বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Family Related Law

মোট প্রশ্ন৬৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Family Related Law

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৯০

২০১.
প্রথা থেকে কোনটি আইনের মর্যাদা পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়?
  1. যে প্রথাটি সুপ্রাচীন এবং সুনিশ্চিত
  2. যে প্রথাটি নৈতিকতা বিরোধী
  3. যে প্রথাটি আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়নি
  4. যে প্রথাটি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ প্রথা আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে কয়েকটি শর্ত থাকতে হবে। একটি প্রথা যদি নৈতিকতা বিরোধী হয় বা সাধারণ সমাজিক নিয়মের পরিপন্থি হয়, তবে সেটি আইনের মর্যাদা পেতে সক্ষম হবে না।
- অর্থাৎ, সমাজের সাধারণ ভালবাসা ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যেসব প্রথা চলে, তা আইনি স্বীকৃতি লাভ করবে না।
- উদাহরণস্বরূপ, সতীদাহ প্রথা, যা এক সময় হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল, তা আইনে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে কারণ এটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে ছিল।

⇒ প্রথা হলো এমন একটি নিয়ম বা রীতি যা একটি বিশেষ পরিবার, শ্রেণী, বা অঞ্চলে অনেক দিন ধরে প্রচলিত এবং আইনের মর্যাদা অর্জন করেছে। প্রথা এবং লিখিত আইনের মধ্যে বিরোধ হলে, প্রথা বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
⇒ আইনের মর্যাদা পেতে প্রথার শর্ত:
- সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে: প্রথাটি অনেক পুরনো এবং প্রমাণিত হতে হবে।
- নৈতিকতা বিরোধী বা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থি না হওয়া: প্রথাটি সমাজের নৈতিকতার বিরুদ্ধে বা আইন বিরোধী হতে পারবে না।
- আইনসভা কর্তৃক নিষিদ্ধ না হওয়া: প্রথাটি যদি কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয়, তবে তা আইনের মর্যাদা পাবে না।
- অব্যাহতভাবে চালু থাকতে হবে: প্রথাটি দীর্ঘকাল ধরে চালু থাকতে হবে এবং হঠাৎ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।
২০২.
নিচের কোন কারণে হিন্দু স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে আইনি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারাবেন?
  1. স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে
  2. স্ত্রী নিজে অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে
  3. স্বামী ধর্ম পরিবর্তন করলে
  4. স্বামী স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করলে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন এর ধারা ২ অনুযায়ী,
নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
 
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
২০৩.
মুসলিম আইনে 'ক' তার ৪ জন স্ত্রী থাকা অবস্থায়, ৫ম স্ত্রী গ্রহণ করলো তাহলে বিবাহটি-
  1. অনিয়মিত বিবাহ
  2. বৈধ বিবাহ
  3. বাতিল বিবাহ
  4. হারাম বিবাহ
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage): 
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ। 
- একজন মুলমানের একই সময়ে চারজন স্ত্রী থাকতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয়। চারজন স্ত্রী থাকাকালে ঐ ব্যক্তি পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে পঞ্চম বিবাহটি বাতিল হবে না, তবে এ বিয়েটি ফাসিদ বা অবৈধ বিবাহ হবে। এটি বাতিল বিবাহ নয়, কারণ, স্বামী অন্য স্ত্রীদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে পঞ্চম বিবাহকে বৈধ করতে পারে।
২০৪.
কুরআনে নির্ধারিত দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ কত?
  1. ১০ দিরহাম
  2. ৩ দিরহাম
  3. ৮ দিরহাম
  4. নির্ধারণ করা হয়নি
ব্যাখ্যা
• বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

⇒ দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা- নির্ধারিত দেনমোহর এবং যথার্থ দেনমোহর।
⇒  Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে। অন্য দিকে proper dower বা যথার্থ দেনমোহরের ক্ষেত্রে দেনমোহর নির্ধারিত থাকে না।
কুরআনে দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। দেনমোহরের পরিমাণ কত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবে মতানৈক্য রয়েছে।
⇒ হানাফি আইন অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমান ১০ দিরহাম বা সাত মিসকাল পরিমাণ রৌপ্য।
⇒ মালিকি মতবাদ অনুসারে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩ দিরহাম।
⇒ শাফেয়ি এবং শিয়া আইনে দেনমোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের উল্লেখ নেই। তবে কোনো মাযহাবে। দেনমোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়ে কিছু বলা নেই।
২০৫.
ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি কোন উৎসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. কুরআন
  2. হাদীস
  3. ইজমা
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা

⇒ ইসলামী শরীয়তে আউল নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইজমা (ইসলামী আলেমদের ঐকমত্য) এর মাধ্যমে। যদিও কুরআন ও হাদীসে এ নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে গাণিতিক সমাধান হিসেবে এটি চার খলিফার যুগ থেকে ইজমার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে আসছে।

আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ, আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।

২০৬.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ধারা ৪ অনুযায়ী কারা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসারে সম্পত্তি পাবে?
  1. পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা
  2. পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা
  3. পূর্বে মৃত পিতা বা মাতা
  4. 'ক' অথবা 'খ' 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) প্রযোজ্য হবে।
- প্রযোজ্য ব্যক্তি: ক) পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা এবং খ) পূর্বে মৃত কন্যার সন্তানরা উভয়েই তাদের মৃত পিতা/মাতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সম্পত্তি পাবে।
- যদি কোনো ব্যক্তির (যেমন: দাদা/নানা) পুত্র বা কন্যা তার (দাদা/নানার) মৃত্যুর আগেই মারা যায়, তবে ওই মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (নাতি-নাতনিরা) তাদের মৃত পিতা/মাতার প্রাপ্য অংশ পাবে। এটি "প্রতি স্টাইর্পস" (per stirpes) নীতির ভিত্তিতে কাজ করে, অর্থাৎ শাখা অনুসারে বণ্টন।

উদাহরণ:
- মৃত পুত্রের সন্তানদের ক্ষেত্রে: দাদা 'ক'-এর পুত্র 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' দাদা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।
- মৃত কন্যার সন্তানদের ক্ষেত্রে: নানা 'ক'-এর কন্যা 'খ' মারা গেছেন। 'খ'-এর সন্তান 'গ' ও 'ঘ' নানা 'ক'-এর মৃত্যুর পর 'খ'-এর প্রাপ্য অংশ পাবে।

- এই নীতি শুধুমাত্র সরল রেখার উত্তরাধিকারী (পুত্র/কন্যার সন্তান)দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভাই-বোন, চাচাতো ভাই-বোন ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- সম্পত্তি বণ্টনে পুত্রের সন্তান : কন্যার সন্তান = ২ : ১ অনুপাত প্রযোজ্য।
- মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (ধারা ৪) উত্তরাধিকার খোলার সময় যদি কোনো পুত্র বা কন্যা পূর্বে মারা যায়, তবে ওই পুত্র বা কন্যার সন্তানরা (যদি থাকে) প্রতি স্টাইর্পস (শাখা অনুসারে) সেই অংশ পাবে, যা তাদের পিতা/মাতা পেতেন যদি বেঁচে থাকতেন।
- যেহেতু ধারা ৪ মৃত পুত্র ও মৃত কন্যা উভয়ের সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সঠিক উত্তর ঘ) 'ক' অথবা 'খ'।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 4- Succession: In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

২০৭.
হেবা কখন কার্যকর হয়?
  1. দখল হস্তান্তরের সাথে সাথে
  2. হেবা নিবন্ধনের সাথে সাথে
  3. হেবাকারীর মৃত্যুর পর
  4. ৩ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ দান হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মূল্য বা প্রতিদান ছাড়া সম্পত্তির তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করা হয় যা অপর ব্যক্তি বা তার পক্ষে কেউ গ্রহণ। করে। দান আরবি ভাষায় হিবা নামে পরিচিত। প্রত্যেক সুস্থ সাবালক মুসলিম দান করতে পারে।

⇒ একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব)
খ. Acceptance (গ্রহণ)
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)

⇒ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত দখল অর্পণ প্রয়োজনীয় না। দানের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে। একটা হলো Donor বা দাতা অর্থাৎ যে দান করে, অপরপক্ষ হলো উড়হবব বা গ্রহীতা অর্থাৎ যার বরাবর দান করা হয়।

⇒ সমস্ত সম্পত্তি দান করা যায় এবং দান হস্তান্তর করার সাথে সাথেই কার্যকর হয়,
আর উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়।
২০৮.
দত্তক গ্রহণের প্রথা কোন প্রাচীন আইনব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল?
  1. গ্রিক আইন
  2. রোমান আইন
  3. মিশরীয় আইন
  4. ব্যাবিলনীয় আইন
ব্যাখ্যা
⇒ দত্তক গ্রহণের প্রথা প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত থাকলেও এটি বিশেষভাবে রোমান আইন-এ স্বীকৃত ছিল।
- রোমান সাম্রাজ্যে দত্তক গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হতো।
- রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা এবং পরিবারে একজন যোগ্য উত্তরসূরির ব্যবস্থা করা।
- এটি কেবল পারিবারিক কাঠামো বজায় রাখার জন্যই নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যও ব্যবহৃত হতো।

হিন্দু আইনের মতো রোমান আইনের দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল।
রোমান সমাজে যদি কোনো ব্যক্তির প্রকৃত সন্তান না থাকত, তবে তিনি দত্তক নিয়ে উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করতে পারতেন।
ফলে, দত্তকপ্রাপ্ত ব্যক্তি দত্তকদাতা পিতার নামে পরিচিত হতেন এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতেন।

অন্যদিকে, গ্রিক, মিশরীয় বা ব্যাবিলনীয় আইনে দত্তক গ্রহণের তেমন কোনো সুস্পষ্ট বিধান দেখা যায় না।
তাই রোমান আইনই দত্তক প্রথার একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পরবর্তীকালে বিভিন্ন আইনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
২০৯.
মুসলিম আইনে 'ইজমা' কী বোঝায়?
  1. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী
  2. চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত
  3. মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্য
  4. কোরআনের নির্দেশের ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।

২১০.
মুসলিম বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য কমপক্ষে কতজন সাক্ষী থাকতে হবে?
  1. ১ জন মুসলিম পুরুষ
  2. ২ জন মুসলিম পুরুষ
  3. ১ জন মুসলিম পুরুষ এবং ২ জন মুসলিম মহিলা
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• 'বিবাহ` শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো মিলানো, একত্র করা। ইসলামী আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট একজন নর ও নারীর একত্রিত হওয়ার চুক্তিকেই বিবাহ বলে।

ডি এফ মোল্লা তাঁর ‘মুসলিম আইনের মূলনীতি’ বইয়ে বিবাহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন
“বিবাহ বা নিকাহ এমন একটি চুক্তি যার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো বৈধভাবে সন্তান লাভ ও প্রতিপালন।

বিচারপতি মাহমুদ তাঁর ‘আঃ কাদির ও সালিসী মোকদ্দমার রায়ে বলেছেন,
“মুসলিম বিবাহ কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, একটি বিশুদ্ধ দেওয়ানী চুক্তি যার উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন যাপন ও বৈধ সন্তান দান।"

মুসলিম বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তাবলী-
বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত। বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মুসলিম আইনে বিবাহের চুক্তি বৈধ হওয়ার জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ২ জন মুসলিম পুরুষ, অথবা ১ জন মুসলিম পুরুষ ও ২ জন মুসলিম মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে। এটি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধতার জন্য বাধ্যতামূলক। সাক্ষীদের প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য হতে হবে।তারা বিবাহ চুক্তি (নিকাহ) সম্পাদনের সময় উপস্থিত থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতি শুনতে হবে হানাফি মাযহাব অনুসারে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়। শিয়া মতানুসারে সাক্ষীর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়, তবে এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
২১১.
According to Section 3 of the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-
  1. Only marriages performed by an imam are subject to registration
  2. Registration of marriage is optional but recommended
  3. Every Muslim marriage must be registered in accordance with the law
  4. Muslim marriages only need to be registered if the parties desire it
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

• বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন এখন বাধ্যতামূলক।
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।

ধারা ৩- বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ:
অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতেযে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইনঅনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রীকরতে হবে।

Section 3- Registration of marriages
Notwithstanding anything contained in any law, custom or usage, every marriage solemnized under Muslim law shall be registered in accordance with the provisions of this Act.
২১২.
হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য কে?
  1. বোনের পুত্র
  2. ভাইয়ের পুত্র
  3. কন্যার পুত্র
  4. ভাই
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:

(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

নিম্নে মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র
২) পুত্রের পুত্র
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা)
৫) কন্যা
৬) কন্যার পুত্র
৭) পিতা
8) মাতাদ
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।
১১) ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।
১২) বোনের পুত্র
১৩) পিতার পিতা
১৪) পিতার মাতা
১৫) পিতার ভাই
১৬) পিতার ভাইয়ের পুত্র
১৭)পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
১৮) পিতার বোনের পুত্র
১৯) পিতার পিতার পিতা
২০) পিতার পিতার মাতা
২১) পিতার পিতার ভাই
২২) পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
২৩) পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
২৪) পিতার পিসির পুত্র
২৫) পুত্রের কন্যার পুত্র

উল্লিখিত প্রশ্নে  হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য হলেন কন্যার পুত্র। 
২১৩.
সাক্ষী ছাড়া বিবাহ করলে মুসলিম আইনে তা ___________ হিসেবে গণ্য হবে।
  1. অবৈধ বিবাহ
  2. নিয়মিত বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. বাতিল বিবাহ
ব্যাখ্যা
⇒ অনিয়মিত বিবাহের সংজ্ঞা (Definition of irregular marriage):
যে বিবাহ মূলত বে-আইনী নয়, কিন্তু এতে বৈধ বিবাহের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ঐ বিবাহকে অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ ত্রুটিপূর্ণ, কিন্তু বাতিল নয় এটিই অনিয়মিত বিবাহ।

যেমন: সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ, স্ত্রীর বোন বিবাহ করা ইত্যাদি।
২১৪.
সপিণ্ডের মধ্যে নারী সপিণ্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. বিধবা স্ত্রী
  2. পিতার মাতা
  3. পিতার বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
⇒ নারী সপিণ্ডের তালিকায় পিতার বোন অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ নারী সপিণ্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের ব্যক্তিরাই অন্তর্ভুক্ত হন।
সপিণ্ড বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ এবং শেষকৃত্য প্রক্রিয়ায় পিণ্ডদান করতে সক্ষম।
- নারী সপিণ্ডের মধ্যে ৫টি সম্পর্ক রয়েছে, যেমন:
১) বিধবা স্ত্রী
২) কন্যা
৩) মাতা
৪) পিতার মাতা
৫) পিতার পিতার মাতা
→ পিতার বোন এই তালিকায় নেই, কারণ পিতার বোন পিণ্ডদানকারী হিসেবে বিবেচিত হন না।
- এটি মূলত ঐতিহ্যগত হিন্দু আইনে প্রথাগত নির্ধারণ।
২১৫.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২ অনুযায়ী, ওয়াকফের কোন অংশ শরিয়ত আইনের আওতায় পড়বে না?
  1. ট্রাস্ট ওয়াকফ
  2. ব্যক্তিগত ওয়াকফ
  3. পারিবারিক ওয়াকফ
  4. দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ২-এ ওয়াকফ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। ধারার ভাষ্য অনুযায়ী: "ওয়াকফ (দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)"
অর্থাৎ, এই আইনের অধীনে শরিয়ত আইন ওয়াকফের সাধারণ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও দাতব্য প্রতিষ্ঠান (charities), দাতব্য দান (charitable endowments) এবং ধর্মীয় দান (religious endowments) সম্পর্কিত বিষয়গুলো এই আইনের আওতায় আসবে না। এই ধরনের দাতব্য ও ধর্মীয় ওয়াকফ সংশ্লিষ্ট অন্য আইন বা স্থানীয় প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

⇒ মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এর ২ ধারার বিধান মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হওয়া:
কোনো প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বিপরীতে, নিম্নলিখিত বিষয়ে (কৃষিজমি সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত) মুসলিমদের মধ্যে সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) হইবে—
- উত্তরাধিকার (ইন্তেকালের পর সম্পত্তির বণ্টন),
- নারীদের বিশেষ সম্পত্তি (যেমন ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যা উত্তরাধিকার, চুক্তি, হাদিয়া বা ব্যক্তিগত আইনের অন্য কোনো বিধানের মাধ্যমে অর্জিত),
- বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ (যেমন তালাক, ইলা, জিহার, লিয়ান, খুলা ও মুবারাত),
- ভরণপোষণ, মোহরানা, অভিভাবকত্ব,
- হাদিয়া (উপহার), ট্রাস্ট ও ট্রাস্ট সম্পত্তি,
- ওয়াকফ (তবে দাতব্য প্রতিষ্ঠান, দাতব্য ও ধর্মীয় দান ব্যতীত)।
------------
⇒ The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937- Section-2: Application of Personal Law to Muslims
- Notwithstanding any custom or usage to the contrary, in all questions (save questions relating to agricultural land) regarding intestate succession, special property of females, including personal property inherited or obtained under contract or gift or any other provision of Personal Law, marriage, dissolution of marriage, including talaq, ila, zihar, lian, khula and mubaraat, maintenance, dower, guardianship, gifts, trusts and trust properties, and waqfs (other than charities and charitable institutions and charitable and religious endowments) the rule of decision in cases where the parties are Muslims shall be the Muslim Personal Law (Shariat).

২১৬.
দায়ভাগমতে কে, কাকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নয়?
  1. পিতা, অবিবাহিতা কন্যাকে
  2. সন্তান, পিতামাতাকে
  3. পিতা, সাবালক পুত্রকে
  4. যৌথ পরিবারের কর্তা, সকল পুরুষ সদস্যদের
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে কোন কোন ব্যক্তি ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী জানা অত্যাবশ্যক। নিম্নে তাদের তালিকা দেয়া হলো:

⇒ একজন হিন্দুর কোন সম্পত্তি না থাকলেও সে তার নাবালক পুত্র, অবিবাহিতা কন্যা এবং পিতামাতার ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।
-(দায়ভাগমতে পিতা সাবালক পুত্রকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নয়।)

⇒ কর্তা যৌথ পরিবারের সকল পুরুষ, তাদের স্ত্রীগণ এবং সন্তানাদির ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

⇒ একজন মৃত ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য ছিল, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

⇒ বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত পিতা তার কন্যা সন্তানের ভরণপোষণে বাধ্য। পিতার অবর্তমানে কন্যার ভরণপোষণ পিতৃ সম্পত্তি হতেই চলতে থাকবে।

⇒ অক্ষমতা বা অযোগ্যতা হেতু কেউ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকারে বঞ্চিত থাকলে তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে অক্ষম ব্যক্তির পিতা এবং পিতার অবর্তমানে পিতার উত্তরাধিকারী যথাযোগ্য ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।
২১৭.
অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রয়ের কথা শোনা মাত্রই যে দাবী প্রকাশ করা হয় তা হলো-
  1. তলব-ই-খুশমাত
  2. তলব-ই-তমলিক
  3. তলব-ই-ইসাদ
  4. তলব-ই-মুয়াসিবাত
ব্যাখ্যা
⇒  First demand: Immediate demand (Talab-i-mowasibat):
⇒ Talab-i-mowasibat শব্দের অর্থ The demand of jumping বা লাফ প্রদান করে দাবি।
-অর্থাৎ বিক্রয়ের কথা শুনার সাথে সাথে তার ক্রয়ের ইচ্ছা বিক্রেতাকে জানাতে হবে।
-এরূপ দাবি করার সময় কোনো সাক্ষীর দরকার নেই।
২১৮.
মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কখনো বঞ্চিত হয় না-
  1. স্ত্রী
  2. কন্যা
  3. পিতা
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:
১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।

⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:
১/ স্বামী;
২/ স্ত্রী;
৩/ পিতা;
৪/ মাতা;
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা।
২১৯.
হিন্দু আইন অনুসারে নিচের কোনটি প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি?
  1. মনুস্মৃতি
  2. নারদ স্মৃতি
  3. পরাশর স্মৃতি
  4. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি
ব্যাখ্যা

⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু আইনের দ্বিতীয় প্রধান উৎস (শ্রুতির পরে), যা মূলত মানবজাতির ঐশ্বরিক নির্দেশাবলীর প্রতিফলন।
- হিন্দু আইন অনুসারে, বিভিন্ন স্মৃতি শাস্ত্র বিদ্যমান, যেমন: মনুস্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি। 

মনুস্মৃতি:
- প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত।
- সমাজ, ধর্ম, আইন ও নৈতিকতার বিভিন্ন নিয়ম এতে সংকলিত।
- এটি হিন্দু সমাজে আইনি, সামাজিক ও পারিবারিক আচরণের মূল নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অন্যান্য স্মৃতিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, তবে মানুষের জীবন ও পারিবারিক আইন সম্পর্কিত বিধানগুলোতে মনুস্মৃতি সর্বাধিক প্রভাবশালী।
- অর্থাৎ মনুস্মৃতি হিন্দু আইনের প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি শাস্ত্র।

২২০.
Talak-e-Tafwid বা তালাক-ই-তাওফিজ বলতে কী বোঝায়?
  1. স্বামীর স্বেচ্ছায় তালাক
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া তালাকের ক্ষমতা
  3. আদালতের মাধ্যমে তালাক
  4. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিমূলক তালাক
ব্যাখ্যা

• 'Talak e Tafwid' বা 'তালাক-ই-তাওফিজ':
সাধারণত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষমতা কোন স্ত্রী-এর নেই। কোন স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারে, যদি স্বামী তাকে এমন ক্ষমতা অর্পন করে। স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্ত্রী যখন স্বামীকে তালাক দেয়, তখন সেটাকে Talak e Tafwid 'তালাক-ই-তাওফিজ' বলে।

ইসলামিক বিবাহ নিবন্ধনের সময়, নিকাহনামার ১৮ নম্বর কলামে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ করার সুযোগ থাকে। যদি স্বামী এই কলামে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করেন, তবে স্ত্রী নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে নিজেই তালাক নিতে পারেন। অতএব, তালাক-ই-তাফফিজের ক্ষমতা কার্যকর করার জন্য এই ধারাটিতে শর্তগুলি স্পষ্টভাবে লেখা থাকা জরুরি। 

২২১.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৪ ধারায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন নীতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. Per se
  2. Per capita
  3. Per stripes
  4. Per diem
ব্যাখ্যা
⇒ Per stripes:
The doctrine of per stirpes refers to the system of distributing an inheritance when a beneficiary who is entitled to receive it has died before receiving their share. 
Under per stirpes:
- If a beneficiary dies before the inheritance is distributed, their children will "step into their shoes". The beneficiary's children will inherit the share their parent would have received, dividing it equally between them.
So in short, if a named beneficiary in a will or trust has already died when distribution occurs, the per stirpes system allows their lineal descendants to inherit in their place, keeping the inheritance distribution aligned to the family tree structure.

⇒ Section 4. Succession

 In the event of the death of any son or daughter of the propositus before the opening of succession, the children of such son or daughter, if any, living at the time the succession opens, shall per stirpes receive a share equivalent to the share which such son or daughter, as the case may be, would have received if alive.

⇒অর্থাৎ যার সম্পত্তি বণ্টন হবে তার মৃত্যুর পূর্বে তার কোন পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বণ্টনের সময় উক্ত মৃত পুত্র বা কন্যার কোন সন্তানাদি জীবিত থাকলে তারা সেই হারে সম্পত্তি পাবে, যা তাদের পিতা বা মাতা জীবিত থাকলে পেতো। এটাকে প্রতিনিধিত্বের মতবাদ বা Doctrine of Representation বলা হয়।
- Per stripes নীতি এবং প্রতিনিধিত্বের মতবাদের মূল বক্তব্য একই। 

-তাইলে আমরা বলতে পারি যে The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৪ ধারায় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের ক্ষেত্রে Per stripes নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। 
২২২.
হিন্দু আইনে নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে পৃথক অবস্থায় স্বামী হতে স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে?
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে
  2. স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।
 
তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
 
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
--------------------------------------------
এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-
⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;
⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;
⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;
⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;
⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং
⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
২২৩.
মুসলিম উইলকারী যদি ১/৩ অংশের বেশি সম্পত্তি হস্তান্তর করতে চান, তবে কী প্রয়োজন?
  1. আদালতের অনুমতি
  2. সরকারের অনুমতি
  3. উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
  4. অনুমতির প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

উইল বা অছিয়ত একটি আইনি দলিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি কিভাবে বণ্টন করা হবে তা নির্ধারণ করে দেন। উইল লিখনকারীকে উইলকারক বা “testator” বলা হয় এবং উইলে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তাকে বলা হয় উত্তরাধিকারী বা “beneficiary”। উইলে সম্পত্তি ছাড়াও আর্থিক সঞ্চয়, অলঙ্কার, জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য বস্তু উল্লেখ করা যায়। উইলের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা যায় যা মৃত্যুর পর আইনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

উইল তৈরি করার জন্য উইলকারককে অবশ্যই মানসিকভাবে সুস্থ এবং আইনি প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী) হতে হবে। মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ উইল তৈরি করতে পারবে না। উইলকারককে তার সম্পদের মালিকানা এবং তার ইচ্ছার প্রতি সম্পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে।

কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার দাফন-কাফন ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর, উদ্বৃত্ত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের অধিক উইল করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয় তবে উইলকারির উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশী কার্যকর হবে না। 

২২৪.
পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ____ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালতের ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য দায়িক (judgement debtor)-কে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যায়।

• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

ধারা ১৭- ডিক্রি বলবৎকরণ


(১) পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং উহার বিবরণ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিস্টার বহিতে লিপিবদ্ধ করিবে।

(২) যদি ডিক্রির দাবি পূরণকল্পে আদালতের সম্মুখে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয় বা কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উপরিউক্ত রেজিস্ট্রারে অনুরূপ পরিশোধ বা হস্তান্তরের বিষয় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৩) যেক্ষেত্রে ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সম্পর্কিত হয় এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধিত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হইবার ১ (এক) বৎসরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিক্রিটি বাস্তবায়ন করা হইবে, যথা:

(ক) দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন কোনো দেওয়ানি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের ডিক্রির ন্যায়; অথবা

(খ) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা প্রদানের আদেশের ন্যায় এবং উক্তরূপে বাস্তবায়নের পর ডিক্রির আদায়কৃত অর্থ ডিক্রিদারকে প্রদান করিতে হইবে।

(৪) উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, পারিবারিক আদালত দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।

(৫) উপধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে গণ্য হইবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সকল ক্ষমতা তাহার থাকিবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য উক্ত কার্যবিধিতে এ জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়ারেন্ট জারি করিতে পারিবেন এবং ওয়ারেন্ট জারির পর অপরিশোধিত সম্পূর্ণ ডিক্রিকৃত অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য রায় দেনাদারকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) যেক্ষেত্রে কোনো ডিক্রি অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রি দেওয়ানি আদালতের অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোনো ডিক্রির ন্যায় বাস্তবায়ন করিতে হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে আদালত একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন উক্ত আদালতের সকল ক্ষমতা উহার থাকিবে।

(৭) ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালত স্বয়ং ডিক্রি বাস্তবায়ন করিবে অথবা ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে উহা বদলি করিতে পারিবে এবং উক্ত ডিক্রি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে আদালতে বদলি করা হইয়াছে সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানকারী পারিবারিক আদালতের সকল ক্ষমতা থাকিবে, যেন উক্ত আদালতই ডিক্রি প্রদান করিয়াছে।

(৮) আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।

২২৫.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় Pre trial proceeding সংক্রান্ত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. ১০
  2. ১৬
  3. ১৭
ব্যাখ্যা
The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ধারায় বিচার-পূর্ব কার্যধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান ছিল।

বর্তমানে Family Courts Ordinance, 1985 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া, উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারায় বিচার-পূর্ব বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
২২৬.
Section 3 of the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 makes registration of Muslim marriages:
  1. Optional
  2. Mandatory
  3. Dependent on family agreement
  4. Subject to religious leaders’ consent
ব্যাখ্যা
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ধারা ৩: বিবাহ নিবন্ধন:
“Notwithstanding anything contained in any law, custom or usage, every marriage solemnized under Muslim law shall be registered in accordance with the provisions of this Act.”

বাংলা অনুবাদ:
“যেকোনো আইন, প্রথা বা রীতিনীতিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, মুসলিম আইনের অধীনে সংঘটিত প্রতিটি বিবাহ এই আইনের বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত করতে হবে।”

⇒ ধারা ৩ অনুযায়ী,
মুসলিম আইনের অধীনে সংঘটিত প্রতিটি বিবাহ অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। এই নিবন্ধন ঐচ্ছিক নয়, বরং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
২২৭.
স্বামী কত বছর যাবৎ নিখোঁজ থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
২২৮.
একজন মুসলিম মহিলা তার এক পুত্র এবং পিতাকে রেখে মারা গেছেন। এক্ষেত্রে, তার সম্পত্তিতে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৬ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/২ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–
- যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র- রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।
- যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।
- যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

এক্ষেত্রে, পুত্রের উপস্থিতিতে পিতা (১/৬) অংশ পাবেন এবং পুত্র বাকি সম্পত্তি পাবেন।
২২৯.
A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera, বিধানটি The Family Courts Ordinance, 1985 এর কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা
A Family Court may, if it so deems fit, hold the whole or any part of the proceedings under the Ordinance in camera, বিধানটি The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১১ ধারায় বর্ণিত ছিল।

• বর্তমানে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

এই আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী-

(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
২৩০.
একই ছেলেকে দুই ব্যক্তি দত্তক গ্রহণ করলে দত্তকটি হবে-
  1. বাতিলযোগ্য
  2. বৈধ
  3. অবৈধ
  4. নির্দিষ্ট চুক্তিতে বৈধ
ব্যাখ্যা
⇒ Who can be adopted
 the Hindu child can be adopted by the following conditions:
1. The child should be Hindu.
2. The child has not been adopted before.
3. The child should not be married.
4. The age of the child must be below 15 years.
 
উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী বলতে পারি যে একই ছেলেকে দুই ব্যক্তি দত্তক গ্রহণ করলে দত্তকটি অবৈধ হবে।
২৩১.
একজন নাবালক তার সম্পত্তির কত অংশ উইল দ্বারা বণ্টন করতে সক্ষম?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. কোনো অংশই নয়
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনে উইল (Will):
উইল (testament) বা অছিয়ত হলো ভবিষ্যৎ দান। কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা সম্পত্তির মুনাফা কিভাবে বিলি-বন্টন করা হবে তা তার মৃত্যুর পূর্বেই লিখিত বা মৌখিকভাবে নির্ধারণ করে যাওয়ার আইন সম্মত ঘোষণাই হলো উইল বা অছিয়ত। মুসলিম আইন অনুযায়ী, একজন মুসলিম ব্যক্তি সুস্থ মন (sound mind) এবং প্রাপ্ত বয়সী (major) হলে শুধুমাত্র তিনি তার সম্পত্তি উইল করার অধিকারী হন। তবে, অপ্রাপ্তবয়স্ক (minor) ব্যক্তির ক্ষেত্রে উইল করার অধিকার নেই।

অপ্রাপ্তবয়স্ক (Minor) উইল করতে সক্ষম নয়:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উইল করতে পারেন না। ইসলামী আইন অনুযায়ী, যদি কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকে, তবে তার উইল করা অবৈধ এবং সে সম্পত্তির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।

উল্লেখ্য,
একজন মুসলিম স্বাস্থ্যবান মন এবং পূর্ণবয়স্ক (major) হলে তিনি তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ (১/৩) অংশ উইল করতে পারেন। এর বেশি অংশ উইল করা হলে, তা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া কার্যকর হবে না
২৩২.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে "per stirpes" নীতি প্রয়োগের বিধান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর কোন ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৪ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ "Per stirpes" নীতি বা উত্তরাধিকারী হিসেবে একটি পরিবারের শাখার প্রতি অংশ দেওয়া, যেখানে প্রত্যেক শাখা সমানভাবে উত্তরাধিকার লাভ করে, এটি মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে।

- এটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হিসাবে তার সন্তান বা সন্তানের সন্তানদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে, একটি শাখার সদস্যরা তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি অংশীদার হতে পারে, যদি তাদের বাবা বা মা মারা গিয়ে থাকেন।
অর্থাৎ এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার পিতামাতার জীবিত অবস্থায় মারা যায়, তবে তার সন্তানরা তার স্থানে উত্তরাধিকারী হবে।

- এছাড়াও, ৪ ধারায় মুসলিমদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এটি বলা হয়েছে যে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকারী রেখে যায়, তবে তার সম্পত্তি কিভাবে ভাগ করা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়।
২৩৩.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর উপস্থিতির জন্য অনধিক কত দিন সময় দিয়ে সমন প্রদান করবেন?
  1. ৩০
  2. ৪৫
  3. ৬০
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৭ ধারার বিধান সমন ও নোটিশ জারিকরণ:
 (১) পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করিবার পর আদালত নিম্নরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে, যথা:-
(ক) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য সাধারণভাবে অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্যকরণ;
(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হইবার এবং জবাব প্রদানের জন্য সমন জারি;
(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংবলিত রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মোকদ্দমার নোটিশ প্রেরণ; এবং
(ঘ) উপরিউক্ত দফা (খ) ও (গ) এর অধীন সমন জারি ও নোটিশ প্রেরণের পাশাপাশি আদালত, বাদী কর্তৃক খরচ বহন করিবার শর্তে, আরজিতে উল্লিখিত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাদী কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবাদীর ইমেইল ঠিকানায় সমন জারি করিবেন, তবে ইমেইল ঠিকানার সঠিকতা সম্পর্কে আদালত সন্তুষ্ট হইলে উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রত্যেকটি সমন এবং প্রেরিত নোটিশের সহিত আরজির নকল এবং ধারা ৬ এর উপধারা (৫) ও (৬) এ উল্লিখিত দলিলসমূহের তালিকার অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ নং আদেশের বিধি ৯(১), ৯(২), ৯(৪), ৯(৫), ৯এ, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯এ, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৫(১), ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে এবং উক্তরূপে জারীকৃত সমন বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৪) উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশ বিবাদীর উপর তখনই যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয় অথবা আদালত নোটিশ বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মর্মে লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পান যে, নোটিশ বহনকারী ডাক বিবাদীকে প্রদানে যাচনা করিবার পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন:

তবে শর্ত থাকে যে, নোটিশ যথাযথভাবে ঠিকানাযুক্ত অগ্রিম প্রদত্ত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে যথাযথভাবে প্রেরিত হইয়া থাকিলে নোটিশ ডাকে দেওয়ার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর যদি প্রাপ্তিস্বীকারপত্রটি হারাইয়া যায় বা ভুল ঠিকানায় চলিয়া যায় বা অন্য কোনো কারণে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত না হয় তাহা হইলে বিবাদীর উপর উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(৫) উপধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন জারীকৃত সমন প্রেরণ সংক্রান্ত খরচ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন সমন জারির খরচের ন্যায় হইবে এবং উপধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রেরিত নোটিশের ডাক খরচ আরজি দাখিলের সময় বাদী কর্তৃক প্রদেয় হইবে।
২৩৪.
হিন্দু আইনে অনুমোদিত বিবাহ কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:

ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:

অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
২৩৫.
'ক' একখণ্ড জমি 'খ'-কে উইল করলো। পরবর্তীতে 'ক' উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলো। উইলটি.....
  1. প্রত্যাহারযোগ্য
  2. প্রত্যাহৃত
  3. বৈধ
  4. অনিয়মিত
ব্যাখ্যা
উইল রদ করণ:
উইল বা অছিয়ত নামা রদ করা যায়।উইলকারী তার জীবদ্দশায় উইল রদ বা বাতিল করতে পারে।বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে উইলকারী তার উইল পত্ররদ করতে পারে।পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ-
১. উইলকারী তার কৃত উইল লিখিত বা মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে রদ বা প্রত্যাহার করতে পারে
২.যদি উইলকারী উইলকৃত সম্পত্তিতে এমন কোনো কাজ করে, যার ফলে উক্ত সম্পত্তির পরিবর্তন সাধিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট উইলটি রদ হবে।
৩.উইল কৃত সম্পত্তিতে যদি উইল কারীর স্বত্বের অবসান ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট উইলটি স্বাভাবিক ভাবেই রদ হয়ে যাবে।
৪.উইল-গ্রহীতার উদ্দেশ্যে যে সম্পত্তি উইল করা হয়, তা যদি উইলকারী উইল করার পর অন্যের কাছে দান বা বিক্রি করে দেয় তা হলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উইলটি রদ বা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
৫. উইলকারী আদালতের মাধ্যমেও তার কৃত উইলরদ বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

- উল্লিখিত প্রশ্নে 'ক' একখণ্ড জমি 'খ'-কে উইল করলো। পরবর্তীতে 'ক' উক্ত জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলো। এই ক্ষেত্রে "ক" উইলটা পরোক্ষভাবে প্রত্যাহৃত হয়েছে গণ্য হবে। 
- পরোক্ষভাবে প্রত্যহারের মূলনীতিটা হলো- উইল পরোক্ষভাবে প্রত্যহার হয়েছে গণ্য হবে কেবল তখনই যখন উইলের বিষয়বস্তুতে নতুন কিছু সংযুক্তি ঘটে কোনো কাজের মাধ্যমে বা উক্ত সম্পত্তিতে উইলকারীর মালিকানা স্বত্ব বিলুপ্ত হয়।
২৩৬.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে প্রার্থীর বয়সসীমা কত?
  1. ২০ থেকে ৪৫ বছর
  2. ২৫ থেকে ৫০ বছর
  3. ১৮ থেকে ৫৫ বছর
  4. ২১ থেকে ৬০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি- ৫(১) অনুযায়ী, প্রার্থীর HSC পাস হতে হবে, বয়স ২৫–৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে, এবং হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী হতে হবে। সবগুলো শর্ত পূরণ না করলে তিনি যোগ্য হবেন না।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ৪(১) ধারার বিধান অনুসারে,
এই আইনের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত এলাকা, এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা এলাকায় একজন ব্যক্তিকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিবে।
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ধারার বিধান অনুসারে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির যোগ্যতা, অধিক্ষেত্র, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কর্তৃক আদায়যোগ্য ফিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি-৫ প্রার্থীদের যোগ্যতা, ইত্যাদি- (১) কোনো ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ পাইবার
যোগ্য হইবেন না, যদি-
- তিনি সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো বোর্ড হইতে এইচ, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন;
- তাহার বয়স কমপক্ষে পঁচিশ এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ বৎসর না হয়;
- তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হন;
- তিনি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বী না হন।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের ক্ষেত্রে কাব্যতীর্থ বা ব্যাকরণতীর্থদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে।

উল্লেখ্য যে, আইনে শুধু একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে উল্লেখ করেছে যোগ্যতা বিধি অনুসারে নির্ধারিত হবে।তাই বিধিমালা অনুসারে, অপশন 'গ' উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

২৩৭.
হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. মালা বদল
  2. সপ্তপদী
  3. অঞ্জলি
  4. কন্যা সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সপ্তপদী: 
একটি হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার বা রীতি হিসাবে বিবেচিত হয়। এটি বাঙালি সমাজে সাতপাক নামে পরিচিত। যা নব-দম্পতি যজ্ঞকুন্ডের অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাতপাক একসাথে প্রদিক্ষণ করার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয়। সপ্তম পদক্ষেপ নেওয়ার পরে দম্পতির বিবাহ অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত হয়।

সপ্তপদী একটি প্রাচীন আচার যা বৈদিক যুগের । আগুনের পবিত্র বেদীর প্রদক্ষিণ একটি আচার যা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে সম্পাদিত হয় । কিছু অঞ্চলে, দম্পতি সাতবার বেদির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। অন্যান্য অঞ্চলে, দম্পতি একটি একক প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ করতে সাতটি পদক্ষেপ নেয়। প্রতিটি ধাপে দম্পতি বিভিন্ন শপথও নিতে পারে, যার বিষয়বস্তু অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।

এছাড়া-
মালা বদল: কন্যা ও বর মালাবদল করেন। এই রীতির অর্থ হচ্ছে দুজন একে অন্যকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নিলেন।
সম্প্রদান: কন্যার পিতা কন্যাকে জামাতার হাতে সম্প্রদান করেন বেদমন্ত্রে। বরও জানান যে তিনি কন্যার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন।
অঞ্জলি: কন্যা ও বর খৈ অগ্নাহুতি দেন। প্রচলিত বাংলায় একে বলে খৈ পোড়া। বৈদিক যুগে মানুষ নানা ধরনের শক্তির উপাসনা করতেন। অগ্নিও তাদের মধ্যে অন্যতম।
২৩৮.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. Doctrine of representation
  2. Succession per stripes
  3. Succession per capita
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
২৩৯.
‘ইজতিহাদ’ (Ijtihad) শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
  1. সহজে ফতোয়া দেওয়া 
  2. পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা
  3. কিতাব অনুসরণ করা
  4. নিজের মত প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা

⇒ ‘ইজতিহাদ’ শব্দটি আরবি মূল ‘জাহাদা’ (جَهَدَ) থেকে এসেছে। এই মূলের আভিধানিক অর্থ হলো “সর্বোচ্চ শক্তি, সাধ্য ও চেষ্টা প্রয়োগ করা”।
- লিসানুল আরব, তাজুল উরূস, আল-কামূসুল মুহীতের মতো প্রধান আরবি অভিধানগুলোতে ‘জুহদ’ ও ‘ইজতিহাদ’ বলতে বোঝানো হয়েছে “পূর্ণ শক্তি দিয়ে কোনো কাজে লেগে থাকা”। শরিয়তের পরিভাষায় এই ‘পূর্ণ শ্রম’ যখন কুরআন-সুন্নাহ থেকে শরয়ী হুকুম বের করার জন্য প্রয়োগ করা হয়, তখন তাকে বলা হয় ইজতিহাদ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থই হলো “পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা” – এটি কোনোভাবেই “সহজে ফতোয়া দেওয়া” বা “নিজের মত প্রকাশ করা” নয়। বরং এর বিপরীত: এটি অত্যন্ত কঠিন, শ্রমসাধ্য ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ।
- আল্লামা আব্দুল আলীম সিদ্দিকী (রহ.) তাঁর “Ijtihad and Mujtahid” বইয়েও স্পষ্ট লিখেছেন: “The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means ‘striving with full exertion.’”

অন্য অপশনগুলো:
ক) সহজে ফতোয়া দেওয়া → সম্পূর্ণ উল্টো। ইজতিহাদ সবচেয়ে কঠিন কাজ।
গ) কিতাব অনুসরণ করা → এটা তাকলীদের অর্থ।
ঘ) নিজের মত প্রকাশ করা → এটা ব্যক্তিগত রায়, কিন্তু ইজতিহাদ কুরআন-সুন্নাহর কঠোর নিয়মে আবদ্ধ।
সুতরাং একমাত্র সঠিক উত্তর: খ) পূর্ণ চেষ্টা ও শ্রম করা।

[The word 'Ijtihad' has been derived from the root JHD, and literally means "striving with full exertion." In Islamic legal terminology, it denotes an attempt to choose, in the light of the Qur'an and the Sunnah, between two or more differing legal interpretations and to deduce, from the Qur'an and the Sunnah, any new rulings in order to address new legal situations. One who performs "Ijtihad" is called "Mujtahid"]

তথ্যসূত্র: IJTIHAD AND MUJTAHID by Allama Abdul Aleem Siddiqui. [লিংক]

২৪০.
মুসলিম আইনের ২য় প্রধান উৎস কোনটি?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. কোরআন
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

কোরআন-
ইসলামী শরিয়তের ভিত্তি চারটি প্রধান উৎসের উপর স্থাপিত, যার মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ উৎস হলো কোরআনুল কারিম। এটি মুসলিমদের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং ইসলামী আইনের মূল ভিত্তি। কোরআনের প্রতিটি বাণী চূড়ান্ত, অকাট্য এবং প্রশ্নাতীত। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

আইনের দ্বিতীয় উৎস হাদিস:
হাদিস অর্থ কথা বা বাণী। ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় মানদণ্ড সুন্নাহ বা হাদিস। কারণ কোরআন  হলো মূল, আর সুন্নাহ বা হাদিসের ব্যাখ্যা। পবিত্র কোরআনে সব বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা রয়েছে, আর সুন্নাহ বা হাদিসে রয়েছে ওইসব বিষয়ের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। শরিয়তের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত বাণী, রাসুল হিসাবে তাঁর সম্পাদিত কাজ এবং সাহাবায়ে কেরামের শরিয়ত সম্পর্কিত এমন সব কথা ও কাজÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) যার প্রতিবাদ করেননি বা নীরব থেকে এর প্রতি মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, তাই হাদিস। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ‌ তায়ালা শরিয়তের সব আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন। এতে শরিয়তের আহকাম, মূলনীতি ও নির্দেশাবলী অতি সংক্ষেপে বিবৃত হয়েছে।

আর এ সংক্ষিপ্ত নির্দেশগুলোকে কার্যকরী করার জন্য হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতেন। যেমন, পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে, প্রতি ওয়াক্তে কত রাকাত পড়তে হবে এবং কীভাবে পড়তে হবে এর বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। তেমনিভাবে রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির নিয়মকানুনের বিস্তারিত বর্ণনা কোরআনে নেই। আল্লাহ‌র হুকুম অনুসারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এগুলোর যেসব নিয়মকানুন বর্ণনা করেছেন তাই হাদিস হিসেবে গণ্য।

ইজমা:
ইসলামের আইনে তৃতীয় উৎস ইজমা। কোনো বিশেষ যুগে কোনো বিশেষ প্রশ্নে মুসলিম আইনজ্ঞদের ঐকমত্যকে আইনের পরিভাষায় ইজমা বলে। এর দুটি তাৎপর্য রয়েছে। 
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর পর মুসলিম রাষ্ট্রের বিস্তৃতির ফলে নবোদ্ভূত অনেক সমস্যা দেখা যায়, যা কোরআন-হাদিস নিয়ে সমাধা হয় না। ফলে মুসলিম সমাজ কোরআন হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতে স্বাধীন চিন্তায় ইজমার প্রয়োজন অনুভব করে। ইজমা তিনটি উপায়ে নির্ধারিত হয়—কথা, কাজ ও নীরবতায়।

কিয়াস: 
কিয়াস ইসলামি আইনের চতুর্থ উৎস। চিন্তার মাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হলো কিয়াস। যে প্রশ্নে কোরআন-হাদিস নিশ্চুপ এবং ইজমাতেও সমাধান নেই, সেই প্রশ্নের সমাধানকল্পে সব সুন্নি মাজহাব যে উৎসের আশ্রয় গ্রহণ করেন, তাকে কিয়াস বলা হয়।
২৪১.
সালিসি কাউন্সিল দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিলে প্রথম স্ত্রীর প্রতিকার-
  1. পারিবারিক আদালতে আপীল করা
  2. পারিবারিক আদালতে রিভিশন করা
  3. সহকারী জজের নিকট আপীল করা
  4. সহকারী জজের নিকট রিভিশন করা
ব্যাখ্যা
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারার বিধান: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
 খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দণ্ড।
-----------
⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 Section 6. Polygamy:
(1) No man, during the subsistence of an existing marriage, shall, except with the previous permission in writing of the Arbitration Council, contract another marriage, nor shall any such marriage contracted without such permission be registered under the Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (LII of 1974). 

(2) An application for permission under sub-section (1) shall be submitted to the Chairman in the prescribed manner, together with the prescribed fee, and shall state the reasons for the proposed marriage, and whether the consent of the existing wife or wives has been obtained thereto.

(3) On receipt of the application under sub-section (2), the Chairman shall ask the applicant and his existing wife or wives each to nominate a representative, and the Arbitration Council so constituted may, if satisfied that the proposed marriage is necessary and just, grant, subject to such conditions, if any, as may be deemed fit, the permission applied for. 

(4) In deciding the application the Arbitration Council shall record its reasons for the decision, and any party may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision  to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 

(5) Any man who contracts another marriage without the permission of the Arbitration Council shall- 
(a) pay immediately the entire amount of the dower, whether prompt or deferred, due to the existing wife or wives, which amount, if not so paid, shall be recoverable as arrears of land revenue; and 
(b) on conviction upon complaint be punishable with simple imprisonment which may extend to one year, or with fine which may extend to ten thousand taka, or with both.
২৪২.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ৯ ধারায় প্রদত্ত সার্টিফিকেট পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন কে?
  1. শুধুমাত্র স্বামী
  2. শুধুমাত্র স্ত্রী
  3. সালিশী কাউন্সিল
  4. স্বামী অথবা স্ত্রী
ব্যাখ্যা

• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ- ১৯৬১ এর ধারা ৯- ভরণপোষণ:
১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

২৪৩.
মুসলিম আইনে 'মুশাহ' অর্থ-
  1. দান
  2. অগ্রক্রয়
  3. অবিভক্ত অংশ
  4. বিক্রয়
ব্যাখ্যা
মুশাহর ( Musha) অর্থ হলো কোনো সম্পত্তিতে অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ।

কোন একটা সম্পত্তির কোন অংশ যদি হেবা করা হয় সেটা যদি বিভক্ত করার যোগ্য হয়, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটা বিভক্ত করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত দান বৈধ হবে না। তবে ইসলামে অবিভাজ্য প্রকৃতির সম্পত্তি দান করা সম্পূর্ণ বৈধ। The gift of indivisible thing is absolutely valid in Muslim law. মুসলিম ল তে মুশাহ্ অবিভাজ্য প্রকৃতির সম্পত্তিকে নির্দেশ করে।
২৪৪.
What is the primary nature of marriage under Hindu law?
  1. A civil contract
  2. A temporary union
  3. A social agreement
  4. A sacred sacrament
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইন ও ঐতিহ্য অনুসারে, বিবাহকে প্রধানত একটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়, কোনো সাধারণ দেওয়ানী চুক্তি নয়। নিচের দিকগুলি লক্ষণীয়:
১. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান:
হিন্দু বিবাহে সপ্তপদী (সাত পাক), হোমযজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ ইত্যাদি ধর্মীয় রীতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি শুধু আইনি নিবন্ধন নয়, বরং একটি পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য (ধর্ম)।
২. জন্মজন্মান্তরের বন্ধন:
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, বিবাহের বন্ধন শুধু এই জন্মের জন্য সীমিত নয়, বরং এটি পূর্বজন্ম ও পরজন্মেও বিস্তৃত। এজন্যই একে "অবিচ্ছেদ্য" বলা হয়।
৩. কর্তব্য ও ধর্মের অংশ:
হিন্দু শাস্ত্রে বিবাহকে একটি ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, বিশেষ করে গ্রিহস্থাশ্রম (গৃহস্থ জীবন) পালনের জন্য। এটি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পূরণের পথ।
৪. চুক্তি নয়:
অন্যান্য কিছু ব্যক্তিগত আইন (যেমন মুসলিম আইনে বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি) এর বিপরীতে, হিন্দু বিবাহ চুক্তির বৈশিষ্ট্য বহন করে না। তাই এটি ক) দেওয়ানী চুক্তি সঠিক উত্তর হতে পারে না।
৫. তালাকের অনুপস্থিতি:
ঐতিহ্যগত হিন্দু আইনে তালাকের কোনও স্থান নেই, যা প্রমাণ করে এটি কোনো অস্থায়ী বা সামাজিক চুক্তি নয়। বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ এখনো আইনত অবিচ্ছেদ্য হিসেবে স্বীকৃত।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর পবিত্র, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রকৃতি, যা একে "পবিত্র বন্ধন" বা Sacrament করে তোলে। এজনই সঠিক উত্তর ঘ) A sacred sacrament।

২৪৫.
সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করায় একজন মুসলিম 'ক' কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন?
  1. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ
  2. অনধিক ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।

২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।

৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।

৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
২৪৬.
"আল-হেদায়া" (Al-Hedayah) গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইমাম মালিক
  2. ইমাম আবু হানিফা
  3. ইবনে রুশদ
  4. বুরহান আল-দীন
ব্যাখ্যা
আল-হেদায়া: হলো বুরহান আল-দীন কর্তৃক লিখিত দ্বাদশ শতাব্দীর আইনি ম্যানুয়াল, যা হানাফি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) অন্যতম প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফিকাহ্ শাস্ত্রের জগতে, বিশেষতঃ হানাফি ফিকাহ্র পরিমণ্ডলে আল-হিদায়া একটি মৌলিক ও বুনিয়াদি গ্রন্থ।
এক কথায় এ মহাগ্রন্থকে হানাফী ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিশ্বকোষ বলা যায়। বস্তুতঃ সুদীর্ঘ অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহতভাবে এ মহাগ্রন্থ ইসলামী ফিকাহ্ শাস্ত্রের হানাফী মাজহাবের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এমন কি পাক-ভারত উপমহাদেশের ঔপনিবেশিক শাসনকালেও বিচার বিভাগে আল-হিদায়াকে সিদ্ধান্তমূলক গ্রন্থের মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
পৃথিবীর বহু প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হিদায়ার ইংরেজি অনুবাদ অতি গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়ে থাকে। এ গ্রন্থ প্রকাশিত হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত ফিকাহ্ শাস্ত্রের বিদ্যাঙ্গনে আল-হিদায়া আবশ্য-পাঠ্য গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
এ মহাগ্রন্থকে কেন্দ্র করে ফিকাহ্ শাস্ত্রের উপর এ পর্যন্ত যত গবেষণা কর্ম সম্পন্ন হয়েছে এবং যত ব্যাখ্যা, ভাষ্য, টীকা ও পর্যালোচনা গ্রন্থ রচিত হয়েছে তা অন্য কোন ফিকাহ্ গ্রন্থের ক্ষেত্রে হয় নি। 
 এই সুবিশাল গ্রন্থ বর্তমানে যদিও বিলুপ্ত কিন্তু তাঁর সম-সাময়িক যুগশ্রেষ্ঠ ফকীহগণ অতি উচ্ছ্বাসিত ভাষায় এর আশি খণ্ডের এই সুবিশাল গ্রন্থের মহাসমুদ্রের নির্যাস নিয়ে সঙ্কখিপ্ত কলেবরে চার খণ্ডের এ গ্রন্থখানি সঙ্কলিত করেছেন যা সর্বমোট ২১২৬ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।
২৪৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুসারে কখন বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না?
  1. বিবাহের পক্ষগণ যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়
  2. বর ও কনে উভয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে
  3. বর ও কনের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছরের কম হলে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫- হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ

অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।
২৪৮.
মুসলিম আইনে কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রী-
  1. যদি দেনমোহর অনির্ধারিত থাকে তাহলে উপযুক্ত দেনমোহর
  2. সমস্ত নির্ধারিত দেনমোহর পাবে
  3. কোন দেনমোহর পাবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- বিবাহ যদি শারীরিক সম্পর্কের কারণে আইনসিদ্ধ না হয় এবং পক্ষদ্বয়ের কার্য দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটে:
- নিয়মিত বা বৈধ বিবাহের ক্ষেত্রে:
ক. যখন স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - নির্দিষ্ট দেনমোহরের অর্ধেক (১/২) অংশ পাবে।
খ. যখন স্ত্রী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয় - কোন দেনমোহর পাবে না।
২৪৯.
আউল নীতি ইসলামী আইনে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কুরআনের মাধ্যমে
  2. হাদীসের মাধ্যমে
  3. ইজমার মাধ্যমে
  4. কিয়াসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
আউল নীতি:
‘আউল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বৃদ্ধি হওয়া’। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী, যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয়, সেটাই আউল। কুরআনে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে, তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়া গাণিতিকভাবে এবং অনুপাতভিত্তিক বন্টনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়। তাই হাদীসে এর কোনো উদাহরণ নেই, তবে চার খলিফার আমলে এটি আলোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শরীয়তের তৃতীয় উৎস ইজমার মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অর্থাৎ, 
- আউল নীতি ইসলামী আইনশাস্ত্রে ইজমার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইজমা হলো ইসলামী ঐকমত্য বা আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, যা শর্ত পূর্ণ হলে শরীয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কাজ করে।
- যদিও কুরআন এবং হাদীসে আউল নীতির সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে ইসলামী ঐকমত্য বা ইজমা দ্বারা চার খলিফার আমলে এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে এটি ইসলামী সম্পত্তি বণ্টন আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়। ইজমা দ্বারা এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হলো, এটি তখনকার সময়ের আলেমদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিল, যা শরীয়তের প্রাকৃতিক বা গাণিতিক জটিলতা কাটানোর জন্য গৃহীত হয়েছিল।
২৫০.
মুসলিম আইনে বিবাহ কী ধরনের চুক্তি?
  1. ধর্মীয় চুক্তি
  2. সামাজিক চুক্তি
  3. দেওয়ানি চুক্তি
  4. ফৌজদারি চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনে বিবাহকে একটি দেওয়ানি চুক্তি (Civil Contract) হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এতে ধর্মীয় ও সামাজিক দিকও জড়িত।
নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. দেওয়ানি চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
- দুই পক্ষের সম্মতি: যেমন—প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল)।
- শর্ত পূরণ: বয়স, সাক্ষী, দেনমোহর ইত্যাদি।
- আইনগত ফলাফল: স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব সৃষ্টি (যেমন—ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার)।
২. ধর্মীয় ও সামাজিক দিক:
- যদিও এটি ইসলামী রীতিনীতি মেনে সম্পাদিত হয়, তবুও এর আইনগত কাঠামো দেওয়ানি চুক্তির মতো।
- কোরআন ও হাদিসে বিবাহের শর্তাবলি উল্লেখ থাকলেও এটি রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত (যেমন: মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১)।

অর্থাৎ মুসলিম আইনে বিয়ে একটি দেওয়ানি চুক্তি, যেখানে দু’টি পক্ষ সম্মতি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করে।
২৫১.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত ?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩:
- সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
- ৪ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তান তার পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদীকে; এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীকে ধারা ৩ এ বর্ণিত ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে এবং এই ভরণ পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ হিসাবে গণ্য হবে।

- পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, এর ৫ ধারা অনুযায়ী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করার দণ্ড:
- কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং
- উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে; বা
- উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২৫২.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী নিচের কোন ক্ষেত্রে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবে না?
  1. মৃত ব্যক্তির পুত্র থাকলে
  2. মৃত ব্যক্তির পিতা থাকলে
  3. মৃত ব্যক্তির পিতামহ থাকলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা (একই মায়ের কিন্তু ভিন্ন পিতার সন্তান) তখনই উত্তরাধিকার পান যখন মৃত ব্যক্তি ‘কালালা’ হন, অর্থাৎ তার কোনো পিতা, পিতামহ, পুত্র বা পৌত্র না থাকে। যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পিতা বা পিতামহ থাকে, তবে বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা উত্তরাধিকার পাবেন না। 
- সুতরাং, উপরের সবগুলো ক্ষেত্রে তারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বৈপিত্রেয় ভাই-বোনরা তখনই উত্তরাধিকার পায় যখন মৃত ব্যক্তি কালালা হয় (অর্থাৎ কোনো পিতা, মাতা, পুত্র বা পৌত্র না থাকে)। পিতা, পুত্র বা পিতামহ থাকলে তারা পাবে না।

২৫৩.
১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী, স্বামী একাধারে কয় বছর স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ-বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে?
  1. ৪ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-

(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
২৫৪.
হিন্দু আইনে Factum Valet নীতিটির প্রবর্তক কে?
  1. মনু
  2. নারদ
  3. জীমূতবাহন
  4. যাজ্ঞবল্ক্য
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।
- Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না।
- এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি।
- এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
- যেমন অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো।
- বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।

২৫৫.
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লিকে বেআইনিভাবে অপসারণ করা হলে, প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন
  2. জেলা জজের নিকট আপিল
  3. হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
  4. জেলা জজের নিকট রিভিশন
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করার বিধান রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২ অনুযায়ী।

ওয়াকফ সম্পত্তি (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ১৯৬২:
এই আইনের অধীন ওয়াকফ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নির্ধারণ করা হয় এবং বেআইনিভাবে অপসারণের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

রিভিশন আবেদন:
মুতাওয়াল্লি বেআইনিভাবে অপসারণ হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করতে পারেন। এই আইন অনুযায়ী, সাধারণত ১ মাসের মধ্যে রিভিশন আবেদন করা যায়।
২৫৬.
The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. জেলা জজের নিকট রিভিশন
  2. সহকারী জজের নিকট রিভিশন
  3. সহকারী জজের নিকট আপিল
  4. জেলা জজের নিকট আপিল
ব্যাখ্যা
• The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৬ ধারা: বহুবিবাহ:
১) কোন ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় সে সালিশী কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না বা ঐরূপ অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ অনুষ্ঠিত হলে তা The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত হবে না।
২) অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফি সহ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করতে হবে ও তাতে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের ব্যাপারে বর্তমানে স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা তার উল্লেখ থাকতে হবে।
৩) দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীকে ও বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহ প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করলে সেক্ষেত্রে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন।
৪) উক্ত দরখাস্তে বিবেচনা করার সময় সালিশি কাউন্সিল নিষ্পত্তির কারণাদি লিপিবদ্ধ করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে কোন পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদানক্রমে সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে; তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ও কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
৫) কোন লোক যদি সালিশী কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে সে-
ক) বর্তমান স্ত্রী কিংবা স্ত্রী গণের তলবী ও স্থগিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। উক্ত টাকা উক্তরুপে পরিশোধ না করা হলে বকেয়া ভূমি রাজস্বরূপে আদায়যোগ্য হবে: এবং
খ) অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত হলে এর শান্তি- অনধিক ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

অর্থাৎ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুসারে সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার হচ্ছে সহকারী জজের নিকট রিভিশন।
২৫৭.
'Factum valet quod fieri non debuit' অর্থ কী?
  1. ভুল করে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে তা অবৈধ হবে
  2. নির্ধারিত নিয়মে কাজটি সম্পন্ন হলে তা বৈধ হবে
  3. কোনো কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা বৈধ হয়ে যাবে
  4. ভুল করে কোনো কাজ সম্পন্ন হলে আইন অনুযায়ী কাজটি অবৈধ হবে
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।

Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
যেমন- অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
২৫৮.
পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানিকালে কী কী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য
  2. আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা
  3. ক এবং খ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:

(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।

(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
২৫৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে কী কী তথ্য উল্লেখ করতে হবে?
  1. বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  2. বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান
  3. মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬(৪) অনুসারে, মোকদ্দমা দায়েরের জন্য আরজিতে নিম্নলিখিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে:
- বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (ক)
- বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান (খ)
- মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্য (গ)
- আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্য
- বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
- মোকদ্দমার কারণ যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হয়েছে তার বিবরণ
- বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হলে তৎসংশ্লিষ্ট বিবরণী
এই সমস্ত তথ্য আরজিতে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে আদালত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও পক্ষগণের পরিচয় স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং যথাযথভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারে। তাই উপরের সবগুলো তথ্য (ক, খ, গ) আরজিতে উল্লেখ করতে হবে।
২৬০.
কোন মুসলিম পুরুষ যদি খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেন, তবে উক্ত বিবাহের আইনগত অবস্থান এবং বিবাহজাত সন্তানটির বৈধতা সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. বিবাহ এবং সন্তান উভয় বৈধ
  2. বিবাহ অবৈধ কিন্তু সন্তান বৈধ
  3. বিবাহ বৈধ কিন্তু সন্তান অবৈধ
  4. বিবাহ অনিয়মিত কিন্তু সন্তান বৈধ
ব্যাখ্যা
ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী,
মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর সাথে বিয়ে করতে পারেন এবং এটি বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হয়, কারণ ইসলামে "আহলে কিতাব" (খ্রিস্টান এবং ইহুদি) নারীদের সাথে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের মধ্যে কোনো সন্তান জন্ম নেন, তাহলে সেই সন্তান বৈধ হবে। কারণ, ইসলামে বৈধ বিয়ের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান স্বীকৃত, এবং এর বৈধতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হয় না, যতটুকু না সে সন্তান কোনো অন্যায় বা অবৈধ উপায়ে জন্মেছে।

সুতরাং, মুসলিম পুরুষ এবং খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীর মধ্যে বিয়ে বৈধ এবং সেই বিবাহ থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানও বৈধ হবে।
২৬১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের কোনটি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zabil Arham) এর উদাহরণ?
  1. মা
  2. স্ত্রী
  3. চাচা
  4. কন্যা
ব্যাখ্যা
⇒  মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
১) অংশীদার (Zawil Furud) – যাদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে।
২) অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) – যারা অংশীদারদের পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
৩) দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) – যারা অংশীদার বা আসাবা নয়, কিন্তু মৃতের আত্মীয়।

⇒ দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) তাদের বলা হয়, যারা অংশীদার (Zawil Furud) বা আসাবা নয়, তবে মৃতের আত্মীয়।
- চাচা সাধারণত আসাবা হলেও, যদি আসাবা না থাকে, তবে তিনি Zawil Arham হিসেবে উত্তরাধিকার পান।

⇒ প্রত্যেক অপশন বিশ্লেষণ করে পাই:
(ক) মা – মা হলেন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। তিনি সাধারণত মৃত সন্তান রেখে গেলে ১/৬ এবং সন্তান না থাকলে ১/৩ অংশ পান। সুতরাং, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ নন।
(খ) স্ত্রী – স্ত্রীও নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। স্বামী মারা গেলে তিনি সন্তান থাকলে ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ অংশ পান। ফলে, তিনি দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নন।
(গ) চাচা – চাচা সাধারণত আসাবা হন। তবে, যদি কোনো আসাবা উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে চাচা দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে, এই অপশনটি সঠিক।
(ঘ) কন্যা – কন্যা নির্দিষ্ট অংশীদার (Zawil Furud)। একমাত্র কন্যা থাকলে সে ১/২ পায়, একাধিক কন্যা থাকলে তারা ২/৩ ভাগ করে নেয়। তাই কন্যাও দূরবর্তী আত্মীয়বর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।
২৬২.
মুসলিম আইনের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হাদিস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. কিয়াস
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
২৬৩.
কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, সরকার তার নিয়োগ অনধিক কত বছরের জন্য স্থগিত করতে পারে?
  1. ৫ বছরের জন্য
  2. ৩ বছরের জন্য
  3. ১ বছরের জন্য
  4. ২ বছরের জন্য
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২: ধারা ১৪- বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:

সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না। 
২৬৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন এর অধীন স্বামীর নিখোঁজ জনিত কারণে আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদান করলে, তা কতদিন পর্যন্ত কার্যকর হবে না?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
 
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, নিরুদ্দেশ জনিত কারণে ডিক্রি প্রদান করা হলে, প্রদত্ত ডিক্রি দানের তারিখ হইতে ৬ মাস কাল কার্যকর হইবে না এবং যদি স্বামী উল্লেখিত সময়ে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা কোন ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তুষজনক জবাব দেন যে, তিনি দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুত আছেন, তবে উক্ত ডিক্রি নাকচ করিয়া দিবেন।
২৬৫.
একজন হানাফি মুসলিম পিতা-মাতাকে রেখে মারা যান। তার তাজ্য সম্পত্তিতে পিতা ও মাতার অংশ যথাক্রমে-
  1. পিতা ১/৪, মাতা ৩/৪ অংশ
  2. পিতা ১/৩, মাতা ২/৩ অংশ
  3. পিতা ২/৩, মাতা ১/৩ অংশ
  4. পিতা ২/৪, মাতা ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম উত্তরাধিকার আইন-
 
ধরি,
মোট সম্পত্তি = ১ অংশ;
 
মাতার অংশ = ১/৩ [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক), একাধিক ভাই-বোন অনুপস্থিত];
পিতা = অবশিষ্টাংশভোগী [যেহেতু সন্তান, সন্তানের সন্তান (যত নিম্ন হোক) এরূপ কেউ নেই]।
 
অবশিষ্টাংশ = (১ - ১/৩) = ২/৩ অংশ।
 
∴ পিতার অংশ = ২/৩ অংশ।
মাতার অংশ = ১/৩ অংশ।
২৬৬.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ কবে কার্যকর হয়?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২৩
  2. ২৬ মার্চ, ২০২৩
  3. ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  4. ১১ নভেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে কার্যকর হয়।
- এই আইনটি Family Courts Ordinance, 1985 কে রহিত করে সময়োপযোগী করে পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই আইনের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
- আইনটি কার্যকর হওয়ার তারিখটি আইনের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬৭.
নিমাই মারা গেছেন এবং তার পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, দৌহিত্র কেউই জীবিত নেই। তার পিতা এবং মাতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদে এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার কী হবে?
  1. পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
  2. পিতা জীবনস্বত্ব পাবেন
  3. মাতা সম্পত্তির জীবনস্বত্ব পাবেন
  4. পিতা এবং মাতা উভয়ে পূর্ণ স্বত্ব পাবেন
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) পিতা পূর্ণ স্বত্ব পাবেন।

দায়ভাগ মতবাদে উত্তরাধিকারের ক্রম:

দায়ভাগ মতবাদে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্রম নির্ধারিত। প্রথমে পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, এবং দৌহিত্র (কন্যার পুত্র) সম্পত্তির অধিকারী হন।
এই সকল উত্তরাধিকারী জীবিত না থাকলে, পরবর্তী অগ্রাধিকার পান মৃত ব্যক্তির পিতা। পিতা জীবিত থাকলে তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পান।
পিতা জীবিত না থাকলে তবেই মাতা সম্পত্তির অধিকারী হন, এবং তিনি জীবনস্বত্ব (life interest) পান, অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন, কিন্তু তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না।
পিতা এবং মাতার পরে ক্রমানুসারে সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাইয়ের পুত্রের পুত্র, বোনের পুত্র, পিতামহ, পিতামহী, এবং পিতার ভাই সম্পত্তির অধিকারী হন।

এই ঘটনায় প্রয়োগ:
নিমাইয়ের কোনো পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, বিধবা স্ত্রী, কন্যা, বা দৌহিত্র জীবিত নেই। তাই এই সকল অগ্রাধিকারের উত্তরাধিকারী বাদ পড়েন। নিমাইয়ের পিতা জীবিত আছেন। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে, পিতা এই পর্যায়ে সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন এবং তিনি সম্পত্তির পূর্ণ স্বত্ব পাবেন। যেহেতু পিতা জীবিত আছেন, মাতা এই ক্ষেত্রে সম্পত্তির অধিকার পাবেন না, কারণ পিতার অগ্রাধিকার মাতার চেয়ে বেশি।

২৬৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কোন ধারায় কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২০
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ এ কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফি ২০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি:
পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।

২৬৯.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যায়?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩এর ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।

২৭০.
স্ত্রীধন বলতে কি বোঝায়?
  1. উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্ত্রীর সম্পত্তি
  2. উপহার হিসেবে স্ত্রীর প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্ত্রীর নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার। স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারও ভিন্ন ধরনের এবং তা কন্যাদের অধিকতর উত্তরাধিকার ক্ষমতা প্রদান করে।

স্ত্রীধনের প্রকৃতি অনুযায়ী তার উত্তরাধিকারক্রম এরূপ:

ক. শুল্ক (কন্যাপণ): ভাই, মা, পিতা ও স্বামী;

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার): অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত): এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।

উপযুক্তদের অভাবে অযৌতুক স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারীরা হলো: ভাই, মা, পিতা, স্বামী, দেবর, স্বামীর ভ্রাতুষ্পুত্র, বোনপো, স্বামীর ভাগিনেয়, নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র, জামাতা, স্বামীর সপিন্ড, সকুল্য ও সমানোদক, পিতার জ্ঞাতি।
২৭১.
মরজ-উল-মউত এর সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির বরাবর প্রদত্ত দান উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি ব্যতীত-
  1. সম্পূর্ণ বাতিল
  2. এক তৃতীয়াংশ কার্যকর
  3. সম্পূর্ণ কার্যকর
  4. এক চতুর্থাংশ কার্যকর
ব্যাখ্যা
মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
- মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে।
- অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 
অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

- এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এমন দানের ক্ষেত্রে উইলের ২টি শর্ত পূরণ করতে হয়-
১. সম্পত্তির ১/৩ এর বেশি দান (Gift/Hiba) করা যাবে না।
২. উত্তরাধিকারী বরাবর দান করা যাবে না।

⇒ কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।
২৭২.
কোন ক্ষেত্রে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও, স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের। এই আইনে বিবাহিতা হিন্দু নারী বিচ্ছেদ ছাড়াও, স্বামী হতে পৃথক থাকতে পারে। উক্ত আইনে উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে স্ত্রী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে। ক্ষেত্রগুলো হলো-

⇒ স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

⇒ স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

⇒ স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

⇒ স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

⇒ স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
if he marries again; এবং

⇒ অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
for any other justifiable cause
২৭৩.
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কয় প্রকার অনুমোদিত বিবাহের প্রচলন আছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত।
আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:

ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:

অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।
২৭৪.
Doctrine of Pulpit (Al-Mimbariya) কোন খলিফার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত?
  1. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
  2. হযরত ওমর (রা.)
  3. হযরত উসমান (রা.)
  4. হযরত আলী (রা.)
ব্যাখ্যা
আল-মিম্বারিয়াহ বা মিম্বর মামলা: Doctrine of Pulpit (Al-Mimbariya):
- এ নীতি মসজিদের 'মিম্বার' থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে Doctrine of Pulpit বা Al-Mimbariya নামে খ্যাত/প্রসিদ্ধ।

এ গুরুত্বপূর্ণ নীতি/নিয়মটি একাধিক নামে পরিচিত;
i) Doctrine of Awl.
ii) Doctrine of increase.
iii) Al-Mimbariya Case.

- ইসলামের চতুর্থ খলীফা হজরত আলী (রা.)-এর বিচারিক সিদ্ধান্তের ফল হচ্ছে 'আউল' নীতি।
- প্রসিদ্ধ ইসলামি আইনবিদ আব্দুর রহমান দই-এর মতে, এ নীতির প্রবক্তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
২৭৫.
পারিবারিক আদালত রায় ঘোষণা করার পর পক্ষগণকে কত দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(২) অনুযায়ী, আদালত রায় ঘোষণার পর অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদেরকে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
– পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩, ধারা ১৪(২) রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

২৭৬.
দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে _____ বলে।
  1. আরিয়ত
  2. সাদাকা
  3. শর্তযুক্ত হেবা
  4. শর্তযুক্ত ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
- আরিয়ত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়ত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়ত চাইলে রদ করা যায়।
অর্থাৎ আরিয়ত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।

- দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে আরিয়ত (Areeat) বলে।
২৭৭.
'মুশাহ' হলো কোনো সম্পত্তির ________ অংশ।
  1. বিভক্ত
  2. অবিভাজ্য
  3. অর্ধেক
  4. গুরত্বপূর্ণ
ব্যাখ্যা
'মুশাহ' বা 'Musha' হলো কোনো সম্পত্তির অবিভাজ্য বা অবিভক্ত অংশ। হানাফি আইন অনুসারে অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তি যা বিভক্ত করা যায় এমন সম্পত্তি দান করলে দানটি বৈধ হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে এটি বিভক্ত করা হলে দানটি বৈধ হয়ে যাবে।

কিন্তু চারটি বিশেষ ক্ষেত্র আছে যেসব ক্ষেত্রে দানের বিষয়বস্তু বিভক্ত করা না হলেও দানটি বৈধ হবে।

⇒ যদি সম্পত্তিটি অবিভাজ্য হয় অথবা যদি সম্পত্তিটি এমন হয় যে, অবিভক্ত অবস্থায় সম্পত্তিটি ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী;
⇒ যদি দুই বা ততোধিক অংশীদারদের যেকোনো একজন তার অংশটি অপর কোনো অংশীদারকে দান করে;
⇒ কোনো অবিভক্ত ভূমির ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট অংশ আলাদাভাবে গ্রহণ এবং উত্তোলন করার অধিকার থাকলে সেটিকে অবিভক্ত জমি ধরা হবে না এবং এটি দান করলে দানটি অবৈধ হবে না;
⇒ দানকারী যদি কোনো হোল্ডিংয়ে দান গ্রহীতাকে যৌথ মালকানার স্বীকৃতি দেয় এবং সেরকম দখলের 'স্বীকৃতি দিলে সেটি বৈধ দান হবে।
২৭৮.
যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত 'যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা' গ্রন্থ হিন্দু আইনের কোন উৎসের অন্তর্গত?
  1. প্রথা
  2. স্মৃতি
  3. শ্রুতি
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
স্মৃতি:
- স্মৃতি অর্থ যা স্মরণে রাখা হয়েছিল, প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরুশিষ্য-পরম্পরায় স্মরণে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিগণ পুস্তক আকারে সংকলন করেছিলেন, তা-ই সংহিতা বা স্মৃতিশাস্ত্র নামে পরিচিত।
- স্মৃতি সম্বন্ধীয় প্রধানত তিনটি গ্রন্থ হচ্ছে- 
ক. মনু কর্তৃক সংকলিত মনু সংহিতা;
খ. যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত যাজ্ঞবন্ধ্য সংহিতা;
গ. নারদ কর্তৃক সংকলিত নারদ সংহিতা।

অর্থাৎ স্মৃতি বলতে বোঝায় প্রাচীনকালে আর্য ঋষিদের স্মরণে রাখা এবং পরবর্তীতে মুনিদের দ্বারা সংকলিত ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি। এ ধরনের নির্দেশাবলি সংহিতা বা স্মৃতিশাস্ত্র নামে পরিচিত। স্মৃতিশাস্ত্রের প্রধান তিনটি গ্রন্থ হলো:
১. মনু সংহিতা (মনু কর্তৃক সংকলিত),
২. যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা (যাজ্ঞবল্ক কর্তৃক সংকলিত),
৩. নারদ সংহিতা (নারদ কর্তৃক সংকলিত)।
২৭৯.
"The Muslim Family Laws Ordinance, 1961" অনুসারে, যদি "P" এর পুত্র "A" উত্তরাধিকার খোলার বা আরম্ভের আগে মারা যান, তাহলে "A"-এর সন্তান "X" এবং "Y" কী পাবে?
  1. "A" এর অংশের সমান
  2. "A" এর অংশের অর্ধেক
  3. "A" এর অংশের দ্বিগুণ
  4. কিছুই পাবে না
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।

→ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারী হওয়ার আগেই মারা যান, তাহলে তার সন্তানরা তার অংশের উত্তরাধিকারী হবে।
এটি প্রতিস্থাপনমূলক উত্তরাধিকার (Doctrine of Representation) নামে পরিচিত, যার ফলে সন্তানরা তাদের পিতার উত্তরাধিকারী হওয়ার পূর্ণ অধিকার পায়।

ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ:
- "P" হলেন মূল ব্যক্তি, যার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
- "A" হলেন "P" এর পুত্র, অর্থাৎ তিনি সাধারণত "P" এর উত্তরাধিকারী হতেন।
- কিন্তু "A" উত্তরাধিকার খোলার (P-এর মৃত্যুর) আগে মারা গেছেন।
- ধারা ৪ অনুযায়ী, "A"-এর সন্তানরা ("X" ও "Y") মিলে "A"-এর অংশ পাবে।
- অর্থাৎ, "X" ও "Y" সমান ভাগে তাদের পিতার (A) অংশ পাবে।

সঠিক উত্তর: ক) "A" এর অংশের সমান।
- কারণ, "X" এবং "Y" একসাথে "A" এর অংশের সমান পাবে, যা প্রতি শাখা অনুসারে (Per Stirpes) বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
২৮০.
'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নয়' বিধানটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর কোন বিধিতে বলা আছে?
  1. ১৭
  2. ১৮
  3. ১৯
  4. ২০
ব্যাখ্যা
⇒ Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর Section 14 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ২০০৯ সালে 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ নামে' বিধিমালা প্রণয়ন করেন।

- মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৯ বিধিতে 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নহে।' এই শিরোনামে বলা হয়েছে যে 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি হিসাবে গণ্য হইবে না।

অর্থাৎ 'নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সরকারী চাকরি নয়' বিধানটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৯ বিধিতে বলা আছে।
২৮১.
কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামী কত বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া; 
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
২৮২.
যদি স্বামী শপথ করেন যে তিনি চার মাস বা তারও বেশি সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবেন না, তবে এটি ইসলামী শরিয়তের অধীনে এক ধরনের তালাক (divorce) হিসেবে গণ্য হয়, যাকে বলা হয়-
  1. জিহার
  2. ইলা
  3. মুবারাত
  4. তাওফিজ
ব্যাখ্যা

ইলা (Ila):
যখন স্বামী শপথ করে বলেন যে তিনি চার মাস বা তার বেশি সময় স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবেন না, তখন তাকে ইলা বলা হয়।
যদি স্বামী চার মাসের মধ্যে তার শপথ ভঙ্গ না করেন, অর্থাৎ স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না করেন, তাহলে বিবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন (divorce effective) হয়ে যায়।

অন্যান্য বিকল্পের অর্থ:
জিহার (Zihar):
স্বামী যদি তার স্ত্রীকে নিজের মা, বোন ইত্যাদির সঙ্গে তুলনা করেন (যেমন বলেন— “তুমি আমার মায়ের মতো”), তবে একে জিহার বলা হয়।

তাওফিজ (Tafweez):
যখন স্বামী তালাক দেওয়ার অধিকার স্ত্রীকে অর্পণ করেন, তখন তাকে তাফউইজ বলা হয়।

মুবারাআত (Mubaraat):
যখন স্বামী ও স্ত্রী পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হয়, তখন সেটি মুবারাআত নামে পরিচিত।

২৮৩.
পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Asaba
  2. Zawil Arham
  3. Zawil Furud
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) হিসেবে বিবেচিত হন এবং কোরআনে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীরা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত -
- নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) → যাদের অংশ কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- অবশিষ্টাংশ ভোগী (Asaba) → যারা নির্দিষ্ট অংশের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি পায়।
- দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ (Zawil Arham) → যারা নির্দিষ্ট অংশীদার বা আসাবা না হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে উত্তরাধিকার পায়।

⇒ পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, এবং তার জন্য কোরআনে নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১/৬) বর্ণিত আছে, এজন্য তিনি Zawil Furud শ্রেণিতে পড়েন। তবে পিতা অনেক ক্ষেত্রে Asaba হিসেবেও সম্পত্তি পান (যেমন সন্তান না থাকলে অবশিষ্টাংশ পাওয়া), কিন্তু তার মূল পরিচয় Zawil Furud হিসেবে।
অতএব, পিতা মূলত নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিছু পরিস্থিতিতে তিনি আসাবা হিসেবেও লাভবান হন।

২৮৪.
'Marriage among Muhammadans is not a sacrament, but purely a civil contract'- was said in which of the following leading cases?
  1. Abdul Kadir v. Salima
  2. Abdus Salam v. Mst. Razia Begum
  3. Anwar Hossain v. Momtaz Begum
  4. Hefzur Rahman v. Shamsun Nahar Begum
ব্যাখ্যা
Abdul Kadir v. Salima:
এই মামলাটি একটি মুসলিম দম্পতির মধ্যে ঘটে, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে বৈবাহিক অধিকার ফিরে পেতে আদালতে আবেদন করেন। তিন মাস একসাথে থাকার পর স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান এবং স্বামীকে ফিরে আসতে দিতে অস্বীকার করেন। স্বামী অনেকবার স্ত্রীর বাবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। তাই তিনি আদালতে Restitution of Conjugal Rights (বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা) মামলা দায়ের করেন।

স্ত্রী আদালতে ডিভোর্সের মামলা এবং মোহর প্রদান না করার অভিযোগ করেন। আদালত প্রথম দুটি অভিযোগ খারিজ করে দিলেও মোহর নিয়ে গুরুত্ব দেয়। এরপর স্বামী আদালতে মোহরের টাকা পরিশোধ করেন এবং আদালত শর্ত সাপেক্ষে রায় দেয়, যার মধ্যে বলা হয় মোহর পরিশোধের পরই বৈবাহিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

উভয় পক্ষই এই রায় নিয়ে আপিল করলেও, আপিল কোর্ট বলে যে, স্বামী Restitution of Conjugal Rights মামলা দাওয়ার পরিশোধ না করেই দাখিল করেছেন, তাই তিনি আইনগত সেবা পাওয়ার অধিকারী নন। পরে এই বিষয়টি আল্লাহাবাদ হাই কোর্ট এ পাঠানো হয়।

এলাহাবাদ হাই পর্যবেক্ষণ করে যে, মুসলিম বিবাহ একটি আইনি চুক্তি, যা কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়। কোর্ট মুনশী বজলুর রহীম বনাম শামসুন-নিসা বেগম (১৮৬৭) মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ না হলে, তিনি স্বামীর সাথে বসবাস করতে বা যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। তবে, যদি একত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং সেসময় পরিপূর্ণ সম্মতি থাকে, তাহলে শর্তসাপেক্ষে Restitution of Conjugal Rights মামলার রায় কার্যকর হতে পারে, যেটি মোহরের দ্রুত পরিশোধের ওপর নির্ভরশীল।
২৮৫.
The Waqfs Ordinance, 1962 অনুসারে Administrator of Waqfs-এর মেয়াদ কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(৩) অনুসারে, ওয়াকফ প্রশাসক (Administrator of Waqfs) সাধারণত ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত হন এবং তার মেয়াদ শেষে পুনর্নিযুক্তির যোগ্যতা রাখেন। এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং প্রশাসকের নিয়োগ সরকার করে। মেয়াদের এই নির্ধারণটি প্রশাসকের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

অর্থাৎ The Waqfs Ordinance, 1962-এর ধারা ৭(৩) স্পষ্টভাবে ৫ বছরের মেয়াদ নির্ধারণ করেছে, যা ওয়াকফ সম্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে।
----------
⇒ The Waqfs Ordinance, 1962 Section-7. Appointment of the Administrator:
(1) The Government shall appoint an Administrator of Waqfs for Bangladesh.
(2) No person shall be appointed as Administrator unless he is a Muslim and possesses such qualifications as may be prescribed by the rules. 
(3) The Administrator shall ordinarily be appointed for five years, and shall be eligible for re appointment.

২৮৬.
একজন হিন্দু লোক রাম মারা গেলেন। তিনি রেখে গেলেন ৪ কন্যা এবং মাতা। কন্যাদের মধ্যে একজন অবিবাহিতা, একজন বিবাহিতা ও পুত্রবতী, একজন বন্ধ্যা, একজন বিধবা, যার ২ কন্যাসন্তান আছে। এই ক্ষেত্রে কার সম্পত্তির দাবী সবার আগে থাকবে?
  1. মাতা
  2. বিধবা কন্যা
  3. অবিবাহিতা কন্যা 
  4. বিবাহিতা ও পুত্রবতী কন্যা
ব্যাখ্যা

⇒ এই ক্ষেত্রে অবিবাহিতা কন্যার দাবী সর্বাগ্রে, সুতরাং অবিবাহিতা কন্যা রামের সকল সম্পত্তি জীবনস্বত্বে পাইবে। অন্যান্য কন্যাগণ কোন অংশ পাবে না। মাতাও কিছু পাবে না। কারণ কন্যাদের স্থান ৫নং এবং মাতার স্থান ৮নং।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সপিণ্ডদের ক্রমিকানুসারে তালিকা:

১-৩ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র তাহারা স্থলবর্তী নিয়ম অনুসারে সর্বাগ্রে এবং এক সঙ্গে উত্তরাধিকারিত্বের দাবীদার। এই বিষয়ে একই নিয়ম মিতাক্ষরা আইনেও প্রযোজ্য।
সকল মতপন্থীদের মতেই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য পিতার অবৈধ সন্তান অর্থাৎ রক্ষিতার সন্তান কোন উত্তরাধিকারিত্ব দাবী করিতে পারে না। তবে সেইসব অবৈধ সন্তান পিতার ত্যাজ্যবিত্ত হইতে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। শুদ্রের বেলায় দাসী অথবা রক্ষিতার অবৈধ পুত্র বৈধ পুত্রের ভাগ পাওয়ার অধিকারী। অর্থাৎ অবৈধ পুত্র বৈধ হইলে যে অংশ পাইত তাহার অর্ধেক পাইবে।

৪। বিধবা:
১৯৩৭ সালে সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার সংক্রান্ত আইন পাশ হওয়ার পর হইতে বিধবা একের অধিক হইলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান অংশ জীবন স্বত্বে পাইবে। ১-৩ নং এর মধ্যে কেহ না থাকিলে স্বামীর ত্যাজ্যবিত্তে বিধবার জীবনস্বত্ব হইবে।

৫। কন্যা:
কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিতা কন্যার দাবী প্রথম। পরে পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যাদের দাবী। বন্ধ্যা কন্যা, পুত্র সন্তান হীনা বিধবা কন্যা এবং যে সব কন্যাদের কেবলমাত্র কন্যা সন্তান আছে তাহারা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে।

৬। দৌহিত্র: কন্যার পর কন্যার পুত্র সন্তানের দাবী।
৭। পিতা;
৮। মাতা;
৯। ভ্রাতা;
১০। ভ্রাতুষ্পুত্র।

২৮৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪(১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে, আদালত-
  1. পুনরায় সাক্ষ্য নেবে
  2. রায় ঘোষণা করবে
  3. মোকদ্দমা অন্য আদালতে পাঠাবে
  4. মোকদ্দমা স্থগিত রাখবে
ব্যাখ্যা

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪ (বিচারের সমাপ্তি):
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।

২৮৮.
কোন প্রক্রিয়া অনুযায়ী উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে সম্পত্তি প্রাপ্ত হন?
  1. উত্তরাধিকারী মনোনয়ন
  2. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  3. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরূপে (বা পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের মাধ্যমে) উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি প্রাপ্ত হন।
- এর অর্থ হল, যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখন তার উত্তরাধিকারীরা মৃত ব্যক্তির স্থান পূর্ণ করে সম্পত্তির অংশ ভাগ করে নেয়।
- এই প্রক্রিয়াতে, মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র বা আরও নিচের প্রজন্ম তার পিতার বা পূর্বসূরীর উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের অংশ লাভ করে, এবং এটি প্রতিটি প্রজন্মের জন্য সমানভাবে ঘটে।
এটি প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation) এর ভিত্তিতে কাজ করে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম (যেমন পৌত্র) তাদের পূর্বসূরীদের (যেমন পিতা) স্থল পূর্ণ করে সম্পত্তি লাভ করে। এর ফলে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্র তাদের পূর্বপুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে সম্পত্তির অংশ পায়।
তাহলে, অংশপিছু উত্তরাধিকার এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ তার স্থল বা অবস্থান থেকে অংশ গ্রহণ করে, এবং এটা প্রতিনিধিত্ব মতবাদ এর অধীনে চলে।
২৮৯.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় পারিবারিক আদালত অবমাননার শাস্তি উল্লেখ আছে?
  1. ২১ ধারায়
  2. ২৫ ধারায়
  3. ২৩ ধারায়
  4. ২০ ধারায়
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা:

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
২৯০.
দায়ভাগ মতবাদ নিম্নলিখিত কোন এলাকায় প্রযোজ্য?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
  3. পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত ভারতের অন্যান্য অংশে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।

দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
২৯১.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম কোনটি?
  1. ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ → অসিয়াত
  2. ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ
  3. অসিয়াত → ঋণ → ওয়ারিসদের অংশ
  4. ওয়ারিসদের অংশ → ঋণ → অসিয়াত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।
⇒ প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তারপর অসিয়াত (যা সর্বোচ্চ ১/৩ পর্যন্ত) কার্যকর করতে হবে, তারপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি বণ্টনের সঠিক ক্রম নিম্নরূপ:
১) প্রথমে ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির সকল ঋণ (দেনা) প্রথমে পরিশোধ করতে হবে। এতে ব্যক্তিগত ঋণ, দেনমোহর ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
২) তারপর অসিয়ত (উইল) কার্যকর: ঋণ পরিশোধের পর অসিয়ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি বণ্টন করা যায় (শর্তসাপেক্ষে)। অসিয়ত শুধুমাত্র অ-ওয়ারিসদের জন্য প্রযোজ্য।
৩) সর্বশেষ ওয়ারিসদের অংশ: অবশিষ্ট সম্পত্তি কোরআন-সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টিত হবে।

উল্লেখ্য যে, অসিয়ত ওয়ারিসদের ক্ষতি করে না (অসিয়তের মাধ্যমে ওয়ারিসদের বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ)। যদি ঋণ বা অসিয়ত সম্পত্তির সমস্ত অংশ নিয়ে যায়, তবে ওয়ারিসরা কিছুই পাবেন না।

উদাহরণ:
মৃত ব্যক্তির ১ লক্ষ টাকা সম্পত্তি, ২০,০০০ টাকা ঋণ ও ১০,০০০ টাকা অসিয়ত থাকলে:
- প্রথমে ২০,০০০ টাকা ঋণ পরিশোধ → অবশিষ্ট ৮০,০০০ টাকা।
- তারপর ১০,০০০ টাকা অসিয়ত দেওয়া → অবশিষ্ট ৭০,০০০ টাকা।
- শেষে ৭০,০০০ টাকা ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ঋণ → অসিয়াত → ওয়ারিসদের অংশ।

২৯২.
'হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে' হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ কোন আইনের অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শকে বুঝাবে?
  1. হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২
  2. মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪
  3. রেজিস্ট্রেশন আইন ১ঌ০৮
  4. হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৩
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ১৩  ধারার বিধান তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:

(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন।
 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে।
 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন।
 
ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
২৯৩.
জারজ সন্তান মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কী অবস্থায় থাকে?
  1. বৈধ উত্তরাধিকারী 
  2. আংশিক উত্তরাধিকারী
  3. উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত
  4. আদালতের অনুমতির উপর নির্ভর করে 
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফিকহ) অনুযায়ী, জারজ সন্তান বা অবৈধ সম্পর্ক থেকে জন্মগ্রহণকারী সন্তান তার পিতা বা পিতার আত্মীয়দের কাছ থেকে কোন উত্তরাধিকার পায় না। এর প্রধান কারণ হলো:
১. বংশধারা স্বীকৃতি: মুসলিম আইনে বংশধারা কেবল বৈধ বিবাহের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। জারজ সন্তানের সাথে তার জৈবিক পিতার কোনো আইনি পিতৃত্বের সম্পর্ক থাকে না।
২. হাদিসের নির্দেশনা: ইসলামি শরিয়তে জারজ সন্তানের উত্তরাধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।
৩. মাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার: তবে উল্লেখ্য, কিছু ফিকহি মতে জারজ সন্তান তার মাতা এবং মাতার আত্মীয়দের কাছ থেকে উত্তরাধিকার পেতে পারে, কারণ মাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় জন্মের মাধ্যমে। কিন্তু পৈতৃক দিক থেকে সে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
৪. শাস্তিমূলক দিক: এই বিধান অবৈধ যৌন সম্পর্ক নিরুৎসাহিত করার একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
- অতএব, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত"-ই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর।

২৯৪.
‘ইজমা’ শব্দের অর্থ কী?
  1. মতভেদ
  2. যুক্তি প্রদান
  3. চুক্তি ভঙ্গ
  4. ঐকমত্যে পৌঁছা
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি-
১. পবিত্র কোরআন;
২. হাদিস;
৩. ইজমা;
৪. কিয়াস।

⇒ অন্যান্য উৎসগুলো হলো-
ক. ইসতিহসান [Istihsan];
খ. ইসতিসলাহ [Istislah];
গ. ইসতিদলাল;
ঘ. ইজতিহাদ;
ঙ. তকলিদ।

ইজমা:
‘ইজমা’ আরবি শব্দ। এর অর্থ ঐকমত্যে পৌঁছা। কোরআন হাদিসের মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে নতুন কোনো বিষয়ের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছার নাম ইজমা। সুতরাং রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মুসলিম সমাজে শরিয়াহর কোনো বিধান সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মুজতাহিদদের মধ্যে সম্পাদিত সর্বসম্মত চুক্তির নাম ইজমা। উদাহরণস্বরূপ ‘নবী করিম (সা.) আমল অনুসরণে স্থিরীকৃত ইজমার ভিত্তিতে বাই আল-মুজাইয়াদাহ বৈধ বলে স্বীকৃত। বাই আল-মুজাইয়াদাহ হলো পণ্যের বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ, যা ক্রেতা প্রতিযোগিতামূলক সর্বোচ্চ মূল্যে ক্রয় করবে। যে ক্রেতা সর্বোচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হয়, বিক্রেতা তার কাছে পণ্য হস্তান্তরের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।’
২৯৫.
কোরানিক অংশীদার কত জন?
  1. ৭ জন
  2. ১০ জন
  3. ১৫ জন
  4. ১২ জন
ব্যাখ্যা
⇒ শরীয়া আইন অনুযায়ী মোট ১২ জন কোরানিক অংশীদার রয়েছে।
যথা- অংশীদার বলতে কোরানিক অংশীদারদেরকে বুঝানো হয়।
কোরানিক অংশীদার সর্বমোট ১২ জন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। যথা-
১. স্বামী (Husband)
২. স্ত্রী (Wife)
৩. বাবা (Father)
৪. মা (Mother)
৫. কন্যা (Daughter)
৬. পুত্রের কন্যা (Son's Daughter)
৭. দাদা (True Grandfather)
৮. দাদী (True Grandmother)
৯. আপন বোন (Full Sister)
১০. বৈমাত্রেয় বোন (Consanguine Sister)
১১. বৈপিত্রেয় বোন (Uterine Sister)
১২. বৈপিত্রেয় ভাই (Uterine Brother)
২৯৬.
স্বামী কত বছর যাবত কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-

⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;

⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;

⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;

⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
২৯৭.
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইন অনুযায়ী, স্বাভাবিক পুত্র জন্মালে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের কত ভাগ পায়?
  1. সমান অংশ
  2. অর্ধেক
  3. ১/৩ অংশ
  4. কিছু পাবে না
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে হিন্দু আইন অনুযায়ী, যদি দত্তকী পুত্রের দত্তক গ্রহণকারী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র তার দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পায়।

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দত্তকী পুত্র (Adopted Son) সাধারণত দত্তক গ্রহণকারী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতোই সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে এই অধিকারে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ও মতপার্থক্য রয়েছে:
১. স্বাভাবিক পুত্র থাকলে:
যদি দত্তক গ্রহণের পর দত্তকী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) উত্তরাধিকার সূত্রে পান।

২. স্বাভাবিক পুত্র না থাকলে:
যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার আর কোনো পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন।

৩. বর্ণভেদে সম্পত্তির অংশের ভিন্নতা:
শুদ্র শ্রেণির দত্তকী পুত্র:
দত্তকী পিতার সম্পত্তিতে সমান অংশ পাওয়ার অধিকারী হন।

অন্যান্য বর্ণভুক্ত দত্তকী পুত্র:
দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পান।
২৯৮.
মোহরানা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ কত বছর?
ব্যাখ্যা
- The Limitation Act, 1908 এর ১০৩ অনুচ্ছেদে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য (Promt/মু’অজ্জল) মোহরানা আদায়ের জন্য আর  ১০৪ অনুচ্ছেদে বিলম্বিত (Differed/মু’আজ্জল) মোহরানা আদায়ে জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার বিধান আছে। উভয়ক্ষেত্রে মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বছর।
মুয়াজ্জল মোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী দাবী করে ব্যার্থ হওয়ার ০৩ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

অর্থাৎ মুসলিম আইন অনুযায়ী মোহরানা আদায়ের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ ৩ বছর 
২৯৯.
Mutah under Mohammedan law means-
  1. a temporary marriage
  2. a permanent marriage
  3. a joint venture marriage
  4. an illegal marriage.
ব্যাখ্যা
- Mutah Marriage is a kind of marriage among the Muslims recognized only by Ithna Asharia Shias.
- Mutah in general sense can be defined as a temporary union of male and female for a specific time period after payment of certain consideration.
- The literal meaning of word ‘Mutah’ is ‘enjoyment’.
- Therefore, Mutah Marriage may also be regarded as marriage for the purpose of pleasure. In earlier days of Islam, when the Arabs had to live away from their homes for a considerably longer period of time either on account of wars or on trade-journeys, they used to satisfy their sexual desires through prostitutes.
- However, in order to avoid the growth of prostitution in society and to confer legitimacy upon children of such unions, temporary marriage was recognized and permitted by Prophet for some time.
৩০০.
নিম্নোক্তদের মধ্যে কে হিন্দু পিতার সম্পত্তিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবি করতে পারেন?
  1. বন্ধ্যা কন্যা
  2. বিধবা কন্যা
  3. অবিবাহিত কন্যা
  4. পুত্রবতী কন্যা
ব্যাখ্যা
সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার:
পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের একচ্ছত্র অধিকার নেই, জীবনস্বত্ব আছে। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন, এটাকে বলা হয় জীবনস্বত্ব। তবে এ সম্পত্তি তিনি কোনোভাবেই বিক্রি করতে পারেন না, অন্যের কাছে হস্তান্তরও করতে পারেন না। এমনকি নিজের সন্তানকেও দান করতে পারবেন না। তাঁর মৃত্যুর পর এটা বিধবা সম্পত্তি বা ‘উইডোজ এস্টেট’ হিসেবে মৃত স্বামীর পুরুষ উত্তরাধিকারের দখলে চলে যায়। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার হন জীবিত পুত্র বা পুত্রেরা। পুত্রের উপস্থিতিতে কন্যা সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ কন্যার অধিকার নির্ভর করবে পুত্র থাকা বা না থাকার ওপর।

১. কন্যা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও স্ত্রী থাকলে কন্যা তাঁর পিতার সম্পত্তি পান না। তাঁদের কেউ না থাকলে মৃত ব্যক্তির কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যা ও পরে পুত্রবতী কন্যা সম্পত্তি পাবেন। তবে বিধবা কন্যা, বন্ধ্যা কন্যা ও যে কন্যার পুত্রসন্তান নেই, শুধু কন্যাসন্তান আছে, তিনি কিছু পাবেন না।

২. স্ত্রী (বিধবা) হিসেবে: সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ পাস হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ জীবনস্বত্ব পান।

৩. মা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা জীবিত থাকলে মা কিছু পান না।

৪. বোন হিসেবে: কোনো অবস্থাতেই বোন তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তি পান না।