বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

মোট প্রশ্ন৪,০৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পিএসসির গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

PrepBank · পাতা ১৬ / ৪১ · ১,৫০১১,৬০০ / ৪,০৩৭

১,৫০১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কাকে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন।
- এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
  1. বলাকা
  2. সোনার তরী
  3. মানসী
  4. চিত্রা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যের অন্তর্গত।

'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিখ্যাত কবিতাসমূহ:
- উর্বশী, 
- বিজয়িনী, 
- জীবনদেবতা, 
- স্বর্গ হইতে বিদায়, 
- ১৪০০ সাল, 
- দুই বিঘা জমি, 
- এবার ফিরাও মোরে ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৩.
মীর মোশাররফ হোসেন লিখিত নিচের রচনাগুলোর মধ্যে কোনটি নাটক?
  1. রত্নাবতী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বিষাদ সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

-----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস 'রত্নাবতী'।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

- আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫০৪.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. গোবিন্দলাল
  2. রোহিণী
  3. ভ্রমর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫০৫.
'বিসর্জন' নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে কোন চরিত্রে অভিনয় করেছেন?
  1. রঘুসিংহ
  2. রঘুপতি
  3. গোবিন্দমাণিক্য
  4. প্রতাপাদিত্য
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫০৬.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন কোন কাব্যগ্রন্থটি?
  1. ক) দোলনচাঁপা
  2. খ) অগ্নিবীণা
  3. গ) সঞ্চিতা
  4. ঘ) বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য
‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৭.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ছায়ানট
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা, 
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গীতাঞ্জলি হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মধুসূদনের কাব্যগ্রন্থ।
- 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কবি জসীম উদদীনের কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্ব
  3. গ) শব্দতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
•  শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব' 
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়
- এছাড়া তিনি বাংলা ব্যাকরণ থেকে সম্প্রদান কারক কে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ, এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৯.
"জগৎসিংহ" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকুমারী" নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১,৫১০.
নিচের কোন কবিতাটি ‘দোলনচাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়?
  1. ক) বেলাশেষে
  2. খ) অবেলার ডাক
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
ব্যাখ্যা

- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

অন্যদিকে, ‘মানুষ’ কবিতাটি কবির ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তরররগত।[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

১,৫১১.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বেদের মেয়ে
  2. মধুমালা
  3. মা যে জননী কান্দে
  4. পদ্মাপার
ব্যাখ্যা

'মা যে জননী কান্দে' কাব্য:
- কবি জসীম উদ্‌দীন 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যটি রচনা করেছেন।
- 'মা যে জননী কান্দে' এক ধরনের গাঁথা কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫১২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. সনেট
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. পয়ার
  4. ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫১৩.
'অলীক কুনাট্য রঙ্গে/মজে লোকে রাঢ়ে বঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।' _______ উক্তিটি কার?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. দুর্গাদাস কর
  3. হরচন্দ্র ঘোষ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
- এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
----------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী; 
 
তাঁর প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা? ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
------------------
অন্যদিকে,
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন।

দুর্গাদাস কর:
- ১৮৫৫ সালে দুর্গাদাস স্বর্ণশৃঙ্খল নাটক রচনা করেন। পরের বছর এটি বরিশালের আধুনিক মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- ১৮৬৩ সালে নাটকটি ঢাকা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং ওই বছর বরিশালে পুনরায় মঞ্চস্থ হয়।

হরচন্দ্র ঘোষ:
তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।
- তাঁর ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩), চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪) নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপীয়রের মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,৫১৪.
জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
ব্যাখ্যা

• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
- কবি  জসীম উদ্‌দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়,
- স্বাধীনতার দিনে,
- জাগায়ে তুলিব আশা,
- Dedication,
- The last poem for you,
- Freedom Fighter,
- A Poet's Appeal,
- দিলরাশ বানুর কাহিনী,
- মুক্তিযোদ্ধা মোফাখখর হোসেন,
- শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী।

অন্যদিকে,
- শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি'।
- 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫১৫.
'নিষ্ফল কামনা’ ও ‘সিন্ধুতরঙ্গ’—এই কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানসী
  2. পূরবী
  3. বলাকা
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা

মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

১,৫১৬.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জিঞ্জির
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা

• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।  

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

--------------------------
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।

১,৫১৭.
নিচের কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ইলিয়াড
  2. ওডেসি
  3. মহাভারত
  4. মেঘনাদ বধ
ব্যাখ্যা
• মেঘবাদবধ জাত মহাকাব্য নয়।

• মেঘনাদবধ কাব্য:

- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

---------------
- পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য আছে চার ৪টি।

• রামায়ণ:
- শ্রীরাম চন্দ্রের জীবনী বিষয়ক
- রচয়িতা - বাল্মিকী।

• মহাভারত:
- কুরু ও পান্ডবদের নিয়ে রচিত।
-রচয়িতা- বেদব্যাস

• ইলিয়াড ও ওডিসি:
- ট্রয় যুদ্ধ নিয়ে রচিত।
- রচয়িতা - গ্রিক কবি হোমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫১৮.
’সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

  'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন: 
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল,
- সঞ্চিতা,
- সর্বহারা।
- জিঞ্জির।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫১৯.
মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদের প্রথম কাব্য কত বছর বয়সে প্রকাশিত হয়?
  1. সতেরো বছর
  2. ষোল বছর
  3. পনেরো বছর
  4. তেরো বছর
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 

• অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• কায়কোবাদ বাংলার অপর দুই মহাকবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেন। তবে নবীনচন্দ্রই ছিলেন তাঁর প্রধান আদর্শ।

• কায়কোবাদের মহাশ্মশান হচ্ছে মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ (১৯৩২)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫২০.
বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে রচিত বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস-
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) ইন্দিরা
  3. গ) মৃণালিনী
  4. ঘ) বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁকে 'বাংলার স্কট' বলা হয়।
- 'কমলাকান্ত' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সামাজিক উপন্যাস বিষবৃক্ষ।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস।
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা নিয়ে।
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৫২১.
'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. শেষলেখা
  3. মানসী
  4. পূরবী
ব্যাখ্যা
• 'রূপনারানের কূলে' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা।

• ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:
"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায়;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ।
১,৫২২.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নাটক নয়?
  1. ক) রাজা
  2. খ) চিরকুমার সভা
  3. গ) দুই বোন
  4. ঘ) তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকগুলো হলো - রাজা, অচলায়তন, চিরকুমার সভা, তাসের দেশ, রক্তকরবী, ডাকঘর ইত্যাদি।
দুই বোন তার একটি উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫২৩.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক নয়?
  1. বসন্তকুমারী
  2. রত্নাবলী
  3. জমিদার দর্পণ
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
• 'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়, 
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৪.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. ব্যথার দান
  3. ভাঙার গান
  4. মৃত্যক্ষুধা
ব্যাখ্যা
নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ - ভাঙার গান

অন্যদিকে,
-  নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস = বাঁধন-হারা।
- নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ = ব্যথার দান।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৫.
'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'শব্দতত্ত্ব':
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- চণ্ডালিকা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: 'শব্দতত্ত্ব' প্রবন্ধগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৬.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. বৃত্রসংহার
  2. অশ্রুমালা
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• "মহাশ্মশান" মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম, 
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

অন্যদিকে, 
• 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদের গীতিকাব্য 'অশ্রুমালা' (১৮৯৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৭.
'সুভা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি - 
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'। 
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। 
- সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'। 
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট; 
- রাজর্ষি; 
- চোখের বালি; 
- নৌকাডুবি; 
- ঘরে-বাইরে; 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

ছোটগল্প: 
- ভিখারিনী; 
- ছুটি; 
- কাবুলিওয়ালা; 
- পোস্টমাস্টার; 
- সুভা
- সমাপ্তি; 
- অপরিচিতা; 
- হৈমন্তী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৮.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• 'নবকুমার' হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫২৯.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক?
  1. রূপবতী
  2. বালুচর
  3. মাটির কান্না
  4. পল্লীবধূ
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীবধূ' জসীমউদ্দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। 
- 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন নয়?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. চিরকুমার সভা
  3. গোড়ায় গলদ
  4. রাজা
ব্যাখ্যা
• 'রাজা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন নয়।
• 'রাজা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক ও সাংকেতিক নাটক।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রহসন:

- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- গোড়ায় গলদ,
- হাস্যকৌতুক,
- চিরকুমার সভা,
- হাস্যকৌতুক,
- শেষ রক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় রবীন্দ্রনাথের এ গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এই গানের প্রথম দশ লাইনকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৫৩২.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. আমলার মামলা
  2. চন্দ্রশেখর
  3. জমিদার দর্পণ
  4. গো-জীবন
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- লেখক-মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- 'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৩.
“রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?" - কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা

• “রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?" - ফররুখ আহমদ এর 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

পাঞ্জেরি- কবিতা,
ফররুখ আহমদ

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. নীলদর্পণ
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৩৫.
''যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার, বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?''- চরণ দুটি কার লেখা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরুনী' কবিতার অন্তর্গত।
- এ কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ। 
১,৫৩৬.
নজরুল প্রতিভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে কোন পত্রিকাটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. মোসলেম ভারত
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
• কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
• প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
• রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
• নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৩৭.
"আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিঁড়ে।" - কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) হাসু
  2. খ) ধানক্ষেত
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'হাসু' এর 'আমার বাড়ি' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে। 

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ গ্রন্থ -
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিঁড়ে।
শালি ধানের চিঁড়ে দেব,
বিন্নি ধানের খই,
বাড়ির গাছের কবরী কলা,
গামছা-বাঁধা দই।
আম-কাঁঠালের বনের ধারে
শুয়ো আঁচল পাতি,
গাছের শাখা দুলিয়ে বাতাস
করব সারা রাতি।
চাঁদমুখে তোর চাঁদের চুমো
মাখিয়ে দেব সুখে
তারা ফুলের মালা গাঁথি,
জড়িয়ে দেব বুকে।
গাই দোহনের শব্দ শুনি
জেগো সকাল বেলা,
সারাটা দিন তোমায় লয়ে
করব আমি খেলা।
আমার বাড়ি ডালিম গাছে
ডালিম ফুলের হাসি,
কাজলা দীঘির কাজল জলে
কাঁসগুলি যায় ভাসি।
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
এই বরাবর পথ,
মৌরী ফুলের গন্ধ শুঁকে
থামিও তব রথ।

উৎস: হাসু কাব্যগ্রন্থ।
১,৫৩৮.
'আমি মরু-কবি-গাহি সেই বেদে বেদুঈনদের গান,' - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পঙক্তিটিতে কবি আরও যে কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছিলেন-
  1. ক) একটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটিও নয়
ব্যাখ্যা


জীবন-বন্দনা
- কাজী নজরুল ইসলাম

প্রশ্নে বলা হয়েছে কবি প্রশ্নোক্ত বাক্যে আরো কয়টি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছেন।
তিনি প্রশ্নে উল্লিখিত যতি চিহ্নের বাইরে আর কোনো চিহ্ন ব্যবহার করেন নি বলে উত্তর হবে 'একটিও নয়'।

১,৫৩৯.
'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'যে দেশে মানুষ বড়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪০.
কাজী নজরুল ইসলামের ''আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) প্রলয় শিখা
  2. খ) ভাঙার গান
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
কলকাতার আলিপুর জেলে থাকা অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নজরুলকে বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গ করলে অনুপ্রাণিত হয়ে নজরুল 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি রচনা করেন। এটি পরবর্তীতে দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধরূপে ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১,৫৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক কোনটি? 
  1. জামাই বারিক
  2. বিবাহ-বিভ্রাট
  3. বৈকুন্ঠের খাতা
  4. হিতে বিপরীত
ব্যাখ্যা
- 'বৈকুন্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক। 
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনীর কেন্দ্র। 
- তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। 
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। 
- নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে। 

তাঁর রচিত কিছু নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, 
- শারদোৎসব, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা, 
- নটীর পূজা। 

অন্যদিকে, 
- জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন। 
- হিতে বিপরীত-এর রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বিবাহ বিভ্রাট -এর রচয়িতা অমৃতলাল বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৫৪২.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত' - উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেয়া?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) বাঁধন-হারা
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ' নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়৷ এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে৷
নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে: 'ইহারা মায়াবিনীর জাত৷ ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে৷ ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৪৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কত নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন?
  1. ১৯ নং 
  2. ২৮ নং 
  3. ৪৯ নং 
  4. ১১ নং 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৫৪৪.
'হাবেদা মরুর কাহিনী' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. কায়কোবাদ 
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"হাবেদা মরুর কাহিনী" বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি ফররুখ আহমদ-এর একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ফররুখ আহমদের কবিতায় মুসলিম রেনেসাঁর অনুপ্রেরণা, আরব-ইরানের ঐতিহ্য এবং ইসলামের আদর্শের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থেও এই ধারা পরিলক্ষিত হয়। 

-------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "হাবেদা মরুর কাহিনী" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৫৪৫.
'এ জগতে হায় সেই বেশি চায়, যার আছে ভুরি ভুরি।' কোন কবিতার অংশ?
  1. দেবতার গ্রাস
  2. বিদ্রোহী
  3. বৃক্ষ
  4. দুই বিঘা জমি
ব্যাখ্যা
• 'এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি'- চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

• দুই বিঘা জমি:
- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে—‘দুই বিঘা জমি’। এক জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে চুরি করে নিয়েছিল দরিদ্র উপেনের দুই বিঘা জমি। সর্বহারা হয়ে উপেন বহুদিন নানা জায়গা ঘুরেফিরে এসেছিল তার নিজ গ্রামে। সেই জমিতে, যা জমিদারবাবু মিথ্যা ডিক্রি জারি করে দখল করেছে, বলা যায় চুরি করেছে। উপেন তারই জমিতে আমগাছতলায় বসে ছিল। দুটো পাকা আম তার কোলের ওপর পড়লে জমিদারবাবু ও তার লোকজন হইহই শুরু করে। উপেনকেই চোর সাব্যস্ত করেছিল। দুঃখভারাক্রান্ত মনে উপেন বলেছিল, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পঙ্‌ক্তি হলো:
- ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে।'
- 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে।’
- "এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি/ রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দুই বিঘা জমি' কাব্য ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৬.
'ছড়ার আসর' শিশুতোষ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া ,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৪৭.
‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি’ এর লেখক হলেন -
  1. অতুলপ্রসাদ
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন। সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীত:

- আজ আমার মনে ত না মানেরে, 
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, 
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- উজান গাঙের নাইয়া, 
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া, 
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৮.
'প্রার্থনা' কবিতাটি কবি কায়কোবাদের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. অমিয়ধারা
  2. অশ্রুমালা
  3. মহররম শরীফ
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• 'প্রার্থনা' কবিতাটি কবির 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

• কবিতার মূলভাব:
কবি এ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে, আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা রিক্ত হস্তে পরম ভক্তি ভরে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাই: হে প্রভু, আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও। আমরা যেন তোমার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

• কবি-পরিচিতি -কায়কোবাদ:
কায়কোবাদ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। প্রবেশিকা পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি ডাকবিভাগে চাকরি নেন। অনেক দিন ধরে তিনি নিজগ্রাম আগলাতে পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর আপন স্বভাবে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন। তাঁর রচিত 'মহাশ্মশান' বিখ্যাত মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো- 
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- মহররম শরীফ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৯.
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো 'ওড্' জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫০.
গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে song offerings নামে প্রকাশ করেন। কাব্যটির ভূমিকা লিখেন WB yets।

- আট বছর বয়সে ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় কবি-কাহিনী (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। 
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
-
 রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- তাঁর প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ ইউরোপ-প্রবাসীর পত্র ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী কবি।
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এদুটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস রচনার প্রচেষ্টা।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া। 

১,৫৫১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্ম কত সালে?
  1. ১৮৬৩
  2. ১৯১৩
  3. ১৮৭৬
  4. ১৮৮০
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫২.
"ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে" গানটি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন শাহা
ব্যাখ্যা
• "ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে"- গানটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এটি তাঁর পূজা পর্বের অন্তর্গত একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত।  

• রবীন্দ্রনাথের অতি পরিচিত বিখ্যাত কয়েকটি গান ও পঙ্‌ক্তি হলো:
• বিপদে মোরে রক্ষা করো। 
• তোমার দুয়ার খোলার ধ্বনি।
• শান্ত হ রে মম চিত্ত । 
• গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায়;
• তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি;
• আমি যে দেখেছি, গোপন হিংসা কপট রাত্রিছায়ে;
• বিপদে মোরে রক্ষা করো/এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫৩.
'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:

- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে।

জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ১৪ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত  কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর উপন্যাস।
- 'বোবা কাহিনী'

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৫৫৪.
‘তাহমিনা’ কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৫৫.
'মনোরমা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ডাকঘর
  2. মায়ার খেলা
  3. মালঞ্চ
  4. বৈকুন্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

• 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - উপন্যাস।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত

রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 
প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৫৭.
'দারিদ্র্য' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিন্ধু হিন্দোল
  2. সাম্যবাদী
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
• 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• সিন্ধু হিন্দোল:

- কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' হলো প্রেমের কাব্য।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- গোপন প্রিয়া;
- অনামিকা;
- বিদায়-স্মরণে;
- পথের স্মৃতি;
- উন্মনা;
- দারিদ্র্য;
- বাসন্তী;
- ফাল্গুনী;
- বধূ-বরণ;
- রাখী-বন্ধন;
- চাঁদনী রাতে;
- মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ।
১,৫৫৮.
জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গ্রামের মায়া
  2. পদ্মাপাড়
  3. পল্লীবধূ
  4. রূপবতী
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - রূপবতী

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৫৯.
'হলদে পরীর দেশ' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. শিশুতোষ
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• 'হলদে পরীর দেশ' জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বিসর্জন' নাটকটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'বিসর্জন' নাটক: 
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

-----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৫৬১.
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'- এর রচয়িতা কে?
  1. ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. চণ্ডীদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ভারতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
১,৫৬২.
'আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতা থেকে সংগৃহিত?
  1. ক) আগমন
  2. খ) ১৪০০ সাল
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) প্রার্থনা
ব্যাখ্যা
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
                                     - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথের '১৪০০ সাল' কবিতা থেকে সংগৃহিত। 

- '১৪০০ সাল' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

   আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
      কৌতূহলভরে--
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
      লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
   আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
      তোমাদের করে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
      বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
      ভেবে দেখো মনে--
   একদিন শতবর্ষ আগে
চঞ্চল পুলকরাশি কোন্‌ স্বর্গ হতে ভাসি
   নিখিলের মর্মে আসি লাগে--
নবীন ফাল্গুনদিন সকল বন্ধনহীন
      উন্মত্ত অধীর--
উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা
      দক্ষিণসমীর--
সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দিয়েছে ধরা
      যৌবনের রাগে
   তোমাদের শতবর্ষ আগে।
সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
      কবি এক জাগে--
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
      কত অনুরাগে
   একদিন শতবর্ষ আগে।
   আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্‌ নূতন কবি
      তোমাদের ঘরে?
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
   পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব
      পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
----------১৪০০ সাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
১,৫৬৩.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দিনের গানের সংকলন নয়?
  1. ক) রঙিলা নায়ের মাঝি
  2. খ) গাঙের পার
  3. গ) জারিগান
  4. ঘ) মধুমালা
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। এছাড়াও উনার অন্যান্য গানের সংকলন গুলো হলো- রঙিলা নায়ের মাঝি, গাঙের পার।

অপরপক্ষে তার নাটক গুলো হলো- পদ্মাপার (১৯৫০), বেদের মেয়ে (১৯৫১), মধুমালা (১৯৫১),পল্লীবধূ (১৯৫৬),গ্রামের মেয়ে (১৯৫৯)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতা কোনটি?
  1. ক) হিন্দুমেলার উপহার
  2. খ) তোমার সৃষ্টির পথ
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) সবুজের অভিযান
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ কবিতা 'তোমার সৃষ্টির পথ' মৃত্যুর আট দিন আগে মৌখিকভাবে রচনা করেছিলেন। 'শেষ লেখা' তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। হিন্দু মেলার উপহার তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৫৬৫.
‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

‘প্রেম পারিজাত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে কায়কোবাদ। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. জাপান যাত্রী
  4. পারস্য যাত্রী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয়- ইউরোপের চিঠি। 

• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৭.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৮.
বিখ্যাত 'নবকুমার' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা

 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় একটি চরিত্র: নবকুমার।

অন্যদিকে,
- দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জগতসিংহ, ওসমান,আয়েশা তিলত্তমা।
- 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনীর ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫৬৯.
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্য প্রকাশিত হয়?
  1. প্রাণ
  2. কবি-কাহিনি
  3. বনফুল
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।
- রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ,৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্পও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার ''অভিলাষ'' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয়।

> প্রথম প্রকাশিত কবিতা: 'হিন্দুমেলার উপহার' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: 'কবি-কাহিনি' (১৮৭৮)
> প্রথম নাটক: 'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১)
> প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)
> প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প: 'ভিখারিনী' (১৮৭৪)
> প্রথম প্রবন্ধ: 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩) 
>  শেষ উপন্যাস: 'চার অধ্যায়'
> সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২২ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭০.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন?
  1. আজিজননেহার
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭–১৯১১):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে তিনি গদ্যশিল্পে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

জীবনপরিচয়:
জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর — কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
কর্মজীবন শুরু: ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-য় মফঃস্বল সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক — ‘কাঙাল হরিনাথ’।
সম্পাদনা করেছেন: আজিজননেহার ও হিতকরী নামের পত্রিকা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৭১.
জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয়-
  1. নাট্যকার হিসেবে
  2. কবি হিসেবে
  3. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে
  4. ঔপন্যাসিক হিসেবে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
-বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭২.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. যশোর
  3. ফরিদপুর
  4. ঝালকাঠি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৩.
'সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয় কোনটি?
  1. সিন্দবাদ
  2. হাবেদা মরুরকাহিনী
  3. পাঞ্জেরি
  4. দরিয়ার শেষ রাত্রি
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- সিন্দবাদ, পাঞ্জেরি, তুফান, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
হাবেদা মরুরকাহিনী- ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয়।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থটি একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাট্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':

- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৫.
মাইকেল মদুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্য সাহিত্যে কী প্রবর্তন করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. পায়রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. জাভা যাত্রীর পত্র
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. রাশিয়ার চিঠি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি:
• য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): 
- প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৭৮.
জসীমউদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
  2. ধুমকেতু
  3. কল্লোল
  4. কালি ও কলম
ব্যাখ্যা
'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

----------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৭৯.
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সাহিত্য (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর (১৯৩৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম গ্রন্থ?
  1. চার অধ্যায়
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. বিবিধ প্রসঙ্গ
  4. জাভা যাত্রার পথ
ব্যাখ্যা
য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয় ৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৩।
১,৫৮১.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস?
  1. কালান্তর
  2. শেষ লেখা
  3. মালঞ্চ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

 • 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - উপন্যাস।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
 কালান্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন
- 'শেষ লেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা (অসমাপ্ত, ১৮৭৭), 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- গোরা, 
- ঘরে বাইরে, 
- চতুরঙ্গ, 
- যোগাযোগ, 
- শেষের কবিতা, 
- দুই বোন, 
- মালঞ্চ, 
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮২.
'কপোতক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা? 
  1. সনেট 
  2. গদ্য কবিতা 
  3. গীতি কবিতা 
  4. কাব্য নাট্য 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

কপোতাক্ষ নদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮৩.
’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো,
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রহমান
  3. মধুসূদন দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

’এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো, 
মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো।’- পঙ্‌ক্তিটির লেখক জসীম উদ্‌দীন।
- পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীন রচিত রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রাখালী:

- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সীকাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮৪.
'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থটি কোন ছদ্মনামে পত্রিকায় ছাপা হতো?
  1. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  2. নবীনকিশোর শর্মণঃ
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. লেখক ভূতনাথ বাবু
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতী মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮৫.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - এটি কার উক্তি?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৮৬.
’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. উপহার
  2. অনন্ত প্রেম
  3. ব্যক্ত প্রেম
  4. শেষ উপহার
ব্যাখ্যা

•’আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে, অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ’অনন্ত প্রেম’ কবিতার অংশ।
- অনন্ত প্রেম কবিতাটি মানসী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-----------------------------------------
"মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে "রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন"।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, "নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।"

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৮৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণচরিত্র
  2. কৃষ্ণপক্ষ
  3. বিবিধ সমালোচনা
  4. লোকরহস্য
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ নয় - কৃষ্ণপক্ষ
- এটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫৮৮.
নিচের কোনটি জসীম উদ্দীন রচিত গীতিনাট্য নয়?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পদ্মাপার
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) এর প্রধান গীতিনাট্য
- মধুমালা
- পদ্মাপার 
- বেদের মেয়ে 
- পল্লীবধূ প্রভৃতি

- বালুচর (১৯৩০) কবি জসীমউদ্দীনের  একটি কাব্যগ্রন্থ।
– তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
– কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 
– বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। 
– তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
– ’বোবা কাহিনী’ (১৯৬৪) উপন্যাসটি সুখপাঠ্য।
– ‘জারীগান’ (১৯৬৮) ও ‘মুর্শীদা গান’ (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য, ‘মধুমালা’ নামে একটি নাটক রচনা করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৫৮৯.
রবীন্দ্রনাথের 'মেঘদূত' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত?
  1. ক) কালান্তর
  2. খ) কড়িও কোমল
  3. গ) ক্ষণিক
  4. ঘ) মানসী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের 'মেঘদূত' কবিতাটি 'মানসী' কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত। 

 ‘মেঘদূত’ কবিতাটি শুরু হয়েছে এইভাবে- 
‘কবিবর, কবে কোন বিস্মৃত প্রদোষে, বরষে
কোন পুণ্য আষাঢ়ের প্রথম দিবসে
লিখেছিলে মেঘদূত।’

তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯০.
'ক্ষুদিরামের মা' বিখ্যাত প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জগদীশচন্দ্র বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধে দেশপ্রেমিক মায়েদেরকে উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদনই উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।
- ক্ষুদিরামের অনন্য দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়কে আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। পরাধীন ভারতমাতা বা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আহ্বানই জানানো হয়েছে আলোচ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে।

- প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় ক্ষুদিরাম পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে স্বাধীনতাকামী এক বিপ্লবীর সাথে যোগ দেন। ব্রিটিশ শষণের পক্ষের লোক ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড সাহেবকে হত্যার জন্য ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি মুজফ্ফরপুর গ্রামে যান। সেখানে ভুলবশত কিংস ফোর্ডের গাড়ির পরিবর্তে অন্য এক সরকারি কর্মচারির গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের পরে গাড়িতে অবস্থানকারী রাজকর্মচারী ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের অপরাধে শাস্তি স্বরূপ ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়া হয়। আঠারো বছরের ক্ষুদিরাম দেশের শৃঙ্খল-মুক্তি ও বন্ধন মুক্তির জন্যই গাড়িতে বোমা মেরেছিলো। দেশের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য যারা নির্ভয়ে জীবন দিতে চান, যারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুকে সাদরে বরণ করে নিতে চান, ক্ষুদিরাম ছিলেন তাদেরই একজন পথ প্রদর্শক প্রতিনিধি। স্বাধীনতাকামী ও মুক্তকামী দেশমাতৃকার কবি নজরুল ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবন্ধটি রচনা করেছেন।

------------------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- এগুলো হলো: রুদ্রমঙ্গল, আমার পথ, মোহররম, বিষবাণী, ক্ষুদিরামের মা, ধূমকেতুর পথ, মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলমান।

উৎস: 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ এবং 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ।

১,৫৯১.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা হয়েছে? 
  1. ১৩টি 
  2. ১৬টি 
  3. ১৯টি 
  4. ২১টি 
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৫৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাটি কোন ছন্দে লিখিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. গদ্য ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. সরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা

'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল; প্রকাশিত হয়- ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায়। সে হিসেবে, অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর '১৯২১' নেওয়া হয়েছে।
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় “মাত্রাবৃত্ত ছন্দ” ব্যবহৃত হয়েছে। কবিতাটি ২+৬+৪ পূর্ণমাত্রাকারে সুবিন্যস্ত।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।এর মূলে রয়েছে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো পত্রিকা।

১,৫৯৩.
বাংলা গদ্যের পরিণত রূপ কোনটি?
  1. বিদ্যাসাগরীয় রীতি
  2. আলালী রীতি
  3. বঙ্কিমী রীতি
  4. বীরবলী রীতি
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যকে একটি কাঠামো দিয়েছেন।
- তাঁর এই রীতিকে বিদ্যাসাগরীয় রীতি বলা হয়, এবং এটি স্থায়ী হয়নি।
- পরবর্তীতে তাঁর এই রীতির বিরুদ্ধে প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালী রীতি, কালী প্রসন্ন সিংহের হুতোমী রীতি সৃষ্টি হয়।
- তবে এসব রীতিকে ছাড়িয়ে যায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বঙ্কিমী রীতি এবং এটি পরিণত রূপ পায়।
- বঙ্কিমী রীতিই বাংলা গদ্যের পরিণত রূপ।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম
১,৫৯৪.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' গ্রন্থটি মীর মশাররফ হোসেনের কোন ধরনের রচনা?
  1. আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত
মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৫৯৫.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিষের বাঁশি
  2.  ভাঙার গান
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয় - সর্বহারা।

• নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
- নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো নিম্নরুপ:
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- প্রলয় শিখা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- যুগবাণী।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।

১,৫৯৬.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে নিচের কোনটি স্বীকৃত?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নূরজাহান
  3. বসন্তকুমারী নাটক
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা

'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।
- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৫৯৭.
'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. The Captive Ladie
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।

- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 

- মাদ্রাজে অবস্থানকালেই 'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie' (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

- পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

- মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। তারা পুরুষের নিকট নিজেদের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ এবং কামনা-বাসনা প্রকাশে হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৯৮.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ব্যথার দান
  2. চিত্তনামা
  3. যুগবাণী
  4. রুদ্রমঙ্গল
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৫৯৯.
মীর মশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ নাটকের প্রকাশকাল কবে?
  1. ১৮৬৫
  2. ১৮৬৯
  3. ১৮৭৩
  4. ১৮৮৫
ব্যাখ্যা
• জমিদার দর্পণ:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালে।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  
 ----------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর, মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০০.
ফররুখ আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কুষ্টিয়া
  3. মাগুরা 
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।