বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৪১ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৪,০৩৭

৩,৭০১.
জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর! - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই চরণদুটি কাকে স্মরণ করে লিখেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- দেশ বন্ধুর মৃতু্যর পরে কবি নজরুল শোকগাথামূলক যে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন সেটিও উৎসর্গ করেছিলেন বাসন্তী দেবীর নামে 'ইন্দ্র পতন' কবিতায় নজরুল চিত্তরঞ্জন দাসের মৃতু্যকে স্মরণ করে লিখেলেন-

জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর!
যে জ্যোতি পারেনি সহিতে স্বয়ং মুসা ও কোহ-ই তুরে,
সেই জ্যোতিঃ তুমি রেখেছিলে তব নয়ন মণিতে পুরে

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭০২.
ফররুখ আহমদ সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. তিনি যশোরের মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান উর্দু ভাষার পক্ষে।
  3. পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
  4. তিনি ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি ছিলেন।
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য নয় - পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান উর্দু ভাষার পক্ষে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে তাঁর অবস্থান ছিলেন।

• ফররুখ আহমদ, 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, শিশুসাহিত্যিক।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর।
- ফররুখ আহমদ ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন।
- পরে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
- তিনি ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি ছিলেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭০৩.
'সুভাষিণী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. সুভা
  3. বিলাসী
  4. ভিখারিনী
ব্যাখ্যা
• ‘সুভা’ ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'।
- ‘সুভা’ গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'।
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'।

--------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- ভিখারিনী,
- ছুটি,
- কাবুলিওয়ালা,
- পোস্টমাস্টার,
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- অপরিচিতা,
- হৈমন্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭০৪.
‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ কোন ভাষায় রচিত?
  1. প্রাকৃত
  2. মৈথিলী
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুহুঁ মম শ্যামসমান।"

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষ লেখা।

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

৩,৭০৫.
'সুধা' চরিত্রটি নিচের কোন নাটকের সঙ্গে যুক্ত?
  1. রক্তকরবী
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. বিসর্জন
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭০৬.
'অশান্ত পৃথিবী' কবিতাটি ফররুখ আহমদের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. নতুন লেখা
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'অশান্ত পৃথিবী' একটি সনেট কবিতা। আঠারো অক্ষরের চরণ মাত্রায় রচিত। “মূহূর্তের কবিতা” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা 'অশান্ত পৃথিবী'। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। 'অশান্ত পৃথিবী' কবিতায় মানবতার ক্লান্ত শ্রান্ত অবহেলিত জীবনের কথা স্থান পেয়েছে। কবির হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে লিখেছেন পৃথিবীর জন-মানবের কথা।

• 'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ১৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

---------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
-নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭০৭.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. কবর
  4. লেবেদেফ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক- 'ঢাকা' থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
-------------------- 
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক: 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৭০৮.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় 'কালাপাহাড়'-কে স্মরণ করেছেন কেন?
  1. ব্রাহ্মণ্যযুগে নব মুসলিম ছিলেন বলে
  2. ইসলামের গুণকীর্তন করেছিলেন বলে
  3. প্রাচীন বাংলার বিদ্রোহী ছিলেন বলে
  4. প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।
- এখানে কবি কালা পাহাড়কে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা
– কাজী নজরুল ইসলাম

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

--------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মানুষ’ কবিতা।
৩,৭০৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয়?
  1. গোরা
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. নৌকাডুবি
  4. দুই বোন
ব্যাখ্যা
 রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।

• প্রায়শ্চিত্ত:

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক, নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

• রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- চণ্ডালিকা,
- অচলায়তন,
- ডাকঘর।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১০.
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে,
কানে কানে কহি তোরে।
  - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. বর্ষাযাপন
  2. বিম্ববতী
  3. বসুন্ধরা
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।

কবিতার নাম - মহুয়া
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. মোসলেম ভারত
  2. ভারতী
  3. নবযুগ
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
বউ ঠাকুরাণীর হাট:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৭১২.
‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে - তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বচে।’ -পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মোজাম্মেল হক
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• দুই বিঘা জমি:
- উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কাহিনী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা দুর্বলের মুখে নীতিকথা প্রকাশিত হয়েছে।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৩.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. সীতার বনবাস
  4. একেই কি বলে সভ্যতা?
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অন্যদিকে,
- আগমনী ও সীতার বনবাস গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক।
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন- একেই কি বলে সভ্যতা?
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসনের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭১৪.
অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. দশটি
  2. এগারোটি
  3. বারোটি
  4. তেরোটি
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস। 
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ,
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭১৫.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) বিদ্রোহী - কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) শেষের কবিতা - নাট্যগ্রন্থ
  3. গ) বিষবৃক্ষ - উপন্যাস
  4. ঘ) নৌকাডুবি - গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বিষবৃক্ষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
বিদ্রোহী - কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা।
শেষের কবিতা - রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস।
নৌকাডুবি - রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭১৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. রজনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

'রজনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস- রজনী।

- উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে।
- বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত।
- এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য।
- 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস- মৃণালিনী।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস- কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭১৭.
দীনবন্ধু মিত্র কার অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাজনারায়ণ বসু
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীল-দর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৮.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে কোন বিষয়টি প্রধানভাবে আছে?
  1. বাংলার প্রকৃতির কথা
  2. বাংলার মানুষের কথা
  3. বাংলার ইতিহাসের কথা
  4. বাংলার সাংস্কৃতির কথা
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সঙ্গীত:
- বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আমার সোনার বাংলা 'কবিতার প্রথম ১০ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তা গৃহীত  হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি।
- জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিধান অনুযায়ী কণ্ঠে গাইতে গেলে দশ চরণ আর যন্ত্র সঙ্গীতে বাজাতে গেলে চার চরণ পর্যন্ত বাজাতে হবে।
-  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কবিতাটিতে মোট ২৫টি লাইন আছে।
- জাতীয় সংগীত সম্পর্কে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই গানে দেশের বন্দনা, ঋতু ও ভূ-প্রকৃতির বর্ণনা, দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়েছে’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৩,৭১৯.
‘হিতকরী’ পত্রিকা কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. ঢাকা
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাংকেতিক নাটক- 
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. রাজা
  3. কালের যাত্রা
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথের কিছু সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের ঘর ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭২১.
"নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি-মজুর 
  2. মধুমালা
  3. সাম্যবাদী
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• "নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত।
---------------
মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
 -------------
-------------      
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।

৩,৭২২.
‘আজি রক্ত-নিশি-ভােরে একী এ শুনি ওরে,
মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে।’ - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত চরণ কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের 'বন্দী-বন্দনা' কবিতার চরণ।

বিষের বাঁশি:
১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৪০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৪০৭ বঙ্গাব্দে 
  3. ১৩৯৯ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

•  কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৪.
'সনেট' এ কয়টি চরণ থাকে?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ২৪
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ২০
ব্যাখ্যা
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা।
- এতে ১৪টি চরণ থাকে।

• সনেট (Sonnet): 
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭২৫.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা হয় কোন নাটক কে?
  1. বসন্তকুমারী
  2. পদ্মাবতী
  3. অশ্রুমতী
  4. মালতী-মাধব
ব্যাখ্যা

‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৬.
'বিবি কুলসুম' কার রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) ফরুক আহমেদ
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
বিবি কুলসুম মীর মশাররফ হোসেনের সর্বশেষ গ্রন্থ। বিবি কুলসুম মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৮৭৩ সালে বিবি কুলসুমকে বিয়ে করেন। টাঙ্গাইলের শান্তিকুঞ্জে বিবি কুলসুমকে নিয়ে বসবাস করতেন। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৭২৭.
'কৃষ্ণকুমারী' ট্র‍্যাজেডির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি 'কৃষ্ণকুমারী' রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৭২৮.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতার অন্তর্গত?
  1. মরণ
  2. প্রভাত 
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. হিং টিং ছট
ব্যাখ্যা

•'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা' কাব্যে পত্র সংখ্যা কতটি?
  1. ৯ টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• 'বীরাঙ্গনা কাব্য': 
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি 'পত্রকাব্য'। 
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। 
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি। 
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। 
--------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য, 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩০.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ নয়?
  1. রত্ন পরীক্ষা
  2. ব্রজবিলাস
  3. অতি অল্প হইল
  4. শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
• 'শকুন্তলা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ নয়।
• প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনি লিখে তার নাম দেন শকুন্তলা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত অমৌলিক গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৩১.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কোন জাতীয় রচনা? 
  1. আত্মজৈবনিক উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. গীতি কবিতার সংকলন 
ব্যাখ্যা

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না।
- বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। -
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৩২.
"আগমণী" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত? 
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. সাম্যবাদী
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

৩,৭৩৩.
'বোধোদয়' কার রচনা?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৪.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা- 
  1. বোধোদয়
  2. অতি অল্প হইল
  3. কথামালা
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা

'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
- উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
- এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৩৫.
রবীন্দ্র-ছোটগল্পের অবলম্বনে চিত্রায়িত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. মানভঞ্জন
  2. নটীর পূজা
  3. অচ্ছ্যুৎ কন্যা
  4. বিচারক
ব্যাখ্যা
⇒ 'মানভঞ্জন' ছোটগল্প:
• রবীন্দ্র-ছোটগল্প 'মানভঞ্জন' অবলম্বনে তাজমহল ফিল্ম কোম্পানির ব্যানারে নরেশ মিত্রের পরিচালনায় একই নামে একটি চলচ্চিত্র ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়।
• এটি রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রথম চলচ্চিত্রায়ণ।
• রােদ্র করােটিতেএ চলচ্চিত্রের সূচনাতে গল্পকার রবীন্দ্রনাথকে পর্দায় দেখানো হয়েছে।
• ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে ‘মানভঞ্জন’ গল্প ‘গিরিবালা' - নামে মধু বসুর পরিচালনায় দ্বিতীয় বার চলচ্চিত্রায়ণ হয়।
• এর উদ্বোধনী শো-তে রবীন্দ্রনাথ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে,
⇒ শিশির ভাদুড়ীর পরিচালনায় ছোটগল্প 'বিচারক' চলচ্চিত্রায়িত হয়ে ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়। মুক্তির পরই অশ্লীলতার কারণে ছবিটি নিষিদ্ধ হয়। উল্লেখ্য, এটি ছিল গল্পের নির্বাক চিত্ররূপ।

⇒ নীতিন বসুর ক্যামেরায় রবীন্দ্রনাথ নিজের লেখা ‘নটীর পূজা'র সবাক নাট্যচিত্র পরিচালনা করেন ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে। এতে অংশ নেয় শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা। নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে এ নাট্যচিত্রে শুটিং হয়। 

= হিন্দি 'অচ্ছ্যুৎ কন্যা’ চলচ্চিত্রের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। 'অচ্ছ্যুৎ কন্যা' ছবিটি ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তি পায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৩৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য নয়?
  1. শেষ সপ্তক
  2. পুনশ্চ
  3. শ্যামলী
  4. দুইবোন
ব্যাখ্যা
• 'দুইবোন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য নয়, এটি উপন্যাস।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- জীবনের শেষ দশ বছর রবীন্দ্রনাথ বহু কাব্য, গান, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, সমালোচনা, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ রচনা করেন। 

- এ সময়ে রচিত তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা প্রায় পনেরোটি।
যেমন:
- পুনশ্চ।
- শেষ সপ্তক।
- পত্রপুট ও 
- শ্যামলী।

কবির শেষ দশকের উপন্যাস: 
- দুইবোন,
- মালঞ্চ এবং
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৭.
ফররুখ আহমদের কোন গ্রন্থটি শিশুতোষ রচনা?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. হাতেমতায়ী
  3. পাখির বাসা
  4. হাবেদা মরুর কাহিনী
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা'।
- ১৯৬৬ সালে 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থ হিসেবে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
------------------

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৩৮.
'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. অতীন
  2. অমিত
  3. বিমলা
  4. শচীশ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র- শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।

অন্যদিকে,
• 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেস, বিমলা।  
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল।
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের চরিত্র- অতীন, এলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৩৯.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনটি কার রচনা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

---------------
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

•  নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৩,৭৪০.
'আর কতদূর নিয়ে যাবে- সুন্দরী', শূন্যস্থানে কি বসবে
  1. আমাকে
  2. তুমি
  3. মোরে
  4. ওগো
ব্যাখ্যা
• 'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।' - 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতার অংশবিশেষ।

নিরুদ্দেশ যাত্রা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
হে সুন্দরী?
বলো কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার
সোনার তরী।
যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী--
বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে
তোমার মনে। (সংক্ষেপিত)

• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৩,৭৪১.
হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। 
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪২.
জসীম উদ্‌দীনের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে।
  2. 'বোবা কাহিনী' তাঁর রচিত উপন্যাস।
  3. তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন।
  4. তাঁর রচিত কবিতায় গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়।
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীনের ক্ষেত্রে সত্য নয়- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন।
- বরং তিনি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। 

• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:

-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- ছাত্র থাকা অবস্থায় তার কবর কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
- তাকে আধুনি কবি বলে অনেকে মনে করেন।
- তিনি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তাঁর রচিত কবিতায় গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর প্রথম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৪৩.
কবি জসীম উদ্‌দীন কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. লাহিনীপাড়ায়
  2. তাম্বুলখানা
  3. সাগরদাঁড়ি
  4. গাওপাড়া
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। এবং পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৪.
‘শিশির’ ও ‘অপু’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. একরাত্রি
  2. সমাপ্তি
  3. হৈমন্তী
  4. সুভা
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।

• এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- হৈমন্তী (শিশির),
- গৌরীশংকর,
- অপু,
- বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- ‘মানুষ পণ করে পণ ভাঙিয়া ফেলিয়া হাঁফ ছাড়িবার জন্য। অতএব কথা না-দেওয়াই সব চেয়ে নিরাপদ’ ইত্যাদি।

--------------------------
রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৪৫.
“নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সবদেশে সবকালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।” - কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) দোলনচাঁপা
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) মানুষ
ব্যাখ্যা

উপরিউক্ত কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের “মানুষ” কবিতার অংশ। কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।
‘মানুষ’ কবিতাটি ছাড়াও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত অন্যান্য কবিতা -
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৪৬.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা
• ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য কাজী নজরুল ইসলাম।
৩,৭৪৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে?
  1. ক) ঘরে-বাইরে
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সত্যজিৎ রায়ের ঘরে বাইরে, ঋতুপর্ণ ঘোষের চোখের বালি এবং সুমন মুখোপাধ্যায়ের চতুরঙ্গ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৪৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) বিবিধপ্রসঙ্গ
  2. খ) বীরবলের হালখাতা
  3. গ) বাঙ্গালির বাংলা
  4. ঘ) ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঙালির বাংলা' প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে নবযুগ পত্রিকায়।
- 'যুগবানী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত, ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ২৩ নভেম্বর ১৯২২ বৃটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ সালে গ্রন্থটি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর করা হয়।
- 'বিবিধপ্রসঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'বীরবলের হালখাতা' প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৪৯.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র-
  1. রোহিনী, গোবিন্দলাল
  2. মনোরমা, হেমচন্দ্র
  3. আয়েশা, তিলোত্তমা
  4. কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- মনোরমা, হেমচন্দ্র মৃণালিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- আয়েশা, তিলোত্তমা দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ  বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫০.
'রচনার শিল্পগুণ' প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রচনার শিল্পগুণ' প্রবন্ধটি লিখেছেন। 

• ‘রচনার শিল্পগুণ’ প্রবন্ধ:  
- বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষাবিষয়ক চিন্তা সম্পর্কিত একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ।
- রচনা কীভাবে শিল্পসম্মত হয়ে ওঠে সে সম্পর্কে লেখক তাঁর মতামত রেখেছেন ।
- রচনার দুটি প্রধান গুণ - অর্থব্যক্তি ও প্রাঞ্জলতা।
- লেখক রচনা করেন পাঠককে লক্ষ করে। পাঠকের জন্য অর্থব্যক্তি বা শব্দচয়ন এমন হতে হবে যা পাঠক বুঝতে পারেন।
- একইভাবে প্রাঞ্জলতা হচ্ছে - যা সহজে বোঝা যায়। রচনাটি পাঠক  বুঝতে পারলেই লেখকের রচনা সার্থক।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫১.
'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' গ্রন্থটি কোন রচনা থেকে অনূদীত হয়েছে?
  1. ক) নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. খ) বাঙালীর হাসির গল্প
  3. গ) গ্রামের মায়া
  4. ঘ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' গ্রন্থটি জসীমউদ্দীন এর 'বাঙালীর হাসির গল্প' থেকে অনূদীত হয়েছে।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

• বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন জসীমউদ্দীনের কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনীই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য।তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে। এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

• তাঁর 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং 'বাঙালীর হাসির গল্প'  গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,৭৫২.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী?
  1. ক) জীবনস্মৃতি
  2. খ) ছেলেবেলা
  3. গ) আত্মপরিচয়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা ও আত্মপরিচয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৫৩.
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'অনন্ত প্রেম' কবিতার অন্তর্গত।

অনন্ত প্রেম
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার

উৎস: 'অনন্ত প্রেম' কবিতা।
৩,৭৫৪.
"প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসে উধৃত হয়েছে?
  1. চার অধ্যায়
  2. চোখের বালি
  3. চতুরঙ্গ
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।

- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।

- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে,
• 'চোখের বালি' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯০১-০২ সালে নবপর্যায় বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- চতুরঙ্গ (১৯১৬)। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৫.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাঁধনহারা 
  2. অগ্নিবীণা 
  3. ঝিলিমিলি 
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র হলো-
  1. মহেন্দ্র, আশালতা
  2. অমিত, লাবণ্য
  3. সরলা, মহেন্দ্র
  4. কুমুদিনী, বিনোদিনী
ব্যাখ্যা
⇒ 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

অন্যদিকে,
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র = অমিত, লাবণ্য, কেতকী প্রমুখ। 
- 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র = নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ। 
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র = কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।

উৎস:  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও চোখের বালি উপন্যাস।
৩,৭৫৭.
”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” - এই সংলাপ কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. মৃণালিনী
  2. চন্দ্রশেখর
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- ”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” -  কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
---------------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৮.
'একখানি ছোট খেত আমি একেলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার চরণ?
  1. সোনার তরী
  2. চিত্রা
  3. মানসী
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা
• একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। - কবিতার চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতার অন্তর্গত।

• ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৯.
‘হরফের ছড়া’ নামে শিশুদের বর্ণশিক্ষার বইটি কে লিখেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ফররুখ আহমদ
  3. বন্দে আলী মিয়া 
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:
‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা - সুফিয়া কামাল।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

৩,৭৬০.
নিচের কোনটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. মায়াকানন
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

‘একেই কি বলে সভ্যতা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
---------------------------------------
• “একেই কি বলে সভ্যতা”:
- মধুসূদন দত্তের “একেই কি বলে সভ্যতা” একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
- যা উনিশ শতকের কলকাতার তথাকথিত ‘ভদ্র’ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি এবং অতিমাত্রায় ইংরেজি শিক্ষাকে যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তার প্রতি আলোকপাত করেছেন।
- এই প্রহসনের মাধ্যমে লেখক সমাজকে তীক্ষ্ণভাবে ব্যঙ্গ করেছেন;
- একই সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ যে হ্রাস পাচ্ছে তাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
--------------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
-মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৭৬১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) ব্রজবিলাস
  3. গ) রত্ন পরীক্ষা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

- 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। 
- উক্ত বেনামীতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
- 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫) 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত।
- নবদ্বীপের ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের বিধবাবিবাহ বিরোধী সংস্কৃত বক্তৃতাবলির উত্তর।
- 'কস্যচিৎ তত্ত্বান্বেষিণ' বেনামিতে তাঁর চতুর্থ রচনা 'বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা' (১৮৮৪)
- 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য' বেনামিতে লেখা 'রত্নপরীক্ষা' (১৮৮৬)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬২.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১২ ভাদ্র ১৩০৭ বঙ্গাব্দ
  3. ২২ শ্রাবণ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  4. ২৫ বৈশাখ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। তাকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৩.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কোন কবিতাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. বিদ্রোহী
  4. আগমণী
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'রক্তাম্বর-ধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

-------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।
৩,৭৬৪.
'কৃষ্ণকুমারী' কোন ধরনের নাটক?
  1. হাস্যরসাত্মক
  2. রোমান্টিক 
  3. ট্রাজেডি
  4. মনস্তাত্ত্বিক
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৬৫.
"আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• "আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' কবিতার অংশ। 

• এই পঙ্‌ক্তিটিতে উপেনের ঘটের (ভাগ্যের) কথা বলা হয়েছে। ভূস্বামী বাবু যখন উপেনকে সাধু বেশে চোর বলে অভিহিত করেছে তখন সত্যের অপলাপ শুনে উপেনের হাসি আসে আর চোখ ভরে জল আসে। উপেন ভাবে- এই চোর ডাক তাকে শুনতে হবে, এই ভাগ্য তাঁর ছিল? 

• 'দুই বিঘা জমি': 
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় । 
- পরবর্তীতে 'কথা' কাব্যগ্রন্থের সহযোগে 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। 

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৬.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন সাহিত্যক্যের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৭.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা-
  1. অগ্রপথিক
  2. বিদ্রোহী
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

• বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২) ।
- এ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ' প্রলয়োল্লাস'।

♦ কাজী নজরুল ইসলাম :
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা সঙ্গীতে তিনি বুলবুল নামে খ্যাত।
- নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো — অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।
- অগ্রপথিক কবিতাটি নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।
-তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।
-তাঁর উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

♦ অগ্নিবীণা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।
- ধূমকেতু ও বিদ্রোহী কবিতাও অগ্নিবীণার অন্তর্গত। 

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৬৮.
'গাজী মিয়া' নামে পরিচিত কোন লেখক?
  1. কাজীম আল কোরায়েশী
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. সৈয়দ আহমদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'গাজী মিয়া' নামে পরিচিত লেখক মীর মশাররফ হোসেন।
- ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।

-  তাঁর প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩),
- বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩),
- জমিদার দর্পণ (১৮৭৩),
- এর উপায় কি (১৮৭৫),
- বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১),
- সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭),
- গো-জীবন (১৮৮৯),
- বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৯৮),
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- তহমিনা (১৮৯৭),
- টালা অভিনয় (১৮৯৭),
- নিয়তি কি অবনতি (১৮৮৯),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯),
- মৌলুদ শরীফ  (১৯০৩),
- হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ (১৯০৫),
- মদিনার গৌরব (১৯০৬), বাজীমাৎ (১৯০৮),
- আমার জীবনী (১৯০৮-১৯১০),
- আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০) ইত্যাদি।

- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
- তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কাল্কূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬৯.
'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. চণ্ডালিকা
  2. সভ্যতার সংকট
  3. শিক্ষা
  4. মানুষের ধর্ম
ব্যাখ্যা

• 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ কথাটি 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে বলেছেন।

• সভ্যতার সংকট: 
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ রচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৭০.
'তিনসঙ্গী' গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় কোনটি?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. রবিবার
  3. শাস্তি
  4. শেষকথা
ব্যাখ্যা
তিনসঙ্গী:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।
- গল্প তিনটি: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭১.
মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. বসন্তকুমারী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. মহৎ জীবন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় - মহৎ জীবন
- এটি ডা. মোঃ লুৎফর রহমান রচিত গ্রন্থ।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭২.
'মোহিনী এবং রজনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. করুণা
  2. নৌকাডুবি
  3. চোখের বালি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'করুণা' উপন্যাস:
- 'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয় (প্রথম উপন্যাসগ্রন্থের নাম 'বউ ঠাকুরানীর হাট')।
- মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করুণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'জীবনস্মৃতি'তেও এই রচনার কোনো উল্লেখ করেন নি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাস। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মহেন্দ্র, মোহিনী, রজনী

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৭৭৩.
'রজনী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'রজনী' উপন্যাস:
- 'রজনী' (১৮৭৭) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে। বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত।

- এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।

- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য।

- 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৭৪.
কোন উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয়?
  1. ক) চোখের বালি
  2. খ) গোরা
  3. গ) যোগাযোগ
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলো হলো :-
- চোখের বালি
- গোরা
- যোগাযোগ
- চতুরঙ্গ
- ঘরে -বাহিরে
- চার অধ্যায়
- মালঞ্চ
- দুইবোন

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উপন্যাস।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৩,৭৭৫.
'বিষের বাঁশি' কাজী নজরুল রচিত একটি—
  1. ক) গল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
বিষের বাঁশি:
১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৬.
‘নরকে লাল গোলাপ ’ – নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ নাটকঃ মরক্কোর জাদুঘর, মায়াবী প্রহর, ধন্যবাদ, নিঃশব্দ যাত্রা, নরকে লাল গোলাপ, হিজল কাঠের নৌকা, সংবাদ শেষাংশ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৭৭৭.
'জালি লাউয়ের ডগার মতোন বাহু দু'খান সরু' কার সম্বন্ধে বলা হয়েছে?
  1. সাজু
  2. রূপাই
  3. দুখী
  4. সোজন
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃত লাইনটি পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের কাহিনিকাব্য 'নক্সীকাঁথার মাঠ' থেকে সংগৃহীত। পঙ্‌ক্তিটিতে নায়ক রূপাই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

--------------------
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য/কাহিনিকাব্য।এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

--------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয় কাকে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহমদ ছফা
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- তাঁর রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?'

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী ,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. নেমেসিস
  2. ছাড়পত্র
  3. চোখের বালি
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক নেমেসিস। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৪ সালে রচনা করা হয় এই নাটক।
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ছাড়পত্র'। 
• 'বলাকা'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও চোখের বালি উপন্যাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮০.
কোনটি জসীমউদ্‌দীনের কাব্য নয়?
  1. ক) মানসী
  2. খ) মাটির কান্না
  3. গ) এক পয়সার বাঁশি
  4. ঘ) রাখালী
ব্যাখ্যা

'মানসী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যৌবনকালে রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো নকসী কাঁথার মাঠ, রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না ইত্যাদি। তার শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো হাসু, এক পয়সার বাঁশি ও ডালিম কুমার।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

৩,৭৮১.
“ব্যথার দান” কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) রম্যরচনা।
ব্যাখ্যা

ব্যথার দান” কাজী নজরুল ইসালামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ
- ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়।
- গল্পগ্রন্থ ছাড়া এটিই নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।

এই গ্রন্থে মোট গল্প রয়েছে ছয়টি।
- ব্যথার দান
- হেনা
- অতৃপ্ত কামনা
- বাদল-বরিষণে
- ঘুমের ঘোরে
- রাজবন্দীর চিঠি।

- রিক্তের বেদন, শিউলিমালা তাঁর আরো দুইটি গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭৮২.
'সেঁজুতি' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'সেঁজুতি' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অধিকাংশ কবিতাই কবির মৃত্যু সম্পর্কে ভাবনা এবং পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থে ২২টি কবিতা রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮৩.
পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. গোবিন্দপুর
  2. তাম্বুলখানা
  3. লাহিনীপাড়ায়
  4. কাঁঠালপাড়া
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস - গোবিন্দপুর গ্রাম, ফরিদপুর।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮৪.
'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৮৫.
'তাহমিনা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শিউলিমালা
  2. কুহেলিকা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৬.
‘রাজ্যটা রাজার একলার নয়।’
- শাশ্বত এই উক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটক থেকে উধৃত?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ডাকঘর
  3. তাসের দেশ
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। 
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- প্রায়শ্চিত্ত নাটকে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘রাজ্যটা রাজার একলার নয়।’ 
-------------------
----------------------- 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক নাটক 'তাসের দেশ'।
- নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- নাটকটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে উৎসর্গ করা হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বসন্ত' গীতনাট্য।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রক্তকরবী' সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চিরকুমার সভা' কৌতুক নাটক।

রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, ,
- বৈকুন্ঠের খাতা, 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- নটীর পূজা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বিবিসি বাংলা।
৩. প্রথম আলো।
৪. ডেইলি স্টার বাংলা।
৩,৭৮৭.
"বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ" গ্রন্থের প্রধান চরিত্র-
  1. ভক্তপ্রসাদ বাবু
  2. মোকাজেন মিয়া
  3. রামপ্রসাদ বাবু
  4. নিমচাঁদ বাবু
ব্যাখ্যা
• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' :
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
-পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮৮.
আধুনিক বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ সৃষ্টি করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

================
উল্লেখ্য,
⇒ উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক - এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৭৮৯.
'গোলক বসু' দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কমলে কামিনী
  2. নীল-দর্পণ
  3. লীলাবতী
  4. নবীন তপস্বিনী
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861)
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
 
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।
 
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল-দর্পণ, 
- কমলে কামিনী, 
- নবীন তপস্বিনী, 
- লীলাবতী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্র সংকলন কোনটি?
  1.  ছিন্নপত্র
  2. জাভা যাত্রীর পত্র
  3. পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি
  4. চয়নিকা
ব্যাখ্যা

• 'ছিন্নপত্র':
- 'ছিন্নপত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির সংকলন।
- ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখা চিঠিসমূহ এখানে স্থান পেয়েছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে।
- ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর বিবাহ হয়।

অন্যদিকে,
------------------
• "জাভা যাত্রীর পত্র" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি যেখানে তিনি জাভা (ইন্দোনেশিয়া) ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণগুলি চিঠির আকারে নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লিখেছেন।

• "পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি" হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ভ্রমণকাহিনী যেখানে তিনি ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। এটি মূলত তাঁর বিভিন্ন ইউরোপ ভ্রমণের দিনলিপি থেকে সংকলিত, এবং এতে তিনি নিজের দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

• 'চয়নিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলন। এটির প্রথম সংস্করণে ১৩০ টি কবিতা ছিল। এটি ১৯০৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৯১.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প নয়?
  1. জীবিত ও মৃত
  2. কঙ্কাল
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. শাস্তি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- 'নিশীথে'
- 'ক্ষুধিত পাষাণ',
- 'মণিহারা',
- 'জীবিত ও মৃত'ও
- 'কঙ্কাল'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম - ভিখারিনী।
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হল:
- ভিখারিণী ,
- দেনা পাওনা ,
- মনিহারা ,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি ,
- ক্ষুধিত পাষাণ ,
- স্ত্রীর পত্র ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা ,
- হৈমন্তী ,
- মুসলমানীর গল্প । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯২.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যনাট্য- 
  1. সিরাজাম মুনিরা
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ ও তাঁর সাহিত্যকীর্তি:

জন্ম ও পরিচয়:
ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যজগতে তাঁর আবির্ভাব ঘটে কিশোর বয়সেই। তিনি বাংলা কবিতায় মুসলিম সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ, ইসলামি ঐতিহ্যের চেতনা ও জাতীয়তার উন্মেষ ঘটান।

সাহিত্যজীবনের সূচনা ও খ্যাতি: 
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা ‘লাশ’ কবিতার মাধ্যমে ফররুখ আহমদ প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
একই বছর প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি, যা তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়।
 
উল্লেখযোগ্য কাব্য ও গ্রন্থসমূহ:
• আজাদ কর পাকিস্তান;
• সিরাজাম মুনীরা;
• হে বন্য স্বপ্নেরা;
• ইকবালের নির্বাচিত কবিতা;
• কাফেলা;
• হাবেদা মরুর কাহিনী;
• তসবির নামা;
• দিলরুবা;
• ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য;
• অনুস্বার;
• ধোলাই কাব্য।
 
নাটক, কাহিনিকাব্য ও অন্যান্য রচনা:
• নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১) → কাব্যনাট্য।
• মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) → সনেট সংকলন।
• হাতেমতায়ী (১৯৬৬) → কাহিনিকাব্য, এর জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার পান।
• পাখির বাসা (১৯৬৫) → শিশুতোষ গ্রন্থ, এর জন্য ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
কবির মৃত্যু:
১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর, ঢাকায় ফররুখ আহমদের মৃত্যু হয়।
-----------------
অপশন বিশ্লেষণ:

• ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য:
- আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত কাহিনি থেকে কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নামে একটি — কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। ১৯৬১ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন এবং নাট্যমোদীদের দ্বারা তা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- ইতিপূর্বে ‘মাহে নও’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান লেখক সংঘের পক্ষে ড. কাজী মোতাহার হোসেন তা প্রকাশ করেন।

- ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটিতে ইয়েমেনের শাহজাদা হাতেমকে মানবতাবাদী চরিত্র ও প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন। হাতেমকে আদর্শবাদী ‘ন্যায়পরায়ণ’, পরোপকারী, সেবাব্রতী, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ও মহৎ মানবতাবাদীরূপে চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে নৌফেল ঈর্ষাপরায়ণ, অত্যাচারী, অহংকারী বাদশাহর প্রতীকে চিত্রিত করেছেন। বিজয় দেখিয়েছেন মানবতার। মুক্তি দেখিয়েছেন ইনসাফের।

সিরাজাম মুনিরা:
- সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।
- এই কাব্যে মোট কবিতা হচ্ছে ১৯ টি।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে সিরাজাম মুনিরা।

• মুহূর্তের কবিতা:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি। 

• 'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থ:
- রচনা করেন - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: 
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. দৈনিক পত্রিকা।
৪. সাত সাগরের মাঝি, ফররুখ আহমদ।

৩,৭৯৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. ভদ্রার্জুন
  3. রাবণবধ
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

অন্যদিকে,
- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ - শকুন্তলা।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক - ভদ্রার্জুন। ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নাটক প্রকাশিত হয়।
- 'রাবণ বধ' রচনা করেন গঙ্গেশকুমার চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩,৭৯৪.
"তিলোত্তমা" চরিত্রটির স্রষ্টা কে? 
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- দুর্গেশনন্দিনীর শব্দের অর্থ প্রধানের কন্যা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৯৫.
১৯৪৪ এর দুর্ভিক্ষের ভিত্তিতে ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. লাশ
  2. ডাহুক
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. পাঞ্জেরি
ব্যাখ্যা

• "লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
- ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

লাশ
ফররুখ আহমদ
যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোড়,
কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের 'পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।

----------------------
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৯৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি প্রবন্ধ?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা

রুদ্র-মঙ্গল:
- 'রুদ্র-মঙ্গল' - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির-মসজিদ,
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে
- ব্যথার দান ,রিক্তের বেদন ও শিউলিমালা এ তিনটিই হলো কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- এগুলোর মধ্যে ব্যথার দান কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৯৭.
'ঋষি' উপাধি লাভ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয় যুগ সন্ধিক্ষণের কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৭৯৮.
কোন সাহিত্যিক 'মৈমনসিংহ গীতিকা'র পালা সংগ্রাহকারী দলে ছিলেন?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. মনসুর বয়াতি
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

চন্দ্রকুমার দে যখন ময়মনসিংহ গীতিকার পালা সংগ্রাহ করছিলেন তখন সেই দলে জসীম উদ্‌দীন ও ছিলেন। 
---------------------------------
- জসীম উদ্‌দীন এম.এ. পড়ার সময় ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের তত্ত্বাবধানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- তিনি এই পদে ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।
- এই সময়ে ড. সেনের সঙ্গে মিলিতভাবে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ সংকলনে সহায়তা করেন। 
- তিনি ময়মনসিংহ গীতিকার পালা সংগ্রাহকারী হিসেবেও কাজ করেন। 
- প্রায় ১০,০০০ লোকগীতি সংগ্রহে পল্লীকবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
---------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তাকে পল্লীকবি উপাধি দেয়া হয়।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে 'ডি-লিট' ডিগ্রি প্রদান করেন। 

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- বালুচর প্রভৃতি।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে,
- ওগো পুস্পধনু এবং
- আসমান সিংহ।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতার সংকলন: সূচিয়িনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৯৯.
মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. রত্নবতী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
"রত্নবতী" উপন্যাস:
• মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস "রত্নবতী"। উপন্যাসটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ ও মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও। 

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
• রত্নবর্তী উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রিপুত্র সুমন্ত। সুমন্ত বিদ্যাবুদ্ধিতে রাজতনয় অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তারা দুইজন বাল্য কালাবধি যৌবনকাল পর্যন্ত একত্র ভোজন, একত্র শয়ন এবং একসঙ্গে খেলাধুলা করায় তাদের মধ্যে প্রণয়ের বিশেষ আধিক্য জন্মেছিল।

• একদিন সকালে ৰাগানে ঘুর গিয়ে রাজপুত্র মন্ত্রিপুত্রকে জিজ্ঞাসা করে, বন্ধু! বলো তো পৃথিবীতে ধন শ্রেষ্ঠ কি বিদ্যা শ্রেষ্ঠ? মন্ত্রিপুত্র বলেন, সে আর বলতে কি, ধন অপেক্ষা বিদ্যা সহস্র অংশে শ্রেষ্ঠ। রাজতনয় বলেন, এটা কখনই হতে পারে না। কারণ আমরা সচরাচর দেখি যে, ধনবানরা জগতের মধ্যে বিশেষ গণ্য এবং পূজনীয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। অবশেষে লেখক মীর মশরারফ হোসেন বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রমাণ করেছেন যে, ধন অপেক্ষা বিদ্যাই জগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

অন্যদিকে, 
• বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের অমর কীর্তি। বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। 

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯) সালে প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়।

উৎস: "রত্নবতী" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০০.
'নন্দিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. ডাকঘর
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. বৈকুন্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।