বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৬৯০

৪০১.
'Factum valet' নীতি অনুসারে উচিৎ নয় এমন কোন কাজ করা হলে-
  1. বৈধ গণ্য করা হবে না
  2. অবৈধ গণ্য করা হবে না
  3. অবৈধ গণ্য করা হবে
  4. বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন। Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।

যেমন- অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
৪০২.
মুসলিম আইনজ্ঞরা দেনমোহরকে বিবেচনা করেছে-
  1. বিক্রয় মূল্য হিসাবে
  2. প্রতিদান হিসাবে
  3. উপহার হিসাবে
  4. সম্মানের প্রতীক হিসাবে
ব্যাখ্যা
- মুসলিম আইন মোতাবেক দেনমোহর স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ স্বামীর প্রতি অর্পিত একটি গুরু দায়িত্ব।  আসাদ বনাম সালমা মামলায় বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন যে, দেনমোহরকে বিক্রয় চুক্তির মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি এবং বিক্রয় হলো একটি রূপক বা প্রতিরূপ চুক্তি, যা সেলমান আইনবিদ কর্তৃক সমতা বা সদৃশ্য হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
দেনমোহরটি যদি স্ত্রীর মূল্য হয়, তা হলে এটি পরিশোধের বিষয়ে বিবাহোত্তর চুক্তিটি অবৈধ কারণ, এতে প্রতিদানের অভাব রয়েছে; কিন্তু এই জাতীয় চুক্তি বৈধ ও আইনে বলবৎযোগ্য বলে ঘাষণা করা হয়েছে।
৪০৩.
স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত কত বছর যাবত্‍ তার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কোন মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারী হবেন?
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারার বিধান: বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদ:
নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথা:

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বত্সছর যাবত্‍ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্খন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বত্সার বা তদুর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বত্সরর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বত্সiরবয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাত্
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়নতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদন্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়েরমধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বত্স রের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।
৪০৪.
অগ্রক্রয় অধিকারের মধ্যে কার দাবী অগ্রগণ্য?
  1. শাফি-ই-জার
  2. মুকাররারীদার
  3. শাফি-ই-শরিক
  4. শাফি-ই-খালিত
ব্যাখ্যা
⇒ যে ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে:
- ৩ শ্রেণির ব্যক্তি আছে যারা অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই ৩ শ্রেণির ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তারা হলো
ক. Shafi sharik বা সহ অংশীদার।
খ. Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক; যেমন: Easement সুবিধা।
গ. Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

- Shafi sharik বা সহ অংশীদার: Shafi Sharik শব্দের অর্থ হল সহ-অংশীদার। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা ক্রয় সূত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তির যৌথ মালিক হয়, তাদের যে কারো অন্যজন বা অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।

- Shafi Khalit বা সম্পত্তিতে সংলগ্ন সুবিধাদিতে শরিক: Shafi Khalit অর্থ হল কোনো সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে সুবিধাদির শরিক হয়, তাহলে যেকোনো ব্যক্তি যার সেরকম সুবিধা রয়েছে, অন্যান্য ব্যক্তি যারা সেরকম সুবিধাদি ভোগ করে এর বিরূদ্ধে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ যারা সম্পত্তির সুবিধাদিতে শরিক তারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- Shafi Jar বা সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক: Shafi Jar অর্থ হল সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক। হানাফি আইন অনুসারে বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের জন্য শর্ত:
১) অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে, ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে।
২) ক্রমিকানুসারে একশ্রেণির বর্তমানে পরের শ্রেণিগুলো এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
৩) একই শ্রেণিভুক্ত দুই বা ততোধিক অগ্রক্রয়াধিকারী থাকলে- প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করতে পারবেন বা সমান ভাগ পাবে।
৪) এই ৩ শ্রেণীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।

অর্থাৎ- উক্ত ৩ শ্রেণির মধ্যে ১ম শ্রেণির কেউ থাকলে ২য় শ্রেণির দাবি থাকবে না। আবার, ২য় শ্রেণির কেউ থাকলে ৩য় শ্রেণির দাবী থাকবে না। কিন্তু যে ক্ষেত্রে একই শ্রেণিভুক্ত একাধিক দাবিদার থাকে সে ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান অংশে অগ্রক্রয় করতে পারবে।
৪০৫.
'Factum valet' নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. নির্দেশাত্মক বিধানের ক্ষেত্রে
  2. সুপারিশমূলক বিধানের ক্ষেত্রে
  3. অবশ্য পালনীয় বিধানের ক্ষেত্রে
  4. ক ও খ ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• Quod fieri non debet factum valet (বিধিমত যা অকর্তব্য, তা করা হলে বিধিসম্মত বলে ধরা হয়) এই প্রবচনের উপর ভিত্তি করে factum valet মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। ফ্যাকটাম ভ্যালেট হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি নীতি। হিন্দু আইনে এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে পরিচিত। যে কাজ করা উচিৎ নয় বা করা হয়েছে, তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার নীতি ‘factum valet’ নামে পরিচিত।

আইনের বিধানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
- নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provision of law), 
- অবশ্য পালনীয় বিধান (mandatory provision of law) বলা হয়।

অবশ্য পালনীয় বিধান অমান্য করলে সেই কাজটি বেআইনী বলে গণ্য হবে এবং অন্য কোন সূত্র প্রয়োগ করে তা বৈধ করা যায় না। তবে আইনের সুপারিশমূলক/নির্দেশাত্মক বিধান উপেক্ষা করেও কোন একটি কাজ করা হলে, এরূপ কৃত কার্যকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে গ্রহণ করাকে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি বলা হয়। অর্থাৎ ‘directory’ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ অনুচিত হলেও উক্ত কাজকে সরাসরি বেআইনী বলা যায় না। হিন্দু আইনে অনুরূপ কাজ factum valet নীতি অনুযায়ী বৈধ করা যায়।

যেমন- হিন্দু ধর্ম মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। কিন্তু অনুরূপ বিধান লংঘন করে কোন বিয়ে হয়ে গেলে তা ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি অনুযায়ী বৈধ গণ্য হয়ে থাকে। একইভাবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু ঐ বিধি উপক্ষো করে যদি কেউ তার একমাত্র পুত্রকে দত্তক দিয়েই ফেলেন তাহলে তা অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না। তবে উভয়ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়। এছাড়াও ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির কারণে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্তে¡ও একজন হিন্দু পুনরায় বিবাহ করতে পারে।
৪০৬.
নিম্নলিখিত কোনটি হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়?
  1. স্থানীয় প্রথা
  2. আধুনিক প্রথা
  3. পারিবারিক প্রথা
  4. জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের প্রথা (Custom) হলো এমন একটি উৎস যা দীর্ঘকাল ধরে সমাজে পালিত হয়ে আসছে এবং আইনের মর্যাদা পেয়েছে। হিন্দু আইনে প্রথাগুলি সাধারণত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়। প্রথাগুলিকে সাধারণত চারটি প্রকারে ভাগ করা হয়:

১) স্থানীয় প্রথা (Local Customs): এগুলি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় পালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম যা আইনি মর্যাদা পায়।
২) পারিবারিক প্রথা (Family Customs): এগুলি একটি পরিবারের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পালিত হয়। এটি পরিবারের নির্দিষ্ট ঐতিহ্য বা নিয়মের উপর ভিত্তি করে।
৩) জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা (Caste or Community Customs): এগুলি নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে পালিত হয় এবং তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়। উদাহরণস্বরূপ, পাঞ্জাবের কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাইয়ের বিধবার পুনর্বিবাহের প্রথা।
৪) গিল্ড প্রথা (Guild Customs): এগুলি ব্যবসায়ী বা পেশাগত গোষ্ঠীর মধ্যে পালিত হয়।

"আধুনিক প্রথা" হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়:
- হিন্দু আইনে প্রথা হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন এটি প্রাচীন, ধারাবাহিক, যুক্তিসঙ্গত, নৈতিক এবং আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া। "আধুনিক প্রথা" বলতে কোনো নতুন বা সম্প্রতি প্রচলিত অভ্যাস বোঝায়, যা দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়নি এবং তাই হিন্দু আইনের প্রথার মর্যাদা পায় না। হিন্দু আইনের প্রথাগুলি ঐতিহ্যগত এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে, যা "আধুনিক প্রথা" ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রথা, পারিবারিক প্রথা এবং জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা হিন্দু আইনের ঐতিহ্যগত উৎস হিসেবে স্বীকৃত এবং দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে। সুতরাং, আধুনিক প্রথা হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়।

৪০৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি কী?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড বা ২,০০০ টাকা জরিমানা
  2. ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩,০০০ টাকা জরিমানা
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(৪) অনুসারে যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধন না করেন বা নির্দিষ্ট সময়ে (৩০ দিনের মধ্যে) নিকাহ রেজিস্ট্রারকে জানান না, তাহলে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- এর শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা ৩,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে।
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
----------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once.
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization.
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once.
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.

৪০৮.
উইলের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. মৃত্যুর পর কার্যকর হয়
  2. সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করা যায় না
  3. উইলকারী মৃত্যুর আগে উইল প্রত্যাহার করতে পারে
  4. সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালতের সম্মতি লাগবে
ব্যাখ্যা
• কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।
আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চুড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।

- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।

- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিযোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। অর্থাৎ সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
৪০৯.
নিম্নের কোনটি বৈধ দানের অত্যাবশ্যক শর্ত নয়?
  1. দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা প্রদান
  2. গ্রহীতা কর্তৃক দান গ্রহণ
  3. দানকৃত সম্পত্তির দখল হস্তান্তর
  4. দাতার ওয়ারিশগনের সম্মতি
ব্যাখ্যা
• দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। সাধারণত দানের মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তাঁর ওয়ারিশ কিংবা অন্য যে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আইন স্বীকৃত। দান করতে হলে দাতার এবং গ্রহীতার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হয়।
 
দান বৈধ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয় –
> দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
> গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
> দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।

উল্লেখ্য,
দানের ক্ষেত্রে ওয়ারিশগনের সম্মতি আবশ্যক নয়। একজন তার সম্পত্তি যাকে ইচ্ছা এবং যতটুকু পরিমাণ ইচ্ছা জীবদ্দশায় দান করে যেতে পারে। কিন্তু উইলের ক্ষেত্রে ১/৩ অংশের বেশি হস্তান্তর করতে চাইলে, ওয়ারিশগনের সম্মতি নিতে হয়।
৪১০.
যখন ইসলামি আইনের প্রথম তিনটি উৎস অর্থাৎ কুরআন, হাদিস এবং ইজমা কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না তখন ঐগুলি হতে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত যে সাদৃশ্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে বলা হয়-
  1. ইসতিহসান
  2. ইসতিসলাহ
  3. কিয়াস
  4. তকলিদ 
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ 

ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মের দূত বা বার্তা বাহক হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), তার জীবদ্দশায় কোরআন এর প্রতিটি নীতি ও বিধান অনুসারে যেভাবে জীবন যাপন করতেন এবং জীবন-যাত্রায় কোরআনের ব্যাখ্যাগুলোর সংকলনই হলো আল-হাদিস। এছাড়া, কোন প্রশ্নের উত্তর যদি সরাসরি পবিত্র কোরআন বা সুন্নাহ তে না পাওয়া গেলে তার মীমাংসার জন্য মহানবী (সাঃ) এর সঙ্গী ও শিষ্যদের মধ্যে ঐক্য মৈত্যের ভিত্তিতে যে সকল সমাধান দেয়া আছে তার সংকলনকে ইজমা বলা হয়। এবং আলোচ্য এই তিনটি উৎসের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনায় সাদৃশ্য মূলক সিদ্ধান্তগুলোই কিয়াস।
এরপরও অনেক অমিমাংসিত প্রশ্নের সমাধান বা সন্দেহ দূর করণ কিংবা স্পষ্টতা আনয়নের জন্য যুগ যুগ ধরে ইসতিহসান , ইসতিসলাহ এবং ইসতিহাদ বা যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই আইনটিকে সমৃদ্ধ করা হয়ে থকে।

পৃথিবীতে ইসলামিক আইন অনুসারে পরিচালিত কিছু রাষ্ট্রের সকল আইনই শরীয়া আইন অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে যদিও ইসলামিক শরীয়া আইনের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়ে থাকে কিন্তু পশ্চিম বিশ্বেও এখন ইসলামিক আইনের অনেক ব্যবহার দেখা।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ এর বিভিন্ন রায়ের পর্যালোচনায় ইসলামিক আইনের নানা দিকের উপর আলোক পাত করা হয়েছে।

মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হলেও এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তত্কালীন বৃহৎ সমগ্র ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার কয়েক শতকের সমৃদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। এর ধারাবাহিকতা হিসেবে এদেশের আইন ব্যবস্থায় পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শরীয়া আইনের প্রতিফলন ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অন্যতম।
৪১১.
সাধারনত কোন ধরনের হিন্দু ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে?
  1. হত্যাকারী
  2. অসতী বিবাহিত স্ত্রীলোক
  3. সন্ন্যাসী
  4. উল্লিখিত সকল ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কিছু লোককে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে-

প্রথমত, ধর্মচ্যুত হলেও অর্থাৎ কেউ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করলে, তাকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয়ত, অসতী স্ত্রী অর্থাৎ যদি কোন বিবাহিত স্ত্রীলোক অসতী হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীলোকটি উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তি পাবে না।

তৃতীয়ত, যার কাছ থেকে সম্পত্তি পাবে তাকেই যদি হত্যা করা হয় সেক্ষেত্রে তার কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পাবে না।

চতুর্থত, প্রতিবন্ধীদেরকে সাধারণত সম্পত্তি দেওয়া হয় না। যেমন, অন্ধ, বধির, মূক, পুরুষত্বহীন, অঙ্গহীন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যক্তিদেরকে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি দেয়া হয় না, কেননা তাদেরকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয় না। যার ফলে তারা উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পায় না।

পঞ্চমত, সন্ন্যাসীরা যেহেতু সংসার ছাড়া হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সন্ন্যাসীদেরকেও হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি দেওয়া হয় না।
৪১২.
মৃত্যুর পর কার্যকর হয়-
  1. অসিয়ত
  2. দান
  3. ওয়াক্‌ফ
  4. উত্তরাধিকার বন্টন
ব্যাখ্যা
⇒ কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত।

⇒ আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে।

⇒ যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-

ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।

খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।

গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।
৪১৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
- স্ত্রী দুটি অবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
 
i) ১/৪ অংশ।
 
ii)  ১/৮ অংশ।
 
ক) যদি মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে।
 
খ) যদি মৃত ব্যাক্তি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে স্ত্রী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে।
৪১৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর অধীন আরজি দাখিল করার তারিখে স্বামী জীবিত না থাকলে, মামলার-
  1. গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।
  2. নোটিশ জারি করতে হবে না।
  3. কার্যক্রমে উত্তরাধীকারীর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে না।
  4. স্বামীর কোন চাচা বা ভাই থাকলে, উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।
ব্যাখ্যা
ধারা ৩- নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদান

২নং ধারার ১নং উপ ধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মৃত্যু ঘটলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যারা তার উত্তরাধীকারী হতো তাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করতে হবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তার উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।

Section 3- Notice to be served on heirs of the husband when the husband’s whereabouts are not known

In a suit to which clause (i) of section 2 applies- 
(a) the names and address of the persons who would have been the heirs of the husband under Muslim law if he had died on the date of the filing of the plaint shall be stated in the plaint, 
(b) notice of the suit shall be served on such persons, and
(c) such person shall have the right to be heard in the suit: 
 Provided that paternal uncle and brother of the husband, if any, shall be cited as party even if he or they are not heirs.
৪১৫.
দানের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. স্থাবর অথবা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  2. শুধু অস্থাবর সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  3. গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে।
  4. দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হইলেও বে-আইনী হবে।
৪১৬.
কোনটি 'Doctrine of Juristic Preference'?
  1. ইসতিসলাহ
  2. ইজতিহাদ
  3. ইসতিহসান
  4. ইসতিদলাল
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস
⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ

ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।
অর্থাৎ 'Doctrine of Juristic Preference' হল ইসতিহসান [Istihsan]।
৪১৭.
একজন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রেখে মারা গেলে প্রথমে কে উত্তরাধিকারী হয়?
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. সহোদর ভ্রাতা
  4. সহোদর বোন
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার: 
স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার পুরুষদের উত্তরাধিকার হতে ভিন্ন প্রকৃতির। কোন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রাখিয়া মারা গেলে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা উভয় মতপন্থী মতে নিম্নোক্ত তালিকা অনুযায়ী ক্রমিকানুসারে তাহার ওয়ারিশদের উপর বর্তায়। যথা:
(ক) সহোদর ভ্রাতা।
(খ) মাতা।
(গ) পিতা
(ঘ) পিতার নিকটতম উত্তরাধিকারীগণ।

৪১৮.
পারিবারিক আদালতের প্রাধান্য সম্পর্কিত বিধান পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারা দ্বারা নির্ধারিত?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আইনের বিধানাবলি অন্য যেকোনো আইনের উপর প্রাধান্য পাবে। ধারা ৩-এ বলা হয়েছে: “আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।”
এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে নির্ধারিত বিষয়ে (যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ইত্যাদি) এই আইনের বিধানগুলো অন্য কোনো আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলেও প্রাধান্য পাবে। এটি পারিবারিক আদালতের আইনি ক্ষমতা ও এখতিয়ারকে শক্তিশালী করে এবং বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
অর্থাৎ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩ এই আইনের প্রাধান্য সুনিশ্চিত করে, যা অন্যান্য আইনের উপর এর বিধানাবলির প্রাধান্য নির্ধারণ করে। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) ধারা ৩।

৪১৯.
In the event of the death of any son or daughter of the porosities before the opening of successions, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stripes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be would have received if alive'- বিধানটি কোন আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে?
  1. The Family Courts Ordinance, 1985
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. Mohammedan law
  4. The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১) উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন। এ আইনের ৪নং ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে লা-ওয়ারিশ প্রথাকে বাতিল করা হয়। এ আইনে বলা হয়-

Section 4: Succession

In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
 
অর্থাৎ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে।
যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।
৪২০.
'ক' মারা গেলেন। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা রেখে গেছেন। কোনো পুত্র নেই। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কন্যাদের জন্য নির্ধারিত অংশ কত হবে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৬
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) ২/৩ অংশ।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, কন্যার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে– ১/২, ২/৩ এবং অবশিষ্টাংশভোগী।

যখন ১/২ অংশ পাবে: দুটি শর্ত পূরণ করলে এই অংশ পাবে। তা হলো-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। একমাত্র কন্যা হিসেবে অংশীদার হলে

যখন ২/৩ অংশ পাবে: দুটি শর্তে এই অংশ পাবে-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। দুই বা তার অধিক কন্যা থাকলে।

যখন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পাবে:
কন্যার সাথে যদি পুত্র ও থাকে তবে কন্যা আর অংশীদার হিসেবে অংশ পায় না। তখন সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পুত্রের সাথে ২:১ অনুপাতে অংশ পাবে। যাকে Tasib Rule বলা হয়।

৪২১.
"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) কী?
  1. উইল করা সম্পত্তি
  2. ওয়াকফ সম্পত্তি
  3. বিনা প্রতিদানে দান
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে দান
ব্যাখ্যা

⇒"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) হলো ইসলামিক আইনে একটি বিশেষ ধরনের দান (হিবা), যেখানে দানের বিনিময়ে দাতা কিছু প্রতিদান (ইওয়াজ) গ্রহণ করেন। এটি সাধারণ "হিবা" (বিনা প্রতিদানে দান) থেকে আলাদা।

হেবা-বিল-এওয়াজ (Heba-bil-Ewaz):
সংজ্ঞা: প্রতীকী কোনো প্রতিদানের বিনিময়ে কোনো সম্পত্তির দানকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজ।
প্রক্রিয়া: দাতা (দানকারী) প্রাপকের কাছ থেকে প্রতীকী কোনো বস্তু (যেমন – ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ, পানির গ্লাস ইত্যাদি) গ্রহণ করে দলিল সম্পাদন করেন।
দলিলের নাম: এই দলিলকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজনামা (Deed of Heba-bil-Ewaz)।

৪২২.
'Khiyar al-bulugh' নীতি কোন অধিকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত?
  1. বিবাহ বাতিলের
  2. উত্তরাধিকার বাতিলের
  3. হেবা বাতিলের
  4. ওসিয়ত বাতিলের
ব্যাখ্যা
সাবালকত্বের ইচ্ছা [Option of Puberty or Khiyar al-bulugh]:

নাবালক তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তিতে উপনীত হতে পারে। যদি কোন নাবালক তার অভিভাবকের মাধ্যমে বিবাহে আবদ্ধ হয়, উক্ত নাবালক সাবালক হওয়ার পর উক্ত বিবাহ বাতিল করতে পারে। এটাকে Khiyar al-bulugh or Option of Puberty। সাবালকত্বের ইচ্ছা বা Option of Puberty বিধানটি The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় সংযুক্ত করা হয়েছে।

The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে,
কোন মেয়েকে তার বয়স ১৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তার পিতা বা অন্য কোন অভিভাবক তাকে বিয়ে দেয়, তাহলে তার বয়স ১৯ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সে বিবাহটি বাতিল করতে পারে শর্ত হলো বিবাহটি যৌনমিলনের মাধ্যমে আইনসিদ্ধ করা হয় নি। এক্ষেত্রে, উক্ত মেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি পাওয়ার অধিকারী।
 
উল্লেখ্য যে,
শরীয়াহ আইনে ছেলে এবং মেয়ে উভয় এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারলেও, The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এর ২(৭) ধারায় Option of Puberty যে বিধান রয়েছে তা শুধুমাত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৪২৩.
'আরিয়াত' শব্দের অর্থ কী?
  1. সম্পত্তির আংশিক বিক্রি
  2. সম্পত্তির পূর্ণ বিক্রি
  3. সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর
  4. সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগের অস্থায়ী অনুমতি
ব্যাখ্যা
আরিয়াত (Areeat): 
আরিয়াত (Areeat) শব্দটি ইসলামী আইন (ফিকাহ) থেকে উদ্ভূত একটি শব্দ, যা মূলত দান বা অস্থায়ী অনুমতি বোঝায়। এটি এমন এক ধরনের দান যেখানে সম্পত্তির মালিকানা দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হয় না, তবে গ্রহীতা সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি পায়।

এটি মূলত এমন ধরনের দান বা অস্থায়ী সুবিধা, যেখানে সম্পত্তির মালিকানা কেউ পায় না, বরং একে কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায়, সম্পত্তির মালিক ব্যক্তি যে কোনো সময় তার অনুমতি ফিরিয়ে নিতে পারেন, অর্থাৎ এটি এক ধরনের অস্থায়ী দান।

আরিয়াতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর নয়:
আরিয়াতের ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা কখনোই দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তরিত হয় না। দাতা কেবল অনুমতি দেন যে, গ্রহীতা সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ কিছু সময়ের জন্য ভোগ করবে। মালিকানা দাতারই থাকে।

অস্থায়ী অনুমতি:
আরিয়াতের অধীনে অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। এর মানে হলো, এক ব্যক্তি আরেককে সম্পত্তির আয় বা লভ্যাংশ ভোগ করার জন্য কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিতে পারে, কিন্তু কখনোই পুরোপুরি মালিকানা হস্তান্তর করা হয় না।

দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল:
দাতা যে কোনো সময় তার অনুমতি পরিবর্তন বা রদ করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। যদি দাতা চায়, তবে আরিয়াতের সময়কাল পরিবর্তন বা বাতিল করা যেতে পারে।

রদযোগ্যতা:
আরিয়াতের মাধ্যমে দাতা যে অনুমতি দেন, তা চাইলে দাতা রদ (বাতিল) করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণভাবে দাতার ইচ্ছাধীন, এবং তিনি যখন চান তখন এটি বাতিল করতে পারেন।
৪২৪.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে নিম্নলিখিত কোন বিষয়ে মোকদ্দমা দায়ের করা যায় না?
  1. দেনমোহর
  2. ভরণপোষণ
  3. বিবাহ বিচ্ছেদ
  4. ফৌজদারি মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার শুধুমাত্র পারিবারিক বিরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে: বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান ইত্যাদি।

উল্লিখিত প্রশ্নের ফৌজদারি মামলা পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের বাইরে, কারণ এটি ফৌজদারি আইনের অধীন পড়ে।

- ফৌজদারি মামলা সাধারণত ফৌজদারি আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
৪২৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় কোথায়?
  1. সুপ্রিম কোর্টে
  2. হাইকোর্টে
  3. জেলা জজের কাছে
  4. সহকারী জজের কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৯ অনুসারে, ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সালিসি পরিষদ (Arbitration Council) যখন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই রিভিশনটি সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (Assistant Judge) এর কাছে করা হয়। সহকারী জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে রিভিশন বা আপিল করা যায় না।
অর্থাৎ, ভরণপোষণ বিষয়ে সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা জেলা জজের কাছে রিভিশন করার সুযোগ নেই।
এ কারণে, সঠিক অপশন হলো সহকারী জজের কাছে রিভিশন করা।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী ভরণপোষণ সংক্রান্ত সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে। এই ধারা বিশেষভাবে সহকারী জজের আদালতকে এখতিয়ার প্রদান করেছে।
-কোন পক্ষ সালিসি পরিষদের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত ফি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের আদালতে রিভিশন করতে পারে। রিভিশন দায়েরের জন্য সাধারণত ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- সহকারী জজ এখানে মূলত রিভিশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তিনি শুধুমাত্র আইনগত ভুল বা পদ্ধতিগত ত্রুটির বিষয়ে বিবেচনা করেন, নতুন করে মামলার মূল্যায়ন করেন না। তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।

৪২৬.
একজন হানাফী মুসলিম মৃত্যুকালে ত্যাজ্যবিত্তে স্ত্রীকে একমাত্র উত্তরাধিকারী রেখে যায় স্ত্রী ওয়ারিশ হিসাবে ১/৪ অংশ প্রাপ্তির পর মৃতের অবশিষ্ট সম্পত্তি অর্থাৎ ৩/৪ অংশ-
  1. রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত হবে
  2. অবশিষ্টভোগী হিসাবে স্ত্রী পাবে
  3. স্ত্রীর নিকট ফেরত যাবে
  4. বায়তুল মাল হিসাবে সরকারের নিকট অর্পিত হবে
ব্যাখ্যা
রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি

মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

রদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়। তাহলে সে রদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।

উল্লিখিত প্রশ্নে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী। তাই, প্রথমে অংশীদার হিসেবে ১/৪ অংশ পাবে (যেহেতু সন্তান নেই, সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ)। এখন স্ত্রীকে ১/৪ অংশ দেওয়ার পরও ৩/৪ অংশ সম্পত্তি অবশিষ্ট থেকে যাচ্ছে। তাই রদের নীতি প্রযোজ্য হবে। সাধারণ নীতি অনুসারে স্ত্রী রদে ফেরত সম্পত্তি না পেলেও, যেহেতু এখানে স্ত্রী একমাত্র উত্তরাধিকারী, সেহেতু (রদে ফেরত) বাকি ৩/৪ অংশ সম্পত্তি স্ত্রী পাবে।
৪২৭.
যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে সে মোট সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/২
  2. ২/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৬
ব্যাখ্যা
⇒ ছেলে-কন্যা: স্বামী/স্ত্রী এবং বা-মার অংশ দেওয়ার পর যা থাকবে তা সম্পূর্ণ মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে।
- ছেলের সঙ্গে মেয়ে থাকলে প্রত্যেক কন্যা প্রত্যেক ছেলের (১/২) অর্ধেক হারে পাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে।
- আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে। 

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন।
৪২৮.
মুসলিম আইন অনুসারে হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  2. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  3. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  4. দখল হস্তান্তরের ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
৪২৯.
হিন্দু বিবাহের প্রাচীন প্রকারের মধ্যে আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোনটি সবচেয়ে অসম্মানজনক? 
  1. আর্শ বিবাহ
  2. ব্রহ্ম বিবাহ
  3. পৈশাচ বিবাহ
  4. দৈব বিবাহ 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।
খ) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
ঘ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) পৈশাচ বিবাহ।

৪৩০.
একজন মুসলিম নারী কার সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারেন?
  1. যে কোন পুরুষ
  2. কেবল মুসলিম পুরুষ
  3. মুসলিম এবং কিতাবীয় পুরুষ
  4. মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের পুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহ তিন প্রকার:
১) বৈধ (Valid or Sahih)
২) বাতিল (Void or Batil )
৩)  অনিয়মিত (Irregular or fasid)

বৈধ (Valid or Sahih)
মুসলিম আইনের সকল নিয়ম মেনে যে বিবাহ সেটা বৈধ বিবাহ। একজন মুসলিম পুরুষ শুধুমাত্র একজন মুসলিম নারী ছাড়াও একজন কিতাবীয়া যেমন জিউস বা খ্রিষ্টান নারীর সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে। কোন মুসলিম নারী শুধুমাত্র মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য কোন পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ করতে পারে না। 

বাতিল (Void or Batil)
যে বিবাহটি বৈধ না সেটা বাতিল বা অনিয়মিত হতে পারে। বাতিল হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং রক্তের সম্পর্কে, বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রতিপালনের সম্পর্কের কারণে স্থায়ী এবং চূড়ান্তভাবে অবৈধ। এমন বিবাহ আইনের চোখে কোন বিবাহ না এবং এমন বিবাহের কোন আইনগত ফলাফল নেই। এই বিবাহ পক্ষগণের মধ্যে কোন পারস্পরিক আইনগত অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি করে না এবং এমন বিবাহের ফলে জন্মগ্রহণ করেছে এমন সন্তান অবৈধ।

অনিয়মিত বিবাহ (Irregular or fasid)
অনিয়মিত বিবাহ অর্থ হলো যে বিবাহের কিছু আইনগত ত্রুটি থাকে এবং যেখানে সংশোধনের মাধ্যমে বিবাহের বৈধতা দেওয়া যায়। অনিয়মিত বিবাহ হলো এমন বিবাহ যেটা স্বয়ং অবৈধ না কিন্তু অন্যকোন কারণে অবৈধ এবং যেখানে নিষিদ্ধ কারণগুলো অস্থায়ী বা যেক্ষেত্রে অবৈধতা কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেমন সাক্ষীর অনুপস্থিতি। যে কারণে বিবাহটি অবৈধ বা অনিয়মিত উক্ত কারণ অপসারণ করার মাধ্যমে বিবাহটি বৈধ করা যায়।

৪৩১.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার কতদিন পর্যন্ত তার হেফাজতে রাখতে বাধ্য?
  1. চিরকাল
  2. ৫ বছর
  3. ১০ বছর
  4. রেজিস্টার পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তার সংরক্ষিত রেজিস্টার যতদিন পূর্ণ না হয়, ততদিন তা নিজের হেফাজতে রাখতে হবে।
যখন রেজিস্টার সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তিনি তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের (Registrar) কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য।
এছাড়া, যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তার দায়িত্ব ছেড়ে দেন, অন্যত্র চলে যান বা তার লাইসেন্স বাতিল হয়, তাহলে তিনি তার কাছে থাকা অপূর্ণ রেজিস্টারও সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিতে বাধ্য।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২ এর বিধান রেজিস্টারের হেফাজত:
প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ধারা ৮ অনুযায়ী তাহার দ্বারা সংরক্ষিত প্রত্যেক রেজিস্টার নিরাপদে রাখিবেন এবং উক্ত রেজিস্টার পূর্ণ হইলে বা তিনি জেলা ত্যাগ করিলে বা লাইসেন্স হারাইলে, উহা রেজিস্ট্রারের নিকট হেফাজতের জন্য প্রদান করিবেন। 
---------------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section-12. Custody of registers:
Every Nikah Registrar shall keep safely each register maintained by him under section 8 until the same is filled, and shall then or earlier if he leaves the district or ceases to hold a licence, make over the same to the Registrar for safe custody.
৪৩২.
একজন হিন্দু ব্যক্তির স্ত্রী 'খ', কন্যা 'গ', পিতা 'ঘ' এবং ভাই 'চ' এর মধ্যে সপিণ্ড হিসেবে কে অগ্রগণ্য হবে?
  1. 'গ'
  2. 'খ'
  3. 'চ'
  4. 'ঘ'
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:
ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য, ও
গ- সমানোদক।
 
সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।
 
সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।
 
সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
 
• নিম্নে প্রথম ১০ জন সপিণ্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।

উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য হবে স্ত্রী। 
৪৩৩.
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এ বর্ণিত আদালত বলতে বুঝায়-
  1. সহকারী জজ
  2. পারিবারিক আদালত
  3. জুডিসিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০

ধারা ২১- বিচার

(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দাখিলকৃত আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে। 
 
(২) ক্ষতিপূরণ আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দিষ্ট সীমা থাকিবে না।
৪৩৪.
নিম্নের কোনটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. সম্পত্তি বিরোধ
  3. বিবাহ বিচ্ছেদ
  4. শিশুর তত্ত্বাবধান
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫- পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা :-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

কিন্তু "সম্পত্তি বিরোধ" একটি দেওয়ানি বিষয়, যা সাধারণ দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন হয়, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
৪৩৫.
মুসলিম আইনের কোন মতবাদে মদিনার অধিবাসীদের প্রথা ও রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়?
  1. হানাফি মতবাদ
  2. মালিকি মতবাদ
  3. শাফেয়ি মতবাদ
  4. হাম্বলি মতবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.) প্রতিষ্ঠিত মালিকি মতবাদ-এর একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো মদিনার অধিবাসীদের প্রথা ও রীতিনীতি (‘আমলু আহলিল মদীনা)-কে ইসলামী আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা। ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, মদিনাবাসীদের ঐকমত্য্যপূর্ণ চর্চা নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহর ধারাবাহিক প্রকাশ, তাই এটি কুরআন ও হাদিসের পরই প্রামাণ্য। অন্যান্য মাযহাব এই বিশেষ উৎসকে এতটা গুরুত্ব দেয়নি।
অর্থাৎ মালিকি মতবাদে কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতি আইনের মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

⇒ মুসলিম আইনের চার প্রধান মতবাদ (Schools of Islamic Law):
মুসলিম আইনকে চারটি প্রধান সুন্নি মতবাদে বিভক্ত করা হয়েছে। এই মতবাদগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে, এবং প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ইমামের অনুসৃত পদ্ধতি ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

হানাফি মতবাদ (Hanafi School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু হানিফা (৭০২–৭৭২ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসের পাশাপাশি ইজতিহাদ (ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ) এবং রায় ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়।
- হানাফি মতবাদ মুসলিম আইনের সবচেয়ে উদার ও সহনশীল।
- স্থানীয় প্রথা ও রীতিনীতি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

মালিকি মতবাদ (Maliki School)
- প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৭১১–৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- মদিনার মানুষের প্রথা এবং প্রাথমিক মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে আইনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- কুরআন ও হাদিস প্রধান উৎস, তবে মদিনার ঐতিহ্য এবং ইজমাও বিবেচ্য।

শাফেয়ি মতবাদ (Shafi'i School)
- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (৭৬৭–৮২০ খ্রিস্টাব্দ)।
- কুরআন ও হাদিসকে প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
- ইজমা (মুসলিম সমাজের ঐক্যমত) এবং কিয়াস (যুক্তিগত বিশ্লেষণ) ব্যবহারের উপর জোর দেয়।

হাম্বলি মতবাদ (Hanbali School)
- ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (৭৮০–৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)।
- এটি সবচেয়ে রক্ষণশীল সুন্নি মতবাদ।
- কুরআন ও হাদিস ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে খুব কম গ্রহণ করে।

৪৩৬.
একজন হিন্দু ব্যক্তি কতটুকু সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সমুদয় সম্পত্তি
  2. অর্ধেক সম্পত্তি
  3. এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি
  4. এক-চতুর্থাংশ সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ক) সমুদয় সম্পত্তি

- একজন হিন্দু ব্যক্তি তার সম্পত্তির সমুদয় অংশ উইল করতে পারেন। হিন্দুদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই, যেমন মুসলমানদের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পত্তি উইল করতে পারবেন। উইল করার ক্ষেত্রে আদালত থেকে উইল প্রবেট করতে হয়, যা আদালতের মাধ্যমে উইলের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- একজন মুসলিম তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত উইল করতে পারেন। এর মানে হলো, মৃত্যুর পর তাঁর দাফন-কাফন এবং দেনা পরিশোধের পর, তিনি তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কাউকে উইল করতে পারবেন না। তবে, যদি অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকে, তাহলে সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা সম্ভব। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর, তবে নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে, সেই দান সন্তান সাবালক হওয়ার পর হস্তান্তর করতে হবে।
৪৩৭.
নিম্নের কোনটি হেবার শর্ত নয়?
  1. দাতা কর্তৃক দানের প্রস্তাব দিতে হবে
  2. হেবা গ্রহীতা মুসলিম হতে হবে
  3. মরজ-উল-মউত এর ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি দান অকার্যকর
  4. দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে
ব্যাখ্যা
দান বা হেবা:
আইনের সরল ভাষায়, এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির কাছে স্বেচ্ছায় এবং বিনা প্রতিদানে কতিপয় বিদ্যমান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরকে দান বলে। মুসলিম আইনে একে 'হেবা' বলা হয়।

কোনো হেবা আইনানুগ হতে হলে অবশ্যই সেখানে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলো-
(১) দাতা কর্তৃক দানের ঘোষণা বা প্রস্তাব (Offer);
(২) দানগ্রহীতা কর্তৃক উহা গ্রহণ (Acceptance);
(৩) দাতা কর্তৃক দানগ্রহীতাকে দানের বিষয়বস্তুর দখল প্রদান করতে হবে। এই শর্তগুলো যদি পালন করা হয়, তাহলে হেবাটি আইনানুগভাবে সিদ্ধ হবে ।

হেবা করার যোগ্যতা-
নাবালক নয় এমন সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
 
কে হেবা গ্রহণ করতে পারে-
একজন মুসলিম তার সমগ্র ভূ-সম্পত্তি যেকোনো ব্যক্তি, হোক সে অমুসলিম বরাবর দান করতে পারেন। অর্থাৎ গ্রহীতার ক্ষেত্রে সাবালক, নাবালক, পুত্র, অপুত্র, স্বামী কিংবা স্ত্রী, ধনী-নির্ধন বালাই নেই, যে কাউকে দান করা যায় এবং তিনি বা তারা নির্বিবাদে দান গ্রহণ করতে পারেন।
 
সীমারেখা-
মুসলিম আইন মোতাবেক একজন মুসলমান জীবদ্দশায় তার সমগ্র সম্পত্তি দান করে দিতে পারে। এমনকি তার উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করলেও এই দান অবৈধ হবে না। তবে শুধু মরজ-উল-মউতের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। মরজ-উল-মউত হলো মরণ অসুখ যাতে মৃত্যুর খুবই সম্ভাবনা থাকে এবং যার ফলে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। মুসলিম আইন অনুযায়ী হেবা বা দানের বৈধতার জন্য দখল দানসহ যেসব শর্ত আছে, মরজ-উল-মউতের জন্যও একই শর্তাবলি প্রযোজ্য।
 
মরজ-উল-মউত বা মরণ অসুখের সময় একজন মুসলমানের প্রদত্ত দানটি দাতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা সম্মতি প্রদান না করলে দাফন-কাফন ও অন্যান্য দেনা পরিশোধের পর মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অধিক কার্যকর হবে না। প্রাসঙ্গিক বিধায় উল্লেখ্য যে দাতার ক্ষমতার এই সীমারেখাটি উইল বা ওসিয়তের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের সীমারেখার অনুরূপ।
৪৩৮.
একজন হানাফি মুসলিম মা, বাবা ও দুই বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এই পরিস্থিতিতে কে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে?
  1. মা
  2. বাবা
  3. দুই বোন
  4. কেউ বঞ্চিত হবে না
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে,
⇒ দুই বোন কোনো অংশ পাবে না; (বাবা জীবিত থাকায়, বোনেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে)।
⇒ মা ১/৬ অংশ পাবে ( যেহেতু দুই বা ততোধিক বোন রয়েছে); এবং
⇒ বাবা বাকি ৫/৬ অংশ পাবে (আসাবা হিসেবে)।

• মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে বোনের অংশ :
মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে এবং পিতা, দাদা বা ভাই না থাকলে,
⇒ বোন একজন হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ পায়।
⇒ আপন ভাই থাকলে বোনেরা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে ২:১ আনুপাতিক হারে।
⇒ মৃত ব্যক্তির কন্যা অথবা পুত্রর কন্যা থাকলে বোন অবশিষ্টভোগী হিসেবে অংশ পাবে।
৪৩৯.
মুসলিম আইনে, বিবাহ হলো -
  1. একটি পবিত্র চুক্তি
  2. একটি দেওয়ানি চুক্তি
  3. ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান
  4. একটি স্বর্গীয় কার্য
ব্যাখ্যা
⇒ ইসলামি আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। ইসলামী আইনে বিয়ে হলো একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে পবিত্র বন্ধন। ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্য ছাড়াও এ বন্ধন সৃষ্টি হয় একটা আইনগত চুক্তির মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও বৈধ সন্তান জন্মদানের অধিকার লাভ করে। এ ছাড়াও বিয়ের মাধ্যমে তাদের একে অন্যের ওপর যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য জন্মায়।

Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।
৪৪০.
হানাফী মতবাদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কখনও অবশিষ্টভোগী হতে পারে না?
  1. পিতা
  2. স্বামী
  3. ভ্রাতা
  4. পুত্র বা কন্যা
ব্যাখ্যা
অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে, এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্নীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্নীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পিতা-
যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পায় এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। 
আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই পিতা পাবেন।
অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যা-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে ভাই-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক কেউ থাকলে অথবা বাবা, দাদা বা এভাবে ঊর্ধ্ব পুরুষ কেউ থাকলে তখন ভাই-বোন কেউ অংশ পাবেন না। তবে যদি স্বামী/স্ত্রী, কন্যা বা মা থাকে তবে তাদের অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশ ভাই-বোন নিজেদের অংশ (১/২) হিসেবে পাবে। ঊর্ধ্ব পুরুষ বা উত্তর পুরুষে কেউ না থাকলে সহোদর ভাই-বোন ছেলে-মেয়ের মতো হারে অংশ পাবে।

অপর দিকে, স্বামীর অংশ : স্বামী ২ ভাবে মৃত স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে।
- মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে, স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। 
- মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

অর্থাৎ পিতা, ভাই/ ভ্রাতা এবং পুত্র বা কন্যা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পেতে পারে কিন্তু স্বামী পায় না।
৪৪১.
তালাক-ই-হাসানের ক্ষেত্রে মোট কয় বার 'তালাক' উচ্চারণ করতে হয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
তালাক-উস-সুন্নাহ (অনুমোদিত তালাক):
তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] হলো হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর সুন্নত বা হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক। তালাক-উস-সুন্নাহ [Talaq-us-Sunna] দুই প্রকার হতে পারে;

ক. তালাক আহসান [Ahsan] (সর্বাধিক অনুমোদিত তালাক)
খ. তালাক হাসান [Hasan] (অনুমোদিত তালাক)

- তালাক-ই-আহসান (Ahsan): স্ত্রীর তুহরে (পবিত্র সময়) একবার তালাক উচ্চারণ করা হলে এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল (৩টি ঋতুকাল পর্যন্ত) তার সাথে যৌন সম্পর্ক (Consummation) না রাখলে, ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তালাক কার্যকর হবে এবং অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। এটি সর্বাপেক্ষা অনুমোদিত তালাক।

- তালাক-ই-হাসান (Hasan): স্বামী তার স্ত্রীর পরপর ৩টি তুহরের প্রত্যেক তুহরেই ১ বার করে তালাক উচ্চারণ করবে এবং তুহর কালে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক হতে বিরত থাকবে। তৃতীয় উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই তালাক কার্যকর হবে। এই ক্ষেত্রে তালাক অপ্রত্যাহারযোগ্য।
৪৪২.
'মুশাহ' (Musha) হলো কোনো সম্পত্তির ________ অংশ।
  1. অর্ধেক
  2. বিভক্ত
  3. অবিভাজ্য
  4. পরিত্যক্ত
ব্যাখ্যা
⇒ 'মুশাহ' বা 'Musha' হলো কোনো সম্পত্তির অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ।
-হানাফি আইন অনুসারে অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তি যা বিভক্ত করা যায় এমন সম্পত্তি দান করলে দানটি বৈধ হবে না।
-কিন্তু পরবর্তীতে এটি বিভক্ত করা হলে দানটি বৈধ হয়ে যাবে।

কিন্তু চারটি বিশেষ ক্ষেত্র আছে যেসব ক্ষেত্রে দানের বিষয়বস্তু বিভক্ত করা না হলেও দানটি বৈধ হবে।
- যদি সম্পত্তিটি অবিভাজ্য হয় অথবা যদি সম্পত্তিটি এমন হয় যে, অবিভক্ত অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী;
- যদি দুই বা ততোধিক অংশীদারদের যেকোনো একজন তার অংশটি অপর কোনো অংশীদারকে দান করে;
- কোনো অবিভক্ত ভূমির ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট অংশ আলাদাভাবে গ্রহণ এবং উত্তোলন করার অধিকার থাকলে সেটিকে অবিভক্ত জমি ধরা হবে না এবং এটি দান করলে দানটি অবৈধ হবে না;
- দানকারী যদি কোনো হোল্ডিংয়ে দান গ্রহীতাকে যৌথ মালকানার স্বীকৃতি দেয় এবং সেরকম দখলের 'স্বীকৃতি দিলে সেটি বৈধ দান হবে।
৪৪৩.
হিন্দু আইনে অজাত ব্যক্তি বরাবর-
  1. সরাসরি দান করা যায়
  2. শর্ত সাপেক্ষে দান করা যায়
  3. কোনো শর্তেই দান করা যায় না
  4. দান স্বত্ব ছাড়া দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। (দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হইতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।)

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হলেও বে-আইনী হবে।

• পূর্বে অজাত ব্যক্তির বরাবরে হিন্দু আইন অনুযায়ী কোন দান করা যেতো না, কিন্তু ১৯১৬ সনের Hindu Disposition of Property Act পাশ হওয়ার পর হতে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা যায়। অজাত ব্যক্তির বরাবরে সরাসরি কোন দান করা যায় না। এইরূপ ব্যক্তির বরাবরে দান করতে হলে দানের সময় জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির বরাবরে জীবনস্বত্ব অথবা অন্য কোন প্রকার সীমিত স্বত্ব সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা চলে।

তবে, অজাত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ স্বত্ব দিতে হবে এবং এমন কোন শর্ত আরোপ করা যাবে না যাতে অজাত ব্যক্তির নাবালক অবস্থা অর্থাৎ ১৮ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর তার উপর দানকৃত সম্পত্তি বর্তিবে। এই শর্তগুলি হস্তান্তর আইনের ১৩, ১৪, ১৬ ও ২০ ধারা অনুযায়ী এবং হস্তান্তর আইনের এই ধারাগুলি ১৯২৯ সনের হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনীর পর হতে হিন্দু আইনেও প্রযোজ্য হবে।
৪৪৪.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. উল্লিখিত সবগুলোকে
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
৪৪৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারার অধীন পারিবারিক আপিল আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করতে পারে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৩
  4. ধারা ২৪
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২১: পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:
যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

৪৪৬.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর কোন ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ৫ ধারা
  2. ৭ ধারা
  3. ৮ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "ধারা ৪ এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তি বা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসাবে গণ্য হইবে না।"
- এই বিধান অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকরা সরকারি কর্মচারী নন এবং তারা সরকারি চাকুরীর সুযোগ-সুবিধা (পেনশন, গ্রেড ইত্যাদি) পাবেন না। তাদের ভূমিকা একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে।
- অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না।

৪৪৭.
মুসলিম আইন অনুসারে 'ক' তার ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায়, ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলে বিবাহটি কী ধরনের হবে?
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. হারাম বিবাহ
  4. অনিয়মিত বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইন (শরীয়া) অনুসারে, একজন পুরুষ সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী একই সময়ে রাখতে পারে। ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায় ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলে বিবাহটি বৈধ বা বাতিল নয়, বরং অনিয়মিত (Irregular বা Fasid) বিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। এটি ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু সম্পূর্ণ বাতিল নয়, কারণ স্বামী অন্য স্ত্রীদের মধ্যে যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে এই বিবাহকে বৈধ করতে পারেন।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। 
- একজন মুলমানের একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয়। চারজন স্ত্রী থাকাকালে ঐ ব্যক্তি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে পঞ্চম বিবাহটি বাতিল হবে না, তবে এ বিয়েটি ফাসিদ বা অবৈধ বিবাহ হবে। এটি বাতিল বিবাহ নয়, কারণ, স্বামী অন্য স্ত্রীদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে পঞ্চম বিবাহকে বৈধ করতে পারে।

৪৪৮.
মুসলিম হানাফী আইন অনুসারে সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক কোন শ্রেণীর অগ্রক্রয়ের অধিকারী?
  1. শাফি-ই-শরিক
  2. শাফি-ই-খালিত
  3. শাফি-ই-জার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের (শুফা) তিন শ্রেণির অধিকারী হলেন:
১. শাফি-ই-শরিক → সহ-মালিক (co-sharer)
২. শাফি-ই-খালিত → রাস্তা/নালা/সেচ ইত্যাদি সুবিধার অংশীদার
৩. শাফি-ই-জার → সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক (vicinal owner / neighbouring owner) 

অর্থাৎ পাশের জমির মালিক হলেন শাফি-ই-জার। তিন শ্রেণির মধ্যে এই শ্রেণিটির অগ্রাধিকার সবচেয়ে কম।

⇒  Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

মুসলিম হানাফী আইন অনুযায়ী, ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে-
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik]- সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার।
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]- সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]- সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক।

- অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
এই তিন প্রকারের অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে ক্রমিক অনুসারে অগ্রাধিকার পাবে। বিভিন্ন শ্রেণির অগ্রক্রয়ের অধিকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে প্রথম স্তরের অধিকারী দ্বিতীয় স্তর কে এবং দ্বিতীয় স্তরের অধিকারী তৃতীয় স্তরকে রহিত করবে। একই স্তরের একাধিক ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তারা সবাই অগ্রক্রয়ের অধিকারকৃত ভূমির সমান ভাগ পাবে।

৪৪৯.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বিধান অনুসারে Maintenance বা তালাক সংক্রান্ত Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যায়—
  1. পারিবারিক আদালতের কাছে
  2. সিনিয়র সহকারী জজের কাছে
  3. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে
  4. সহকারী জজের কাছে
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর বিধান অনুসারে, Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন সংশ্লিষ্ট সহকারী জজ (Assistant Judge)-এর কাছে করা যায়। এটি নিম্নলিখিত ধারাগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
- Maintenance (ভরণপোষণ) সংক্রান্ত: ধারা ৯(২)-এ উল্লেখ আছে যে, Arbitration Council কর্তৃক ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণের সার্টিফিকেট জারির পর, স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন করতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় এবং কোনো আদালতে এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা যায় না।
- তালাক সংক্রান্ত: ধারা ৭(৪)-এ তালাকের ক্ষেত্রে Arbitration Council-এর সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার (revision) জন্যও সহকারী জজের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বহুবিবাহের অনুমতি (ধারা ৬) বা তালাকের প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে Arbitration Council-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় ও ফি প্রদান করে সহকারী জজের কাছে আবেদন করা যায়, এবং তাঁর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

অর্থাৎ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৬(৪) এবং ৯(২) অনুসারে, Maintenance বা তালাক সংক্রান্ত Arbitration Council-এর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার (revision) জন্য আবেদন সহকারী জজের কাছে করা যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) সহকারী জজের কাছে।

৪৫০.
মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুসারে, যদি Nikah Registrar কোনো বিবাহ বা তালাক নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে কোথায় আপিল করা যাবে?
  1. পারিবারিক আদালতে
  2. রেজিস্ট্রার কাছে
  3. জেলা প্রশাসকের কাছে
  4. দায়রা আদালতে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: খ) রেজিস্ট্রার কাছে।
⇒ মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, যদি Nikah Registrar কোনো বিবাহ বা তালাক নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে উক্ত অস্বীকৃতির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার এর কাছে আপিল করা যেতে পারে। রেজিস্ট্রার সেই আপিলের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন এবং তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬(৪) অনুসারে:
- যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে আবেদনকারী (স্বামী/স্ত্রী বা তাদের আইনানুগ প্রতিনিধি) ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করতে পারবেন।
- রেজিস্ট্রারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
- আপিলের সময়সীমা: নিকাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক নিবন্ধন প্রত্যাখ্যানের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
- আপিলের কর্তৃপক্ষ: শুধুমাত্র রেজিস্ট্রার (স্থানীয় নিবন্ধন অফিসার), অন্য কোনো আদালত বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নয়।
- চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: রেজিস্ট্রারের রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিলের ব্যবস্থা এই আইনে নেই।
৪৫১.
'কোন হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না'- নিম্নলিখিত কোন আইনে এই বিধান করা হয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Act,1856
  2. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  3. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
  4. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

- হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।
- যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে। আবার একজন বিধবা যদি পুনরায় একই গোত্রের কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করে, তাহলে ঐ বিবাহ অবৈধ হবে না।
৪৫২.
নিম্নলিখিত কোনটি বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গীতা
  2. ঋগ্বেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. সামবেদ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: গীতা।

⇒ বেদ হলো হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ, যা "শ্রুতি" হিসেবে পরিচিত।
বেদ চারটি —
১) ঋগ্বেদ – দেবতাদের স্তোত্র ও মন্ত্র সংকলন।
২) যজুর্বেদ – যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচারবিধি সম্পর্কিত বিধান।
৩) সামবেদ – সঙ্গীত ও স্তোত্রের সংকলন।
৪) অথর্ববেদ – জাদু-টোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের অনুশাসন সংক্রান্ত।

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে গীতা (Bhagavad Gita) বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি মহাভারতের অংশ এবং হিন্দু দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলেও এটি "শ্রুতি" নয়, বরং "স্মৃতি" শাস্ত্রের অন্তর্গত।
৪৫৩.
The Family Courts Ordinance,1985 এর ১৩ ধারায় পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে-
  1. বিচার্য বিষয় নির্ধারণ এর পূর্বে
  2. সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
  3. বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময়
  4. পক্ষগণের আবেদনক্রমে
ব্যাখ্যা
• The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে। ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে। ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
৪৫৪.
নিম্নের কোন ব্যক্তি মুসলিম উত্তরাধিকার অনুসারে কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না?
  1. ভাই
  2. কন্যা
  3. দাদা
  4. চাচা
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।
 
⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:
১/ স্বামী;
২/ স্ত্রী;
৩/ পিতা;
৪/ মাতা;
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।
৪৫৫.
রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ কী?
  1. বণ্টন করা
  2. বাতিল করা
  3. সংরক্ষণ করা
  4. প্রত্যাবর্তন করা
ব্যাখ্যা

⇒ রদ্দ নীতির আভিধানিক অর্থ হলো "প্রত্যাবর্তন করা" বা "ফিরিয়ে দেওয়া" (আরবি: رَدّ)। এটি ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ নিয়ম, যেখানে: শর্তপূরণ সাপেক্ষে (অংশীদারদের অংশের যোগফল ১-এর কম হলে এবং কোনো আসাবা না থাকলে)
অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী বাদে অন্যান্য অংশীদারদের কাছে প্রত্যাবর্তন (ফেরত) করা হয়।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে রদ্দ নীতি প্রয়োগ হয় যখন যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশের যোগফল ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোনো আসাবা (যেমন পুত্র, পিতা ইত্যাদি) না থাকে।
- এই ক্ষেত্রে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় বণ্টন করা হয়, অর্থাৎ অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া বা প্রত্যাবর্তন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
রদ্দ নীতি আউল নীতির বিপরীত (আউলে অংশের যোগফল ১-এর বেশি হলে অংশ কমিয়ে বণ্টন করা হয়)।
এটি যাবিল ফুরুজ (নির্দিষ্ট অংশীদার) যেমন কন্যা, মা, দাদি প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

উদাহরণ:
যদি মৃতের স্বামী (১/৪), কন্যা (১/২) ও মা (১/৬) থাকে, তবে অংশের যোগফল = ১১/১২ (<১)।
অবশিষ্ট ১/১২ কন্যা ও মাকে তাদের প্রাপ্ত অংশের অনুপাতে (৬:২) বণ্টন করা হবে।

৪৫৬.
কোন ধরনের বিয়ে মুসলিম আইনে বৈধ নয়?
  1. স্থায়ী বিয়ে
  2. সাক্ষীসহ বিয়ে
  3. অস্থায়ী বিয়ে
  4. নাবালক বিয়ে
ব্যাখ্যা
মুতা বিয়ে (Mut'a Marriage):
মুতা বিয়ে হলো একটি অস্থায়ী বিবাহের চুক্তি, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পন্ন হয় এবং চুক্তি শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এটি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈধ বিবাহের একটি ধরন, তবে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ে এটি বৈধ নয়।

মুতা বিয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
মুতা বিয়ে একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সময় শেষ হলে এই বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিয়েতে দেনমোহর বা মেহের নির্ধারণ করা এবং তা প্রদান করা আবশ্যক। মুতা বিয়েতে স্ত্রী বা সন্তানরা সাধারণত স্বামীর উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না। এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। এই বিবাহে তালাকের বিধান নেই, সময়সীমা শেষ হলেই বিবাহের সমাপ্তি ঘটে।
৪৫৭.
যদি পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীনে কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করে, তাহলে আদালত কতদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে ডিক্রির অনুলিপি পাঠাবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।

(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।

(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।
৪৫৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালত অন্তর্বতীকালীন আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৬ ধারা
  2. ১৮ ধারা
  3. ২০ ধারা
  4. ২১ ধারা
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২১- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান:
যদি মোকদ্দমা বা আপিলের যেকোনো পর্যায়ে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত হলফনামা বা অন্য কিছু দ্বারা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মোকদ্দমা বা আপিলের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা হইতে কোনো পক্ষকে বিরত রাখিবার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার নিকট যেরূপ উপযুক্ত প্রতীয়মান হইবে সেইরূপ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

প্রতিকার: এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তী আদেশ এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
৪৫৯.
দায়ভাগ স্কুল অনুসারে হিন্দু আইন প্রযোজ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে, বিধবা কী অধিকার পান?
  1. পুত্রের অর্ধেক অংশ
  2. পুত্রের সমান অংশ
  3. সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ
  4. কোনো অধিকার পান না
ব্যাখ্যা
- দায়ভাগ পদ্ধতি হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ শাখা, যা প্রধানত বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে প্রচলিত। এই পদ্ধতি অনুসারে, পিন্ডদান করার অধিকারী ব্যক্তিরাই উত্তরাধিকারী হন, অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র।
- ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকারের আইন (Hindu Women’s Rights to Property Act, 1937) প্রণীত হওয়ার আগে বিধবারা কোনো উত্তরাধিকার পেতেন না, কেবলমাত্র ভরণপোষণের অধিকার ছিল। তবে, এই আইনের মাধ্যমে বিধবা স্ত্রীকে ছেলের সমান অংশ দেওয়া হয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

- এই আইনের ৩(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি উইল বা অন্য কোনো বৈধ দলিল ছাড়া মারা যান, তাহলে তার বিধবা স্ত্রী তার পুত্রের সমান অংশ পাবেন। যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে সবাই মিলে একটি পুত্রের সমান অংশ ভাগ করে নেবেন।

- তবে, বিধবার সম্পত্তির অধিকার স্থায়ী মালিকানা নয়, বরং এটি সীমিত স্বত্ব (Hindu Woman’s Estate)। অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারবেন, প্রয়োজনে বিক্রি করতে পারবেন, কিন্তু নিজের মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি তার স্বামীর উত্তরাধিকারীদের কাছেই ফিরে যাবে।

- অর্থাৎ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী পুত্রের সমান অংশের অধিকারী হন এবং তিনি জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন। তবে, এটি স্থায়ী মালিকানা নয়, কারণ তিনি মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না।
৪৬০.
একজন মুসলিম তার স্ত্রীকে একখণ্ড জমি দান করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। এমতাবস্থায় দানটি-
  1. প্রত্যাহারযোগ্য
  2. মৌখিক হলে প্রত্যাহার করতে পারেন
  3. প্রত্যাহারযোগ্য নয়
  4. রেজিস্ট্রেশন করলে প্রত্যাহার করতে পারেন
ব্যাখ্যা
• দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। সাধারণত দানের মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তাঁর ওয়ারিশ কিংবা অন্য যে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আইন স্বীকৃত। দান করতে হলে দাতার এবং গ্রহীতার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হয়।

দান বৈধ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয় –
> দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
> গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
> দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।

দান বাতিল-
একবার দান করার পর এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করার পর আদালতের ডিক্রি ছাড়া বাতিল করা যাবে না। দখল প্রদানের পর দান রদ করা যেতে পারে তবে দখল অর্পণের পর তা প্রত্যাহার করা যায় না। যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দান, দানগ্রহীতা যদি মারা যায়, যখন দাতা কিছুর বিনিময়ে গ্রহণ করবে, সম্পত্তি যখন ধ্বংস হয়ে যাবে প্রভৃতি।
৪৬১.
'বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফলাফল' সংক্রান্ত বিধান নিম্নের কোন আইনে দেয়া আছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. The Muslim Family Laws Ordinance, 1961
  3. The Dissolution of Muslim Marriages Act,1939
  4. মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ধারা ৪ এ বিবাহিতা মুসলমান নারী ধর্মান্তরের ফল দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে-
কোন বিবাহিতা মুসলমান নারী ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে উক্ত কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না। তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর সেই নারী ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন কারনে তার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেন।
তাছাড়া, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যে কোন ধর্ম হইতে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করেছে।

Section 4: Effect of conversion to another faith
The renunciation of Islam by a married Muslim woman or her conversion to a faith other than Islam shall not by itself operate to dissolve her marriage: Provided that after such renunciation, or conversion, the woman shall be entitled to obtain a decree for the dissolution of her marriage on any of the grounds mentioned in section 2: 
Provided further that the provisions of this section shall not apply to a woman converted to Islam from some other faith who re-embraces her former faith.
৪৬২.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর নিবন্ধনের জন্য কত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী, যদি কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতীত অন্য কেউ মুসলিম বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহলে বর (বরপক্ষ) বিবাহের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে তা রিপোর্ট করতে বাধ্য।
→ ধারা ৫(৪) অনুসারে, যদি কেউ এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করে অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট না করে, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
→ সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, বিবাহ সম্পাদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ এর বিধান বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট ও নিবন্ধন:
(১) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(২) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার অন্য কোন ব্যক্তি বিবাহ সম্পাদন করেন, তাহা হইলে বিবাহের বরকে উক্ত সম্পাদনের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ইহা রিপোর্ট করিতে হইবে। 
(৩) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ সম্পাদনের রিপোর্ট করা হয়, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 5. Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
৪৬৩.
হিন্দু আইনে বিবাহকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. সামাজিক রীতি
  2. দেওয়ানী চুক্তি
  3. আইনি অনুমোদন
  4. ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে বিয়ে (Marriage) হলো একটি "পবিত্র বন্ধন" (Sacrament) - যা শুধু পার্থিব বা আইনি বিষয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যে কারণে হিন্দু বিবাহ "পবিত্র বন্ধন"-

ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ:
হিন্দু ধর্মে বিবাহ একটি পূজা বা যজ্ঞসদৃশ ধর্মীয় আচার। ‘সপ্তপদী’ (সাতপাক) ও ‘হোমযজ্ঞ’-এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আত্মিক ও ধর্মীয় মিলন ঘটে।

জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক:
বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু দম্পতির সম্পর্ক শুধু এই জন্মেই নয়, বরং বহু জন্ম ধরে স্থায়ী। এই বন্ধন মৃত্যুর পরেও থাকে — একে বলা হয় "অবিচ্ছেদ্য (indissoluble)"।

চুক্তির নয়, কর্তব্যের ভিত্তিতে:
মুসলিম আইনে বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি (civil contract) হলেও, হিন্দু আইনে বিবাহ মূলত ধর্মীয় কর্তব্য (religious duty) হিসেবে বিবেচিত।

তালাকের সীমিত সুযোগ:
হিন্দু শাস্ত্রে স্বাভাবিকভাবে তালাকের কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তীকালে কিছু বিধিবদ্ধ আইন (যেমন ভারতের Hindu Marriage Act, 1955) দ্বারা কিছু ব্যতিক্রম যুক্ত হলেও, বাংলাদেশে এখনো হিন্দুদের জন্য তালাক বৈধ নয়।
৪৬৪.
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি-
  1. প্রত্যেকে ১/৪ অংশ করে পাবেন।
  2. সকলে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
  3. প্রত্যেকে ১/৮ অংশ করে পাবেন।
  4. সকলে ১/৮ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।
ব্যাখ্যা

স্ত্রী(Wife): স্বামীর মতো স্ত্রীও কুরআনের প্রাথমিক উত্তরাধিকারী স্ত্রী কখনোই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়না। অনুরূপ অবস্থা তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যে তার স্বামী অবশ্যই মারা যাবে বৈবাহিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকার সময় বা একটি প্রত্যাহারযোগ্য তালাকের ইদ্দত সময়কালে।ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি থেকে কিছুই পেতনা।

স্ত্রীর  দুটি অবস্থা আছে:

(ক) ১/৪

(খ) ১/৮

(ক) ১/৪ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে

(খ) ১/৮ : স্ত্রী শুধুমাত্র একটি শর্ত পূরণ করলে মৃত স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশের অধিকারী: মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে (যত নিচের হউক) রেখে মৃত্যু বরণ করলে

দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকলে বণ্টনের নিয়ম:

-যদি একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তারা একই ভগ্নাংশের অধিকারী হবে, যা তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। তাদের সংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ বাড়বে না
-অর্থাৎ
মৃত ব্যক্তি কোন সন্তান বা পুত্র সন্তানকে না রেখে মৃত্যু বরণ করলে, মৃত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তি প্রত্যেকে ১/৪ অংশ সমানভাবে ভাগ করে পাবেন।

৪৬৫.
কোনটি হিন্দু আইনের একটি আধুনিক উৎস?
  1. স্মৃতি
  2. বিধিবদ্ধ আইন
  3. মিতাক্ষরা মতবাদ
  4. দায়ভাগ মতবাদ
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস:
আধুনিক যুগে হিন্দু আইনের বিকাশে কিছু নতুন উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যেমন—ঃ
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Precedents): বিভিন্ন মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
- বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law): সংসদ কর্তৃক প্রণীত হিন্দু ব্যক্তিগত আইন।
- সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা (Justice, Equity, and Good Conscience): যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই, সেখানে ন্যায়বিচার ও বিবেকবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

⇒ হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসগুলোর মধ্যে বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law) অন্যতম।

- আধুনিক সময়ে হিন্দু ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন দিককে স্পষ্ট ও সুসংগঠিত করার জন্য বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
-কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিবদ্ধ আইন হলো—
- Hindu Marriage Act – হিন্দু বিবাহ সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Succession Act – হিন্দু উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Adoption and Maintenance Act – দত্তক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।
- Hindu Minority and Guardianship Act – হিন্দু নাবালক ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত আইন।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ – হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের দুটি প্রাচীন মতবাদ। এগুলো আধুনিক উৎস নয়।
- স্মৃতি – এটি হিন্দু আইনের একটি প্রাচীন উৎস, আধুনিক নয়।
৪৬৬.
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত ধারায় মোট কয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৫ অনুসারে, পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত মোট ৫টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) বিবাহ বিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) দেনমোহর, (ঘ) ভরণপোষণ, এবং (ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান। এই ধারা মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এই বিষয়গুলোর মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার প্রদান করে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৫ ধারার বিধান: পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৪৬৭.
এক ব্যক্তি তার পুত্রের দুই কন্যা ও তার একমাত্র আপন বোন রেখে মারা গেল। আপন বোন কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবে?
  1. ২/৩ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দুইজন পুত্রের কন্যা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে এবং আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) হিসেবে ১/৩ অংশ পাবে।

⇒ ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, আপন বোন (Full Sister) এর সম্পত্তির অংশ:
আপন বোন সম্পত্তিতে তিনভাবে অংশ পেতে পারে:
১. নির্ধারিত অংশ (Farāidh) হিসেবে: ১/২ অথবা ২/৩ অংশ;
২. অবশিষ্টাংশভোগী (Asabah/Tasib) হিসেবে।

• আপন বোন একক নারী উত্তরাধিকারী হলে এবং নিম্নের কেউ না থাকলে, সে ১/২ অংশ পাবে। শর্তসমূহ:
- সে একজন মাত্র বোন (কোনো সহোদর বোন নেই) এবং
- নিম্নোক্ত কেউ জীবিত থাকবে না:
- মৃত ব্যক্তির সন্তান;
- মৃত ব্যক্তির পুত্রের সন্তান;
- বাবা;
- দাদা;
- আপন ভাই।

• যদি একাধিক (২ বা ততোধিক) আপন বোন থাকে এবং উপরোক্ত সবাই অনুপস্থিত থাকে, তবে তারা সম্মিলিতভাবে ২/৩ অংশ পাবে। শর্ত:
- দুই বা ততোধিক বোন থাকতে হবে;
- উপরোক্ত কেউ জীবিত থাকলে এই অংশ প্রযোজ্য হবে না।

• আপন বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পেতে পারে দুইটি প্রধান পরিস্থিতিতে:
১. আপন ভাইয়ের উপস্থিতিতে:
আপন ভাই থাকলে, সে পুরুষ উত্তরাধিকারী হিসেবে অবশিষ্ট অংশ পায়, আর বোন তার সাথে তাসীব হিসেবে অংশ পায়।  বোন ও ভাইয়ের অনুপাতে ভাগ হবে ১:২ হিসেবে (ছেলে:মেয়ে)

২. কন্যাদের উপস্থিতিতে (Exception Rule):
যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকে, এবং তাদের নির্ধারিত অংশ দিয়ে দেওয়ার পর সম্পত্তির কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে আপন বোন সেই অবশিষ্টাংশ পাবে।
৪৬৮.
মুসলিম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যার মধ্যে বন্টন কিভাবে হয়?
  1. ছেলে ও মেয়ের মধ্যে সমান ভাগ
  2. মেয়ে ছেলের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
  3. ছেলে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়
  4. শুধুমাত্র ছেলে পায়
ব্যাখ্যা

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):
মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে, এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্নীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্নীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

অবশিষ্টাংশ ভোগী হিসেবে পুত্র-কন্যা-
যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে।

৪৬৯.
A gift made during death illness is known as -
  1. Hiba-bil-illness
  2. Marz-ul-maut
  3. Marz-ul-heba
  4. Hiba-bil-maut
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।
৪৭০.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান কী?
  1. পিতা বা মাতা কর্তৃক লিখিত অভিযোগ দিতে হবে
  2. আদালত স্ব-উদ্যোগে নিতে পারে
  3. পিতা বা মাতা কর্তৃক মৌখিক অভিযোগ দিতে হবে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩
 
ধারা ৭- অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার
 
(১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য হইবে। 
 
(২) কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করিবে না।
৪৭১.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী, কোন কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী?
  1. স্বামী যদি নিষ্ঠুর আচরণ করে
  2. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠে আক্রান্ত হয়
  3. স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে
  4. উল্লিখিত সব কারণ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর ঘ) উল্লিখিত সব কারণ।

⇒ বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
----------------
The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946, Section-2. Grounds for claiming separate residence and maintenance
Notwithstanding any custom or law to the contrary a Hindu married woman shall be entitled to separate residence and maintenance from her husband on one or more of the following grounds, namely,- 
(1) if he is suffering from any loathsome disease not contracted from her; 
(2) if he is guilty of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him; 
(3) if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish; 
(4) if he marries again; 
(5) if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion; 
(6) if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine; 
(7) for any other justifiable cause: 
Provided that a Hindu married woman shall not be entitled to separate residence and maintenance from her husband if she is unchaste or ceases to be a Hindu by change to another religion or fails without sufficient cause to comply with a decree of a competent Court for the restitution of conjugal rights.
৪৭২.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩- এ আদালত অবমাননা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ধরন কী?
  1. কারাদণ্ড
  2. অর্থদণ্ড
  3. উভয়ই
  4. শুধুমাত্র সতর্কীকরণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অর্থদণ্ড।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৩: পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,

তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডতি করিতে পারিবে।

৪৭৩.
ইসলামি আইনশাস্ত্রে, ওয়ালির প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করা
  2. নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা
  3. পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করা
  4. উইলের সম্পত্তি দেখাশোনা করা
ব্যাখ্যা

নাবালকের ব্যক্তিগত অভিভাবক (Guardian of a Minor)
ইসলামী শরিয়তে, নাবালক (অর্থাৎ, যে শিশু বা কিশোর আইনগতভাবে পূর্ণবয়সে পৌঁছায়নি) তার নিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় এবং তার ব্যক্তিগত এবং সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করতে অভিভাবক প্রয়োজন। এই অভিভাবককে "ওয়ালি" বলা হয়।

ওয়ালি (Guardian) - এর ভূমিকা:
ওয়ালি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নাবালকের বা অনাবালকের শারীরিক, মানসিক ও আইনি স্বার্থ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল। ওয়ালি সেই ব্যক্তি, যিনি নাবালক বা মেয়ে বা ছেলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তার পক্ষ থেকে আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারণত, ওয়ালি হিসেবে প্রথমে বাবা বা পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিয়োগ পায়, যদি না তারা জীবিত না থাকেন। এরপর তার পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে একজন পুরুষ বা মহিলাকে নিয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে নাবালক বা নাবালিকার স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ওয়ালি হওয়ার শর্ত:
বয়স ও পরিপক্কতা: ওয়ালি হতে হলে অভিভাবকের অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে হবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতা: অভিভাবককে সৎ, যোগ্য এবং আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে হবে।
পরিবারের অভিভাবক: প্রাথমিকভাবে, নাবালকের বাবা বা তার পরিবারের পুরুষ সদস্য ওয়ালি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, যদি বাবা না থাকেন, তাহলে মায়ের পক্ষ থেকেও অভিভাবক মনোনীত হতে পারেন।

৪৭৪.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি কী?
  1. অনধিক ৩ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৫ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• যে আইনি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বামী ও স্ত্রীর আইনগত মর্যাদা সৃষ্টি এবং সে মর্যাদা হতে উদ্ভুত আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সৃষ্টি করে তাকে বিবাহ বলে।

মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:

⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
⇒ এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)
৪৭৫.
প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. গাভী
  3. অলঙ্কার
  4. কিছুই না
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) কিছুই না।
→ প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোন পণ গ্রহণ করতেন না।
- এই বিবাহে কনের পিতা কন্যাকে বরের হাতে দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন, যাতে তারা একসঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
- এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং অনুপ্রাণিত বিবাহ ছিল, যেখানে কোনো অর্থনৈতিক বা পার্থিব স্বার্থ ছিল না, শুধুমাত্র বিশ্বাস এবং শুভ কামনা ছিল।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।
৪৭৬.
নিম্নের কোন আইনে 'Doctrine of Representation' এর বিধান রয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩
  2. পারিবারিক আদালত বিধিমালা,২০২৩
  3. মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ,১৯৬১
  4. মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন,১৯৩৯
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পরিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রি, বহুবিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।

এ আইনের ৪নং ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে লা-ওয়ারিশ প্রথাকে বাতিল করা হয়। এ আইনে বলা হয়-
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা কন্যার মৃত্যু হলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টিত হওয়ার সময় ঐ পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি যদি জীবিত থাকে, তাহলে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা বণ্টনের সময় জীবিত থাকলে সে যে অংশ পেতো, তার সন্তানাদি সমষ্টিগতভাবে অনুরূপ অংশ পাবে।
যা 'Doctrine of Representation' নীতি নামে পরিচিত।

Section 4: Succession
In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
৪৭৭.
হানাফি আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন দেনমোহর কত হতে পারে?
  1. ৩ দিরহাম
  2. ১০ দিরহাম
  3. ২০ দিরহাম
  4. কোন সর্বনিম্ন পরিমাণ নেই
ব্যাখ্যা
- Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে। অন্য দিকে proper dower বা যথার্থ দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে না।
- কুরআনে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। দেনমোহরের পরিমাণ কত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতানৈক্য রয়েছে।
- হানাফি আইন অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমান ১০ দিরহাম বা সাত মিসকাল পরিমাণ রৌপ্য।
- মালিকি মতবাদ অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩ দিরহাম।
- শাফেয়ি এবং শিয়া আইনে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে কোনো মাযহাবে। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা নেই।
- বিবাহের চুক্তিতে যদি এমন কোনো শর্ত থাকে যে, দেনমোহর পরিশোধ করা হবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে সে শর্তটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে সে কারণে বিবাহটি অবৈধ হবে না।
৪৭৮.
হানাফী মতবাদ অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে কয় শ্রেণির ব্যক্তি? 
  1. ৫ শ্রেণির
  2. ৪ শ্রেণির
  3. ২ শ্রেণির
  4. ৩ শ্রেণির
ব্যাখ্যা

⇒ হানাফী আইন অনুসারে, অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) প্রয়োগের অধিকার মোট ৩ শ্রেণির ব্যক্তির আছে। এরা হলো: (১) শাফি-ই-শরিক (সহ-অংশীদার বা যৌথ মালিক), (২) শাফি-ই-খালিত (সুবিধাসমূহের অংশগ্রহণকারী, যেমন পথ চলাচলের অধিকারী), এবং (৩) শাফি-ই-জার (সংলগ্ন বা পার্শ্বর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক)। এই শ্রেণিগুলো অগ্রক্রয়ের অধিকারের ক্রমানুসারে প্রয়োগ হয়।

⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

৪৭৯.
মুসলিম আইনে দানের আবশ্যিক উপাদান কী কী?
  1. প্রস্তাব, দলিল রেজিস্ট্রেশন, সাক্ষী
  2. প্রস্তাব, গ্রহণ, দখল হস্তান্তর
  3. গ্রহণ, দলিল লেখা, আদালতের অনুমোদন
  4. ইচ্ছা প্রকাশ, দুইজন সাক্ষী, সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

⇒ দান আরবি ভাষায় 'হেবা' নামে পরিচিত। দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

⇒ দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।
⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়, আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।

৪৮০.
যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যার অংশ-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৮ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
- কন্যা দুটি শর্তে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।

• যদি মৃতব্যক্তির কোনো পুত্র না থাকে;

• যদি কন্যা শুধু একজন হয়।

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির যখন কোন পুত্র না থাকে তখন একমাত্র কন্যা সম্পত্তির ১/২ অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
৪৮১.
ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য কত অংশ ব্যবহার করা যায়?
  1. পুরো সম্পত্তি
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বৈধ ওসিয়ত করতে পারেন। এই সীমার বেশি ওসিয়ত করলে তা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কার্যকর হয় না।
অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ওসিয়ত বাস্তবায়নের জন্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এবং তা উত্তরাধিকারীদের ক্ষতি না করে বৈধ হতে হবে।

⇒ ইসলামী শরীয়তের ফারায়েয বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ওসিয়ত (উইল) বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি ব্যবহার করা যায়। এটি নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে প্রযোজ্য:
সর্বোচ্চ সীমা: ওসিয়তের মাধ্যমে ১/৩ অংশের বেশি সম্পত্তি বণ্টন করা যাবে না (হাদিস দ্বারা সীমাবদ্ধ)।

⇒ নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনী রেখে যাওয়া, দরিদ্র রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।" (সহিহ বুখারি)।

শর্তাবলি:
- ওসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য (ওয়ারিসদের জন্য ওসিয়ত করা নিষিদ্ধ)।
- ঋণ পরিশোধের পরেই ওসিয়ত কার্যকর হবে।

ব্যতিক্রম:
- যদি ওয়ারিসরা সম্মতি দেয়, তবে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসিয়তও জায়েজ (তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়)।

৪৮২.
একজন হানাফি মুসলিম পিতা-মাতাকে রেখে মারা যান। তার তাজ্য সম্পত্তিতে পিতার অংশ-
  1. ১/৪
  2. ১/২
  3. ২/৩
  4. ৩/৪
ব্যাখ্যা
• মুসলিম উত্তরাধিকার আইন-

মোট সম্পত্তি = ১

মাতার অংশ = ১/৩ [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), একাধিক ভাই-বোন অনুপস্থিত]।
পিতা =  অবশিষ্টাংশভোগী [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক) এরূপ কেউ নেই]।

অবশিষ্টাংশ = (১ - ১/৩) = ২/৩ অংশ।

∴ পিতার অংশ = ২/৩ অংশ। (উত্তর)
৪৮৩.
A marriage with a woman before completion of her Iddat is ______ :
  1. Void
  2. Valid
  3. Irregular
  4. None of these
ব্যাখ্যা
• ইদ্দত (Iddat):
ইদ্দত শব্দের অর্থ হলো- অপেক্ষা করা। যেকোনো নারীর বিবাহ সমাপ্ত হলে, তাকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য যে সময়কাল অবশ্যই অপেক্ষা করতে হয় তাকে ইদ্দত বলে। একজন নারীকে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অবশ্যই ইদ্দত পালন করতে হবে। ইদ্দত পালনকালীন সময় কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
৪৮৪.
এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং একজন মৃত পুত্রের পুত্র রয়েছে। মৃত পুত্রের পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) অনুসারে,
মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, মৃত পুত্রের পুত্র তার পিতার উত্তরাধিকারী হয়ে, পিতার অংশটি গ্রহণ করবে।

এ ক্ষেত্রে, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের (পৌত্র) অংশ সমানভাবে ভাগ হবে। তাই, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের মধ্যে ১/২ অংশ করে ভাগ হবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
৪৮৫.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীনে গঠিত সালিশী কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক প্রদেয় ভরণপোষণের টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। স্বামী উক্ত সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে স্বামীর প্রতিকার কী?
  1. জেলা জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
  2. সহকারী জজের নিকট আপিল আবেদন
  3. জেলা জজের নিকট আপিল আবেদন
  4. সহকারী জজের নিকট পুর্নবিবেচনার আবেদন
ব্যাখ্যা

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

৪৮৬.
The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946 দ্বারা কোন ধরনের বাধা দূর করা হয়?
  1. বয়সজনিত বাধা
  2. গোত্রজনিত বাধা
  3. পুনর্বিবাহজনিত বাধা
  4. উল্লিখিত কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।

যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও, ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে।
৪৮৭.
Wakf শব্দের অর্থ কী?
  1. মুক্ত করা
  2. আটক করা
  3. দান করা
  4. গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা
Waqf শব্দটি আরবি শব্দ। এর অর্থ নিয়োধ বা আটক করা। ওয়াকফ হলো কোনো সম্পত্তি ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা। সাধারণত ওয়াকফ বলতে ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইসলাম ধর্ম অনুসারে ধর্মীয়, সাধু বা দাতব্য বলে স্বীকৃত কোনো উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি উৎসর্গ করা বুঝায়। কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে পায়ে, যে সম্পত্তির চূড়ান্ত সুবিধা পরিব ব্যক্তিগণ পাবে অথবা সম্পত্তিটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে।

• ওয়াক্কের অপরিহার্য উপাদান হলো-
ক. উৎসর্গ (Dedication);
খ. উদ্দেশ্য (Purpose)।

ক. উৎসর্গ (Dedication):
সম্পত্তির মালিককে আল্লাহরনামে সম্পত্তিটি স্থায়ীভাবে এবং শর্তহীনভাবে উৎসর্গ করতে হবে। সুতরাং অস্থায়ীভাবে কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ করা যায় না। চারজন সুন্নি ইমামের মধ্যে শুধু ইমাম মালিক (রাহঃ) অস্থায়ী ওয়াকফকে বৈধ বলেছেন। বাকী তিনজন ইমাম অস্থায়ী ওয়াকফকে অবৈধ বলেছেন।

খ. উদ্দেশ্য (Purpose):
ওয়াকফ করার উদেশ্য অবশ্যই ধর্মীয় বা দাতব্য হতে হবে। যেমন। কোনো মসজিদের জন্য অথবা গরীব, দুঃস্থ মানুষের ভরণপোষণের জন্য ওয়াকফ করা যায়।
ওয়াকফ অবশ্যই বৈধ উদ্দেশ্যে করতে হবে। যদি কেউ বেআইনি উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে তাহলে ওয়াক্‌ফটি অবৈধ হবে। যদি এমন হয় ওয়াকফকারীর কিছু উদ্দেশ্য বৈধ এবং কিছু উদ্দেশ্য অবৈধ সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের যতটুকু বৈধ ওয়াকফ, ততটুকু বৈধ হবে বাকী অংশ অবৈধ হবে।
৪৮৮.
মুসলিম আইনে ইজাব কি?
  1. প্রতিদান
  2. ইজমা
  3. গ্রহণ
  4. প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
⇒ Marriage এর আরবি শব্দ হলো 'Nikah যার আক্ষরিক অর্থ হলো একত্রে আংশগ্রহণ Joining Together। বিবাহ হলো যৌন সহবাস এবং সন্তান উৎপাদনের বৈধতার চুক্তি।

ইসলামে বিবাহ হলো একটি চুক্তি (দেওয়ানী চুক্তি) কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান [Religious Sacramenti না। কারণ বিবাহের বৈধতার জন্য প্রস্তাব [Offer] এবং গ্রহণ (Acceptance) হলো বিবাহের দুইটি মৌলিক শর্ত এবং বিবাহের বৈধতার জন্য কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক না।

⇒ আইনগত উপাদান/শর্তসমূহ
১. প্রস্তাব (Offer) বা (Ijab)
২. গ্রহণ ( Acceptance) বা (Qabul)
৩. সাক্ষীদের উপস্থিতি (Presence of Witnesses)

বিবাহের এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে প্রস্তাব প্রদান এবং অপর পক্ষ কর্তৃক উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ হলো মুসলিম বিবাহের পূর্ব শর্ত। প্রস্তাব ও গ্রহণ একই বৈঠকে সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সাক্ষী (Witness) প্রাপ্ত বয়স্ক এবং যোগ্যতা সম্পন্ন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব প্রদান করা হবে এবং অন্য পক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।
৪৮৯.
"শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু" (Sri Balusu vs Sri Balusu -1899) মামলায় নিচের কোন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ হবে
  2. হিন্দু নারীদের বিচ্ছেদের অধিকার বৈধ হবে
  3. একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেয়া বৈধ হবে
  4. হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার বৈধ হবে
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু (1899) 22 Mad-308, 26 IA 113
 
এই মামলার বিবাদী মাদ্রাজ উপমতপন্থী হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত কোন এক পিতার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই অঞ্চলের এক বিধবা তাহার স্বামীর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি নিয়া উক্ত পিতার একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেন। বিধবার মৃত স্বামীর ভাবী উত্তরাধিকারী এই মামলার বাদী উক্ত দত্তকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া মামলা দায়ের করেন।
 
বিচার্য বিষয়:
১। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তাহার নিকটবর্তী সপিণ্ডদের সম্মতি নিয়া কোন বিধবা আইনত দত্তক নিতে পারে কিনা।
২। একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া যায় কিনা।
 
বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল সুপ্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি পর্যালোচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাদ্রাজ উপমতপন্থী অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি স্বামীর অনুমতির ন্যায় গণ্য হইবে। অতএব প্রথম বিচার্য বিষয়টি বাদীর বিপক্ষে যাইবে।
 
বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল আরও সাব্যস্ত করেন যে, কোন কোন প্রাচীন মুনিঋষি একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া বা নেওয়া সমর্থন করেন নাই সত্য, কিন্তু তাহাদের মতামত পড়িয়া বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিলের এই ধারণাই জন্মে যে, বশিষ্ট সৌণক প্রমুখ মুনিগণ এই বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তাহা নির্দেশক (recommendatory) ছিল, কোন অবস্থাতেই আদেশমূলক (mandatory) ছিল না। অতএব কেহ যদি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করিয়া দত্তক নিয়া থাকে, তবে (Factum valet) নীতি অনুযায়ী ইহা বৈধ বিবেচিত হইবে।
 
নিম্ন আদালতে একমাত্র পুত্রকে দত্তক বৈধ সাব্যস্ত হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আপীলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। বাদী এই রায়ের অসম্মতিতে প্রিভিকাউন্সিলে আপীল দায়ের করে। প্রিভি কাউন্সিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
The main issue raised was one of law as to the invalidity of the adoption of an only son. Both Courts decided that the adoption was valid.
৪৯০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, লিখিত জবাবের কত সংখ্যক অবিকল নকল আদালতে লিখিত জবাবের সাথে দাখিল করতে হবে?
  1. বিবাদীর সংখ্যার সমান
  2. বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ
  3. বাদীর সংখ্যার তিনগুণ
  4. বাদীর সংখ্যার সমান
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৮(৫) অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিল করার সময় বাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ অবিকল নকল আদালতে জমা দিতে হবে। 
- উদাহরণস্বরূপ, যদি মোকদ্দমায় ১ জন বাদী থাকে, তাহলে ২ কপি নকল জমা দিতে হবে। এই নকলগুলোর সাথে তপশিল, দলিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত করতে হবে।

– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ৮(৫) মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৪৯১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত স্বামীর সম্পত্তি বণ্টনে স্ত্রীর অংশ কত হয় যদি তাদের সন্তান থাকে?
  1. ১/৪ অংশ
  2. ১/৮ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ধারা অনুযায়ী, স্ত্রীর উত্তরাধিকার নির্ভর করে মৃত স্বামীর সন্তান আছে কি নেই।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে স্ত্রীর অংশ নিম্নলিখিতভাবে নির্ধারিত হয়:
যদি মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৮ অংশ (কোরআনের সূরা নিসা ৪:১২ অনুযায়ী)।
যদি মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে: স্ত্রী পাবে ১/৪ অংশ।

অর্থাৎ যদি স্বামীর সন্তান থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৮ এবং যদি কোনো সন্তান না থাকে, স্ত্রীর অংশ ১/৪।
এটি কোরআন অনুযায়ী নির্ধারিত “যাওয়িল ফুরূদ” (Zawil Furud) এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অংশ।
সুতরাং, সন্তান থাকলে স্ত্রীর অংশ হবে ১/৮।

৪৯২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে, উক্ত বিবাহ-
  1. বাতিল হবে
  2. অবৈধ হবে
  3. রেজিস্ট্রিকৃত হবে না
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:

১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
 
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
 
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
 
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
 
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
৪৯৩.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে?
  1. ১১ ও ১৩ ধারায়
  2. ১০ ও ১৩ ধারায়
  3. ১০ ও ১১ ধারায়
  4. ১২,১৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে। ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে। ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
৪৯৪.
বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে কী অধিকার পাবে?
  1. সম্পত্তির একচেটিয়া মালিক হবে
  2. এক পুত্রের সমান অংশ পাবে
  3. এক পুত্রের অর্ধেক অংশ পাবে
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
৪৯৫.
পারিবারিক আদালত কখন আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
  1. যদি সংশোধন ন্যায়বিচারের জন্য আবশ্যক হয়
  2. যদি সংশোধন আইনগত ভুলের কারণে প্রয়োজন হয়
  3. যদি সংশোধন বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়
  4. খ এবং গ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ এর ধারা ৯- আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন:
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, করণিক ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো কারণে পক্ষগণের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার জন্য আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, এইরূপ সংশোধনের আবেদন মোকদ্দমার বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করিবার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে আদালত উক্তরূপ সংশোধনীর আদেশ প্রদান করিবে না।

৪৯৬.
নিম্নলিখিত কোন বিবাহটি মুসলিম আইনে অনিয়মিত বিবাহ নয়?
  1. সাক্ষী ছাড়া বিবাহ
  2. প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ
  3. ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিবাহ
  4. একই সাথে দুই বোনেকে বিবাহ করা 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে বিবাহকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- সহিহ বিবাহ – যাবতীয় শর্ত পূরণসহ সম্পন্ন বিবাহ।
- ফাসিদ বিবাহ – অনিয়মিত বিবাহ, যাতে কিছু শর্তের অভাব বা লঙ্ঘন আছে কিন্তু বিবাহটি মূলত বে-আইনি নয়। এ ধরনের বিবাহ সংশোধনযোগ্য।
- বাতিল বিবাহ – সম্পূর্ণ অবৈধ বিবাহ, যা কোনোভাবেই বৈধ হয় না।

⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।
যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।

মুসলিম আইনে "অনিয়মিত বিবাহ" (ফাসিদ) বলতে এমন বিবাহকে বোঝায় যাতে বিবাহের কিছু আনুষ্ঠানিক শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে, কিন্তু বিবাহটি সম্পূর্ণ বাতিল নয় (সংশোধনযোগ্য)।
ক) সাক্ষী ছাড়া বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ মুসলিম বিবাহের জন্য কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী বাধ্যতামূলক।
গ) ইদ্দত পালনরত মহিলাকে বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ ইদ্দতকালীন (প্রতীক্ষার সময়) মহিলাকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ।
ঘ) একই সাথে দুই বোনকে বিবাহ: এটি ফাসিদ, কারণ ইসলামে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহ করা হারাম।

খ) প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ: এটি ফাসিদ নয়, অর্থাৎ এটি অনিয়মিত বিবাহ নয়। ইসলামী আইন পুরুষকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সর্বোচ্চ চারটি বিবাহ করার অনুমতি দেয়। তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বা তার অজান্তে দ্বিতীয় বিবাহ করলেও বিবাহটি সহিহ (বৈধ) হিসেবে গণ্য হয়, তবে এটি নৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে অপ্রশংসনীয় এবং স্ত্রীর হক নষ্ট করার দায়িত্ব বহন করে। এটি ফাসিদ নয়, কারণ এটি মূল নিয়মের পরিপন্থী নয়।

- সুতরাং, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ অনিয়মিত বিবাহ নয়, বরং শরীয়তের সীমার মধ্যে একটি বৈধ বিবাহ।

৪৯৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৪ ধারায় প্রদত্ত 'প্রতিনিধিত্বের নীতি' নিম্নের কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. মৃত কন্যার সন্তান
  2. মৃত বোনের সন্তান
  3. মৃত ভাইয়ের সন্তান
  4. উল্লিখিত সকলের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারায় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর অর্থাৎ ১৫-০৭-১৯৬১ইং তারিখ হতে দাদা/নানার মৃত্যুর পর দাদা বা নানার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুযায়ী মাতা বা পিতাহারা সন্তান বা সন্তানরা ওইটুকু সম্পত্তি পাবে যতটুকু তার/তাদের পিতা/মাতা বেঁচে থাকলে পেত।
 
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-

‘ক’ নামক ব্যক্তি জীবিত থাকাস্থায় তার ‘খ’ নামক ছেলে ও ‘গ’ নামক মেয়ে মারা যায়। ‘খ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘ঘ’ ও এক মেয়ে ‘ঙ’ কে এবং ‘গ’ মৃত্যুকালে এক ছেলে ‘চ’ ও এক মেয়ে ‘ছ’ কে জীবিত রেখে যায়। অতঃপর ‘ক’-এর মৃত্যুর পর পিতার ওয়ারিশ সূত্রে ‘খ’ ‘ক’-এর নিকট যে সম্পত্তি পেত ‘ঘ’ ও ‘ঙ’ ওই সম্পত্তি তাদের পিতা ‘খ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট হতে প্রাপ্ত হবে। অনুরূপভাবে ‘গ’ পিতার ওয়ারিশসূত্রে যে সম্পত্তি ‘ক’-এর নিকট থেকে পেত, ‘চ’ ও ‘ছ’ ওই সম্পত্তি তাদের মাতা ‘গ’-এর ওয়ারিশ হিসেবে ‘ক’-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত হবে। এক্ষেত্রেও সম্পত্তির অংশ ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রে ২ঃ১ অনুপাতে হবে। অর্থাৎ পুত্র কন্যার দ্বিগুণ পাবে।
 
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারা অনুযায়ী শুধু পূর্বে মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান/সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ পুত্রের পুত্র বা কন্যা এবং কন্যার পুত্র বা কন্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য কোনো ওয়ারিশের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয়।

Section 4- Succession: In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.
৪৯৮.
‘ইজমা’ বলতে বোঝায়-
  1. একক মতামত
  2. মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
  3. সকল মুসলিমদের মতামত
  4. কোরআনের অনুবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

ইজমা:
ইজমা শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ- ঐকমত্য হওয়া, শক্তিশালী করা, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া, একমত হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং কোন বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করার নামই হলো ইজমা। ইসলামি শরীআতের ভাষায়-"কোন কাজ অথবা কথার ওপর এক যুগের উম্মাতে মুহাম্মদীর ন্যায়বান মুজতাহিদগণের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তকে বলে।" ইজমা শরীআতের তৃতীয় উৎস। গুরুত্বের বিচারে কুরআন ও হাদিসের পরেই ইজমার স্থান। কোন বিশেষ যুগে আইন সংক্রান্ত কোন বিশেষ প্রশ্নের সমস্যার সমাধান কুরআন ও হাদিসকে কেন্দ্র করে মুসলিম পণ্ডিতগণ যে সম্মিলিত অভিমত পোষণ করেছেন ইসলামি শরীআতে তাই হলো ইজমা। ইজমা রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাণী দ্বারা বৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

৪৯৯.
একজন হিন্দু ব্যক্তি সম্পত্তির কত অংশ উইল করতে পারে?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. অর্ধেক
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. নির্দিষ্ট বিধান নেই
ব্যাখ্যা
• উইল হচ্ছে নিজের অবর্তমানে কাউকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তবে কোনো মুসলমান তাঁর দাফন-কাফনের ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না। অর্থাৎ উইলের ক্ষেত্রে পুরো সম্পত্তি দিয়ে যেতে পারবেন না। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা হয়, তাহলে সে উইল কার্যকর করা যাবে না।
তবে সম্পত্তির উইলের ক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে এর বেশিও উইল করা যাবে। দান সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হয়। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তবে নাবালক সন্তান থাকলে দানের ক্ষেত্রে সন্তান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে।

একজন হিন্দু ব্যক্তিও তাঁর সম্পত্তি উইল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন হিন্দু ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি উইল করতে পারেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত থেকে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে উইলের প্রমাণ। যেকোনো হেবা বা দান লিখিত আকারে হতে হবে তা রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।
৫০০.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার কে?
  1. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  2. সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
  3. স্বয়ং বিবাহ সম্পাদনকারী ব্যক্তি
  4. স্থানীয় কমিটি কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সরকার বিবাহ নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে। এই রেজিস্ট্রারগণ নির্দিষ্ট এলাকার জন্য সরকার কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
সুতরাং, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুসারে, নিকাহ রেজিস্ট্রার হলেন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি।

⇒  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ এর বিধান নিকাহ রেজিস্ট্রার:
এই আইনের অধীন বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তিকে, যাহারা নিকাহ রেজিস্ট্রার নামে অভিহিত হইবে, তাহাদের জন্য নির্ধারিত এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন একটি এলাকার জন্য একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইবেন না:
আরও শর্ত থাকে যে, সরকার যখনই উপযুক্ত মনে করিবে, তখনই নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য নির্ধারিত এলাকার সীমা বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।
---------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section 4. Nikah Registrars:
For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licenses to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify: 
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area : 
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.