বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা / ৪১ · ৮০১৯০০ / ৪,০৩৭

৮০১.
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি। - এই কবিতাংশের কবি কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি। - এই কবিতাংশের কবি জসীম উদ্‌দীন। কবিতাংশটি 'আসমানী' কবিতার অন্তর্গত। কবিতাটি 'এক পয়সার বাঁশী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, আসমানী কবিতা।
৮০২.
কোনটি রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক রচনা?
  1. বীরঙ্গনা
  2. ব্রজঙ্গনা
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'ব্রজঙ্গনা'  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক  গীতিকাব্য।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 

- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (রাধা-কৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক),
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।

•তাঁর রচিত মহাকাব্য:
মেঘনাদবধ কাব্য।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী,
 - মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮০৩.
"সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।"
চরণদুটি কোন কবিতা থেকে সংকলিত?
  1. সভ্যতার প্রতি
  2. তপোবন
  3. বঙ্গমাতা  
  4. অজ্ঞাত বিশ্ব
ব্যাখ্যা
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি। - চরণদুটি বঙ্গমাতা কবিতা থেকে সংকলিত।

- বঙ্গমাতা হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা কবিতা।
- এটি তার চৈতালি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এতে সর্বমোট ৭৮টি কবিতা রয়েছে।

বঙ্গমাতা- কবিতাংশ,

পুণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স'য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক'রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।

তথ্যসূত্র:

১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) চৈতালি কাব্য।
৮০৪.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. হেক্টরবধ কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০৫.
"মনোরমা" রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) মহামায়া
  2. খ) নিশীথে
  3. গ) সমাপ্তি
  4. ঘ) ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
"মনোরমা" চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "নিশীথে" ছোটগল্পের একটি চরিত্র।
জমিদার দক্ষিণাচরণবাবুর সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনির একটা চমৎকার রূপ নির্মাণ দেখা যায় 'নিশীথে' গল্পের কাহিনি বিন্যাসে।
'মনোরমা' ছিলেন দক্ষিণাচরণবাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী ও হারান ডাক্তারের কন্যা।

দক্ষিণাচরণবাবুর প্রথম স্ত্রী যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখন হারান ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিলেন।
এক পর্যায়ে যখন সবাই বুঝেছিল যে তার ব্যামো আর সেরে উঠবে না তখন তিনি স্বামীকে বলেছিলেন -
“যখন ব্যামোও সারিবে না এবং শীঘ্র আমার মরিবার আশাও নাই, তখন আর-কতদিন এই জীবন্মৃতকে লইয়া কাটাইবে। তুমি আর-একটা বিবাহ করো।”

এই কথার প্রতিউত্তরে দক্ষিণাচরণবাবু বলেছিলেন, "যতদিন এই দেহে জীবন আছে, এ জীবনে আর কাহাকেও ভালোবাসিতে পারিব না।" 

কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যে দক্ষিণাচরণবাবু হারান ডাক্তারের কন্যা মনোরমাকে বিবাহ করেন।
মনোরমার সাথে প্রেমালাপকালে যখন তিনি বলেছিলেন “মনোরমা, তুমি আমাকে বিশ্বাস কর না, কিন্তু তোমাকে আমি ভালোবাসি। তোমাকে আমি কোনোকালে ভুলিতে পারিব না।”
কথাটা বলামাত্র তার মনে পড়ে, ঠিক এই কথাটা আর-একদিন আর-কাউকেও তিনি বলেছিলেন। প্রথমা স্ত্রীর সংলাপ আর অতীত স্মৃতিচারণ মনোরমার সাথে তার দাম্পত্য জীবনকে বিষিয়ে তোলে। তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ ও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উৎস: নিশীথে ছোটগল্প, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
------------

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্পগুলি ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প - ভিখারিনী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প - দেনাপাওনা। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক উল্লেখযোগ্য চারটি ছোটগল্প হলো:
- দেনাপাওনা 
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা 
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৮০৬.
বাংলা সাধু ভাষার জনক কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হরলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন বিদ্যাসাগর। 
- এর আগে তা ছিলো প্রস্তরবৎ। 
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিন্যাস ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। 
- বিদ্যাসাগরের পরিকল্পিত সাধুভাষা তাই পরবর্তীকালে আদর্শ সাধুভাষা রূপে গৃহীত হয়। 
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সাধু ভাষার জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক গদ্য কোনটি?
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. অতি অল্প হইল
  4. বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা

‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য। এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
বিদ্যাসাগরের মৌলিক গদ্যগুলো হলো :
- অতি অল্প হইল
- আবার অতি অল্প হইল
- ব্রজবিলাস
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা
- রত্ন পরীক্ষা
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮০৮.
'কাটাকুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা'
-এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বেনজীর আহমেদ
ব্যাখ্যা
'কাটা-কুঞ্জে বসি' তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তাের বেদনার টীকা।'- পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে।

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. বিজ্ঞান রহস্য
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. বিজ্ঞান পরিচয়
  4. বিশ্বকোষ
ব্যাখ্যা
• বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ - শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি, 
- চরিত্রপূজা , 
- ছেলেবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত "মরুভাস্কর" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

মরুভাস্কর:
- কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি - কাব্যগ্রন্থ
- এটি হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী - কাব্য।
- এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে।
- হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী নিয়ে চারটি সর্গ। এবং ১৮ টি খণ্ড-কবিতা স্থান পেয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১১.
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা = মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- এটি তাঁর 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, - খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; -
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৮১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক- 
  1. ডাকঘর 
  2. বাল্মীকি প্রতিভা
  3. অচলায়তন 
  4. রক্তকরবী 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি অবলম্বনে গ্রন্থ Song offerings এর জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪০ সালে তাকে অক্সফোর্ড থেকে ডি. লিট উপাধি দেয়া হয়।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট'।
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধ প্রসঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮১৩.
“বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” - কাজী নজরুল ইসলামের এ কবিতায় 'গুবাক' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) খেজুর
  2. খ) সুপারি
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) ঝাউ
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা “বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি” ।
- এখানে গুবাক অর্থ সুপারি।
- এটি একটি প্রেমের কাব্য ।
নজরুল রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ), সঞ্চিতা, মরুভাস্কর, চিত্তনামা, ছায়ানট, বিষের বাশী, সন্ধ্যা, দোলন চাপা, জিন্জির, চক্রবাক, প্রলয়শিখা, ফণিমনসা, সর্বহারা, সিন্ধু হিন্দোল, ভাঙ্গার গান, ঝিঙে ফুল, সাম্যবাদী।

গুবাক, গূবাক (বিশেষ্য):
১. সুপারি (বিশ্বাসে গুবাক পান খান তার হাতে-ঘনরাম চক্রবর্তী)।
২. সুপারি গাছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৮১৪.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. নৌকাডুবি 
  2. কালান্তর 
  3. গোরা
  4. চতুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির অন্তর্ভুক্ত চরিত্রগুলো হলো: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
• 'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮১৫.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 
  1. নৃত্যনাট্য
  2. উপন্যাস 
  3. গীতিনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

 • ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

৮১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস - 
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।  এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮১৭.
নজরুলের মোট কতটি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৩টি
ব্যাখ্যা

নজরুলের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়৷
- প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ - 'যুগবাণী'।
- 'বিষের বাঁশি' নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ৷
তাছাড়া, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, চন্দ্রবিন্দু - গ্রন্থগুলোও নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

৮১৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গবাণী
  2. পদ্মাবতী
  3. কপোতাক্ষ নদ
  4. কবিতার কথা 
ব্যাখ্যা

• ‘কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটির রচয়িতা- 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'।

অন্যদিকে,
• পদ্মাবতী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যে সংকলন করা হয়েছে।
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
-  ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
-  বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা।
- পদ্মাবতী।
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
----------------
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মাইকেল মুধুসূধন দত্ত এর রচনা।

৮১৯.
'নজর আলী' নামে ডাকা হতো কোন কবি কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৮২০.
কৃষ্ণনগরের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধন হারা
  3. পথের পাঁচালী
  4. চাঁদের পাহাড় 
ব্যাখ্যা

• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস: 
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২১.
"আমার সোনার বাংলা" গানটির সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. দেবাশীষ রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

’আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীত:
- এটি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের 'বঙ্গভঙ্গ' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি অনেকগুলো সঙ্গীতটি রচনা করেন তার মধ্যে এটি একটি। 
- 'আমার সোনার বাংলা' সঙ্গীতটির প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- সঙ্গীতটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতবিতান'র স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান-
  1. যশোর
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তাঁর অমর কীর্তি 'মেঘনাদ বধ কাব্য'।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'।
- তাঁর রচিত ও প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ 'শর্মিষ্ঠা' নাটক।
- তাঁর রচিত 'বীরাঙ্গনা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্র কাব্য।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী' রচনা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
-বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২৩.
‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকটি কোথায় মঞ্চস্থ হয়?
  1. জোড়াসাঁকো নাট্যশালা
  2. বেলগাছিয়া থিয়েটার
  3. বঙ্গীয় নাট্যশালা
  4. মিনার্ভা থিয়েটার
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৮২৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' কার জীবনীভিত্তিক কাব্য?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চিত্তনামা' দেশবন্ধু 'চিত্তরঞ্জন দাশ' এর জীবনীভিত্তিক কাব্য।

• চিত্তনামা:
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন।
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য :
- মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ)।
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮২৫.
’রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৫ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

• 'রাখালী' 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
--------------------------------------​
​​• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

​• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

​• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত আত্মকথা:
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

​• তাঁর ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮২৬.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ
- এছাড়াও মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা নামে আরো দুটি উপন্যাস লিখেছেন তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ- 
  1. শেষের কবিতা
  2. শেষ লেখা
  3. শেষ রক্ষা
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ - শেষ লেখা

• শেষ লেখা:
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎপ্রীতি প্রকাশিত।

- তিনি লিখেছেন:
'রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এজগৎ
স্বপ্ন নয়।'

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক - শেষ রক্ষা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস - শেষের কবিতা; চোখের বালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রথম "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. ক্ষিতিমোহন সেন 
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিশ্বকবি':
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

উল্লেখ্য,
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে,
বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

৮২৯.
'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
- 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• 'রিক্তের বেদন':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হল- প্রেম।
- এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩০.
নিচের কোনটি ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস নয়?
  1. চোখের বালি
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখের বালি উপন্যাসে বিনোদিনী, মহেন্দ্র ও আশালতা - এই তিন চরিত্রের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে রোহিণী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল - এই তিন চরিত্রের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে।
এবং
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গৃহদাহ উপন্যাসে মহিম, সুরেশ ও অচলার ত্রিভুজ প্রেমের গল্প আছে।
অন্যদিকে,
- পল্লী সমাজে রমেশ ও রমার সামাজিক সম্পর্ক আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সংশ্লিষ্ট উপন্যাসগুলো।
৮৩১.
গ্রিক পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. মায়াকানন
  3. পদ্মাবতী
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

অন্নদিকে, 
• তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন (১৮৭৩) নাটক। 
• কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক। 
• তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৩২.
ফররুখ আহমদের জন্মতারিখ কত?
  1. ২০ জুন, ১৯১8
  2. ১০ জুন, ১৯১৮
  3. ১৫ জুলাই, ১৯১৮
  4. ১ জানুয়ারি, ১৯১৮
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ (১৯১৮–১৯৭৪):
জন্ম: ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
পিতা: খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী (পুলিশ ইন্সপেক্টর)।

শিক্ষাজীবন:
- ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন।
- ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন।
- পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, তবে পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবন:
- প্রথমে কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস ও সিভিল সাপ্লাই অফিসে কয়েক বছর চাকরি করেন।
- ১৯৪৫ সাল থেকে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
- দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন।
- এখানে তিনি জনপ্রিয় ‘খেলাঘর’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

তাঁর মৃত্যু: ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮৩৩.
'বেলাশেষে' কাজী নজরুল ইসলাম এর কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. দোলন-চাপা
  2. বিষের বাঁশি
  3. সন্ধ্যা
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা
দোলন-চাপা:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলন-চাঁপা' প্রকাশিত হয়।
- ২১টি কবিতার সংকলন।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'
- এছাড়া বেলাশেষে, পুবের চাতক, অবেলার ডাক, পূজারিণী, কবি-রানী ইত্যাদি কবিতা রয়েছে।
- মূলত প্রেম-প্রধান কবিতার বই।
- কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা গিয়ে ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে ছিলেন।
- এ সময় ইন্দ্রকুমারের ভাতৃপুত্র আশালতার সঙ্গে তাঁর প্রণয় জন্মে।
- আশালতার ডাকনাম ছিল দুলি।
- দুলিকে আদর করে 'দোলন' ও 'দুলু' বলে ডাকা হতো (দ্রষ্টব্য: মুজফ্ফ‌র আহমদের স্মৃতিকথা)।
- দোলন বা আশালতার নামেই 'দোলন-চাঁপা' গ্রন্থের নামকরণ।
- এর অধিকাংশ কবিতা দোলন বা দুলি বা আশালতাকে নিয়ে।
- কারাদণ্ড ভোগ শেষে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে এপ্রিল কাজী নজরুল ইসলাম ও আশালতার বিয়ে হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৩৪.
সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. চতুরঙ্গ
  2. গোরা 
  3. নৌকাডুবি
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক 'সবুজপত্রে' এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- 'সবুজপত্র'র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন। বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল।
গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী শ্রীবিলাস।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- জ্যাঠামশায়,
- শচীশ,
- দামিনী,
- শ্রীবিলাস। 

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস। এটি ১৮৮০-এর দশকে ব্রিটিশ রাজত্বকালের সময়কার কলকাতার পটভূমিতে লেখা।
- এটি লেখার ক্রমে পঞ্চম এবং রবীন্দ্রনাথের তেরোটি উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম। এটি রাজনীতি এবং ধর্ম নিয়ে দার্শনিক বিতর্কে সমৃদ্ধ উপন্যাস।

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- 'উপন্যাস'। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু।

• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- 'রাজর্ষি' উপনাসের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস এটি।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথম অংশ অবলম্বনে বিসর্জন নাটক রচিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩৫.
''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শান্তি
  2. হৈমন্তী
  3. সমাপ্তি
  4. সুভা
ব্যাখ্যা
• ''যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে।” - পঙ্‌ক্তিটি 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।
- উক্তিটি গল্পে গৌরীশংকর বনমালীবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
• ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩৬.
কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ললিতা তথা মানস।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতা — 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।

• 'সোনার তরী' কবিতা:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮ + ৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৮৩৮.
"রহমত ও খুকী" কোন গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. সুরবালা
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মুসলমান চরিত্র রয়েছে।
• এ গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- রহমত ও খুকী।

অন্যদিকে,
• 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।

উৎস: রবীন্দ্র রচনাবলী।
৮৩৯.
নিচের কোন সঙ্গীতটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা?
  1. বাংলাদেশের দুরন্ত সন্তান আমরা দুর্দম দুর্জয়
  2. চল্‌ চল্‌ চল্‌, উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
  3. আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই
  4. মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা
ব্যাখ্যা
• নজরুল ইসলামের রচনা - চল চল চল, উর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল

অন্যদিকে,
- 'বাংলাদেশের দুরন্ত সন্তান আমরা দুর্দম দুর্জয়' - ‘সেলিমা রহমান’ রচিত বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীত।
- ‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই' - গানটির গীতিকার  'প্রতুল মুখোপাধ্যায়'।
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’ - বিখ্যাত গানটির রচয়িতা ‘অতুলপ্রসাদ সেন’।

• রণসঙ্গীত:
- নজরুল বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।
- সঙ্গীতটির কিছু চরণ -
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল—’

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৮৪০.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিনাট্য?
  1. ঝিলিমিলি
  2. মধুমালা
  3. আলেয়া
  4. শিউলিমাল
ব্যাখ্যা
• 'মধুমালা' গীতিনাট্য:
- 'মধুমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ১৯৬০ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে নাটকটি রচিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের ঝিলিমিলি একটি নাট্যগ্রন্থ। এতে ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ ও শিল্পী নামে তিনটি ছোট নাটক রয়েছে। 
• 'আলেয়া' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক। এটি ১৯৩১ সালে মঞ্চস্থ ও প্রকাশিত হয়। 'মরুতৃষা' শিরোনামে লিখলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'আলেয়া' করা হয়। ত্রিভুজ প্রেম ও তার পরিণয় এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু।

------------------
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমাল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মধুমালা' গীতিনাট্য।
৮৪১.
‘পল্লীবধূ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. কবিতার সংকলন
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘পল্লীবধূ’ জসীম উদ্‌দীনের রচিত একটি নাটক। 

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে।
- সাহিত্যজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- বিশেষ পরিচিতি: ‘পল্লীকবি’।

নির্বাচিত কবিতার সংকলন:
- সুচয়নী,
- নিমন্ত্রণ.

কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখাল,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪২.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদূত
  2. খ) প্রবাসী
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। 
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৩.
'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।' - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ কবিতাংশটুকু 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'জীবন - বন্দনা' কবিতার অংশ।   
-----------------
• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা, 
- বিষের বাঁশি , 
- ভাঙার গান , 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা,
- ঝিঙে ফুল, 
- ফণি-মনসা , 
- জিঞ্জিরা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 
---------------------------- 
• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা: 
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।
----------------------------
• জীবন-বন্দনা- কবিতা, 
--------------– কাজী নজরুল ইসলাম। 

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
         যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
-----------
-------------
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, জীবন-বন্দনা- কবিতা।
৮৪৪.
নিচের কোনটি কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) নবকুমার
  3. গ) প্রতাপ
  4. ঘ) কাপালিক
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে উপন্যাসের চরিত্র নয় প্রতাপ। 

 কপালকুণ্ডলা:
• কপালকুণ্ডলা বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
• এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়। কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং
• দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন ‘মৃন্ময়ী’। 

------------------------

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত  উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন। উপন্যাস দুটি দ্রুত প্রচার লাভ করে।
- তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকার সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরাণী
- রাজসিংহ 
- সীতারাম
- কুপালকুণ্ডলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৫.
'ব্যাঙাচি' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. সুকুমার রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
•  হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন 'কালীপ্রসন্ন সিংহ'৷
• 'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৮৪৬.
বাল্যবিধবা ‘কুন্দনন্দিনী’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চন্দ্রশেখর
  3. বিষবৃক্ষ
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- দেবী চৌধুরাণী, 
- আনন্দমঠ,
- বিষবৃক্ষ,
- কপালকুণ্ডলা,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৭.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলামের কোন প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. যুগবাণী
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

• 'যুগবাণী':
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৪৮.
কোন সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) বাল্যবিবাহ
  2. খ) বিধবাবিবাহ
  3. গ) সতীদাহ
  4. ঘ) ধর্মীয় গোড়ামী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্যিকের চেয়ে সমাজ সংস্কারক আগে। 
- তিনি সমাজ সংস্কারক হিসেবে যে লেখগুলো লেখেন তা পরবর্তিতে সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে তাঁর প্রথম বেনামী লেখা প্রকাশিত হয় ১৮৪২ সালের এপ্রিল মাসে বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকায়।
- আর এ বিষয়ে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দ্বিতীয় গ্রন্থ অক্টোবর মাসে।
- এভাবে বিধবাবিবাহের পক্ষে শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়া ছাড়াও, বিধবাদের পুনর্বিবাহ প্রবর্তনের পক্ষে একটি আইন প্রণয়নের জন্যে তিনি সামাজিক আন্দোলন আরম্ভ করেন।
- বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।
- বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে সাফল্য লাভ করায় পরে কুলীনদের বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ রোধ আইন পাস করার পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৯.
'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• 'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
-------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।
-------------------- 
সার্থক জনম আমার- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে ॥
জানি নে তোর ধনরতন   আছে কি না রানীর মতন,
শুধু   জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে ॥
কোন্‌ বনেতে জানি নে ফুল   গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্‌ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে।
আঁখি মেলে তোমার আলো   প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ॥

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, সার্থক জনম আমার- কবিতা। 
৮৫০.
‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ কবিতার চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুকান্ত ভট্টচার্য
  3. গ) মহন মোহন তর্কালঙ্কার
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

আমাদের ছোট নদী
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।

৮৫১.
বাংলা সাহিত্যে পত্রোপন্যাসের জনক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
’বাঁধন-হারা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি গ্রন্থাকারে ১৩৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ’বাঁধন-হারা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে -  নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন হারা,
- কুহেলিকা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮৫২.
'বিদ্রোহী’ - কবিতার প্রথম চরণ কোনটি?
  1. বল উন্নত মম শির
  2. বিদ্রোহী রণক্লান্ত
  3. বল বীর
  4. আমি চির-উন্নত শির
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

'বিদ্রোহী' কবিতা - 

বল বীর
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৫৩.
‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  3. জসীমউদ্দীন
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্দীন ‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক, গাজী মিয়াঁ।
• ‘মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ’ জহির রায়হানের প্রকৃত নাম।
• লেখক আবুল ফজল ‘শমসের উল আজাদ’ ছদ্মনামে লিখতেন।

---------------------
⇒ জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮৫৪.
কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ক) যাদের দেখেছি
  2. খ) ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়
  3. গ) পল্লী জননী
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশি
ব্যাখ্যা

জসিম উদ্দীনের রচিত আত্মকথা -
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ -
-  ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৫৫.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয় ?
  1. ক) বর্ণপরিচয়
  2. খ) সীতার বনবাস
  3. গ) বোধোদয়
  4. ঘ) কথামালা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫৬.
'সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-তে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, এবং প্রাবন্ধিক, যিনি উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মগুলি নিম্নরূপ:

• জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
জন্ম: ১৩ নভেম্বর ১৮৪৭, কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
সাহিত্যিক জীবনের সূচনা: সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-তে সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: ‘কাঙাল হরিনাথ’, যিনি গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র সম্পাদক ছিলেন।
সম্পাদিত পত্রিকা: আজিজননেহার এবং হিতকরী।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:

নাটক:
• বসন্তকুমারী, 
• জমীদার দর্পণ, 
• বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন (হাস্যরসাত্মক নাটক):
• টালা অভিনয়, 
• এর উপায় কি, 
• ফাঁস কাগজ, 
• ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
• বিষাদ-সিন্ধু: এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে কারবালার ঘটনা ফুটে উঠেছে।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
• উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
• আমার জীবনী, 
• কুলসুম জীবনী।

• মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যিক অবদান:
তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হন এবং গদ্যশিল্পের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যুগে অন্যতম প্রধান অবদানকারী ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজব্যবস্থা, জমিদারি প্রথার অন্যায় অত্যাচার এবং মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৫৭.
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) সাঁঝের মায়া
  2. খ) গ্রামের মায়া
  3. গ) মায়া কানন
  4. ঘ) ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা
'গ্রামের মায়া' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক: 
 - পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬) ইত্যাদি। 

- 'সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮) বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মায়া কানন' (১৮৭৩) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শেষ রচনা। 
- 'ধানক্ষেত' (১৯৩৩) জসীমউদ্দীন রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৮.
'বছির এবং আজহার' - চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' উপন্যাস: 
- এটি পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮৫৯.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয় নি?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) প্রলয় শিখা
  4. ঘ) চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
যথাঃ
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নি-বীণা,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস সংখ্যা ৩টি।
যথাঃ
- বাঁধন হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮৬০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশি বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।
- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬১.
রবীন্দ্রনাথের কোন রচনায় তার স্ত্রীর মৃত্যুতে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?
  1. ক) নৈবদ্য
  2. খ) স্মরণ
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) হঠাৎ দেখা
ব্যাখ্যা
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ভবতারিণী দেবীর বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালে।
কবি পরবর্তীতে তার নাম পাল্টে রাখেন মৃণালিনী দেবী। কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু হয় - ১৯০২ সালে; তখন কবির বয়স মাত্র ৪১ বছর।
- কবিপত্নীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যেই 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা সমূহ রচনা করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থটি গ্রন্থাকারে পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

"স্মরণ" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
- আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
- আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
- আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
- এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
- ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
- সে যখন বেঁচে ছিল গো ইত্যাদি।

'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম থেকেই কবিপত্নী বিয়োগে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
-----------
অন্যদিকে,
'নৈবেদ্য' কাব্যগ্রন্থটি ১৯০১ সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়।
কাব্যগ্রন্থটি কোনভাবেই কবিপত্নীর মৃত্যু উপলক্ষে হতে পারে না। যদিও মৃত্যু সম্পর্কে এই কাব্যগ্রন্থে কবিতা রয়েছে।

"নৈবেদ্য" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- অচিন্ত্য এ ব্রহ্মান্ডের লোকলোকান্তরে
- আমারে সৃজন করি যে মহাসম্মান
- আমরা কোথায় আছি, কোথায় সুদূরে ইত্যাদি।
রবীন্দ্রনাথ এই কাব্যের বেশ কয়েকটি কবি Song Offerings - এ অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।

উৎস: বাংলা কাব্য সাময়িকী, স্মরণ কাব্যগ্রন্থ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮৬২.
''কোন রণে কত খুন দিল নর,
লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিথিঁর সিঁদুর,
লেখা নাই তার পাশে।''- এর রচয়িতা কোন কবি?
  1. ক) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে,
-সাম্যবাদী
-মানুষ
-নারী
-ঈশ্বর
-পাপ
-চোর-ডাকাত
-কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৮৬৩.
নিচের কোন উপন্যাসটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়?
  1. ক) চিন্দ্রনাথ
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) রজনী
  4. ঘ) বিপ্রদাস
ব্যাখ্যা
- 'রজনী' সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৮৭৫ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- বই আকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ সালে।
- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাসের মতে, 'রজনী বাংলা ভাষায় প্রথম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।'

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
দুর্গেশনন্দিনী,
কপালকুণ্ডলা,
মৃণালিনী,
বিষবৃক্ষ,
ইন্দিরা,
যুগলাঙ্গুরীয়,
চন্দ্রশেখর,
রাধারানী,
রজনী,
কৃষ্ণকান্তের উইল,
রাজসিংহ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৮৬৪.
‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. লাঙল
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।
- এই কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
--------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• তাঁর একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 
--------------------------- 
‘বীরাঙ্গনা’ নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রোমান কবি ওভিডিয়াসের Heroic Epistles অনুকরণে রচিত। 
- মাইকেল এই কাব্যটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করেছেন।
- মূলত ১১টি পত্রের মাধ্যমে কাব্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- এখানে নারীদের চরিত্রকে সচেতন, স্বাধীনচেতা এবং প্রেমিকামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- কাব্যের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কণ্ঠস্বরকে সমাজে প্রকাশ করা এবং প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস দেওয়া।

• উল্লেখযোগ্য পত্রসমূহ:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা;
- সোমের প্রতি তারা;
- দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী;
- লক্ষ্মণের প্রতি শূর্পণখা;
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৬৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বীরাঙ্গনা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. মেঘনাধবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়। 
- রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী (১৮৫৮) নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব অনুভব করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মহাকাব্য: 
- মেঘনাধবধ কাব্য । 

নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- মায়াকানন, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- পদ্মাবতী। 

প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৮৬৭.
মহাজনী শোষণের কারণে প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়ার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ 
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. জমিদার দর্পণ 
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. মেহেরপুর
  3. রাজশাহী 
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস:​ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮৬৯.
'ডালিম কুমার' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭০.
ভারত সরকার কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলামকে ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৬০
  2. খ) ১৯৭২
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

ভারত সরকার ১৯৬০ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'পদ্মভূষণ' পদক প্রদান করে।
১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক প্রদান করা হয় ১৯৭৬ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৭১.
নিচের কোনটি ভিন্ন ?
  1. চোখের বালি
  2. ডাকঘর
  3. তাসের দেশ
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'যোগাযোগ' - রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাস। 
- 'ডাকঘর', তাসের দেশ, প্রায়শ্চিত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
------------------------- 
• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর': 
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়।
-------------------- 
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।
------------- 
• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
--------------

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮৭২.
‘বিনোদিনী' রবীন্দ্রনাথ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চিত্রাঙ্গদা 
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা

• ‘বিনোদিনী' রবীন্দ্রনাথ রচিত চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র। 

- 'চোখের বালি':
- চোখের বালি উপন্যাসটি ১৯০১-০২ সালে 'নবপর্যায় বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এবং ১৯০৩ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- চোখের বালি' উপন্যাসটি একটি জটিল ত্রিভুজ প্রেমের গল্প।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো- মহেন্দ্র, বিনোদিনী, এবং বিহারী, এবং আশালতা।
- উপন্যাসে দেখানো হয়েছে যে কিভাবে তারা প্রেমের জটিল আবর্তে জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত হয়।
- এই কাহিনিটি শুধু প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক সংস্কার এবং ব্যক্তিজীবনের সংঘাতকেও ফুটিয়ে তুলেছে। 
-----------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।
- তাঁকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন। 
- আর ‘গুরুদেব’ উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’ এবং
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• ‘শেষের কবিতা’- এটি একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস; এর বিখ্যাত চরিত্র হলো- লাবণ্য, অমিতরায়, শোভনলাল ও কেতকী।
• ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
• আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস; যার প্রধান চরিত্র হলো- মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৮৭৩.
"হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

•'পাপ' কবিতা: 
- 'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।
---------------------- 
পাপ- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম। 

সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’ কে আছে পুরুষ-নারী?

হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!
জবাবদিহির কেন এত ঘটা যদি দেবতাই হও,
টুপি প’রে টিকি রেখে সদা বল যেন তুমি পাপী নও। 
পাপী নও যদি কেন এ ভড়ং, ট্রেডমার্কার ধুম? 
পুলিশী পোশাক পরিয়া হ’য়েছ পাপের আসামী গুম। (সংক্ষেপিত) 

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৪.
দীনবন্ধু মিত্রের পিতৃদত্ত নাম কী ছিলো?
  1. নীলকান্ত মিত্র
  2. নবীন তপস্বী
  3. গন্ধর্বনারায়ণ
  4. নীললোহিত
ব্যাখ্যা

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিলো — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- নীলদর্পণ;
- কমলে কামিনী।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

৮৭৫.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. মধুমালা
  2. এক পয়সার বাঁশী
  3. রাখালী
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ- 'এক পয়সার বাঁশি'। 

কবি জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই।
- তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
- পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:  
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশী ,
- হাসু। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক - মধুমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. স্বর্ণলতা
  2. মৃণালিনী
  3. মালঞ্চ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• মৃণালিনী:
- 'মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।
---------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস= মালঞ্চ, শেষের কবিতা।
• তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস= স্বর্ণলতা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮৭৭.
'মেঘনাদবধ' কাব্যে মোট কয় দিনের ঘটনার বর্ণনা আছে?
  1. দুই দিন তিন রাতের
  2. তিন দিন দুই রাতের
  3. দুই রাত চার দিনের
  4. চার দিন তিন রাতের
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ'  কাব্য:
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছোটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গোদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বোন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূর্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশোকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৮.
বাল্যবিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. দুইবোন
  3. মালঞ্চ
  4. ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
• চোখের বালি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী, রাজলক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা।
- বিনোদিনী ছিলেন বাল্যবিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- অন্যদিকে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা।
- মহেন্দ্র বিনোদিনীর প্রেমের জালে সহজেই আটকে যায়।
- শুধু তাই নয়, তার সাহচর্য পেয়ে সহজ-সরল আশালতাও মুগ্ধ হয়।
- সে বিনোদিনীর সঙ্গে বন্ধুতা গড়ে তোলে।
- শুধু তাই নয়, বিনোদিনী তার নিজের নাম ঠিক করে দেয় ‘চোখের বালি’।
- এই নাম উপন্যাসের নামকরণে যথাযথ হয়েছে নিশ্চয়। 
- নারী-পুরুষের প্রেম ও কামতাড়িত অনুভব ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের মূল সুর। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও চোখের বালি উপন্যাস।
৮৭৯.
নজরুলের নাট্যগ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি’-তে মোট নাটকের সংখ্যা কতটি?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি' তে- মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী।
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৮০.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোসলেম ভারত 
  2. নওরোজ
  3. লাঙ্গল 
  4. দৈনিক নবযুগ 
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”গল্পগুচ্ছ” এর অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় কোনটি?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
-উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

অন্যদিকে, 
• গল্পগুচ্ছ:
- গল্পগুচ্ছ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের সংকলন।
- কবি ১২৯৮ থেকে ১৩৪০ বঙ্গাব্দের মধ্যে বেশিরভাগ গল্প লিখেছেন।
- অখণ্ড সংস্করণে মোট ৯৫টি ছোট গল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গল্প ‌- পোস্টমাস্টার, ব্যবধান, হৈমন্তী, অতিথি, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, নষ্টনীড়, মাল্যদান, ফেল, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৮২.
‘নিস্ফল উপহার’ ও ‘নিস্ফল কামনা’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. সেঁজুতি
  4. ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
 ⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

⇒ "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- 
“নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল”

উল্লেখযোগ্য কবিতা -
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: মানসী কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৮৮৩.
বিদ্রোহের বাণী বহনকারী 'রঞ্জন' চরিত্রটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ডাকঘর
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকের চরিত্র নন্দিনী, রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
-'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে,
• ডাকঘর: এখানে প্রধান চরিত্র হলো অমল, সুধা, ঠাকুরদা ইত্যাদি।
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
• তাসের দেশ: এটি একটি রূপকধর্মী নাটক, যেখানে রাজা, রাণী, তাসের সৈনিক প্রভৃতি চরিত্র রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮৪.
'গোবিন্দলাল’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকান্তের উইল" উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮৮৫.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৩ টি 
  2. ১৭ টি 
  3. ১৯ টি 
  4. ২১ টি 
ব্যাখ্যা

 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা রয়েছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি নাম কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হচ্ছে:
- সিন্দাবাদ,
- পাঞ্জেরি,
- লাশ,
- আউলাদ,
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৮৬.
'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ডাকঘর
  2. বিসর্জন
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, 
অমল, সুধা। 

• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের মোট কবিতা কতটি?
  1. ২২টি
  2. ১৮টি
  3. ১৪টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস। 
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ্‌ 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮৮.
'গ্রামের মায়া' - নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮৯.
’বিনোদিনী’ চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. চতুরঙ্গ
  2. ঘরে- বাইরে
  3. যোগাযোগ
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

’বিনোদিনী’ চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের অন্তর্গত।

'চোখের বালি':

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে- বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৯০.
‘কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট’- পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. প্রলয় শিখা
  4. ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ভাঙ্গার গান' কাব্যগ্রন্থের 'কারার ঐ লৌহ-কপাট' কবিতার অন্তর্গত।

------------------
• 'ভাঙার গান' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (অগস্ট ১৯২৪) কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- সরকার একই বছর ১১ই নভেম্বর বইটি নিষিদ্ধ করে ব্রিটিশ আমলে এ গ্রন্থের উপর নিষেধাজ প্রত্যাহৃত হয় নি।
- ১১টি কবিতা এখানে আছে। প্রতিটি কবিতাই বিদ্রোহাত্মক।
- জাগরণী, দুঃশাসনের রক্ত-পান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কবিতা।

• 'কারার ঐ লৌহ-কপাট' কবিতা সংক্ষেপ-

কারার ঐ লৌহ-কপাট
- কাজী নজরুল ইসলাম
কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট,
রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!
ধ্বংস নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি। (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ভাঙ্গার গান কাব্যগ্রন্থ- কাজী নজরুল ইসলাম।
৮৯১.
'মরু ভাস্কর'- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) হাবিবুল্লাহ্ বাহার
  4. ঘ) সকলেই
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনী কাব্য।
- ‘চিত্তনামা’ ও ‘মরু-ভাস্কর’ 
- চিত্তনামা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে নিয়ে লেখা,
- আর ‘মরু-ভাস্কর’ হযরত মুহম্মদ (স) নিয়ে লেখা।

• হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ 'মরু ভাস্কর'। 
• আবার,  'মরু-ভাস্কর' প্রবন্ধের রচয়িতা 'হাবিবুল্লাহ্ বাহার'৷
এই প্রবন্ধে লেখক মহানবির জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন যা আমাদের ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিকতা বিকাশে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে৷

উৎস: সপ্তবর্ণা, ৭ম শ্রেণি, মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯২.
’মহাশ্মশান’ মহাকব্যটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১২ সাল
  2. ১৯০৩ সাল
  3. ১৯০৯ সাল
  4. ১৯০৪ সাল
ব্যাখ্যা
• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
-  কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
-  কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
-  প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
---------------------------------------
কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৯৩.
কবি জসিম উদ্দিন রচিত ''রঙ্গিলা নায়ের মাঝি'' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) শিশুতোষ গ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
  5. ঙ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, গাঙ্গের পার ও জারিগান এগুলো হলো কবি জসীম উদদীন রচিত গানের সংকলন। জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো নক্সীকাঁথার মাঠ, রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না ইত্যাদি। তার শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো হাসু, এক পয়সার বাঁশি ও ডালিম কুমার। তার রচিত নাটকগুলো হলো- বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ ও গ্রামের মায়া। তার একমাত্র উপন্যাস বোবা কাহিনী। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।
৮৯৪.
'সিরাজাম মুনীরা'- কোন ভাষায় রচিত গ্রন্থ?
  1. বাংলা 
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা

•'সিরাজাম মুনীরা'- ফররুখ আহমদের বাংলা ভাষায় রচিত।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য।
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৯৫.
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম ঢাকায় আসেন কত সালে? 
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন। 
- কাজী নজরুল ইসলাম প্রথমবার ঢাকায় আসেন ১৯২৬ সালে। 
- কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার। 
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। তাকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৯৬.
''মৃণালিনী'' কার রচনা?
  1. ক) বঙ্কীমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিমলমিত্র
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- বিষবৃক্ষ
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুন্ডলা
- চন্দ্রশেখর
- মৃণালিনী
- যুগলাঙ্গুরীয়
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- সীতারাম
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৮৯৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের বিষয়বস্তু -
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. বঙ্গভঙ্গ
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. বিধবার প্রেম
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৯৮.
‘আশালতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাজর্ষি 
  2. চার অধ্যায়
  3. ঘরে-বাইরে
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্র:
- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৮৯৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথের রূপক-সাংকেতিক নাটক নয়?
  1. ক) ডাকঘর
  2. খ) রক্তকরবী
  3. গ) তাসের দেশ
  4. ঘ) বিসর্জন
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাট্য-প্রতিভার চূড়ান্ত রূপ ধরে পড়ে তাঁর রূপক-সাংকেতিক নাটকগুলোতে।
- বিসর্জন নাটকটি রূপক-সাংকেতিক না হলেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ নাটক এটি। এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা।
- রাজর্ষি উপন্যাসের প্রথমাংশ নিয়ে এই নাটকের আখ্যানভাগ নির্মাণ করা হয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯০০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প নয়?
  1. কাবুলিওয়ালা
  2. ছুটি
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. পণরক্ষা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প নয় - প্রায়শ্চিত্ত। এটি তাঁর রচিত প্রেমের গল্প।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্টমাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রেমের গল্প:
- একরাত্রি,
- মহামায়া,
- সমাপ্তি,
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- মানভঞ্জন,
- দুরাশা,
- অধ্যাপক,
- নষ্টনীড়,
- স্ত্রীর পত্র,
- পাত্র ও পাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।