বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম

মোট প্রশ্ন৯০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কাজী নজরুল ইসলাম

PrepBank · পাতা / ১০ · ৭০১৮০০ / ৯০৮

৭০১.
কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথকে নিম্নের কোন রচনাটি উৎসর্গ করেছেন?
  1. সঞ্চয়িতা
  2. সঞ্চিতা
  3. ব্যাথার দান
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

‘বিদ্রোহী কবি’ কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। এ কারণে ইংরেজ সরকার তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ ও পত্রিকা নিষিদ্ধ করে এবং তাঁকে কারাদন্ডে দন্ডিত করে।
- নজরুলও আদালতে লিখিত রাজবন্দীর জবানবন্দী দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং এর সমর্থনে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে গ্রন্থ উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানান।
- ১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি। এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।

- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা সমূহ
- অগ্নিবীণা (১৯২২)
- সঞ্চিতা (১৯২৫)
- ফনীমনসা (১৯২৭)
- চক্রবাক (১৯২৯)
- সাতভাই চম্পা (১৯৩৩)
- নির্ঝর (১৯৩৯)
- নতুন চাঁদ (১৯৩৯)
- মরুভাস্কর (১৯৫১)
- সঞ্চয়ন (১৯৫৫)

- সঞ্চিতা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য-সংকলন।
- এই গ্রন্থে আটাত্তরটি কবিতা ও সতেরোটি গান আছে। এর মধ্যে - ‘বিদ্রোহী’, ‘সর্বহারা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘মানুষ’, ‘জীবন বন্দনা’, ‘খুকী ও কাঠবেড়ালী’, ‘চল্‌ চল্‌ চল্‌’ প্রভৃতি প্রধান।
- গ্রন্থটির উৎসর্গ পত্রে লেখা আছে: “বিশ্বকবিসম্রাট শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু”।
- উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সাহিত্য ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৭০২.
কোন কবিতাটি ‘অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়?
  1. ধূমকেতু
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. অবেলার ডাক 
  4. আগমণী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- অগ্নি-বীণা’ কাব্যটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের ১২টি কবিতা হলো:
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানি
- মোহররম

- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭০৩.
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশিত কবিতা কোনটি?
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. ধূমকেতু
  4. কামাল পাশা
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশিত কবিতা হচ্ছে প্রলয়োল্লাস। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০৪.
"আমার কাব্য, আমার গান, আমার জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে।" - কথাটি কে বলেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'যদি আর বাঁশি না বাজে' থেকে নেয়া হয়েছে।

আমার বেশ মনে পড়ছে একদিনের আমার জীবনের মহা অনুভূতির কথা- আমার ছেলে মারা গেছে, আমার মন যখন তীব্র পুত্রশোকে ভেঙ্গে পড়েছে ঠিক সেই দিনে সেই সময়ে আমার বাড়ীতে হাস্নাহেনা ফুটেছে। আমি প্রাণ ভরে সেই হাস্নাহেনার গন্ধ উপভোগ করেছিলাম। আমার কাব্য, আমার গান, আমার জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে। যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকীত্বের পরম শুন্য থেকে অসময়ে নামতে হয়, তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না আমি সেই নজরুল; সেই নজরুল অনেকদিন আগে মৃত্যুর খিড়কি দুয়ার দিয়ে পালিয়ে গেছে। মনে করবেন পূর্ণত্বের তৃষ্ঞা নিয়ে যে একটি অশান্ত তরুন এই ধরায় এসেছিল অপূর্ণতার বেদনায় তারই বিগত আত্না যেন স্বপ্নে আমাদের মাঝে কেঁদে গেল।

সূত্র: যদি আর বাঁশি না বাজে, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭০৫.
‘পুবের চাতক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দোলন-চাঁপা
  2. প্রলয় শিখা
  3. সাম্যবাদী
  4. সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- দোলন চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক,
- পূজারিণী,
- কবি-রানী,
- অবেলার ডাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৬.
'রণভেরী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. অগ্নিবীণা
  3. সঞ্চিতা
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• 'রণভেরী' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী, মহররম।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২. বাংলাপিডিয়া।
৭০৭.
‘আমার পথ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. প্রবন্ধ
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ,
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৭০৮.
"কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• "কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।"

- এই পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত। 
- 'নারী' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিদ্বারা নজরুল বুঝিয়েছেন-
ইতিহাস যেহেতু পুরুষের রচনা সেহেতু ইতিহাস রচনায় পুরুষ কার্পণ্য করেছে। নারীকে অবজ্ঞার চোখে দেখে তারা নিজেদের পাশে সমান মর্যাদায় নারীদের স্থান' দেয় নি। যুদ্ধে একজন পুরুষের আত্মত্যাগের পেছনে একজন নারীরও যে সহায়-সম্বল ও আশ্রয় হারার ব্যাপারটি জড়িত- পুরুষ ইতিহাসকারগণ সে কথা মনে রাখেন নি।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৯.
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম মহাযুদ্ধের সময় কত নং বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?
  1. ৪২
  2. ৪৫
  3. ৪৭
  4. ৪৯
ব্যাখ্যা
নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি ১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর ।
- এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।
- রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির নিকট তিনি ফারসি ভাষা শেখেন, সঙ্গীতানুরাগী সহসৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি  বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতচর্চা করেন এবং একই সঙ্গে সমভাবে গদ্যে-পদ্যে সাহিত্যচর্চা করেন।
- করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা,
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
⇒ গল্প → ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’;
⇒ কবিতা → ‘আশায়’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।
- উল্লেখযোগ্য যে, করাচি সেনানিবাসে থেকেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকা, যেমন:  প্রবাসী,  ভারতবর্ষ,  ভারতী,  মানসী, মর্ম্মবাণী,  সবুজপত্র, সওগাত ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। তাছাড়া তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, এমনকি ফারসি কবি হাফিজেরও কিছু গ্রন্থ ছিল।
- প্রকৃতপক্ষে নজরুলের আনুষ্ঠানিক সাহিত্যচর্চার শুরু করাচির সেনানিবাসে থাকাবস্থায়ই।
- প্রথম মহাযুদ্ধ শেষে ১৯২০ সালের মার্চ মাসে নজরুল দেশে ফিরে কলকাতায় সাহিত্যিক-সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭১০.
বাংলাদেশের রণসংগীতটি নজরুলের কোন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) প্রলোয়োল্লাস
  4. ঘ) সাত-ইল-আরব
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা। মূল কবিতার ২১ চরণ রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- 'নতুনের গান' শিরােনামে ঢাকার ‘শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় ‘চল্ চল্ চল্'। যা নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৭১১.
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর _______ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে -
শূ্ন্যস্থানে নিচের কোনটি হবে?
  1. প্রাণ
  2. চোখ
  3. মন
  4. হৃদ
ব্যাখ্যা
• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
-------------------------------- 
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক।
-------------------- 
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ -

"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন গ্রন্থটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. যুগবাণী
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. প্রলয় শিখা
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।

• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• যুগবাণী:
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।
- ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
- ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন ‘যুগবাণী’।

• ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হচ্ছে-
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭১৩.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রেম প্রধান কাব্যগ্রন্থ?
  1. প্রলয় শিখা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. দোলন-চাঁপা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৪.
কোন কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত নয়? 
  1. খেয়াপারের তরণী
  2. কামাল পাশা
  3. রণভেরী
  4. কুলি মজুর
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "কুলি মজুর" কবিতাটি  'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭১৫.
"হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছো মহান
তুমি মোরে দানিয়াছো খ্রিস্টের সম্মান"
- লাইন দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
- লাইনদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।

- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।


এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭১৬.
কোন কবিতা রচনা করার জন্য নজরুল কারারুদ্ধ হন?
  1. ক) বিদ্রোহী
  2. খ) প্রলয়োল্লাস
  3. গ) কান্ডারি হুশীয়ার
  4. ঘ) আনন্দময়ীর আগমন
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।
এই কবিতার প্রথম দুই লাইন -
'আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আনন্দময়ীর আগমনে - কাজী নজরুল ইসলাম৷

৭১৭.
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কোন গ্রন্থটি কাজী নজরুলকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) বসন্ত
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) চন্ডালিকা
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন তাসের দেশ নাটকটি, বসন্ত গীতিনাট্য কাজী নজরুল ইসলামকে, খেয়া কাব্যগ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুকে এবং পূরবী কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭১৮.
'জিনের বাদশা' - গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ব্যথার দান
  2. কুহেলিকা
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যাথার দান ,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭১৯.
"আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?"
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. কান্ডারী হুশিয়ার
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. সংকল্প
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

''আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?''
- আনন্দময়ীর আগমনে,
কাজী নজরুল ইসলাম

উল্লেখ্য, 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ২৩ নভেম্বর, ১৯২২ গ্রেফতার হন এবং প্রায় ১ বছর কারাভোগ করেন।

তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - অগ্নিবীণা।

উৎস: বাংলা কবিতা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২০.
"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু কোন কবির কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কাজেম আল কোরায়শী
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু — কাজী নজরুল ইসলামের — খেয়া পারের তরণী- কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারি-গান –লা-শরিক আল্লাহ!

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
--------------
• খেয়া পারের তরণী:
- এটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; খেয়া পারের তরণী- কবিতা।

৭২১.
"এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

''সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
নরক কুন্ড বলিয়া তোমা’ করে নারী হেয় জ্ঞান?

তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।''

- নারী (সাম্যবাদী)
- কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলালের কাব্যগুলো হলো :
- অগ্নি-বীণা
- বিষের বাঁশী
- সাম্যবাদী
- চক্রবাক
- সিন্ধু-হিন্দোল
- ভাঙার গান
- প্রলয় শিখা
- চিত্তনামা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা কবিতা।

৭২২.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দ্দিনের এই দুর্গ শিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন!
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালো হোক না লেখা,
জাগিয়ে দে রে চমক মেরে
আছে যারা অর্দ্ধ চেতন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৭২৩.
মরুভাস্কর লিখেছেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) আতা খাঁ
  4. ঘ) ইব্রাহীম পাশা
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বাংলা সাহিত্যে “দুঃখবাদী কবি” হিসেবে পরিচিত। তার কাব্যঃ মরীচিকা, মরুমায়া, মরুশিখা, সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল লিখেছিলেন - মরুভাস্কর কাব্য, যা মুহম্মদ (স.) এর জীবনী নিয়ে লেখা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৭২৪.
‘আয় চলে আয় রে ধূমকেতু, আঁধারে বাধ অগ্নিসেতু’ কার উক্তি?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭২৫.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন পত্রিকাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনন্দন বাণী ছাপানো হতো?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক?
  1. বিষের বাঁশী
  2. অগ্নি-বীণা
  3. সিন্ধু-হিন্দোল
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনা সম্পর্কিত আলোচনা:
-  উদারতাবাদের ইংরেজি Liberalism উদ্ভব হয়েছে লাতিন শব্দ liberalis থেকে। 
- উদারনীতিবাদের সাধারণ অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় কতৃত্ববাদ এর বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাধীনতা নীতি প্রতিষ্ঠা করা।

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বিশেষভাবে দেখা যায় 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে। 
- 'অগ্নিবীণা' তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্রোহ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিক সাম্য ও উদারনৈতিক মানবতাবোধের স্বর তুলে ধরে। 
- এই কাব্যগ্রন্থে তার বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ও 'আগমনী' সহ বিভিন্ন কবিতা রয়েছে যেগুলি মানবতাবাদী ও উদারনৈতিক চেতনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- এ কাব্যের ১২টি কবিতার মধ্যে সাতটি ইসলামী ঐতিহ্য, তিনটি বিশুদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য এবং দুটি কবিতা হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে রচিত। 
- কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য ও জীবনবােধের প্রসঙ্গে খোদার আসন, আরশ ছেদিয়া, বোররাক, জিব্রাইল, হাবিয়া-দোযখ, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 
- অন্যদিকে, এই কাব্যের কবিতায় নটরাজ ধূর্জটি, হােমশিখা, জমদগ্নি, ইন্দ্রানী, কৃষ্ণ-কন্ঠ, ব্যোমকেশ, ইশান, শ্যাম, বিষ্ণু, পরশুরাম, বলরাম, ভৃগু প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী নজরুলের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়।  

• অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী। 
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

----------------------- 
• বিষের বাঁশী:
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- মুক্ত-পিঞ্জর,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।
-----------------------

পরিশেষে বলা যায়, 
• 'বিষের বাঁশী' কাব্যগ্রন্থও উদার নৈতিক ঐতিহ্য ও মানবতাবাদের চিন্তাধারা বহন করে, তবে এটি বেশি প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক দ্রোহ ও বিপ্লবী চেতনার মাধ্যমে।
• অন্যদিকে, 'অগ্নিবীণা' তাঁর উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী ভাবনার আরও গভীর ও ব্যাপক প্রকাশ ঘটায়।
তাই, কাজী নজরুল ইসলামের উদার নৈতিক ঐতিহ্য ভাবনার ধারক হিসেবে 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থকে অধিক উল্লেখযোগ্য বলা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
৭২৭.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. ব্যাথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী:
- 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
- ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’। এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৮.
"নিঃশেষে নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাশে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" -কবিতাংশটি কোন কবির লেখা?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

"যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।"

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

৭২৯.
'কামাল পাশা' কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশী
  3. অগ্নিবীণা
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তর।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয় ।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী শেষ কবিতা মোহররম।
- রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
৭৩০.
'ভাঙার গান' কবিতাটি কার রচনা?
  1. ক) মোহিত লাল মজুমদার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৭৩১.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৭৩২.
'নবীন মাধব' চরিত্রটি কোন নাটকের?
  1. ক) পদ্মাপার
  2. খ) সিরাজদ্দৌলা
  3. গ) প্রফুল্ল
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
• গোলক বসু,
• নবীন মাধব,
• রাইচরণ,
• তোরপ,
• সাবিত্রী,
• সরলতা,
• ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৩৩.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলনচাঁপা
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'সঞ্চিতা' কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলেন।

'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।

​উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'বসন্ত' নাটকটি কাজী নজরুল ইসলাম কে উৎসর্গ করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৩৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩৫.
"ইহারা মায়াবিনীর জাত।" - এই উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধনহারা
  3. চিত্তনামা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর ‘সত্যেন-প্রয়াণ’ কবিতাটি লিখেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতাটি লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।  
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩৭.
'মোর প্রিয়া হবে এসো রানী' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী,
দেব খোঁপায় তারার ফুল ।
কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির,
চৈতী চাঁদের দুল ।

কন্ঠে তোমার পরাবো বালিকা,
হংস-সারির দুলানো মালিকা ।
বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব,
মেঘ রং এলো চুল।

- কাজী নজরুল ইসলাম

৭৩৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতায় উল্লেখকৃত 'শাক্যমুনি' কে?
  1. চৈতন্য
  2. যিশু খ্রিষ্ট
  3. অতীশ দীপঙ্কর
  4. গৌতম বুদ্ধ
ব্যাখ্যা
•  কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতায় উল্লেখকৃত “শাক্যমুনি হলো- গৌতম বুদ্ধ।
এখানে শাক্যমুনি ছিলেন- শাকবংশে জন্মগ্রহণকারী গৌতমবুদ্ধ। 

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ: 
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা। 
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৭৩৯.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত' বিখ্যাত উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে? 
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. ঝিলিমিলি
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস: 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১ সালে)। 
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। 
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত"। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''
- ঝিলিমিলি কাজী নজরুল ইসলামের নাট্যগ্রন্থ। 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত তাঁর অন্য দুইটি উপন্যাস হচ্ছে- 
• বাঁধন-হারা এবং 
• মৃত্যুক্ষুধা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৪০.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশক সংস্থা কোনটি?
  1. আর্য পাবলিশি হাউস
  2. ভারতীয় বিদ্যাপ্রকাশ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. কল্লোল প্রকাশনী
ব্যাখ্যা

'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'দোলনচাঁপা' বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন, ১৩৩০ বঙ্গাব্দ) আর্য পাবলিশি হাউস থেকে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের দুর্গাপূজোর আগে ধুমকেতু পত্রিকায় নজরুলের 'আনন্দময়ীর আগমনে' নামে বিদ্রোহাত্মক কবিতাটি প্রকাশের জন্য তাকে রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত কবিকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়। এই সময় দোলনচাঁপা কাব্যের কবিতাগুলি রচিত হয়।
- জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ওয়ার্ডারদের সাহায্যে তার সব কবিতাই বাইরে নিয়ে আসেন। কবির নির্দেশমত আর্য পাবলিশি হাউস এ কবিতাগুলো দিয়ে দোলনচাঁপা প্রকাশ করে। প্রথম সংস্করণ এই কাব্যগ্রন্থে ২১টি কবিতা ছিল।
- সূচিপত্রের আগে মুখবন্ধরূপে সংযোজিত প্রথম কবিতা "আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে" ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) জ্যৈষ্ঠ মাসের কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের পরবর্তী সংস্করণে ৫০টি কবিতা সংকলিত হয়।

এগুলো হলো:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পুবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪১.
নিচের কবিতাগুলোর মধ্যে কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নয়?
  1. মানুষ
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. আসমানী
  4. কুলি - মজুম
ব্যাখ্যা
• 'আসমানী' কবিতাটি পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন এর কবিতা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ ৩টি। যথা:
- ব্যাথার দান, 
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন। 

কাজী নজরুল ইসলাম এর কয়েকটি কবিতা: 
- মানুষ,
- খেয়াপারের তরণী,
- কুলি - মজুম, 
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস নয়?
  1. ক) বাঁধনহারা
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) মৃত্যুক্ষুধা
  4. ঘ) নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা 
- কুহেলিকা
- অপরদিকে 'নদীবক্ষে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস। 

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৩.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. সবুজপত্র 
  3. ধূমকেতু 
  4. তত্ত্ববোধিনী 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- 'বিদ্রোহী' কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
এর মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

---------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'। কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত। 
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৪.
'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  2. খ) কালিদাস রায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - কাজী নজরুল ইসলাম। 
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে(অক্টোবর ১৯২৩) এটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৫.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু 
  2. বিজলী
  3. বিচিত্রা 
  4. লাঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- 'বিদ্রোহী' কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

------------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নিবীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আ।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

উৎস: 'বিদ্রোহী কবিতা' কাজী নজরুল ইসলাম এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

৭৪৬.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ফণিমনসা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মানুষ' কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

মানুষ- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সবে কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি
(সংক্ষিপ্ত)

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলিমজুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

৭৪৭.
'সর্বহারা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
⇒ সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।
=============== 

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭৪৮.
‘জাহাঙ্গীর’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
কাজী নজরুলের 'বিষের বাঁশি' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নি - বীণা (প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- বিষের বাঁশি (প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ)
- ভাঙার গান
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি - মনসা
- প্রলয় শিখা
- সন্ধ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৫০.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন সাহিত্যকর্মটি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত?
  1. রমজানের ঐ রোজার শেষে (গান)
  2. বিদ্রোহী (কবিতা)
  3. চল্‌ চল্‌ চল্‌ (কবিতা/গান)
  4. কারার ঐ লৌহ-কপাট (গান)
ব্যাখ্যা

• জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। 

 - দাদরা তালের এই সংগীতটি ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের রণ-সংগীত হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

-------------------
• রণসঙ্গীত:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত হয়েছে।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ-
'চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭৫১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. পদ্মগোখরা
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।

• গল্পগ্রন্থ 'শিউলিমালা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ - শিউলিমালা।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা, 
- রিক্তের বেদন।

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
• ‘পদ্মাবতী' নাটকের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• 'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত একটি উপন্যাস।
• 'পদ্মাপুরাণ' মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল বার্তা কী?
  1. জাতীয়তাবাদ
  2. শ্রমিক শ্রেণির জয়গান
  3. বৈষম্যহীন মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান
  4. মুসলিম জাগরণ 
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কবিতার মূলভাব:
এই কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কবির বিশ্বাস মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা সবচেয়ে সম্মানের। নজরুলের এ আদর্শ আজও প্রতিটি মানুষের জীবনপথের প্রেরণা। কিন্তু মানুষ সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজনীতি করে, দুর্বলকে শোষণ করে, এখনও একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দেয়। এক জনের প্রতি অন্য জনকে বিমুখ করার ষড়যন্ত্র করে। নজরুল এ কবিতায় বলেছেন- "মানুষেরই মাঝে স্বর্গনরক মানুষেতে সুরাসুর।" নজরুল জোর দেন অন্তর ধর্মের ওপর। ধর্মগ্রন্থ পড়ে অর্জিত জ্ঞান যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন মানবিকতাবোধ। কবি বলেছেন মানুষের হৃদয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন মন্দির কাবা নেই। কবি সকল মত, সকল পথের উপরে স্থান দিয়েছেন মানবিকতা। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম সকলকে একই মায়ের সন্তানের মতো ভেবেছেন। নজরুল মানবিক মেলবন্ধনের জন্য সংগীত রচনা করেছেন। বাণী ও সুরের মাধ্যমে মানবতার সুবাস ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। নজরুল 'সাম্যবাদী' কবিতায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রের মতো পবিত্র মনে করেছেন মানুষের হৃদয়কে। এ হৃদয় যদি পবিত্র থাকে, হৃদয়ে যদি কারো প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ না থাকে, সকলের প্রতি সমদর্শিতা থাকে তাহলে পৃথিবী হবে সুখের আবাসস্থল। সাম্যবাদ মানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকা উচিত এ মতবাদ। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সাম্যবাদী' কবিতায় সব ধরনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাম্যবাদের বাণী প্রচার করেছেন।

উৎস: 'সাম্যবাদী' কবিতা; মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৩.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. ভাঙার গান
  2. ঝিঙে ফুল
  3. ফণি-মনসা
  4. চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৪.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে কিসের নটরাজ বলেছেন?
  1. বিদ্রোহের
  2. নাট্যকারের
  3. মহা-প্রলয়ের
  4. গায়কের
ব্যাখ্যা
•  'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলেছেন।

তিনি লিখেছেন- 

বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৭৫৫.
বাংলাদেশের কোন স্থানটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সাথে জড়িত?
  1. ক) চুরুলিয়া
  2. খ) দরিরামপুর
  3. গ) শান্তিডাঙ্গা
  4. ঘ) কালীগঞ্জ
ব্যাখ্যা
'দরিরামপুর'- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির সাথে জড়িত। 


- আসানসোল রুটির দোকানে কাজ করা অবস্থায় আসানসোল থানার দারোগা
কাজী রফিজউদ্দিন তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে নিজের বাড়ি ময়মনসিংহের
কাজি সিমলা গ্রামে নিয়ে যান এবং দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন ।

- ১৯১৪'র ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে কাজি সিমলা ত্যাগ করেন।
- পরে নিজের ইচ্ছায় শিয়ারশোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং
এখান থেকেই প্রি- টেস্ট পরীক্ষার সময় ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন (১৯১৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭৫৬.
‘বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই--
  1. কবি
  2. নবী
  3. রবি
  4. ছবি
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ। 
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ৎ
-কাজী নজরুল ইসলাম
বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতা।


৭৫৭.
‘বাঁধন হারা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক মোহাম্মদী
  2. ভারতবর্ষ
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 
 
• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটি প্রথম কী নামে  প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. চল্ চল্‌ চল্‌
  2. জাগরণের গান
  3. নতুনের গান
  4. বিদ্রোহের গান
ব্যাখ্যা

রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

৭৫৯.
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নজরুল ইসলাম
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। ''চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে, যারা জীবনের পসরা বহিয়া মৃত্যুর দ্বারে দ্বারে।''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬০.
বিবিসির বাংলা বিভাগ কতৃক জরিপকৃত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের স্থান কত?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
ব্যাখ্যা

বিবিসির বাংলা বিভাগ কতৃক জরিপকৃত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর তালিকায় কাজী নজরুলের স্থান - ৩য়। 
তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম হলোঃ
১ম - শেখ মুজিবুর রহমান
২য় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৪র্থ - এ কে ফজলুল হক

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বিবিসি নিউজ বাংলা আর্কাইভ।

৭৬১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1.  যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশী
  3. ভাঙার গান
  4. চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬২.
'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
নতুন চাঁদ (১৯৩৯) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- অগ্নি-বীণা, সঞ্চিতা, চিত্তনামা, মরুভাস্কর, সর্বহারা, ফণি-মনসা, চক্রবাক, সাম্যবাদী, ছায়ানট, পুবের হাওয়া, জিঞ্জির, বিষের বাঁশি, দোলনচাঁপা, চন্দ্রবিন্দু, সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৬৩.
'কুহেলিকা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ফিরোজা বেগম
  2. জাহাঙ্গীর
  3. রহমান
  4. আলেয়া বানু
ব্যাখ্যা

 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬৪.
‘হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান কণ্টক মুকুট শোভা’।- কবিতাংশটুকু কোন্ কবির কবিতার অংশ?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
- লাইনদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

উৎস:
১) 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝিলিমিলি 
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মধুমালা 
ব্যাখ্যা
• ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য নাটক:
- আলেয়া
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক)
- মধুমালা (গীতিনাট্য)
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৬.
”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ -পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
-----------------------------------
নারী
    —কাজী নজরুল ইসলাম

"সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা' করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে - শয়তান যে নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছে, দেখিয়াছ তার প্রাণ?
অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।
---------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
'নারী' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 

”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। 
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি 
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ 

- কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতা সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অংশ।
- কবিতাটিতে মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষের সমান অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- কবি সমতার বাণী প্রচার করেছেন, দেখিয়েছেন যে মহান সৃষ্টি, কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষ দু’পক্ষেরই সমঅংশী অবদান রয়েছে।
- একইভাবে, পৃথিবীর পাপ, বেদনা ও দুর্দশার দায়ভারও সমানভাবে তাদের ওপর বর্তায়।
- নজরুল নারীদের অবহেলা না করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- সমগ্র কবিতাটি নারী-পুরুষ সমমর্যাদা এবং নারীর স্বাধীনতার শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

উৎস:
'নারী' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৭৬৭.
'পূজারিণী' কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) কবি শামসুর রাহমান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'পূজারিণী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। দোলন-চাঁপা কবির প্রেম-প্রধান কবিতার বই। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১৩০৭ বঙ্গাব্দ
  3. ১৩০৮ বঙ্গাব্দ
  4. ১৩০৯ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬৯.
একই সনে জন্মগ্রহণ করেছেন যে দুই কবি-
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৭০.
নিচের কোনটি নজরুলের রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. রিক্তের বেদন
  2. কুহেলিকা
  3. শিউলীমালা
  4. মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায়  উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। 
- কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ- 
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
• রিক্তের বেদন ও শিউলীমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৭৭১.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে কাজী নজরুল ইসলাম কী নামে খ্যাত? 
  1. কোকিল
  2. সুরের রাজা
  3. বুলবুল
  4. গানের পাখি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসে ‘নুরুল হুদা’ চরিত্রটি বিদ্যমান?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. বাঁধন-হারা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা

 বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭৩.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. ধূমকেতু
  2. মোসলেম ভারত
  3. বিজলী
  4. দৈনিক নবযুগ
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) — সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতার মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'। এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

---------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।

৭৭৪.
নিম্নের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) শিউলিমালা
  3. গ) ব্যাথার দান
  4. ঘ) রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ- 
- ব্যাথার দান 
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে- মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী।
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৫.
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) চক্রবাক
  2. খ) মৃত্যুক্ষুধা
  3. গ) বাধনহারা
  4. ঘ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুক্ষুধা, বাধনহারা ও কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭৭৬.
'যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান'- চরণটি কোন কবিতার?
  1. বিদ্রোহী
  2. কুলিমুজুর 
  3. সাম্যবাদী
  4. প্রলয়-শিখা
ব্যাখ্যা

• 'যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান'- চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার অন্তর্গত।
-----------------
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ ও 'সাম্যবাদী' কবিতা পরিচিত:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- নজরুলের সাম্যবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে- সাম্যবাদী, ভাঙার গান, সর্বহারা গ্রন্থগুলোেতে।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

সাম্যবাদী- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রীশ্চান।

গাহি সাম্যের গান।
কে তুমি?- পার্সি? জৈন? ইহুদি? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কনফুসিয়াস্? চার্বাক-চেলা? বলে যাও, বল আরও! (সংক্ষেপিত)

উল্লেখ্য,
- বিদ্রোহী, প্রলয়-শিখা, ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
• কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতাটি- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।

৭৭৭.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৭৭৮.
কাজী নজরুল ইসলামকে “বিদ্রোহী কবি” উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিহারিলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা ও 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা:
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন। কাজী নজরুল ইসলামকে “বিদ্রোহী কবি” উপাধি দেন প্রমথ চৌধুরী।

- ১৯২২ সালের ২২ অক্টোবর, ধূমকেতু পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় “বিদ্রোহী” কবিতাটি প্রকাশের পর প্রমথ চৌধুরী এই উপাধি দেন।

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: 'বিদ্রোহী' কবিতা ও 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী গ্রন্থ। 
৭৭৯.
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ _______ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।- পঙক্তির শূন্যস্থানে কোনটি বসবে?
  1. পূণ্য
  2. সৃষ্টি
  3. তাপ
  4. ধ্বংস
ব্যাখ্যা

নারী
- কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

• সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’। কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নারী’ কবিতা।

৭৮০.
কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও 'মরু ভাস্কর' নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী মোতাহের হোসেন
  3. গ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা
হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ 'মরু ভাস্কর'। 

সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৬-১৯৫৪), ১৩০৩ বঙ্গাব্দের (১৮৯৬) ২৮ ভাদ্র সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ- 
- মহামানুষ মুহসীন (১৯৪০) 
- হযরত মোহাম্মদ ( ১৯৪৮) 
- কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (১৯৪৯)
- মণিচয়নিকা (১৯৫১) 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮১.
"পূজারিণী" কোন কাব্যের অন্তর্গত কবিতা?
  1. সর্বহারা
  2. সাম্যবাদী
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলনচাঁপা' প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি হিসেবে জেলে।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'। কাব্যে এই ২১টি কবিতার সংকলন।
- এছাড়া বেলাশেষে, পুবের চাতক, অবেলার ডাক, পূজারিণী, কবি-রানী ইত্যাদি কবিতা রয়েছে। মূলত প্রেম-প্রধান কবিতার বই। নজরুল কুমিল্লা গিয়ে ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে ছিলেন। এ সময় ইন্দ্রকুমারের ভ্রাতুষ্পুত্রী আশালতার সঙ্গে তাঁর প্রণয় জন্মে। আশালতার ডাকনাম ছিল দুলি। দুলিকে আদর করে দোলন ও দুলু বলে ডাকা হতো (দ্রষ্টব্য: মুজফ্ফর আহমদের স্মৃতিকথা)। দোলন বা আশালতার নামেই 'দোলন-চাঁপা' গ্রন্থের নামকরণ।

যেমন:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে,
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮২.
‘আয়না’ গ্রন্থের মুখবন্ধ লেখেন কে?
  1. ক) কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আবুল মনসুর আহমদ রচিত বিখ্যাত রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্য ‘আয়না’ গ্রন্থের মুখবন্ধ বা ভূমিকা লেখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
এই গল্পে ময়মনসিংহের ত্রিশাল অঞ্চলের কাঠমোল্লাদের ভন্ডামি ও ধর্মীয় গোড়ামিকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন গল্পাবয়বে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৮৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস-
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বাঁধন-হারা
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৭৮৪.
‘সালাম অস্তরবি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

‘সালাম অস্তরবি’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন কাজী নজরুল ইসলাম, যা তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত হয়ে লিখেছিলেন।

- এটি রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রয়াণের (১৯৪১) পরপরই "মোহাম্মদী" পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং এর পাশাপাশি তিনি "রবিহারা" নামে আরেকটি কবিতা এবং "ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে" গানটি রচনা করেন।

- ‘রবিহারা’ কবিতাটি নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন রেকর্ডে। ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন। 

কবিতাটির অংশবিশেষ-

সালাম অস্তরবি
- কাজী নজরুল ইসলাম
কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী
 মহাকবি রবি অস্ত গিয়াছে! বীণা, বেণুকা ও বাণী
নীরব হইল। ধুলির ধরণী জানিনা সে কত দিন
রস- যমুনার পরশ পাবেনা। প্রকৃতি বাণীহীন
মৌন বিষাদে কাঁদিবে ভুবনে ভবনে ও বনে একা;
রেখায় রেখায় রুপ দিবে আর কাহার ছন্দ লেখা?
অপ্রাকৃত মদনে মাধবী চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়া
রূপায়িত রসায়িত করিবে কে লেখনী, তুলিকা নিয়া?

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'সালাম অস্তরবি' কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৭৮৫.
'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) বিজলী
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। 
- তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য।
- যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। 
- নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৬.
'তাহমিনা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭৮৭.
'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. মানুষ
  2. দারিদ্র্য
  3. জীবন-বন্দনা
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
ব্যাখ্যা
• 'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
--- কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সর্বহারা, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭৮৮.
বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের -
  1. প্রথম কবিতা
  2. দ্বিতীয় কবিতা
  3. তৃতীয় কবিতা
  4. সর্বশেষ কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৭৮৯.
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০
  2. ১২
  3. ১৪
  4. ১৬
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নিবীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব : প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ : কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আ।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য : মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য : রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৪।

৭৯০.
কাজী নজরুল ইসলাম 'মানুষ' কবিতায় কোন তিন ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম স্মরণ করেছেন?
  1. আকবর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব
  2. গজনি মামুদ, চেঙ্গিস, কালাপাহাড়
  3. নেপোলিয়ন, সিকান্দার, চেঙ্গিস
  4. তৈমুর লং, বাবর, হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম — 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।
- এখানে কবি কালা পাহাড়কে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা,
– কাজী নজরুল ইসলাম।

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

--------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ‘মানুষ’ কবিতা।

৭৯১.
​'কুহেলিকা' উপন্যাসটি কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ধর্মীয় উপন্যাস
  2. প্রেমমূলক
  3. রাজনৈতিক
  4. বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলন-চাঁপা 
  3. বিষের বাঁশী 
  4. সাম্যবাদী 
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ গ্রন্থটি নজরুল তার বিপ্লবী বন্ধু বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।
-------------------------------------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

৭৯৩.
আনসার কোন গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ব্যথার দান
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. জিনের বাদশা
  4. বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে।
- অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে।
- মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।

৭৯৪.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. চিত্তনামা
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. পুবের হাওয়া
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ( ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭৯৫.
বাংলাদেশের রণসংগীত নেওয়া হয়েছে কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• চল্ চল্ চল্:
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

চল্ চল্ চল্
- কাজী নজরুল ইসলাম

চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।
৭৯৬.
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু/ এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! - ধূমকেতু কবিতায় এই লাইনটি কতবার এসেছে?
  1. ৩ বার
  2. ৫ বার
  3. ৪ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! - ধূমকেতু কবিতায় উদ্ধৃত লাইনটি ৪ বার উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ‘ধূমকেতু’ কবিতা:
‘ধূমকেতু’ নজরুলের আরেকটি বিখ্যাত কবিতা। এ কবিতায় নজরুলের ‘কবিসত্তার স্বরূপ প্রতিবিম্বিত’। ‘রাজনৈতিক চেতনার একটি বিশেষ উত্তেজনাময় অধ্যায়ে ‘ধূমকেতু’ কবিতাটির জন্ম।
- নজরুলের ‘ধূমকেতু’র সূচনা হয় ১৯২২ সালে।
- ‘ধুমকেতু’ অগ্নিবীনা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

⇒ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা।
• এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
• এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

ধূমকেতু কবিতার কিছু পঙক্তি হলো:

 ধূমকেতু
- কাজী নজরুল ইসলাম

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব
হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার-
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ, আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ! (সংক্ষিপ্ত)

উৎস:  ধূমকেতু কবিতা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; কালের কণ্ঠ রিপোর্ট।

৭৯৭.
কোন কবিতা প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন?
  1. ক) আনন্দময়ীর আগমনে
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) আগমনী
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ২৩ নভেম্বর, ১৯২২ গ্রেফতার হন।
এই কবিতার প্রথম দুই লাইন -
'আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল'৷
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং আনন্দময়ীর আগমনে - কাজী নজরুল ইসলাম৷

৭৯৮.
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সেলিনা হোসেন
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধ:
- শীর্ষক প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলি (জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড) থেকে সংকলন করা হয়েছে। - অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে লেখা প্রবন্ধটি সম্পাদনা করে পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী নামক প্রবন্ধ-গ্রন্থের একটি রচনা।

কাহিনি সংক্ষেপ:
আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোটো-বড়ো, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা আবশ্যক। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান জাতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে প্রতিটি দেশের মনীষীগণ আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁদের নির্দেশিত পথে যদি আমরা পরিভ্রমণ করতে পারি তবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। প্রবন্ধটিতে জাতি, ধর্ম, সমাজভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। এ প্রবন্ধ শ্রেণি, ধর্ম, জাতি ও সমাজভেদমুক্ত বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯৯.
‘দুরন্ত পথিক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘দুরন্ত পথিক’ রিক্তের বেদন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

---------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা

• ‘রিক্তের বেদন’ গল্পগ্রন্থ:
• ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

• এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- সালেক,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০০.
'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ চরণগুলো 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আগমণী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. মুক্তি
  4. জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা
• 'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ চরণগুলোর 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশবিশেষ।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি ,
- ভাঙার গান ,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সন্ধ্যা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা ,
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবন-বন্দনা- কবিতা,
............... কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
-----------
-------------
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জীবন-বন্দনা- কবিতা।