ব্যাখ্যা
কিউরিওসিটি রোভার ২০১২ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গল গ্রহে নাসার প্রেরিত চতুর্থ রোবটযান।
মঙ্গল গবেষণার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত (২০১২) নাসার বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সূত্র: NASA ওয়েবসাইট
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২৮ / ৫১ · ২,৭০১–২,৮০০ / ৫,০২৮
কিউরিওসিটি রোভার ২০১২ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গল গ্রহে নাসার প্রেরিত চতুর্থ রোবটযান।
মঙ্গল গবেষণার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত (২০১২) নাসার বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সূত্র: NASA ওয়েবসাইট
• ২০১৫ সালে Google পুনর্গঠনের পর Alphabet Inc. কে মূল (Parent) কোম্পানি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
• Google:
- Google হলো বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন।
- Google–এর মাধ্যমে ওয়েবপেজ, ছবি, ভিডিও, সংবাদ ও অন্যান্য তথ্য অনুসন্ধান করা যায়।
- Google প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে।
- Google প্রতিষ্ঠা করেন Larry Page ও Sergey Brin।
• Google–এর প্রতিষ্ঠা ও অবস্থান:
- Google প্রতিষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
- Google–এর প্রধান কার্যালয় Mountain View, California, USA–তে অবস্থিত।
- Google–এর মূল কোম্পানির নাম বর্তমানে Alphabet Inc.।
• Google–এর প্রধান সেবাসমূহ:
- Google Search — তথ্য অনুসন্ধানের জন্য।
- Gmail — ই-মেইল সেবা।
- Google Maps — মানচিত্র ও অবস্থান নির্ণয়।
- Google Drive — ক্লাউড স্টোরেজ।
- YouTube — ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম (Google–এর মালিকানাধীন)।
- Google Chrome — ওয়েব ব্রাউজার।
• Google–এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
- Google সার্চ ইঞ্জিন তথ্য অনুসন্ধানের জন্য অ্যালগরিদমভিত্তিক সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
- ব্যবহারকারীর দেওয়া কীওয়ার্ড অনুযায়ী সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফলাফল প্রদর্শন করে।
- Google কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্চের মান উন্নত করে।
উৎস: Gogle & Britannica [Link]
• ই-মেইল:
- ইলেকট্রনিক উপায়ে বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে ডিজিটাল মেসেজ বা বার্তা আদান-প্রদান করাকে ই-মেইল বলা হয়।
- দুটি ধরনের ইমেল পরিষেবা রয়েছে: ইমেইল ক্লায়েন্ট এবং ওয়েবমেইল।
- ইমেইল ক্লায়েন্ট হলো ডেস্কটপের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন এবং এটি একক বা একাধিক ইমেইল ঠিকানা কনফিগার করে।
- ওয়েবমেইল হলো ইমেইল অ্যাক্সেস করার জন্য একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন।
- এটি ব্রাউজারগুলির মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যেতে পারে।
- বাজারে বেশ কয়েকটি ইমেইল পরিষেবা প্রদানকারী রয়েছে।
• বিনামূল্যে ইমেইল ক্লায়েন্টগুলির মধ্যে রয়েছে:
- Gmail
- Yahoo Mail
- Mozilla Thunderbird
- eM Client
- Claws Mail
- Foxmail
- Opera M2 Mail Client
- Pegasus Mail
- Outlook
- Incredi Mail
- Mulberry
- Dream Mail
- Sylpheed
• কিনে ব্যবহার করতে হয়:
- Zimbra
- Inky
- Postbox
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি, ভোকেশনাল।
◉ বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন হলো একটি নিরাপত্তা যাচাইকরণ পদ্ধতি, যেখানে ব্যবহারকারীর শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা হয়।
- পাসওয়ার্ড একটি অক্ষর বা সংখ্যা ভিত্তিক যাচাইকরণ পদ্ধতি, যা বায়োমেট্রিক নয় বরং জ্ঞানভিত্তিক অথেন্টিকেশন পদ্ধতি।
বায়োমেট্রিক্স:
- গ্রীক শব্দ metron অর্থ পরিমাপ এবং "bio" অর্থ জীবন, এ দু'টি শব্দ থেকে Biometrics শব্দের উৎপত্তি।
- বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা যায়।
- কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে ব্যক্তি সনাক্তকরণ এবং কোন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- দেহের গঠন এবং আচরণগহত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকরণ,
- হাতের রেখা শনাক্তকরণ,
- আইরিশ শনাক্তকরণ,
- মুখমন্ডলের অবয়ব শনাক্তকরণ,
- ডিএনএ পর্যবেক্ষণ।
আচরণগত বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- কিবোর্ড টাইপিং গতি যাচাইকরণ,
- হাতে করা স্বাক্ষর যাচাইকরণ,
- কণ্ঠস্বর যাচাইকরণ।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
• মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মকে Azure নামে পরিচিত। এটি একটি শক্তিশালী এবং বহুমুখী ক্লাউড সার্ভিস, যা ডেভেলপার ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটিং, স্টোরেজ, ডাটাবেস, এবং নেটওয়ার্কিং সুবিধা প্রদান করে। Azure ব্যবহার করে সংস্থাগুলি তাদের অ্যাপ্লিকেশন হোস্ট করতে, বড় ডেটা বিশ্লেষণ করতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রজেক্ট তৈরি করতে পারে। এটি বিভিন্ন প্রকারের ক্লাউড মডেল-পাবলিক, প্রাইভেট, এবং হাইব্রিড ক্লাউড-সাপোর্ট করে। মাইক্রোসফটের Azure বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত, নিরাপদ এবং স্কেলযোগ্য ক্লাউড সেবা প্রদান করে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) Azure।
• মাইক্রোসফট:
- কম্পিউটার সফটওয়্যার জগতে সবচেয়ে নামকরা প্রতিষ্টান হচ্ছে মাইক্রোসফট।
- মাইক্রোসফটের সদরদপ্তর অবস্তিত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে।
- মাইক্রোসফটের ক্লাউড প্লাটফর্ম Azure.
- মাইক্রোসফট সার্চ ইঞ্জিনের নাম Bing.
- মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা Bill Gates এবং Paul Allen.
- মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৫।
- মাইক্রোসফটের বর্তমান CEO সত্য নাদেলা। (তথ্য: ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত)
উৎস: মাইক্রোসফট এবং তাদের নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।
◉ TCP/IP হল ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড কমিউনিকেশন প্রোটোকল। এটি ডেটা আদান-প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে, যা ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্য ট্রান্সফার নিশ্চিত করে।
TCP/IP:
- TCP/IP এর পূর্ণরূপ Transmission Control Protocol/Internet Protocol.
- ইন্টারনেটের সকল কম্পিউটার কমান্ড এবং ডাটা আদান-প্রদানের TCP/IP প্রোটোকল ব্যবহার করে।
- ইন্টারনেটে যেকোনো কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটারে সাথে সহজেই সংযোজিত হতে পারে।
- TCP (Transmission Control Protocol) → ডাটা ট্রান্সমিশন সঠিকভাবে এবং সিকোয়েন্স অনুযায়ী পাঠানোর নিশ্চয়তা দেয়।
- IP (Internet Protocol) → প্রতিটি ডাটা প্যাকেটকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে (destination address) পাঠায়।
- TCP/IP ইন্টারনেটের backbone, যা ডাটা ট্রান্সফার এবং কমিউনিকেশন পরিচালনা করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ,
ক) FTP (File Transfer Protocol) → সার্ভার ও ক্লায়েন্টের মধ্যে ফাইল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়।
খ) নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি প্রোটোকল: SSL/TLS (Secure Sockets Layer / Transport Layer Security) → ওয়েব ব্রাউজিং ও নিরাপদ কমিউনিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১। মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। IBM ওয়েবসাইট। [লিংক]
• ফায়ারওয়াল একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা অননুমোদিত প্রবেশ থেকে কম্পিউটার সিস্টেমকে রক্ষা করে।
• Malware (ম্যালওয়ার):
- Malware (ম্যালওয়ার) এর পূর্ণরূপ হলো Malicious Software.
- ম্যালওয়্যার হলো ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য চুরি বা ক্ষতি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়ারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে: অ্যাডওয়্যার (Adware), স্পাইওয়্যার (Spyware), ট্রোজান হর্স (Trojan Horse), র্যানসমওয়্যার (Ransomware), ওয়ার্ম (Worms) প্রভৃতি।
• ফায়ারওয়াল:
- একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা অননুমোদিত প্রবেশ থেকে কম্পিউটার সিস্টেমকে রক্ষা করে। এটি কোনো ম্যালওয়্যার নয়, বরং ম্যালওয়্যার প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল।
- ফায়ারওয়াল কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মধ্যে ডেটা ট্র্যাফিকের ওপর নজর রাখে এবং ক্ষতিকর ডেটা বা প্রোগ্রামকে সিস্টেমে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
উৎস:
১। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভোকেশনাল),
২। ব্রিটানিকা।
• হাফ-ডুপ্লেক্স যোগাযোগ বলতে এমন একটি যোগাযোগ পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় না, বরং এক সময়ে শুধু এক দিকেই ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়। অর্থাৎ প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ই ডেটা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু একসাথে নয়। যখন এক পক্ষ ডেটা পাঠায়, তখন অন্য পক্ষ কেবল গ্রহণ করে এবং পরে ভূমিকা পরিবর্তন হতে পারে। ওয়াকিটকি এর একটি পরিচিত উদাহরণ। এই ব্যবস্থায় যোগাযোগ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সংঘর্ষ এড়ানো যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) এক সময়ে শুধু এক দিকে ডেটা পাঠানো যায়।
• ডাটা প্রবাহের দিকের উপর ভিত্তি করে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
১। সিমপ্লেক্স (Simplex),
২। হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex) ও
৩। ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)।
১. সিমপ্লেক্স মোড:
- ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডাটার একদিকে প্রবাহকে সিমপ্লেক্স মোড বলে।
- সিমপ্লেক্সের উদাহরণ- রেডিও-টিভি, PABX, কীবোর্ড, মাউস, পেজার ইত্যাদি।
২. ফুল-ডুপ্লেক্স মােড:
- ফুল-ডুপ্লেক্স মােডে একই সময়ে উভয় প্রান্তের দুটি ডিভাইস একই সাথে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে।
- ফুল-ডুপ্লেক্সের উদাহরণ- মোবাইল ফোন, টেলিফোন, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি।
৩. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড:
- যখন এক প্রান্ত থেকে ডেটা প্রেরণ করা হয় তখন অপর প্রান্ত থেকে ডেটা শুধুমাত্র গ্রহণ করা যায় , আবার যখন অপর প্রান্ত থেকে ডেটা প্রেরণ করা হয় তখন প্রথম প্রান্ত থেকে ডেটা - শুধুমাত্র গ্রহণ করা যায় তাকে হাফ ডুপ্লেক্স মোড বলে।
- হাফ ডুপ্লেক্সের উদাহরণ- ওয়াকিটকি, ফ্যাক্স, এসএমএস, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি।
উৎস:
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) ব্রিটানিকা।
• বাস টপোলজিতে ডিভাইসগুলো একক কেন্দ্রীয় ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ, সমস্ত কম্পিউটার বা ডিভাইস একই মূল তার বা ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকে, যা ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। যখন একটি ডিভাইস ডেটা পাঠায়, তা পুরো লাইনে প্রবাহিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট গন্তব্য ডিভাইস তা গ্রহণ করে। অন্য সংযোগ পদ্ধতিগুলোর সঙ্গে এটি আলাদা; উদাহরণস্বরূপ, মেশ নেটওয়ার্কে প্রতিটি ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, কেন্দ্রীয় হাব ব্যবহার করা হলে সব ডিভাইস হাবের মাধ্যমে যুক্ত হয়, আর বৃত্তাকার লুপে ডিভাইসগুলো একটি সার্কুলার চেইনে থাকে। বাস টপোলজি সহজ, কম খরচে, কিন্তু লাইনের কোনো সমস্যা হলে পুরো নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়ে।
নেটওয়ার্ক টপোলজি:
- দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়।
অর্থাৎ, যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।
- ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে।
বাস টপোলজি (Bus Topology):
- যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে।
- একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়।
- এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন (Backbone)।
- মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার থাকে না।
- প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• IMEI (International Mobile Equipment Identity) হলো প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি অনন্য ১৫ অঙ্কের সংখ্যা যা ডিভাইসকে সনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত হারানো বা চুরি হওয়া ফোন ট্র্যাক করার কাজে ব্যবহৃত হয়। যখন ফোন চুরি হয় বা হারিয়ে যায়, ব্যবহারকারী বা নেটওয়ার্ক অপারেটর এই IMEI নম্বর ব্যবহার করে ফোনটিকে ব্লক করতে পারে, ফলে কেউ সেটি ব্যবহার করতে পারবে না। IMEI ফোনের নিরাপত্তা ও সনাক্তকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সরাসরি ইন্টারনেট স্পিড মাপা, ফোন দ্রুত চার্জ করা বা সিম কার্ড সুরক্ষা প্রদানে ব্যবহার হয় না। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) হারানো বা চুরি হওয়া ফোন ট্র্যাক করা।
⚪ IMEI:
- IMEI এর পূর্ণরূপ International Mobile Equipment Identity.
- এটি একটি নাম্বার যা নির্দিষ্ট ধরনের 3GPP মোবাইল এবং স্যাটেলাইট ফোন সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সাধারণত ব্যাটারি কম্পার্টমেন্টের ভিতরে প্রিন্ট করা হয় বা *#06# ডায়াল করে ফোনটি চালু হলে অ্যাক্সেস করা হয়।
- স্মার্টফোনে এটি বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমের সেটিংস মেনুতে পাওয়া যায়।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা রোগীর ক্ষতি না করেই বাস্তব অস্ত্রোপচারের মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
• চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার:
- চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ভুল ও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে।
- উন্নত বিশ্বে চিকিৎসকদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- শিক্ষানবীশ সার্জনদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় হলো অভিজ্ঞ সার্জনের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা।
- এ ক্ষেত্রে নতুন চিকিৎসকরা ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে একটি মেডিক্যাল ট্রেনিং টুল হিসেবে সহজেই ব্যবহার করতে পারে।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা অপারেশন থিয়েটারে রোগীর ওপর বাস্তব অস্ত্রোপচারের মতোই বাস্তবিক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
- ভার্চুয়াল অপারেটিং কক্ষে শিক্ষার্থীরা কৌশলগত দক্ষতা, অপারেশন পদ্ধতি এবং রোগ সম্পর্কিত তাত্ত্বিক বিষয়ের কার্যপ্রণালি অনুশীলনের সুযোগ পায়।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ LTE (Long-Term Evolution) হচ্ছে 4G প্রযুক্তির বিকল্প নাম। এটি মূলত 4G নেটওয়ার্কের উন্নত সংস্করণ, যা উচ্চগতির ইন্টারনেট, ভয়েস ও ভিডিও কলিং সুবিধা প্রদান করে।
চতুর্থ প্রজন্ম মোবাইল:
- ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়।
- চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্যাকেট স্যুইচিং বা সার্কিট স্যুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে ইন্টারনেট প্রটোকল (IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্কের ব্যবহার।
- ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহারের ফলে LAN, WAN, VOIP, Internet ইত্যাদি সিস্টেমে প্যাকেট সুইচিং পরিবর্তে প্রটোকল ভিত্তিক ভয়েস ডাটা ট্যান্সফার করা সম্ভব হচ্ছে।
- 4G এর প্রযুক্তি LTE (Long Term Evolution) স্ট্যান্ডার্ডে কাজ করে থাকে।
- চতুর্থ প্রজন্মের (4G) উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে WiMAX, Flash-OFDM (Orthogonal frequency Division Multiple Access), 3GPP LTE (3rd Generation Partnership Project Long Term Evolution) ব্যবহৃত হচ্ছে।
LTE-এর বৈশিষ্ট্য:
- 4G নেটওয়ার্কের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পরিচিত।
- High-speed Data Transmission (ডাউনলোড স্পিড: 100 Mbps+, আপলোড: 50 Mbps+)।
- OFDM (Orthogonal Frequency-Division Multiplexing) প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
- VoLTE (Voice over LTE) এর মাধ্যমে উন্নতমানের ভয়েস কল সেবা প্রদান করে।
অন্যান্য অপশনসমূহ,
খ) WCDMA (Wideband Code Division Multiple Access) হলো 3G প্রযুক্তির একটি স্ট্যান্ডার্ড।
গ) EDGE (Enhanced Data Rates for GSM Evolution) হলো 2.5G প্রযুক্তি।
ঘ) GSM (Global System for Mobile Communications) একটি 2G প্রযুক্তি।
উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। IEEE Communications on 4G LTE.
ম্যালওয়্যার:
- ম্যালওয়্যার এর পূর্ণ শব্দরূপ হলাে Malicious Software.
- কম্পিউটার ভাইরাস ছাড়া ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত সফটওয়্যারগুলাের মধ্যে রয়েছে-
- অ্যাডওয়্যার (Adware),
- স্পাইওয়্যার (Spyware),
- ট্রোজান হর্স (Trojan Horse),
- ওয়ার্ম (worms) প্রভৃতি।
- আর্থিক প্রতারণা ও অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলােকেও অ্যাডভান্স লেভেল ম্যালওয়্যার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন: র্যানসমওয়্যার (Ransomware)।
র্যানসমওয়্যার:
- র্যানসমওয়্যার হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার যেটি একটি কম্পিউটার ডিভাইসকে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে এবং ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা (Accessibility) সীমাবদ্ধ করে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ ফোল্ডার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ (Ransom) দাবি করে।
- যেহেতু এটি মুক্তিপণ আদায়কারী সফ্টওয়্যার হিসেবে পরিচিত তাই মুক্তিপণের ইংরেজি শব্দ Ransom এবং সফ্টওয়্যারের ইংরেজি শব্দ Software এর সংক্ষিপ্তরূপ থেকেই এই নামকরণ অর্থাৎ Ransom + Software = Ransomware.
- কিছু র্যানসমওয়্যার সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কী (Large Key) দিয়ে এনক্রিপ্ট (Encrypt) করে ফেলে।
- এনক্রিপশন কী এতটাই বড় হয় যে মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব।
- এছাড়াও কেউ কেউ সরল একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সিস্টেম লক করে দেয় এবং ডিসপ্লেতে বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করে।
উৎস:
১. কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ২, ৯ম-১০ম শ্রেণি (ভােকেশনাল, ২০২১ সংস্করণ)।
২. বাংলাদেশ ব্যাংক পরিক্রমা। [লিংক]
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
- ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক বা সার্ভার বেজড নেটওয়ার্ক,
- পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - একাদশ দ্বাদশ শ্রেণী
তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তিতে প্যাকেট সুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়।
• তৃতীয় প্রজন্ম (২০০১-২০০৮):
- ২০০১ সালে জাপানের টোকিওতে NTT DoCoMo সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের প্রধান প্রযুক্তিগত পার্থক্য হচ্ছে সার্কিট সুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে প্যাকেট সুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশনের ব্যবহার।
- 3G বা Third Generation হচ্ছে এমন একটি মোবাইল প্রযুক্তি (আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংস্থা: ITU এর মতে) যাতে GSM EDGE UTMS এবং CDMA 2000 প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
• তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য:
- GPRS (General Packet Radio System) স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।
- সর্বাধিক ডেটা ট্রান্সফারের মোবাইল টেকনোলজি EDGE (Enhanced Data Rates for Global Evolution) সিস্টেম চালু হয়।
- প্যাকেট স্যুইচিং এবং সার্কিট স্যুইচিং উভয় পদ্ধতি ডেটা ট্রান্সমিশনে ব্যবহার করা যায়।
- অতি দ্রুত ভয়েজ ও ছবি আদান-প্রদান করা যায়।
- মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স সেবা কার্যক্রম চালু হয়।
- ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা এবং মডেম সংযোজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে ডেটা আদান-প্রদানের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়।
উৎস: ১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
• লিঙ্কডইন (LinkedIn) হলো একটি পেশাভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা ২০০৩ সালে চালু হয় এবং বর্তমানে Microsoft–এর মালিকানাধীন; এটি মূলত পেশাগত নেটওয়ার্ক গঠন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
• সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম:
- আইসিটিতে সামাজিক যোগাযোগ বলতে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষে মানুষে মিথস্ক্রিয়াকে বোঝায়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ যোগাযোগ ও ভাব প্রকাশের জন্য যা সৃষ্টি, বিনিময় বা আদান-প্রদান করে তাই সামাজিক যোগাযোগ।
- আইসিটির বিকাশের ফলে এই যোগাযোগ বর্তমানে সহজ, সাশ্রয়ী এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ হয়েছে।
- ইন্টারনেট, ই-মেইল, মোবাইল ফোন, মেসেজিং সিস্টেম, ব্লগিং এবং সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই যোগাযোগ সম্পন্ন হয়।
- ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নামে পরিচিত।
- উদাহরণ: ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রাম।
- ফেসবুক ও টুইটার জনপ্রিয় সাধারণ সামাজিক মাধ্যম, আর লিঙ্কডইন পেশাভিত্তিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
• লিঙ্কডইন (LinkedIn):
- প্রতিষ্ঠা: ৫ মে, ২০০৩।
- প্রতিষ্ঠাতা: Reid Hoffman ও তার সহ-প্রতিষ্ঠাতারা।
- ২০১৬ সালে Microsoft লিঙ্কডইন অধিগ্রহণ করে।
- ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল তৈরি করে, দক্ষতা (skills) উল্লেখ করে এবং পেশাগত সংযোগ (connections) গড়ে তোলে।
- চাকরি অনুসন্ধান, নিয়োগ কার্যক্রম এবং পেশাগত কনটেন্ট শেয়ারিংয়ের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
• অন্যান্য অপশন:
- MS-DOS → একটি ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম।
- লিনাক্স কার্নেল → লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ।
- ওরাকল ডেটাবেজ → একটি ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS)।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি; LinkedIn Official Website; Microsoft Press Release (2016 Acquisition)।
• সঠিক উত্তর হলো: ক) Phishing.
Phishing হল একটি সাইবার আক্রমণের কৌশল, যেখানে প্রতারকরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে মিথ্যা বা প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট, ই-মেইল বা SMS ব্যবহার করে। তারা প্রায়ই বৈধ সংস্থার নাম বা লোগো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে তারা একটি নিরাপদ এবং পরিচিত প্ল্যাটফর্মে রয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারী তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বা ক্রেডিট কার্ডের বিবরণ প্রবেশ করালে তা চোরাই হয়। Phishing-এর লক্ষ্য হলো মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। এটি আধুনিক ডিজিটাল নিরাপত্তার বড় হুমকি।
• সাইবার অপরাধ:
- ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে এবং এর সহযোগীতায় সংঘটিত অপরাধকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে।
•বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধ:
• ফিশিং (Phishing):
- ফিশিং করার অর্থ ই-মেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীকে নকল বা ফেইক ওয়েবসাইটে নিয়ে কৌশলে তার বিশ্বস্ততা অর্জন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তাদের নানা ধরনের বিপদে ফেলা।
• ফ্রেকিং (Phreaking):
- বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমকে হ্যাক করে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ফ্রেকিং বলে।
• হ্যাকিং (Hacking):
- কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। যে সব ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে।
• ভিশিং (Vishing):
- মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং (Vishing) বা ভয়েস ফিশিং (Voice phishing) বলা হয়। ।
• স্প্যামিং (Spamming):
- অনাকাঙ্ক্ষিত বা অবাঞ্ছিত ই-মেইল কিংবা মেসেজ পাঠানোকে স্প্যামিং বলে। এই কাজ যারা করে তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়।
• স্পুফিং (Spoofing):
- নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং আক্রমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোন ব্যক্তি বা একটি পোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে।
• স্নিকিং (Sneaking):
- গোপনে বা সন্তর্পণে ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি নিজের আওতায় নিয়ে আসাকে স্পিকিং (Sneaking) বলে।
• প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism):
- অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোন সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করারই হল প্লেজিয়ারিজম।
• ডিবাগিং (Debugging):
- প্রোগ্রামিং এর ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে তা দূর করাকে ডিবাগিং বলে।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
• RISC-এর পূর্ণরূপ হলো Reduced Instruction Set Computing (গ)। RISC হলো এক ধরনের প্রসেসর নকশা যেখানে সীমিত ও সরল নির্দেশনার সেট ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রতিটি নির্দেশনা খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। জটিল নির্দেশনার পরিবর্তে সহজ নির্দেশনার ব্যবহার প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর ফলে RISC ভিত্তিক প্রসেসরগুলো মোবাইল, এম্বেডেড সিস্টেম ও আধুনিক ডিভাইসে বেশি ব্যবহৃত হয়। ছোট নির্দেশনা সেট থাকার কারণে হার্ডওয়্যার ডিজাইনও তুলনামূলক সহজ হয়, যা খরচ কমাতে সাহায্য করে। মোটের ওপর, RISC দ্রুত, কার্যকর ও সহজ নকশার প্রসেসর আর্কিটেকচার হিসেবে পরিচিত।
• RISC (Reduced Instruction Set Computer):
- RISC হলো এমন এক মাইক্রোপ্রসেসর আর্কিটেকচার যা simplicity এবং গতির ওপর জোর দেয়। এর মূল ধারণা হলো, কম এবং সরল ইনস্ট্রাকশন সেট ব্যবহার করে প্রোগ্রামের কার্যসম্পাদনকে দ্রুততর করা।
- RISC প্রসেসরগুলো দ্রুত এবং দক্ষ, কারণ এগুলো কমপ্লেক্স ইনস্ট্রাকশনকে ছোট ছোট সহজ ইনস্ট্রাকশনে ভেঙে কার্যকর করে।
- আধুনিক মোবাইল প্রসেসরগুলো (যেমন ARM architecture) মূলত RISC ভিত্তিক।
- RISC আর্কিটেকচার কম শক্তি খরচ করে, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে এবং ব্যাটারি-চালিত ডিভাইসের (যেমন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট) জন্য আদর্শ।
উৎস:
- Encyclopedia Britannica.
LAN এর টপোলজি সাধারণত রিং, স্টার, কিংবা ব্রডকাস্ট চ্যানেল মেথড হয়ে থাকে।
ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে সাধারণত কো-এক্সিয়াল, ইউটিপি ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।
LAN এর পূর্ণরূপ হল- Local Area Network
একাধিক ব্যক্তির কাজের সমন্বয় সাধন ও গতি বৃদ্ধির জন্য একই ভবনের এক তলা থেকে অন্য তলায়, পাশাপাশি ভবনে কিংবা একই এলাকার এক স্থান থেকে অন্য স্থানের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয় তাকে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বলে।
সুত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান
◉ IBM Watson হলো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড-ভিত্তিক সিস্টেম, যা ডেটা বিশ্লেষণ, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ (NLP) এবং মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে জটিল সমস্যা সমাধান করে।
আইবিএম (IBM):
- IBM একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি।
- IBM এর পূর্ণরূপ হচ্ছে International Business Machines Corporation.
- IBM এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন চার্লস র্যানলেট ফ্লিন্ট।
- এটি ১৯১১ সালের ১৬ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি শুরুতে কম্পিউটিং-ট্যাবুলেটিং-রেকর্ডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- পরে ১৯২৪ সালে নাম দেওয়া হয় 'ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস'।
- এর সদরদপ্তর আরমংক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- IBM এর বর্তমান লোগোটি ১৯৭২ সাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- আইবিএম কোম্পানির তৈরি প্রথম কম্পিউটারের নাম মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
- আইবিএম কোম্পানিকে বিগ ব্লু নামে ডাকা হয়।
উৎস: আইবিএম অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
• ন্যানো প্রযুক্তি মূলত ন্যানো স্কেলে পদার্থ নিয়ে কাজ করে।
• ন্যানো প্রযুক্তির ধারণা:
- ন্যানো প্রযুক্তি হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি যেখানে অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় (ন্যানো স্কেলে) পদার্থ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করা হয়।
- এই স্কেলে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ভিন্নভাবে কাজ করে, যা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশেষ সুবিধা দেয়।
• তথ্যপ্রযুক্তিতে ন্যানো প্রযুক্তি:
- কম্পিউটার চিপ, প্রসেসর ও মেমোরি ডিভাইস আরও ছোট, দ্রুত ও শক্তিশালী করতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
- কম শক্তি খরচে বেশি কার্যক্ষম ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে ন্যানো প্রযুক্তির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
• ন্যানো প্রযুক্তির অন্যান্য ব্যবহার:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দিতে ন্যানো কণা ব্যবহার করা হয়।
- পরিবেশ সংরক্ষণে পানি বিশুদ্ধকরণে ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।
- শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে হালকা ও টেকসই উপকরণ তৈরিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
• ন্যানো প্রযুক্তির গুরুত্ব:
- আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করে।
- ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ন্যানো প্রযুক্তি বিবেচিত।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
• যেসব রোবট ঘূর্ণন ছাড়াই একাধিক দিক দিয়ে চলতে সক্ষম, সেগুলোকে ওমনি-ডিরেকশনাল রোবট বলা হয়। এই রোবটগুলোতে বিশেষ ধরনের চাকা থাকে, যা একদিকে ঘোরার পাশাপাশি পাশের দিকে বা তির্যকভাবে চলার ক্ষমতা দেয়। ফলে রোবটটি কোন স্থান পরিবর্তনের জন্য ঘূর্ণন করতে হয় না, বরং সরাসরি যেকোনো দিক দিয়ে চলতে পারে। এর ফলে ঘনবসতি বা জটিল পরিবেশে দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। সাধারণ হুইল্ড বা লেগ রোবটের তুলনায়, ওমনি-ডিরেকশনাল রোবট স্থানসংকুলে বা ফ্যাক্টরিতে মালামাল পরিবহনে অনেক বেশি কার্যকর। এটি স্বয়ংচালিত গাড়ি ও অটোমেশন সিস্টেমেও ব্যবহৃত হয়।
উত্তর: ঘ) ওমনি-ডিরেকশনাল রোবট।
• রোবট:
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যে মেশিন মানুষের মতো কাজ করে তাকে বলা হয় রোবট।
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির রোবট 'মুরাতা বয়'।
- স্যামসাং কোম্পানির রোবট 'রোবোরো'।
- হংকং ভিত্তিক হ্যানসন রোবটিক্স কোম্পানির রোবট 'সোফিয়া'।
- সনি কর্পোরেশন কোম্পানির রোবট 'আইবো'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
• বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন-
- শিল্পের বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করা।
- বৃহৎ মেশিনের কষ্টদায়ক যন্ত্রপাতির সংযোজন।
- খনি হতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ উত্তোলন।
- মহাকাশ গবেষণায় রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মহাশূন্যের ছবি সংগ্রহ।
- ক্ষতিকর বিস্ফোরক সনাক্তকরণে।
- গৃহস্থালীর কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
- গভীর অরণ্য কিংবা বহুদূরত্বে শত্রুর উপস্থিতির প্রমাণে।
- শিল্প কারখানায় দ্রুত উৎপাদন কার্য হাসিলে রোবটের ব্যবহার হচ্ছে; ইত্যাদি।
উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে।
• সেবার ধরন অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
• laaS (Infrastructure as a Service):
- এটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অবকাঠামোগত সেবা।
- এখানে ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক, CPU, স্টোরেজ ইত্যাদি ভাড়া দেয়।
- ব্যবহারকারী নিজে অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার ইনস্টল করে চালাতে পারেন।
উদাহরণ:
- Amazon EC2,
- Google Cloud Storage,
- Rackspace.
• PaaS (Platform as a Service):
- এটি একটি প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা।
- এখানে ডেভেলপাররা নিজের অ্যাপ তৈরি ও চালাতে পারেন, কিন্তু সার্ভার/ওএস মেইনটেইন করতে হয় না।
- ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, OS, ডেটাবেজ, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি সরবরাহ করে।
উদাহরণ:
- Google App Engine,
- Microsoft Azure App Services,
- Heroku,
- Salesforce Platform.
• SaaS (Software as a Service):
- এটি একটি সম্পূর্ণ সফটওয়্যার সেবা।
- ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সফটওয়্যার ব্যবহার করেন।
- আলাদা করে ইনস্টল করার দরকার পড়ে না।
উদাহরণ:
- Google Docs,
- Microsoft 365,
- Lotus,
- Zoho.
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud) : জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ক্লাউডকে পাবলিক ক্লাউড বলে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত সকলের বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন, স্টোরেজ এবং অন্যান্য রিসাের্স ইত্যাদির সার্ভিসযুক্ত ক্লাউড-ই পাবলিক ক্লাউড।
Amazon, Microsoft এবং Google ইত্যাদি তাদের নিজস্ব ডেটা সেন্টারে পাবলিক ক্লাউডের অবকাঠামাে স্থাপন ও পরিচালনা করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে।
• Dropbox-কে সাধারণত Software as a Service (SaaS) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।
• ড্রপবক্স (dropbox.com):
- ড্রপবক্স একটি ফাইল হোস্টিং সার্ভিস, যা ড্রপবক্স ইনকর্পোরেশন নামক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত হয়।
- এমআইটি-এর ড্রিউ হিউস্টন (Drew Houston) ও আরাশ ফেরদৌসী (Arash Ferdowsi) ২০০৭ সালে ড্রপবক্স ইনকর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সার্ভিসটি ক্লাউড স্টোরেজ, ফাইল সিনক্রোনাইজেশন ও ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার সার্ভিস দিয়ে থাকে।
- ড্রপবক্স তাদের ব্যবহারকারীদের নিজস্ব কম্পিউটারে একটি নির্দিষ্ট ড্রপবক্স সিনক্রোনাইজড ফোল্ডার তৈরি করতে দেয়, যা ব্যবহারকারী পরবর্তীকালে যে কোনো কম্পিউটার থেকে হুবহু অ্যাকসেস করতে পারে।
- ড্রপবক্স মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড, ম্যাক ওএস এক্স, লিনাক্স, গুগল অ্যান্ড্রয়েড, অ্যাপল আইওএস, ব্ল্যাকবেরি ওএস এবং ওয়েব ব্রাউজারগুলোর জন্য ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে।
• Software as a Service (SaaS) মডেল:
- SaaS মডেলের অধীনে, ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সরাসরি একটি সম্পূর্ণ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন (যেমন: ফাইল স্টোরেজ, শেয়ারিং, সিঙ্ক্রোনাইজেশন) ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।
- যেহেতু Dropbox একটি তৈরি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে কাজ করে এবং ব্যবহারকারী এটি সরাসরি ব্যবহার করে, তাই এটি SaaS মডেলের সর্বোত্তম উদাহরণ।
- এখানে Dropbox কোম্পানিই অ্যাপ্লিকেশন, ডাটা, রানটাইম, অপারেটিং সিস্টেম এবং সার্ভারসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা করে।
উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি মাহবুবুর রহমান।
২। ব্রিটানিকা।
• ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৬০ এর দশ থেকেই।
• তবে ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।
• ২০১০ সালে The Rackspace Cloud এবং NASA মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস শুরু করে।
• এভাবেই ক্লাউড কম্পিউটিং জনসাধারণের মুঠোয় আসতে শুরু করে।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
• বিল গেটস (Bill Gates) এবং পল অ্যালেন (Paul Allen) ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন।
• মাইক্রোসফট:
- মাইক্রোসফট ১৯৭৫ সালে বিল গেটস এবং পল অ্যালেন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা Altair 8800 মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য বেসিক ইন্টারপ্রেটার তৈরির মাধ্যমে কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন।
- মাইক্রোসফটের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে অবস্থিত।
- বর্তমান সিইও হলেন সত্য নাদেলা (জুন, ২০২৫), যিনি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, মাইক্রোসফট অফিস স্যুট (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, আউটলুক ইত্যাদি) এবং মাইক্রোসফট এজ ওয়েব ব্রাউজারের জন্য বিখ্যাত।
- মাইক্রোসফটের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের নাম Azure।
- মাইক্রোসফটের প্রথম অপারেটিং সিস্টেম ছিল MS-DOS, যা ১৯৮১ সালে IBM-এর পার্সোনাল কম্পিউটারের জন্য তৈরি করা হয়। এটি ছিল একটি কমান্ড-লাইন ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম।
উৎস: মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
• নেটওয়ার্কিং-এ একটি অ্যাকটিভ হাবের মূল কাজ হলো নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বৃদ্ধি ও ফরওয়ার্ড করা। এটি কেবল একটি প্যাসিভ ডিভাইস নয়, বরং পাওয়া সিগন্যালকে শক্তিশালী করে এবং সংশ্লিষ্ট পোর্টে পুনঃপ্রেরণ করে। অর্থাৎ, যখন কোনো ডিভাইস হাবে ডেটা পাঠায়, তখন অ্যাকটিভ হাব সেই সিগন্যাল গ্রহণ করে, প্রয়োজনমতো তার শক্তি বাড়ায় এবং নেটওয়ার্কের অন্য সমস্ত ডিভাইসে পাঠায়। এটি নেটওয়ার্কের কাজের দক্ষতা বাড়ায় এবং ডেটা দূরত্ব বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সাধারণ হাবের তুলনায় অ্যাকটিভ হাব দীর্ঘ দূরত্বের জন্য আরও কার্যকর, কারণ এটি সিগন্যালকে দুর্বল হওয়া থেকে রক্ষা করে। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বৃদ্ধি ও ফরওয়ার্ড করা।
হাব:
- হাবের মাধ্যমে কম্পিউটারসমূহ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- হাবের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে কম্পিউটারের সংযোগের সংখ্যা।
- স্টার টপোলজিতে হাব একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- হাবে মাল্টিপল পোর্ট থাকে।
- যখন একটি প্যাকেট কোন একটি পোর্টে পৌছায়, এটি সেই প্যাকেটকে কপি করে হাবের সকল পোর্টে পাঠায়।
- কার্যকারিতার দিক থেকে হাব দুই প্রকার।
যথা-
১। সক্রিয় হাব (Active HUB):
- এ ধরণের হাব সংকেতের মানকে বৃদ্ধি করে, আবার কোন কোন সক্রিয় হাব সংকেতকে অল্প মাত্রায় প্রসেসও করে থাকে।
- এই সকল হাব মূল সংকেত থেকে অপ্রয়োজনীয় সংকেত বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংকেত প্রেরণ করে।
২। নিষ্ক্রিয় হাব (Passive HUB):
- এ ধরণের হাব সংকেতের মানকে বৃদ্ধি করে।
- এ সকল হাব শুধু তথ্য আদান প্রদানে সহায়তা করে মাত্র। এজন্য এই সকল হাবকে কোন সক্রিয় হাবের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• টোকেনাইজেশন হলো ChatGPT–এর কাজের প্রথম ধাপ, যেখানে ব্যবহারকারীর ইনপুটকে ছোট ছোট Token–এ বিভক্ত করে পরবর্তী বিশ্লেষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
• ChatGPT-এর কাজের প্রক্রিয়া:
- ChatGPT একটি Generative Pre-trained Transformer (GPT) ভিত্তিক Language Model।
- এটি OpenAI কর্তৃক উন্নয়নকৃত একটি Artificial Intelligence সিস্টেম।
- ব্যবহারকারী যখন কোনো প্রশ্ন বা নির্দেশ প্রদান করে, তখন সিস্টেম প্রথমে ইনপুটকে Token–এ বিভক্ত করে (Tokenization)।
- Token হলো শব্দ বা শব্দাংশের ক্ষুদ্র একক, যা মডেল বিশ্লেষণ করে।
- এরপর Transformer Architecture ব্যবহার করে ইনপুটের প্রসঙ্গ (Context) ও শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।
- মডেলটি পূর্বপ্রশিক্ষিত (Pre-trained) বৃহৎ পরিমাণ টেক্সট ডেটার উপর ভিত্তি করে ভাষার প্যাটার্ন শিখে থাকে।
- প্রশ্নের প্রেক্ষাপট বুঝে সম্ভাব্য পরবর্তী শব্দ নির্ধারণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ উত্তর তৈরি করে।
- এই প্রক্রিয়াটি Probability Distribution–এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সর্বাধিক উপযুক্ত শব্দ নির্বাচন করা হয়।
- Natural Language Processing (NLP) ও Deep Learning প্রযুক্তি এই প্রক্রিয়ার ভিত্তি।
• Transformer প্রযুক্তি:
- এটি Self-attention Mechanism ব্যবহার করে বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ধারণ করে।
- দীর্ঘ ইনপুটেও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে সক্ষম।
• Pre-training ও Fine-tuning:
- Pre-training ধাপে বিশাল টেক্সট ডেটা থেকে ভাষার কাঠামো শেখানো হয়।
- Fine-tuning ধাপে নির্দিষ্ট কাজের জন্য মডেলকে উন্নত করা হয়।
• অন্যান্য অপশন:
- ইমেজ রেন্ডারিং → গ্রাফিক্স বা ছবি প্রদর্শনের প্রযুক্তি।
- ডেটাবেজ ফরম্যাটিং → ডেটাবেজ কাঠামো বিন্যাসের প্রক্রিয়া।
- হার্ডওয়্যার এনক্রিপশন → ডিভাইস স্তরে তথ্য সুরক্ষার কৌশল।
উৎস: OpenAI Official Documentation, Encyclopaedia Britannica (ChatGPT article)।
• Unimate: প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট, কারখানায় স্বয়ংক্রিয় কাজের জন্য ব্যবহৃত।
• রোবটিক্স(Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কার্যপদ্ধতি ও প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার(Joseph Frederick Engelberger)–কে রোবটিক্সের জনক(Father of Robotics) বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্ট বা গতি সৃষ্টির জন্য রোবটিক্সে অ্যাকচুয়েটর(Actuator) ব্যবহার করা হয়।
• রোবট ও রোবটিক্স শব্দের উৎপত্তি:
- Robotics শব্দটি এসেছে Robot শব্দ থেকে।
- Robot শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক(Karel Čapek)–এর একটি নাটকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- Robot শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে স্লাভিক শব্দ “Robota” থেকে, যার অর্থ হলো শ্রমিক(Labourer)।
• প্রথম রোবট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট:
- আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল(George Charles Devol) প্রথম রোবট তৈরি করেন।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল “Unimate”।
- Unimate রোবট প্রকল্পের উদ্যোক্তা ছিলেন জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার, যিনি শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার জনপ্রিয় করেন।
• অন্যান্য অপশন:
- ASIMO: হিউম্যানয়েড রোবট, যা মানুষের মতো বিভিন্ন কাজ করতে পারে।
- Sophia: সামাজিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট।
- Atlas: উন্নত গবেষণামূলক হিউম্যানয়েড রোবট।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
• IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বরের প্রথম ৮টি ডিজিটকে TAC (Type Allocation Code) বলা হয়। এই অংশটি মূলত ফোনের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বা ম্যানুফেকচারিং কোড এবং মডেলের ধরণ নির্দেশ করে।
• IMEI:
- এটি ১৫ ডিজিটের একটি অনন্য আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিটি মোবাইল হ্যান্ডসেটকে আলাদা করা যায়।
- এটি তিনটি অংশে বিভক্ত: প্রথম ৮ ডিজিট (TAC), পরবর্তী ৬ ডিজিট (সিরিয়াল নম্বর) এবং শেষ ১ ডিজিট (চেক ডিজিট)।
- IMEI-এর পূর্ণরূপ International Mobile Equipment Identity.
- এটি একটি নাম্বার যা নির্দিষ্ট ধরনের মোবাইল এবং স্যাটেলাইট ফোন সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি সাধারণত ব্যাটারি কম্পার্টমেন্টের ভিতরে প্রিন্ট করা হয় বা *#06# ডায়াল করে ফোনটি চালু হলে অ্যাক্সেস করা হয়।
- স্মার্টফোনে এটি বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমের সেটিংস মেনুতে পাওয়া যায়।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• “Computer Virus” শব্দটির নামকরণ করেন Fred Cohen.
• Fred Cohen:
- Fred Cohen ছিলেন একজন প্রখ্যাত গবেষক ও অধ্যাপক।
- তিনি কম্পিউটার নিরাপত্তা ও ভাইরাস গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
• কম্পিউটার ভাইরাস শব্দের ইতিহাস:
- ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর Fred Cohen প্রথম “Computer Virus” শব্দটির ব্যবহার করেন।
- তিনি কম্পিউটার ভাইরাসকে এমন একটি প্রোগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম।
• Fred Cohen–এর অবদান:
- তিনি প্রথম দেখান যে একটি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম কীভাবে নিজেকে কপি করে অন্য ফাইল বা সিস্টেমে সংক্রমিত করতে পারে।
- তাঁর গবেষণার মাধ্যমেই কম্পিউটার ভাইরাস একটি স্বীকৃত প্রযুক্তিগত ধারণা হিসেবে পরিচিত হয়।
• কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কম্পিউটারের তথ্য ও উপাত্তে আক্রমণ করে।
- নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা রাখে।
- এক পর্যায়ে পুরো কম্পিউটার সিস্টেমকে অচল করে দিতে পারে।
• অন্যান্য অপশন:
- Alan Turing আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
- Bill Gates Microsoft–এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
- Tim Berners-Lee World Wide Web (WWW)–এর উদ্ভাবক।
উৎস: শিক্ষায় আইসিটি, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• 'টুরিং টেস্ট' কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারনার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence):
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক হলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিং।
- ১৯৫০ সালে তার আবিষ্কৃত 'টুরিং টেস্ট' কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারনার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে।
টুরিং পুরস্কার:
- কম্পিউটারবিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজ ও গবেষণার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে আলোচিত টুরিং পুরস্কার।
- টুরিং পুরস্কারকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল প্রাইজের সমতুল্য ধরা হয়।
সোর্স: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হল সিমুলেটেড বা কৃত্রিম বাস্তব অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করা।
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR):
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) হলো কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি কল্পনাপ্রসূত পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীর কাছে বাস্তব মনে হয়।
- ব্যবহারকারী একটি হেডসেট এবং সেন্সরের সাহায্যে সেই পরিবেশে প্রবেশ করতে এবং তার সাথে মিথস্ক্রিয়া (interact) করতে পারেন।
- VR-এর প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি কৃত্রিম, কিন্তু বাস্তব-সদৃশ অভিজ্ঞতা তৈরি করা যা ব্যবহারকারীকে মনে করিয়ে দেয় যে তারা সত্যিই সেই পরিবেশে আছে। এই পদ্ধতিকে সিমুলেশন (Simulation) বলা হয়।
• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির ব্যবহার:
- ত্রিমাত্রিক (3D) ইমেজ তৈরি করে।
- গেমিং, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ (যেমন - পাইলট বা সার্জনদের জন্য) এবং স্থাপত্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
• ব্যবহৃত সফটওয়্যার:
- Vizard,
- VRToolKit,
- 3D Studio Max,
- Maya.
উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মাহবুবুর রহমান।
২। ব্রিটানিকা।
• Firefox একটি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন নয়, বরং এটি একটি ওয়েব ব্রাউজার।
• সার্চ ইঞ্জিন:
- ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা আন্তর্জালের দুনিয়াতে যেকোনো তথ্য বা ছবি খুঁজে বের করার প্রযুক্তি মাধ্যম।
- সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।
- ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন ক্রোলার বট এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে।
- বিশ্বের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন Archie.
- Bing মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিন।
• বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে:
- Google,
- Bing,
- Yahoo,
- Yandex,
- DuckDuckGo,
- Baidu ইত্যাদি।
• ওয়েব ব্রাউজার:
- ওয়েব ব্রাউজার হলো এমন একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন যা ব্যবহারকারীদের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব অ্যাক্সেস করতে এবং ওয়েব পেজ দেখতে সহায়তা করে।
- এর প্রধান কাজ হলো এইচটিএমএল ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য ডেটা ওয়েব সার্ভার থেকে নিয়ে এসে ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রদর্শন করা।
- ওয়েব ব্রাউজারকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার গেটওয়ে বলা যেতে পারে।
- কিছু জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারের হলো:
- Google Chrome, Mozilla Firefox, Safari, Opera, Microsoft Edge, Maxthon, Brave, UC Browser.
• ব্রাউজার এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ই ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য হলেও, এদের ভূমিকা ভিন্ন। ব্রাউজার হলো ডেটা দেখার মাধ্যম, আর সার্চ ইঞ্জিন হলো সেই ডেটা খুঁজে বের করার টুল।
- উদাহরণস্বরূপ, আপনি Firefox নামক ব্রাউজারে Google নামক সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারেন।
উৎস: ব্রিটানিকা ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
TCP:
- TCP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Transmission Control Protocol.
- ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া বা ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রটোকলের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে টিসিপি।
- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সঙ্গে নিরাপদে সংযোগ স্থাপন অনেকটা টিসিপির ওপর নির্ভর করে।
- ই-মেইলের মতো ইন্টারনেটের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনেও টিসিপি ব্যবহার করা হয়।
- টিসিপির প্রধান কাজ তিনটি।
যথা- ১. 'বাইট স্ট্রিম' সরবরাহ করা, ২. সংযোগবিষয়ক এবং ৩. আস্থা স্থাপন।
- কয়েকটি ছোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি ফাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ কারণেই প্রেরণ করার সময় ফাইলগুলো অন্য লিঙ্কে প্রবেশ করা থেকে এবং হারিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকে।
উৎস: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাইনারি সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করার সময় সাধারণত ৩টি বাইনারি ডিজিট একসাথে নেওয়া হয়। কারণ একটি অক্টাল সংখ্যা ০ থেকে ৭ পর্যন্ত মান নিতে পারে, যা বাইনারিতে ৩টি বিট দ্বারা প্রকাশ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাইনারি ০০০ মানে অক্টাল ০, ১১১ মানে অক্টাল ৭। তাই বড় কোনো বাইনারি সংখ্যাকে অক্টালে রূপান্তর করতে সেটি তিনটি করে বিট ভাগ করে অক্টাল মান বের করা হয়। এটি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোনো মান হারানোর ঝুঁকি কমায়। অতএব, সঠিক উত্তর হলো: ৩টি।
• একটি অক্টাল সংখ্যাকে বাইনারিতে রূপান্তর করলে প্রতি অঙ্কের জন্য ৩টি বাইনারি বিট লাগে।
উদাহরণস্বরূপ:
অক্টাল 7 = বাইনারি 111
অক্টাল 5 = বাইনারি 101
সুতরাং, বাইনারি থেকে অক্টাল রূপান্তরের সময় প্রতি ৩টি বাইনারি বিট = ১টি অক্টাল ডিজিট। এজন্য ৩টি বাইনারি ডিজিট একসাথে গ্রুপ করা হয়।
বাইনারি থেকে অক্ট্যাল রূপান্তর:
- একটি অক্ট্যাল সংখ্যা তিন বিট বাইনারি দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- আমরা জানি, বাইনারি সংখ্যার ভিত্তি ২ এবং অক্ট্যাল সংখ্যার ভিত্তি ৮।
- বাইনারি সংখ্যাকে অক্টালে রূপান্তর করতে সংখ্যাটির অংকগুলোকে তিন বিট বিশিষ্ট ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়।
- এরপর প্রতিটি গ্রুপের সমতুল্য অক্ট্যাল মান বসালে তা বাইনারি থেকে অক্টালে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সরকারি কার্যক্রম ও সেবাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার ব্যবস্থাকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
• ই-গভর্নেন্সের সংজ্ঞা:
- সরকারি কার্যক্রম ও সেবাকে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিচালনার ব্যবস্থাকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ড কাগজভিত্তিক পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়।
• ই-গভর্নেন্সের মূল ধারণা:
- সরকারি কাজ ও প্রক্রিয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগই হলো ই-গভর্নেন্স।
- ই-গভর্নেন্স জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে।
- ডিজিটাল তথ্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজে আদান-প্রদান করা যায়।
• ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধা:
- সরকারি সেবা স্বল্প সময়ে ও কম খরচে পাওয়া যায়।
- সেবা গ্রহণে হয়রানি কমে আসে।
- সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- নাগরিকরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারে।
• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- ই-কমার্স: অনলাইনে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা।
- ই-লার্নিং: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি।
- ই-ব্যাংকিং: ব্যাংকিং সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালনার ব্যবস্থা।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ Tim Berners-Lee হলেন World Wide Web (WWW)-এর জনক। তিনি ১৯৮৯ সালে CERN-এ কাজ করার সময় ওয়েব ব্রাউজার, হাইপারটেক্সট, HTTP ও HTML প্রোটোকল তৈরি করেন, যা আজকের ইন্টারনেটের ভিত্তি গঠন করে।
WWW:
- WWW এর পূর্ণরূপ হলো World Wide Web.
- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব(WWW) হলো সুইজারল্যান্ডের গবেষকদের দ্বারা উদ্ভাবিত একটি হাইপারটেক্সট ভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউটেড ইনফরমেশন সিস্টেম।
- এটি একটি বৃহৎ সিস্টেম যা অনেকগুলো সার্ভার সংযুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়।
- টিম বার্নাস লি (Tim Berners-Lee) ১৯৮৯ সালে সুইজারাল্যান্ডের জেনেভায় WWW তৈরি করেন।
- টিম বার্নাস লিকে (Tim Berners-Lee) WWW এর জনক বলা হয়।
- ECRN (The European Center for Nuclear Research) -এ ১৯৮৯ সালে WWW এর সূচনা হয়।
- WWW এর বহুল প্রচলন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• Resource Scalability বৈশিষ্ট্য গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী রিসোর্স বাড়ানো বা কমানোর সুবিধা দেয়।
• Resource Scalability:
- Resource Scalability হলো ক্লাউড কম্পিউটিং-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেখানে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী রিসোর্স সহজে বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যায়।
- গ্রাহকের চাহিদা ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, ক্লাউড সেবাদাতা সেই অনুযায়ী রিসোর্স সরবরাহ করতে পারে।
• NIST অনুযায়ী Resource Scalability:
- NIST-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ক্লাউড কম্পিউটিং মডেলে রিসোর্স elastic ও scalable হয়।
- অর্থাৎ ব্যবহারকারী যত বেশি সেবা চায়, সেবাদাতা তত বেশি পরিমাণে computing power, storage বা bandwidth দিতে পারে।
• ক্লাউড ব্যবহারে Resource Scalability-এর গুরুত্ব:
- হঠাৎ ব্যবহারকারী সংখ্যা বেড়ে গেলে সার্ভিস বন্ধ না করে দ্রুত রিসোর্স বাড়ানো সম্ভব হয়।
- আবার প্রয়োজন কমে গেলে অতিরিক্ত রিসোর্স কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
• অন্যান্য অপশন:
- On-demand service গ্রাহককে যেকোনো সময় সেবা নেওয়ার সুবিধা দেয়।
- Pay-as-you-go হলো ব্যবহারভিত্তিক পেমেন্ট মডেল।
- Virtualization হলো হার্ডওয়্যার রিসোর্সকে ভার্চুয়ালি ভাগ করে ব্যবহারের প্রযুক্তি।
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• OpenAI:
- এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য পরিচিত।
- এটি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যা যান্ত্রিক শিক্ষণ, ভাষা মডেল, এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের উন্নয়নে কাজ করে।
- OpenAI-এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো ChatGPT, যা মানুষের মতো ভাষায় কথা বলার এবং জটিল তথ্য বোঝার সক্ষমতা রাখে। - প্রতিষ্ঠানটি কেবল মডেল তৈরি করে না, বরং এদের ব্যবহার নিরাপদ ও নৈতিকভাবে করার দিকে গুরুত্ব দেয়।
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) হচ্ছে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়।
- মানুষ যেভাবে চিন্তা করে তেমনি কৃত্রিম উপায়ে কম্পিউটারে সেভাবে চিন্তা ভাবনার রূপদান করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) বলে।
- AI এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কম্পিউটারকে উন্নত করা।
» কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কিছু স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য:
- কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ।
- সমস্যার কারণ নির্ণয়পূর্বক সমাধানের পথ নির্দেশ।
- সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা।
- সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা।
- নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন।
- ভাষা বুঝার ক্ষমতা।
- অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবার মত সক্ষমতা।
- মানুষের মত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো।
- পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় অনুধাবন এবং সাড়া দেয়ার ক্ষমতা।
- জটিল অবস্থা অনুধাবন ও পরিচালনার ক্ষমতা।
তথ্যসূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• স্মার্টফোনে GPS ব্যবহার করতে মূলত সেটেলাইট সিগন্যাল (Satellite Signal) প্রয়োজন। GPS বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। ফোনের GPS রিসিভার এই স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণ করে এবং সময় ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান বের করে। অন্য অপশনগুলো যেমন DHCP ইন্টারনেট সংযোগের জন্য, অ্যাক্সেলরোমিটার এবং জাইরোস্কোপ মোবাইলের আন্দোলন, ঘূর্ণন বা স্ক্রীন অরিয়েন্টেশন বুঝতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু অবস্থান নির্ধারণের জন্য সরাসরি প্রয়োজন হয় না। তাই GPS চালু করতে সেটেলাইট সিগন্যাল অপরিহার্য।
• GPS:
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System।
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম।
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে।
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।
- এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।
স্মার্টফোনে GPS-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার:
- Google Maps, Apple Maps, Waze-এর মাধ্যমে পথনির্দেশনা পাওয়া।
- রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ (Uber, Pathao, Bolt) ব্যবহার করে গন্তব্য নির্ধারণ করা।
- লোকেশন-ভিত্তিক সার্ভিস (Location-based Services) যেমন ফেসবুক চেক-ইন বা ফাইন্ড মাই ফোন ব্যবহার করা।
- স্মার্টফোন চুরি হলে তার অবস্থান ট্র্যাক করা।
• DHCP (Dynamic Host Configuration Protocol):
- DHCP হলো একটি নেটওয়ার্ক প্রোটোকল যা কম্পিউটার বা ডিভাইসকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে IP অ্যাড্রেস প্রদান করে।
- এটি মূলত ইন্টারনেট বা লোকাল নেটওয়ার্কে সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- DHCP-এর সাথে GPS-এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
- IP অ্যাড্রেস পাওয়া মানে অবস্থান নির্ণয় করা যায় না।
• Accelerometer:
- Accelerometer হলো একটি সেন্সর যা ডিভাইসের ত্বরণ (Acceleration) পরিমাপ করে।
- এটি সাধারণত স্ক্রিনের অটো-রোটেশন, পদক্ষেপ গণনা বা গেম কন্ট্রোলের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- GPS-এর মতো অবস্থান নির্ণয় করতে Accelerometer একা যথেষ্ট নয়।
- এটি শুধুমাত্র মোশন বা ভঙ্গি নির্ধারণে সাহায্য করে।
• Gyroscope:
- Gyroscope হলো একটি সেন্সর যা ডিভাইসের ঘূর্ণন বা Orientation পরিবর্তন নির্ণয় করে।
- এটি মোবাইলের অঙ্গভঙ্গি সনাক্তকরণ বা গেমিং ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত হয়।
- GPS-এর সাথে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এটি কেবল অবস্থান পরিবর্তনের দিক নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে।
• Satellite Signal:
- স্যাটেলাইট সিগন্যাল হলো GPS-এর জন্য অপরিহার্য উপাদান।
- GPS স্যাটেলাইট থেকে প্রেরিত সংকেত গ্রহণ করে ডিভাইসের অবস্থান নির্ণয় করে।
- সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের জন্য অন্তত ৪টি স্যাটেলাইটের সংকেত গ্রহণ করতে হয়।
- স্মার্টফোনে GPS কাজ করতে হলে এটি বাধ্যতামূলক।
সুতরাং, স্মার্টফোনে GPS ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো - স্যাটেলাইট সিগন্যাল।
উৎস:
- Microsoft. [link]
- ScienceDirect. [link]
- Britannica. [link]