান্য প্রতিশব্দ),
- রজঃস্বলা, ইত্যাদি।

উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৮৮.
কোনটি পর্তুগিজ শব্দ নয়?
  1. পেরেক
  2. জানালা 
  3. তোয়ালে
  4. আয়না
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ শব্দ নয় - আয়না
- 'আয়না' শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
- তোয়ালে, জানালা  এবং পেরেক - শব্দগুলো পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৪৮৯.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিহিংসা
  2. খ) সুবুদ্ধি
  3. গ) নির্লজ্জ
  4. ঘ) বেআক্কেল
ব্যাখ্যা
⇒ বিরোধ অর্থে ‘প্রতি’ উপসর্গযোগ ‘প্রতিহিংসা’ শব্দটি একটি অব্যয়ীভাব সমাস।

• অব্যয়ীভাব সমাস:

অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪৯০.
‘ঊর্ণনাভ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
- অপ্রমেয় - পরিমাণ মাপা যায় না যার
- অল্পপ্রাণ - অল্প (হাল্কা) প্রাণ যার
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি অভিধান 

২,৪৯১.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. প্রতি
  2. ইতি
  3. অপি
  4. অতি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ - অতি, অপি, প্রতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৯২.
নিচের কোন নরবাচক শব্দের সঙ্গে নারীবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. প্রিয়
  2. বাদশা
  3. গায়ক
  4. পাঠক
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।

অন্যদিকে,
• ‘আ’ প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ প্রিয় - প্রিয়া।
• 'অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে '- অক' এর জায়গায় 'ইকা' হয়।
যেমন:
• পাঠক - পাঠিকা।
• লেখক - লেখিকা।
• গায়ক - গায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২,৪৯৩.
'জজ সাহেব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিগু
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টার সাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা।
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪৯৪.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) গিন্নী
  2. খ) ভাত
  3. গ) হত্থ
  4. ঘ) পুত্র
ব্যাখ্যা
পুত্র = তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের উদাহরণ

গিন্নী - অর্ধ- তৎসম শব্দ
সংস্কৃত- হস্ত, প্রাকৃত- হত্থ থেকে হাত তদ্ভব শব্দে এসেছে। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৪৯৫.
গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয় -
  1. ক) নাম-প্রকৃতির পরিবর্তনকে
  2. খ) প্রাতিপদিকের পরিবর্তনকে
  3. গ) কৃৎ-প্রকৃতির আদিস্বরের পরিবর্তনকে
  4. ঘ) কৃৎ-প্রকৃতির অন্তস্বরের পরিবর্তনকে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের গুণ ও বৃদ্ধি: 
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ- প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ- প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়। 
-  এ পরিবর্তনকে বলা গুণ ও বৃদ্ধি।
- কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।

• গুণ :
» ই/ঈ-স্থলে এ ; √চিন + আ = চেনা, √নী + আ = নেওয়া
» উ/ঊ-স্থলে ও ; √ধু + আ = ধোয়া
» ঋ-স্থলে অর ; √কৃ + তা = করতা ˃ ক্রেতা

• বৃদ্ধি:
» অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক(অ = পাচক
» ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
» উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
» ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।  
২,৪৯৬.
বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ নয় -
  1. ক) সজল
  2. খ) স্বপ্ন
  3. গ) সুশ্রী
  4. ঘ) একগুঁয়ে
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস নয় - স্বপ্ন।
অন্যদিকে, জলের সঙ্গে বর্তমান = সজল (বহুব্রীহি সমাস)
সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি)
একদিকে গোঁ থাকে যার এমন স্বভাব যার = একগুঁয়ে (প্রত্যায়ান্ত বহুব্রীহি সমাস)
সুত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।

২,৪৯৭.
'লাঘব' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. লঘু + আব 
  2. লঘু + ষ্ণ
  3. লাঘ + অব
  4. লাঘ + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও অ সন্ধিতে 'অব' হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ (অ) = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৯৮.
সংস্কৃত ধাতু কোনটি?
  1. কাট্
  2. স্থা
  3. কাঁদ্‌
  4. জান্‌
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ধাতু - স্থা।

• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ্‌, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, খাদ্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৯৯.
'তবলা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তৎসম
  5. দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তবলা' শব্দের উৎস-ভাষা - আরবি। 

• 'তবলা' বলতে বোঝায়:
- একদিকে চর্মাবৃত এক প্রকার বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫০০.
'শত্রুঘ্ন' কোন সমাস?
  1. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• শত্রুঘ্ন = শত্রুকে হত্যা করে যে।- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস: :
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী
- এখানে 'গামী'র স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে 'অগ্রে গমন করে যে'।
- এরূপ ধামা ধরে যে = ধামাধরা; ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা ইত্যাদি।
- কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে।
অথবা, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। 
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ:
অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা, ইঁদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার, জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর; স্বর্ণকার, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, গণিতজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ; গাঁটকাটা, পকেটকাটা; পদস্থ, তটস্থ, গৃহস্থ, দ্বারস্থ, মুখস্থ, প্রকৃতিস্ব, পাত্রস্থ, ছন্নছাড়া, জলদ [জল দেয় যে), দলছাড়া, ঘরছাড়া; পরজীবী, চিরজীবী, বুদ্ধিজীবী, শত্রুঘ্ন [শত্রুকে হত্যা করে যো, শ্রমজীবী; পথহারা, গৃহহারা, বাস্তুহারা, দিশাহারা; চিত্রকর, মধুকর, বাজিকর, জাদুকর, আকাশচারী; সুবিধাভোগী, বেতনভোগী, ভুক্তভোগী, অস্ত্রধারী, ভেকধারী, জটাধারী; পারদর্শী, দুস্থ [দুঃখে থাকে যে), দূরদর্শী; অস্তগামী, ধীরগামী, দ্রুতগামী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।