বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৮০১৯০০ / ১,২৬৬

৮০১.
'নিম' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) বাংলা
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।
- এসব বিদেশি উপসর্গের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি ভাষার উপসর্গ বহুলভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- দীর্ঘদিন যাবৎ এসব উপসর্গ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার সঙ্গে বেমালুম মিশে গেছে।
- বাংলা ভাষায় ঠিক কতগুলাে বিদেশী উপসর্গ ব্যবহৃত তা জানা নেই।

'নিম' ফারসি উপসর্গ
- অর্ধেক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- উদাহরণ: নিমরাজি, নিমমােল্লা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০২.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. হাতেখড়ি
  2. সুনজর
  3. দাপট
  4. বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• 'সুনজর' শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- 'সুনজর' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- দাপট = দাপ + অট; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- হাতেখড়ি - পদলােপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
-'বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়' সন্ধি সাধিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৮০৩.
'অভিনিবেশ' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক অর্থে 
  2. খ) বিশেষ অর্থে
  3. গ) গমন অর্থে
  4. ঘ) আতিশয্য অর্থে
ব্যাখ্যা
অভি         সম্যক অর্থে                 অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিসার, অভিনিবেশ
                বিশেষ অর্থে                 অভিধান, অভিনয়, অভিনেতা, অভিভাবক
                গমন অর্থে                   অভিযান, অভিকেন্দ্র, অভিবাসী, অভিবাসন 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৪.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুনজর
  2. প্রচলন
  3. অবজ্ঞা
  4. হররোজ
ব্যাখ্যা
• 'কু' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ: কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ। 

অন্যদিকে, 
• 'প্র' তৎসম উপসর্গ যোগে প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে গঠিত শব্দ: প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত। 
• 'অব' তৎসম উপসর্গ যোগে হীনতা অর্থে গঠিত শব্দ: অবজ্ঞা, অবমাননা। 
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে প্রত্যেক অর্থে গঠিত শব্দ: হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮০৫.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রস্থান
  2. নিবৃত্তি
  3. অনুবাদ
  4. সুন্দর
ব্যাখ্যা
• সুন্দর → এটি একটি মূল শব্দ, এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'প্রস্থান' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র' যোগে গঠিত।
- 'নিবৃত্তি' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘নি’ যোগে গঠিত।
- 'অনুবাদ' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'অনু’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮০৬.
নিচের কোনটি আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. খাসমহল
  2. নিমরাজি
  3. বেদখল
  4. হররোজ
ব্যাখ্যা
খাসমহল আরবি 'খাস' উপসর্গ যোগে  গঠিত শব্দ।

• আরবি উপসর্গ:
- আম
- খাস,
- লা,
- গর।
অন্যদিকে,

- 'নিমরাজি' ,'বেদখল' ফারসি উপসর্গ যথাক্রমে 'নিম' ও 'বে' যোগে গঠিত হয়েছে।

- 'হররোজ' হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত  হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৮০৭.
নিচের কোন দুটি তৎসম উপসর্গের উদাহরণ?
  1. অধি, উৎ
  2. সা, হা
  3. ইতি, ঊন
  4. ভর, রাম
ব্যাখ্যা

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮০৮.
’অপসংস্কৃতি’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিপরীত
  2. স্থানান্তর
  3. বিশেষ
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• ‘অপসংস্কৃতি’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি ’নিকৃষ্ট’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’অপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’বিপরীত" অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• ’নিকৃষ্ট’ অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• ’স্থানান্তর’ অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন।
• ’বিকৃত’ অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৮০৯.
"লোকটি তিন দিন ধরে লাপাত্তা।"- এখানে 'লাপাত্তা' শব্দটি-
  1. প্রত্যয়যুক্ত
  2. অনুসর্গযুক্ত
  3. বিভক্তিযুক্ত
  4. উপসর্গযুক্ত
ব্যাখ্যা

• 'লাপাত্তা' 'লা' আরবি উপসর্গযুক্ত একটি শব্দ, যেখানে "লা" উপসর্গটি "পাত্তা" শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে। 'লাপাত্তা' শব্দের অর্থ 'নিরুদ্দেশ' বা 'নিখোঁজ'। 

---------------------- 
উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। 
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। 

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৮১০.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. ফুল
  2. হর
  3. বর
  4. গর
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮১১.
'অতিমানব' শব্দের 'অতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. আরবি 
  4. ফারসি 
ব্যাখ্যা
• 'অতিমানব' শব্দের ‘অতি’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮১২.
'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. আধিপত্য
  2. উপরি
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা

• 'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি - 'উপরি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি।
• 'উপরি' অর্থে- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিবাস, অধিগত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৮১৩.
'নিম' - কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

- 'নিম' - একটি ফারসি উপসর্গ।
- ‘নিম উপসর্গটি আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশি উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮১৪.
'নিন্দিত' অর্থে উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুসঙ্গ
  2. কুনজর
  3. কদাকার
  4. কুকথা
ব্যাখ্যা

• বাংলা 'কদ্' উপসর্গ যোগে নিন্দিত অর্থে গঠিত শব্দ- কদবেল, কদর্য, কদাকার

অন্যদিকে, 
• বাংলা 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ। 

------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮১৫.
খাসমহল, লাপাত্তা প্রভৃতি শব্দগুলো কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) ফারসি উপসর্গ
  2. খ) খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. গ) তৎসম উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা

আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৮১৬.
'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গ যুক্ত শব্দটি?
  1. ক) অবদান
  2. খ) অভিজ্ঞ
  3. গ) অভিজাত
  4. ঘ) আরক্ত
ব্যাখ্যা
অবদান (অব + দান) - 'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করছে।

• উপসর্গ:

- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ + জানা) - এখানে 'অ' একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

• অন্যান্য অপশন:
অভি + জ্ঞ (অভিজ্ঞ)-্সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
অভি + জাত (অভিজাত)- উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আ + রক্ত (আরক্ত)- ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৮১৭.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিমরাজী
ব্যাখ্যা

'নিমরাজী' শব্দটিতে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

♦উপসর্গ:
- এক ধরণের অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা কোনো শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়ে তার অর্থে পরিবর্তন, সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটায়।
- উপসর্গের নিজস্ব আলাদা অর্থ না থাকলেও শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থযুক্ত শব্দ গঠন করতে পারে।
- উপসর্গ ৩ প্রকার: বিদেশি উপসর্গ, খাঁটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে। পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- তবে বিদেশি উপসর্গের তালিকা নির্দিষ্ট বা স্থির নয়।
- নিমরাজী' শব্দটিতে 'নিম' একটি বিদেশি উপসর্গ কারণ এটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।
- ফারসি ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গ: না, নিম, ফি, বে, ব, দর, কার, বর, বদ, কম।
- আরবি উপসর্গ যেমন: আম, খাস, খয়ের,  গর্,  বাজে, লা।
-উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উল্লেখ্য, 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উল্লেখযোগ্য যে, আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- আনমনা এর ‘আন’ → দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে—যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮১৮.
নিচের কোন শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে?
  1. দরদালান
  2. অনুকরণ
  3. কারখানা
  4. আনমনা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিক্ষিপ্ত অর্থে ‘আন’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- আনমনা, আনচান।

অন্যদিকে,
• ফারসি ‘দর’ ও ‘কার’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- দরদালান ও কারখানা।
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুকরণ।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাং
লায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮১৯.
'বিভূঁই' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে যুক্ত হয়েছে?
  1. তুলনা
  2. ভিন্নতা
  3. সামান্য
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
• 'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গটি 'ভিন্নতা' অর্থে যুক্ত হয়েছে।
- 'বি' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ - বিফল, বিপথ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮২০.
কোনটি উপসর্গটি নঞ্‌ অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নি
  2. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় "অ, আ, নি" — তিনটি উপসর্গই নঞ্‌ অর্থ (না-বোধক, নেই, নয়, অভাব) প্রকাশ করে।

 
১. অ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- অজানা = না জানা;
- অচেনা = না চেনা;
- অসম্ভব = না সম্ভব;
- অনিচ্ছা = না ইচ্ছা।
 
২. আ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- আকাল = না কাল (অসময়);
- আধোয়া = না ধোয়া (অর্ধ ধোয়া)।
 
৩. নি-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- নিখুঁত = না খুঁত (দোষহীন);
- নিরাপদ = না আপদ (বিপদমুক্ত)।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮২১.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অধি
  2. আন
  3. সম
  4. অভি
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - আন।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- অভি, সম এবং অধি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮২২.
'অভাব' অর্থ প্রকাশ করেছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দ?
  1. ক) আকাঠা
  2. খ) আঁকাড়া
  3. গ) আভাস
  4. ঘ) আকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
আ' উপসর্গের ব্যবহার:
আঁকাড়া, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আকাঠা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আভাস, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আকণ্ঠ, পর্যন্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
 
৮২৩.
'উৎক্ষিপ্ত' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থ ধারণ করেছে?
  1. প্রস্তুতি
  2. গতি
  3. ঊর্ধ্ব
  4. অপকর্ষ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষিপ্ত’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষিপ্ত (মূল শব্দ)।

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষিপ্ত মানে হচ্ছে - উর্ধ্বে নিক্ষিপ্ত।

যেমন: কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষিপ্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৮২৪.
'আমজনতা'- শব্দে 'আম' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
• 'বকলম' শব্দে 'ব' উপসর্গটি - ফারসি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।
• এসব বিদেশি উপসর্গের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি ভাষার উপসর্গ বহুলভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এসব উপসর্গ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার সঙ্গে বেমালুম মিশে গেছে।

• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, বাজে, গর।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বড়, ব, কম।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
• হিন্দি: হর, হরেক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮২৫.
উপসর্গযোগে গঠিত কোন শব্দটির 'অনু' সাদৃশ্য অর্থে ব্যবহৃত?
  1. অনুগামী
  2. অনুবাদ
  3. অনুকম্পা
  4. অনুশীলন
ব্যাখ্যা
• ‘অনু’ উপসর্গ যোগে ‘সাদৃশ্য’ অর্থে গঠিত শব্দ হলো:
- অনুবাদ,
- অনুরূপ,
- অনুকার ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
'সাদৃশ্য' অর্থে 'অনু' - অনুবাদ, অনুকার।
'পশ্চাৎ' অর্থে 'অনু' - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুকরণ।
'পৌনঃপুনিকতা' অর্থে - অনুক্ষন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে - অনুকম্পা, অনুকূল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৬.
নিচের কোনটি উপসর্গের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) বিভক্তি বা প্রত্যয় যুক্তকরণ
  2. খ) শব্দের অর্থ সম্প্রসারণ
  3. গ) নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি
  4. ঘ) শব্দের অর্থের পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য- 
১. উপসর্গের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
২. এরা নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরি করে।
৩. উপসর্গগুলাে বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. উপসর্গগলাে অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
৫. এগুলাে নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৭.
বিদেশী উপসর্গের ব্যবহার রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) বিহার
  3. গ) সুলভ
  4. ঘ) নাবালক
ব্যাখ্যা

- নাবালক, নাবালিগ, নাবালেগ (বিশেষণ) - অপ্রাপ্তবয়স্ক; আইন অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়স্ক।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ফারসি ‘না’ উপসর্গ যোগে ‘না’ অর্থে নাবালক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- এরূপঃ নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোস, নালায়েক।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৮.
কোনটি তৎসম উপসর্গ?
  1. ঊন
  2. আড়
  3. উৎ
  4. অজ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮২৯.
'রহিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে।' বাক্যের 'বরখাস্ত' শব্দটি-
  1. প্রত্যয়যুক্ত
  2. বিভক্তিযুক্ত
  3. অনুসর্গযুক্ত
  4. উপসর্গযুক্ত
  5. ক ও ঘ 
ব্যাখ্যা

​• 'বর্' ফারসি উপসর্গ যোগে 'বাইরে/মধ্যে' অর্থে গঠিত শব্দ- বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ। 

​-----------------------
​• বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৩০.
'উৎক্ষিপ্ত' শব্দে 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উর্ধ্বমুখিতা
  2. আতিশয্য
  3. প্রস্তুতি
  4. নিশ্চয়তা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

সংস্কৃত উপসর্গ 'উৎ' উপসর্গের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
- 'উর্ধ্বমুখিতা' অর্থে = উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৩১.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উনবর্ষা
  2. ভরপেট
  3. তেপায়া
  4. অকাজ
ব্যাখ্যা

• তেপায়া- উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে 'তে' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
উনবর্ষা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'উন' রয়েছে।
ভরপেট - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'ভর' রয়েছে।
অকাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৩২.
’অঘাচণ্ডী’ শব্দের ’অঘা’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিকৃষ্ট
  2. অশুভ
  3. বোকা
  4. পাপ
ব্যাখ্যা

’অঘা’ উপসর্গের ব্যবহার: 
’বোকা’ অর্থে - অঘারাম, অঘাচণ্ডী।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা:
→  অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৮৩৩.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. সম
  2. অজ
  3. অতি
  4. অধি
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - অজ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- সম, অতি এবং অধি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৩৪.
বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপযশ 
  2. আবছায়া
  3. অবমাননা 
  4. অনুগামী 
ব্যাখ্যা

• অস্পষ্টতা অর্থে 'আব' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- আবছায়া, আবডাল। 

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে, 
অপযশ, অবমাননা ও অনুগামী তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত। 

-------------------
• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৩৫.
​নিচের কোনটি উপসর্গের বৈশিষ্ট্য নয়?​
  1. অর্থের সম্প্রসারণ ঘটানো
  2. অর্থের সংকোচন ঘটানো
  3. স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হওয়া
  4. নতুন শব্দ তৈরি করা
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।

যেমন:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়, 
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে, 
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

• ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ। যেমন 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ' যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩৬.
'বরবাদ' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• বর্-ফারসি উপসর্গ যোগে 'বাইরে, মধ্যে' অর্থে গঠিত শব্দ-  বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ। 

--------------------
• বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হিন্দি উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮৩৭.
'পরীক্ষা' শব্দের 'পরি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ রূপ
  2. শেষ
  3. সম্পূর্ণ
  4. সম্যক রূপে
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'পরি' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিশেষ রূপ = পরিপক্ব, পরিপূর্ণ।
- শেষ অর্থে = পরিশেষ।
- সম্যক রূপে = পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা
- চতুর্দিক অর্থে = পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩৮.
'বেকায়দা' শব্দের 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'বেকায়দা' শব্দের 'বে' ফারসি উপসর্গ।
এখানে 'বে' উপসর্গটি না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
'লাখেরাজ' শব্দের 'লা'- কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'লাখেরাজ':
- শব্দের 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গ।
- এখানে 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।

• 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হল:
- আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৪০.
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি'-উপসর্গটি কি অর্থ বোঝায়?
  1. বড়
  2. ছোট
  3. মন্দ
  4. বিপ্সা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি 'ক্ষুদ্র/ ছোট অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি বাংলা উপসর্গ। 
 
• এরূপ ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয় আরো কিছু শব্দ:
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতিকুয়ো ইত্যাদি।
 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪১.
কোন গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ?
  1. পাতি, বি, ভর
  2. রাম, স, সা
  3. আব, ইতি, ঊন
  4. অব, নির, দুর
ব্যাখ্যা

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৪২.
'প্রতিধ্বনি' শব্দে 'প্রতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) বিপরীত
  2. খ) অভিমুখে
  3. গ) তুল্য
  4. ঘ) বিশেষ
ব্যাখ্যা
- 'প্রতিধ্বনি' শব্দে 'প্রতি' উপসর্গটি তুল্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
- 'বিজ্ঞান' শব্দে 'বি' উপসর্গটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- 'পরাজয়' শব্দে 'পরা' উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- 'সম্মুখ' শব্দে 'সম্‌' উপসর্গটি অভিমুখে অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৪৩.
'লাপাত্তা' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

• 'লাখেরাজ' শব্দটি 'আরবি' উপসর্গযোগে গঠিত।

• 'লা' উপসর্গযোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৪৪.
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ-
  1. কদ
  2. দুর
  3. ইতি
  4. আন
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম,
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৪৫.
'অনাবৃষ্টি' শব্দটিতে 'অনা' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. অশুভ
  3. নিকৃষ্ট
  4. পুরানো
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• অভাব অর্থে খাাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর ইত্যাদি।

----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৪৬.
'দরকাঁচা' শব্দের 'দর্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অধীন
  2. মধ্যস্থ
  3. খাঁটি
  4. সামান্য
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গ ১০টি।
যথা: কার্‌, দর্‌, না, নিম্‌, ফি, বদ্‌, বে, বর্‌, ব্‌, কম্‌।

বিভিন্ন অর্থে 'দর্‌' উপসর্গের ব্যবহার:
- মধ্যস্থ / অধীন অর্থে: দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
- সামান্য অর্থে: দরকাঁচা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪৭.
'কুযশ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
'কুযশ' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।

'কু' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম, কুযশ।

বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮৪৮.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. দুর
  2. লা
  3. ভর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
অন্যদিকে,
- 'ভর' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'দুর' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৪৯.
অধি, অভি, প্রতি - কোন ধরণের উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বাংলা উপসর্গ
  2. খ) সংস্কৃত উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• উৎ, অতি, অব, উপ  - সংস্কৃত উপসর্গ।

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা-
- বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা  তৎসম উপসর্গ
- বিদেশি উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫০.
"উপসাগর" শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. ক্ষুদ্র
  3. সদৃশ
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা
'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫১.
তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) ঊনিশটি
  2. খ) কুড়িটি
  3. গ) একুশটি
  4. ঘ) বাইশটি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ মোট ২১ টি এবং তৎসম উপসর্গ মোট ২০ টি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৫২.
'অবগাহন' এর 'অব' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিম্নে
  2. সম্যকভাবে
  3. প্রতিকূল
  4. প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
• 'অব' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।

• বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার: 
- অল্পতা অর্থে = অবশেষ, অবসান, অবেলা। 
- হীনতা অর্থে = অবজ্ঞা, অবমাননা। 
- নিম্নমুখী অর্থে = অবতরণ। 
- সম্যকভাবে অর্থে = অবরোধ, অবগাহন। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৩.
অনুরূপ অর্থে 'প্রতি'  উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. প্রতিঘাত
  2. প্রতিদ্বন্দ্বী
  3. প্রতিবাদ
  4. প্রতিদিন
ব্যাখ্যা

• প্রতি একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
• ​'প্রতি' উপসর্গ প্রতিঘাত শব্দের অনুরূপ অর্থ প্রকাশ করছে।


• '​প্রতি' উপসর্গটি বিভিন্ন অর্থে প্রকাশ করে।
​যেমন:
​- সদৃশ: প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি।
- বিরোধ: প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী।
- পৌনঃপুন: প্রতিদিন, প্রতিমাস।
- অনুরূপ কাজ: প্রতিঘাত, প্রতিদান, প্রত্যুপকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৫৪.
'কদবেল' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
- কদ উপসর্গটি বাংলা উপসর্গ।
- কদ উপসর্গটি ‘নিন্দিত’ অর্থে কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ ।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। প্র, পরা, অপ, সম, নি,
- তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৫.
বাংলা ও সংস্কৃত উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায় এমন উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
আ, সু, বি, নি- এই ৪টি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় প্রকার শব্দে পাওয়া যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৬.
'আভাস' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঈষৎ অর্থে
  2. পর্যন্ত অর্থে
  3. বিপরীত অর্থে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮৫৭.
'অপচয়' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. বিপরীত
  2. অভাব
  3. নিকৃষ্ট
  4. বিকৃত
ব্যাখ্যা
• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার-
বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ। 
• নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ।
• বিকৃত অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৮.
'বদরাগী' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• বদরাগী [ফারসি (বদ) +সংস্কৃত (রাগী)]।

• অর্থ: স্বভাববিশিষ্ট, রগচটা।

• বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন,
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৮৫৯.
'অথৈ' - শব্দটি কোন উপর্সগযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

বাংলা 'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে: অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
অভাব অর্থে: অচিন, অজানা, অথৈ। 
ক্রমাগত অর্থে: অঝোর, অঝোরে। 

বাংলা উপসর্গ:
 - বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৬০.
'অপকার' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিকৃষ্ট
  2. বিকৃত
  3. বিপরীত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা

'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৬১.
নিচের কোনটি উপসর্গ?
  1. ক) উপ
  2. খ) টা
  3. গ) ও
  4. ঘ) গুলো
ব্যাখ্যা
- অপশনগুলোর মধ্যে 'উপ' হচ্ছে সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ,
৩. বিদেশি উপসর্গ।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬২.
গরমিল শব্দের ‘গর’ উপসর্গ কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ক) না
  2. খ) অভাব
  3. গ) বিশেষ
  4. ঘ) মন্দ
ব্যাখ্যা
গরমিল শব্দের ‘গর’ উপসর্গ অভাব অর্থ প্রকাশ করেছে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজিসহ  অন্যান্য ভাষা থেকে যে সকল উপসর্গ বাংলা ভাষায় এসেক্সহে তাদের বিদেশি উপসর্গ বলে।
- 'গরমিল' শব্দের 'গর' একটি আরবি উপসর্গ।
• অভাব অর্থে গর উপসর্গযোগে অন্যান্য শব্দ - গরহাজির, গররাজি, গরমিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮৬৩.
নিম্নলিখিত কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অপ
  2. আড়
  3. অভি
  4. উপ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮৬৪.
নিচের কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) সম
  2. খ) দুর
  3. গ) আড়
  4. ঘ) অধি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অন্যদিকে: 
•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
৮৬৫.
'হাপিত্যেশ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. হিন্দি
  3. ফারসি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'হাপিত্যেশ' শব্দটি 'হা' বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'হা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নিম্নরূপ: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে, হাহুতাশ।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

হিন্দি উপসর্গ:
- হর, হরেক।

ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৬৬.
'খয়ের' ও 'বাজে' — এই দুটি কোন জাতীয় উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. ইংরেজি
  3. আরবি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৬৭.
নিচের কোন শব্দটি ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. আগাছা
  2. বরখাস্ত
  3. বাজেখরচ
  4. হররোজ
ব্যাখ্যা
• ফারসি ‘বর’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বরখাস্ত।

• বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'আগাছা' শব্দটি - বাংলা উপসর্গ 'আ'যোগে গঠিত শব্দ
- 'বাজেখরচ' শব্দটি - আরবি উপসর্গ ‘বাজে’ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'হররোজ' শব্দটি - উর্দু- হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬৮.
নিচের কোনটি উপসর্গ নয়?
  1. রাম
  2. ঊন
  3. টা
  4. কদ
ব্যাখ্যা
• কদ, ঊন, রাম - তিনটিই বাংলা উপসর্গ।
- 'টা'  একটি নির্দেশক।  
--------------------------- 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। 

• বিদেশি উপসর্গ: 
- অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬৯.
'বেকার' শব্দের 'বে' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮৭০.
অপকর্ম’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) তদ্ভব
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) খাঁটি বাংলা
  4. ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘অপ’ যোগে নিকৃষ্ট অর্থে - অপকর্ম শব্দটি গঠিত।

⇒ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

- [বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭১.
উপসর্গ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  2. শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে
  3. নিজস্ব অর্থবাচকতা আছে
  4. শব্দের আগে বসে
ব্যাখ্যা
- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই।

• উপসর্গ:

- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
 যেমন: অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'বে' হলো উপসর্গ।

উপসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে।
- অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
- নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করে।
- শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত করে।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
- শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ করে। 
- শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭২.
খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৮টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৩টি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - ২১টি।

উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গের সংখ্যা ২০টি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৭৩.
'উপদেশ' শব্দের 'উপ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সদৃশ
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিশেষ
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'উপদেশ' শব্দের 'উপ' উপসর্গটি “সম্যক” অর্থ প্রকাশ করে।

• 'সম্যক' অর্থে 'উপ' উপসর্গ সাধিত শব্দের আরো কিছু উদাহরণ:
- উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপহার।

• 'উপ' উপসর্গ দ্বারা গঠিত কিছু শব্দ:
- উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে — ক্ষুদ্র অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
- উপকূল, উপকন্ঠ শব্দে - সামীপ্য অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
- উপদ্বীপ, উপবন- শব্দে সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯), ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৭৪.
উপসর্গকে ইংরেজি ব্যাকরণে কী বলে?
  1. ক) Suffix
  2. খ) Prefix
  3. গ) Affix
  4. ঘ) None of them
ব্যাখ্যা
উপসর্গকে ইংরেজী ব্যাকরণে Prefix বলে।
বিভক্তি ও প্রত্যয়কে ইংরেজি ব্যাকরণে Suffix বলে।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৫.
‘পাতিলেবু’ শব্দে পাতি উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. ক্ষুদ্র
  3. বড়
  4. ভিন্নতা
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

---------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭৬.
"গররাজি" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. উর্দু
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• "গররাজি" শব্দটি 'আরবি' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

'গর্' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- গরমিল, গরহাজির, গররাজি

আরবি উপসর্গ:

- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭৭.
'সুকাজ' শব্দের 'সু' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• 'সুকাজ' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সুকাজ' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উত্তম অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- সুনজর,
- সুখবর,
- সুনাম।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭৮.
কোন দুটি তৎসম উপসর্গ?
  1. নির, দুর
  2. ইতি, ঊন
  3. অজ, অনা
  4. ভর, রাম
ব্যাখ্যা

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৭৯.
নিচের কোনটি ইংরেজী উপসর্গ-যোগে গঠিত শব্দ?
  1. গরমিল
  2. দরপাট্টা
  3. প্রো-উপাচার্য
  4. কারবার
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রো-উপাচার্য শব্দে ‘প্রো’ একটি ইংরেজি উপসর্গ।

অন্যদিকে,
• কাজ অর্থে ‘কার’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- কারবার।
• মধ্যস্থ বা অধীন অর্থে ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- দরপাট্টা।
• অভাব অর্থে ‘গর্’ আরবি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- গরমিল।

------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৮০.
উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. লাপাত্তা
  2. কথিত
  3. সুনজর
  4. গরমিল
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ধাতু 'কথ্‌' যোগে গঠিত শব্দ - কথ্য, কথিত। 

অন্যদিকে, 
- আরবি 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে গঠিত শব্দ- লাপাত্তা।
- সু উপসর্গ দিয়ে সংকোচন অর্থে গঠিত শব্দ- সু + নজর = সুনজর। 
- আরবি 'গর' উপসর্গ দিয়ে বিপরীত অর্থে গঠিত শব্দ- গর+ মিল  = গরমিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮৮১.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিরেট
  2. অপমৃত্যু
  3. অনাদর
  4. কদাকার
ব্যাখ্যা
• 'অপ' একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। এই উপসর্গযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ যে অর্থে ব্যবহার হয় তার কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো -

• বিপরীত- অপমান, অপকার, অপচয় ইত্যাদি।
• নিকৃষ্ট- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ ইত্যাদি।
• স্থানান্তর- অপসারণ, অপহরণ ইত্যাদি।
• বিকৃত- অপমৃত্যু। 

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- 
• 'নি' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট।
• অভাব অর্থে 'অনা' খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনাদর
• কদ্ (নিন্দিত) অর্থে-  কদবেল, কদর্য, কদাকার

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৮২.
’উপকণ্ঠ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. ক্ষুদ্র
  3. সামীপ্য
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা
’উপ’ উপসর্গের ব্যবহার:
’সামীপ্য’ অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
’সদৃশ’ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
’ক্ষুদ্র’ অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
’বিশেষ’ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

’উপ’ একটি তৎসম উপসর্গ।
তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি২০১৯ সালের সংস্করণ।
৮৮৩.
বাংলা ও তৎসম উভয় শব্দে কোন উপসর্গটি পাওয়া যায়?
  1. বি
  2. সা
  3. হা
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

---------------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৮৮৪.
'সাবঅফিস' শব্দে 'সাব' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মধ্যে 
  2. আধা 
  3. অধীন
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ইংরেজি উপসর্গ দেওয়া হলো:
- ফুল, আধা, প্রধান, অধীন, হাফ ইত্যাদি।

অধীন অর্থে 'সাব' উপসর্গের ব্যবহার:  সাব-অফিস, সাব-জাজ, সাব-ইন্‌সপেক্টর।
• পূর্ণ অর্থে 'ফুল' উপসর্গের ব্যবহার:  ফুল-হাতা, ফুল শার্ট, ফুল-বাবু, ফুল-প্যান্ট।
• আধা অর্থে 'হাফ' উপসর্গের ব্যবহার: হাফ-হাতা, হাফ-টিকেট, হাফ-স্কুল, হাফ প্যান্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৫.
উপসর্গ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াবাচক শব্দাংশ
  2. ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশ
  3. ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম
  4. ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলাে অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এগুলাে অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। ভাষায় ব্যবহৃত এসব অবয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয় "উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে"।
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।

৮৮৬.
কোনটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. একেলে
  2. দোকানি
  3. বাবুয়ানা
  4. নিদারুন
ব্যাখ্যা
'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

অন্যদিকে,
বাবুয়ানা = বাবু + (আনা) - তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
দোকানি = দোকান + (ই) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
একেলে - একাল + (এ) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৮৭.
'ক্ষুদ্র অর্থে' কোন শব্দে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপহার
  2. উপকণ্ঠ
  3. উপসাগর
  4. উপবন
ব্যাখ্যা
• 'উপ' - একটি সংস্কৃত উপসর্গ।

বিভিন্ন অর্থে এর ব্যবহার - 
• সম্যক অর্থে - উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার
• ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
• সামীপ্য অর্থে - উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর।
• সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৮.
কোনটি আরবি উপসর্গ?
  1. বদ
  2. গর
  3. কার
  4. নিম
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৮৯.
কোনটি সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. আবছায়া
  2. অবহেলা
  3. আনমনা
  4. রামছাগল
ব্যাখ্যা
• 'অবহেলা' শব্দটি  সংস্কৃত উপসর্গ 'অব' যোগে গঠিত

• উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ,
- বিদেশি উপসর্গ।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- সংস্কৃত উপসর্গ  তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন অথবা সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
- আবছায়া, আনমনা, রামছাগল যথাক্রমে আব, আন, রাম বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৯০.
'আমদরবার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আমদরবার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম'- 'আরবি উপসর্গ'। 
- সাধারণ অর্থে 'আমদরবার' শব্দে 'আম' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরবি উপসর্গ:
- আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার
- খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার
- লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
- গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৮৯১.
নিচের কোন উপসর্গটি সংস্কৃত ও বাংলা উভয় উপসর্গতে পাওয়া যায়?
  1. ক) বে
  2. খ) না
  3. গ) গর
  4. ঘ) নি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গের মিল আছে ৪ টি। তা হলো- বি, নি, সু, আ
ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'
আরবি উপসর্গ-  'আম'  'খাস'   'লা'   'গর
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৮৯২.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-
  1. সম্পূর্ণ
  2. সঠিক
  3. সমাদর
  4. সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘স’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- সঠিক।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত উপসর্গ ‘সম্’ যোগে গঠিত শব্দ- সম্পূর্ণ, সমাদর ও সমৃদ্ধ।

----------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৯৩.
'অপহরণ' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. স্থানান্তর
  3. নিকৃষ্ট
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:

- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৮৯৪.
কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. প্রতি
  2. অতি
  3. প্র
  4. কু
ব্যাখ্যা

• তৎসম উপসর্গ নয়- কু। 
- 'কু' বাংলা উপসর্গ। 

-----------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৯৫.
'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে কোন উপসর্গে?
  1. ক) নিষ্কলুষ
  2. খ) নিদাঘ
  3. গ) নিবারণ
  4. ঘ) নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ- নির্ণয়, নিবারণ।
'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ- নিবৃত্তি।
'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ- নিদাঘ, নিদারুন।
'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার- নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৬.
সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা কয়টি?
  1. বারোটি
  2. ষোলটি
  3. কুড়িটি
  4. চল্লিশটি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ মোট ২১ টি এবং তৎসম উপসর্গ মোট ২০ টি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৯৭.
নিচের কোন শব্দে বিদেশী উপসর্গ বিদ্যমান?
  1. ক) অঘারাম
  2. খ) আবছায়া
  3. গ) অবরোধ
  4. ঘ) নালায়েক
ব্যাখ্যা
'নালায়েক'- শব্দে বিদেশী উপসর্গ বিদ্যমান।
এখানে ফারসি উপসর্গ 'না' না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

তাছাড়া,
'অঘারাম' শব্দে বাংলা উপসর্গ 'অঘা' বোকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'আবছায়া' শব্দে বাংলা উপসর্গ- 'আব' অস্পষ্টতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
'অবরোধ' শব্দে তৎসম উপসর্গ- 'অব' সম্যকভাবে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৮.
’অঘারাম’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. মন্দ
  2. অভাব
  3. বোকা
  4. পাগল
ব্যাখ্যা

• ’অঘারাম’ শব্দে ”অঘা” উপসর্গটি ’বোকা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অঘা’ একটি বাংলা উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৮৯৯.
নিচের কোনটি উপসর্গযুক্ত শব্দ?
  1. পঙ্কজ
  2. জ্বালাতন
  3. কদবেল
  4. মাচান
ব্যাখ্যা
• উপসর্গযুক্ত শব্দ - কদবেল
- এটি বাংলা উপসর্গ 'কদ্‌' যোগে গঠিত হয়েছে।

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
যেমন -
কদবেল = কদ্‌ + বেল।
এখানে 'কদ্‌' উপসর্গটি 'গৌণ' অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯০০.
‘লাজওয়াব’ শব্দের আরবি ‘লা’ উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অভাব
  2. খ) সাধারণ
  3. গ) বিশেষ
  4. ঘ) নাই অর্থে
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে, এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।

• উপসর্গ ৩ প্রকার।
- সংস্কৃত
- বাংলা
- বিদেশি

বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ধকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
আরবি উপসর্গ: আম্‌,খাস, লা, গর্‌।

•আরবি ‘লা’ উপসর্গটি নাই অর্থে লাজওয়াব শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।
- উদাহরণ: লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।