বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

মোট প্রশ্ন৪৯৮এই পাতা৯৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি

PrepBank · পাতা / · ৪০১৪৯৪ / ৪৯৮

৪০১.
বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের উপভাষা কোনটি?
  1. ক) পূর্বি
  2. খ) রাঢ়ি
  3. গ) বাঙ্গালি
  4. ঘ) কামরূপি
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বোঝা যায়।
- এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায় ৷
যেমন- নোয়াখালীর ভাষা, চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
• বাঙ্গালি→ বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল।
• পূর্বি→ বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল।
• বরেন্দ্র→ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল। 
কামরূপি→ বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল। 
• রাঢ়ি→ পশ্চিমবঙ্গ। 
• ঝাড়খণ্ডি→ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম। 
৪০২.
সাধুরীতির ক্ষেত্রে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
  2. অব্যয়ের তদ্ভব রূপ ব্যবহৃত হয়।
  3. নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযােগী নয়।
  4. সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
ব্যাখ্যা
• সাধুরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সাধুরীতি ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
২. সাধুরীতি তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
৩. সাধুরীতিতে ক্রিয়ার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়িতেছি, লিখিতেছি ইত্যাদি।
৪. সাধুরীতিতে সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাহারা, উহারা ইত্যাদি।
৫. সাধুরীতিতে অব্যয়ের তৎসম রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : তথাপি, যদ্যপি ইত্যাদি।
৬. এই রীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার বেশি। যেমন : রসনেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি।
৭. সাধুরীতি নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযােগী নয়।

• চলতিরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. চলতিরীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে না।
২. চলতিরীতিতে ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়ছি, লিখছি ইত্যাদি।
৩. চলতিরীতিতে সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওরা, তারা ইত্যাদি।
৪. চলতিরীতিতে অব্যয়ের তদ্ভব রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তবু, যদিও ইত্যাদি।
৫. চলতিরীতি পরিবর্তনশীল।
৬. চলতিরীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
৭. চলতিরীতি বক্তৃতা, নাটক ও সংলাপের উপযােগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
  2. পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়
  3. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  4. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষারীতি - সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪০৪.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. একটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ- দুইটি।
যথা - 
ক. লৈখিক ও
খ. মৌখিক রূপ।

---------------------
• কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।
৪০৫.
কোনটি চলিত অব্যয়পদের উদাহরণ?
  1. প্রায়ই
  2. নতুবা
  3. প্রায়শ
  4. যদ্যপি
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অদ্য - আজ,
→ অদ্যাপি - আজও,
→ কদাচ - কখনো,
→ তথাপি - তবুও,
→ নচেৎ - নইলে,
→ নতুবা - নইলে,
প্রায়শ - প্রায়ই,
→ যদ্যপি - যদিও।

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- পৃথিবীর সব উন্নত ভাষার মতো বাংলা ভাষারও একাধিক আলাদা রূপ আছে: একটি বলার ভাষা বা মৌখিক রূপ, অপরটি লেখার ভাষা বা লৈখিক রূপ।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার দুটো রীতি রয়েছে, যথা: আঞ্চলিক রীতি ও প্রমিত রীতি।
- অপর দিকে লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে, যেমন: চলিত রীতি ও সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪০৬.
চলিত রীতিতে অনুসর্গ শ্রেণির শব্দ কেমন হয়?
  1. দীর্ঘ
  2. অতিদীর্ঘ
  3. অপরিবর্তিত
  4. হ্রস্ব
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতি বা প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে।

- প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়। বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় 'প্রমিত রীতি'। এটি 'মান রীতি নামেও পরিচিত।

- বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪০৭.
"তাঁহারা আটটার পূর্বেই ডাক বাংলায় উপস্থিত হইলেন।" - বাক্যটিতে 'সাধু রীতি'র শব্দ কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• "তাঁহারা আটটার পূর্বেই ডাক বাংলায় উপস্থিত হইলেন।" - বাক্যটিতে 'সাধু রীতি'র শব্দ — ৩টি।

উক্ত বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে সাধু রীতির শব্দগুলো হলো:
১. তাঁহারা, 
২. পূর্বেই, 
৩. হইলেন।

অতএব, সাধু রীতির শব্দ সংখ্যা হলো — ৩টি।

উল্লেখ্য,
• সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।

• চলিত ভাষায় ক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৮.
পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পোর্তগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড)। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৪০৯.
ভাষার সংবিধান কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. বর্ণমালা
  3. ব্যাকরণ
  4. ভাষা রীতি
ব্যাখ্যা
• সংজ্ঞা:
যে শাস্ত্রে কোনো ভাষার বিভিন্ন উপাদানের প্রকৃতি ও স্বরূপের বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় এবং বিভিন্ন ( উপাদানের সম্পর্ক নির্ণয় ও প্রয়োগবিধি বিশদভাবে আলোচিত হয়, তাকে ব্যাকরণ বলে।

• ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজনীয়তা:
ব্যাকরণ পাঠ করে ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠন প্রকৃতি ও সেসবের সুষ্ঠু ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং লেখায় ও কথায় ভাষা প্রয়োগের সময় শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ধারণ সহজ হয়।

• বাংলা ব্যাকরণ:
যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার বিভিন্ন উপাদানের গঠনপ্রকৃতি ও স্বরূপ বিশ্লেষিত হয় এবং এদের সম্পর্ক ও সুষ্ঠু প্রয়োগবিধি আলোচিত হয়, তাই বাংলা ব্যাকরণ।

• সুতরাং,
ব্যাকরণের সংজ্ঞা অনুসারে বলা যায়- ব্যাকরণ হচ্ছে ভাষার — সংবিধান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১০.
বাংলাদেশের 'পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চলের' আঞ্চলিক কথ্য রীতি/ উপভাষার নাম কী?
  1. বাঙ্গালি
  2. রাঢ়ি
  3. ঝাড়খণ্ডি
  4. পূর্বি
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়।
- এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল)।
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)।
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল)।
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)।
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪১১.
লােকজ শব্দ “দইয়াল’-এ প্রমিত রূপ হলাে-
  1. ক) দেওয়াল
  2. খ) দয়াল
  3. গ) দোয়েল
  4. ঘ) দইওয়ালা
ব্যাখ্যা

দোয়েল, দয়েল, দহিয়াল : সুমধুর গায়ক পাখিবিশেষ; বাংলাদেশের জাতীয় পাখি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) দধিরাল>(পাখিটির দুই পাশে দধির মতো সাদা দাগ থাকার জন্য এমন নাম) (আঞ্চলিক) দইয়াল}

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৪১২.
সাধু ভাষারীতির পদবিন্যাস কেমন?
  1. স্বাধীন
  2. এলোমেলো
  3. সুনির্দিষ্ট
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪১৩.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. শুষ্ক
  2. সহিত
  3. তুলা
  4. ভেঙে
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

 সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪১৪.
বাংলা কাব্য রীতি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ৩ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ভাগ করা যায় না
ব্যাখ্যা
• বাংলা কাব্য রীতিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
 
• বাংলা কাব্য: 
- বাংলা কাব্য রীতি ২ ভাগে বিভত।
যথা,
১। পদ্য কাব্য রীতি,
২। গদ্য কাব্য রীতি।
 
• 'পদ্য' কাব্য রীতি:
- পদ্য কাব্য রীতিতে ছন্দ এবং মিল থাকে।
- ফলে তা ভাষার সাধারণ বাক্যগঠন থেকে আলাদা হয়।
- পদ্য কাব্য রীতি বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরনো রীতি।
- বাংলা সাহিত্যের বহু অমর কাব্য এই রীতিতে রচিত।
 
• 'গদ্য' কাব্য রীতি:
- পদ্য কাব্য রীতির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় গদ্য কাব্য রীতিও রয়েছে।
- গঠন বিবেচিনায় গদ্য কাব্য রীতির বাক্য্ব সাধারণ বাক্যের চেয়ে আলাদা হয়ে থাকে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
৪১৫.
সাধু ও চলিতরীতিতে কোন দুটি পদের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) বিশেষণ ও সর্বনাম
  2. খ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
  3. গ) ক্রিয়া ও বিশেষ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৪১৬.
কোন ভাষায় সাহিত্যের গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়?
  1. চলিত 
  2. উপভাষা
  3. সাধু 
  4. কথ্য 
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪১৭.
ভাষা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ''Ethnologue'' এর তথ্য মতে সমগ্র বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান কত?
  1. ক) ৪র্থ
  2. খ) ৫ম
  3. গ) ৭ম
  4. ঘ) ৮ম
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিক তথ্য মতে,
ভাষা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ''Ethnologue'' এর তথ্য মতে, Top 10 most spoken languages 2020 এর তালিকা - (মিলিয়ন)
১) English - 1268M
২) Mandarin Chinese - 1120M
৩) Hindi - 637M
৪) Spanish - 538M
৫) French - 277 M
৬) Standard Arabic - 274M
৭) Bengali - 265M

এছাড়াও, কানাডা ভিত্তিক ওয়েবসাইট, Visual Capitalist এর সমীক্ষা অনুসারে সর্বাধিক কথিত ভাষার তালিকা -
১. ইংরেজি - ১১৩ কোটি ২৩ লাখ (প্রায়)
২. মান্দারিন (চাইনিজ) - ১১১ কোটি ৬৫ লাখ (প্রায়)
৩. হিন্দি - ৬১ কোটি ৫৪ লাখ (প্রায়)
বাংলার অবস্থান ৭ম এবং বাংলায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা - ২৬ কোটি ৫০ লাখ (প্রায়)।

৪১৮.
কোন ভাষা অপরিবর্তনীয় এবং কৃত্রিম?
  1. চলিত ভাষা
  2. উপভাষা
  3. সাধু ভাষা
  4. আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪১৯.
মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।
- খ্রিষ্টপূর্ব আটাশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি।
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।
- জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২০.
নিচের কোনটি ভাষা-পরিবারের নাম নয়?
  1. ইন্দো-তিব্বতীয়
  2. দ্রাবিড়ীয়
  3. অস্ট্রো-এশীয়
  4. ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা
- ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-তিব্বতীয়।

বাংলা ভাষা:

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৪২১.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত
  2. আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে
  3. ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
  4. সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৪২২.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. অর্থ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৩.
চলিত ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) রামমোহন রায়
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে সবুজপত্র পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা চলিতগদ্য রীতির প্রবর্তন করেন প্রমথ চৌধুরী।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪২৪.
শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা হিসেবে প্রচলিত ছিল-
  1. উপ কথ্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

-------------------
• সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ)
এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
সব ভাষারই আঞ্চলিক রূপের বৈচিত্র্য থাকে, বাংলা ভাষারও তা আছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত রীতির বিভিন্নতা লক্ষিত হয়; আবার কোথাও কোথাও কারো কারো উচ্চারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার মিশ্রণও লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪২৫.
'বাষ্পাকূল লোচনে' এর চলিত রূপ কী?
  1. ক) অশ্রুসজল নয়নে
  2. খ) বাষ্পসহ দৃষ্টিতে
  3. গ) অশ্রুসজল চোখে
  4. ঘ) জলসিক্ত চোখে
ব্যাখ্যা
'বাষ্পাকূল লোচনে' এর চলিত রূপ 'অশ্রুসজল চোখে'।
অনুরূপভাবে কিছু সমাসবদ্ধ পদের সাধু ও চলিত রূপ- 
বাষ্পবারি বিমোচন - চোখের জল ফেলা।
দীর্ঘোদর - বিশাল পেট ।
নানাভরণভূষিত - নানা ধরনের গয়না পরা। 
বনস্পতিসংকুল - বড় বড় গাছে ভরা। 
কিয়ৎক্ষনে - কয়েক মুহূর্তে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৬.
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার ক্ষেত্রে কোন পদের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

প্রমিত বা চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪২৭.
কোন ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে?
  1. কথ্যরীতি
  2. চলিত রীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. সাধুরীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪২৮.
প্রমীত রীতিতে কোন পদটি হ্রস্বতর হয় না?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে।
- ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি'।
- এটি ‘মান রীতি নামেও পরিচিত।
- বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৯.
লেখ্য ভাষা রীতি কোনটি?
  1. আদর্শ কথ্য রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. কাব্য রীতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
৪৩০.
সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য- 
  1. চটুল
  2. সরল
  3. গুরুগম্ভীর
  4. সাবলীল
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪৩১.
‘মনুষ্যজাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনিসকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে , তাহার নাম ভাষা ।’ - উক্তিটি কার ? 
  1. ক) ড . মুহম্মদ এনামুল হক 
  2. খ) ড . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. গ) ড . সুনীতিকুমার চট্ট্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড . সুকুমার সেন 
ব্যাখ্যা
বাগ্যন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
‘ভাষা হলো পরপর ধ্বনি ব্যবহার করে অর্থ প্রকাশের মানবিক উপায়।
ভাষাবিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে ভাষাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন :
প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 
‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত, শব্দ - সমষ্টিকে ভাষা বলে। '
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভাষার সংজ্ঞার্থ নিরূপণ করতে গিয়ে বলেছেন,
 ‘মনুষ্যজাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনিসকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে, তাহার নাম ভাষা ।’
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে,
‘মানুষ তাহার মনের ভাব প্রকাশ করিবার জন্য কন্ঠ, জিহ্বা, তালু, ওষ্ঠ, দন্ত, নাসিকা, মুখবিবর প্রভৃতি বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে অপরের বোধগম্য যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির উচ্চারণ করিয়া থাকে, সেই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলা হয়।”
ড. সুকুমার সেনের মতে, 
‘মনের ভাব প্রকাশ করার নিমিত্ত বিভিন্ন জাতির বা সমাজের সকল সত্যের বোধগম্য বাক্যসমূহের সমষ্টিকে সেই জাতির ভাষা বলে।’

 উৎস : ভাষা শিক্ষা -ড. হায়াৎ মামুদ ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ।
৪৩২.
চলিত ভাষায় কোন পদের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. সর্বনাম
  2. ক্রিয়াপদ
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩৩.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. শুকনা
  2. তুলা
  3. শুষ্ক
  4. বুনো
ব্যাখ্যা

বুনো একটি চলিত রীতির শব্দ। 

সাধু রীতির শব্দ:
- মস্তক,
- জুতা,
- তুলা,
- শুষ্ক/শুকনা,
- বন্য। 

চলিত রীতির শব্দ:
- মাথা,
- জুতো,
- তুলো,
- শুকনো,
- বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৪৩৪.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় কোন ভাষায়?
  1. হিন্দি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফার্সি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 

• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩৫.
'লিখিতেছিলন' শব্দটির চলিত রুপ কোনটি?
  1. ক) লিখতেছিলেন
  2. খ) লিখছিলেন
  3. গ) লিখেছিলেন
  4. ঘ) লিখছিলাম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।যেমনঃ খাইতেছিলাম,যাইতেছিলাম,লিখতেছিলেন ইত্যাদি। চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।যেমনঃ খাচ্ছিলাম, যাচ্ছিলাম, লিখছিলেন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - অষ্টম শ্রেণী
৪৩৬.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. শুকনা
  2. মাথা
  3. বুনো
  4. জুতো
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক / শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩৭.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. ইচ্ছা
  2. গৃহিণী
  3. জিজ্ঞাসা
  4. আগেই
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) আগেই।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"আগেই" - চলিত রীতির শব্দ:
- এটি আধুনিক বাংলায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়
- সাধু রীতিতে এর রূপ "পূর্বেই"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) ইচ্ছা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "ইচ্ছে"।

খ) গৃহিণী - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "গিন্নি"।

গ) জিজ্ঞাসা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "জিজ্ঞেস"।

সুতরাং "আগেই" শব্দটি চলিত রীতির প্রমিত শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৮.
ধ্রুপদী ভাষা কোনগুলো?
  1. ক) হিন্দি ও উর্দু 
  2. খ) নেপালি ও সিংহলি
  3. গ) ওহমিয়া ও ওড়িয়া 
  4. ঘ) সংস্কৃত ও পালি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয় , চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো - এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য। 
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৪৩৯.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. প্রায়ই
  3. নচেৎ 
  4. তবুও
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - প্রায়শ।
- এবং এর চলিতরূপ - প্রায়ই।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

- সাধু - চলিত:
- অদ্য - আজ,
- অদ্যাপি - আজও,
- কদাচ - কখনো,
- তথাপি - তবুও,
- নচেৎ - নইলে,
- নতুবা - নইলে,
- যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪৪০.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. গৃহিণী
  2. তাহারা
  3. অপেক্ষা
  4. তবুও
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ঘ) তবুও।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"তথাপি" - সাধু রীতির শব্দ:
- চলিত রীতিতে এর রূপ "তবুও"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) চেয়ে - এটি চলিত রীতির শব্দ।
সাধু রীতিতে: "অপেক্ষা"।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

গ) তাহারা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তারা"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪১.
কোন ভাষা রীতিতে পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট?
  1. কথ্য রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪৪২.
কোন ভাষারীতির অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. চলিত ভাষারীতি
  2. প্রমিত ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  5. সবগুলোয়
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৩.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. ক) তুলা
  2. খ) শুকনো
  3. গ) পড়িল
  4. ঘ) সহিত
ব্যাখ্যা
• 'শুকনা' সংস্কৃত শব্দ, এর চলতি রীতি বা চলিত রূপ = শুকনো।

অন্যদিকে,
- 'তুলা' এর কথ্য বা চলতি রূপ হচ্ছে 'তুলো'
- এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়। 

 উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৪৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) সন্ধ্যাভাষা
  3. গ) বঙ্গকামরূপী
  4. ঘ) শৌরসেনী
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।  
- খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
- জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 
- কিন্তু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী। 
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪৪৫.
সাধু রীতির ক্ষেত্রে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. এ রীতি তৎসম শব্দবহুল।
  2. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এ রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 
  4. এ রীতি গুরুগম্ভীর।
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য-
⇒ সাধু রীতি:
• বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
• এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
• সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
• এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

⇒ চলিত রীতি:
• চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
• এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
• চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
• সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪৬.
কোনটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে
  2. পরিবর্তনশীল
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
  4. সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়

অপরদিকে,
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৪৪৭.
কোনটি লিপির বিবর্তনের ধাপ নয় ?
  1. ক) চৈনিক লিপি
  2. খ) জাপানি লিপি
  3. গ) দেব লিপি
  4. ঘ) চীনা লিপি
ব্যাখ্যা


উৎসঃ নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

 
৪৪৮.
'চলিত শব্দ' কোনটি?
  1. ক) বললেন
  2. খ) বলিলেন
  3. গ) বলিয়াছিলেন
  4. ঘ) বলাইয়াছিলেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বললেন
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বলেছেন’ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪৯.
চলিত ভাষারীতিতে কোন পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
- বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৫০.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. আজও
  2. কখনো
  3. তবুও
  4. নতুবা
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অদ্য - আজ,
অদ্যাপি - আজও,
কদাচ - কখনো,
তথাপি - তবুও,
নতুবা - নইলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫১.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ দুটি।
- মৌখিক রূপ, 
- লৈখিক রূপ।
-----------------------
• ভাষার মৌখিক রূপের দুটো রীতি রয়েছে।
যথা:
- আঞ্চলিক রীতি।
- প্রমিত রীতি।

• লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে,
যেমন:
- চলিত রীতি,
- সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।

৪৫২.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
  2. ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  3. ভাষা পরিবর্তনশীল।
  4. ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়।
- অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে।
- এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
- তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। 
- গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) বাংলাপিডিয়া। 
৩) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৪৫৩.
সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. অব্যয় পদ
  2. সম্বোধন পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
৪৫৪.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. বন্য
  2. বুনো
  3. মস্তক
  4. শুকনা
ব্যাখ্যা

চলিত রীতির শব্দ: 
- মাথা, 
- জুতো, 
- তুলো, 
- শুকনো, 
- বুনো। 

অন্যদিকে,
সাধু রীতির শব্দ: 
- মস্তক
- জুতা, 
- তুলা, 
- শুষ্ক/শুকনা
- বন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৪৫৫.
ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে কি বলা হয়?
  1. ক) প্ৰতি ভাষা
  2. খ) উপভাষা
  3. গ) উপজাতীয় ভাষা
  4. ঘ) আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষা: 
উপভাষা প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. জুতো
  2. তুলো
  3. বন্য
  4. শুকনো
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতির কিছু শব্দের পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
সাধু - চলিত:
অগ্নি- আগুন,
মস্তক - মাথা,
জুতা - জুতো,
তুলা - তুলো,
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো,
বন্য - বুনো,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি, 
তাঁহারা/উঁহারা - তাঁরা/ওঁরা,
তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে,
তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর,
করিবার - করবার/করার,
পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪৫৭.
ভাষায় সর্বনামের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি?
  1. বিশেষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা
  2. বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
  3. বিশেষ্যের অভাব দূর করা
  4. ভাষায় শব্দ সম্পদ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: 
- সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- সর্বনাম অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ্য, বিশেষ্যগুচ্ছ কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় ব্যাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
- বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করে। 

যেমন,
- বিশেষ্যের পরিবর্তে: ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 
- এখানে বিশেষ্য: ডাক্তার, আর সর্বনাম: তিনি। 

সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৪৫৮.
চলিত ভাষার কোন দুটি উপাদান সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. সন্ধি ও প্রত্যয়
  2. অব্যয় ও সমাস
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ
  4. বিশেষণ ও বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল। চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৯.
কথ্য ভাষারীতি কোনটি?
  1. কাব্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন- কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে মান্য বা প্রমিত কথ্য রীতি ও আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে প্রমিত রীতি, সাধু রীতি ও কাব্য রীতি। একে একে এসব রীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
৪৬০.
চলিত ভাষারীতিতে কোন পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
- বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৬১.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষা তদ্ভব শব্দবহুল 
  2. চলিত ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
  3. চলিত ভাষা জীবন্ত ও লোকায়ত
  4. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি।
যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত।
- সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর।
- সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী।
- এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৪৬২.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. হইয়া
  2. খেয়ো
  3. যাইও
  4. লইব
ব্যাখ্যা
চলিত রীতির শব্দ - খেয়ো / খেও।
- এর সাধু রীতি - খাইও।

সাধু-চলিত:

→ যাইবে-যাবে, 
→ বলিব-বলব, 
→ করিলে-করলে, 
→ যাইও-যেয়ো/যেও, 
→ লইব-নেব, 
→ করিতাম-করতাম, 
→ হইয়া-হয়ে।

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৬৩.
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।
  2. সাধুভাষা সর্বজনীন কথ্য ভাষা।
  3. সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে।
  4. সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। 
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
উনিশ শতকে বাংলার যে লিখিত-রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় 'সাধুভাষা' (Standard literary style)। সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন রাজা রামমোহন রায়। পরে রামমোহন, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র প্রমুখ গদ্যশিল্পী এই 'সাধু ভাষা'র মাধ্যমেই তাঁদের সাহিত্যকীর্তি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

প্রখ্যাত বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।"

• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
২. সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।
৩. সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। 
৪. সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়।
৫. সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। 
৬. সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে।
৭. সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
৮. সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ বক্তৃতার অনুপযোগী।
৯. সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
১০. সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৪.
চলিত ভাষারীতি কোন শব্দবহুল?
  1. দেশি 
  2. তদ্ভব
  3. বাংলা 
  4. তৎসম 
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
- এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

অন্যদিকে, 
-----------------
• সাধু রীতি:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৬৫.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. শুকনো
  2. তুলা
  3. শুকনা
  4. জুতা
ব্যাখ্যা
সাধু - চলিত:
→ মস্তক-মাথা, 
→ জুতা-জুতো, 
→ তুলা-তুলো, 
→ শুষ্ক/শুকনা-শুকনো
→ বন্য-বুনো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৬.
লেখ্য ভাষারীতি নয় কোনটি?
  1. প্রমিত রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. কাব্য রীতি
ব্যাখ্যা
• লেখ্য ভাষা রীতি নয়- আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন:
• কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
৪৬৭.
সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
  1. কবিতার পংক্তিতে
  2. গানের কলিতে
  3. গল্পের কলিতে
  4. নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
- এ ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত। 
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর। 
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬৮.
কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
  1. চলিত
  2. লেখ্য
  3. সাধু
  4. কথ্য
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৪৬৯.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
  1. কথ্য
  2. চলিত
  3. উপভাষা
  4. সাধু
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭০.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী?
  1. সাধুভাষা
  2. কথ্য ভাষা
  3. চলিত ভাষা
  4. উপভাষা
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম - উপভাষা

উপভাষা:
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
কোনটি ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত?
  1. পালি
  2. অহমিয়া
  3. সংস্কৃত
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭২.
কথ্য ভাষা রীতি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
৪৭৩.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. সেই
  2. মস্তক
  3. কিছুক্ষণ
  4. ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতির শব্দ- 'কিছুক্ষণ'। এর সাধুরূপ - কিয়ৎক্ষণ।

অন্যান্য অপশনগুলো:
গ) সেই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "সে"।

খ) মস্তক - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "মাথা"।

ঘ) ইচ্ছা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "ইচ্ছে"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭৪.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. বাইরে
  2. ছাতা
  3. দাঁত
  4. দধি
ব্যাখ্যা

• 'দধি' হচ্ছে সাধু ভাষার শব্দ।

অন্যান্য অপশন:
সাধু    -   চলিত
দধি  -  দই, দৈ।
ছত্র  -  ছাতা।
বাহিরে  -  বাইরে।
দন্ত  -  দাঁত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪৭৫.
নিচের কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ভাবের উৎস
  2. খ) ভাবের উচ্চারণ
  3. গ) মনের ভাব প্রকাশের বাহন
  4. ঘ) মানুষের ইশারা-ইঙ্গিত
ব্যাখ্যা

ভাষা হলো ভাবের উৎস, ভাবের উচ্চারণ, মনের ভাব প্রকাশের উৎস/মাধ্যম/বাহন, মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্ সংকেত।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৭৬.
উপভাষার অপর নাম কী?
  1. মান্য ভাষা
  2. আঞ্চলিক ভাষা
  3. প্রমিত ভাষা
  4. প্রচলিত ভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষা:
- আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহৃত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৭.
বর্তমানে লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতিকে কী বলে?
  1. লেখ্যরীতি
  2. সাধুরীতি
  3. প্রমিত রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

• প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৭৮.
সাধুরীতির বৈশিষ্ঠ্য নয় কোনটি?
  1. ব্যাকরণের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
  2. সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
  3. সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
  4. তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।'- চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য।

সাধুরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সাধুরীতি ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
২. সাধুরীতি তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
৩. সাধুরীতিতে ক্রিয়ার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়িতেছি, লিখিতেছি ইত্যাদি।
৪. সাধুরীতিতে সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাহারা, উহারা ইত্যাদি।
৫. সাধুরীতিতে অব্যয়ের তৎসম রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : তথাপি, যদ্যপি ইত্যাদি।
৬. এই রীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার বেশি। যেমন : রসনেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি।
৭. সাধুরীতি নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযােগী নয়।

চলতিরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. চলতিরীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে না।
২. চলতিরীতিতে ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়ছি, লিখছি ইত্যাদি।
৩. চলতিরীতিতে সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওরা, তারা ইত্যাদি।
৪. চলতিরীতিতে অব্যয়ের তদ্ভব রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তবু, যদিও ইত্যাদি।
৫. চলতিরীতি পরিবর্তনশীল।
৬. চলতিরীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
৭. চলতিরীতি বক্তৃতা, নাটক ও সংলাপের উপযােগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি- (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)। 
৪৭৯.
উপভাষা হচ্ছে-
  1. ক) আঞ্চলিক ভাষা
  2. খ) মিশ্র ভাষা
  3. গ) প্রমীত ভাষা
  4. ঘ) দাপ্তরিক ভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা  
প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮০.
'যদ্যপি' শব্দের চলিত রূপ কী?
  1. যদিও
  2. তথাপি
  3. যদি
  4. তথাপিও
ব্যাখ্যা

• 'যদ্যপি' শব্দের চলিত রূপ যদিও।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’যদ্যপি’ শব্দে।
• শব্দটির অর্থ:
- অব্য, 
- যদিও। 
- একান্তই যদি।

• এরূপ আরো কয়েকটি সাধু ভাষার  চলিত রূপ:
- পেরিয়ে - পার হইয়া।
- পড়ল - পড়িল।
- করে - করিয়া।
- শুকনো - শুষ্ক। শুকনা।
- জুতোর - জুতার।
- ভেঙে - ভাঙ্গিয়া।
- যেতে লাগল - যাইতে লাগিল।
- বুনো - বন্য।
- জুড়ে - জুড়িয়া।
- তুলো - তুলা।
- ফুটে রয়েছে - ফুটিয়া রহিয়াছে।

অন্যদিকে,
- তথাপি এর চলিত রূপ - তবুও।
- তথাপিও একটি অশুদ্ধ শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮১.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. যাহারা
  2. তাহারা
  3. যাহা
  4. যারা
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

সাধু ও চলিত রীতি:
- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৮২.
রুপতত্ত্বের অপর নাম কী?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) শব্দতত্ত্ব
  4. ঘ) পদক্রম
ব্যাখ্যা
শব্দের অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম অংশকে রূপও বলা হয়, তাই শব্দতত্ত্বের আরেক নাম রূপতত্ত্ব। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪৮৩.
’নতুবা’ শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. সাধু
  2. আঞ্চলিক
  3. প্রাকৃতি
  4. চলিত
ব্যাখ্যা
- ’নতুবা’ শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ।
- ’নতুবা’ শব্দটির চলিত রূপ - নইলে।
-----------------
• সাধু ভাষারীতি:
- যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের রূপ প্রাচীনরীতি অনুসারী এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।

• চলিত ভাযারীতি:
- ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী স্থানসমূহের মৌখিক ভাষারীতি মানুষের মুখে মুখে রূপান্তর লাভ করে প্রাদেশিক শব্দাবলি গ্রহণ এবং চমৎকার বাক্কঙ্গির সহযোগে গড়ে ওঠে। এই ভাষারীতিকেই চলিত ভাষারীতি বলে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই (২০২৫-সংস্কারণ)।
৪৮৪.
সাধুভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।
  2. সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য অধিক।
  3. সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ রয়েছে।
  4. নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
উনিশ শতকের শুরুতে সংস্কৃতানুসারী পণ্ডিতদের উদ্যোগ-আয়োজনে যে সাহিত্যিক গদ্য ভাষার উন্মেষ হয়, তাই সাধুভাষা।

সাধুভাষার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
- সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। যেমন: তাহার, ইহার, কাহাকে, ইহাকে ইত্যাদি।
- সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, করিতেছিল ইত্যাদি।

- সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চন্দ্র, অভ্যন্তর, অঙ্গ, সৌষ্ঠব, বৃন্ত, চর্ম, কাষ্ঠ, দর্পণ ইত্যাদি।
- সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেমন: কাষ্ঠাহরণে, রাজাজ্ঞা, রাজপুত্রহস্তে ইত্যাদি।

- সাধুভাষায় বাক্যে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ বাক্যে প্রথমে উদ্দেশ্য ও পরে বিধেয় থাকে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে থাকে। যেমন: সম্মুখে এক ক্ষুদ্র প্রান্তর দেখিতে পাইলাম। সর্বশেষে আসিল রাত্রির কৃষ্ণকায় পক্ষী তাহার পক্ষ মেলিয়া।

- সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে। তবে সাধুভাষায় একসময় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত। যেমন: অত্রত্য, অপার্যমানে, নিষণ্ণ।
- সাধুভাষায় অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: জন্য, হইতে, দ্বারা, দিয়া, অপেক্ষা।
- সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।

- সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
- সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৫.
ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণের নাম -
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. আধুনকি বাংলা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণের নাম - ব্যাকরণ মঞ্জুরী।

অন্যদিকে,
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- গৌড়ীয় ব্যাকরণের রচয়িতা হলেন রাজা রামমোহন রায়।

ড. মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা।
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
কোন ভাষা রীতি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন ছিলো?
  1. চলিত ভাষা
  2. কানাড়ি ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা সাধু:
- ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন।
- মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর। এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।
- সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
- বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তোলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৮৭.
নিচের কোন শব্দটি সাধু ভাষায় ব্যবহার উপযোগী?
  1. ক) বুনো
  2. খ) শুকনো
  3. গ) পূর্বেই
  4. ঘ) জুতো
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দের সাধু- চলিত রূপ: 

সাধু রূপ-----------চলিত রূপ 
বন্য----------------বুনো,
শুষ্ক/শুকনা-------শুকনো, 
জুতা---------------জুতো,
পূর্বেই-------------আগেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
৪৮৮.
বুদ্ধি বা ভাব ব্যাপক পরিসরে প্রকাশ করা যায় কীসের সাহায্যে?
  1. চিত্রাঙ্কণের মাধ্যমে
  2. অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে
  3. ইশারায় মাধ্যমে
  4. মুখের ধ্বনির সাহায্যে
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার মনের মধ্যে সব সময়ই নানা বুদ্ধি বা ভাবের আনাগোনা চলে।
- সেই বুদ্ধি বা ভাব ইশারায়, নানা অঙ্গভঙ্গি করে, ছবি ও নাচের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। কিন্তু মুখের ধ্বনির সাহায্যে ব্যাপক পরিসরে তা প্রকাশ করা যায়।
- যেভাবেই মনের ভাব প্রকাশ করা হোক না কেন, এর সবই ভাষা। তবে অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় মানুষের মুখের ধ্বনি অনেক বেশি অর্থপূর্ণ হয় ও অন্যে বুঝতে পারে।
- সুতরাং সাধারণ কথায় 'ভাষা' বলতে বোঝায়, মানুষের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অর্থপূর্ণ কতকগুলো আওয়াজ বা ধ্বনির সমষ্টি।
- এই অর্থপূর্ণ ধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ।

• ভাষার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন:
"মনের ভাব-প্রকাশের জন্য, বাগ্-যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনও বিশেষ জন-সমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত, শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে।"

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৮৯.
কথারীতি সমন্বয়ে শিষ্টজনের ব্যবহৃত ভাষাকে কী বলে?
  1. ক) সাধু ভাষা
  2. খ) আদর্শ চলিত ভাষা
  3. গ) আঞ্চলিক ভাষা
  4. ঘ) দেশি ভাষা
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। 
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। এই রীতিতে ক্রিয়া সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপ্রক্ষাকৃত কমে। 
- প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচনা হত; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯০.
সাধু ভাষারীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়
  2. এটি কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হয়
  3. এর রূপ অপরিবর্তনীয়
  4. ব্যাকরণের নিয়ম মানে না
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।

৪৯১.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে বাংলা এসেছে-
  1. প্রাচীন অবহট্ঠ থেকে
  2. গৌড় অপভ্রংশ থেকে
  3. মাগধী অপভ্রংশ থেকে
  4. গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-বংশের অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা। 
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। তাঁর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে দশম শতাব্দীতে। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে। এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উন্মেষ ঘটে সপ্তম শতাব্দীতে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯২.
সংবাদ উপস্থাপনায়, সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃত্তিতে প্রয়োগ দেখা যায় -
  1. আদর্শ কথ্য রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. কাব্য রীতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আদর্শ কথ্য রীতি:
- আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালি জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা।
- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বেতার-টেলিভিশনে প্রচারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায়, সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃত্তিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়
- এই রীতিই বাংলা প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি।
- তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯৩.
কোনটি চলিত বিশেষ্যপদের উদাহরণ?
  1. চাঁদ
  2. হস্তী
  3. মৎস্য
  4. অগ্নি
ব্যাখ্যা
কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- পৃথিবীর সব উন্নত ভাষার মতো বাংলা ভাষারও একাধিক আলাদা রূপ আছে: একটি বলার ভাষা বা মৌখিক রূপ, অপরটি লেখার ভাষা বা লৈখিক রূপ।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার দুটো রীতি রয়েছে, যথা: আঞ্চলিক রীতি ও প্রমিত রীতি।
- অপর দিকে লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে, যেমন: চলিত রীতি ও সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৯৪.
ভাষার মৌখিক রূপ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
- পৃথিবীর সব উন্নত ভাষার মতো বাংলা ভাষারও একাধিক আলাদা রূপ আছে: একটি বলার ভাষা বা মৌখিক রূপ, অপরটি লেখার ভাষা বা লৈখিক রূপ।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার দুটো রীতি রয়েছে, যথা: আঞ্চলিক রীতি ও প্রমিত রীতি।
- অপর দিকে লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে, যেমন: চলিত রীতি ও সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।