বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ২১ / ৪১ · ২,০০১২,১০০ / ৪,০৩৭

২,০০১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মধুমালা’ নাটকের চরিত্র কোনটি?
  1. মদনিকা
  2. কাঞ্চনমালা
  3. নুরু
  4. মাহবুবা
ব্যাখ্যা

• ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

২,০০২.
"জীবনস্মৃতি" কার আত্মজীবনী গ্রন্থ?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
জীবনস্মৃতি: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য,
অন্যদিকে, 
- ‘জীবন কথা’ আত্মজীবনীর লেখক - জসীমউদ্‌দীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।  তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০০৩.
'রাজবন্দীর চিঠি' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ব্যথার দান
  2. রিক্তের বেদন
  3. শিউলিমালা
  4. ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

- "ঝিলিমিলি" হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০০৪.
'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বালুচর
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. ধানখেত
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

রাখালী:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী। এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,০০৫.
মৃত্যু-অমৃত করে দান।
তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

মৃত্যু-অমৃত করে দান। তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'মরণ' কবিতার অন্তর্গত।
- 'মরণ' কবিতাটি তাঁর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যের অন্তর্গত। 

কবিতার অংশবিশেষ।

মরণ রে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।
মেঘবরন তুঝ, মেঘজটাজুট,
রক্ত কমলকর, রক্ত অধরপুট,
তাপবিমােচন করুণ কোর তব
মৃত্যু-অমৃত করে দান।
তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷

----------------------
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুহুঁ মম শ্যামসমান।"

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষ লেখা।

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

২,০০৬.
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন-
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 -------------
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০০৭.
'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কুন্দনন্দিনী
  2. জগৎসিংহ
  3. মনোরমা
  4. রোহিনী
ব্যাখ্যা
•'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- এটি একটি সামাজিক সমস্যার আলোকে রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, বঙ্কিমচন্দ্রের আগে কেউ এই ধরনের উপন্যাস লিখার চেষ্টা করেননি।
-এই উপন্যাসে লেখক কি চেয়েছেন সেটার চাইতে মূখ্য বিষয় হলো লেখক সমস্যার কতটা রূপায়ণ করতে পেরেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী - জগৎসিংহ, আয়েশা, তিলোত্তমা।
- কপালকুণ্ডলা- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার।
- মৃণালিনী- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা
- বিষবৃক্ষ- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- কৃষ্ণকান্তের উইল'- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,০০৮.
নিচের কোনটি ভিন্ন ?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. অচলায়তন
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• 'অচলায়তন' ⎯ রবীন্দ্রনাথ রচিত নাটক। 
- চোখের বালি, গোরা, যোগাযোগ ⎯ রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাস। 
------------------------- 
• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর': 
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়।
-------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,০০৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪২ সালের ৭ আগস্ট
  3. গ) ১৯৪১ সালের ৮ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০১০.
‘যোগাযোগ’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।

২,০১১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি? 
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক - শর্মিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক বসন্তকুমারী। 
- এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম নাটক বসন্তকুমারী। 

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

২,০১২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতার নাম কি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
• এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
• বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।

অন্যদিকে,
- রণসঙ্গিতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০১৩.
"শিক্ষার হেরফের" প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থে সংকলিত আছে?
  1. কালান্তর
  2. শিক্ষা
  3. ব্যক্তি ও বিশ্ব
  4. সভ্যতার সংকট 
ব্যাখ্যা

• ‘শিক্ষার হেরফের’ (১৮৯২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি তাঁর "শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
--------------
"শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
- শিক্ষার হেরফের,
- ছাত্রদের প্রতি সম্ভাষণ,
- শিক্ষাসংস্কার,
- শিক্ষাসমস্যা,
- জাতীয় বিদ্যালয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থ।

২,০১৪.
বাংলা গদ্যে শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের শব্দ-সাযুজ্য আবিষ্কার, বাক্য-কাঠামো সংস্কার, কর্তা ও ক্রিয়াপদ এবং ক্রিয়া ও কর্মের মধ্যে যথাযথ অন্বয় স্থাপন করে বাংলা গদ্যকে মাধুর্য দান করেন। তাছাড়া, শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান এবং পাঠক যাতে তা সহজেই দেখতে পান, তার জন্যে ইংরেজি রীতির যতিচিহ্ন, বিশেষ করে কমা, ব্যবহার করেন। তাঁর আগে একমাত্র অক্ষয়কুমার দত্তই ইংরেজি যতিচিহ্ন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিন ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবি ছিল 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম -'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০১৫.
‘বিড়াল' রম্যরচনাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘বিড়াল':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা। এটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,০১৬.
কবি জসীম উদ্‌দীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. চব্বিশ পরগনা
  2. হুগলি
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

 তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০১৭.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখেন কে?
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখতেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ

- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ এবং
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থঃ বাবু বৃত্তান্ত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১৮.
‘রাজবন্দীর চিঠি’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. রিক্তের বেদন
  3. ব্যথার দান
  4. চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক হচ্ছে-
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. জামাই বারিক
  3. বিবাহ-বিভ্রাট
  4. হিতে বিপরীত
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক হচ্ছে বৈকুণ্ঠের খাতা।

'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ একটি জনপ্রিয় কৌতুক-নাটক, যেখানে সমাজে তোষামোদ, চাটুকারিতা ও স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বৈকুণ্ঠ একজন সাদাসিধে, আত্মভোলা, শখের লেখক; যিনি সঙ্গীত বিষয়ে লেখালিখি করেন।
- তার পরিবারে আছে ছোট ভাই অবিনাশ, বিধবা কন্যা নিরুপমা এবং বিশ্বস্ত চাকর ঈশান।
- পারিবারিক টানাপোড়েনের মাঝেও বৈকুণ্ঠের উদার, সরল ও নির্লোভ চরিত্র নাটকটিকে কৌতুকপূর্ণ করে তোলে।
- নাটকটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে,
- ‘জামাই বারিক’ দীনবন্ধু মিত্রের রচিত প্রহসন। 
- ‘বিবাহ-বিভ্রাট’ নওরীন জাহান রচিত গ্রন্থ।
-  ‘হিতে বিপরীত সুকুমার রায়ের কবিতা।
---------------------------------------------------

  ♦রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম কবিতা “হিন্দু মেলার উপহার”,
- প্রথম কাব্য বনফুল (১৮৭৬), প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিকাহিনী (১৮৭৮); আর বনফুল গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বউঠাকুরানির হাট,
- প্রথম ছোটগল্প ভিখারিনী, সফল ছোটগল্প দেনা-পাওনা এবং
- বিখ্যাত ভৌতিক গল্পগুলো হলো : কঙ্কাল, খুদিত পাষাণ, মনিহারা, জীবিত ও মৃত ও নিশীথে।
• তাঁর রচিত কিছু নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০২০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
​- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০২১.
“তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. শেষলেখা
  4. ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
• “তােমারেই যেন ভালােবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” - পঙ্‌ক্তিটি'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশবিশেষ।

• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি।

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

• কবিতাটির অংশবিশেষ:
অনন্ত প্রেম
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২. ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা।
২,০২২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুলের রচনা?
  1. ক) লোক লোকান্তর
  2. খ) ব্যাথার দান
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) জেগে আছি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
• প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
• গল্প-
- ‘হেনা’,
- ‘ব্যথার দান’,
- ‘মেহের নেগার’,
- ‘ঘুমের ঘোরে’;
- কবিতা ‘আশায়’,
- ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০২৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. অগ্নি-গিরি
  2. দুরন্ত পথিক
  3. সাঁঝের তারা
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প -ক্ষুধিত পাষাণ।

'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থ:

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হল- প্রেম। এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো: বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের নেগার, সাঁঝের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামী হারা, দুরন্ত পথিক

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো: পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০২৪.
'কালের যাত্রা' নাটকটির লেখক -
  1. নুরুল মোমেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'কালের যাত্রা' নাটকটির লেখক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
----------------
• 'কালের যাত্রা' নাটক: 
- নাটকটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন। 
- রথযাত্রা, রথের রশি, কবির দীক্ষা নামে কয়েকটি দৃশ্যে নাটকটি রচিত।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মীকি প্রতিভা ,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০২৫.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এই বিখ্যাত উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এই বিখ্যাত উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের।

• কপালকুণ্ডলা:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

• প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- কমলাকান্ত,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০২৬.
'মুহূর্তের কবিতা' সনেট সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. ফররুখ আহমদে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• মুহূর্তের কবিতা:
- ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০২৭.
'হেমচন্দ্র’ বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. মৃণালিনী
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,০২৮.
পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্প নাম-
  1. শাস্তি
  2. চোখের বালি
  3. দেনাপাওনা
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্পের নাম- 'দেনাপাওনা'।
 
• 'দেনাপাওনা উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে। 
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন।
- যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ।
 
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,০২৯.
তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে কোন মহাকাব্যে?
  1. শাহনামা
  2. মহাশ্মশান
  3. বৃত্রসংহার
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• মহাকবি কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য- বৃত্রসংহার।
• ‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৩০.
‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ’প্রভাতসংগীত’ কাব্যগ্রন্থ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসংগীত কাব্যটির প্রকাশ পায় ১৮৮৩ সালে।
এ কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা হচ্ছে: ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’।
একদিন সূর্যোদয়ের মুহূর্তে আকস্মিকভাবেই তাঁর মধ্যে জেগে ওঠে এক দিব্য প্রেরণা, যার ফলে জগৎ, প্রকৃতি ও মানুষ- সবকিছু তাঁর চোখে এক বিশ্বব্যাপী আনন্দ ধারায় প্লাবিত বলে মনে হয়।
এই অলৌকিক অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’।
-------------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৩১.
‘পশুপতি ও মনোরমা’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রসমূহ হলো:
- হেমচন্দ্র,
- মৃণালিনী,
- পশুপতি,
- মনোরমা।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- ‘দুর্গেশনন্দিনী’ উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা,
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।
- ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৩২.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৩৩.
রবীন্দ্রনাথের 'শান্তিনিকেতন' কত সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) ১৯২১
  2. খ) ১৯০১
  3. গ) ১৯১১
  4. ঘ) ১৯২২
ব্যাখ্যা
শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের নিকট একটি আশ্রম। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ সালে এ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরবর্তীতে ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন নামে নতুন উদ্যমে এটি পরিচালনা করেন। এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী' বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,০৩৪.
'শেষের কবিতা' গ্রন্থটি কোন শ্রেণির রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. গীতিকাব্য
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৩৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে ‘অণুবিশ্ব’ বলা হয়?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) বলাকা
  4. ঘ) গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
এটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এ কাব্যেই রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেন। গাজীপুর জেলায় বসে লিখেছেন। 

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২,০৩৬.
'হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন, পর ধন লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি' এ কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাটি মাইকেল মুধুসূদন দত্তের ' কবি-মাতৃভাষা' কবিতার অংশ।
তিনি ইউরোপে প্রবাসকালে মাতৃভূমির স্মৃতি-উদ্ভাসিত মনে বাল্যস্মৃতি, হিন্দুদের পূজাউৎসব, পূবর্তন কবিদের স্মৃতিতপর্ণ ইত্যাদি বহুবিধ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। ফলে এসব কবিতায় তার মানসিক অবস্থার সার্থক প্রতিফলন ঘটেছে।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,০৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটক বৌ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস অবলম্বনে লেখা?
  1. ডাকঘর
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• প্রায়শ্চিত্ত নাটক (১৯০৯) :
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।
 - 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। 
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগীর আবির্ভাব।
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় ধনঞ্জয় বৈরাগীর চরিত্রের মাধ্যমে।। 
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয় ।

• রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটকসমূহ:
• গীতিনাট্য:
- বসন্ত (১৯২৩): নজরুলকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
- কালমৃগয়া (১৮৮২)

• কাব্যনাট্য:
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- মায়ার খেলা,
- বিদায় অভিশাপ।

• রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব, 
- রাজা,
- ডাকঘর,  
- অচলায়তন,  
- ফাল্গুনী,  
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন,  
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা,  
- তাসের দেশ।

• প্রহসন:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- চিরকুমারসভা,
- গোড়ায় গলদ, 
- হাস্যকৌতুক,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৩৮.
‘কল্যাণী’ নিচের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. অপরিচিতা
  4. মণিহারা
ব্যাখ্যা
⇒ “অপরিচিতা” ছোটগল্প:
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক। “অপরিচিতা” উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের সেই বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তারই বিয়ে উপলক্ষ্যে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৯.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. স্বরবিতান
  2. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. প্রভাতসংগীত
ব্যাখ্যা

•'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৪০.
বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য করে তোলেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৪১.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৪২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মরু-ভাস্কর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্প
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
'মরু-ভাস্কর' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'মরু-ভাস্কর'।
- এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনীকাব্য। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়। এ কাব্যের চারটি সর্গ। মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের অন্য একটি জীবনীকাব্য- চিত্তনামা।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা, 
- সাম্যবাদী, 
- ঝিঙে ফুল, 
- ভাঙার গান, 
- দোলনচাঁপা, 
- সিন্ধু হিন্দোল, 
- চক্রবাক, 
- জিঞ্জিরা, 
- নতুন চাঁদ, 
- প্রলয় শিখা, 
- মরু-ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৩.
তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে।- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে ।

বঙ্কিমচন্দ্রের কয়েকটি উপন্যাসের পটভূমি:
⇒ মৃণালিনী: ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ - এর পটভূমি।
⇒ বিষবৃক্ষ: সামাজিক উপন্যাস; সমাজের নানা সমস্যা যেমন - বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ইত্যাদি এই উপন্যাসের উপজীব্য।
⇒ আনন্দমঠ: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৪৪.
'সূচয়িনী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সূচয়িনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতার সংকলন।

• জসীম উদ্‌দীন:

- পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
 - তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
-ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,০৪৫.
'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আল মাহমুদ 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

'মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?' প্রবন্ধটি  কাজী নজরুল ইসলাম রচিত যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থের একটি প্রবন্ধ।
​​
​• 'যুগবাণী' :

​- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

- এ গ্রন্থে প্রবন্ধের সংখ্যা ২১ টি। 
​- ​নবযুগ, 
​​- গেছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ, 
​​- ডায়ারের স্মৃতিস্তম্ভ, 
​- ​ধর্মঘট, 
​​- লোকমান্য তিলকের মৃত্যুতে বেদনাতুর কলিকাতার দৃশ্য, 
​​- মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?, 
​- ​ছুঁৎমার্গ,
​​-  উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন, 
​​- মুখবন্ধ, 
​​- রোজ-কেয়ামত বা প্রলয়-দিন, 
​- ​বাঙালির ব্যবসাদারী, 
​- ​আমাদের শক্তি স্থায়ী হয় না কেন, 
​- ​কালা আদমীকে গুলি মারা, 
​- ​শ্যাম রাখি না কুল রাখি, 
​- ​লাট-প্রেমিক আলী ইমাম, 
​- ​ভাব ও কাজ, 
​- ​জাতীয় শিক্ষা, 
​​- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, 
​- জাগরণী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও যুগবাণী প্রবন্ধ।

২,০৪৬.
‘বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. এগারোটি
  2. আঠারোটি
  3. পনেরোটি
  4. সতেরোটি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৪৭.
গদ্যরীতিতে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষলেখা
  2. পুনশ্চ
  3. শ্যামলী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
• পুনশ্চ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম সার্থক কাব্যগ্রন্থ ’পুনশ্চ’।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা;
- শেষ চিঠি;
- ক্যামেলিয়া;
- সাধারণ মেয়ে;
- বাশিঁ;
- খ্যাতি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'। অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:   
-  মানসী,
- সোনারতরী, চিত্রা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষলেখা;
- প্রভাহসঙ্গীত;
- সেঁজুতি;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

• প্রবন্ধ:
- আধুনিক সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম, কালান্তর,
- সাহিত্যের স্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৪৮.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
• মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
• 'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৯.
"কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো।" উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো" উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যোগাযোগ" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসে অর্থনৈতিক শ্রেণিদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে, 
- মালঞ্চ, 
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায়
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি, 
- শেষের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,০৫০.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. মাধব্য
  2. ধনদাস
  3. জগৎসিংহ
  4. মদনিকা
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের অন্তর্গত চরিত্র 'মাধব্য'।
- মদনিকা, জগৎসিংহ এবং ধনদাস ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র।

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,০৫১.
'আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জসীমউদদীন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
- পল্লীকবি জসীম উদদীন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক গান রচনা করেছেন।
- বাংলার বিখ্যাত লোক সংগীতের গায়ক আব্বাস উদ্দিনের সহযোগিতায় কিছু অবিস্মরণীয় লোকগীতি নির্মাণ করেছেন।

• এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে
অকুল দরিয়ার বুঝি কূল নাইরে

- নিশিতে যাইও ফুলবনে, ও ভোমরা
- আমার সোনার ময়না পাখি
- আমার হার কালা করলাম রে
- আমায় এতো রাতে
- নদীর কূল নাই কিনার নাই
- প্রাণ সখিরে, ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে
- রঙিলা নায়ের মাঝি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও প্রথম আলো পত্রিকা আর্কাইভ।
২,০৫২.
“নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে”- গানের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• “নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে” জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’ গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি গান।
- গানের সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• গানটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
-------------------
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে
- জসীম উদ্‌দীন
নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে;
আমি কোন কূল হইতে কোন কূলে যাব
কাহারে শুধাইরে?
ওপারে মেঘের ঘটা, কনক বিজলী ছটা,
মাঝে নদী বহে সাঁই সাঁইরে;
আমি এই দেখিলাম সোনার ছবি
আবার দেখি নাইরে;
আমি দেখিতে দেখিতে সে রূপ
আবার দেখি নাইরে।

---------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে’ গান এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৩.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী?
  1. স্মৃতিপট
  2. বাল্যস্মৃতি
  3. জীবনস্মৃতি
  4. আত্মকথা
ব্যাখ্যা

• 'জীবনস্মৃতি':
- 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন।

উল্লেখ্য,
• 'স্মৃতিপট' জসীম উদ্‌দীন রচিত আত্মজীবনী।
• 'বাল্যস্মৃতি' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনী।
• 'আত্মকথা' প্রমথ চৌধুরী রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৫৪.
বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ উপন্যাসের পটভূমিকায় রয়েছে -
  1. দেশভাগ
  2. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. হিন্দু সমাজের ধর্মীয় সংস্কার
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো - ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্নাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- তাঁর রচিত আরোও কিছু বিখ্যাত উপন্যাস হলো - দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, রজনী, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী, সীতারাম ইত্যাদি।

উৎস: 'আনন্দমঠ' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৫৫.
রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. আনন্দময়ী
  2. কিরণময়ী
  3. কুমুদিনী
  4. বিনোদিনী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় - কিরণময়ী
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' (১৯১৭) উপন্যাসের চরিত্র।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র - আনন্দময়ী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. পূরবী
  3. শেষ লেখা
  4. শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিচিত:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৫৭.
"শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে"- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বহারা 
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।

- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে। অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।
- 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটির বিখ্যাত উক্তি- "শুকিয়ে মরলেও কেউ শুধোয় না এসে। ঝ্যাঁটা মার নিজের জাতের মুখে, গেঁয়াতকুটুমের মুখে। সাধে সব খেরেস্তান হয়ে যায়।"

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে:
• 'সর্বহারা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস।

২,০৫৮.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকের অপর নাম কী?
  1. রাজদর্পণ
  2. প্রেমগাঁথা
  3. বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা
  4. সুলতানা রাজার কাহিনি
ব্যাখ্যা
‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার- মীর মশাররফ হোসেন। বাংলা সাহিত্যের মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'।
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’। ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বনফুল
  2. অনুপমা দেবী
  3. লীলাময় রায়
  4. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - দিকশূন্য ভট্টাচার্য।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- 'বনফুল' ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৬০.
'কমলাকান্তের দপ্তর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. ছোট গল্প
  4. ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
'কমলাকান্তের দপ্তর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের- প্রবন্ধ।

• কমলাকান্তের দপ্তর:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্তের দপ্তর"।
- এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
- এর তিনটি অংশ - ১. কমলাকান্তের দপ্তর, ২. কমলাকান্ত পত্র ও ৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।
- "কমলাকান্তের দপ্তর" বঙ্কিমচন্দ্রের একটি রম্যরচনার সংগ্রহ, যেখানে তিনি সমাজের নানা দিক ও ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন।
- এই গ্রন্থে কমলাকান্ত নামের একজন চরিত্র মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি ও বিচিত্র স্বভাবের মানুষদের নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কমলাকান্তের দপ্তর' ইংরেজ সাহিত্যিক ও সমালোচক ডি-কুইনসির Confession of an English Opium Eater-এর প্রেরণায় রচিত।
- 'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিভিন্ন মেজাজের লঘু ঢঙে লেখা ব্যক্তিগত প্রবন্ধ।
- কমলাকান্ত নামক এক চরিত্রের জবানিতে প্রবন্ধগুলি লিখিত।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- কমলাকান্তের দপ্তর, 
- লোকরহস্য,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- কৃষ্ণচরিত্র
- সাম্য,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৬১.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন যুগের লেখক?
  1. ঊনবিংশ শতাব্দী
  2. কুড়ি শতাব্দী
  3. বিশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ শতকের (ঊনবিংশ শতাব্দী) লেখক ছিলেন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁকে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক ও সাহিত্যসম্রাট হিসেবে গণ্য করা হয়। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজমোহনস ওয়াইফ, যা ইংরেজি ভাষায় রচিত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।
- দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬)।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম।

রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ। 

রচিত প্রবন্ধসমূহ
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৬২.
প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৬৩.
ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৩৪-১৮৮৩
  2. ১৮৩৬-১৮৮৯
  3. ১৮৩৮-১৮৯৪
  4. ১৮৩৯-১৮৯৫
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৪.
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের কোন সঙ্গীতের রচয়িতা?
  1. জাতীয় সঙ্গীত
  2. বিদ্রোহের গান
  3. ভাষা আন্দোলন গাথা
  4. রণসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা। রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতার মূল ২১ চরণ গৃহীত হয়।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- রণসঙ্গীতটি কবি নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৬৫.
"বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. সোনার তরী
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা
"বর্ষাযাপন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙ্‌ক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিকবিতা কোনটি?
  1. চৈতালি
  2. গীতিমাল্য
  3. বাসন্তিকা
  4. খেয়া
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্রদের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিকবিতা- বাসন্তিকা।

• ‘বাসন্তিকা’ গীতিকবিতার প্রথম চারটি পঙ্‌ক্তি হলো:
এই কথাটি মনে রেখো
তোমাদের এই হাসি খেলায়
আমি এ গান গেয়েছিলাম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ বনফুল।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- গীতিমাল্য,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- চৈতালি,
- খেয়া,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৭.
"ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।" - প্রবাদপ্রতিম বাক্যটি কোন উপন্যাসের?
  1. ঘরে-বাইরে 
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. শেষের কবিতা
  4. যোগাযোগ 
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৬৮.
‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না’- উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ:
- ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলামের ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।
- এই প্রবন্ধে লেখকের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- ‘ভাবের ঘরে চুরি করিও না।’
এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক ‘অতি ভাব গ্রহণ করে প্রকৃত কাজ থেকে পিছিয়ে না-পড়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন।

---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৬৯.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের সর্বশেষে কবিতার নাম কী?
  1. দরিয়ার শেষরাত্রি
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাঞ্জেরী
  4. সিন্দাবাদ
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরী, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৭০.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
ব্যাথার দান (প্রথম গল্পগ্রন্থ),  
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৭১.
"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কামিনী রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্তর্গত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসুদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
মধুসুদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৭২.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৪৭ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

 • মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৭৩.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'মৃণালিনী' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৭৪.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নিচের কোনটি?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) তোহফা
  4. ঘ) মাল্যবান
ব্যাখ্যা
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' হলো একটি উপন্যাস।

কুহেলিকা
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। 
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে।
-  নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে : ‘ইহারা মায়াবিনীর জাত।
- ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।
- ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,০৭৫.
'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে? 
  1. গোরা 
  2. পথের দাবী 
  3. আনন্দমঠ
  4. ঘরে বাইরে 
ব্যাখ্যা

• 'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে। 

‘বন্দে মাতরম্’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে (১৮৮২) প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি উপন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। গানটি ১৮৭০-এর দশকে রচিত হয় এবং আনন্দমঠে সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের মুখে গীত হয়, যারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এটি মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণাদায়ক সঙ্গীত হয়ে ওঠে। গানটির প্রথম দুটি স্তবক ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয় (১৯৫০)।

---------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের ঘর' নাটকটি কোন গল্পের নাট্যরুপ?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ছুটি 
  3. একটা আষাঢ়ে গল্প 
  4. ক্ষুধিত পাষাণ 
ব্যাখ্যা

• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘একটা আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৭৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যটি ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা: 
- ‘বীরাঙ্গনা' ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত পত্রকাব্য।
- যীশু খ্রিস্টের জন্মের অব্যবহিত পরে রচিত ওভিদের কবিতাগুলোর মূল বিষয়বস্তু প্রেম হলেও উপকরণ ছিল পুরাণের।
- মধুসূদনের এই কাব্যেও তাই। 
- ওভিদের কাব্যের পত্রসংখ্যা ছিল একুশ।
- মধুসূদন এগারটি পত্র পূর্ণ করেছিলেন। 
- ওভিদের কাব্যের নায়িকারা তাদের পতি প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে প্রধানত প্রেম-উদ্বোধিত চিত্তে পত্ররচনা করেছে।
- মধুসূদন এদেশের পৌরাণিক নারীচরিত্র উপজীব্য করে পত্ররচনা করেছেন।
----------------------------- 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,০৭৮.
‘কাদম্বিনী’ - কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. দেনাপাওনা
  3. জীবিত ও মৃত
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' গল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

২,০৭৯.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক।

• গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
- পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ,
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
- পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? - বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:

- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,০৮০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. বৃত্রসংহার
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. কুরুক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৮১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন রচনাটি অপরগুলি থেকে ভিন্নধর্মী?
  1. ক) দেনা পাওনা
  2. খ) হৈমন্তী
  3. গ) ছুটি
  4. ঘ) অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে যৌতুক প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কথা উঠেছে। 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬টি যৌতুক বিষয়ের গল্প পাওয়া যায়- 
গল্পগুলো যথাক্রমে—‘দেনা পাওনা’, ‘কঙ্কাল’, ‘স্বর্ণমৃগ’, ‘সুভা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘মানভঞ্জন’, ‘ঠাকুরদা’, ‘দুর্বুদ্ধি’, ‘যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ’, ‘নষ্টনীড়’, ‘পণরক্ষা’, ‘হৈমন্তী’, ‘অপরিচিতা’, ‘স্ত্রীর পত্র’, ‘তপস্বিনী’ ও ‘পাত্রপাত্রী’।

অপরদিকে 'ছুটি' ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটিক চক্রবর্তী নামে এক কিশোরের করুণ পরিণতি বর্ণনা করেছেন।

উৎস: ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং দৈনিক পত্রিকা।
২,০৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. বাংলা গীতাঞ্জলি
  2. সোনার তরী
  3. Song offerings
  4. সঞ্চয়িতা 
ব্যাখ্যা
• কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে ইংরেজি গীতাঞ্জলি বা Song offerings গ্রন্থ এর জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ইংরেজী Song offerings গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন W.B. Yeats
- বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে।
- এর অবলম্বনে ইংরেজী গ্রন্থ Song offerings ১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধানক্ষেত
  2. বালুচর
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. নক্সী-কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতাটি "বালুচর" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রতিদান
  জসীম উদ্‌দীন

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী-কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৪.
'হেনা' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্দিন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'হেনা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত 'ব্যাথার দান' গল্পগ্রন্থের একটি গল্প।

• ব্যাথার দান:
- কাজী নজরুল ইসালামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।
- ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়।
- গল্পগ্রন্থ ছাড়া এটিই নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে মোট গল্প রয়েছে ছয়টি।
- ব্যথার দান, 
- হেনা, 
- অতৃপ্ত কামনা, 
- বাদল-বরিষণে, 
- ঘুমের ঘোরে, 
- রাজবন্দীর চিঠি।
- শেষ গল্পটি ছাড়া বাকি গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, এবং বক্তব্য নরনারী প্রেমকেন্দ্রিক।

• তাঁর আরো দুইটি গল্পগ্রন্থ:
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৫.
কত বৎসর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বনফুল” গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) চৌদ্দ বছর
  2. খ) ষোল বছর
  3. গ) আঠারো বছর
  4. ঘ) উনিশ বছর
ব্যাখ্যা
১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর। বনফুল ১৮৮০ সালে রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কবি-কাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,০৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন নাটকটি 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু'কে উৎসর্গ করেন? 
  1. তাসের দেশ
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• 'তাসের দেশ' উপন্যাস:
- 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজেরই 'এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে। রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বসন্ত' একটি গীতিনাট্য। এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৮৭.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়?
  1. যুগবাণী
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় - রাজবন্দীর রোজনামচা
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত স্মৃতিকথা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
২,০৮৮.
মীর মশাররফ হোসেন কোন শতকের সাহিত্যিক?
  1. বিশ
  2. সতের
  3. উনিশ
  4. আঠার
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
• তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
• তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
• গাজী মিয়ার বস্তানী মীর মশাররফ হোসের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. সীতারাম
  4. রজনী
ব্যাখ্যা

- 'সীতারাম' বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস
- বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা এই উপন্যাসের গঠনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,০৯০.
বিখ্যাত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা রয়েছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি নাম কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হচ্ছে:
- সিন্দাবাদ,
- পাঞ্জেরি,
- লাশ,
- আউলাদ,
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯১.
সামাজিক নাটক কোনটি? 
  1. ডাকঘর
  2. নুরজাহান
  3. সধবার একাদশী
  4. রাবণবধ
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক। মৃত্যুপথযাত্রী অমল মুক্তি ও বাইরের জগৎকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।

'নুরজাহান' নাটক:
- 'নুরজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটিক।
- এটি ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা।

• 'রাবণবধ' (১৮৮১) হল গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত একটি পৌরাণিক নাটক, যা রামায়ণ-ভিত্তিক একটি বিখ্যাত নাটক।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৯২.
‘রাজবন্দীর চিঠি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রাজবন্দীর চিঠি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৩.
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. রাখালী
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৪.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চক্রবাক
  2. মুক্তি
  3. সিন্ধুহিন্দোল
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' (বঙ্গীয়' মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা। 

--------------------------
•  কাজী নজরুল ইসলাম:

- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম এর তিনটি উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

২,০৯৬.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. পত্রপুট
  2. বলাকা
  3. পুনশ্চ
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 
- অন্যান্য অপশনের সবগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা
- পূরবী, 
- পুনশ্চ
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে ধর্মান্তরিত হন?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৯
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
ব্যাখ্যা
১৮৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' নামক মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন গল্পটি?
  1. রবিবার
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. শেষকথা
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত গল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।  

• 'ক্ষুধিত পাষাণ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প।   

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৯.
কাজী নজরুল ইসলাম এর কাজ করা হিন্দি ছবি কোনটি?
  1. ক) ধ্রুব
  2. খ) গোরা
  3. গ) ফের
  4. ঘ) সাপেড়া
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসালাম এর কাজ করা হিন্দি ছবি - সাপেড়া

• যতটুকু জানা যায় প্রায় দশের অধিক ছাছবির সঙ্গে কাজ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। এগুলো হচ্ছে :

বাংলা:

ধ্রুব
- পাতালপুরী
- গ্রহের ফের
- বিদ্যাপতি
- গোরা
- সাপুড়ে
- চৌরঙ্গী
- দিকশূল
- অভিনয় নয়

হিন্দি:
- বিদ্যাপতি
- সাপেড়া
- চৌরঙ্গী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,১০০.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলন?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. হাতেমতায়ী
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
• মুহূর্তের কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত সনেটের সংকলন।

- এটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে।
- সনেট কবিতাগুলো শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬-৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, ধানের কবিতা ইত্যাদি

• ফররুখ আহমেদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:

- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনিরা, 
- নৌফেল ও হাতেম (কাব্যনাট্য),
- মুহূর্তের কবিতা( সনেট সংকলন), 
- হাতেমতায়ী (কাহিনীকাব্য),
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।