বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৯০

৫০১.
সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত ২য় বিয়ে করলে, The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫০০০ টাকা
  2. ১০০০০ টাকা
  3. ১৫০০০ টাকা
  4. ২০০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ১০০০০ টাকা।

• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৫০২.
Abdul Kadir Vs. Salima (1886) মামলায় আদালত মুসলিম বিবাহকে কী বলে আখ্যায়িত করেছে?
  1. পবিত্র বন্ধন
  2. ধর্মীয় অনুষ্ঠান
  3. এক ধরনের চুক্তি
  4. সামাজিক অনুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) এক ধরনের চুক্তি।

Abdul Kadir v Salima (1886):
ঘটনার বিবরণ:
Abdul Kadir ও Salima বিয়ের পর তিন মাস সুখে সংসার করেন। পরে Salima তার বাবার বাড়ি গেলে তার বাবা তাকে Abdul Kadir–এর কাছে ফিরে যেতে দেননি। তাই Abdul Kadir তার স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের (Restitution of Conjugal Rights) মামলা করেন।

প্রতিবাদীরা (স্ত্রী ও শ্বশুর) আদালতে তিনটি কারণ দেখানঃ
- বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে;
- ক্রূরতা (Cruelty);
- মোহর (Dower) প্রদান করা হয়নি।

আদালত প্রথম ও তৃতীয় কারণ (বিবাহবিচ্ছেদ ও ক্রূরতা) বাতিল করলেও মোহর প্রদান না করার যুক্তি বৈধ বলে স্বীকার করে। যদিও বিয়ের আগে মোহরের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করা হয়নি, আদালত বলে দেন – মোহর (prompt dower) আগে দিতে হবে।

Abdul Kadir পরে পুরো মোহর আদালতে জমা দেন। আদালত শর্তযুক্ত রায় দেন যে, মোহর প্রদান করলে তিনি তার স্ত্রীকে ফেরত পেতে পারেন। কিন্তু উভয় পক্ষই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

আপিল আদালত Abdul Kadir–এর আপিল খারিজ করে দেয়, কারণ মামলার শুরুতেই তিনি মোহর দেননি; তাই তার মামলার “দাঁড়ানোর অধিকার” (standing) ছিল না।

সবশেষে বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাইকোর্টের পূর্ণ বেঞ্চে যায়, যেখানে মোহর না দেওয়া থাকলে স্বামীর দাবির গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না – সে প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুক্তি:
আপিলকারী (Abdul Kadir): দাবী করেছিলেন যে, বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার মোহর প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।প্রতিবাদকারী: স্বামীর মামলা খারিজ হওয়া উচিত, কারণ মাহর প্রদান হয়নি।

রায়:
জাস্টিস সায়েদ মাহমুদ-এর মতামত (পূর্ণ বেঞ্চ দ্বারা অনুমোদিত) তিনটি মূল বিষয়ে কেন্দ্রীভূত:
১. মুসলিম বিবাহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আইনগত চুক্তি।
২. মাহরের প্রকৃতি এবং এর প্রভাব স্বামীর বিবাহিত অধিকার পুনরুদ্ধারের অধিকার-এর উপর।

৫০৩.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালককে কী বলা হয়?
  1. ট্রাস্টি
  2. সেবায়েত
  3. পুরোহিত
  4. মন্দির ব্যবস্থাপক
ব্যাখ্যা

⇒ সেবায়েত (Shebait) হলো হিন্দু আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি (Debottar Property) বা মন্দিরের আইনি ও ধর্মীয় পরিচালক।
- দেবোত্তর সম্পত্তি হলো যে সম্পত্তি মন্দির বা দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়।
- এই সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন সেবায়েত, যিনি দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

সেবায়েতের ভূমিকা ও বৈশিষ্ট্য:
- সেবায়েত মন্দির বা দেবতার সেবক হিসেবে কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
- তিনি দেবতার আইনি প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচিত হন।

নিয়োগ:
- সাধারণত বংশানুক্রমিক (পরিবার বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে)।
- কিছু ক্ষেত্রে ট্রাস্ট বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারেন।

ক্ষমতা:
- সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা।
- Legal Necessity (আইনসম্মত প্রয়োজন) থাকলে সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারেন (আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে)।

সীমাবদ্ধতা:
- সেবায়েত স্বেচ্ছায় সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না (যেমন: ব্যক্তিগত লাভের জন্য)।
- দেবোত্তর সম্পত্তির আয় শুধু ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করতে হয়।

৫০৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন গঠিত সালিশী কাউন্সিলের জারিকৃত সার্টিফিকেট অনুযায়ী প্রদেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করলে, বকেয়া কী হিসেবে আদায়যোগ্য হবে?
  1. জরিমানা
  2. অর্থদণ্ড
  3. ক্ষতিপূরণ
  4. ভূমি রাজস্ব
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী প্রদেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

৫০৫.
কয়টি ক্ষেত্রে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হয়?
  1. ৪ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
ইদ্দত (Iddat):

ইদ্দত শব্দের অর্থ হলো- অপেক্ষা করা। যেকোনো নারীর বিবাহ সমাপ্ত হলে, তাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য যে সময়কাল অবশ্যই অপেক্ষা করতে হয় তাকে ইদ্দত বলে। একজন নারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনকালীন সময় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

দুটি ক্ষেত্রে একজন নারীর ইদ্দত পালন করতে হয়-
⇒ প্রথমত স্বামী মৃত্যুবরণ করলে,
⇒ দ্বিতীয়ত তালাকপ্রাপ্ত হলে।

সময়কাল:
ক) তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী গর্ভবতী হলে, সন্তান জন্মদান পর্যন্ত। গর্ভবতী না হলে ৩ মাস/ ৩টি মাসিক সময়কাল পর্যন্ত।
খ) স্বামী মারা গেলে মৃত্যুর পর ৪ মাস ১০ দিন (গর্ভবতী না হলে), গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত বা ৪ মাস ১০ দিন, যেটা পরে ঘটে।
৫০৬.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) নিয়মাবলি কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৭৫
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৩৭
  4. ১৯৬১
ব্যাখ্যা
Section 14. Power to make rules:
(1) The Government may, by notification in the official Gazette, make rules to carry into effect the purposes of this Act. 
(2) In particular and without prejudice to the generality of the foregoing power, such rules may provide for- 
(a) qualifications to be required from persons to whom licences under section 4 may be granted; 
(b) fees payable to a Nikah Registrar for registration of a marriage or divorce; 
(c) any other matter for which rules are required to be made.

⇒ The Muslim Marriage and Divorces (Registration) Act, 1974-এর ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে ' মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা/নিয়মাবলি ১৯৭৫'-প্রণয়ন করা হয়।

এবং এটিকে রহিত করা হয় 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা, ২০০৯'-এর ৪১ বিধির ক্ষমতাবলে। ২০০৯ সালের বিধিমালা ২০১১ সালে পুনরায় সংশোধিত হয়। বর্তমানে এই বিধিমালার অধীনে কাবিননামা অর্থাৎ বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে।
৫০৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, উক্ত নিবন্ধকের-
  1. জরিমানা হতে পারে
  2. নিয়োগ স্থগিত করতে পারে
  3. দেওয়ানি কারাগারে দণ্ডিত হতে পারে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২
 
ধারা ১৪- নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ:
 
সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
৫০৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার কয়টি?
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার: 
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-

(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

অর্থাৎ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার এই ৫টি উল্লেখ্য আছে। 
৫০৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অতিরিক্ত সময় চাইলে সর্বোচ্চ কত দিন দেওয়া যেতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী বিবাদী সমন প্রাপ্তির পর লিখিত জবাব দাখিল করবে।
- যদি সে নির্ধারিত দিনে জবাব দাখিল করতে না পারে, তবে সময় প্রার্থনা করতে পারে।
- আদালত যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখলে তাকে অতিরিক্ত সময় দিতে পারে, তবে এই অতিরিক্ত সময় সর্বাধিক ২১ দিন হতে পারবে।
- অর্থাৎ, মূল নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদালত সর্বোচ্চ ২১ দিনের বেশি সময় দিতে পারবে না।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৫১০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা অনুযায়ী, উভয়পক্ষের অনুরোধে আদালত কি করবে?
  1. রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি করবে
  2. শুনানি স্থগিত রাখবে
  3. উন্মুক্ত কক্ষে শুনানি করবে
  4. মোকদ্দমার কার্যধারা বাতিল করবে
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
৫১১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন বিচারের স্থান হতে পারে-
  1. যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল
  2. যে স্থানে অভিযোগকারী বাস করে
  3. যে স্থানে আসামী বাস করে
  4. উল্লিখিত সকল স্থান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১

ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
৫১২.
Which two main sects exist among Muslims?
  1. Hanafi and Shafi
  2. Sunni and Shia
  3. Maliki and Hanbali
  4. None of them
ব্যাখ্যা
ইসলামী আইনের স্কুলসমূহ:
মুসলিমদের মধ্যে দুটি প্রধান মতবাদ রয়েছে। তারা হলো সুন্নি এবং শিয়া। বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম সুন্নি সম্প্রদায়ের অনুসারী।
সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে চারটি প্রধান ইমাম আছেন, যাদের মাধ্যমে চারটি ভিন্ন চিন্তাধারার সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলি হলো:
১. হানাফি ২. শাফি ৩. মালিকি ৪. হানবালি

সুন্নি এবং শিয়া মুসলিমদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল, তারা বিশ্বাস করেন কি না যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার উত্তরাধিকারী হিসাবে কাউকে নির্ধারণ করেছিলেন।
সুন্নি মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কোন উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেননি, তবে শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার চাচাতো ভাই এবং জামাই হজরত আলী (রাঃ) কে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
৫১৩.
মুসলিম আইন অনুযায়ী, স্বামী কি স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করতে বাধ্য?
  1. না, এটি ইচ্ছাধীন
  2. হ্যাঁ, তবে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব
  3. না, তবে স্ত্রীর ইচ্ছা হলে দিতে হবে
  4. হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য।
৫১৪.
হিন্দু আইনে দানের বৈধতা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য
  4. উল্লিখিত সবগুলাই সঠিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে। 

→ হিন্দু আইনে, দানের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার আগে, দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল পেতে হবে। দানের বিষয়বস্তুর দখল দেওয়া ছাড়া দান কার্যকর হয় না।
- হিন্দু আইনে, দান সম্পন্ন হওয়ার জন্য দানগ্রহীতাকে সম্পত্তির দখল নিতে হবে। দান কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন। দানের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর ঘটে, তবে দানের বিষয়বস্তুর দখল নিলে তবেই সেটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে পূর্ণ হয়।

বাকি অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: এটি সঠিক নয়, কারণ মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দান হিন্দু আইনে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
গ) দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য: এটি সঠিক নয়, কারণ একবার দান করার পর তা প্রত্যাহার করা যায় না।

৫১৫.
মুসলিম উত্তরাধিকার সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না
  2. হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না।
  3. জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
ব্যাখ্যা
- মুসলিম উত্তরাধিকার অনুযায়ী 'তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না' এই কথাটি সত্য নয়।
অর্থাৎ স্ত্রীকে তালাক দিলেও ঐ স্ত্রীর সন্তানগুলো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
৫১৬.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান কারণ কী?
  1. ধর্মীয় ও পার্থিব
  2. সামাজিক ও আইনি
  3. পার্থিব ও অর্থনৈতিক
  4. ধর্মীয় ও আইনি
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
৫১৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কয় শ্রেণির উত্তরাধিকারীরা কখনো বঞ্চিত হয় না?
  1. ৪ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৫ শ্রেণির
  4. ৬ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
উত্তরাধিকার [Inheritance]:

মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:

১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।

⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:

১/ স্বামী
২/ স্ত্রী
৩/ পিতা
৪/ মাতা
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।
৫১৮.
যখন কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে একাধিক সমাধান থাকে, তখন ইসলামি আইনজ্ঞরা সর্বাধিক গ্রহণীয় সমাধান গ্রহণ করবে এটা কি নামে পরিচিত?
  1. কিয়াস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
৫১৯.
একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর কত শতাংশ সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• উইল বা অসিয়ত:
কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষণাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয়সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছাপত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।
- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।
- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয়, তবে উইলকারীর উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
৫২০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কোর্ট ফি কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি: 
- পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।
৫২১.
Which one is chronologically correct in case of making demand for 'right to pre-emption'?
  1. talab-i-tamlik>talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat
  2. talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
  3. talab-i-mwasibat> talab-i-tamlik> talab-i-ishhad
  4. talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat> talab-i- tamlik
ব্যাখ্যা
শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করিলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করিয়া উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করিতে পারেন। মুসিলম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকার কে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলে।

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
৫২২.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা র্অথদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৩০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
৫২৩.
হিন্দু বিধবার সম্পত্তির [Widow's Property] ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে
  2. সাধারণত চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে না
  3. একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
  4. কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি: [Widow's Property]

কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না। স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

অর্থাৎ এমন সম্পত্তির উপর মহিলার কোন একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না এবং তিনি এমন সম্পত্তি ইচ্ছানুসারে হস্তান্তর করতে পারে না। বিধবার সম্পত্তি কোন হিন্দু নারী চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করার অধিকারী না হলেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে-

১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে;
২) আইনগত প্রয়োজনে;
৩) সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে।
৫২৪.
Marz-ul-maut means-
  1. Gifts made during one's deathbed.
  2. A conditional gift.
  3. A long-standing disease.
  4. Either (A) or (B) or (C)
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.
৫২৫.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. সরকার
  2. দানকারী
  3. সেবায়েত
  4. মন্দির কমিটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) সেবায়েত

- দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হলো সেবায়েতের। সেবায়েত হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দেবতার পূজা, সেবা এবং সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- যদিও দেবতা বা বিগ্রহ সম্পত্তির আইনি মালিক, তার পক্ষে নিজে তা পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সেবায়েতকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। 
- সেবায়েত, দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন।
- সেবায়েতের দায়িত্ব, তার নিয়োগ এবং তার উত্তরাধিকার সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে উল্লেখ থাকে।
৫২৬.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইনানুযায়ী মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক ____।
  1. বৈধ
  2. স্ত্রীর সম্মতিতে কার্যকর
  3. অবৈধ
  4. মৃত্যু না হলে কার্যকর
ব্যাখ্যা
তালাক: তালাক অর্থ হলো স্বামী কর্তৃক তার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করা। অন্যভাবে বলতে গেলে স্বামীর পক্ষ হতে বিবাহ-বিচ্ছেদ কার্যকর করা হলে তাকে তালাক বলা হয়। বয়ঃসন্ধিতে পদার্পণ করেছেন বা পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছেন এমন সুস্থ মস্তিষ্কের যেকোন মুসলমান ব্যক্তি কোনরূপ কারণ না দর্শিয়ে ইচ্ছানুযায়ী নিজ স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে।
- তালাক মৌখিক বা লিখিত হতে পারে।
- স্ত্রীর অনুপস্থিতেও তালাক প্রদান করা যায়।

- মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক বৈধ বলে গণ্য হবে এবং তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে; ইদ্দতকালে স্বামী মারা গেলেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
৫২৭.
সুন্নি মুসলিম আইনে বিবাহের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকলে বিবাহটি -
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. মুত‘আ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম সুন্নি পারিবারিক আইনে বিবাহের বৈধতা ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিবাহকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১. বৈধ (সহিহ / Valid)
২. বাতিল (Void)
৩. অনিয়মিত (ফাসিদ / Irregular)

১. বৈধ বিবাহ (সহিহ / Valid)
-  এমন বিবাহ যেখানে সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে (যেমন: স্বাধীন সম্মতি, সাক্ষীর উপস্থিতি, মোহর নির্ধারণ ইত্যাদি)।
- এ ধরনের বিবাহ পূর্ণ আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব (যেমন দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: দু’জন মুসলিমের মধ্যে বা একজন মুসলিম পুরুষের সাথে একজন আহলে কিতাব (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) নারীর বিবাহ।
২. বাতিল বিবাহ (Void)
- এটি চিরতরে অবৈধ বিবাহ। আইনের মৌলিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে বিবাহটি বাতিল হয় (যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা দুধভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ)।
- এই বিবাহ কোনো আইনগত বৈধতা পায় না এবং এটিকে কখনোই সংশোধন করে বৈধ করা যায় না। এর কোনো আইনগত ফলাফল নেই (দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারের অধিকার সৃষ্টি হয় না) এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান অবৈধ বলে গণ্য হয়।
৩. অনিয়মিত বিবাহ (ফাসিদ / Irregular)
- এটি আপাতদৃষ্টিতে অবৈধ কিন্তু সংশোধনযোগ্য বিবাহ। কিছু অস্থায়ী বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে (যেমন: প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর অভাব, মোহর নির্ধারণ না করা, বিদ্বেষপূর্ণ অসাম্য ইত্যাদি) বিবাহটি অনিয়মিত হয়। ত্রুটি দূর করা গেলে (যেমন: সাক্ষী যোগ করা, মোহর নির্ধারণ করা) বিবাহটি বৈধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে সব আইনগত ফলাফল প্রযোজ্য হয়।তবে ত্রুটি না দূর করা পর্যন্ত এটি অবৈধই থাকে।

উল্লেখ্য, মুত‘আ বিবাহ হলো এক ধরনের অস্থায়ী বা সাময়িক বিবাহ, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহরের বিনিময়ে নারী-পুরুষ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সময়সীমা শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভঙ্গ হয়, তালাকের প্রয়োজন হয় না। সুন্নি ইসলামে মুত‘আ বিবাহ হারাম এবং কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। শিয়া ইসলামে: বিশেষত ইরানের কিছু অঞ্চলে এখনো চুক্তিভিত্তিক মুত‘আ বিবাহ প্রচলিত আছে।

৫২৮.
পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত ______________ পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর ধারা ৪- পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

৫২৯.
'Areeat' শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত-
  1. দান
  2. বিক্রয়
  3. উইল
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
- আরিয়ত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়ত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়ত চাইলে রদ করা যায়।
অর্থাৎ আরিয়ত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।

- দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে আরিয়ত (Areeat) বলে।
৫৩০.
‘তলব-ই-মৌসিবত’ বলতে কী বোঝায়?
  1. সাক্ষীর সামনে দাবী করা
  2. আদালতে মামলা করে দাবী প্রকাশ
  3. সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা
  4. বিক্রয় সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দাবী প্রকাশ
ব্যাখ্যা
মুসলীম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দাবী উত্থাপনের পদ্ধতি:

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ) :
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে।এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। তলব-ই-ইশাদ ঘোষণা আকারে ও হতে পারে, লিখিত আকারেও হতে পারে। আবার মৌখিক আকারেও হতে পারে। ইতিপূর্বে প্রথম দাবী করা না হয়ে থাকলে তলব-ই-ইশাদ অকার্যকর হবে। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক) :
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
৫৩১.
ইসতিদলাল বলতে কী বোঝায়?
  1. জনকল্যাণ
  2. ধর্মীয় অনুশীলন
  3. শরিয়া বাতিল করা
  4. যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
৫৩২.
নিম্নলিখিত কোন পরিস্থিতিতে উমরিয়াতান নীতি প্রযোজ্য নয়?
  1. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  2. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে
  3. পিতা ও সন্তান শুধু উত্তরাধিকারী হলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

Doctrine of Umariyatan (উমারিয়াতান নীতি):
উমারিয়াতান হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নীতি, যা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো মায়ের অংশকে পিতার অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, যাতে মা পিতার চেয়ে বেশি অংশ না পান।

মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার শর্ত:
মাতা ১/৩ অংশ পাওয়ার অধিকারী হবেন যদি নিম্নলিখিত দুটি শর্ত পূরণ হয়:
১. মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যেমন: নাতি-নাতনি) না থাকে।
২. মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই বা বোন না থাকে (এক ভাই বা এক বোন থাকলে মাতা ১/৩ পাবেন)।

উমারিয়াতান নীতির প্রয়োগ:
উমরিয়াতান নীতি বিশেষভাবে প্রয়োগ হয় যখন নিম্নলিখিত দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়:
১. বাবা, মা, স্বামী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।
২. বাবা, মা, স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হলে।

- এই পরিস্থিতিতে মাতা সরাসরি ১/৩ অংশ না পেয়ে, পিতার অংশ বণ্টনের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।

৫৩৩.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১০(৬) অনুযায়ী,
- যদি কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহলে তিনি ডিক্রি প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করে ডিক্রি বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, তার অনুপস্থিতির যথার্থ কারণ ছিল (যেমন: অসুস্থতা, সমন না পাওয়া ইত্যাদি)।
আদালত প্রয়োজন মনে করলে শর্তসাপেক্ষে (যেমন: খরচ জমা দেওয়া) ডিক্রি বাতিল করতে পারবে।

উল্লেখ্য:
- Limitation Act, 1908 এর Section 5 অনুযায়ী, বিশেষ কারণে এই ৩০ দিনের মেয়াদ আদালত বাড়াতে পারে।
- তবে সাধারণত ৩০ দিনই স্ট্যান্ডার্ড সময়সীমা।
- একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন ডিক্রি প্রদানকারী আদালতেই করতে হয়।
- বাদীকে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক (ধারা ১০(৬) এর শর্ত)।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ৩০ দিন।
৫৩৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করলে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ৫,০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ২০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুসারে, যদি কোনো পুরুষ বিদ্যমান বিবাহ থাকা অবস্থায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন বিবাহ করেন, তবে তিনি অনধিক ১ (এক) বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
- এছাড়া, এ ক্ষেত্রে তাকে তার বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর (Prompt ও Deferred) অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৫) অনুযায়ী জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৫৩৫.
'ক' একজন মুসলিম হানাফী ব্যক্তি বাবা, স্ত্রী, দুই ভাই ও এক মেয়েকে রেখে মারা যান। এক্ষেত্রে তার সম্পত্তিতে ভাইরা কত অংশ পাবে?
  1. ৩/২৪ অংশ
  2. ৪/২৪ অংশ
  3. ৯/২৪ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:
উল্লিখিত প্রশ্নে,
⇒ স্ত্রী পাবে সম্পত্তির ১/৮ বা ৩/২৪ অংশ [যেহেতু সন্তান আছে];
⇒ মেয়ে পাবে সম্পত্তির ১/২ বা ১২/২৪ অংশ [যেহেতু একমাত্র কন্যা] এবং
⇒ বাবা অংশীদার হিসেবে ১/৬ বা ৪/২৪ অংশ [ যেহেতু মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান আছে];

মোট= ১/৮ + ১/২ + ১/৬ অংশ।
= ১৯/২৪ অংশ।

অবশিষ্ট= ১ - ১৯/২৪ অংশ
= ৫/২৪ অংশ।

[যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।]

অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাবা বাকি ৫/২৪ অংশ পাবে।

উল্লেখ্য, বাবা জীবিত থাকায় এক্ষেত্রে ভাইয়েরা কোন সম্পত্তি পাবে না।

৫৩৬.
কোন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম স্ত্রী আদালতে তালাক চাইতে পারবেন?
  1. স্বামী পাঁচ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে
  2. তিন বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  3. দুই বছর স্বামী ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৫৩৭.
সপ্রতিবন্ধ দায়ে উত্তরাধিকার লাভ হয়-
  1. জন্মসূত্রে
  2. মৃত্যুর পর
  3. উইল থাকলে
  4. আদালতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

৫৩৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী তালাকের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার পর কত দিন পর তালাক কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৫৩৯.
দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী কী ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন?
  1. দান হিসেবে
  2. জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে
  3. অস্থায়ী ভাড়া ভিত্তিতে
  4. স্থায়ী মালিকানা ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

⇒ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুযায়ী, বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তির অধিকার "জীবনস্বত্ব" (Life Estate) ভিত্তিক।  এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সীমিত স্বত্ব:
- বিধবা স্ত্রী সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেন (যেমন: ফসল তোলা, বাস করা)।
- জরুরি প্রয়োজনে বিক্রিও করতে পারেন (যদি আদালত অনুমোদন দেয়)।
স্থায়ী মালিকানা নয়:
- তিনি সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিক নন।
- তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি স্বামীর উত্তরাধিকারীদের (পুত্র, পৌত্র ইত্যাদি) কাছে ফিরে যায়।
১৯৩৭ সালের আইনের প্রভাব:
- হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৯৩৭ অনুযায়ী বিধবা পুত্রের সমান অংশ পান, কিন্তু তা শুধু জীবনস্বত্ব হিসেবে।

উদাহরণ:
যদি স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে এক পুত্র ও এক বিধবা স্ত্রী থাকেন, তবে:
- পুত্র পাবে ৫০% (স্থায়ী মালিকানা)।
- বিধবা পাবেন ৫০% (জীবনস্বত্বে), যা তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র বা স্বামীর অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরে যাবে।

৫৪০.
"যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য" এটি কীসের মূল বক্তব্য?
  1. ইসতিহসান [Istihsan]
  2. ইসতিসলাহ [Istislah]
  3. ইসতিদলাল
  4. ইজতিহাদ
ব্যাখ্যা
⇒ ইসতিসলাহ : ইমাম মালেকের মতে, যা জনকল্যাণমূলক তাই গ্রাহ্য; এটি ইসতিসলাহের মূল বক্তব্য। ইমাম মালেক এ নীতির প্রবর্তক এবং এ নীতিকেই ইসতিসলাহ বলা হয়।
 
তাঁর মতে এটি আইনের একটি উৎস। মালেকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি মোটেই জনপ্রিয় হয়নি। মালিকী মাযহাবের আইনবিজ্ঞানীদের অনেকের মতেই এ নীতি এতই অস্পষ্ট এবং অনির্দিষ্ট যে, এর ওপর ভিত্তি করে কোনো আইনগত সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। মালেকী মাযহাবের আইন-বিজ্ঞানীগণ কখনও এ উৎসের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেননি।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

⇒  ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৫৪১.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নিম্নের কে নারী সপিণ্ড নয়?
  1. কন্যা
  2. মাতা
  3. বোন
  4. পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা;
৫. পিতার পিতার মাতা।
৫৪২.
The second important source of Islamic law is-
  1. Quran
  2. Qiyas
  3. Hadith.
  4. Ijma
ব্যাখ্যা
⇒ Sunnah/Hadith as a source of law: Hadith is the second source of Islamic law. In some cases, it interprets the Qur'an, complements the Qur'an and lays down new principles and laws as well. There are mainly three types of Hadith, which include the words spoken by Prophet (sm), the works done by Prophet (sm) and the works to which the Prophet (sm) consented as valid.

⇒ Hadith has come to us through the chains of narration (sanad). Depending on the number and personal qualities of the narrators at different stages, hadith also have been graded in different categories like, mashhur, mutawatir, wahid, etc. Hadith, the narration of which could not be proved as completely reliable is known as 'weak' or 'dhaif Hadith.
৫৪৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, দেনমোহরের ক্ষেত্রে আপিল দায়েরের জন্য ন্যূনতম কত টাকার ডিক্রি থাকা প্রয়োজন?
  1. ৪০ হাজার
  2. ৫০ হাজার
  3. ৭৫ হাজার
  4. ১ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৯ ধারার বিধান: আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি: 
(১) পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে পারিবারিক আপিল আদালতে আপিল দায়ের করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাইবে না, যথা:-
(ক) Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 (Act No. VIII of 1939) এর section 2 এর clause (viii) এর sub-clause (d) তে বর্ণিত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ; এবং
(খ) দেনমোহরের ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার ডিক্রি ।
(২) কোনো আপিল সংশ্লিষ্ট রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে উহার নকল সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পারিবারিক আপিল আদালত উপযুক্ত কারণে উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) যেকোনো আপিল-
(ক) লিখিত আকারে হইবে;
(খ) আপিলকারী যে কারণে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরোধিতা করিতেছেন তাহার কারণ উল্লেখ করিতে হইবে;
(গ) পক্ষগণের নাম, বর্ণনা ও ঠিকানা উল্লেখ করিতে হইবে; এবং
(ঘ) আপিলকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।
(৪) আদালতের যে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে উহার একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি আপিলের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৫) পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ, যথাশীঘ্র সম্ভব, পারিবারিক আদালতকে অবহিত করিতে হইবে এবং উক্ত আদালত তদনুসারে রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরিবর্তন বা সংশোধন করিবে এবং ডিক্রি রেজিস্টারের যথাযথ কলামে সেই মর্মে প্রয়োজনীয় অন্তর্ভুক্তির কার্য সম্পাদন করিবে।
(৬) ধারা ১৮ অধীন জেলা জজ আদালত পারিবারিক আপিল আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালনকালীন কোনো আপিল অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আদালত হইতে স্থানান্তরকৃত কোনো আপিল প্রত্যাহার করিতে পারিবে।

৫৪৪.
'A marriage between Hindus, which is otherwise valid, shall not be invalid by reason only of belonging to the same gotra.' - কোন আইনে এই বিধান রয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Act,1856
  2. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
ব্যাখ্যা

The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 - Section 2: একই গোত্র, প্রবর বা জাতির উপ-বিভাগের মধ্যে বিবাহ:
হিন্দু আইন, হিন্দু প্রথা বা ব্যবহার অনুযায়ী কোনো বিধান থাকলেও, যদি বিবাহটি অন্যভাবে বৈধ হয়, তা কেবল নিম্নলিখিত কারণে অগ্রহণযোগ্য হবে না:
(ক) উভয় পক্ষ একই গোত্র বা প্রবর এর অন্তর্ভুক্ত।
(খ) উভয় পক্ষ একই জাতির বিভিন্ন উপ-বিভাগের অন্তর্গত।

অর্থাৎ:
যদি হিন্দু বিবাহের অন্যান্য বৈধ শর্ত পূরণ হয়, তবে শুধুমাত্র একই গোত্র/প্রবর বা একই জাতির উপ-বিভাগের পার্থক্য বিবাহকে অবৈধ করতে পারবে না।

৫৪৫.
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে-
  1. তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে
  2. ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের অধীন মামলা করতে পারবে না
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
৫৪৬.
হিন্দু আইনের কোন স্কুলটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়?
  1. মিতাক্ষরা
  2. দায়ভাগ
  3. বেনারস
  4. মিথিলা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের দুটি প্রধান স্কুল হলো মিতাক্ষরা এবং দায়ভাগ। দায়ভাগ স্কুল জিমুতবাহনের রচিত দায়ভাগ গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়। এই স্কুলটি উত্তরাধিকার নীতিতে আধ্যাত্মিক উপকার বা ধর্মীয় কার্যকারিতা (Doctrine of Oblations) এর উপর জোর দেয়। এতে পুত্রদের জন্মগত সম্পত্তির অধিকার নেই, এবং পরিবারের নারীরাও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সহ-উত্তরাধিকারী (coparcener) নিঃসন্তান মারা গেলে, তার বিধবা স্ত্রী তার অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন এবং নিজের অধিকারে সম্পত্তি বিভাজনের দাবি করতে পারেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মিতাক্ষরা: মিতাক্ষরা স্কুল বিজ্ঞানেশ্বরের মিতাক্ষরা নামক যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির ভাষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে (আসাম ও বাংলা ব্যতীত) প্রাধান্য পায়। এটি উত্তরাধিকারে রক্তের সম্পর্কের নৈকট্য (Principle of Propinquity) এর উপর নির্ভর করে।
গ) বেনারস: বেনারস (বানারস) মিতাক্ষরা স্কুলের একটি উপ-স্কুল, যা উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে (গ্রামীণ পাঞ্জাব ব্যতীত) প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায় না।
ঘ) মিথিলা: মিথিলা মিতাক্ষরা স্কুলের আরেকটি উপ-স্কুল, যা তিরহুত এবং উত্তর বিহারের কিছু জেলায় প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অর্থাৎ দায়ভাগ স্কুল আসাম এবং বাংলায় প্রাধান্য পায়, কারণ এটি এই অঞ্চলের স্থানীয় আইনি ও সামাজিক প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) দায়ভাগ।

৫৪৭.
"ইজতিহাদ" শব্দটির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. আনুগত্য করা
  2. আইন প্রণয়ন করা
  3. কুরআনের ব্যাখ্যা করা 
  4. পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা
ব্যাখ্যা

⇒ "ইজতিহাদ" শব্দটি আরবি মূল "জেহেদা (جهد)" থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টা বা কঠোর পরিশ্রম করা।" আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকীর লেখা অনুসারে, এটি ইসলামী আইনের পরিভাষায় বোঝায় কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ভিন্ন ভিন্ন আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে সঠিকটি নির্বাচন করার চেষ্টা এবং নতুন পরিস্থিতির জন্য নতুন রায় প্রণয়নের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একজন মুজতাহিদ কুরআন, হাদিস, এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আনুগত্য করা: এটি তাকলিদের ধারণার সাথে সম্পর্কিত, যা ইজতিহাদের বিপরীত। তাকলিদ মানে কোনো ইমাম বা আইনি কর্তৃপক্ষের অনুসরণ করা, যেখানে ইজতিহাদ স্বাধীনভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
খ) আইন প্রণয়ন করা: ইজতিহাদ আইন প্রণয়ন নয়, বরং বিদ্যমান কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইনের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ। নতুন আইন তৈরি করা ইসলামী শরিয়াহর পরিপন্থী।
গ) কুরআনের ব্যাখ্যা করা: ইজতিহাদ শুধু কুরআনের ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কুরআন, হাদিস এবং অন্যান্য ইসলামী বিজ্ঞানের সমন্বয়ে নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া।

অর্থাৎ "ইজতিহাদ" এর আভিধানিক অর্থ হলো "পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে চেষ্টা করা," যা ইসলামী আইনের প্রেক্ষাপটে গভীর জ্ঞান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নির্দেশ করে।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিঙ্ক]

৫৪৮.
Doctrine of Cy-près প্রয়োগের শর্ত কী?
  1. রাষ্ট্র ওয়াকফের আয় ব্যবহার করতে চাইলে
  2. ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুর আগে নির্দেশ না দিলে
  3. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন সম্পত্তি প্রয়োজন হলে
  4. ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলে
ব্যাখ্যা

Doctrine of Cy-pres শব্দটি ফরাসি থেকে এসেছে, যার অর্থ "as near as possible"। এটি ইসলামী আইন এবং বিশেষত ওয়াকফের (Waqf) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুসলিম আইনে এই নীতি ব্যবহৃত হয় যখন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য কোনো কারণে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তখন সেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শরিয়াহ সম্মত একটি বিকল্প উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়।

Doctrine of Cy-pres-এর মূল বৈশিষ্ট্য
মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নিকটবর্তী উদ্দেশ্য:
ওয়াকফের উদ্দেশ্য যদি কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তবে এই নীতির মাধ্যমে ওয়াকফের আয়ের ব্যবহার এমন কোনো উদ্দেশ্যে করা হয় যা মূল উদ্দেশ্যের খুব কাছাকাছি।

শরিয়াহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
বিকল্প উদ্দেশ্য অবশ্যই ইসলামী শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী হতে হবে। কোনো অশরিয়াহ কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না।

নিরপেক্ষ এবং সুবিবেচনা:
এই নীতির প্রয়োগ তখনই হয় যখন ওয়াকফের প্রতিষ্ঠাতার ইচ্ছা পূরণ করা পুরোপুরি সম্ভব নয় এবং সেই ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হয়।

৫৪৯.
কোন আইনে মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. স্ত্রী অধিকার আইন, ১৯৪৭
  2. সম্পত্তি অধিকার আইন, ১৯৫৭
  3. উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫
  4. সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ৩- সম্পত্তির উত্তরাধিকার হস্তান্তর:
(১) হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি উইল সম্পাদন ব্যতীত কোন প্রকার সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে এবং হিন্দু আইনের অন্যান্য মতবাদের বা প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি স্বতন্ত্র সম্পত্তি রাখিয়া উইল সম্পাদন ব্যতীত মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার বিধবা স্ত্রী, বা একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকিলে সকল বিধবা স্ত্রী একত্রে, তিনি উইল সম্পাদন ব্যতীত যে সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছেন সেই সম্পত্তিতে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন পুত্রের অনুরূপ অংশের অধিকারী হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের কোন পুত্র জীবিত না থাকিলে, উক্ত মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীও একজন পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবেন, এবং উক্ত মৃত পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্র জীবিত থাকিলে উক্ত পুত্রের পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সহকারে, একই বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(২) দায়ভাগ মতবাদ ব্যতীত হিন্দু আইনের অন্য কোন মতবাদের অনুসারী বা কোন প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি যৌথ পরিবারে কোন স্বত্ব রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে, সম্পত্তিতে তাহার নিজের যে স্বত্ব ছিল তাহার বিধবা স্ত্রীরও, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সেই একই স্বত্ব থাকিবে।

(৩) এই ধারার বিধান অনুসারে কোন সম্পত্তিতে হিন্দু বিধবার স্বত্ব সৃষ্টি হইলে, তাহা হিন্দু মহিলার সম্পত্তি নামে একটি সীমিত স্বত্ব হইবে, তবে শর্ত থাকে যে, তাহারও একজন পুরুষ মালিকের অনুরূপ সম্পত্তি বন্টনের দাবী করিবার অধিকার থাকিবে।

(৪) প্রথা বা উত্তরাধিকারের অন্যান্য বিধান বা উক্ত সম্পত্তিতে প্রযোজ্য দানের শর্তাবলী অনুসারে যে সম্পত্তিতে কেবল একজনই উত্তরাধিকারী হইবে বা উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ৩৯ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে, সেই সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
৫৫০.
A testator-
  1. Cannot revoke a bequest.
  2. Can revoke a bequest either expressly or impliedly.
  3. Can revoke a bequest expressly only.
  4. Can revoke a bequest impliedly.
ব্যাখ্যা
⇒ All Will can be revoked, either impliedly or expressly, either by conduct or by a specific document. By conduct, the Will can be presented to be revoked by the testator. A testator Can revoke a bequest either expressly or impliedly.

⇒ For example , a testator may make bequest of property in his Will to a person, but he may dispose of the said property even during his life time.

⇒ This is called implied revocation. Suppose, the testator makes a bequest of a vacant land in his Will, but subsequently the testator himself constructs a dwelling house therein, in such circumstance, the Will can be deemed to have been expressly revoked by the testator.

⇒ It has been experienced that when there is a Will, painful litigation in the family of the testator is prevented. Only in a very few cases, litigation crops up questioning the genuineness of the Will.
৫৫১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে তালাকের পর কত দিন পর তা কার্যকর হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে, তালাকের পর ৯০ দিন পর তা কার্যকর হবে।
- এটি ধারা ৭ (তালাক) এর অধীনে বলা হয়েছে যে, একজন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর প্রতি তালাক প্রদান করেন, তবে তালাকের ঘোষণার পর ৯০ দিন পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না, যদি না স্ত্রীর গর্ভাবস্থা থাকে। যদি স্ত্রীর গর্ভাবস্থা থাকে, তবে তালাক কার্যকর হবে গর্ভাবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৭(৩) অনুযায়ী:
- কোনো স্বামী তালাক দিলে তালাক কার্যকর হতে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
- এই সময়ের মধ্যে আরবিট্রেশন কাউন্সিল (চেয়ারম্যান ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধি) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে।
- ৯০ দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয় (যদি মধ্যবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার না করা হয়)।
- নোটিশ বাধ্যতামূলক: স্বামীকে তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে দিতে হবে (ধারা ৭(১))।
- জরিমানা: নোটিশ না দিলে ১ বছর কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা (ধারা ৭(২))।
- গর্ভবতী স্ত্রীর ক্ষেত্রে: গর্ভাবস্থা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না (ধারা ৭(৫))।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ৯০ দিন।
৫৫২.
Musha Doctrine কোন ধরনের Hiba-তে প্রযোজ্য?
  1. Hiba-bil-Iwaz
  2. Hiba-bil-will
  3. Hiba-ba-Shartul-Iwaz
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ Musha Doctrine (মুশা নীতি) মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রযোজ্য, যা অবিভক্ত সম্পত্তির (undivided share) হিবা বা দানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই নীতি অনুসারে, অবিভক্ত সম্পত্তির একটি অংশ দান করা সাধারণত অবৈধ, যদি না সম্পত্তিটি ভাগ করা যায় এবং দখল হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। Hiba-ba-Shartul-Iwaz একটি হিবা হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে দখল হস্তান্তর প্রয়োজন এবং Musha Doctrine প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, Hiba-bil-Iwaz বিক্রয় বা বিনিময় হিসেবে গণ্য হয়, তাই এতে Musha Doctrine প্রযোজ্য নয়। Hiba-bil-will বলে কোনো স্বীকৃত Hiba এর শ্রেণি নেই।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) Hiba-bil-Iwaz: এটি ভুল, কারণ Hiba-bil-Iwaz বিক্রয় বা বিনিময় হিসেবে গণ্য হয় এবং Musha Doctrine এর প্রযোজ্যতা নেই।
খ) Hiba-bil-will: এটি ভুল, কারণ Hiba-bil-will বলে কোনো স্বীকৃত Hiba ধরন মুসলিম আইনে নেই।
গ) Hiba-ba-Shartul-Iwaz: এটি সঠিক, কারণ এটি হিবা হিসেবে গণ্য এবং Musha Doctrine প্রযোজ্য।
ঘ) কোনোটিই নয়: এটি ভুল, কারণ Hiba-ba-Shartul-Iwaz এর ক্ষেত্রে Musha Doctrine প্রযোজ্য।

অর্থাৎ Musha Doctrine Hiba-ba-Shartul-Iwaz এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) Hiba-ba-Shartul-Iwaz।

৫৫৩.
বিধবার সম্পত্তি বলতে কী বোঝায়?
  1. স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি
  2. পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া স্ত্রীধন
  4. স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি:
যে হিন্দু স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি লাভ করেন, সেটি বিধবার সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
- স্ত্রীধন ও বিধবার সম্পত্তি এক নয়। বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি, যা কোনো নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়; কিন্তু এটি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- স্ত্রীধনতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং তিনি ইচ্ছেমতো তা হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার মালিকানা সীমিত, অর্থাৎ তিনি কেবল জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ অর্জন করেন।
এর মানে হলো, বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিধবার সম্পত্তি চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব,যেমন:
১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে
২) আইনগত প্রয়োজনে
৩) সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য বা মঙ্গলে
৫৫৪.
Under Muslim law, what is the status of a gift made to an unborn person?
  1. Valid
  2. Void
  3. Voidable
  4. None of these
ব্যাখ্যা
• দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।
৫৫৫.
কোনো মুসলিম লোকের যদি একাধিক স্ত্রী থাকে এবং কোনো সন্তান না থাকে, তবে তার মৃত্যুর পর স্ত্রীরা সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. প্রত্যেকে এক-চতুর্থাংশ
  2. সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ
  3. প্রত্যেকে এক-অষ্টমাংশ
  4. সবাই মিলে এক-অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

মুসলিম স্ত্রীর অংশ:
বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা। এ ছয়জনকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না বলে এদেরকে বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক উত্তরাধিকারী। আর এ ছয় জনের মধ্যে স্ত্রী একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

কোন মুসলিম নারীর স্বামীর মৃত্যু হলে, আর তাদের কোনো সন্তান না থাকলে, তিনি তার স্বামীর সমুদয় সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবেন। যদি এক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী থাকেন তাহলে সবাই মিলেই এক চতুর্থাংশ বা ১/৪ অংশ পাবেন। আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী পাবেন এক-অষ্টমাংশ (১/৮ অংশ বা আট ভাগের এক ভাগ)। এক্ষেত্রেও যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে প্রত্যেকে মিলেই এক অষ্টমাংশ পাবেন, এর বেশি নয়।

৫৫৬.
হিন্দু আইনের কোন উৎসটি "স্মৃতি" হিসেবে পরিচিত?
  1. বেদ
  2. আইন প্রণয়ন
  3. ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানসংবলিত গ্রন্থ, যা প্রাচীন ঋষিরা সংকলন করেছেন।
- এটি মৌখিকভাবে প্রচলিত নিয়ম ও আচার-অনুশাসন লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে স্মৃতি হলো ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ।
- মূল স্মৃতিগুলো হলো:
১) মনুস্মৃতি – প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি।
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি।
৩) নারদ স্মৃতি – আইনি ও বিচারসংক্রান্ত বিধান।
৪) পরাশর স্মৃতি – যুগের পরিবর্তন অনুযায়ী বিধানের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- বেদ (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ও আদি গ্রন্থ, যা স্মৃতি নয়।
- আইন প্রণয়ন (Statutory Law) – এটি আধুনিক বিধিবদ্ধ আইন, যা স্মৃতি শাস্ত্রের অন্তর্গত নয়।
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Decisions) – এটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস, কিন্তু স্মৃতি নয়।
৫৫৭.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বাধিক কারাদণ্ড কী হতে পারে?
  1. ২ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৪ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো সন্তান এই আইনের অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড হতে পারে।

অর্থাৎ: প্রথম শাস্তি: অর্থদণ্ড (সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা)।
অর্থদণ্ড না দিলে বিকল্প শাস্তি: কারাদণ্ড (সর্বোচ্চ ৩ মাস)।
সুতরাং, এই আইনে সর্বাধিক কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাস।

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা-৫: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দণ্ড:
(১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি— 
 (ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা 
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে— 
 তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

৫৫৮.
'ক', একজন হানাফি মুসলিম, তাঁর পিতা, এক ছেলে ও এক আপন বোন রেখে মারা যান। মৃত্যুর আগে বোন বরাবর সমুদয় সম্পত্তির ১/৩ অংশ উইল করে যান। কিন্তু ছেলে এই উইলে সম্মতি দেয়নি। এক্ষেত্রে-
  1. উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে
  2. উইলটি সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হবে
  3. ছেলের অংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশের ১/৩ অংশ কার্যকর হবে
  4. উইলের সম্পত্তি পিতার অংশ থেকে দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।
আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। অর্থাৎ সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।

এক্ষেত্রে, সম্মতি লাগবে না এবং উইলটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে।
৫৫৯.
যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৮ অংশ
  4. ১/৬ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্বামী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।

ক) ১/২ অংশ 

খ) ১/৪ অংশ

ক. যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

খ. যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তাহলে স্বামী মৃত ব্যক্তি রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
৫৬০.
জনাব "A" ৪০ বছর বয়সে মারা গেলেন। রেখে গেলেন তাঁর পিতা, স্ত্রী, দুই ভাই এবং একমাত্র কন্যা। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, তাঁর সম্পত্তিতে পিতা কত অংশ পাবেন?
  1. ১২/২৪ অংশ
  2. ৯/২৪ অংশ
  3. ৪/২৪ অংশ
  4. ৩/২৪ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:
স্ত্রী: বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

কন্যা: যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে। আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে।

পিতার অংশ: বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী:
→ স্ত্রী পাবেন ১/৮ অংশ = ৩/২৪ (যেহেতু মৃতের সন্তান আছে)।
→ একমাত্র কন্যা পাবেন ১/২ অংশ = ১২/২৪।
→ পিতা পাবেন ১/৬ অংশ = ৪/২৪ (যেহেতু মৃতের কন্যা সন্তান আছে)।
→ মোট বণ্টিত অংশ = (৩/২৪ + ১২/২৪ + ৪/২৪) = ১৯/২৪।
→ অবশিষ্ট অংশ = ১ – ১৯/২৪ = ৫/২৪।

যেহেতু পিতা জীবিত এবং তিনিই একমাত্র অবশিষ্টাংশভোগী (আসাবা), তাই অবশিষ্ট ৫/২৪ অংশও তিনি পাবেন।
সুতরাং, পিতার মোট অংশ = (৪/২৪ + ৫/২৪) = ৯/২৪ অংশ।
- পিতা জীবিত থাকায় ভাইদের কোন অংশ নেই।

৫৬১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর অধীন বিবাহ নিবন্ধিত না হলে, উক্ত বিবাহ-
  1. অবৈধ হবে
  2. বৈধ হবে
  3. বাতিল হবে
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন-

(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে।
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না।
৫৬২.
স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক বিবাহ বাতিলের ক্ষমতা _____ নামে পরিচিত।
  1. জিহার
  2. ফাসেক
  3. খুলা
  4. ইলা
ব্যাখ্যা

ফাসেক (Faskh):
স্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক বা কাজী কর্তৃক বিবাহ বাতিল ঘোষণা করাকে ফাসেক বলা হয়। স্ত্রী তার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে হলে তাকে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারায় বর্ণিত যে কোন একটি বা একাধিক কারণ প্রমাণ সাপেক্ষে পারিবারিক আদালতের ডিক্রী দ্বারা বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। উপরোক্ত আইনে স্ত্রী কর্তৃক আদালতের মাধ্যমে তালাক লাভের জন্য নিম্নলিখিত কারণগুলো স্বীকৃত হয়েছে-
১. চার বছর যাবৎ স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
২. দুই বছর যাবৎ স্ত্রীর খোরপোষ দিতে স্বামী ব্যর্থ হলে;
৩. স্বামী ১৯৬৬ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
৪. স্বামীর সাত বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ড হলে;
৫. কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামী তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
৬. স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন (Impotence or inability to consummate) থাকলে এবং তা মোকদ্দমা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে;
৭. স্বামী দুই বছর যাবৎ পাগল (Mental illness) থাকলে বা কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত বা মারাত্মক যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
৮. নাবালিকা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ হয়ে থাকলে সাবালকত্ব লাভের পর (১৮ বছর পূর্ণ) স্ত্রী বিবাহ অস্বীকার করলে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলে এরূপ মোকদ্দমা করা যাবে না।
৯. নিম্নলিখিত যে কোন অর্থে স্ত্রীর ওপর স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করে থাকলে, যেমন-
ক. অভ্যাসগতভাবে তাকে মারধর করে অথবা আচরণের নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে সংসার-জীবনকে দুর্বিষহ করে তুললে, অথবা
খ. কুখ্যাত স্ত্রীলোকদের সঙ্গে স্বামী মেলামেশা করলে কিংবা বদনামের সঙ্গে জীবনযাপন করলে, অথবা
গ. নৈতিকতাবিহীন জীবন-যাপনের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য করার চেষ্টা করলে, অথবা
ঘ. স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিলে কিংবা স্ত্রীকে তার সম্পত্তির ওপর বৈধ অধিকার প্রয়োগ থেকে নিবারণ করলে, অথবা,
ঙ. স্ত্রীকে তার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে বাধা দিলে, অথবা
চ. স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকলে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের সঙ্গে সমান ব্যবহার না করলে।

অপরদিকে, 
খুলা:
স্ত্রী আরেকটি উপায়ে স্বামীকে তালাক/বিচ্ছেদ দিতে পারে। এটি হচ্ছে খুলা, যা চুক্তিভিত্তিক বিচ্ছেদ হিসেবেও পরিচিত। অর্থাৎ যখন কোন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না বা স্ত্রী স্বামীর উপর বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন তখন স্ত্রী চাইলে প্রতিদানের (অর্থ বা সম্পত্তি) বিনিময়ে স্বামীকে বিচ্ছেদ ঘটাতে রাজী করাতে পারে। এই ধরনের বিচ্ছেদকে খুলা বলে। 

ইলা:
স্বামী যদি আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন যে, তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করবেন না, তবে একে “ইলা” বলে। স্বামী যদি এভাবে শপথ করে এবং চার মাসের মধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস না করে, তবে চার মাস শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালাক কার্যকর হয়।

জিহার:
স্বামী যদি তার স্ত্রীকে নিজের এমন কোনো মহরাম নারীর (যাকে বিয়ে করা হারাম) সঙ্গে তুলনা করেন— যেমন বলে,
“তুমি তো আমার মায়ের মতো” — তখন একে জিহার বলে। এমন কথা বলা হারাম ও গুরুতর পাপ। এতে স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়।

৫৬৩.
নিম্নের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত?
  1. মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন
  2. বিবাহবিচ্ছেদ
  3. এতিম সন্তানদের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ
  4. হিন্দু বিবাহিত রমনীর খোরপোষের প্রাপ্যতা নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• ২০২৩ সালে 'পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩' নামক আইনটি পাশ হয় এবং কার্যকর হয়। ২০২৩ খ্রিষ্টব্দের পূর্বে এই আইনটি The Family Courts Ordinance, 1985 নামে কার্যকর ছিলো। উক্ত আইনের ৫ ধারা অনুসারে, নিম্নের ৫টি বিষয়ে অথবা উক্ত বিষয় সম্পর্কিত মামলাগ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির একক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে। ৫টি বিষয় হলো-

ক) দেনমোহর [Dower];
খ) খোরপোষ/ভরণপোষণ [Maintenance];
গ) বিবাহ বিচ্ছেদ [Dissolution of Marriage];
ঘ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার [Restitution of Conjugal Rights];
ঙ) শিশুর অভিভাবকত্ব ও হেফাজত [Guardianship & Custody of Children]

অর্থাৎ পারিবারিক সম্পত্তির বণ্টন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত।
৫৬৪.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর অধীন গঠিত সালিশী কাউন্সিল সেলিমের দ্বিতীয় বিবাহের দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করে। সেলিম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান। তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
  1. সালিশী কাউন্সিলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
  2. জেলা জজ আদালতে আপিল করবেন
  3. সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
  4. জেলা জজ আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।

• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
 
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
 
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
 
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
 
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৫৬৫.
একজন হানাফি মুসলিম নারী তার স্বামী, দুই কন্যা, পিতা এবং মাতাকে রেখে মারা গেল। পিতার অংশ কত হবে?
  1. ১/৬ অংশ
  2. ১/৪ + অবশিষ্টাংশ
  3. ২/৩ + অবশিষ্টাংশ
  4. ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
ব্যাখ্যা
এখানে একজন হানাফি মুসলিম নারী মারা গেছেন এবং তার জীবিত উত্তরাধিকারী হলেন: স্বামী, দুই কন্যা, পিতা এবং মা।

শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী:

১. স্বামী:
হানাফি আইন অনুযায়ী, স্ত্রী মারা গেলে সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ ভাগ পাবেন।

২. কন্যারা:
দুটি কন্যা থাকলে তারা মিলিয়ে ২/৩ ভাগ পাবে।

৩. মা:
মায়ের অংশ ১/৬ ভাগ।

৪. পিতা:
শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, পিতা জীবিত থাকলে তার অংশ নির্ধারণের জন্য অনেক বিষয় থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে, দুটি কন্যা এবং স্বামী থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবে এবং আসাবা হিসেবে অবশিষ্টাংশও পাবেন।

সুতরাং, পিতা পাবে ১/৬ + অবশিষ্টাংশ।
৫৬৬.
A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera, বিধানটি কোথায় রয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারায়
  2. মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৩ ধারায়
  3. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারায়
  4. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এর ২১ ধারায়
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী-
 
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

[A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera.]
 
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
৫৬৭.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কত বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন?
  1. ১৮ বছর বয়সের আগে
  2. ১৯ বছর বয়সের আগে
  3. ২০ বছর বয়সের আগে
  4. ২১ বছর বয়সের আগে
ব্যাখ্যা
→ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(৭) অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এই বিধানটি নাবালিকা বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো মহিলাকে তার ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি সেই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে চান, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে তা করতে পারেন।
- তবে, এই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করার জন্য একটি শর্ত হলো যে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি হতে হবে। অর্থাৎ, যদি বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে এই ভিত্তিতে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো, নাবালিকা বিবাহের ক্ষেত্রে মহিলাদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। এটি তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের বিবাহের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেয়।

সঠিক উত্তর: খ) ১৯ বছর বয়সের আগে।
- কারণ, এই আইন অনুযায়ী, যদি একজন মহিলাকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ১৯ বছর বয়সের আগে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
৫৬৮.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?
  1. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ১৮ বছর
  2. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ২১ বছর
  3. পুরুষের জন্য ১৮ বছর, নারীর জন্য ১৬ বছর
  4. পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ-
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।

৫৬৯.
নিচের কোনটি অননুমোদিত হিন্দু বিবাহের প্রকার?
  1. আর্য
  2. দৈব
  3. অসুর
  4. প্রজাপত্য
ব্যাখ্যা

• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।

৫৭০.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কন্যা
  2. পিতার মাতা
  3. বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) বোন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা। 

৫৭১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী অন্তত কত সময় ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(২) অনুযায়ী, স্ত্রী নিম্নলিখিত শর্ত সাপেক্ষে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- স্বামী যদি অন্তত ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় বা উদ্যোগ না নেয়, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
- এই ২ বছর সময়সীমা অবিচ্ছিন্ন হতে হবে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে স্বামী যদি কোনো ভরণপোষণ না দেয় বা দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, তাহলেই কেবল এই কারণ দেখিয়ে বিচ্ছেদ চাওয়া যাবে।
– মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ (ধারা ২(২) স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অবহেলা করে বা ব্যর্থ হয়, তাহলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৫৭২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর কোন প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধান করবে?
  1. পারিবারিক আদালত
  2. জেলা প্রশাসন
  3. জেলা রেজিস্ট্রার
  4. সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর জেলা রেজিস্ট্রার তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। জেলা রেজিস্ট্রার তার দপ্তরের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

⇒  হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ১৩ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন। 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
৫৭৩.
মুতা বিবাহ বলতে কী বোঝায়?
  1. স্থায়ী বিবাহ
  2. অস্থায়ী বিবাহ
  3. দেনমোহরবিহীন বিবাহ
  4. নাবালকের বিবাহ
ব্যাখ্যা

মুতা বিয়ে (Mut'a Marriage):
মুতা বিয়ে হলো একটি অস্থায়ী বিবাহের চুক্তি, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পন্ন হয় এবং চুক্তি শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈধ বিবাহের একটি ধরন, তবে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ে এটি বৈধ নয়।

মুতা বিয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
মুতা বিয়ে একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সময় শেষ হলে এই বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিয়েতে দেনমোহর বা মেহের নির্ধারণ করা এবং তা প্রদান করা আবশ্যক। মুতা বিয়েতে স্ত্রী বা সন্তানরা সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে তালাকের বিধান নেই, সময়সীমা শেষ হলেই বিবাহের সমাপ্তি ঘটে।

৫৭৪.
হেবা গ্রহণের পূর্বে দানগ্রহীতা মৃত্যুবরণ করলে, উক্ত হেবা-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
  4. দাতার অনুমোদন সাপেক্ষে বৈধ
ব্যাখ্যা

• দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন। যদি হেবা গ্রহণের পূর্বে গ্রহীতা (Donee) মৃত্যুবরণ করেন, তবে হেবা গ্রহণের শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না। এর ফলে গিফট কার্যকর হয় না এবং সেটি বাতিল (Void) হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫৭৫.
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে-
  1. অবিবাহিত কন্যা
  2. পুত্রবর্তী কন্যা
  3. বিধবা কন্যা
  4. সন্তানহীন কন্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
৫৭৬.
একজন মুসলিম ১৯৬৯ সনে এক কন্যা ও এক মৃত ছেলের কন্যাকে রেখে মারা যান। কন্যার অংশ-
  1. (১/৩)
  2. (১/২)
  3. (২/৩)
  4. (১/৪)
ব্যাখ্যা
⇒ প্রশ্নমতে, একজন মুসলিম ব্যক্তি ১৯৬৯ সনে এক কন্যা ও এক মৃত ছেলের কন্যাকে রেখে মারা যান। অর্থাৎ ঘটনাটি 'Muslim Family Laws ordinance, 1961' আইন প্রণয়নের পরের।
- Muslim Family Laws ordinance, 1961 -এর ৪ ধারার "Doctrine of Representation" নীতি অনুযায়ী মৃত ছেলের কন্যা, তার পিতার প্রতিনিধিত্ব (Representation) করবে অর্থাৎ, উক্ত ছেলে বেঁচে থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, মৃত ছেলের কন্যা সেই পরিমাণ সম্পত্তি পাবে। 
উল্লিখিত প্রশ্নে, যেহেতু পুত্রের কন্যা, পুত্রের সমান অংশ পাবে Doctrine of Representation অনুসারে এজন্য কন্যা ও পুত্র ধরে হিসাব করলে ২:১ অনুপাতে সম্পত্তিতে কন্যা ও পুত্রের কন্যার অংশ যা হবে।যথা:
ক) কন্যা পাবে সম্পত্তির ১/৩ অংশ।
খ) পুত্র পাবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ।
(Doctrine of Representation অনুসারে পুত্র মৃত তাই পুত্রের কন্যা পাবে পুত্রের সম্পত্তি)
৫৭৭.
হিন্দু আইনের প্রধান কতটি উৎস রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের নতুন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে মূল ঐতিহ্যগত উৎস চারটিই।
৫৭৮.
Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ৯ ধারা অনুসারে কোন ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়?
  1. বহুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা
  2. দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ
  3. ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৯- ভরণপোষণ (Maintenance):
(১) যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে যথাযথভাবে ভরণপোষণ না করেন, অথবা একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের প্রতি সমভাবে ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করেন, তবে স্ত্রী বা স্ত্রীগণ, আইনানুগ অন্য যে কোনো প্রতিকার চাওয়ার পাশাপাশি, চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে পারেন।
তখন চেয়ারম্যান একটি আরবিট্রেশন কাউন্সিল (মধ্যস্থতা পরিষদ) গঠন করবেন, এবং ঐ কাউন্সিল বিষয়টি নির্ধারণ করবে। আরবিট্রেশন কাউন্সিল একটি সনদ (certificate) প্রদান করতে পারবে, যেখানে স্বামীর প্রদেয় ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকবে।

(২) নির্ধারিত পদ্ধতি, সময়সীমা এবং ফি প্রদানপূর্বক স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই এই সনদের বিরুদ্ধে সহকারী জজের নিকট আপিল করতে পারবেন। সহকারী জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে এবং কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) বা (২)-এর অধীনে প্রদেয় যে কোনো অর্থ সময়মতো পরিশোধ না হলে, তা ভূমি রাজস্ব বকেয়ার ন্যায় আদায়যোগ্য হবে।
৫৭৯.
কোন বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না?
  1. Muslim Family Laws Ordinance, 1961, ধারা ৬
  2. Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939, ধারা ২
  3. The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974, ধারা ৩
  4. Muslim Family Laws Ordinance, 1961, ধারা ৯
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৫৮০.
Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা কী হবে?
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. শর্তসাপেক্ষে বৈধ
  4. আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া নিষিদ্ধ, তবে যদি এই বিধান উপেক্ষা করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হয়, তবে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এ ধরনের কাজ করতে হলে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়।
অর্থাৎ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা বৈধ হবে। 

- Factum Valet মতবাদ, হিন্দু আইন অনুসারে, এমন একটি নীতি যা নির্দেশ করে যে, কোনো কার্য বা কাজ আইনত নিষিদ্ধ হলেও তা যদি বাস্তবে সংঘটিত হয়, তবে তা বৈধ বলে গণ্য হতে পারে।
- অর্থাৎ, যে কাজটি আইনত বা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ বা অশুদ্ধ বলে ধরা হয়, সেটি যদি বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকে, তবে তা ওই সময়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈধতা লাভ করে।
৫৮১.
হিন্দু আইনে কোন বিবাহে বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করা হতো?
  1. দৈব বিবাহ
  2. আর্য বিবাহ
  3. অসুর বিবাহ
  4. প্রজাপত্য বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন। এটি আট প্রকার বিবাহের মধ্যে অনুমোদিত চারটির একটি।

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।

অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।

৫৮২.
মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুসারে, বাবার অনুপস্থিতিতে কাকে অভিভাবকত্ব দেওয়া হবে?
  1. মা
  2. আদালত
  3. দাদা বা পরিবারের অন্য পুরুষ
  4. সমাজের প্রতিনিধি
ব্যাখ্যা
দেশে প্রচলিত আইন এবং মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুযায়ী অভিভাবকত্ব মূলত তিন ধরণের হয়ে থাকে। যথা:
ক) নাবালকের জীবনের,
খ) সম্পত্তির এবং
গ) জীবন ও সম্পত্তি উভয়ের।

অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ এ অভিভাবকত্ব ও জিম্মাকে আলাদাভাবে দেখানো হয়নি। যদিও মুসলিম শরিয়াহ আইনে বিষয় দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিভাবত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ এর ধারা ৪(২) এ বলা হয়েছে, অভিভাবক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার উপর কোন নাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা শরীর ও সম্পত্তি উভয়ের তত্বাবধানের ভার রয়েছে। এ আইনের ধারা ২৪ অনুযায়ী প্রতিপাল্যের শরীরের অভিভাবকের উপর অভিরক্ষা ন্যস্ত থাকবে। অর্থাৎ, অভিভাবক একইসাথে অভিভাবকত্ব এবং তত্বাবধান বা নাবালকের ও নাবালকের সম্পত্তির দেখাশুনা করবেন।

মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুযায়ী মা সন্তানের জিম্মা পাবেন তবে তিনি অভিভাবক হবেন না। অপরদিকে বাবা সন্তানের অভিভাবকত্ব একইসাথে জিম্মা লাভ করতে পারেন। তবে, বাবা যদি ওসিয়ত করে বা আদালত যদি ঘোষণা করে সেক্ষেত্রে মা অভিভাবক হতে পারে। অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী একমাত্র আদালতই পারে নাবালকের অভিভাবকত্ব ঘোষণা এবং নিয়োগ করতে। মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুসারে বাবার অনুপস্থিতিতে দাদা বা পরিবারের অন্য পুরুষ অভিভাবকত্ব লাভ করবেন। তবে সন্তান জিম্মায় রাখার ক্ষেত্রে মা সব সময় প্রাধান্য পাবে।
৫৮৩.
বিলম্বিত দেনমোহর প্রদানের প্রশ্ন কখন আসে?
  1. স্ত্রী যখন দাবী করে
  2. স্বামীর মৃত্যুর পর
  3. বিবাহ বিচ্ছেদের পর
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দেনমোহর [Dower]-
বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়। পরিশোধের সময়ের উপর ভিত্তি করে Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower):
যে দেনমোহর স্ত্রী কর্তৃক দাবি করা মাত্রই স্বামী তা দিতে বাধ্য থাকে তা Prompt dower বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর বলে। তাৎক্ষণিক দেনমোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি অনুসারে স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য।

খ. বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred dower):
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদের সময় বা কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বা ঘটনা সাপেক্ষে পরিশোযোগ্য তাকে বিলম্বিত দেনমোহর বা Deferred dower বলে। যেমন- যদি স্বামী মারা যান বা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তখন স্ত্রী বিলম্বিত মোহর দাবি করতে পারেন।
৫৮৪.
মুসলিম আইনানুযায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে অছিয়ত কয় শ্রেণির?
ব্যাখ্যা
উইল বা অছিয়ত: 
মুসলিম আইনে উইলকে অছিয়ত বলা হয়েছে । উইলের আরবী প্রতিশব্দ ওয়াসিয়াত । এর অর্থ ভার অর্পণ, নিদেশ, উপদেশ মিলানো বা কোন জিনিস অন্যদের পর্যন্ত পৌছানো। মৃত্যুকালে কিংবা মুত্যুর আগে পরের জন্য নিজ মালিকানার কিছু অংশ নিস্বাথভাবে কাউকে দান করার নাম ওসিয়ত বা উইল।

মুসলিম আইনানুযায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে অছিয়ত মূলত তিন শ্রেণির:

১. সাদাকাতুল ফিতর বা জাকাত: এটি বার্ষিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ যা প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক। এটি গরীবদের সাহায্য করার জন্য দেওয়া হয়।
২. সাদাকাতুন্নাফল বা ধর্মীয় দান: এটি স্বেচ্ছামূলক দান যা মুসলিমদের নৈতিক দায়িত্ব। সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. ওয়াকফ: এটি স্থায়ী অনুদান যা সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। জমি, অর্থ বা অন্য সম্পদ ওয়াকফ করা যায়।
৫৮৫.
দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক কে?
  1. দানকারী
  2. সেবায়েত
  3. বিগ্রহ বা দেবমূর্তি
  4. মন্দির কমিটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) বিগ্রহ বা দেবমূর্তি।

- দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক হলো বিগ্রহ বা দেবমূর্তি। এটি আইনের দৃষ্টিতে একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অর্থাৎ, দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তির আইনি মালিক সেই দেবতা বা বিগ্রহ।
- যদিও দেবতার পক্ষে সম্পত্তি পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই, তাই দেবতার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব সেবায়েত এর উপর থাকে।
- সেবায়েত দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন, তবে তিনি দেবতার আইনি মালিকানা ধারণ করেন না, সেটি বরং বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এরই থাকে।
৫৮৬.
'ইসতিহসান' কী নির্দেশ করে?
  1. সর্বাধিক কঠিন সমাধান গ্রহণ করা
  2. পূর্ববর্তী সমাধান প্রত্যাখ্যান করা
  3. সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সমাধান গ্রহণ করা
  4. ব্যক্তিগত মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান:
'ইসতিহসান' অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন। কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক।
৫৮৭.
স্বাভাবিক অভিভাবক কোন ক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তির হস্তান্তর করতে পারে?
  1. আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে
  2. নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে
  3. ক ও খ
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর অথবা দায়বদ্ধ করতে পারে। আইনসঙ্গত কারণ এবং নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে বলিতে কি বুঝায় তাহার বিশদ আলোচনা আছে প্রিভি কাউন্সিলে উত্থাপিত হনুমান প্রসাদ বনাম মুসাম্মত বাবুই নামক অনুসরণীয় মামলায়। যদি কোন স্বাভাবিক অথবা কার্যতঃ অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজন অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থ ব্যতীত নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী অন্য কোন কারণে নাবালকের পক্ষে তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে নাবালক সাবালকয়য়ে তিন বৎসরের মধ্যে এই প্রকার হস্তান্তর রদের জন্য মামলা করতে পারে।

আদালতের নিযুক্তীয় অভিভাবক নাবালকের পক্ষে হস্তান্তর করতে হলে, আদালতের আগাম অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি দেয়ার সময় হস্তান্তরের আইনত প্রয়োজন আছে কিনা এবং প্রস্তাবিত হস্তান্তর নাবালকের সম্পত্তির হিতার্থে হবে কিনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে আদালত অনুমতি দেন আর সেই কারণেই এইসব হস্তান্তর সাধারণত নাবালক সাবালক হয়ে রদ করতে পারে না। তবে আদালত হইতে যদি প্রতারণামূলকভাবে অনুমতি নেয়া হয়ে থাকে, তবে সেই ক্ষেত্রে হস্তান্তর রদের মামলা চলতে পারে।
৫৮৮.
ইজমা কী?
  1. কোন বিষয় নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মতবিরোধ
  2. কোন বিষয়ের উপর ইসলামি আইনবিদদের ঐক্যমত
  3. নতুন কোনো বিষয় নিয়ে কুরআন বা হাদিসের ব্যাখ্যা
  4. কোন বিষয়ের উপর আলাদা আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) কোন বিষয়ের উপর ইসলামি আইনবিদদের ঐক্যমত।

⇒ ইজমা ইসলামের আইনসম্মত ঐক্যমতের ধারণাকে বোঝায়, যা মুসলিম আইনবিদদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পৌঁছানোর সম্মতি। এটি ইসলামি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- যখন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কুরআন বা হাদিসে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকে, তখন ইসলামী আইনবিদেরা তাদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যমত পৌঁছান, এবং এই ঐক্যমতই ইজমা হিসেবে গণ্য হয়।
- ইজমা সাধারণত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর যেকোনো সময়ে হতে পারে, এবং এটি কুরআন ও হাদিসের পরবর্তী উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫৮৯.
যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা কত অংশ পাবেন?
  1. ১/৮ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:
(ক) ১/৬ অংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।
৫৯০.
হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
  1. শ্ৰুতি
  2. স্মৃতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা

• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি:
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি:
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ:
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা:
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

৫৯১.
পারিবারিক আদালতের প্রদত্ত একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন দায়েরের মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে The Limitation Act, 1908 এর ৫ ধারা পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় প্রযোজ্য হবে?
  1. ৬(৯)
  2. ১১
  3. ১০(৬)
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৬)-এর অধীন একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন দায়েরের মেয়াদ গণনায় Limitation Act, 1908-এর ধারা ৫ (যা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট কারণ দেখানোর বিধান করে) প্রযোজ্য হয়, যেমনটি ধারা ১০(৭)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখিত: "Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।" এটি আবেদনের ৩০ দিনের মেয়াদের বাইরে যাওয়া ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেয়, যদি যথেষ্ট কারণ প্রমাণিত হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাকা হইলে উক্ত সময়ে কোনো পক্ষই উপস্থিত না থাকিলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বাদী উপস্থিত হন, তবে বিবাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে;
(খ) যদি সমন বা নোটিশ বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে মর্মে প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে আদালত বিবাদীর উপর নূতনভাবে সমন ও নোটিশ জারি কারিবার আদেশ প্রদান করিবে;
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তবে তাহার উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে তাহাকে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে আদালত পরবর্তী অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোনো তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখিবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি করিয়া একতরফা শুনানির জন্য ধার্য করে এবং বিবাদী শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আদালতে হাজির হইয়া পূর্বে হাজির না হইবার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে, সেইক্ষেত্রে আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, শর্তসাপেক্ষে বিবাদীকে জবাব দাখিলের সুযোগ প্রদান করিয়া এইরূপে শুনানি করিবে যেন তিনি তাহার হাজির হইবার জন্য ধার্যকৃত দিনেই উপস্থিত হইয়াছেন।
(৪) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বিবাদী উপস্থিত হন, তবে বাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিবে, তবে বিবাদী যদি দাবির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ স্বীকার করে, তাহা হইলে বিবাদীর উক্তরূপ স্বীকৃতির উপর আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশবিশেষ স্বীকার করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি ততটুকু খারিজ করিবে যতটুকু দাবির অবশিষ্টাংশের সহিত সম্পর্কিত।
(৫) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা উপধারা (১) এর অধীন খারিজ করা হয় অথবা উপধারা (৪) এর অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং যদি তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমাটি শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খারিজ আদেশ রহিত করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি চালাইয়া যাইবার জন্য একটি তারিখ ধার্য করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না।
(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ডিক্রি প্রদান করা হইলে, তিনি ডিক্রি প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা বাতিলের আদেশ দানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার আদালতে অনুপস্থিত থাকিবার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন হয় যে, তাহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না, তাহা হইলে সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করিয়া এই উপধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৭) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৫৯২.
পারিবারিক আদালতে কোন ধরণের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলা আছে?
  1. Only mediation
  2. Compromise and reconciliation
  3. Only reconciliation
  4. Mediation and reconciliation
ব্যাখ্যা
• The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে। ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে। ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
৫৯৩.
রঞ্জিত দাস তার দুই পুত্র রাম, শ্যামল এবং এক কন্যা পূজাকে রেখে মারা যায়। রঞ্জিত দাসের সম্পত্তি কিভাবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন হবে?
  1. রাম ও শ্যামল মোট সম্পত্তির অর্ধেক এবং পূজা বাকি অর্ধেক পাবে
  2. রাম, শ্যামল, পূজা মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশ করে পাবে
  3. রাম ও শ্যামল মোট সম্পত্তির অর্ধেক করে পাবে এবং পূজা কোন সম্পত্তি পাবে না
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

নিম্নে প্রথম ৫ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র,
২) পুত্রের পুত্র,
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র,
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা),
৫) কন্যা।

হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে না।

• সমাধান:
এখানে, রঞ্জিত দাস সম্পত্তির অংশ সমান ২ ভাগে বিভক্ত হবে। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে ১ অংশ পাবে রাম এবং ১ অংশ পাবে শ্যামল। কন্যা কোন সম্পত্তি পাবে না। কারণ ঊর্ধ্বতন শেয়ারার(ভাইদের) দ্বারা বঞ্চিত হবে।

সুতরাং সম্পত্তির মোট বন্টন:

⇒ রাম পাবে ১/২ অংশ;
⇒ শ্যামল পাবে ১/২ অংশ।
৫৯৪.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর ৫ ধারা মতে পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বিষয়বস্তু নয়-
  1. বিবাহ-বিচ্ছেদ
  2. দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার
  3. বিবাহ
  4. ভরণপোষণ
ব্যাখ্যা
⇒ Section 5. Jurisdiction of Family Courts:
Subject to the provisions of the Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (VIII of 1961), a Family Court shall have exclusive jurisdiction to entertain, try and dispose of any suit relating to, or arising out of, all or any of the following matters, namely:- 
 (a) dissolution of marriage; 
 (b) restitution of conjugal rights; 
 (c) dower; 
 (d) maintenance; 
 (e) guardianship and custody of children.

উল্লিখিত প্রশ্ন অনুযায়ী The Family Courts Ordinance, 1985 এর ৫ ধারা মতে বিবাহ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বিষয়বস্তু নয়।
৫৯৫.
স্বামী যদি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, স্ত্রী-
  1. ভরণপোষণের অধিকার হারান
  2.  স্বামীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য
  3. বিবাহ অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন
  4. পৃথক থেকেও ভরণপোষণের অধিকারী হন
ব্যাখ্যা

• ১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন (The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946) অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে:

- স্বামী যদি দুরারোগা কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
- if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
- if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

- স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
- if he marries again; এবং

- অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
- for any other justifiable cause

৫৯৬.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন অন্তর্বর্তী আদেশের আইনগত ত্রুটির কারণে বিক্ষুদ্ধ পক্ষ কি উপায়ে প্রতিকার পেতে পারে?
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:

যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

প্রতিকার: এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তী আদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
৫৯৭.
একজন হানাফী মুসলিম তার মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ কত অংশ হেবা করতে পারে?
  1. (১/৩) অংশ
  2. (১/২) অংশ
  3. (২/৩) অংশ
  4. সম্পূর্ণ অংশ
ব্যাখ্যা
• দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

সমস্ত সম্পত্তি দান (হেবা) করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়।
৫৯৮.
'A' ও 'B' মুসলিম নর-নারী পরস্পরের সম্মতিতে কোন সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে করলে তাদের বিয়ের আইনগত ফলাফল হবে-
  1. বাতিলযোগ্য
  2. অনিয়মিত
  3. অবৈধ
  4. নিয়মিত
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষী ব্যতীত বিবাহ একটি অনিয়মিত বিবাহ।

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্যকোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেনা। একটি বৈধ বিবাহ কোন মুসলিম নারীকে দেনমোহরের অধিকার, ভরণপোষণের অধিকার প্রদান করে এবং একই সাথে স্বামীর প্রতি বিশ্বাসী থাকার, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং ইদ্দত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এটা উত্তরাধিকারের পারস্পরিক অধিকার সৃষ্টি করে।

বাতিল (Void or Batil)
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ। যেমন Blood relationship, Consanguinity or affinity এর কারণে নিষিদ্ধ বিবাহ হলো বাতিল বিবাহ। বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে কারণগুলো স্থায়ী প্রকৃতির এবং এমন কারণ অপসারিত করে বিবাহ বৈধ করার কোন সুযোগ নেই।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।
৫৯৯.
বিবাহিতা অবস্থায় হিন্দু নারীর কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হলে, ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত কী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে?
  1. পূর্ণ স্ত্রীধন
  2. স্বামীর সম্পত্তি
  3. সীমিত অর্থে স্ত্রীধন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) সীমিত অর্থে স্ত্রীধন।

- বিবাহিতা অবস্থায় হিন্দু নারী যদি কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন করেন, তবে সেই সম্পত্তি স্বামীর জীবদ্দশায় সীমিত অধিকার সহ স্ত্রীধন হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ স্বামী জীবিত থাকাকালে স্ত্রী সম্পূর্ণভাবে বিক্রি, দান বা হস্তান্তর করতে পারেন না। স্বামী মারা গেলে সেই সম্পত্তি পূর্ণ স্ত্রীধন হিসেবে পরিণত হয়।

স্ত্রীধন:
যে সমস্ত সম্পত্তিতে মহিলাদের চূড়ান্ত মালিকানা রহিয়াছে অর্থাৎ যে সকল সম্পত্তিতে মহিলাগণ সম্পূর্ণ স্বত্বের অধিকারিণী তাহাকে বলা যায় স্ত্রীধন। ঐ সকল সম্পত্তি মহিলারা তাহাদের ইচ্ছানুযায়ী ভোগ-দখল, দান, বিক্রয়, উইল ইত্যাদি করিতে পারেন, তাহাতে কাহারও আইনত বাধা দেওয়ার কিছুই থাকে না।

- সকল মতেই একজন মহিলা কুমারী অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন বলিয়া গণ্য হইবে।

- অনুরূপভাবে সকল মতেই বিধবা উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

- একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন- বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে। স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

উল্লেখ্য,
- যদি কোন মহিলার ভরণপোষণের জন্য মাসহারা বাবদ কোন অর্থ অথবা সম্পত্তি দেওয়া হয়, তবে তাহা সমস্ত মতপন্থী অনুযায়ীই স্ত্রীধনরূপে গণ্য।

- স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও স্ত্রীধন হইবে। স্ত্রীধনের বিনিময়ে আপোষ মীমাংসায় অন্য কোন সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাহাও স্ত্রীধন হইবে।

৬০০.
হিন্দু বিধবার বিয়ে নিম্নের কোন আইন দ্বারা Regulated হয়?
  1. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act, 1856
  2. The Hindu Women Marriage Act, 1856
  3. The Hindu Women Re-marriage Act, 1856
  4. The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856
ব্যাখ্যা
The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856 হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধতা প্রদান করে। এই আইনের বিধান দ্বারাই হিন্দু বিধবা বিবাহ পরিচালিত হয়।

- আইনটি ২৬ জুলাই ১৮৫৬ এ আইন প্রণয়ন করেছিল।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করেছিল।
- বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেন।