'বিড়াল' প্রবন্ধ:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
• প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
• ‘রিড়াল’ রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
• সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!
---------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।
উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।