বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা / ৪১ · ১০১২০০ / ৪,০৩৭

১০১.
রবীন্দ্রনাথ রচিত নিচের কোন নাটকটি পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে রচিত?
  1. চিত্রাঙ্গদা
  2. শারদোৎসব
  3. ডাকঘর
  4. বিসর্জন
ব্যাখ্যা
• চিত্রাঙ্গদা নাটক:
- চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) একটি কাব্যনাট্য এবং ১৯৩৬ সালে একই নামে একই কাহিনী অবলম্বনে প্রকাশিত গ্রন্থটি একটি নৃত্যনাট্য।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই প্রাধান্য হয়ে উঠেছে। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য নৃত্যনাট্য:
- শ্যামা
- নটীর পূজা
- চণ্ডালিকা

• রবীন্দ্রনাথের কিছু সাংকেতিক নাটক: 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- রাজা, 
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা, 
- তাসের ঘর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০২.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবননির্ভর উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা?
  1. এর উপায় কি
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গো-জীবন
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
⇒ উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
•  এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন: 
- মীর মশাররফ হোসেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা ৷
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নাট্যকার 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- তাঁর রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?' 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী , 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০৩.
‘ধিক ধিক ওরে, শত ধিক তোরে, নিলাজ কুলটা ভূমি!’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. জুতা আবিষ্কার
  2. ঐকতান
  3. দুই বিঘা জমি
  4. অক্ষমা
ব্যাখ্যা
⇒ দুই বিঘা জমি:
- উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের “কাহিনী” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা উপের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তাই সে জন্মভূমিকে নির্লজ্জ ও বংশের কাঁটা বলে অভিহিত করেছে।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ১৯টি
  3. ২০টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

 ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৫.
আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'- উক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. জীবনানন্দ দাশ  
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
• 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯৩২ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯৩৭ সালে
  4. ১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা

- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. ক) গোরা
  2. খ) ঘরে- বাইরে
  3. গ) শেষের কবিতা
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০৮.
কোনটি মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
⇒ 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. ভাঙার গান
  3. প্রলয় শিখা
  4. বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা
বিষের বাঁশী:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশী।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১০.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

"হিতকরী" পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।
- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।
- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১১.
'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত কবি নজরুলের প্রথম লেখা কোনটি?
  1. মুক্তি
  2. বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা:
সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয় এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। ১৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

সম্পাদক হিসেবে নাসিরউদ্দীনের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ একটি উন্নতমানের প্রগতিশীল পত্রিকা প্রকাশ করা। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি সওগাতের প্রথম সংখ্যায় সাতটি নীতি ঘোষণা করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠায় মানকুমারী বসুর একটি করে কবিতা মুদ্রিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম। তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। গল্পটি ১৩২৬ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা। ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, গান ও গজল ব্যতীত নজরুলের মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসটিও সওগাত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে।

সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন- বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
• কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন। এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
• 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১২.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম কী?
  1. রত্ন পরীক্ষা
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. ব্রজবিলাস
  4. শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে। তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৩.
'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেনাপাওনা
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি সমাপ্তি ছোটগল্পে 'মৃন্ময়ী' চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্প:

- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- তাঁর সৃষ্ট 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

অন্যদিকে,
• দেনাপাওনা গল্পের নায়কা নিরূপমার। 
• 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
• পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

--------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সমাপ্তি ছোটগল্প।
১১৪.
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. গ্রামের মায়া
  2. পদ্মগোখরো
  3. পল্লীবধূ
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় - পদ্মগোখরো
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৫.
"দ্য ক্যাপটিভ লেডি" - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - দ্য ক্যাপটিভ লেডি। Captive অর্থ বন্দি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২৩-১৮৭২
  2. ১৮২৩-১৮৭৩
  3. ১৮২৪-১৮৭৩
  4. ১৮২৪-১৮৭৪
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. রণভেরী
  3. বিদ্রোহী
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১৮.
'চিত্তনামা' কার জীবনভিত্তিক কাব্য?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. ক্ষুদিরাম বসু
  4. হযরত মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
'চিত্তনামা:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য আরেকটি জীবনীকাব্য হচ্ছে - মরু- ভাস্কর।
- এই কাব্যটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকাব্য।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৯.
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থে মোট কতটি কবিতা বা গান সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) ১০৩ টি
  2. খ) ১১৩ টি
  3. গ) ১২৭ টি
  4. ঘ) ১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে বা ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। ঠাকুর পরিবারের পূর্বপুরুষরা পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গীতাঞ্জলি' তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি। 
- এটি মূলত ১৫৭ টি গানের সংকলন। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা। 
- এই গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদের নাম Song Offerings এবং এটি ১৯১২ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই। 
- Song Offerings - এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি - ডব্লিউ.বি. ইয়েটস।
- Song Offerings গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: নোবেল কমিটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২০.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৪৮ সালের
  2. ১৮৭৪ সালের
  3. ১৮৪৭ সালের
  4. ১৮৫৭ সালের
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২১.
‘বনগীতি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. সংগীত গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘বনগীতি’ নজরুল ইসলাম রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২২.
‘মধুমালা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. গীতিনাট্য
  2. কাব্যনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা

• ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৩.
'পাঞ্জেরী' কবিতাটি কে লিখেছেন? 
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আল মাহমুদ
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস?
  1. ডাকঘর
  2. চিরকুমার সভা
  3. রক্তকবরী
  4. প্রজাপতির নির্বন্ধ
ব্যাখ্যা
‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো:
- অক্ষয়কুমার,
- চন্দ্রমাধব,
- শ্রীশ,
- বিপিন,
- পূর্ণ প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- ডাকঘর, চিরকুমার সভা ও রক্তকবরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।

উৎস: ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৫.
সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ 'বনগীতি' রচনা করেন কে?
  1. কায়কোবাদ 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। 
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং কবি নজরুল জীবনী।
১২৬.
পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা , নারীর আত্মসম্মান ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব - নিচের কোন উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. সীতারাম
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু - পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপ তৃষ্ণা, নারীর আত্মসম্মান ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, বিধবা বিবাহ ইত্যাদি।
- বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল:
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডুলা 
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

১২৭.
'রাজমোহনস ওয়াইফ' কোন ভাষায় লেখা উপন্যাস?
  1. ইংরেজি
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত ‘হিতকারী’ পত্রিকাটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
নিম্নের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয়?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. টালা অভিনয়
  3. বসন্তকুমারী
  4. রক্তরাগ
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'রক্তরাগ' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন- গোলাম মোস্তফা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) অতি অল্প হইল
  3. গ) বেতালপঞ্চবিংশতি
  4. ঘ) ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩১.
"বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• "বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- পঙক্তিটি 'নারী' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'নারী' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে 'নারী' কবিতা।
- 'সাম্যবাদী' ১৯২৫ সালে পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়।

 নারী 
- কাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
নরক কুন্ড বলিয়া তোমা' করে নারী হেয় জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে, ক্লীব সে,
তাই নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।
১৩২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর এটি রচনা করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩৩.
বাংলাভাষার প্রথম আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৬০ সালে রচনা করেন নীল দর্পণ নাটক।
- এটি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাথমিক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক নাটক।
- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৭২-৭৩ সালে রচনা করেন জমিদার দর্পণ নাটক, এই নাটক রচনায় দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের প্রভাব রয়েছে।
- দীনবন্ধু মিত্র তার প্রখ্যাত নাটক "নীলদর্পণ" (১৮৬০) এর মাধ্যমে বাংলায় প্রথম আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক নাটক রচনা করেন। এই নাটকে নীল চাষের কারণে বাংলা কৃষকদের ওপর ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচারকে অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় দীনবন্ধু মিত্রই প্রথম বাংলা ভাষায় আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন।
----------- 
দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- দীনবন্ধু সমকালীন হিন্দুসমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রহসন রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেন। সমাজের সাধারণ মানুষ সম্বন্ধে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিই তাঁর রচনার প্রধান প্রেরণা। 
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৩৪.
'আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর' - পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
'বর্ষার দিনে' ও 'মেঘের খেলা' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিত্রা
  2. বলাকা
  3. মানসী
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• 'বর্ষার দিনে' ও 'মেঘের খেলা' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ। তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভূল -ভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, বর্ষার দিনে, মেঘের খেলা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশচ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৬.
কাজী নজরুল ইসলাম অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম কী ছিল?
  1. ধ্রুব
  2. গোরা
  3. পাতালপুরী 
  4. চৌরঙ্গী 
ব্যাখ্যা

নজরুল অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম ছিল- 'ধ্রুব'। 
-----------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
------------------------
'ধ্রুব' চলচ্চিত্র:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩৪ সালে নির্মিত  ধ্রুব চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
- এটি ছিল তাঁর একমাত্র অভিনীত সিনেমা।
- তিনি এ ছায়াছবিতে নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
- নজরুল ‘ধ্রুব’ ছায়াছবির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও গান রচনা, সুরারোপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
- তাছাড়া তিনি এ ছায়াছবিতে চারটি গানে অংশ নেন।
- এ ছায়াছবির কাহিনি রচনা করেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- পাইওনিয়র ফিল্মের ব্যানারে ছবিটি ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি কলকাতার ক্রাউন টকি হাউজে মুক্তি পায়।
------------------------ 
উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম- গোরা, পাতালপুরী, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর; 
জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৩৭.
মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ অবদান কোনটি?
  1. নাটক রচনা
  2. দেশপ্রেম বিষয়ক রচনা
  3. মহাকাব্য রচনা
  4. সনেটের প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সনেট:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬৩ সালে ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালে ইতালীয় কবি পেত্রার্কের অনুকরণে বাংলায় সনেট লিখতে শুরু করেন।
- বাংলা ভাষায় এটি এক বিস্ময়কর নতুন সৃষ্টি। এর আগে বাংলা ভাষায় সনেটের প্রচলন ছিল না
- ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি। 
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
'ললিতা তথা মানস' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'ললিতা তথা মানস' কাব্যগ্রন্থ:
- প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৬ সালে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
'খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।'- পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. ক) পল্লীজননী
  2. খ) নিমন্ত্রণ
  3. গ) দেশ
  4. ঘ) পল্লী বর্ষা
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন:
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ 'সূচয়নী'।

• 'দেশ' কবিতা: 
- জসীমউদ্‌দীন রচিত 'দেশ' কবিতাটি 'মাটির কান্না' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এ কবিতায় কবি গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষের ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এই কবিতায় অত্যন্ত সৌখিনতার সহিত কবি গ্রামবাংলার রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। 
- গ্রামবাংলার প্রকৃতির একদিকে রয়েছে দিগন্ত-বিস্তৃত ধানের খেত, সেখানে পাখ-পাখালির আনাগোনা, শরতের শোভা, ফসলের হাতছানি।

তাঁর রচিত অন্যান্য জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত
- মাটির কান্না,

জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়;
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি; 
- জারিগান। 

দেশ' কবিতা
-------------জসীমউদ্‌দীন। 
'খেতের পরে খেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ হাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।'
সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক,
চঞ্চুতে জল ছিটায় সেথা কাল কাল কাক।
সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা,
শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায় মানিক আলা।
তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া;
মার আঁচলের পরশ যেন সকল অভাব-হরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, দেশ' কবিতা।
১৪০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী ছিলো?
  1. বিদ্যাসাগর
  2. শর্মা
  3. চট্টোপাধ্যায়
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈতৃক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 
----------------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈতৃক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
'চারুলতা' কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. নষ্টনীড়
  2. মধ্যবর্তনী
  3. শেষকথা
  4. দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র।

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের 'চারুলতা' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

• আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১৪২.
'ভিখারিনী' ছোটগল্প কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সবুজপত্র
  2. ভারতী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
'ভিখারিনী' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- এটি 'ভারতী' পত্রিকায় ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- একরাত্রি,
- মহামায়া,
- সমাপ্তি,
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৩.
বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ হিসেবে কোনটি বিবেচিত?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. মেঘনাদবধ
  3. বীরাঙ্গনা
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
ব্যাখ্যা

‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত। সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৪৪.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।'- উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ‘এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।’- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:

- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতায় একজন শোষক চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. ক) কুলি-মজুর
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) দুই বিঘা জমি
  4. ঘ) দরিদ্র
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার ভূস্বামী বাবু চরিত্রটিকে শোষক রূপে উপস্থাপন করেছেন।
কবিতার দুটি বিখ্যাত চরন:
“এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি!
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।”

এই বক্তব্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বুঝিয়েছেন: ধনীরা আরাে ধনী হতে চায়। এ কারণে তারা গরিব ও সাধারণ মানুষকে শােষণ করে এবং এই শােষণের মাধ্যমেই নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করতে তারা তৎপর থাকে।
সূত্র: দুই বিঘা জমি কবিতা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৬.
ফররুখ আহমদের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৯১৮ সাল
  2. ১৯০৯ সাল
  3. ১৯২০ সাল
  4. ১৯২৫ সাল
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৭.
ফররুখ আহমদ এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. পাঞ্জেরি
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
"সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আবদুল হাকিম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। এটি তাঁর 'বঙ্গমাতা' কবিতার 'চৈতালি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখ্‌
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৯.
'কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়'- কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) মৃত্যুর আগে
  2. খ) আট বছর আগের একদিন
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ- 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে। হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়' উল্লেখ্য ধানসিঁড়ি নদী বর্তমানে ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৫০.
'রমেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. বড়দিদি
  3. দেবদাস
  4. চরিত্রহীন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক
ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি রচিত হয়েছে-
  1. ক) পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে
  2. খ) ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে
  3. গ) রাজনৈতিক কাহিনী অবলম্বনে
  4. ঘ) সামাজিক কাহিনী অবলম্বনে
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক। 
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- পদ্মাবতী (১৮৬০) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) - ঐতিহাসিক কাহিনি অবলম্বনে 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
'কবর' কবিতা কবি জসীম উদ্‌দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নিমন্ত্রণ
  2.  বালুচর
  3. ধানক্ষেত
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

- 'কবর' কবিতার মোট লাইন সংখ্যা- ১১৮ টি।
- ১৯২৫ সালে কবি জসীমউদ্দীন রচিত ‘কবর’ কাবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতা:
- মুসাফির,
- রাখাল ছেলে,
- পল্লী জননী,
- আসমানী,
- নিমন্ত্রণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৩.
কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. চিন্তাতরঙ্গিনী
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. বিরহ বিলাপ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশ্মশান (মহাকাব্য), বিরহ বিলাপ।

অন্যদিকে,
- চিন্তাতরঙ্গিণী - হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য '' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৪.
'কায়কোবাদ' এর উপাধি কোনটি?
  1. কাব্যকণ্ঠ
  2. কাব্য সুধাকর
  3. সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা

• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ

অন্যদিকে,
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- গোলাম মোস্তফাকে যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫৫.
রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা-
  1. প্রকৃতির খেদ
  2. কবি-কাহিনী
  3. হিন্দুমেলার উপহার
  4. অভিলাষ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

• তাঁর দ্বিতীয় মুদ্রিত কবিতা ‘প্রকৃতির খেদ’ (১৮৭৫)। এ দুটি কবিতা তিনি পড়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির বিদ্বজ্জন সভায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের গোড়ার দিকে ঠাকুরবাড়ির মনীষীরা বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক, সংবাদপত্র-সম্পাদকসহ বিদগ্ধজনদের আহবান করে ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ নামে এক সাহিত্য সম্মিলনীর আয়োজন করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন সম্মিলনীর উদ্যোক্তা।

• জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

• জ্ঞানাঙ্কুর সাহিত্যপত্রে সেকালের বিখ্যাত লেখকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ হিন্দুমেলায় পঠিত তাঁর কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’। যে স্বদেশিচেতনা দেবেন্দ্রনাথের পরিবারে সহজেই বিকাশ লাভ করেছিল, তারই আনুকূল্যে প্রবর্তিত হয় হিন্দুমেলা। বাঙালির জাতীয় চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের ইতিহাসে হিন্দুমেলা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৬.
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. সর্বহারা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, উর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কবে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৪৭ সালে
  4. ১৮৫১ সালে
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য 'সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট' প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭১ বছর বয়েসে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫৯.
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৬ সালে
  2. খ) ১৯২৮ সালে
  3. গ) ১৯২৭ সালে
  4. ঘ) ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয়- ১৯২৭ সালে।  

জসীমউদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

- তাঁর রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম: 
গ্রন্থসমূহ
- রাখালী
-  নক্সী কাঁথার মাঠ 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- রঙিলা নায়ের মাঝি 
- মাটির কান্না 
- সুচয়নী 
- পদ্মা নদীর দেশে 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে 
- স্মরণের সরণী বাহি 
- ডালিম কুমার
- পদ্মাপার 
- বেদের মেয়ে 
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 
উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী। 
গল্পগ্রন্থ:
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 
গানের সংকলন:
- জারীগান ও
- মুর্শীদা গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের নায়ক কে?
  1. অমিত 
  2. নিখিলেশ
  3. অপু
  4. আদিত্য
ব্যাখ্যা

'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো — অপু। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
• হৈমন্তী (শিশির),
• গৌরীশংকর,
• অপু,
• বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি -
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।
-------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র - নিখিলেশ ও বিমলা।
- 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র - নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ। 
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬১.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্ম ও সাম্যবিষয়ক চিন্তা এই পত্রিকায়ই প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম্' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
নিচের কোন গ্রন্থটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) মেঘনাদবধ
  2. খ) ব্রজাঙ্গনা
  3. গ) তিলোত্তমাসম্ভব
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি নাটক। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক নাটক।
অন্যদিকে, মেঘনাদবধ, ব্রজাঙ্গনা ও তিলোত্তমাসম্ভব - একই লেখকের রচিত কাব্যগ্রন্থ।
তাই শর্মিষ্ঠা গ্রন্থের ধরন হিসাবে ব্যতিক্রম।
=============
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী
- শর্মিষ্ঠা

• কাব্য
- মেঘনাদবধ
- ব্রজাঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৩.
নিচের উদ্ধৃতাংশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝিমাল্লা
দাঁড়ি মুখে সারিগান-লা শরীক আল্লাহ।
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. সিন্ধু : প্রথম তরঙ্গ
  4. সিন্ধু : দ্বিতীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা, 
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ! - উদ্ধৃতাংশটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'খেয়াপারের তরণী' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'খেয়াপারের তরণী' কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

খেয়াপারের তরণী
কাজী নজরুল ইসলাম

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

তমসাবৃতা ঘোরা 'কিয়ামত' রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী!
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থরথর যামিনী!

লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে
ওগো কার তরী ধায় নির্ভীক চিত্তে-
অবহেলি জলধির ভৈরব গর্জন
প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার তর্জন!

পুণ্য-পথের এ যে যাত্রীরা নিষ্পাপ,
ধর্মেরি বর্মে সু-রক্ষিত দিল্ সাফ!
নহে এরা শঙ্কিত বজ্র নিপাতেও
কাণ্ডারী আহমদ তরী ভরা পাথেয়।

আবুবকর উস্মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৬৪.
'ভীমসিংহ, জগৎসিংহ' — এই চরিত্রগুলো মধুসূদন দত্তের কোন নাটকের?
  1. পদ্মাবতী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. মায়া কানন
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৫.
'রোহিণী ও কমললতা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. পরিণীতা
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কথাশিল্পী।
১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খন্ড।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
১৬৬.
'সুরবালা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পে পাওয়া যায়?
  1. শাস্তি
  2. একরাত্রি
  3. সমাপ্তি
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা
• একরাত্রি ছোটগল্প:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে ‘একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি' গল্পের নায়িকা — 'সুরবালা'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'একরাত্রি' ছোটগল্প।
১৬৭.
'কৃষ্ণকান্তের উইল'র রোহিনী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল কেন?
  1. ক) উইল চুরি জনিত আত্মগ্লানিতে
  2. খ) হরলালকে বিয়ে করতে ব্যার্থ হয়ে
  3. গ) ভ্রমরের সুখী জীবন প্রত্যক্ষ করে
  4. ঘ) স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে
ব্যাখ্যা

নিজের সঙ্গে নিজের মানসিক সংঘাত-সংঘর্ষে পরাস্ত রোহিণী এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে চেয়েছে। কিন্তু গোবিন্দলাল দেখে ফেলায় রোহিণীর সে-চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। লেখক রোহিণীর সে-মানসিক সংঘাতের যথার্থ বর্ণনাও দিয়েছেন অসাধারণ কাব্যময় ভাষায় :

হে জগদীশ্বর, হে দীননাথ, হে দুঃখীজনের একমাত্র সহায়! আমি নিতান্ত দুঃখিনী, নিতান্ত দুঃখ পড়িয়াছি – আমায় রক্ষা কর – আমার হৃদয়ের এই অসহ্য প্রেমবহ্নি নিবাইয়া দাও – আর আমায় পোড়াইও না। আমি যাহাকে দেখিতে যাইতেছি – তাহাকে যত বার দেখিব, তত বার – আমার অসহ্য যন্ত্রণা – অনন্ত সুখ। আমি বিধবা – আমার ধর্ম্ম গেল – সুখ গেল – প্রাণ গেল – রহিল কি প্রভু? রাখিব কি প্রভু? – হে দেবতা – আমার প্রাণ স্থির কর – আমি এই যন্ত্রণা আর সহিতে পারি না।

(বঙ্কিম রচনাবলি, পৃ ৫১৫)

- উপরের আলোচনা পড়ে এটা স্পষ্ট যে রোহিণী স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল।


১৬৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত বিষবৃক্ষ উপন্যাসে কোন চরিত্রটি পাওয়া যায়?
  1. ক) মৃণালিনী
  2. খ) শৈবলিনী
  3. গ) তারাচরণ
  4. ঘ) রাধারাণী
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ''বিষবৃক্ষ'' একটি সামাজিক উপন্যাস।
এটি প্রথম ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমূখী, কুন্দনন্দিনী, কমলমনি, তারাচরণ প্রমুখ।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

১৬৯.
‘অক্ষয়কুমার’ ও ‘চন্দ্রমাধব’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. চোখের বালি
  3. চতুরঙ্গ
  4. প্রজাপতির নির্বন্ধ
ব্যাখ্যা
➤ ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো: অক্ষয়কুমার, চন্দ্রমাধব, শ্রীশ, বিপিন, পূর্ণ প্রমুখ।

অন্যদিকে,
➤ ‘চোখের বালি’ (১৯০৩): বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘােষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনােদিনী প্রভৃতি।

➤ ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
- এই চারটি চরিত্র চার অঙ্গের মতো উপন্যাস-দেহকে গঠন করেছে।

➤ 'ঘরে বাইরে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র: নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।

উৎস: ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস; লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭০.
‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান’ - এ চরণটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) সত্তাবৃত্ত
  3. গ) অক্ষরবৃত্ত
  4. ঘ) অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
- ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান’ লাইনটি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

• এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

উৎস: 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধূমকেতু
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. কবিতার কথা
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা
• 'আমার পথ' প্রবন্ধ
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ আছে।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১৭২.
‘আশার ছলনে ভুলি’ কার জীবনী নিয়ে লেখা গ্রন্থ?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও কর্ম নিয়ে গোলাম মুরশিদের গ্রন্থ ‘আশার ছলনে ভুলি’
- কিন্তু মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ লেখেন যোগীন্দ্রনাথ বসু।
- বইটির নাম ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত’।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৭৩.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. ভদ্রার্জুন
  3. পদ্মবতী
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক- কৃষ্ণকুমারী।
- নাটকটির রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কৃষ্ণকুমারী নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ’রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- নাটকটি রচিত হয়- ১৮৬০ সালে।
- এটি প্রকাশিত হয়- ১৮৬১ সালে।

• নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মদনিকা,
- ভীম সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন'।
- ১৮৫২ সালে প্রকাশিত প্রথম ট্রাজেডি নাটকের নাম - কীর্তিবিলাস।
- 'পদ্মবতী' বাংলা সাহিত্যের কমেডি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৪.
What is the name of the first successful tragedy in Bengali literature?
  1. Nil Darpan
  2. Krishna Kumari
  3. Ratnavali
  4. Basantakumari
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। 

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৫.
'কুহেলিকা' উপন্যাসে কোন প্রসঙ্গ অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. সাম্প্রদায়িক ঐক্য
  2. প্রেম ও বিবাহের জটিলতা
  3. নারীর মুক্তি ও স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ (বিশেষ করে ব্রিটিশ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন, বিপ্লব, দেশপ্রেম, সাম্যবাদী চেতনা ও সমাজ-ধর্ম-রাজনীতির সমন্বয়)।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত তথ্য:

- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৬.
রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে ‘রবিহারা’ কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।
• ‘রবিহারা’ কবিতা নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন রেকর্ডে। ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কবি নজরুলের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা ও রচনার পেক্ষাপট:
• নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্যটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

• ১৯২১ সালের শেষদিকে নজরুল আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ রচনা করেন, যার মাধ্যমে তাঁর সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনা এবং ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

• নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা  প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে। এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।

• ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নজরুলের গান ও কবিতা সংকলন বিষের বাঁশী এবং একই মাসে ভাঙ্গার গান প্রকাশিত হয়। দুটি গ্রন্থই ওই বছর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
১৭৮.
পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের সাথে কোনটির ভাবসাদৃশ্য রয়েছে?
  1. ক) ঘরে বাইরে
  2. খ) দুই বোন
  3. গ) যোগাযোগ
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে।
- উপন্যাসটির সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬)।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- এই উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৯.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন বইটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. ভাঙার গান
  3. যুগবাণী
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই 'যুগবাণী'।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে এই প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৯২২ সালে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক-  
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন
  3. আমলার মামলা
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত- শর্মিষ্ঠা। 
---------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য;
- যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং
- এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ:
- কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------------------- 
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা- 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল নাটক হিসেবে খ্যাত।

- নাটকের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- শর্মিষ্ঠা, দেবযানী এবং যযাতি।
- নাটকটি মহাভারতের দেবযানী ও যযাতির কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
- শর্মিষ্ঠা নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো- মহাভারতের আদিপর্ব থেকে নেওয়া রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যে ত্রিকোণ প্রেম ও বিবাদের গল্প। 
---------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক হলো 'ভদ্রার্জুন', যা ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদার রচনা করেন। 
• 'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। 
• 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৮১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. মাসিক
  2. সান্ধ্য দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
• 'নবযুগ' পত্রিকা:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮২.
আধুনিক বাংলা মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ - মীর মশাররফ হোসেন

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
অগ্নিবীণা কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে লিখিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) দোলন-চাঁপা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) বিষের বাঁশি
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• বিষের বাাঁশি:
অগ্নিবীণা কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে বিষের বাঁশি লিখিত ও সর্বজন বিদিত্। অগ্নি-বীণা কাব্যে তিনি যে সংকেত সূত্র কিংবা তত্ত্ব দিয়েছেন বিষের বাঁশিতে আছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা পরিণতি। অগ্নিবীণা গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড লিখতে চেয়েছিলেন কবি তবে পরবর্তিতে তা বিষের বাঁশি নামে রচিত হয়। বিষের বাঁশি গ্রন্থে মোট ২৭টি কবিতা আছে। বিষয় বিন্যাসে কবিতাগুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়:

• ক. অগ্নি-বীণার স্বর ও সূর মিশ্রিত বিদ্রোহী-বাণীর নির্যাস আছে ৮টি কবিতায় যথা:
১. জাগৃতি, 
২. শিকল পরার গান,
৩. জাতের বজ্জাতি,
৪. ভূত-ভাগানোর গান,
৫. বিদ্রোহী বাণী,
৬. অভিশাপ,
৭. মুক্ত-পিঞ্জর,
৮. ঝড়।

• খ. বাকি কবিতা গুলোতে রয়েছে নির্যাতিত-নিপীড়িত অসহায় পর্যুদন্ত গণমানুষের উজ্জীবিত ও জাগ্রত করার প্রত্যয়ধ্বনি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলাবিদ লেকচার।
১৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুকধর্মী নাটক- 
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. অচলায়তন 
ব্যাখ্যা

‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ রবীন্দ্রনাথের কৌতুকধর্মী নাটক, যা মূলত ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক বিষয় তুলে ধরে।
----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

- তিনি সম্মানিত ‘বিশ্বকবি’ খ্যাতি পান ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়ের কাছ থেকে;
- তাকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন, এবং
- মহাত্মা গান্ধী তাঁকে ‘গুরুদেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• অচলায়তন - সামাজিক সংস্কারবিরোধী নাটক।
------------------- 
• ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ একটি কৌতুকধর্মী বা প্রহসনধর্মী নাটক। 
- নাটকটি মানুষের স্বার্থপরতা, চাটুকারিতা ও ভণ্ডামির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টি প্রদর্শন করে।
- নাটকের কেন্দ্রবিন্দু বৈকুণ্ঠ, একজন সরলমনা শখের লেখক। 
- তিনি সঙ্গীত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চারপাশের তোষামোদকারী ও স্বার্থান্বেষী চরিত্রদের দ্বারা প্রতারিত হন।
- তার লেখা ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ থেকে উদ্ভূত হাস্যকর পরিস্থিতিই নাটকের মূল আকর্ষণ।
- নাটকটি সময়োপযোগী সামাজিক ব্যঙ্গধর্মী রচনা হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৮৫.
'আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে
ঘোলাটে মেঘের আড়ে,
কেয়া বন পথে স্বপন বুনিছে, 
ছল ছল জলধারে।'
- পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ধানক্ষেত
  2. খ) পুরান পুকুর
  3. গ) পল্লী-বর্ষা
  4. ঘ) আসমানী
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের 'পল্লী-বর্ষা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

পল্লী-বর্ষা
--- জসীমউদ্দীন

আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে
ঘোলাটে মেঘের আড়ে,
কেয়া বন পথে স্বপন বুনিছে, 
ছল ছল জলধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব শাখে-নিঝ্ঝুম
নিরালায়,
ছোট ছোট রেনু খুলিয়া দিয়াছে-অস্ফুট
কলিকায়।
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে, হেসে
কুটি কুটি হয়।
সে হাসি তাহার অধর নিঙ্গাড়ি,
লুটায়িছে বনময়।
কাননের পথে লহর খেলিছে, অবিরাম
জলধারা।
তারই স্রোতে আজি শুকনো পাতারা,
ছুটিয়াছে ঘরছাড়া।
হিজলের বনে, ফুলের আখরে, লিখিয়া রঙিন
চিঠি,
নিরালা বাদলে ভাসাইয়া দিয়াছে, না
জানি কোন দিঠি।
চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায়, জনহীন বন
বাঁটে,
না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া-কার
কেয়া বন ঘাটে।
কোন সে নিরালা বুনো ঝাউশাখে, বুনিয়া
ঘোলাবি শাড়ি-
হয়তো আজিও চেয়ে আছে পথে, কানন
কুমার তারই।
এদিকে দিগন্তে যতদূর চাহি, পাংশু
মেঘের জাল-
পায়ে জড়াইয়া পথে দাড়ায়েছে,
আজিকার মহাকাল।
গাঁয়ের চাষিরা মিলিয়াছে আজি-
মোড়লের দলিজায়,
গল্পে গানে কি জাগাইতে চাহে-
আজিকার দিনটায়!
কেউ বসে বসে বাখাড়ি চাছিছে, কেউ
পাকাইছে রশি।
কেউবা নতুন দুয়ারির গায়ে, চাকা বাঁধে
কসি কসি।
কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে, সুন্দর
করে ফুল।

উৎস: পল্লীবর্ষা কবিতা- জসীমউদ্‌দীন।
১৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন কোনটি?
  1. ক) বাঁধনহারা
  2. খ) ছিন্নপত্র
  3. গ) বীরাঙ্গনা
  4. ঘ) প্রিয়তমাসু
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন 'ছিন্নপত্র'। 
- ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রের সংকলন এটি। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর সাথে বিবাহের পর তিনি ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী  হন। 

অন্যদিকে, 
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 'বাঁধনহারা'
প্রেমেন্দ্র মিত্রে রচিত পত্রোপন্যাস - 'প্রিয়তমাসু',
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত - 'বীরাঙ্গনা কাব্য'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৭.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য?
  1. বৃত্রসংহার
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. মহাশ্মশান
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৮৮.
''যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে''- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে- পঙক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অভিশাপ’ কবিতার।

⇒ দোলন-চাঁপা:

- 'দোলন-চাঁপা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- অক্টোবর, ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- অভিশাপ কবিতাটি দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থের অন্তগর্ত।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা হল- পুবের চাতক, অবেলার ডাক, কবি-রানী, পূজারিণী, বেলাশেষে ইত্যাদি।

অভিশাপ কবিতার কিছু অংশ-
অভিশাপ
- কাজী নজরুল ইসলাম 

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মর” কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি’
যেদিন আমায় খুঁজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

উৎস: দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৯.
নিম্নের কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) রিজিয়া
  4. ঘ) হেক্টরবধ্‌
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা। 
'সুলতানা রিজিয়া' মাইকেল মধুসূদন দত্তের অসম্পূর্ণ নাটক। 
'হেক্টরবধ্‌' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়ড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বঙ্গানুবাদ। 

'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত  একটি সামাজিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯০.
''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. কামিনী রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• ''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- কবিতাটি জসীম উদ্‌দীন এর 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে  'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সী-কাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) প্রতিদান কবিতা। 

১৯১.
কবি জসীম উদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ক) তাম্বুলখানা
  2. খ) মজুপুর
  3. গ) গোবিন্দপুর
  4. ঘ) কাশবন
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। মায়ের নাম আমেনা খাতুন।
তিনি ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ  ঢাকায় মৃত্যুবরনণ করেন। ১৪ মার্চ তাঁকে ফরিদপুরের আম্বিকাপুরে সমাহিত করা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও  সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. বিষের বাঁশি
  2. অগ্নিবীণা
  3. চিত্তনামা
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'রক্তাম্বর-ধারিণী মা' কবিতাটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
- বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে কাব্যগ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেছিলেন।

কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতাসমূহ হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৩.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতা?
  1. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. জুতা আবিষ্কার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'জুতা আবিষ্কার' কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্য থেকে 'জুতা আবিষ্কার' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
- ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

কবিতাটির মূলভাব:
রাজা তাঁর মন্ত্রীদের রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীরা রাজ্যের ধুলাবালি ঝাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে রাজ্য ধুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজার আদেশ মানতে গিয়ে রাজ্যের সভাসদ কোনো উপায় যেন খুঁজে আর পান না। অবশেষে রাজ্যেরই এক বয়স্ক চর্মকার নিজ বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। এভাবে রাজার পা ধুলার স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়। সাধারণ সমস্যার সমাধান সাধারণ বুদ্ধিতেই করতে হয়। জটিলভাবে করতে গেলে বিড়ম্বনাই বাড়ে। সমস্যা সমাধানে পদস্থ জনই যে অনিবার্য তাও নয়। সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে। কবিতায় তাই মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কবিতাটি সংক্ষেপে-

জুতা-আবিষ্কার
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিলা হবু, 'শুন গো গোবুরায়,
কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র-
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায়
ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,
রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,
রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,
নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।'

অন্যদিকে, 
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, অনধিকার প্রবেশ ও ক্ষুধিত পাষাণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৯৪.
‘বিষবৃক্ষ’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রাজনৈতিক
  2. অতিমানবিক
  3. সামাজিক
  4. ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৫.
কোন কবি একজন বিখ্যাত চিত্রকরও ছিলেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জয়নুল আবেদীন
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ছবি আঁকাআকি করতেন। তার চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনী হয় ফ্রান্সে।
ষাটোত্তর বয়সে রবীন্দ্রনাথ চিত্র চর্চা শুরু করেন
১৯২৬ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অঙ্কিত চিত্রাবলির সংখ্যা দুই হাজার। এই চিত্রাবলিকে তিনি শেষ বয়সের প্রিয়া নামে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

উল্লেখ্য,
- জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রকর ছিলেন। তবে তিনি কবি নন।

১৯৬.
কোন কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত?
  1. কবর
  2. ধানখেত
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত। 

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

জসীম উদ্‌দীন:
- জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে।
- পৈতৃক নিবাস: ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রাম।
- কর্মজীবন শুরু: পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৭.
বিখ্যাত 'অমল' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নয়?
  1. অপরিচিতা
  2. নস্টনীড়
  3. অযান্ত্রিক
  4. অতিথি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নয় - অযান্ত্রিক। ‘অযান্ত্রিক’ সুবোধ ঘোষ রচিত একটি গল্প।

অন্যদিকে,
• 'অতিথি' গল্পের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'নষ্টনীড়' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

'অপরিচিতা' গল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প।
- "অপরিচিতা” প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়। এটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় রবীন্দ্রগল্পের সংকলন 'গল্পসপ্তক'-এ এবং পরে, 'গল্পগুচ্ছ' তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. নবকুমার
  2. মৃণালিনী
  3. ইন্দিরা
  4. জগৎসিংহ
ব্যাখ্যা
• "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাস:
- "দুর্গেশনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসও। ১৮৬৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।

- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- জগৎসিংহ,
- মানসিংহ,
- বিমলা,
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- তিলোত্তমা। 

অন্যদিকে, 
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র- নবকুমার। 
• 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র- মৃণালিনী। 

উৎস: "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০০.
‘হাসু’ কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. শিশুতোষ গ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'হাসু' জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে ।

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ গ্রন্থ -
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।