বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ৩২ / ৪১ · ৩,১০১৩,২০০ / ৪,০৩৭

৩,১০১.
'গীতাঞ্জলি'তে সংকলিত প্রথম গান কোনটি?
  1. আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার.......
  2. অন্তর মম বিকশিত করো.......
  3. বিপদে মোরে রক্ষা করো......
  4. আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়......
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঞ্জলি' ও  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ (মূলত গানের সংকল)।
- এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা গীতাঞ্জলি (রচনাকাল, ১৯০৮-১৯০৯) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Song Offerings।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়ী Gitanjali (গীতাঞ্জলী) কাব্য গ্রন্থের ইংরেজি ভার্সনের ভূমিকা লিখেছিলেন আরেক নোবেল বিজয়ী কবি ডব্লিউ WB Yeats.
- বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
- বাংলা গীতাঞ্জলী থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।

গীতাঞ্জলিতে সংকলিত প্রথম গান হলো -

"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণধুলার তলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।

নিজেরে করিতে গৌরব দান
নিজেরে কেবলই করি অপমান,
আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া
ঘুরে মরি পলে পলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।
-----------
----------"



রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী, 
- চিত্রা ,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা। 

সূত্র: গীতাঞ্জলি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১০২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. দেবী চৌধুরানী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. সীতারাম
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৩.
"আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?"
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. কান্ডারী হুশিয়ার
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. সংকল্প
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

''আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?''
- আনন্দময়ীর আগমনে,
কাজী নজরুল ইসলাম

উল্লেখ্য, 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ২৩ নভেম্বর, ১৯২২ গ্রেফতার হন এবং প্রায় ১ বছর কারাভোগ করেন।

তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - অগ্নিবীণা।

উৎস: বাংলা কবিতা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১০৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. লিপিকা
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. সে
  4. তিন সঙ্গী
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
লিপিকা,
• সে,
তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১০৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' একটি - 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- ১৯২৯ সালে প্রকাশিত তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।
------------

• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১০৬.
'লোকরহস্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'লোকরহস্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১০৭.
"প্রমীলা এবং বিভীষণ" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১০৮.
কত সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশ করে লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৯.
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন?
  1. বলাকা কাব্য
  2. নৈবেদ্য কাব্য
  3. আকাশ প্রদীপ কাব্য
  4. পূরবী কাব্য
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক উৎসর্গকৃত গ্রন্থ: 
- আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পূরবী কাব্য' গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। 
- তখন ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ 'বিজয়া' উপাধি দেন এবং তার পূরবী কাব্যটি তাকে উৎসর্গ করেন।
- আকাশ প্রদীপ ও বলাকা কাব্যদ্বয় যথাক্রমে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
- স্মরণ কাব্যটি কবি তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১০.
'চয়নিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - 
  1. নাটক 
  2. কাব্য সংকলন
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য সংকলন - চয়নিকা।
- প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১১১.
‘মধুসূদন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2.  দুইবোন
  3. মালঞ্চ
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• ‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।


অন্যদিকে,
• ‘দুইবোন’ উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র:
- শর্মিলা ও
- উর্মিলা।

----------------------
• ‘মালঞ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- নীরজা,
- আদিত্য,
- সরলা।

----------------------
• ‘গেরা’ (১৯১০) উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।

• এই উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোরা,
- পরেশবাবু,
- সুচরিতা,
- ললিতা,
- বিনয়,
- বরদাসুন্দরী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে কয়টি অধ্যায় রয়েছে?
  1. একটি
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে চারটি অধ্যায় রয়েছে।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ৷

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৩.
"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু কোন কবির কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কাজেম আল কোরায়শী
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু — কাজী নজরুল ইসলামের — খেয়া পারের তরণী- কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারি-গান –লা-শরিক আল্লাহ!

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
--------------
• খেয়া পারের তরণী:
- এটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; খেয়া পারের তরণী- কবিতা।

৩,১১৪.
'বিমলা-কুমুদিনী' কোন দুটি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ক) ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ
  2. খ) চতুরঙ্গ, যোগাযোগ
  3. গ) ঘরে-বাইরে, শেষের কবিতা
  4. ঘ) চোখের বালি, শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো -
'ঘরে-বাইরে' - নিখিলেস ও বিমলা
'যোগাযোগ'
- মধুসূদন ও কুমুদিনী।
'শেষের কবিতা' - অমিত ও লাবণ্য।
'চোখের বালি' - বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১১৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ছদ্মনামে লিখেছেন?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতি মধ্যমা
  3. অনুপমা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 
• অনুরূপা দেবীের ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করেন?
  1. ক) ১৯১৩
  2. খ) ১৯২৬
  3. গ) ১৯৩৬
  4. ঘ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করেন। রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,১১৭.
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যে রাধাকে কী বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. Braja Sundari
  2. Poor Old Mrs. Radha of Braja
  3. Queen of Vrindavan
  4. Radiant Radha
ব্যাখ্যা
'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যে:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।'
- রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১১৮.
'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই' প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই'- প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়।
- 'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই'- প্রবাদ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে - কেউ কষ্ট করে কেউ কষ্ট না করেই তাঁর ফল ভোগ করে।
- প্রবাদটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'বিড়াল' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- অনিলাদেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ:

- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১১৯.
'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই'। - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. প্রাণ
  2. বসুন্ধরা
  3. দুই বিঘা জমি
  4. ঐকতান
ব্যাখ্যা
- 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে৷
এই কবিতার দুটি লাইন হলো -

কবিতার নাম - প্রাণ
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) দুর্গেশনন্দিনী
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাসের জনক।
- তাঁকে 'বাংলার স্কট' বলা হয়।
- 'কমলাকান্ত' ছিল তার ছদ্মনাম।
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' তাঁর সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত।
- এই উপন্যাসে রোহিনী, ভ্রমর ও গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১২১.
প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং প্রেমের করুণ পরিণতি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের প্রধান কাহিনি?
  1. রাজসিংহ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. মৃণালিনী
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• ‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২২.
সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন?
  1. কবিকাহিনি
  2. বনফুল
  3. মানসী
  4. কল্পনা 
ব্যাখ্যা

সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন। 
----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- তাঁরা পনের ভাইবোন ছিলেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবিকাহিনী (১ম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৭৮); 
- বনফুল (২য় কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮০); 
- গীতাঞ্জলি; 
- প্রভাতসঙ্গীত; 
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- বলাকা;
- পুনশ্চ। 
-------------------------
• বনফুল কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবিঠাকুর রচিত বনফুল কাব্য প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৮৭৬ সালে।
- কিন্তু বনফুল গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে।

- সুকুমার সেন ‘বনফুল’-কে সরাসরি কাব্য না বলে কাব্যোপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- তিনি মন্তব্য করেছেন যে- বনফুলের মূল প্লটের আরম্ভে ‘অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী’র উদাসিনীর অনুসরণ রয়েছে।
- তাঁর মতে কাব্যে কমলা ভূমিকায় শকুন্তলার ছাপ রয়েছে।
- এছাড়া, ভাব, ভাষা ও অলঙ্কারে মাঝে মাঝে দিজেন্দ্রনাথ, বিহারিলাল ও মধুসূদনের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়।

- গ্রন্থটি ৮টি সর্গে বিভক্ত।
- মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

- বনফুল কাব্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ: 
- বিজয়, কমলা, নীরদ, নীরজা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৩.
"এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

''সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
নরক কুন্ড বলিয়া তোমা’ করে নারী হেয় জ্ঞান?

তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।''

- নারী (সাম্যবাদী)
- কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলালের কাব্যগুলো হলো :
- অগ্নি-বীণা
- বিষের বাঁশী
- সাম্যবাদী
- চক্রবাক
- সিন্ধু-হিন্দোল
- ভাঙার গান
- প্রলয় শিখা
- চিত্তনামা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা কবিতা।

৩,১২৪.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দ্দিনের এই দুর্গ শিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালো হোক না লেখা,
জাগিয়ে দে রে চমক মেরে
আছে যারা অর্দ্ধ চেতন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৩,১২৫.
'হেক্টরবধ' গ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করা হয়?
  1. রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:

- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৬.
‘এ নেটিভ’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১২৭.
'নীল-দর্পণ' নাটক কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬২ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

 • নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীল-দর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. হিতকরী
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা নয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকাসমূহ:
• 'সাধনা’ পত্রিকা:

- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

• ‘ভারতী' পত্রিকা :
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,১২৯.
'ভ্রমর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. রাজসিংহ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নগেন্দ্রনাথ, কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, হীরা ইত্যাদি।
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি
• 'রাজসিংহ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলির মধ্যে আছেন- রাজসিংহ, ঔরঙ্গজেব এবং জেবউন্নিসা।

------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩০.
'সভ্যতার সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট:
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩১.
মরুভাস্কর লিখেছেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) আতা খাঁ
  4. ঘ) ইব্রাহীম পাশা
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বাংলা সাহিত্যে “দুঃখবাদী কবি” হিসেবে পরিচিত। তার কাব্যঃ মরীচিকা, মরুমায়া, মরুশিখা, সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল লিখেছিলেন - মরুভাস্কর কাব্য, যা মুহম্মদ (স.) এর জীবনী নিয়ে লেখা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৩,১৩২.
বাংলা লিপি সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) বঙ্কিমচ্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০ - ১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন। বাংলা ভাষাকে যুক্তিগ্রাহ্য ও সকলের বোধগম্য করে তুলেছিলেন। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩৩.
'আনন্দমঠ' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. আনন্দমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।
- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা।
- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত।
- মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব।
- সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। - নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। - এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

-------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৪.
লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচিত বাংলা কবিতা কোনটি?
  1. ক) বঙ্গভাষা
  2. খ) বঙ্গভূমির প্রতি
  3. গ) কপোতাক্ষ নদ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: কবি ও নাট্যকার৷
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা কবিতায় আধুনিকতার প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।

কবির 'বঙ্গভূমির প্রতি" কবিতাটি তিনি কবিতাটি লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচনা করেন।

বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; –
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ ধর,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে! –
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!"

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
৩,১৩৫.
"বছির" - কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. আগুনের পরশমণি
  2. লালসালু
  3. বোবা কাহিনী
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

"বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী - উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে,
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের চরিত্র - বদিউল আলম।
'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা, আমেনা।
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র - জয়গুন, হাসু, মায়মুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৩৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি কাকে উৎসর্গ করেন? 
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দেবেন্দ্রনাথ সেন
  3. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. জগদীশচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

• 'কালের যাত্রা' নাটক:
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত। 

-----------------------
তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য ও গ্রন্থসমূহ:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি - সত্যেন্দ্রনাথ বসু উৎসর্গ করেন। 
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী। 
• মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)। 
• সোনার তরী - কবি-ভ্রাতা দেবেন্দ্রনাথ সেন। 
• কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু। 
• স্মরণ - মৃণালিনী দেবী। 
• পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন। 
• খাপছাড়া - রাজশেখর বসু। 
• আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রভৃতি।
• পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো। 
• 'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী। 

উল্লেখ্য,
• কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
• এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
• ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩৭.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩৮.
‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাধ অগ্নিসেতু’ কার উক্তি?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৯.
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত কবিতা-
  1. লাশ
  2. পাঞ্জেরী
  3. তুফান
  4. দরিয়ায় শেষ রাত্রি
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

- ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। এখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৪০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. বাল্মীকি
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. মহাশ্মশান
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

'মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কী নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা 
  4. শর্মা বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন পত্রিকাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনন্দন বাণী ছাপানো হতো?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৩.
‘আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়……’ পঙক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) তুলসী দাস
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।''

 - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

৩,১৪৪.
'ডাকঘর' নাটকের প্রধান চরিত্র 'অমল' কীসের প্রতীক?
  1. সামাজিক সংস্কারের 
  2. প্রেমের
  3. মুক্তির আকাঙ্ক্ষার 
  4. বিদ্রোহের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো - গ) মুক্তির আকাঙ্ক্ষার।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের প্রধান চরিত্র অমল জীবনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি এবং অসীমের সঙ্গে মিলনের প্রতীক।

• ডাকঘর:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- মৃত্যুপথযাত্রী অমল মুক্তি ও বাইরের জগৎকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।


নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ডাকঘর নাটক।

৩,১৪৫.
‘ভ্রান্তিবিলাস’ গ্রন্থটি কোন নাটক অবলম্বনে রচিত?
  1. টেম্পেস্ট
  2. কমেডি অব এররস
  3. হ্যামলেট
  4. ম্যাকবেথ
ব্যাখ্যা

‘ভ্রান্তিবিলাস’:
- ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতির বাইশ বছর পরে। 
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।
- বইয়ের 'বিজ্ঞাপন' শিরোনাম অংশে তিনি লিখেছেন:
'কিছু দিন পূর্বে, ইংলন্ডের অদ্বিতীয় কবি শেক্সপীয়রের প্রণীত ভ্রান্তিপ্রহসন পড়িয়া আমার বোধ হইয়াছিল, এতদীয় উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত হইলে লোকের চিত্তরঞ্জন হইতে পারে। তদনুসারে ঐ প্রহসনের উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত ও ভ্রান্তিবিলাস নামে প্রচারিত হইল।'
- এরপরে তিনি বলেছেন যে এই নাটকের কাব্য-অংশ শেক্সপীয়রের অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'নিকৃষ্ট', কিন্তু এর কাহিনী-অংশ কৌতুকপূর্ণ। সেজন্য তিনি এই নাটকটি বাংলাভাষায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘ভ্রান্তিবিলাস’ গ্রন্থ।

৩,১৪৬.
‘জেবউন্নিসা ও ঔরঙ্গজেব’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আনন্দমঠ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

----------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- আনন্দমঠ,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৩,১৪৭.
"এ দেশের লোক যারা,
সকলেই তো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "এ দেশের লোক যারা, সকলেই তো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - কায়কোবাদ। কবিতাংশটুকু কবির 'দেশের বাণী' কবিতার অংশবিশেষ।

দেশের বাণী
  কায়কোবাদ

কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী?
এ দেশের লোক যারা, সকলইতো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি!

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,১৪৮.
নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক?
  1. বিষের বাঁশী
  2. অগ্নি-বীণা
  3. সিন্ধু-হিন্দোল
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনা সম্পর্কিত আলোচনা:
-  উদারতাবাদের ইংরেজি Liberalism উদ্ভব হয়েছে লাতিন শব্দ liberalis থেকে। 
- উদারনীতিবাদের সাধারণ অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় কতৃত্ববাদ এর বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাধীনতা নীতি প্রতিষ্ঠা করা।

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বিশেষভাবে দেখা যায় 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে। 
- 'অগ্নিবীণা' তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্রোহ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিক সাম্য ও উদারনৈতিক মানবতাবোধের স্বর তুলে ধরে। 
- এই কাব্যগ্রন্থে তার বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ও 'আগমনী' সহ বিভিন্ন কবিতা রয়েছে যেগুলি মানবতাবাদী ও উদারনৈতিক চেতনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- এ কাব্যের ১২টি কবিতার মধ্যে সাতটি ইসলামী ঐতিহ্য, তিনটি বিশুদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য এবং দুটি কবিতা হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে রচিত। 
- কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য ও জীবনবােধের প্রসঙ্গে খোদার আসন, আরশ ছেদিয়া, বোররাক, জিব্রাইল, হাবিয়া-দোযখ, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 
- অন্যদিকে, এই কাব্যের কবিতায় নটরাজ ধূর্জটি, হােমশিখা, জমদগ্নি, ইন্দ্রানী, কৃষ্ণ-কন্ঠ, ব্যোমকেশ, ইশান, শ্যাম, বিষ্ণু, পরশুরাম, বলরাম, ভৃগু প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী নজরুলের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়।  

• অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী। 
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

----------------------- 
• বিষের বাঁশী:
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- মুক্ত-পিঞ্জর,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।
-----------------------

পরিশেষে বলা যায়, 
• 'বিষের বাঁশী' কাব্যগ্রন্থও উদার নৈতিক ঐতিহ্য ও মানবতাবাদের চিন্তাধারা বহন করে, তবে এটি বেশি প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক দ্রোহ ও বিপ্লবী চেতনার মাধ্যমে।
• অন্যদিকে, 'অগ্নিবীণা' তাঁর উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী ভাবনার আরও গভীর ও ব্যাপক প্রকাশ ঘটায়।
তাই, কাজী নজরুল ইসলামের উদার নৈতিক ঐতিহ্য ভাবনার ধারক হিসেবে 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থকে অধিক উল্লেখযোগ্য বলা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
৩,১৪৯.
‘ললিতা তথা মানস’ কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 'ললিতা তথা মানস':
• 'ললিতা তথা মানস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

-  কাব্যগ্রন্থটি ১৮৫৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৫০.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'। 

মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
• ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিন খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৩,১৫১.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. পদ্মাপার
  2. সুচয়নী
  3. পল্লীবধূ
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দদীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- 'সুচয়নী' জসীম উদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. ব্যাথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী:
- 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
- ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’। এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৩.
জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বালুচর
  2. রাখালী
  3. ধানক্ষেত
  4. মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি  জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- 'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

কবর
-জসীম উদ্‌দীন 
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।

-------------------
• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

----------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একাধারে করি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহু পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তার জন্ম।
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৫৪.
কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়?
  1. ক্ষণিকা
  2. পত্রপূট
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. কল্পনা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ নয় - রাজবন্দীর জবানবন্দী।

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:

- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে। তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,১৫৫.
‘লোকরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• ‘লোকরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘লোকরহস্য' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

- এই গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্র সমকালীন সমাজ, শিক্ষাদীক্ষা ও চারিত্রনীতির অসঙ্গতি কৌতুকরসের মধ্য দিয়ে চমৎকারভাবে ফুটিয়েছেন।
- এতে গুরুতর তত্ত্বকথাও সরল ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে পড়েছে।
- 'ব্যাঘ্রাচার্য্য বৃহল্লাঙ্গুল', 'ইংরাজস্তোত্র', 'বাবু', 'গর্দ্দভ', ‘দাম্পত্য দণ্ডবিধির আইন' ইত্যাদি কতকগুলো ব্যঙ্গরচনা এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'লোকরহস্য-প্রবন্ধগ্রন্থ।

৩,১৫৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. সীতারাম
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. রাজমোহনস ওয়াইফ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)। আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৫৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প কোনটি?
  1. ছুটি
  2. দেনাপাওনা
  3. পোস্ট মাস্টার
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১৫৮.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি জসীম উদ্‌দীন তা অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,১৫৯.
'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি কার রচনা?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) মধুসূদন দত্ত
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এটি রচনা করেন। উল্লেখ্য নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্য 'বাংলার মাটি বাংলার জল'।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,১৬০.
“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• “এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ' কাব্যের 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
 মাইকেল মধূসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তােমার জননী,
সহােদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!

---------------------
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য দুখণ্ড ও নয় সর্গে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩) মহাকাব্য।
- প্রথম খণ্ড ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের আগস্ট মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- মহাকাব্য রচনার জন্যে মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দ নামে এক নতুন বাংলা ছন্দ নির্মাণ করেন।
- তাঁর এ মহাকাব্যে গ্রিক প্রভাব আরো লক্ষ করা যায় উপমা ব্যবহারে এবং দেবতাদের বিভিন্ন ভূমিকা থেকে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১৬১.
বিখ্যাত “শেষের কবিতা” উপন্যাসে কোন ভাষাবিদের নাম পাওয়া যায়?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি উপন্যাস 'শেষের কবিতা'। 
এই উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র অমিত।
সে যখন নির্জনতা ভোগের জন্যে শিলং গিয়েছিলো। তখন সে গল্পের বই না পড়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'বাংলা ভাষার শব্দতত্ত্ব' পড়ছিলো লেখকের সঙ্গে মতান্তর ঘটবে এই একান্ত আশা মনে নিয়ে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্রঃ
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬২.
‘Song Offerings’ গ্রন্থটির ভূমিকা কে লেখেন?
  1. W.B. Yeats
  2. Bertrand Russell
  3. Michael Madhusudan Dutt
  4. Ernest Hemingway
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬৩.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৩
  2. ১৯৪৪
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৪৬
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৪.
‘এ নেটিভ’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

---------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬৫.
'প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে ;
নাহি খেদ তাহে।'- এই পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,
নাহি খেদ তাহে।- এই পঙক্তির রচয়িতা: 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'। 

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা-
------মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।
সাধিতে মনের সাদ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,— নাহি খেদ তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
৩,১৬৬.
"নিঃশেষে নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাশে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" -কবিতাংশটি কোন কবির লেখা?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

"যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।"

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

৩,১৬৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. চার অধ্যায়
  2. মালঞ্চ
  3. চোখের বালি
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
⇒ চার অধ্যায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত সর্বশেষ উপন্যাস চার অধ্যায় (১৯৩৪)।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য উপন্যাস:
- বৌঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- চতুরঙ্গ,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৮.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক -
  1. জশুয়া মার্শম্যান
  2. ডেভিড হেয়ার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

♦ নীলদর্পণ নাটক:
- ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাটক এবং তাঁর সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- নাটকের মূল বিষয় হল সে সময়ের নীলচাষ ব্যবস্থা, নীলকর সাহেবদের নির্যাতন, এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষপাতমূলক আচরণ।
- প্রকাশের পর এই নাটক তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উৎসাহ জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- পাদ্রি জেমস লং অনুবাদটি প্রকাশ করায় আদালত তাঁকে অর্থদণ্ড দেয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র এই নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’—এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
- রচনার পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি জাতীয় চেতনার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
- এটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রথম ঢাকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ রঙ্গালয়-এর অভিনয় শুরু হয় এই নাটক দিয়েই।

♦ দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,১৬৯.
রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কুমুদিনী
  2. দামিনী
  3. বিনোদিনী
  4. হেমাঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় - হেমাঙ্গিনী
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মেজদিদি' (১৯১৫) গল্পগ্রন্থের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র - দামিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,১৭০.
মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় কোনটি?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কুলসুম জীবনী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় - একেই কি বলে সভ্যতা
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭১.
'রক্তকরবী' নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. প্রবাসী
  3. কল্লোল
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক:
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৭২.
'কামাল পাশা' কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশী
  3. অগ্নিবীণা
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তর।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয় ।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী শেষ কবিতা মোহররম।
- রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
৩,১৭৩.
উপন্যাস আকারে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিপূর্ণ রচনা কোনটি?
  1. টালা অভিনয়
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে 'অতি আশ্চর্য্য উপন্যাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।'
- 'ভারতী ও বালক' (বৈশাখ ১২৯৮) পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়, 'সমালোচ্য পুস্তকখানি ঠিক উপন্যাস নহে, ইহা উপন্যাসাকারে নীল অত্যাচারের কাহিনীপূর্ণ'।

- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একে 'উপন্যাস' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। মুনীর চৌধুরীর বিবেচনায় এটি মশাররফের 'আত্মজীবনীমূলক রচনা'। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমতও অভিন্ন। গ্রন্থটি যে উপন্যাসই সে-সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেছেন ক্ষেত্র গুপ্তও। তবে 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'কে যথার্থ উপন্যাস বা নিছক আত্মকথা না বলে একে উপন্যাসের আদলে মশাররফের শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনার আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।

- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'র কাহিনি দুইটি স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। এই কাহিনির একদিকে রয়েছে কুষ্টিয়ার নীলকর টি. আই. কেনীর সঙ্গে সুন্দরপুরের মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, নীলচাষের কারণে রায়ত-প্রজার উপর কেনীর অত্যাচার-নিপীড়ন, নীলবিদ্রোহ ও কেনীর পরিণতি। কাহিনির দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

অন্যদিকে,
• 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৪.
"কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও। তারি রথ নিত্যই উধাও জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন, চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।"
- কোন গ্রন্থের অন্তগর্ত?
  1. ক) শেষ লেখা
  2. খ) শেষের পরিচয়
  3. গ) শেষ সপ্তক
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙ্কতিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) উপন্যাসে অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 

      কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
             তারি রথ নিত্যই উধাও
         জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
      চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।
                 ওগো বন্ধু,
             সেই ধাবমান কাল
      জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেরি তার জাল--
             তুলে নিল দ্রুতরথে
      দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
         তোমা হতে বহু দূরে।
             মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে
         পার হয়ে আসিলাম
      আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়--
         রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
             আমার পুরানো নাম।
         ফিরিবার পথ নাহি;
             দূর হতে যদি দেখ চাহি
                 পারিবে না চিনিতে আমায়।
                         হে বন্ধু, বিদায়। (সংক্ষেপিত) 

- এ কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে। 
- উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। 
- চরিত্র - অমিত, লাবণ্য, শোভনলাল ইত্যাদি। 
- এ উপন্যাসের প্রবাদ- 
" ফ্যাশন টা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী" 

উৎস: শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৭৫.
'সোনার তরী' কবিতায় 'সোনার ধান' বলতে বোঝায় -
  1. সোনালি ধান
  2. দামি ধান
  3. মূল্যবান অর্জন 
  4. জীবনের সৃষ্টিকর্ম
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় 'সোনার ধান' বলতে আসলে — মানুষের মহৎ সৃষ্টিকর্ম, স্বপ্ন ও শ্রমকে বোঝানো হয়েছে। 

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
- সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- ' এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ।

৩,১৭৬.
”কপালকুণ্ডলা” কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রোমান্সধর্মী
  3. মনস্তাত্বিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৩,১৭৭.
'ভাঙার গান' কবিতাটি কার রচনা?
  1. ক) মোহিত লাল মজুমদার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৩,১৭৮.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৩,১৭৯.
রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ ছোটগল্পটি কোন গল্পেগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. লিপিকা
  3. সে
  4. তিন সঙ্গী
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

⇒ তিন সঙ্গী: 
রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় ‘তিনসঙ্গী’ (১৯৪০) নামের গ্রন্থে।
রবীন্দ্রনাথের তিন সঙ্গী গল্পসংকলনে তিনটি গল্প আছে। এগুলো হলো:
- রবিবার, 
- শেষকথা ও
- ল্যাবরেটরি।

=============
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮০.
'বসন্তকুমারী' একটি প্রখ্যাত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮১.
'কুন্দনন্দিনী' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) কপালকুন্ডলা
ব্যাখ্যা
'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ সর্বপ্রথম কোন প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. লাঙল
  2. অমৃতবাজার
  3. সাধনা
  4. সমাচার সভারাজেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।

• হিন্দুমেলার উপহার:

- বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও একাধারে ছোট গল্পের জনক কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

 তার সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

• নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• লাঙল:
- ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত দ্বিতীয় পত্রিকা।

• সাধনা
- ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১) প্রকাশিত হয়।
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।

• সমাচার সভারাজেন্দ্র:
-  শেখ আলীমুল্লাহ সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র'।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ছাড়া আর কোন ভাষায় গান লিখেছেন?
  1. সাখ্যভাষা
  2. ব্রজবুলি ভাষা
  3. নেপালি ভাষা
  4. সিনহালি ভাষা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ছাড়া ব্রজবুলি ভাষায় গান ও পদাবলি রচনা করেছেন। 
 
• রবীন্দ্রসঙ্গীত: 
- কারও মতে ১২ বছর বয়সে তিনি প্রথম গান রচনা করেন; আবার কেউ কেউ বলেন, ১৮৭৫ সালে ১৪ বছর বয়সে তাঁর গান রচনার সূচনা।
- এ সময়ে তিনি অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সরোজিনী নাটকের জন্য ‘জ্বল্ জ্বল্ চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ’ গানটি রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।
- তাঁর গানের সংখ্যা ২২৩২ এবং সেগুলি অখন্ড গীতবিতান  গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রসঙ্গীতে বাউলের সুর পাওয়া যায় ১৯০৫ সাল থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,১৮৪.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মাঝে কে সর্বপ্রথম মহাকাব্য রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কায়কোবাদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটিই বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮৫.
'পঞ্চভূত' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত:
- ১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮৬.
'নবীন মাধব' চরিত্রটি কোন নাটকের?
  1. ক) পদ্মাপার
  2. খ) সিরাজদ্দৌলা
  3. গ) প্রফুল্ল
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
• গোলক বসু,
• নবীন মাধব,
• রাইচরণ,
• তোরপ,
• সাবিত্রী,
• সরলতা,
• ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১৮৭.
বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. রাজসিংহ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৮৮.
বাংলা গদ্যের প্রথম আত্মজীবনী কোনটি?
  1. আত্মচরিত
  2. আত্মকথা
  3. স্ব-চরিত
  4. জীবনস্মৃতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৯.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলনচাঁপা
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'সঞ্চিতা' কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলেন।

'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।

​উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'বসন্ত' নাটকটি কাজী নজরুল ইসলাম কে উৎসর্গ করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১৯০.
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয় কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত? 
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• “কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো”
বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যোগাযোগ” উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্য অপশন, 
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

• 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
------------------- 
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯১.
এই ছিলো মোর ঘটে -
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!
- কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) দুই বিঘা জমি
  2. খ) কুলি
  3. গ) আমি চঞ্চল হে
  4. ঘ) নৈবেদ্য
ব্যাখ্যা

এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি৷
------------------------------------------------------------
এই ছিলো মোর ঘটে -
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!

উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণি সাহিত্য কণিকা।

৩,১৯২.
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যাঙ্গ করে লেখা প্রহসন কোনটি?
  1. ক) জামাই বরিক
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) কমলেকামিনী
ব্যাখ্যা
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যাঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্রের রচিত প্রহসন ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’। ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১৯৩.
‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 - ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতাটি চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 

⇒ চিত্রা কাব্যগ্রন্থ:
- চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 
-  কবিতাগুলো হচ্ছে: 
চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ, পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়, দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা, রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।

পুরাতন ভৃত্য কবিতার কিছু অংশ-

পুরাতন ভৃত্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -
ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর-
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।”
উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে।
যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে।
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”—
যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।

উৎস: ‘পুরাতন ভৃত্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ।
৩,১৯৪.
‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ কী ধরনের রচনা?
  1. রোমান্স উপন্যাস
  2. আত্মজীবনীমূলক রচনা 
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ একটি আত্মজীবনীমূলক। 

গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্বহীন ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন।
- লেখক নিজেকে এখানে ‘ভেড়াকান্ত’ নামে উল্লেখ করেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকার মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী এবং উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

প্রকাশিত রচনা:
- প্রথম উপন্যাস: রত্নবর্তী (১৮৬৯)
- উল্লেখযোগ্য নাটক: বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়
- উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু
- আত্মজীবনীমূলক রচনা: উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী
- অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: গোরাই-ব্রিজ বা গৌরী-সেতু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৯৫.
'কায়কোবাদ' কতসালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৩২ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- তিনি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ছিলেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি। কারণ সাহিত্যিক ও সামাজিক বিদ্রোহ তিনিই প্রথম করেন। 

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
• জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯৭.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯৮.
'মা, তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি' কে লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মোহাম্মদ মনির ছামাদ
ব্যাখ্যা
‘মা, তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি’
চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত থেকে নেওয়া হয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৩,১৯৯.
কোন গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. কিশোর সঞ্চয়ন
  2. রবিবারের আসর
  3. মানুষের মন
  4. মাস্টারমশায়
ব্যাখ্যা
• ‘মাস্টারমশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গল্পগুচ্ছ' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত একটি ছোটগল্প।

অন্যদিকে,
কিশোর সঞ্চয়ন, রবিবারের আসর ও মানুষের মন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (ছোটগল্প সংগ্রহ)।
৩,২০০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।