বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা৯০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৯০ / ৬৯০

৬০১.
উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি গ্রহণকারীর আইনগত নাম কী?
  1. Heir
  2. Testator
  3. Executor
  4. Beneficiary
ব্যাখ্যা
উইল (Will) হলো একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কিভাবে বণ্টিত হবে, সে বিষয়ে তার লিখিত ইচ্ছা বা ঘোষণা। এটি ইসলামী ও প্রচলিত উভয় আইনেই স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা।

Testator-
যে ব্যক্তি উইল তৈরি করে, অর্থাৎ যিনি মৃত্যুর পর নিজের সম্পত্তি কাকে কী দেবেন, তা নির্ধারণ করেন।

Beneficiary-
যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বা উপকার লাভ করে। উইলের মাধ্যমে যার নামে সম্পত্তি বা অন্য কোনো সুবিধা (উপহার, টাকা, জমি ইত্যাদি) নির্দিষ্ট করা হয়, তিনি উইলের সুবিধাভোগী বা Beneficiary। Beneficiary উইলদাতার (Testator) মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হলে সম্পত্তি গ্রহণের অধিকার লাভ করেন। একজন উইলে একাধিক Beneficiary থাকতে পারেন।

Heir-
উইল না থাকলে যে ব্যক্তি শরিয়ত বা উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি লাভ করে।

Executor-
যিনি উইল অনুযায়ী Testator-এর মৃত্যুর পর উইলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তি বিতরণ করেন।
৬০২.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর অধীন গঠিত সালিসী পরিষদকে কোন ক্ষেত্রে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে?
  1. তালাক
  2. খোরপোশ
  3. বহুবিবাহ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুসলিম ফ্যামিলি ল অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ মুসলিম পারিবারিক আইন সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান নির্ধারণ করেছে, বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য যেগুলো সালিসী পরিষদ (Arbitration Council) এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়। এই আইনটি মুসলিম পরিবারে বিশেষ করে তিনটি বিষয়ের উপর সালিসী পরিষদকে এখতিয়ার দেয়:

১. বহুবিবাহ (Polygamy):
মুসলিম পুরুষরা একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করতে পারেন, তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। মুসলিম ফ্যামিলি ল অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১-এর অধীনে, যদি একজন মুসলিম পুরুষ তার একাধিক স্ত্রীর অধিকার সুরক্ষিত রাখতে চান, তবে তাকে সালিসী পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে। পরিষদ তার সিদ্ধান্ত দেবে, যা তার বহুবিবাহের বৈধতা এবং স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কিত হবে।

২. তালাক (Divorce):
মুসলিম পুরুষরা একপক্ষীয়ভাবে তালাক দিতে পারেন, তবে এটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা উচিত। মুসলিম ফ্যামিলি ল অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১-এ বলা হয়েছে যে, যদি কোনো মুসলিম পুরুষ তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চান, তবে সালিসী পরিষদকে তার ইচ্ছার ব্যাপারে অবহিত করতে হবে এবং সালিসী পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে যে, তা আইনসঙ্গত কিনা এবং স্ত্রীর অধিকার পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কিনা।

৩. খোরপোশ (Maintenance):
সালিসী পরিষদকে মুসলিম স্ত্রীর খোরপোশ বা ভরণপোষণ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এই পরিষদ, স্ত্রীর খোরপোশের পরিমাণ নির্ধারণ করবে এবং যদি স্ত্রীর কোনো অধিকার খর্ব হয়, তবে তা সংশোধন করতে পদক্ষেপ নেবে।
৬০৩.
একজন হিন্দু তার একজন অবিবাহিত কন্যা 'A', একজন বিবাহিত কন্যা 'B' এবং একজন বিবাহিত পুত্র সম্ভাব্য কন্যা 'C' কে রেখে মারা যায়। উক্ত মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন-
  1. 'A' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
  2. 'A' এবং 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি সমান ভাবে পেয়ে যাবে।
  3. 'A' 'B' এবং 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি সমান ভাবে পাবে।
  4. 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
- অবিবাহিত কন্যা 'A' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
বিবাহিত কন্যা 'B' এবং বিবাহিত পুত্র সম্ভাব্য কন্যা 'C' কে অবিবাহিত কন্যা 'A' বঞ্চিত করে কারণ অবিবাহিত কন্যার অবস্থান উত্তরাধিকারীর তালিকায় তাদের (B & C) সবার আগে।
৬০৪.
বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও, স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকারী-
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়
  2. স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন (The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946) অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে:

- স্বামী যদি দুরারোগা কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
- if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;


- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
- if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

- স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
- if he marries again
; এবং

- অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
- for any other justifiable cause
৬০৫.
How many schools of thought exist in the Sunni sect of Islamic law?
  1. two
  2. three
  3. four
  4. five
ব্যাখ্যা
⇒ Schools of Islamic law:
⇒ There are two different sects among the Muslims. They are Sunni and Shia. Most of the Muslims around the world are Sunni.
⇒ Islamic law and what it means to be a practising Muslim has changed and developed over centuries of thinking. Following the death of the prophet Muhammad pbuh, there have always been differences of opinion in how best to understand the message of God.

⇒ Different interpretations on what Islamic law should be, is reflected in the diverse range of schools of thought or ways of studying and practising Islam.
Among Sunni, there are four most famous Imams, which eventually have created four different schools of thought. They are: Hanafi, Shafi, Maliki and Hanabali.

The Hanbali School is named after Ahmad Ibn Hanbal (d. 855)
The Shafi'i is named after al-Shafi'I (d. 819)
The Maliki is named after Anas bin Malik (d. 795)
The Hanafi School is named after Abu Hanifa (d. 767)

⇒ The main difference between Sunni and Shia Muslims is based on whether or not they believe that Prophet Muhammad explicitly designated a successor.
⇒ Sunni Muslims believe that the Prophet did not explicitly declare a successor. Shia Muslims believe that the Prophet publicly designated his cousin and son-in-law, Hazrat Ali (peace be upon him), as the first in a line of hereditary Imams from the Prophet’s family to lead the community after him.
৬০৬.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতার অংশ কত হবে যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৬
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:

(ক) ১/৬
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।
৬০৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. স্বাক্ষরিত চুক্তি
  2. নিবন্ধিত দলিল
  3. মৌখিক আবেদন
  4. আদালতের আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬(৩) অনুসারে, তালাক-ই-তাফওয়েজ (Talaq-e-Tafweez) বা প্রতিনিধিত্বমূলক তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি নিবন্ধিত দলিল (Registered Document) অথবা বিয়ের নিবন্ধন রেজিস্টারে থাকা স্বামীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণের প্রমাণ থাকা আবশ্যক।

তালাক-ই-তাফওয়েজ:
তালাক-ই-তাফওয়েজ হলো স্বামীর দ্বারা স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা। এটি সাধারণত বিয়ের সময় নির্দিষ্ট চুক্তিতে উল্লেখ থাকে এবং যদি স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তবে সেটি বৈধ তালাক হিসেবে গণ্য হয়।

আইন অনুসারে তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য নিম্নলিখিত দুটি উপায়ে প্রমাণ থাকতে হবে:
১) একটি দলিল, যা রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর অধীনে নিবন্ধিত থাকতে হবে, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
২) নিকাহ রেজিস্ট্রারের রেজিস্টারে থাকা বিয়ের নথিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে স্বামী তালাক-ই-তাফওয়েজের ক্ষমতা স্ত্রীকে প্রদান করেছেন।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬ এর বিধান তালাক নিবন্ধন:
(১) নিকাহ রেজিস্ট্রার মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পাদিত তালাক তাহার এখতিয়ারের মধ্যে নিবন্ধন করিতে পারিবেন, যদি তাহার নিকট উক্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়।
(২) তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদন তালাক প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলা পর্দানশীন হন, তাহা হইলে তাহার পক্ষে তাহার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওকালতনামা দ্বারা আবেদন করা যাইবে।
(৩) নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তাফওয়েজ নামক তালাক নিবন্ধন করিবেন না, যদি না স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণের জন্য ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রেশন আইন (১৯০৮ সনের ১৬ নং আইন) অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল বা বিবাহ নিবন্ধনের রেজিস্টারে উক্ত অর্পণের প্রমাণস্বরূপ সত্যায়িত নকল প্রদান করা হয়।
(৪) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানান, তাহা হইলে তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
------------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section- 6. Registration of divorces: 
(1) A Nikah Registrar may register a divorce effected under Muslim Law within his jurisdiction on application being made to him for such registration. 
(2) An application for registration of a divorce shall be made orally by the person or persons who has or have effected the divorce: 
Provided that if the woman be a parda-nashin, such application may be made by her duly authorised vakil. 
(3) The Nikah Registrar shall not register a divorce of the kind known as Talaq-i-tafweez except on the production of a document registered under the Registration Act, 1908 (XVI of 1908), by which the husband delegated the power of divorce to the wife or of an attested copy of an entry in the register of marriages showing that such delegation has been made. 
(4) Where the Nikah Registrar refuses to register a divorce, the person or persons who applied for such registration may, within thirty days of such refusal, prefer an appeal to the Registrar and the order passed by the Registrar on such appeal shall be final.
৬০৮.
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন কোন মতবাদ অনুসারে হয়?
  1. দায়ভাগ মতবাদ
  2. মিতাক্ষরা মতবাদ
  3. মায়ূখ মতবাদ
  4. ব্যক্তিগত আইন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়। এই মতবাদে মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অখণ্ড হিন্দু পরিবার বা যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ (Dayabhaga School) অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল বাংলা অঞ্চলে এবং এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত।

মতবাদের বৈশিষ্ট্য:
- উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় মালিকের মৃত্যুর পর (জন্মসূত্রে নয়)।
- মৃত ব্যক্তির সপিণ্ডরা (যারা পিণ্ডদানের অধিকারী) প্রধান উত্তরাধিকারী।
- এটি আধ্যাত্মিক নীতি (Doctrine of Spiritual Benefit) এর উপর ভিত্তি করে গঠিত।

- সুতরাং, বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়।

৬০৯.
মরজ-উল-মউত দানের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কত অংশ দান করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ সম্পত্তি
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।

৬১০.
সপ্রতিবন্ধ দায় বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র দানকৃত সম্পত্তির অধিকার
  2. জীবিত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্পত্তি পাওয়া
  3. জন্মসূত্রে কোনো বাধা ছাড়া সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
  4. কারো মৃত্যুর পরে সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
ব্যাখ্যা

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়। অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

৬১১.
শুফার অধিকার নিম্নের কোন পদ্ধতিতে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য?
  1. হেবা
  2. উইল
  3. বিক্রয়
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। 

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ—শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।
৬১২.
একজন হানাফি মুসলিম মা, বাবা ও তিন বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মা সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ২/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে,
⇒ তিন বোন কোনো অংশ পাবে না; (বাবা জীবিত থাকায়, বোনেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে);
মা ১/৬ অংশ পাবে ( যেহেতু দুই বা ততোধিক বোন রয়েছে); এবং
⇒ বাবা বাকি ৫/৬ অংশ পাবে (আসাবা হিসেবে)।
৬১৩.
হানাফি মুসলিম মোবারক মারা গেছেন। তার তিন স্ত্রী  এবং এক সন্তান জীবিত আছে। সম্পত্তি থেকে স্ত্রীরা মোট কত অংশ পাবেন?
  1. অর্ধেক
  2. এক তৃতীয়াংশ
  3. এক চতুর্থাংশ
  4. এক অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর অংশ: 
বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

অর্থাৎ: স্ত্রী সংখ্যা যাই হোক, সন্তান থাকলে স্ত্রীরা সবাই মিলে ১/৮ অংশ পাবেন।

৬১৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে, তার স্বামী কত অংশ সম্পত্তি পাবে যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে?
  1. ১/৮ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ১/২ অংশ।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামীর প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ নির্ভর করে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) আছে কিনা তার উপর:
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) না থাকে, তাহলে স্বামী অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন।
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ পাবেন।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান নেই, তাই স্বামী ১/২ অংশ পাবেন।

উদাহরণ:
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সম্পত্তি ১,০০,০০০ টাকা হয় এবং তার কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ৫০,০০০ টাকা (অর্ধেক)।
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ২৫,০০০ টাকা (এক-চতুর্থাংশ)।
৬১৫.
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন না করার জন্য আইন অনুযায়ী কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র কারাদণ্ড
  2. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  3. সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)

Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:

(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years orwith fine which may extend to three thousand taka,or with both.
৬১৬.
মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী-
  1. কোন দেনমোহর পাবে না
  2. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে
  3. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]।
- তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই।
- স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে।
- স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।
- যদি স্বামীর পূর্বে স্ত্রী মারা যায়, তাহলে তার উত্তরাধিকারীরা এমনকি স্বামী উক্ত দেনমোহরে অধিকারী হয়ে যায়।
- অর্থাৎ মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে।
৬১৭.
'ক' মৃত্যু শয্যায় তার সম্পত্তির ১/৩ অংশ 'খ' বরাবর হেবা করে এবং দখল অর্পণের পূর্বেই মারা যায়। এমতাবস্থায় এই হেবার আইনগত ফলাফল কী?
  1. হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে
  2. হেবা কার্যকর হবে যদি ওয়ারিশগণ আপত্তি না করে
  3. যেহেতু ১/৩ অংশ দান করেছে মৃত্যুশয্যায়, সেহেতু এটি উইলের ন্যায় কার্যকর হবে
  4. কোনটি সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
হেবা (Hiba) মুসলিম আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া যা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়। যদি সম্পত্তি হেবা (দানে) করা হয় কিন্তু দখল অর্পণের পূর্বেই হেবাকার (দানকারী) মারা যায়, তাহলে:
ক) হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে।

হেবা এবং দখল:
মুসলিম আইনে, হেবা (সম্পত্তির দান) কার্যকর হতে হলে দুইটি শর্ত পূরণ করতে হয়: (১) হেবার (দানকারী) জীবিত থাকতে হবে এবং (২) হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দখল অর্পণ করা প্রয়োজন। যদি দখল অর্পণ না হয় এবং হেবাকার মারা যান, তাহলে হেবা সম্পন্ন হয় না।

উইল:
উইল এবং হেবা দুটি ভিন্ন বিষয়। উইল মৃত্যুর পর কার্যকর হয়, তবে হেবা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়।

ওয়ারিশগণ:
হেবা কার্যকর না হলে সম্পত্তি হেবাকারের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টিত হয়।
৬১৮.
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়?
  1. শূদ্র
  2. বৈশ্য
  3. ব্রাহ্মণ
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়।
- শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্রকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বাভাবিক পুত্রের সমান অধিকার দেয়া হয়।
- অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, ও ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র সাধারণত সম্পত্তির এক ভাগ পায়, যা স্বাভাবিক পুত্রের অংশের তুলনায় কম।

এই বিধান মূলত হিন্দু আইন এবং ঐতিহাসিক সমাজ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে শূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য এই নিয়মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যেন তারা তাদের পুত্রকে সমান অধিকার প্রদান করতে পারে।
৬১৯.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৩-এর শর্ত অনুযায়ী, যদি স্বামীর চাচা বা ভাই থাকে, তাহলে-
  1. তারা মামলা থেকে বাদ পড়বেন
  2. শুধুমাত্র উত্তরাধিকারী হলে মামলায় পক্ষভুক্ত হবেন
  3. উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবেন
  4. তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে
ব্যাখ্যা

• মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর  ধারা ৩- নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদান:
২নং ধারার ১নং উপ ধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মৃত্যু ঘটলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যারা তার উত্তরাধীকারী হতো তাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করতে হবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তার উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।

৬২০.
হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৪ জন
  2. ৫ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৬২১.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
ব্যাখ্যা
⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
 
- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।
 
- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
৬২২.
'P' তার ২ পুত্র 'A' ও 'B', ২ পৌত্র 'C' ও 'D', ২ প্রপৌত্র 'E' ও 'F', ১ কন্যা 'G' এবং ১ স্ত্রী 'H' কে রেখে মারা যায়। হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কে বঞ্চিত হবেন?
  1. স্ত্রী (H)
  2. কন্যা (G)
  3. পৌত্র (C & D)
  4. প্রপৌত্র (E & F)
ব্যাখ্যা

⇒ সমাধান: এখানে 'P' সম্পত্তি মোট পাঁচ অংশে বিভক্ত হবে। এই পাঁচ অংশের মধ্যে ১ অংশ পাবে পুত্র 'A', ১ অংশ পাবে পুত্র 'B', ১ অংশ পাবে ২ পৌত্র মিলে 'C' ও 'D', ১ অংশ পাবে ২ প্রপৌত্র মিলে 'E' ও 'F' এবং ১ অংশ পাবে স্ত্রী 'H'। কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।

সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র(A)পাবে ১/৫ অংশ
- পুত্র (B) পাবে ১/৫ অংশ
- পৌত্র(C&D) পাবে ১/৫ অংশ
- প্রপৌত্র (E&F) পাবে ১/৫ অংশ
- স্ত্রী (H) পাবে ১/৫ অংশ

-হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কন্যা 'G'  বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।
৬২৩.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক মোহরানা বাবদ প্রদত্ত ৫,০০০/- টাকার ডিক্রির বিরুদ্ধে কোথায় আপীল করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. আপীল চলে না
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ আইন অনুযায়ী, দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যেতো না। তবে বর্তমানে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে, পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এই আইনে টাকার পরিমাণ ৫০ হাজার করা হয়।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
৬২৪.
পারিবারিক আদালতের কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়-
  1. The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২২ ধারানুসারে
  2. The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২৩ ধারানুসারে
  3. The Court - fees Act, 1870 এর ২২ ধারানুসারে
  4. The Court - fees Act, 1870 এর ২৩ ধারানুসারে
ব্যাখ্যা
⇒ The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২২ ধারানুসারে।
Section 22. Court-fee:

The Court-fees to be paid on any plaint presented to a Family Court shall be twenty-five taka for any kind of suit.
৬২৫.
শাফি-ই-জার (Shafi-e-jar) বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. সহ-উত্তরাধিকারী
  2. সুবিধাসমূহের অধিকারী
  3. সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
  4. চুক্তি প্রদত্ত সম্পত্তির অধিকারী
ব্যাখ্যা

অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:

হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

৬২৬.
"ইসতিদলাল" এর মাধ্যমে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়?
  1. কিয়াসের মাধ্যমে
  2. কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে
  3. জনকল্যাণের ভিত্তিতে
  4. যুক্তি-তর্কের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের উৎস:
ইসলাম পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। শরিয়ত (আইন বা বিধান), তরিকত (পদ্ধতি বা নিয়ম), মারেফত (জানা বা আলো) ও হাকিকত (সত্য বা বাস্তব) হচ্ছে ইসলামি জীবনবিধানের এক একটি বিশেষ পদ্ধতি। ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।

আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
৬২৭.
যথার্থ দেনমোহর (Proper Dower)-এর আরবি প্রতিশব্দ কী?
  1. মোহরে মুতআ
  2. মোহরে মিসল
  3. মোহরে মুসাম্মা
  4. মোহরে সুন্নাহ
ব্যাখ্যা

• দেনমোহর [Dower]:
বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

⇒ দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-
নির্ধারিত দেনমোহর (fixed/specified dower):
বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

যথার্থ দেনমোহর (Proper dower):
বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।

⇒ পরিশোধের সময়ের উপর ভিত্তি করে Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower):
যে দেনমোহর স্ত্রী কর্তৃক দাবি করা মাত্রই স্বামী তা দিতে বাধ্য থাকে তা Prompt dower বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর বলে। তাৎক্ষণিক দেনমোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি অনুসারে স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য।

খ. বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred dower):
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদের সময় বা কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বা ঘটনা সাপেক্ষে পরিশোযোগ্য তাকে বিলম্বিত দেনমোহর বা Deferred dower বলে।

৬২৮.
কোন উৎসটি হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. শ্রুতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
৬২৯.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা মতবাদের প্রধান পার্থক্য কোন বিষয়ে দেখা যায়?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. স্ত্রীধন
  3. উত্তরাধিকার
  4. বিবাহ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা এই দুই হিন্দু আইন মতবাদের প্রধান পার্থক্য তাদের উত্তরাধিকার নীতি ও পূর্বপুরুষের সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

মিতাক্ষরা মতবাদ (ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার জন্মসূত্রে: সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই পিতৃসম্পত্তিতে তার অধিকার জন্মায়।
যৌথ পরিবার ব্যবস্থা: পরিবার যৌথভাবে সম্পত্তির মালিক হয়।
সহঅংশীদারিত্ব (Coparcenary): পিতা, পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র – এই চার পুরুষ মিলে সহঅংশীদার গঠন করে।

ফলাফল: প্রত্যেক সহঅংশীদারের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে তার ভাগ দাবি করতে পারে।

দায়ভাগা মতবাদ (মূলত বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার মৃত্যুর পর: পিতার মৃত্যুর পরেই পুত্র সম্পত্তিতে অধিকার পায়।
পিতার জীবিত অবস্থায় অধিকার নেই: পিতার জীবিত অবস্থায় সন্তানদের কোনো আইনগত অধিকার থাকে না।
সহঅংশীদারিত্বের সৃষ্টি হয় না: পিতার মৃত্যুর পূর্বে কোনো Coparcenary বা যৌথ মালিকানা গঠিত হয় না।

⇒ অন্যান্য ক্ষেত্রে,
- অভিভাবকত্ব (Guardianship) বিষয়ে উভয় বিদ্যালয় প্রায় একই নীতি অনুসরণ করে।
- স্ত্রীধন (Stridhan) সম্পর্কেও মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র কিছু ক্ষুদ্র পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে স্ত্রীধনের ব্যবস্থাপনা বা সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে এগুলো মূল মতবাদগত পার্থক্য নয়।
-  বিবাহ ব্যবস্থা (Marriage Laws) উভয় বিদ্যালয়ে প্রায় একই নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত। বিবাহ, তার বৈধতা, ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

৬৩০.
In case of Gift, if the donee dies before acceptance, then the gift is:
  1. Valid
  2. Void
  3. Reduced
  4. Court has to decide
ব্যাখ্যা
• দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন। যদি হেবা গ্রহণের পূর্বে গ্রহীতা (Donee) মৃত্যুবরণ করেন, তবে হেবা গ্রহণের শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে গিফট কার্যকর হয় না এবং সেটি বাতিল (Void) হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬৩১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুসারে স্বামী কত বছরের বা তদূর্ধ্ব কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পাস করা যাবে। 
- এই ধারা অনুযায়ী, স্বামী যদি ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে, এই ডিক্রি পাস করার আগে আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে রায় চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা পুনর্বিচারের আবেদন থাকলে, যতক্ষণ না তা নিষ্পত্তি হয়, ততক্ষণ ডিক্রি পাস করা যাবে না।

৬৩২.
দায়ভাগ মতবাদ নিম্নলিখিত কোন এলাকার ক্ষেত্রে অপ্রযোজ্য?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. বাংলাদেশ
  3. পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত ভারতের অন্যান্য অংশে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।

দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
৬৩৩.
উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
• স্ত্রীধন:
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার-

ক. শুল্ক (কন্যাপণ):
স্বামীগৃহে যাইতে উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া উপহার সামগ্রী। কোন হিন্দু মহিলা মারা যাওয়ার পর তার শুল্ক সম্পত্তি পর্যায়ক্রমে (১) ভ্রাতা (২) মাতা (৩) পিতা (৪) স্বামী উত্তরাধিকার হিসাবে এক জনের অনুপস্থিতিতে অন্যজন পাবেন।

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার):
যৌতুক হল কন্যাকে বিবাহের সময় দেওয়া উপহার। অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত):
অন্বধেয়ক হল বিবাহের পরবর্তী সময় প্রাপ্ত উপহার। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): 
অযৌতুক হল শুল্ক, অন্বষেয়ক এবং যৌতুক ব্যতীত অন্য কোনভাবে অর্জিত সম্পত্তি। এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।
৬৩৪.
হিন্দু আইন প্রণয়নে ঐতিহাসিকভাবে কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন?
  1. রাজা
  2. ব্রাহ্মণ
  3. আদালত
  4. সাধারণ জনগণ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের প্রকৃতি অনুসারে, ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণরা আইন প্রণয়ন ও ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণরা শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতৃত্বই প্রদান করেননি, বরং তারা স্মৃতি গ্রন্থ (যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি) এবং সংস্কৃত ভাষ্যের মাধ্যমে আইনি নীতি প্রণয়ন ও ব্যাখ্যা করতেন। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হতেন এবং তাদের নির্দেশ সাধারণত সমাজের সকল স্তরের মানুষ মেনে চলত।

অন্যান্য অপশন গুলো:
ক) রাজা: হিন্দু আইন রাজার আদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল না। এটি ধর্ম (Dharma) এবং স্মৃতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা রাজা এবং প্রজা উভয়ের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য ছিল।
গ) আদালত: আদালত হিন্দু আইন প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা করত, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল না। আধুনিক সময়ে আদালত হিন্দু আইনের প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রাচীনকালে এটি ব্রাহ্মণদের দ্বারা পরিচালিত হত।
ঘ) সাধারণ জনগণ: সাধারণ জনগণ প্রথাগত রীতিনীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছিল, কিন্তু আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল না।
অর্থাৎ হিন্দু আইন প্রণয়নে ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা স্মৃতি ও ধর্মশাস্ত্রের ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনি কাঠামো তৈরি করতেন। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) ব্রাহ্মণ।

৬৩৫.
স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি সম্পর্কিত নিচের কোনটি সঠিক?
  1. স্ত্রীধন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়
  2. বিধবার সম্পত্তি স্ব-উপার্জিত
  3. স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে
  4. বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে।

→ স্ত্রীধন হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু স্ত্রী তার পিতামাতার কাছ থেকে বা স্বামীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে লাভ করেন, এবং তার উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে। অর্থাৎ, স্ত্রীর কাছে এই সম্পত্তি থাকে এবং তিনি তা ইচ্ছামতো হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেন। 

→ বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়, এবং এর উপর সীমিত স্বার্থ থাকে। বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না, অর্থাৎ তিনি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটি হস্তান্তর করা যেতে পারে।

→ তাহলে বলা যায়, স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে, কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে তা থাকে না। 
৬৩৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে বোঝানো হয় না?
  1. পৌরসভার মেয়র
  2. জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
  3. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  4. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়:
→ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
→ পৌরসভার মেয়র,
→ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
→ এই আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-কে সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বোঝানো হয়নি।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ২ এর বিধান:
এই ধারা অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন:
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,
পৌরসভার মেয়র,
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
এই তিন ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিরাই সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অর্থাৎ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিবেচিত হন না। কারণ, আইনটি স্থানীয় পর্যায়ের বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সালিশি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এই কাঠামোর বাইরে। 
৬৩৭.
হিন্দু আইনের নিচের কোনটি মিতাক্ষরা স্কুলের উপ-স্কুল নয়?
  1. মিথিলা স্কুল
  2. বেনারস স্কুল
  3. মহারাষ্ট্র স্কুল
  4. গুজরাট স্কুল 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের মিতাক্ষরা স্কুল (Mitakshara School) ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত এবং এটি যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির উপর বিজ্ঞানেশ্বরের লেখা ভাষ্য। এই স্কুলটি আবার ৫টি উপ-স্কুলে বিভক্ত হয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় প্রথা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
• মিতাক্ষরা স্কুলের ৫টি উপ-স্কুল হলো:
১) বেনারস স্কুল (Benaras School) – উত্তর ভারত, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ অঞ্চলে প্রচলিত।
২) মিথিলা স্কুল (Mithila School) – বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে প্রচলিত।
৩) মহারাষ্ট্র স্কুল (Maharashtra School) বা মায়ুখ স্কুল – মহারাষ্ট্র অঞ্চলে প্রচলিত।
৪) পাঞ্জাব স্কুল (Punjab School) – পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদিতে প্রচলিত।
৫) দ্রাবিড় বা মাদ্রাজ স্কুল (Dravida or Madras School) – দক্ষিণ ভারত (তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ইত্যাদি)।
- এই ৫টি উপ-স্কুলের মধ্যে মৌলিক নীতিগুলো একই রকম, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: দত্তক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) স্থানীয় প্রথার কারণে পার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এখানে "গুজরাট স্কুল" আলাদা কোনো উপ-স্কুল হিসেবে মিতাক্ষরা স্কুলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। গুজরাট অঞ্চলে মূলত মহারাষ্ট্র স্কুলের প্রভাব দেখা যায়। তাই "গুজরাট স্কুল" সঠিক উত্তর।

৬৩৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর কোন ধারা অনুসারে ভরণপোষণের সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়?
  1. ৬ ধারা
  2. ৮ ধারা
  3. ৯ ধারা
  4. ১০ ধারা
ব্যাখ্যা
• ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

Section 9- Maintenance:
(1) If any husband fails to maintain his wife adequately, or where there are more wives than one, fails to maintain them equitably, the wife, or all or any of the wives, may in addition to seeking, any other legal remedy available apply to the Chairman who shall constitute an Arbitration Council to determine the matter, and the Arbitration Council may issue a certificate specifying the amount which shall be paid as maintenance by the husband. 
 
(2) A husband or wife may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision of the certificate to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 
 
(3) Any amount payable under sub-section (1) or (2), if not paid in due time, shall be recoverable as arrears of land revenue.
৬৩৯.
মোট সম্পত্তির কত অংশের বেশি উইল করা যাবে না?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

- আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না।
- যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না।

- উইল করার ক্ষমতা অসীম নয়। কোনো উইল এর মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি উইল করা যাবে না। কোনো মুসলিম তার মৃত্যুর পর কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচাদি এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না।

- কোনো ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের অধিক উইল করলে তা কার্যকর হবে না। তবে তার উত্তরাধিকারীগণ উক্ত উইলো সম্মতি দিলে তা কার্যকর হবে।
৬৪০.
The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ নং ধারা অনুযায়ী আইনটি কোন বিষয়ে প্রযোজ্য নয়?
  1. বিবাহ
  2. কৃষিজমি
  3. মোহরানা
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ নং ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আইনটি মুসলিমদের জন্য বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব, হাদিয়া, ট্রাস্ট, ওয়াকফ ইত্যাদি বিষয়ে প্রযোজ্য হবে। তবে কৃষিজমি সম্পর্কিত প্রশ্ন এই আইনের আওতায় পড়ে না; এগুলো অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের অধীনে নিষ্পত্তি হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section 2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).

৬৪১.
অগ্রক্রয়ের আরবি পরিভাষা কী?
  1. শেফা
  2. হেবা
  3. শুফা
  4. নাফাকা
ব্যাখ্যা
• Pre-emption হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa)। নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:- A এবং B একটি জমির যৌথ মালিক। ৪ তার অংশটি অপর অপরিচিত ব্যক্তি C কে বিক্রয় করে দেয়। এই ক্ষেত্রে B কর্তৃক বিক্রিত সম্পত্তিটি ক্রয়ের প্রথম অধিকার A এর। এ ক্ষেত্রে এ সম্পত্তিটি তার নিকট বিক্রি করার জন্য B কে বাধ্য করতে পারে। সম্পত্তিটি অপরিচিত ব্যক্তি C এর পূর্বে A এর ক্রয় করার অধিকার অগ্রক্রয়ের অধিকার নামে পরিচিত।

• অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু স্থাবর সম্পত্তির সাথে সম্পর্কীত। অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় অধিকার প্রযোজ্য নয়। অগ্রক্রয়ের অধিকার মূলত প্রতিস্থাপনের অধিকার। এটি সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয়ের অধিকার নয়।।

৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো-
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার।
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক, যেমন: Easement সুবিধা।
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।
৬৪২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পায়
  2. নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়
  3. শুধু নারীরা উত্তরাধিকার পায়
  4. শুধু পুরুষরা উত্তরাধিকার পায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান অংশ পায়। এটি অন্যান্য ওয়ারিসদের থেকে ভিন্ন।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন (যাদের একই মা কিন্তু ভিন্ন পিতা) এর উত্তরাধিকার সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে:
সমান অংশ: বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান অংশ পায় (পুরুষ = নারী)।

এটি সূরা নিসা ৪:১২-এ উল্লিখিত: "...যদি এক ভাই বা বোন থাকে, তবে তার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ। আর যদি একাধিক হয়, তবে তারা এক-তৃতীয়াংশে সমানভাবে অংশীদার হবে..."

শর্ত: তারা শুধুমাত্র তখনই উত্তরাধিকার পাবে যখন মৃত ব্যক্তি "কালালা" হয় (অর্থাৎ তার পিতা বা পুত্র কেউই জীবিত নেই)।
সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন থাকলে তাদের অংশ ভিন্ন।

অংশের পরিমাণ: একজন বৈপিত্রেয় ভাই/বোন → ১/৬,  একাধিক → সকলে মিলে ১/৩ (সমানভাবে ভাগ হবে)।

উদাহরণ:
মৃত ব্যক্তির ১ বৈপিত্রেয় ভাই ও ১ বৈপিত্রেয় বোন থাকলে উভয়ে মিলে ১/৩ পাবে (প্রত্যেকে ১/৬)।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) পুরুষ নারীর দ্বিগুণ পায়: এটি সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাই-বোন-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
গ) শুধু নারীরা বা ঘ) শুধু পুরুষরা: ভুল, উভয়েই সমান অধিকার পায়।

⇒ বৈপিত্রেয় ভাই-বোন মায়ের দিক থেকে সম্পর্কিত, তাই তাদের অংশে লিঙ্গভেদ নেই।
এই বিধান ইসলামের ন্যায়বিচার-এর প্রতিফলন (যেখানে মাতৃকুলের আত্মীয়দের সম্মান দেওয়া হয়েছে)।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) নারী-পুরুষ সমান অংশ পায়।

৬৪৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধনের সুযোগ কোন ধারা দ্বারা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৫
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১২
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ এর ৯ ধারায় আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যেকোনো পর্যায়ে পক্ষের আবেদন অনুযায়ী আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ এর ধারা ৯- আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন:
- এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, করণিক ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো কারণে পক্ষগণের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার জন্য আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, এইরূপ সংশোধনের আবেদন মোকদ্দমার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্তরূপ সংশোধনীর আদেশ প্রদান করিবে না।

৬৪৪.
ইসলামী জুরিসপ্রুডেন্স এর বিজ্ঞান হলো-
  1. ইজমা
  2. কিয়াস
  3. ফিকাহ্
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ফিকাহ্ (Fiqh)।

ইসলামী জুরিসপ্রুডেন্স (Islamic Jurisprudence):
ইসলামী জুরিসপ্রুডেন্স বলতে ইসলামী শরীয়তের আইনি দিক বা ইসলামী আইন বিজ্ঞানের (Science of Islamic Law) আলোচনা বোঝায়। এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা দ্বারা ইসলামী শরীয়তের ব্যবহারিক বিধানসমূহ (practical rulings) কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও বিশ্লেষণ করা হয়।

অপরদিকে, ফিকাহ্ (Fiqh) আরবি শব্দ- অর্থ: জ্ঞান, উপলব্ধি, গভীর বোঝাপড়া। শরীয়তের পরিভাষায়:
ফিকাহ্ হলো এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সংগৃহীত বিধানাবলি বিশ্লেষণ করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম (ইবাদত, মুআমালাত, নিকাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) সম্পর্কে শরয়ি বিধান নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ- ফিকাহ্ হচ্ছে ইসলামী জুরিসপ্রুডেন্স-এরই নাম।

উল্লেখ্য,
ইজমা (Ijma):
কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে।
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। গুরুত্বের বিচারে কুরআন ও হাদিসের পরেই ইজমার স্থান। কোন বিশেষ যুগে আইন সংক্রান্ত কোন বিশেষ প্রশ্নের সমস্যার সমাধান কুরআন ও হাদিসকে কেন্দ্র করে মুসলিম পণ্ডিতগণ যে সম্মিলিত অভিমত পোষণ করেছেন ইসলামি শরীআতে তাই হলো ইজমা। ইজমা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী দ্বারা বৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

কিয়াস (Qiyas):
কিয়াস হলো ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি পদ্ধতি যেখানে কুরআন ও সুন্নাহতে সরাসরি সমাধান নেই এমন নতুন সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য, সেখানে থাকা কোনো বিধানকে তার কারণ বা সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে নির্ণয় করা হয়। এটি ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস।

৬৪৫.
'Where no mode of payment of dower is specified in the nikah nama, the entire amount of the dower shall be  payable on demand'- কোন আইনে বলা হয়েছে?
  1. মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯
  2. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  3. মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪
  4. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১: ধারা ১০- দেনমোহর:
Where no details about the mode of payment of dower are specified in the nikah nama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand.

[যদি নিকাহ নামা বা বিবাহ চুক্তিতে দেনমোহরের পরিশোধের উপায় বা সময়কাল উল্লেখ না করা হয়, তাহলে পূর্ণ দেনমোহর স্ত্রী চাইলে অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য হবে।]

৬৪৬.
নিম্নের কোনটি ‘ওয়াক্‌ফ’-এর আইনগত বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অপরিবর্তনীয়তা
  2. চিরস্থায়িত্ব
  3. সার্বজনীনতা
  4. অ-হস্তান্তরযোগ্যতা
ব্যাখ্যা

ওয়াক্‌ফ (Waqf) হলো মুসলমান কর্তৃক তার অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি ধর্মীয়, পবিত্র বা জনহিতকর উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা — ইসলামী আইনের অধীনে।

একটি বৈধ ওয়াক্‌ফের আইনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ:
অপরিবর্তনীয়তা (Irrevocability):
একবার ওয়াক্‌ফ ঘোষণা করা হলে, ওয়াকিফ (যিনি ওয়াক্‌ফ করেন) তা বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারেন না।

চিরস্থায়িত্ব (Perpetuity):
ওয়াক্‌ফ চিরকাল বিদ্যমান থাকে — ওয়াকিফের মৃত্যুর পরও এটি শেষ হয় না।

অহস্তান্তরযোগ্যতা (Inalienability):
ওয়াক্‌ফকৃত সম্পত্তি বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর করা যায় না। এটি স্থায়ীভাবে ওয়াকিফের মালিকানা থেকে বের হয়ে যায়।

যা ওয়াক্‌ফের বৈশিষ্ট্য নয়:
“সার্বজনীনতা (Universal)” — এটি কোনো আইনগত বৈশিষ্ট্য নয়।
এই শব্দটি অস্পষ্ট এবং ইসলামী আইনের অধীনে ওয়াক্‌ফের প্রকৃত বা আইনগত চরিত্র প্রকাশ করে না।

৬৪৭.
সুন্নি মতবাদ অনুসারে কোনটি তালাকের সর্বোত্তম পন্থা?
  1. তালাক-ই- হাসান
  2. তালাক-ই- আহসান
  3. তালাক-ই- হিসন
  4. তালাক-ই- সুন্নাহ
ব্যাখ্যা
• তালাক আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো- প্রত্যাখ্যান করা, ত্যাগ করা, মুক্তি দেয়া। বিবাহের বন্ধন থেকে মুক্তি দেয়ার নাম হলে তালাক।

সুন্নি মতবাদ অনুসারে তালাক দুই প্রকার। যথা-
ক. তালাকে সুন্নাহ;
খ. তালাকে বিদাত।

তালাক-ই- আহসান (Talaq-e-Ahsan):
'আহসান' শব্দের অর্থ সর্বোত্তম। তালাকে আহসান হলো এমন তালাক যেটি স্ত্রীর তুরহকালে স্বামী একবাক্যে উচ্চারণ করে এবং ইদ্দতের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বামী যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকে। সুন্নি মতবাদ অনুসারে তালাক-ই- আহসান সর্বোত্তম পন্থা।
ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে স্বামী যদি তালাক প্রত্যাহার করে না দেয় তাহলে সেটি ইদ্দত শেষ হবার সাথে সাথে কার্যকর হবে। ইদ্দতকালীন সময়ে স্বামী যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (যেমন। ইচ্ছাকৃত যৌনসঙ্গম দ্বারা) তালাক প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে তালাক কার্যকর হবে না।

তালাক-ই- হাসান (Talaq-e-Hasan):
'হাসান' শব্দের অর্থ উত্তম। স্বামী যদি তার স্ত্রীকে পরপর তিনটি তুহরকালে ৩ বার তালাক ঘোষণা করে এবং যৌনমিলন থেকে বিরত থাকে সেক্ষেত্রে ৩য় তালাক ঘোষণার সাথে সাথে তালাক কর্যকর হয়ে যাবে। এরূপ তালাক তৃতীয়বার উচ্চারণ করার পূর্ব পর্যন্ত বাতিল করা যায়, কিন্তু তৃতীয়বার তালাক উচ্চারণ করার পর আর প্রত্যাহার করা যায় না।
৬৪৮.
'কোন হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না'- নিম্নলিখিত কোন আইনে এই বিধান করা হয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
  2. The Hindu Women Marriage Act,1856
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।
যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে। আবার একজন বিধবা যদি পুনরায় একই গোত্রের কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করে, তাহলে ঐ বিবাহ অবৈধ হবে না।
৬৪৯.
হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়-
  1. বন্ধ্যা কন্যা
  2. পুত্রবতী কন্যা
  3. পুত্রসম্ভবা কন্যা
  4. অবিবাহিত কন্যা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়- বন্ধ্যা কন্যা।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার:
পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের একচ্ছত্র অধিকার নেই, জীবনস্বত্ব আছে। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার হন জীবিত পুত্র বা পুত্রেরা। পুত্রের উপস্থিতিতে কন্যা সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ কন্যার অধিকার নির্ভর করবে পুত্র থাকা বা না থাকার ওপর।

১. কন্যা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও স্ত্রী থাকলে কন্যা তাঁর পিতার সম্পত্তি পান না। তাঁদের কেউ না থাকলে কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যার দাবি সবার আগে। তবে বিধবা কন্যা, বন্ধ্যা কন্যা ও যে কন্যার পুত্রসন্তান নেই, শুধু কন্যাসন্তান আছে, তিনি কিছু পাবেন না।

২. স্ত্রী (বিধবা) হিসেবে: সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ পাস হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ জীবনস্বত্ব পান।

৩. মা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা জীবিত থাকলে মা কিছু পান না।

৪. বোন হিসেবে: কোনো অবস্থাতেই বোন তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তি পান না।

৬৫০.
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস নয় কোনটি?
  1. সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা
  2. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
  3. আদালতের সিদ্ধান্ত
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

 হিন্দু আইনের প্রাচীন উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি:
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি:
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা:
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।

৬৫১.
কোনো হিন্দু ব্যক্তির ৩ জন স্ত্রী এবং দুই পুত্র থাকলে, উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রীদের মধ্যে সম্পত্তির বণ্টন কীভাবে হবে?
  1. সকলে একত্রে সম্পত্তির অর্ধেক পাবে
  2. প্রত্যেকে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  3. সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  4. পুত্র থাকায় স্ত্রীগণ বঞ্চিত হবে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে, কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
৬৫২.
ইসলামী শরীয়া আইনের ‘রদ্দ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. বৃদ্ধি হওয়া
  2. সমন্বয় করা
  3. অংশীদারিত্ব বন্টন
  4. প্রত্যাবর্তন করা
ব্যাখ্যা
রদ্দ নীতি:
রদ্দ এর আভিধানিক অর্থ হলো "প্রত্যাবর্তন করা"। এটি আউলের বিপরীত নিয়ম। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর যদি তাদের অংশাবলীর যোগফল ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আসাবা (যেমন পুত্র, পিতা ইত্যাদি) না থাকে, তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় বণ্টন করা হয়।

উদাহরণ
পরিস্থিতি: এক ব্যক্তি স্বামী, কন্যা এবং মাতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করে।

সমাধান:
স্বামী: স্বামী পাবে এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ।
কন্যা: কন্যা পাবে অর্ধেক (১/২) অংশ।
মাতা: মাতা পাবে এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) অংশ।
যোগফল: ১/৪ + ১/২ + ১/৬ = ৩/১২ + ৬/১২ + ২/১২ = ১১/১২, যা ১ এর চেয়ে কম।
এখানে রদ্দ নীতি প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট সম্পত্তি (১ - ১১/১২ = ১/১২) কন্যা এবং মাতার মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে।

পুনর্বণ্টন:
কন্যা: (১/২) / (১১/১২) = ৬/১১
মাতা: (১/৬) / (১১/১২) = ২/১১
৬৫৩.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারা অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার পর স্বামীকে কী পদক্ষেপ নিতে হবে?
  1. স্ত্রীকে সম্পূর্ণ দেনমোহর প্রদান করতে হবে
  2. চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে
  3. ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে মামলা করতে হবে
  4. ৭ দিনের মধ্যে আদালতকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):

১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারন করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।

২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

৩) অন্য কোনভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।
৬৫৪.
একজন হানাফি মুসলিম মা, স্বামী ও দুই সহোদর ভাইকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। সহোদর ভাইদের প্রাপ্ত অংশ কত?
  1. (১/১২)
  2. (২/৮)
  3. (২/৬)
  4. (১/৬)
ব্যাখ্যা
⇒ যেহেতু, দুই বা ততোধিক ভাই রয়েছে তাই মা ১/৬ অংশ পাবে।

⇒ যেহেতু সন্তান নেই স্বামী ১/২ অংশ বা ৩/৬ অংশ পাবে।

⇒ অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) হিসেবে দুই সহোদর ভাই পাবে বাকি ২/৬ অংশ।

⇒ সুতরাং দুই সহোদর ভাই পাবে ২/৬ অংশ।
৬৫৫.
হিন্দু বিয়ে এক প্রকার-
  1. পার্থিব বন্ধন
  2. দেওয়ানী চুক্তি
  3. আংশিক চুক্তি
  4. পবিত্র বন্ধন
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিয়ে একটি ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন (Sacrament) বিধায় ইহা একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন যা ইহলোক ও পরলোকেও স্থায়ী। মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। কাজেই আইন মোতাবেক যেমন এরুপ চুক্তি করা যায়, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও ঘটানোও যায়। হিন্দু বিয়ে এরুপ পর্যায়ভূক্ত নয়।
তাই শাস্ত্রীয় বিধান মতে কোন পক্ষই তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তবে পরবর্তীকালে বিধিবদ্ধ আইন দ্বার এর কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ১৮৮৬ সালে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ আইন প্রবর্তিত হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোন নারী বা পুরুষ ধর্ম ত্যাগ করে, খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তবে আদালত তাদের পূর্ব অুনষ্ঠিত বিয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়েছে ঘোষণা প্রদান করতে পারেন। কলকাতা হাইকোর্ট গবর্ধন বনাম জাসোদমনি মামলায় এই মর্মে রায় প্রদান করেন যে, যদি কোন হিন্দু নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার উপর আর হিন্দু আইনের কোন অধিকার থাকে না। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার বিয়ের বন্ধন সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দুদের জন্য আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কোনও রূপ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনওভাবে হিন্দু বিবাহের বিচ্ছেদ বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়।
ধারণাটি হল স্বামী এবং স্ত্রী চিরকাল একসাথে থাকবে এবং একসাথে সমস্ত ধর্মীয় এবং পার্থিব কার্য সম্পাদন করবে। বিয়ের পর তারা একটি নিখুঁত সংযোগে পরিণত হয়, দেহ ও আত্মায় উভয়ই মিলিত হয়, যা বিচ্ছিন্ন উচিত নয়।
৬৫৬.
মুসলিম আইনে নিম্নের কোন উত্তরাধিকারী অবস্থা ভেদে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. সহোদর বোন
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
 
১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।
 
⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:
১/ স্বামী;
২/ স্ত্রী;
৩/ পিতা;
৪/ মাতা;
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।

উল্লেখ্য, সহোদর ভাই-বোন এর ক্ষেত্রে ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক কেউ থাকলে অথবা বাবা, দাদা বা এভাবে ঊর্ধ্ব পুরুষ কেউ থাকলে তখন ভাই-বোন কেউ অংশ পাবেন না। তবে, যদি স্বামী/স্ত্রী, কন্যা বা মা থাকে তবে তাদের অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ ভাই-বোন নিজেদের অংশ (১:২) হিসেবে পাবে। ঊর্ধ্ব পুরুষ বা উত্তর পুরুষে কেউ না থাকলে, সহোদর ভাই-বোন ছেলে-মেয়ের মতো হারে অংশ পাবে।
৬৫৭.
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য?
  1. Mitakshara
  2. Dayabhaga
  3. Both Mitakshara and Dayabhaga
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

→ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।

দায়ভাগ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- ভৌগলিক প্রচলন: এই পদ্ধতি প্রধানত বাংলাদেশ (তৎকালীন বাংলা অঞ্চল) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে অনুসরণ করা হয়।
- উত্তরাধিকারের ভিত্তি: এই পদ্ধতিতে পিণ্ডদান (মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদন করার অধিকার) উত্তরাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করার অধিকারী হন, তিনিই সাধারণত উত্তরাধিকারী হিসাবে গণ্য হন।
- সম্পত্তিতে মালিকানা: দায়ভাগ পদ্ধতিতে পিতা তার জীবদ্দশায় পারিবারিক সম্পত্তির একক মালিক হন। পুত্রদের পিতার জীবদ্দশায় সম্পত্তিতে কোন জন্মসূত্রে অধিকার (birthright) থাকে না।
- বিধবার অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন (Hindu Women's Rights to Property Act, 1937) এর মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকার স্বীকৃত হয়। এই মতে, একজন বিধবা তার স্বামীর সম্পত্তিতে এক পুত্রের সমান অংশ পেতে পারেন।

৬৫৮.
হিন্দু আইনে বিয়ে এক প্রকার-
  1. দেওয়ানী চুক্তি
  2. পার্থিব বন্ধন
  3. পবিত্র বন্ধন
  4. আংশিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিয়ে একটি ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন (Sacrament) বিধায় ইহা একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন যা ইহলোক ও পরলোকেও স্থায়ী। মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। কাজেই আইন মোতাবেক যেমন এরুপ চুক্তি করা যায়, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও ঘটানোও যায়। হিন্দু বিয়ে এরুপ পর্যায়ভূক্ত নয়।
তাই শাস্ত্রীয় বিধান মতে কোন পক্ষই তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তবে পরবর্তীকালে বিধিবদ্ধ আইন দ্বার এর কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ১৮৮৬ সালে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ আইন প্রবর্তিত হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোন নারী বা পুরুষ ধর্ম ত্যাগ করে, খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তবে আদালত তাদের পূর্ব অুনষ্ঠিত বিয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়েছে ঘোষণা প্রদান করতে পারেন। কলকাতা হাইকোর্ট গবর্ধন বনাম জাসোদমনি মামলায় এই মর্মে রায় প্রদান করেন যে, যদি কোন হিন্দু নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার উপর আর হিন্দু আইনের কোন অধিকার থাকে না। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার বিয়ের বন্ধন সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দুদের জন্য আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কোনও রূপ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনওভাবে হিন্দু বিবাহের বিচ্ছেদ বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়।
ধারণাটি হল স্বামী এবং স্ত্রী চিরকাল একসাথে থাকবে এবং একসাথে সমস্ত ধর্মীয় এবং পার্থিব কার্য সম্পাদন করবে। বিয়ের পর তারা একটি নিখুঁত সংযোগে পরিণত হয়, দেহ ও আত্মায় উভয়ই মিলিত হয়, যা বিচ্ছিন্ন উচিত নয়।
৬৫৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ১০ অনুযায়ী, যদি কাবিননামা বা বৈবাহিক চুক্তিতে দেনমোহরের পরিশোধ পদ্ধতি উল্লেখ না থাকে, তখন কী হবে?
  1. দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই
  2. স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ হবে
  3. স্ত্রী চাহিবামাত্র দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে
  4. তালাক বা স্বামীর মৃত্যুসাপেক্ষে পরিশোধযোগ্য হবে
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ১০ ধারাতে বলা হয়েছে,
“where no details the mode of payment of dower are specified in the nikahnama, or the marriage contract, the entire amount of the dower shall be prescribed to be payable on demand”

অর্থ্যাৎ, দেনমোহর প্রদান বা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিননামা বা বৈবাহিক চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও, স্ত্রী চাহিবামাত্র তা পরিশোধ করতে হবে।

৬৬০.
Which section of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961, discusses the place of trial?
  1. Section 10
  2. Section 11
  3. Section 11A
  4. Section 12
ব্যাখ্যা
• ধারা ১১ক- বিচারের স্থান:
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial:
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
৬৬১.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা দিতে হলে নিম্নলিখিত কোন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে?
  1. প্রথাটি অবশ্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে
  2. যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  3. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী হবে না
  4. উল্লিখিত সকল বৈশিষ্ট্য
ব্যাখ্যা
প্রথা (Customs):

ইহা এমন একটি নিয়ম বা রীতি যাহা একটি বিশেষ পরিবারে অথবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলবিশেষে বহুকাল প্রচলিত হইবার দরুন আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্মৃতি এবং প্রথার মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হলে আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা স্মৃতির চেয়েও শক্তিশালী; হিন্দু আইনের এই নীতিগত প্রশ্নটির মীমাংসা হয় কালেক্টার, মাদুরা বনাম মুট্টুরামলিঙ্গ মামলায় প্রিভি কাউন্সিলে (12 Μ.Ι. Α. 379) তাহাতে বলা হয়- "Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law" অর্থাৎ আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী লিখিত বিধান হইতেও অধিক শক্তিশালী।

কোন কোন পণ্ডিত ব্যক্তি প্রথাকে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অবলুপ্ত অথবা বিস্মৃত অংশ বলে মনে করেন। তাদের বক্তব্য প্রথাগুলি অতি প্রাচীনকালে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে লিখিত আকারে স্মৃতি প্রণয়নকালে এইগুলি অসাবধানবশতঃ স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই, কিন্তু সুপ্রাচীন প্রথারূপে জনসমাজে চালু রয়েছে। প্রথা তিন প্রকার, যথা:

(১) স্থানীয় প্রথা: যে প্রথা কোন বিশেষ স্থানে বা অঞ্চলে চালু রয়েছে।

(২) শ্রেণী প্রথা: যেসব প্রথা হিন্দু সমাজের কোন বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাকে শ্রেণী প্রথা বলে। হিন্দু সমাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। যেসব প্রথা কোন একটি বিশেষ সম্প্রদায় অথবা জনগোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাই সেই সম্প্রদায়ের জন্য শ্রেণী প্রথা নামে অবহিত।

(৩) পারিবারিক প্রথা: যেসব প্রথা বা রীতি কোন একটি বিশেষ পরিবারে স্মরণাতীত কাল হতে চালু  আছে তা সেই পরিবারের পারিবারিক প্রথা নামে পরিচিত।

একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অবশ্যই থাকতে হবে-

(ক) প্রথাটি অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে।

(খ) ইহা নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের (opposed to public policy) পরিপন্থী হলে চলবে না।

(গ) ইহা আইনসভা কর্তৃক কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইলে চলবে না। যেমন একসময়ে হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে লর্ড বেন্টিংকের সময় রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহানুভব ব্যক্তিদের উদ্যোগে আইনসভা কর্তৃক উহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

(ঘ) প্রথাটিকে অবশ্য স্মরণাতীত কাল হইতে আরম্ভ হইয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে।
৬৬২.
কোন পরিস্থিতিতে স্ত্রী আলাদা থাকলেও ভরণপোষণ পেতে পারে?
  1. ধর্মত্যাগ করলে
  2. বন্দিদশায় থাকলে
  3. অন্যায়ভাবে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করলে
  4. যুক্তিসঙ্গত কারণে আলাদা বসবাস করলে
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে একজন স্ত্রী বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় স্বামী থেকে ভরণপোষণ পাবেন। ভরণপোষণ একজন স্ত্রীর আইনগত অধিকার। স্ত্রী যত দিন স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে এবং স্বামীর যুক্তিসংগত নির্দেশগুলো পালন করবেন, তত দিন ভরণপোষণ দিতে স্বামী বাধ্য। তবে স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে অস্বীকৃতি জানান বা অন্যভাবে তার প্রতি অবাধ্যতা দেখান, তাহলে স্ত্রী ভরণপোষণ পাবেন না। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক নাবালক স্বামীর পক্ষে তার পিতা ভরণপোষণ দেবেন। এমনকি স্ত্রী আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও সে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন। অর্থাৎ দেনমোহরের মতো ভরণপোষণের অধিকারও স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

কিন্তু যে স্ত্রী স্বামীর সাথে যৌনমিলন অস্বীকার করবে অথবা অন্য কোন প্রকার স্বামীর অবাধ্য হবে সে স্ত্রীকে ভরণপোষন দিতে স্বামী বাধ্য থাকবে না। (মিতা খান বনাম হেমায়েত বিবি, ১৪ ডিএলআর (হাইকোর্ট), পৃষ্ঠা-৪৫৫)। তবে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে স্ত্রী আলাদা বসবাস করলে স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। (মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সরকার বনাম মোসা. সোলেমান্নেসা (১৯৬৭, ১৯ ডি এল আর পৃষ্ঠা ৭৫১)।

স্ত্রী কখন ভরণপোষণ পাবে না-
১. স্ত্রী স্বামীর নিষেধাজ্ঞা সত্বেও যেখানে স্বামী অবস্থান করে সেখানে ভিন্ন অন্যত্র বসবাস করলে;
২. স্ত্রী বন্দিদশায় থাকলে। তবে স্বামী বন্দিদশায় থাকলে স্ত্রী ভরণপোষন হতে বঞ্চিত হবে না;
৩. স্ত্রী অন্যায়ভাবে অবাধ্য হয়ে স্বামীর অনুমতি ছাড়া অসংগত কারণে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করলে;
৪. স্ত্রী ধর্মত্যাগ করলে;
৫. স্ত্রীর অবাধ্যাচারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে;
৬. স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণে ইদ্দত পালনরত থাকলে; তবে শর্ত হলো যে, বিধবা অন্তঃসত্তা হলে গর্ব খালাস না অবধি খোরপোষ পাবে;
৭. স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে;

স্বামী যতই গরীব হোক না কেন, তাতে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট হয় না। স্ত্রীর খোরপোষ স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক। স্বামীর এ দায়িত্ব ব্যক্তিগত। তবে স্ত্রীর খোরপোষ বা ভরণপোষন শর্তসাপেক্ষে।
৬৬৩.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর বিধান অনুযায়ী, তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের নিকট প্রদানের পর কত দিন পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৬৬৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীদের প্রধানত ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
১) যাওয়িল ফুরূদ (নির্ধারিত অংশীদার): যাদের অংশ কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত (যেমন: স্ত্রী ১/৮, মা ১/৬, কন্যা ১/২ ইত্যাদি)।
২) আসাবা (অবশিষ্টাংশ ভোগী): যারা যাওয়িল ফুরূদ-এর পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পান (যেমন: পুত্র, পিতা, ভাই)।
৩) যাওয়িল আরহাম (দূরবর্তী আত্মীয়): যারা উপরের দুটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত নন, কিন্তু মৃতের রক্তের সম্পর্কিত আত্মীয় (যেমন: মামা, চাচী, নাতনি)।

৬৬৫.
'Doctrine of Cy-pres' -এর সাথে সম্পর্কযুক্ত-
  1. তালাক
  2. বিবাহ
  3. হেবা
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।
৬৬৬.
পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়েরের সময়সীমা কত দিন?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে রায় প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে। তবে নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় এই সময়সীমার মধ্যে ধরা হবে না।

– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ১৯(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে।

৬৬৭.
দত্তহোম বলতে কী বোঝায়?
  1. দত্তক গ্রহণের সময় সম্পদ দান
  2. দত্তক গ্রহণের পরে কোর্টে নিবন্ধন
  3. দত্তক গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন
  4. দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যজ্ঞানুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

দত্তহোম:
দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যদি কোন যজ্ঞানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহাকে দত্তহোম বলে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম অত্যাবশ্যক কিনা এই বিষয়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের নজীরে মতভেদ আছে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম করিতে হইবে হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে এই রকম কোন অবশ্য পালনীয় আদেশ (Mandatory provision of law) নাই।

ফলে, বাংলাদেশে দত্তহোম ব্যতীত অন্যান্য শর্তানুযায়ী দত্তক গ্রহণ করিলে তাহা (factum valet) নীতি অনুযায়ী সকল বর্ণের হিন্দুদের জন্য আইনত সিদ্ধ হইবে। তবে সাধারণত বিত্তবানরাই প্রয়োজনবোধে দত্তক নিয়া থাকেন এবং তাহারা এই উপলক্ষে দত্তহোম এবং সেই সঙ্গে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।

৬৬৮.
কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে, তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ______
  1. ইসতিসলাহ
  2. ইজতিহাদ
  3. ইসতিদলাল
  4. ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

⇒ অন্যান্য উৎসগুলো হলো-
ক. ইসতিহসান;
খ. ইসতিসলাহ;
গ. ইসতিদলাল;
ঘ. ইজতিহাদ;
ঙ. তকলিদ।

ইসতিহসান:
ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে, তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।
৬৬৯.
নিম্নের কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' স্বীকৃত?
  1. ভ্রাতুস্পুত্র
  2. প্রপৌত্র
  3. কন্যার পুত্র
  4. পিতার ভ্রাতা
ব্যাখ্যা
→ হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

- হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে- শুধুমাত্র পুত্র, পৌত্র (যার বাবা মৃত), প্রপৌত্র (যার বাবা ও পিতামহ দুজনই মৃত) উত্তরাধিকারী হিসেবে থাকলে, পৌত্রিক পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' বা Doctrine of Representation প্রযোজ্য হবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।

- সাধারণত একজন পুত্র, একজন পৌত্র এবং একজন প্রপৌত্র, তারা সকলেই একসঙ্গে পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার অর্জন করে থাকে। এর কারণ হলো- পৌত্র তার মৃত পিতার অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রপৌত্র তার মৃত পিতা ও পিতামহের অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
- 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' অনুসারে তারা সকলে অংশপিছু (Per-Stripes) সম্পত্তি পাবে, মাথাপিছু (Per-Capita) নয়।
৬৭০.
The Arabic word fatwa can mean-
  1. Explanation.
  2. Clarification.
  3. Belief
  4. A & B
ব্যাখ্যা
⇒ The Arabic word fatwa can mean “explanation” or “clarification.” It refers, in simple terms, to an edict or ruling by a recognized religious authority on a point of Islamic law. The process of issuing a fatwa usually begins when a Muslim, confronted with a problem of life, belief or law, is unsure what to do.

Let’s say, for example, that a Muslim man wonders whether he should accept the teaching position he has been offered at a religious school or continue working in his father-in-law’s better-paying commercial enterprise. Faced with such a question, the man may turn to a recognized religious authority to request an expert ruling, or fatwa, on the matter.

In general, Muslims solicit fatwas when in doubt regarding some point of conduct or when entangled in a dispute because they wish to avoid deviating from God’s dictates. They may believe that straying from the path of righteous conduct could jeopardize their entry into heaven. For them, the stakes are high.

⇒ Who issues a fatwa?
When seeking a fatwa, a Muslim can turn to a local cleric or a group of Islamic law scholars – ulama – who collaborate to render decisions, or to a trusted institution of religious learning.

Given the subjects that fatwas must address – matters ranging from personal hygiene, marital relations, inheritance law, lifestyle, or allegiance owed to one’s nation – an encyclopedic knowledge of Islamic law is required, including familiarity with fatwas that have already been issued.
৬৭১.
মুসলিম আইনে তালাক আহসান এবং তালাক হাসান হলো-
  1. জিহার
  2. ইলা
  3. তালাক-উস-বিদাত
  4. তালাক-উস-সুন্নাহ
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
৬৭২.
সপিণ্ড বলতে বোঝায়-
  1. দান গ্রহণকারী
  2. যিনি পিণ্ডদানের অধিকারী
  3. যিনি মৃত ব্যক্তির ঋণ শোধ করেন
  4. যিনি মৃত ব্যক্তির ঔরসজাত সন্তান
ব্যাখ্যা
সপিণ্ড:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড।

আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।

⇒ পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।
৬৭৩.
"নিবন্ধন না হলেও হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিবাহ বৈধ"- হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩(১)
  3. ধারা ৩(২)
  4. ধারা ৪(১)
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন:
(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না।
৬৭৪.
ইজতিহাদ শব্দের অর্থ কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. গবেষণা করা
  3. যুক্তি নির্ণয়
  4. অনুমান করা
ব্যাখ্যা

ইজতিহাদ:
ইজতিহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতিহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতিহাদ করতে হয়। 

ইসতিসলাহ:
ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিদলাল:
যেসব পুরোনো ধর্মের আইনগুলো কোরআনে বাতিল ও হাদিসে নিষেধ ঘোষণা করা হয়নি, তার ওপর নির্ভর করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা ইসতিদলাল। ইসতিদলাল হলো যুক্তি নির্ণীত সিদ্ধান্ত বা দলিল।

৬৭৫.
মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করলে কী ধরনের সাজার বিধান আছে?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার অর্থদণ্ড বা উভয়
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
মুসলমানের ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিবাহ সম্পূর্ণ হয়। শরিয়তের যেই সমস্ত বিধান উল্লেখ আছে তা প্রতিপালিত হলেই বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। বিবাহ রেজিস্ট্রি না করলে বিবাহ অসিদ্ধ হয় না। 

তবে, ১৯৭৪ সালের ৫২ নং আইন, মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেকরন আইন দ্বারা মুসলিম বিবাহকে রেজিষ্ট্রেকরন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা অমান্য করলে সাজার বিধানের কথা বলে হয়েছে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রিকরন আইনের ৫ ধারায় সাজা হতে পারে- ২ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন

বিবাহের রেজিষ্ট্রেশন কোরআন বা হাদিস দ্বারা প্রমানিত না তবে হাদিসের মধ্যে এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ; তবে হানাফি ফকীহদের মতে নিকাহের কিতাব অর্থাৎ বিবাহ সংঘটন সম্পর্কে লিখে রাখা মুস্তাহাব।
৬৭৬.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে ‘‘হিন্দু’’ অর্থ-
  1. বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন ব্যক্তি
  2. বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক
  3. মুসলিম ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসকারী অনন্য কোন ধর্মাবলম্বী নাগরিক
  4. হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ২ ধারার বিধান: সংজ্ঞা: বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
 (ক) ‘‘হিন্দু’’ অর্থ বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন নাগরিক;
৬৭৭.
ফাতেমা তার স্বামী ও ২ বোনকে রেখে মারা যায়। ফাতেমার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে স্বামীর মোট অংশ কত হবে?
  1. ৫/৬ অংশ
  2. ৪/৬ অংশ
  3. ৩/৭ অংশ
  4. ৪/৭ অংশ
ব্যাখ্যা
• স্বামী = ১/২ (সন্তান বা সন্তানের সন্তান নেই);
দুই বোন = ২/৩ [সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), পিতা, পিতার পিতা (যত উর্ধ্বে হোক) নেই];
 
স্বামীর অংশ = ১/২ = ৩/৬  অংশ,
দুই বোনের অংশ = ২/৩ = ৪/৬  অংশ,
 
মোট সম্পত্তি = ৩/৬ + ৪/৬ = ৭/৬, যা সম্পূর্ণ সম্পত্তি বা ১- এর চেয়ে বেশি।

এক্ষেত্রে আউলের নীতি প্রয়োগ করতে হবে-
 
ভগ্নাংশদ্বয়ের লবের যোগফল (৩+৪)=৭ কে হরের স্থানে প্রতিস্থাপন করে পাই:
 
স্বামী = ৩/৭  অংশ,
দুই বোন = ৪/৭  অংশ,

∴ মোট সম্পত্তি = ৩/৭ + ৪/৭ = ৭/৭ = ১ বা সম্পূর্ণ অংশ।
৬৭৮.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণ:
হিন্দু আইনের অধীনে অন্যের পুত্রকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে দত্তক গ্রহণ বলা হয়। এটি একটি সুপ্রাচীন প্রথা, যা রোমান আইনেও প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে হিন্দু আইন ছাড়া অন্যান্য আইনব্যবস্থায় দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো বিধান নেই।
→ দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:- হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে—একটি ধর্মীয় এবং অপরটি পার্থিব।

(১) ধর্মীয় কারণ:
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে, পুত্রহীন ব্যক্তি মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করতে পারে না। মুনি বশিষ্ঠ বলেছেন— "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোনো স্থান নাই।"
একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্রের কাছ থেকে পিণ্ড (শ্রাদ্ধের অর্ঘ্য) লাভের অধিকারী হন। যদি কারও এই উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে তিনি মৃত্যুর পর এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দত্তক গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম।
(২) পার্থিব কারণ:
মানুষ তার বংশপরম্পরা বজায় রাখতে চায়। দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিশ্চিত করতে পারেন যে তার নাম ও বংশ পরবর্তী প্রজন্মে বহাল থাকবে। তার মৃত্যুর পর তার দত্তকপুত্র উত্তরাধিকার বহন করবে, যা পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
৬৭৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- এ নতুন কোন বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে?
  1. আপিলে আপোষ ডিক্রি
  2. রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
  3. পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল
  4. আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ এর ৯ ধারায় আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ধারা ৯- আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন

এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, করণিক ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো কারণে পক্ষগণের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার জন্য আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, এইরূপ সংশোধনের আবেদন মোকদ্দমার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্তরূপ সংশোধনীর আদেশ প্রদান করিবে না।
৬৮০.
মুসলিম আইনানুযায়ী কোনটি ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য নয়?
  1. পয়ঃপ্রণালি নির্মাণ
  2. ভিক্ষুককে অর্থ দান
  3. মসজিদে আলোর ব্যবস্থা করা
  4. ১০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
- মালিকানার দাবি না রেখে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়৷ ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ অনুসারে কোন মুসলমান দ্বারা ধর্মীয় , পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা কে ওয়াকফ বলা হয়। যিনি ওয়াকফ করে তাকে ওয়াকিফ বলে।
-১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে যে:
কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়।

ওয়াকফ দুই প্রকারঃ-
১- ওয়াকফ লিল্লাহ (ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা) এবং 
২- ওয়াকফ আল-আওলাদ ( সম্পত্তি ওয়াকফ করে তার আয় হতে নিজের সন্তান সন্ততি বা তার বংশধর বা নিজের ভারণ পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে বংশধরদের মৃত্যুর পরে ওয়াকফ সম্পত্তির আয় দাতব্য বা ধর্মীয় কাজে ব্যয়িত হবে।

প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী, ওয়াকফ চিরস্থায়ী হতে এবং চিরতরে স্থায়ী উদ্দেশ্যে করা হয়। অর্থাৎ, উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে ‘১০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান’ যা চিরস্থায়ী নয়, তা ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে না।
৬৮১.
পারিবারিক আদালতে মোকদ্দমা চলাকালীন কখন আরজি সংশোধন করা যায়?
  1. লিখিত জবাব দাখিলের আগে
  2. আরজি দাখিলের ৭ দিনের মধ্যে
  3. মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে
  4. আরজি সংশোধন করার বিধান নেই
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ৯- আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন:
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, করণিক ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো কারণে পক্ষগণের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার জন্য আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে,
যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, এইরূপ সংশোধনের আবেদন মোকদ্দমার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্তরূপ সংশোধনীর আদেশ প্রদান করিবে না।
৬৮২.
দেবোত্তর সম্পত্তি যে রক্ষণাবেক্ষণ করেন, তাকে কী বলা হয়?
  1. সেবক
  2. মাহাতো
  3. সেবায়েত
  4. দেব রক্ষক
ব্যাখ্যা
⇒ মন্দির নির্মাণ করে তাতে দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত 'দেবোত্তর সম্পত্তি' বলে পরিচিতি পায়। আইনের দৃষ্টিতে এ রকম বিগ্রহ বা দেবতার মূর্তি একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন। এ রকম সম্পত্তির আইনি মালিক ওই বিগ্রহই। কারণ তার উদ্দেশে সেটি দান করা।

- মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবতার নিত্য পূজা- অর্চনার কাজে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই সেবায়েত। একজন সেবায়েত দেবতা বা বিগ্রহের যাবতীয় বিষয়ের কার্যনির্বাহীও বটে। দেবতা সম্পত্তির মালিক হলেও কার্যত সম্পত্তি পরিচালনায় সম্পূর্ণ অক্ষম। সেজন্য দেবতার পক্ষে তদীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন উপযুক্ত পরিচালকের প্রয়োজন। আর সে দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে সেবায়েতের উপর।

- দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত কে হবেন আর তার উত্তরাধিকার কারা হবেন, কোন নিয়মে হবেন তা সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে লেখা থকে। সেবায়েত দেবতার বিরুদ্ধে কাজ করলে বা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে প্রয়োজনে আদালত কর্তৃক অপসারণ করে অন্য সেবায়েত নিয়োগ করা যায়।
৬৮৩.
ইসলামি আইনে বিবাহকে প্রধানত কী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. সামাজিক বন্ধন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
  3. নৈতিক দায়িত্ব
  4. দেওয়ানি চুক্তি
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামি আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। ইসলামী আইনে বিয়ে হলো একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে পবিত্র বন্ধন। ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্য ছাড়াও এ বন্ধন সৃষ্টি হয় একটা আইনগত চুক্তির মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও বৈধ সন্তান জন্মদানের অধিকার লাভ করে। এ ছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে তাদের একে অন্যের ওপর যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য জন্মায়।

- Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

৬৮৪.
শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত কোন আদালত হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. দায়রা জজ
  2. জেলা জজ
  3. সহকারি জজ
  4. সিনিয়র সহকারি জজ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা- ২৭: Guardians and Wards Act, 1890 এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পারিবারিক আদালতকে জেলা আদালতরূপে গণ্যকরণ:

(১) পারিবারিক আদালত, Guardians and Wards Act, 1890 (Act No. VIII of 1890) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, District Court হিসাবে গণ্য হইবে এবং এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত আইনে বর্ণিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে উহাতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
 
(২) উক্ত Guardians and Wards Act- এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত আইনের অধীন District Court হিসাবে পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো আদেশের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে।
 
(৩) উপধারা (২) এর অধীন দায়েরকৃত আপিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৯ এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
৬৮৫.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, মহর সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য?
  1. মহরের অধিকার অর্ধেক কমে যায়
  2. মহরের অধিকার বিলুপ্ত করা হয়
  3. মহরের অধিকার স্বামীর কাছে স্থানান্তরিত হয়
  4. মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৫ অনুযায়ী, মহর (দেনমোহর) সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এই ধারাটি বিবাহ বিচ্ছেদের পরও মহরের অধিকার সংরক্ষণ করে। এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, মহরের অধিকার (দেনমোহর) অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অর্থাৎ, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও স্ত্রী তার মহরের সম্পূর্ণ বা যেকোনো অংশ পাবার অধিকার রাখেন।
এই বিধানটি মুসলিম পারিবারিক আইনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মহরকে স্ত্রীর একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৫ এর বিধানের উদ্দেশ্য হলো, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মহর হলো স্ত্রীর একটি আইনগত অধিকার, যা বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও তার প্রাপ্য।

সঠিক উত্তর: ঘ) মহরের অধিকার বিবাহ বিচ্ছেদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
কারণ, এই আইন অনুযায়ী, বিবাহ বিচ্ছেদের পরও মহরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে এবং স্ত্রী তার মহরের সম্পূর্ণ বা যেকোনো অংশ পাবার অধিকার রাখেন।
৬৮৬.
হিন্দু আইন অনুসারে একজন হিন্দু ব্যক্তি তার সম্পত্তির কত অংশ উইল করতে পারে?
  1. অর্ধেক
  2. সম্পূর্ণ সম্পত্তি
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. এক-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে উইল করার ক্ষেত্রে:
- হিন্দু আইন একজন ব্যক্তিকে তার সম্পূর্ণ সম্পত্তি উইল করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। উইলকারী চাইলে তার সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তিকে উইল করতে পারেন।

⇒ হিন্দু আইন অনুসারে:
- উইলকারীর সম্পত্তির উপর পূর্ণ মালিকানা ও হস্তান্তরের অধিকার রয়েছে।
- উত্তরাধিকারীর সম্মতির প্রয়োজন নেই।
- উইলকারীর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।

⇒ মুসলিম আইনের সাথে পার্থক্য:
- মুসলিম আইন: সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ উইল করতে পারে (ওয়ারিশদের সম্মতি ছাড়া)।
- হিন্দু আইন: কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, সম্পূর্ণ সম্পত্তি উইল করতে পারে।

⇒ উইল হচ্ছে নিজের অবর্তমানে কাউকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তবে কোনো মুসলমান তাঁর দাফন-কাফনের ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না। অর্থাৎ উইলের ক্ষেত্রে পুরো সম্পত্তি দিয়ে যেতে পারবেন না। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা হয়, তাহলে সে উইল কার্যকর করা যাবে না।
তবে সম্পত্তির উইলের ক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে এর বেশিও উইল করা যাবে। দান সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হয়। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তবে নাবালক সন্তান থাকলে দানের ক্ষেত্রে সন্তান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে।

- একজন হিন্দু ব্যক্তিও তাঁর সম্পত্তি উইল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন হিন্দু ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি উইল করতে পারেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত থেকে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে উইলের প্রমাণ। যেকোনো হেবা বা দান লিখিত আকারে হতে হবে তা রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।

৬৮৭.
Areeat শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত -
  1. বিক্রয়
  2. উইল
  3. ওয়াকফ
  4. দান
ব্যাখ্যা
আরিয়াত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়াত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়াত চাইলে রদ করা যায়।

অর্থাৎ আরিয়াত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।
৬৮৮.
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিত কোন মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি পেতে পারে, যদি তাকে তার অভিভাবক _______ বয়সের আগে বিয়ে দিয়ে থাকে এবং সে ______ বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিবাহটি বাতিল করে।
  1. ১৬ বৎসর, ১৮ বৎসর
  2. ১৮ বৎসর, ২০ বৎসর
  3. ১৮ বৎসর, ১৯ বৎসর
  4. ১৮ বৎসর, ২১ বৎসর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৬৮৯.
তালাক-উস-সুন্নাহ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক);
খ. তালাক হাসান (অনুমোদিত তালাক)।

তালাক-ই-আহসান: 
স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

তালাক-ই-হাসান: 
স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।

৬৯০.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীনে একজন পুরুষ যদি দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতির জন্য আবেদন করেন, তাহলে এটি কোন সংস্থার কাছে করা হবে?
  1. আঞ্চলিক পুলিশ
  2. পারিবারিক আদালত
  3. আর্বিট্রেশন কাউন্সিল
  4. নিকাহ রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, একজন পুরুষ যদি দ্বিতীয় বিবাহের জন্য অনুমতির আবেদন করেন, তাহলে এটি আর্বিট্রেশন কাউন্সিল এর কাছে করা হবে।
- ধারা ৬(১) অনুযায়ী, একজন পুরুষ যদি বর্তমান বিবাহের সময় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তবে তাকে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। আবেদনকারীকে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে, এবং পরবর্তীতে একটি আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করা হবে যা বিবাহের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ অনুযায়ী:
- কোনো পুরুষ যদি বর্তমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করতে চান, তাহলে আর্বিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নিতে বাধ্য।
- আবেদন ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে (ধারা ৬(২))।
- চেয়ারম্যান স্বামী ও বর্তমান স্ত্রী(দের) প্রতিনিধি নিয়ে আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন (ধারা ৬(৩))।
- কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ও ন্যায্যতা যাচাই করে অনুমতি দিতে পারে।
- অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে শাস্তি: ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৬(৫))।
- দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক: অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) আর্বিট্রেশন কাউন্সিল।