বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ৩৯ / ৪১ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ৪,০৩৭

৩,৮০১.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০২.
নিচের কোনটি কারা-সাহিত্য?
  1. আমি সৈনিক
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. পলাশী থেকে পাকিস্তান
  4. হ-য-ব-র-ল
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান'। 
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।
-----------------------------
-----------------------------
আরো কিছু বিশেষ তথ্য:

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ, 
- আমি সৈনিক।

অন্যদিকে, 
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ'পলাশী থেকে পাকিস্তান'।
• শিশু-কিশোর গল্প 'হ-য-ব-র-ল' এর রচয়িতা- সুকুমার রায়। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৩.
'রাজর্ষি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• "রাজর্ষি" উপন্যাস:
'রাজর্ষি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটি মানবতা পক্ষে ধর্মীয় কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে ।পরবর্তীতে এ উপন্যাস এর উপর ভিত্তি করে রচিত হয় তার বিখ্যাত নাটক "বিসর্জন" উপন্যাসটি বালক পত্রিকা কর্তৃক ১২৯৩ বঙ্গাব্দ (১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বালক অদ্যায় । জীবনস্মৃতি তে তার রাজর্ষি উপন্যাস রচনা সম্পর্কে বলেন-
ছবি ও গান এবং কড়ি ও কোমল এর মাঝখানে বালক নামে একখানি মাসিক পত্রিকা এক বৎসরের ওষধি গাছের মত ফল ফলাইয়া লীলাসম্বরণ করিল । ... দুই এক সংখ্যা বাহির হইবার পরে এক-দুইদিনের জন্য দেওঘরে রাজনারায়ণ বাবুকে দেখতে যাই । কলিকাতায ফিরিবার সময় রাত্রের গাড়িতে ভিড় ছিল; ভালো করিয়া ঘুম হৈতেছিল না-ঠিক চোখের উপরে আলো জ্বলিতেছিল। মনে করিলাম ঘুম যখন হইবে না তখন এই সুযোগে বালকের জন্য একটা গল্প লিখিয়া রাখি। গল্প ভাবিবার ব্যর্থ চেষ্টার টানে গল্প আসিল না, ঘুম আসিয়া পড়িল। স্বপ্ন দেখিলাম, কোন এক মন্দিরের সিঁড়ির রক্তচিহ্ন দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুন ব্যাকুলতায় তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে- বাবা, একি! এ যে রক্ত! বালিকার এই কাতরতায় বাপ অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে। জাগিয়া উঠিয়ায় মনে হইল এটি আমার স্বপনলব্ধ গল্প। এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্য এর পুরাবৃত্ত মিশায়ে রাজর্ষি গল্প মাসে মাসে লিখিতে লিখিতে বালকে বাহির করিতে লাগিলাম। 

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- ইন্দ্রনারায়ন,
- পুরোহিত বিল্বন,
- হাসি ও
- তাতা। 

উৎস: "রাজর্ষি" উপন্যাস।
৩,৮০৪.
'রোহিণী, গোবিন্দলাল' কোন গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'রোহিনী ও গোবিন্দলাল'- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র।

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস: 
- রোহিনী, গোবিন্দলাল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র।
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিনী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি। 
 
তাঁর রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের চরিত্র:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 
- কৃষ্ণকান্তের উইল - চরিত্র রোহিনী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৫.
”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. সুফিয়া কামাল
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

”আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে
 প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।
-  অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহি•

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮০৬.
'নিমচাঁদ ও কেনারাম' দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন প্রহসনের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. জামাই বারিক
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগল বুড়ো
  4. কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
• "সধবার একাদশী" প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছ। দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করেই প্রহসনটি রচনা করা হয়েছে।

প্রহসনটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দীনবন্ধু মিত্রের 'জামাই বারিক' প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কামিনী, বগলা, বিজাব্বল্লভ ইত্যাদি।

• 'কমলেকামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' একটি প্রহসন। ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৭.
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদের নাম কী?
  1. Song Offers
  2. Song Offering
  3. Song Offerings
  4. Song Offspring
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)।
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats। 
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮০৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য কাব্য কোনটি?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) পুনশ্চ
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
• 'পুনশ্চ' (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি তাঁর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
উল্লেখযোগ্য কবিতা- ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮০৯.
মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. সিন্দাবাদ
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাখির বাসা
  4. সিরাজাম মুনীরা
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি', যা ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই কাব্যগ্রন্থে ১৯টি কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বইটি মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে স্বপ্ন, সৌন্দর্যবোধ, আত্মধিক্কার, এবং নির্যাতিত মানুষের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

---------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮১০.
'বাঁধন হারা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র -
  1. নুরুল হুদা
  2. আনোয়ার
  3. আনসার
  4. সাইফুদ্দিন
ব্যাখ্যা
• 'বাঁধন-হারা':
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১১.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার লেখক হিসেবে কার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করেন?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা লাভ করেন।
তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় 'Fairy Tales'।
ঠাকুরমার ঝুলি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের বাংলাদেশে প্রচলিত রূপকথার সংকলন। এর ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১২.
কোন প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন?
  1. শিক্ষার ইতিকথা
  2. ভাষা শিক্ষা
  3. মাতৃভাষা
  4. শিক্ষার হেরফের
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষার হেরফের’: 
- শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক একখানা প্রবন্ধ রচনা করেন।
-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত,  
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- মানুষের ধর্ম।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৩.
'ইন্দিরা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প।
- ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত।
- এটি কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দনী, 
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক -
  1. অচলায়তন
  2. রক্তকরবী
  3. ডাকঘর
  4. বাল্মীকি প্রতিভা
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরাণীর হাট’৷
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'৷
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধপ্রসঙ্গ'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮১৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা নয় কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. শকুন্তলা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শকুন্তলা কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪।

'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি বিখ্যাত কাব্য। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’।
- ১৮৬০ সালের এই কাব্যটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মাইকেল মধূসূদন দত্তের প্রথম কাব্য। 

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৬.
'মেঘনাদবধ' কাব্যের কাহিনি কয়টি সর্গে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ছয়টি
  2. সাতটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

 রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযােধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছােটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গােদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বােন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূৰ্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়ােজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশােকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১৭.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৯৭৬
  2. ১৯০০-১৯৭৪
  3. ১৮৮৯-১৯৪১
  4. ১৯০৩-১৯৭৬
ব্যাখ্যা
• পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীনের জীবনকাল - ১৯০৩-১৯৭৬।

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা, ১৯৫২),
- 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা, ১৩৬৮),
- জীবন কথা (আত্মজীবনী, ১৯৬৪) ইত্যাদি।

 তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৮.
নিচের কোন প্রহসনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচিত?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা   
  2. আলীবাবা 
  3. যৎকিঞ্চিত 
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন হচ্ছে ‘সধবার একাদশী’। 

• ‘সধবার একাদশী’:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন ‘সধবার একাদশী’ তৎকালীন কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজের ভণ্ডামি, মদ্যপান ও বেশ্যাসক্তির কুপ্রভাবকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে। 
- সমাজের ধনী শ্রেণির নৈতিক অবক্ষয় ও তাদের ভোগবিলাসী জীবনের অসারতা এই প্রহসনের মূল বিষয়।
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রহসন হিসেবে স্বীকৃত।
- এই প্রহসনে বিধবার অন্ধ ধর্মাচার ও কুসংস্কারকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
----------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।
-----------------------------------------
অন্যদিকে, 
- বৈকুণ্ঠের খাতা প্রহসনটির রচয়িতা হচ্ছে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- আলীবাবা ও যৎকিঞ্চিত হচ্ছে কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত প্রহসন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৮১৯.
"রাজবন্দীর চিঠি" গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ব্যথার দান
  2. শিউলিমালা
  3. রিক্তের বেদন
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি
 
অন্যদিকে,
"যুগবাণী" কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা, রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮২০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অগ্নিবীণা কাব্যের কোন কবিতা মুসলিম ঐতিহ্য সম্পর্কিত নয়?
  1. আগমনী
  2. কামাল পাশা
  3. খেয়াপারের তরণী
  4. কোরবানী
ব্যাখ্যা
• অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে। বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:

- কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বিশেষভাবে দেখা যায় 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে।
- 'অগ্নিবীণা' তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্রোহ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিক সাম্য ও উদারনৈতিক মানবতাবোধের স্বর তুলে ধরে।
- এই কাব্যগ্রন্থে তার বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ও 'আগমনী' সহ বিভিন্ন কবিতা রয়েছে যেগুলি মানবতাবাদী ও উদারনৈতিক চেতনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- এ কাব্যের ১২টি কবিতার মধ্যে সাতটি ইসলামী ঐতিহ্য, তিনটি বিশুদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য এবং দুটি কবিতা হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে রচিত।
- কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য ও জীবনবোধের প্রসঙ্গে খোদার আসন, আরশ ছেদিয়া, বোররাক, জিব্রাইল, হাবিয়া-দোযখ, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
- অন্যদিকে, এই কাব্যের কবিতায় নটরাজ ধূর্জটি, হোমশিখা, জমদগ্নি, ইন্দ্রানী, কৃষ্ণ-কন্ঠ, ব্যোমকেশ, ইশান, শ্যাম, বিষ্ণু, পরশুরাম, বলরাম, ভৃগু প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী নজরুলের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
৩,৮২১.
'পঞ্চভূত' রবীন্দ্রনাথের কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) অতিপ্রাকৃত ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। 
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভুতনাথ বাবু'  

তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮২২.
''আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।''- উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'যদি আর বাঁশী না বাজে' শীর্ষক অভিভাষণে ''আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।'' উক্তিটি করেছেন।

• 'যদি আর বাঁশী না বাজে- অভিভাষণ', 
- কাজী নজরুল ইসলাম। 

যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম, সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন। আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসি নি। আমি নেতা হতে আসি নি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী হতে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম। (সংক্ষেপিত)।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'যদি আর বাঁশী না বাজে- অভিভাষণ'।
৩,৮২৩.
'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮২৪.
'কমলাকান্ত' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
• তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'কমলাকান্ত' তাঁর ছদ্মনাম
• ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৫৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
• 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
• বাংলা সাময়িকী সাহিত্যের প্রসারেও বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান অসামান্য। তাঁর সম্পাদিত  ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার মাধ্যমে একটি নতুন লেখকগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২৫.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কার লেখা?
  1. বাল্মিকী
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. আব্দুল করিম
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৮২৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন দুটি উপন্যাসের চরিত্রদের মাঝে অন্ত্যমিল রয়েছে?
  1. দুইবোন ও শেষের কবিতা
  2. যোগাযোগ ও বৌঠাকুরাণীর হাট
  3. মালঞ্চ ও গোরা
  4. চার অধ্যায় ও করুণা
ব্যাখ্যা

⇒ “শেষের কবিতা” উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।  

•“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

⇒ ‘দুইবোন’:
• দুইবোন (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশ হয়।
• আখ্যানস্ত্তর আভাস আছে উপন্যাসের প্রারম্ভেই: ‘মেয়েরা দুই জাতের কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন একথা শুনেছি।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: শর্মিলা, ঊর্মিলা ও শশাঙ্ক।
• শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

⇒ দুই উপন্যাসের কাহিনির পেক্ষিতে বলা যায়- ‘শেষর কবিতা’র অমিতের দুই নারীকে ভালোবাসার তত্ত্বের মতোই এখানে ঘটনা সংঘটিত হয়। ‘দুই বোনের’র চরিত্র শশাঙ্ক আর ‘শেষের কবিতা’র অমিত যেন জমজ চরিত্র।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮২৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প কোনটি?
  1. রবিবার
  2. ল্যাবরেটরি
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'দেনা পাওনা' ছোটগল্প:
- 'দেনা পাওনা'  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার - মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৮২৮.
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত বঙ্গাব্দে?
  1. ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫
  2. ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
  3. ১লা আষাঢ় ১৩০৭
  4. ২৪শে বৈশাখ ১২৮৮
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে। 

 কাজী নজরুল ইসলাম:
 - কাজী নজরুল ইসলাম ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - শৈশবে তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
 - পরবর্তীতে তিনি বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
 - ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
 - তাঁকে “বিদ্রোহী কবি” নামে অভিহিত করা হয়।
 - মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান।
 - বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
 - তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৮২৯.
’কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ’- চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. বিষবৃক্ষ
  3. আনন্দমঠ
  4. সীতারাম
ব্যাখ্যা
• বিষবৃক্ষ:
- ’বিষবৃক্ষ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৩ সালে।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুন্দনন্দিনী , নগেন্দ্রনাথ, হীরা , সূর্যমুখী। 
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসটি ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা - বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে।
- এই উপন্যাসের পটভূমি বিধবাবিবাহ আইন পাশ হওয়ার সমসাময়িক কাল।
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।

অন্যদিকে,
- ’কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
---------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৩০.
বাংলাদেশের কোন স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির জন্য ঘুরে বেড়ান?
  1. ক) সখিপুর
  2. খ) টুনির হাট
  3. গ) ব্যারিস্টার বাজার
  4. ঘ) কালিগ্রাম
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাদেশ: 
 - ১৮৯০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে দ্বিতীয় বার বিলেত যান একমাসের জন্য।
- অক্টোবর মাসে ফিরে আসার পর পিতার আদেশে তাঁকে জমিদারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।
- এই দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিচিত্র পথ খুঁজে পায়।
- এতদিন তিনি যে কাব্য, নাটক আর উপন্যাস লিখেছেন, তার সবই ছিল ভাবমূলক এবং বিশুদ্ধ কল্পনার বস্ত্ত।
- এবার তিনি লোকজীবনের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দরিদ্র মানুষের সাধারণ জীবন পর্যবেক্ষণ করেন। কবি কল্পনার জগৎ থেকে নেমে আসেন বাস্তব পৃথিবীর প্রত্যক্ষ জীবনে।
- ফলে রচিত হয় বাংলা সাহিত্যের অপূর্ব সম্পদ গল্পগুচ্ছের  গল্পগুলি।
- এছাড়া উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৮৩১.
'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্প থেকে নেয়া?
  1. কাবুলিওয়ালা
  2. পোস্টমাস্টার
  3. নষ্টনীড়
  4. জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত':
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩,৮৩২.
ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. যোগাযোগ
  2. চার অধ্যায়
  3. গোরা
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

---------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর।
বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর।
এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।

৩,৮৩৩.
'বন্দে মাতরম্' গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ধ্বনিত হয়েছে?
  1. যুগলাঙ্গুরীয়
  2. আনন্দমঠ
  3. রাজসিংহ
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে-  স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৪.
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে কার শিষ্য দাবি করেছেন?
  1. বিশ্বমিত্র
  2. পরশুরাম
  3. দুষ্মন্ত
  4. নটরাজ
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে 'বিশ্বমিত্রের' শিষ্য দাবি করেছেন।

তিনি লিখেছেন-
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল; প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. বিদ্রোহী কবিতা।
৩,৮৩৫.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ক) সন্ধ্যা
  2. খ) নির্ঝর
  3. গ) রুদ্রমঙ্গল
  4. ঘ) সবগুলো রচনা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- সন্ধ্যা,
- নির্ঝর, 

- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

•  ‘রন্দ্রমঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৬.
'সাবিত্রী' চরিত্রটির স্রষ্টা?
  1. দাউদ হায়দার
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'সাবিত্রী' চরিত্রটির স্রষ্টা - দীনবন্ধু মিত্র

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।  
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উল্লেখ্য, 'সাবিত্রী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'চরিত্রহীন' উপন্যাসেরও চরিত্র।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীল-দর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৭.
নিচের কোনটি প্রবন্ধের বই?
  1. ক) পল্লী-সমাজ
  2. খ) দিবারাত্রির কাব্য
  3. গ) কালান্তর
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
'কালান্তর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধের সংকলন।

অন্যদিকে,
- 'পল্লী-সমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৩৮.
রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামি ও ধর্মপরায়ণতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীচতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে কোন রচনায়?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. সধবার একাদশী
  3. এর উপায় কি?
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামি ও ধর্মপরায়ণতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীচতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
 •'একেই কি বলে সভ্যতা':  
 এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

 • সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

 •'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থে সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন ঘটান?
  1. জাপান যাত্রী
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১):
- 'যুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪০.
রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম আধুনিক কবি যিনি রবীন্দ্রনাথ এর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন, তিনি হলেন-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি - অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। যদিও রবীন্দ্র কাব্যধারার বাইরে কবিতা লিখে তিনি বিখ্যাত।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- খসড়া, এক মুঠে, মাটির দেয়াল, অনিঃশেষ, অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৪১.
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪২.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা?
  1. চরিত্রহীন
  2. বিধু মাস্টার
  3. সঞ্চিতা
  4. মানুষের ধর্ম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধ:
- 'মানুষের ধর্ম' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ধর্মচিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধ।
- ১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রদত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমলা স্মৃতি বক্তৃতাগুলোই এর মূল লেখা।
- তাঁর ধর্মচিন্তা, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বিষয়ে তাঁর বীতরাগ এবং উদার মানবিক-আধ্যাত্মিকতাবোধের কবিত্বময় প্রকাশ এই বক্তৃতা তথা লেখাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য।
- এই প্রবন্ধের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন-"যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থগুলো হলো:
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
 -সভ্যতার সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। 
• 'বিধু মাস্টার' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
• 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন। গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধ।
৩,৮৪৩.
‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ - এর উপজীব্য কী?
  1. অর্জুনের তপস্যা
  2. সীতা-রামের মিলন
  3. সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব
  4. কৃষ্ণ-রাধার প্রেমকাহিনি
ব্যাখ্যা

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে কোন নাটকটি উৎসর্গ করেন? 
  1. তাসের দেশ
  2. বসন্ত
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
'তাসের দেশ' নাটক: 
- 'তাসের দেশ' নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু'কে উৎসর্গ করেন। 
- 'তাসের দেশ' একটি রূপক নাট্য। 
- এটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)। 
- ভারতী পত্রিকা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত হতো। 
- বসন্ত নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উৎসর্গ করেন - কাজী নজরুল ইসলামকে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- অচলায়তন, 
- ডাকঘর, 
- ফাল্গুনী, 
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- বসন্ত এবং 
- চিরকুমার সভা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৫.
বাংলা সাহিত্যে কে পল্লীকবি নামে খ্যাত?
  1. জীবনানন্দ দাস
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা আরজু
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'। তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যোপন্যাস?
  1. চার অধ্যায়
  2. রাজর্ষি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------
• 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
• রাজর্ষি (১৮৮৭) হলো ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি এঁতিহাসিক উপন্যাস।
• 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস ।এটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৮৪৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী, কাজী নজরুল ইসলামের কোন সাহিত্যকর্মের ভূমিকা লিখেন?
  1. মরু-ভাস্কর
  2. রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
  3. ভাঙার গান
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম:
- ইরানের জীবনবাদী কবি ওমর খৈয়ামের রুবাই বা কবিতা অনুবাদ করেন নজরুল।
- ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে 'রুবাইয়াৎ-ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন।
- জীবনবাদী ওমর নজরুলকে খুব আকর্ষিত করেছিলেন। এ অনুবাদে অত্যন্ত চমৎকার ভাষাভঙ্গি ব্যবহৃত।
- অন্যান্য অনুবাদকারের চেয়ে নজরুলের অনুবাদ অনুভূতির পরশে, যথাযথ শব্দের পরিপাট্যে উজ্জ্বল।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৮.
বিখ্যাত 'ভক্তপ্রসাদ বাবু' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
- পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৪৯.
‘পল্লিজননী’ কবিতায় ঘরের চালে কি ডাকছিল?
  1. ক) ডাহুক
  2. খ) ভুতুম
  3. গ) কাক
  4. ঘ) কানা কুয়ো
ব্যাখ্যা

ঘরের চালেতে ভুতুম ডাকিছে, অকল্যাণ এ সুর,
মরণের দুত এল বুঝি হায়। হাঁকে মায়, দুর-দুর।
পচা ডোবা হতে বিরহিনী ডা’ক ডাকিতেছে ঝুরি ঝুরি,
কৃষাণ ছেলেরা কালকে তাহার বাচ্চা করেছে চুরি।

- পল্লিজননী, - জসীমউদ্‌দীন

৩,৮৫০.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

৩,৮৫১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন গ্রন্থটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. যুগবাণী
  2. অগ্নিবীণা
  3. প্রলয় শিখা
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।

• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• যুগবাণী:
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।
- ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
- ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন ‘যুগবাণী’।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৫২.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. পুনশ্চ
  2. সেজুতি
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. শেষলেখা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিচিত:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৫৩.
গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকে?
  1. রক্তকরবী
  2. কালান্তর
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক :
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘কালান্তর’। এটি প্রথমে ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক। রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫৪.
কবি জসীম উদ্‌দীন তাঁর 'আসমানী' কবিতায় আসমানীরে দেখতে কোথায় যেতে বলেছেন?
  1. মধুপুর
  2. শেরপুর
  3. রসুলপুর
  4. মজুপুর
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্‌দীন তাঁর 'আসমানী' কবিতায় আসমানীরে দেখতে রসুলপুরে যেতে বলেছেন।
--------------------- 
আসমানী - কবিতা,
– জসীম উদ্‌দীন।

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
--------------------- 
জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) আসমানী - কবিতা।
৩,৮৫৫.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'জমিদার দর্পণ' একটি -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটিতে প্রজাদের প্রতি জমিদার শ্রেনির শোষণ অত্যাচার ফুটে উঠেছে।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫৬.
সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৭
  2. ১২
  3. ১৯
  4. ১৩
ব্যাখ্যা

 • সাত সাগরের মাঝি:
- এটি ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থে ‍উল্লেখযোগ্য কবিতা সমূহ:
- সিন্দবাদ
- পাঞ্জেরি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার
- শেষরাত্রি, ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৫৭.
ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• আহসান হাবীব ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’ কোন রস প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ক) বীররস
  2. খ) করুণ রস
  3. গ) আদি রস
  4. ঘ) ভয়ানক রস
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
মেঘনাদবধ কাব্যে 'র বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং কাব্যের নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।
কবি কাব্যের প্রথমে বীররসের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করুনরসই প্রাধান্য পেয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৫৯.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'-বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• সভ্যতার সংকট:
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশে প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হলো:

• সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ:
'প্রাচীন সাহিত্য', 'লোকসাহিত্য', 'আধুনিক সাহিত্য', 'সাহিত্য', 'সাহিত্যের পথে', 'সাহিত্যের স্বরূপ' প্রভৃতি।
[এসব প্রবন্ধ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যতত্ত্ব সাহিত্যবিচার ও বিভিন্ন কবিসাহিত্যিক সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।]

• ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ:
'শব্দতত্ত্ব', 'ছন্দ', 'বাংলা ভাষা পরিচয়' প্রভৃতি গ্রন্থে ভাষাতত্ত্বমূলক রসহীন বিষয়কে সাহিত্য-বিচারবুদ্ধি দ্বারা রমণীয় করে তুলেছেন।

• রাজনৈতিক প্রবন্ধ:
'আত্মশক্তি', 'ভারতবর্ষ', 'রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', 'সভ্যতার সঙ্কট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক।
[দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।]

• 'শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।

• ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ:
'ধর্ম', 'শান্তিনিকেতন', 'মানুষের ধর্ম' প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।

• 'চারিত্র্যপূজা', 'পঞ্চভূত', 'লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩,৮৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের কাহিনির সাথে কোন গ্রন্থের কাহিনির মিল রয়েছে?
  1. রবিবার
  2. পোস্টমাস্টার
  3. দেনাপাওনা
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের কাহিনির সাথে- 'রবিবার' ছোটগল্পের মিল রয়েছে। 

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷ 
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো,
'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৬১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৬০ সালে 
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬৩ সালে
  4. ১৮৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
-  A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর "নীল দর্পন" নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় "নীল দর্পন" নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

-----------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন। তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৮৬২.
কায়কোবাদ রচিত ’মহাশ্মশান’ একটি-
  1. গীতকাব্য
  2. নাট্যকাব্য
  3. মহাকাব্য
  4. পদাবলী কাব্য
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ রচিত "মহাশ্মশান " - একটি মহাকাব্য। 
- কাব্যটির ঐতিহাসিক পটভূমি হলো তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ (১৭৬১)।
- তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে মহারাষ্ট্রীয়দের পরাজয় এবং আহমদ শাহ আবদালীর বিজয় বর্ণনা কাব্যটির বিষয়বস্তু।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম খণ্ডে ২৯ সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খণ্ডে ৭ সর্গ রয়েছে।
-----------------------------------------------
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি,।
- তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা ।
- আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৩.
১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. লাশ
  2. অকাল
  3. নবান্ন
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
"লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
• ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

লাশ
ফররুখ আহমদ
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোেড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।

----------------
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হল সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের "আকাল"। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. বঙ্গদর্শন
  3. বঙ্গদূত
  4. সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। 
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- তিনি 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
• 'বঙ্গদূত' (১৮২৯) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - নীলমণি হালদার।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা বঙ্গদর্শন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭২ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৫.
’মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. মরণ
  2. বধূ
  3. প্রাণ
  4. বর্ষা
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রাণ' কবিতার অংশবিশেষ:
- ’মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’
- কবিতাটি কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৬.
'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• কড়ি ও কোমল:
- 'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -কাব্যগ্রন্থ।

- কড়ি ও কোমল ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারী দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ এই তিনটি লক্ষণে কাব্যাটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগ সৃষ্টি করেছিল তার প্রভাব এই কাব্যগ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৭.
রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃতিক গল্প নিম্নের কোনটি?
  1. ক) নিশীথে
  2. খ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
  3. গ) অনধিকার প্রবেশ
  4. ঘ) ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃতিক গল্প 'নিশীথে'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৮.
কবি জসীম উদ্‌দীন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৬৯.
'জমিদার দর্পণ' নাটকের পটভূমি কোন জায়গায়?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৭০.
ভারত সরকার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিম্নোক্ত কোন জাতীয় পদক প্রদান করে?
  1. পদ্মশ্রী
  2. পদ্মবিভূষণ
  3. পদ্মভূষণ
  4. ভারত রত্ন
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদকও নজরুলকে প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে। 
উৎস: ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা পিডিয়া।
৩,৮৭১.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ মেঘনাদবধ কাব্য
- ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এই কাব্যের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা ঘটে।
- আর কোন রচনা না থাকলেও মধুসূদন এই একটি কাব্য লিখেই অমর হয়ে থাকতে পারতেন।

--------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭২.
‘গীতবিতান’ সংগীত বিষয়ক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘গীতবিতান’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।
- তাঁর গানের সংখ্যা ২২৩২ এবং সেগুলি অখণ্ড ‘গীতবিতান’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’ (প্রকাশ:১৮৭৮)।
- আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম - ভিখারিনী।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৭৩.
ফররুখ আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মাগুড়া
  2. ঝিনাইদহ
  3. ঝালকাঠি
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?  
  1. ১১টি 
  2. ১৩টি
  3. ১৫টি 
  4. ১৮টি 
ব্যাখ্যা

• বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচিতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ
- এছাড়াও মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা নামে আরো দুটি উপন্যাস লিখেছেন তিনি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৭৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৩ সালে
  2. ১৮১২ সালে
  3. ১৮২০ সালে
  4. ১৮১১ সালে
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর — ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৭৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. কথামালা
  3. বিশ্বপরিচয়
  4. বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা
• 'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থ:
'বর্ণপরিচয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।
শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম। ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে আসছে।

গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, তদ্যোগে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে। দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।

অন্যদিকে, 
- 'লিপিমালা' গ্রন্থ রচনা করেছেন রামরাম বসু।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়'।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গল্পের গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৭.
'অতৃপ্ত কামনা' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শিউলিমালা
  2. ঝিলিমিলি
  3. ব্যথার দান
  4. রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- "ঝিলিমিলি" হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৭৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'পদ্মভূষণ' লাভ:
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।

১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক প্রদান করা হয় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৭৯.
২৫ শে বৈশাখ কার জন্মদিন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শামসুর রাহমান
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- শেষলেখা।

উপন্যাস সমূহ:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে-বাইরে,
- শেষের কবিতা।

ছোটগল্প সমূহ:
- ভিখারিণী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার,
- ছুটি,
- সমাপ্তি,
- কাবুলিওয়ালা,
- ক্ষুধিত পাষাণ ইত্যাদি।

নাটক সমূহ:
- বিসর্জন,
- চিত্রাঙ্গদা,
- অচলায়তন,
- ডাকঘর,
- রক্তকরবী ইত্যাদি।

প্রবন্ধ সমূহ:
- আধুনিক সাহিত্য,
- কালান্তর,
- সাহিত্যের স্বরূপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮০.
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯০ - ১৯৭৫
  2. ১৮৯৯ - ১৯৭৬
  3. ১৮৯৫ - ১৯৭৬
  4. ১৮৯৯ - ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল: ১৮৯৯-১৯৭৬। 

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস)।
- মৃত্যুক্ষুধা।
- কুহেলিকা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান।
- রিক্তের বেদন।
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮১.
'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সেলিনা খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - ফররুখ আহমদ
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ পত্রিকা
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জুন, ২০১৯।
৩,৮৮২.
ফররুখ আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯৩৮ সালের ১০ জুন
  2. ১৯২৮ সালের ১০ জুলাই 
  3. ১৯১৮ সালের ১০ জুন
  4. ১৯০৮ সালের ১০ জুলাই
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম: 
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- নৌফেল ও হাতেম,
- সিন্দাবাদ,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮৩.
“পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?"- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. মৃণালিনী
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য এটাকে 'রোমান্স' ধর্মী উপন্যাস বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

---------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৪.
'চোখের বালি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. চারুলতা 
  2. শান্তিলতা 
  3. আশালতা
  4. কিরণলতা 
ব্যাখ্যা

• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮৫.
রবীন্দ্রনাথ মানব জীবনের সাথে কোনটির তুলনা করেছেন?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) পাহাড়
  3. গ) পথ
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানব জীবনের সাথে নদীর তুলনা করেছেন। আর বৃক্ষের সাথে মানব জীবনের তুলনা করেছেন মোতাহার হোসেন চৌধুরী। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৮৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. মামলার ফল
  2. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  3. বিলাসী
  4. দুইবোন
ব্যাখ্যা
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'। 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে।
• গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
• সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। খোকাবাবুর মৃত্যুতে গৃহ পরিচারক রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর সে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে। আলোচ্য গল্পের নাম নির্বাচনে রাইচরণের প্রাসঙ্গিক এ ভাবনাই রবীন্দ্র চিত্তে ক্রিয়াশীল ছিল বলে অনুমান করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'মামলার ফল' ও 'বিলাসী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প। 
• 'দুইবোন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৭.
মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. ক) কড়ি ও কোমল
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে

'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।
এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৮.
'Song Offerings' কোন গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ?
  1. চিত্রা
  2. মানসী
  3. সোনার তরী
  4. গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• গীতাঞ্জলি:
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন- ডব্লিউ বি. ইয়েটস্।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮৯.
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কাকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
  2. খ) জসীম উদ্‌দীনকে
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী শিক্ষাবিদ, লেখক। নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।

- মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত 'সংস্কৃতির কথা' গ্রন্থের বিখ্যাত প্রবন্ধ 'জীবন ও বৃক্ষ'।

'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে লিখেছেন:
‘অবশ্য রবীন্দ্রনাথ অন্য কথা বলেছেন। ফুলের ফোটা আর নদীর গতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মতে মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধি হয়, ফুলের ফোটায় নয়। ফুলের ফোটা সহজ, নদীর গতি সহজ নয়। তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। কিন্তু ফুলের ফোটার দিকে না তাকিয়ে বৃক্ষের ফুল ফোটানোর দিকে তাকালে বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ ভালো করতেন। তপোবন-প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ কেন যে তা করলেন না বোঝা মুশকিল।’

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধ।
৩,৮৯০.
'ভানুসিংহ' কার ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
  2. প্রমথ চৌধুরীর
  3. কাজী নজরুলের
  4. গোলাম মোস্তফার
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ব্রিটিশ সরকার ১৯১৫ সালের ৩রা জুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করে৷ 
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত (১৯১৫ সালে প্রদত্ত) ‘নাইট উপাধি’ ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনাম - ব্যাঙাচি।
- গোলাম মোস্তফা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৯১.
'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. কামিনী রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,<br />লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা': 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। 

- কণিকা ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ছোটো ছোটো কবিতার সংকলন। তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য। অণুকাব্যও বলা যায়। ক্যাপশনের মতো, অন্তে মিল আছে।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
- বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ। 
৩,৮৯২.
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ গ্রন্থে কয়টি সনেট রয়েছে?
  1. ৯৯টি
  2. ১০৩টি
  3. ১০৪টি
  4. ১০২টি
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ।
- কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বউ-ঠাকুরাণীর হাট
  2. দেনাপাওনা
  3. চোখের বালি
  4. নৌকাডুবি
  5. গোরা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - 'বউ ঠাকুরাণীর হাট '।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা' (অসমাপ্ত উপন্যাস)। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।

• 'বউ ঠাকুরাণীর হাট ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস হলো 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস।
- ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৩ সালে ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট' নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নরেশ মিত্র।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ কয়া হয় সৌদামিনী দেবীকে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম উপন্যাস - 'বৌঠাকুরানীর হাট'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ছোটগল্প - 'ভিখারিনী'।

• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা,
- গোরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বউ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩,৮৯৪.
"অমল, ভূপতি" - কোনটি গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. শাস্তি
  4. একরাত্রি
ব্যাখ্যা

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।

- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

৩,৮৯৫.
‘বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।’ উক্তিটি কোন কবিতার?
  1. ক) সঞ্চয়িতা
  2. খ) অগ্রপথিক
  3. গ) রূপবতী
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
'বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।' - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,৮৯৬.
কোন লেখক 'সাহিত্য সম্রাট' নামে খ্যাত?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশ যুগ এ পর্বের শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ভাব প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জীবনে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেন।
- তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভাগুণে পন্ডিতি ও আলালি-হুতোমি রীতির মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে সরল ও সরস গদ্যের সৃষ্টি করেন।
- “বঙ্গদর্শন” (১৮৭২) নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। 
- সাহিত্য-সমালোচনা, ঐতিহাসিক গবেষণা, ধর্ম ও দার্শনিক আলোচনা, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাহিত্য, ব্যঙ্গ-সাহিত্য এর সবই তিনি প্রবর্তন করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভাবলে যে সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য করেন। 
- বাংলায় তুলনামূলক সাহিত্যসমালোচনারও তিনিই পথিকৃৎ। 
- তবে তাঁর প্রধান পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে এবং এজন্য তিনি ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত হন। 
- তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুন্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৭.
কবি জসীম উদ্‌দীন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৯৯ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৪ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৯৮.
'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান'। এ চরণটি কে লিখেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 
                          মানুষ 

                      গাহি সাম্যের গান-
   মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্‌ ।
   নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
   সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
              ‘পূজারী দুয়ার খোলো,
   ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হ’ল!’
   স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
   দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
   জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
   ডাকিল পান’, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি ক’ সাত দিন!’
   সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
   তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে! (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: মানুষ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩,৮৯৯.
কোনটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়?
  1. "কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?"
  2. "অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।"
  3. "প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?"
  4. "কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে।"
ব্যাখ্যা
• "অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়।

অন্যদিকে,
• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের একটি বিখ্যাত লাইন।
• "প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?"- পঙ্‌ক্তি' রবীন্দ্রনাথের 'রাজা' নাটকের অন্তর্গত আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
• 'কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে - এ পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' কবিতার অন্তর্গত।

---------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৯০০.
'সাম্যবাদী' কবিতাটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা

'সাম্যবাদী' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সাম্যবাদী কবিতাটিতে সাম্যবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- লাঙল পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতে প্রকাশিত হয় 'সাম্যবাদী' কবিতাটি।
- সাম্যবাদী মূলত একটি কবিতা।
- সাম্যবাদী পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ কবিতা।
- যার চরণ সংখ্যা ৪৭৩।

সাম্যবাদী
 -কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রীশ্চান।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।