বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৫০১৬০০ / ১,২৬৬

৫০১.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গ নয়?
  1. ক) কার
  2. খ) ফি
  3. গ) খাস
  4. ঘ) কম
ব্যাখ্যা

ফারসি উপসর্গ গুলো হল- 'কার'  'দর'  'না'  'নিম'  'ফি'  'দ'  'বে'   'বর'   'ব'  'কম'
আরবি উপসর্গ-  'আম'  'খাস'   'লা'   'গর
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

৫০২.
'উপভোগ' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. উর্দু উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• তৎসম/সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫০৩.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. অজ
  2. প্র
  3. ইতি
  4. অঘা
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ নয়- প্র।
- প্র তৎসম উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
- যেমন: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
• তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৪.
নিচের কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. অপ
  2. অনু
  3. উপ
  4. ঊন
ব্যাখ্যা
• ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম হচ্ছে উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫০৫.
'উৎপাদন' শব্দের 'উৎ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অপকর্ষ
  2. আতিশয্য
  3. প্রস্তুতি
  4. ঊর্ধ্বমুখিতা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে  'উৎ' উপসর্গটির ব্যবহার: 
- ঊর্ধ্বমুখিতা অর্থে  - উন্নতি, উত্তোলন ।
- আতিশয্য অর্থে - উত্তপ্ত, উৎফুল্ল ।
- প্রস্তুতি অর্থে - উৎপাদন, উচ্চারণ ।
- অপকর্ষ অর্থে - উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৬.
'অপসৃষ্টি' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানান্তর অর্থে
  2. বিপরীত অর্থে
  3. নিকৃষ্ট অর্থে
  4. অভাব অর্থে
ব্যাখ্যা

• 'অপ' তৎসম উপসর্গ। বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ। 
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫০৭.
'রামবোকা' শব্দে 'রাম' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত 
  2. নিকৃষ্ট 
  3. ক্ষুদ্র 
  4. বড়
ব্যাখ্যা

• বাংলা 'রাম' উপসর্গ যোগে বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে গঠিত শব্দ: রামছাগল, রামশিঙা, রামবোকা, রামদা।

------------------
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ: বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৮.
'উপকণ্ঠ' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ 
  2. ক্ষুদ্র 
  3. সদৃশ 
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ
→ সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
→ ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
→ বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৯.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. প্রতিপক্ষ
  2. প্রতিদ্বন্দ্বী
  3. প্রতিবিম্ব
  4. প্রতিবাগ
ব্যাখ্যা

• প্রতিপক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিবাদ (প্রশ্নে বানান ভুল) → এখানে “প্রতি-” মূলত বিপরীত/বিরুদ্ধে/বিপক্ষে (opponent/counter/against) অর্থে এসেছে।
• প্রতিবিম্ব → এখানে “প্রতি-” প্রতিফলন/অনুরূপ প্রতিচ্ছবি (reflection/image) অর্থে ব্যবহৃত—এটা “বিরুদ্ধে” অর্থে নয়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) প্রতিবিম্ব।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫১০.
নিচের কোনটি উপসর্গের কাজ নয়?
  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়
  2. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে
  3. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে
  4. শব্দের অর্থবাচকতা তৈরি করা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
এগুলো অন্যে শব্দের আগে বসে।
এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন-
নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়,
শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়,
শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে,
শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং
শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন-
‘পাতি’ একটি বাংলা উপসর্গ। এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'পাতি' যোগে কিছু শব্দঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো ইত্যাদি।

৫১১.
'ইতিপূর্বে' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
•  এ বা এর অর্থ- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। 
•  পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
৫১২.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
আড়, আন, কদ, কু, অনু, পাতি, আব, হা
  1. ক) আন
  2. খ) কু
  3. গ) অনু
  4. ঘ) হা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মোট উপসর্গ ২১টি।
যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আর, আন, আব, ইতি, ঊন(ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, স, সা, সু, হা। অন্যদিকে অনু তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৩.
'উপরি' অর্থে 'অধি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অধিপতি
  2. অধিবাসী
  3. অধিষ্ঠান
  4. অধিগত
ব্যাখ্যা

'অধি' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি, অধিবাসী। 
'উপরি' অর্থে-  অধিরোহণ, অধিষ্ঠান। 
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিকার, অধিবাস, অধিগত। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫১৪.
'অঘাচন্ডী' শব্দটিতে 'অঘা' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিকৃষ্ট
  2. খ) নিন্দিত
  3. গ) বোকা
  4. ঘ) বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
'অঘাচন্ডী' শব্দটিতে 'অঘা' উপসর্গটি 'বোকা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'অঘা' বাংলা উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৫.
নিন্দিত অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কদ্‌
  2. খ) রাম
  3. গ) ভর
  4. ঘ) নির
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কদ্‌ নিন্দিত অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন - কদবেল, কদর্য, কদাকার।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৫১৬.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-
  1. সপাট
  2. সম্পূর্ণ
  3. সমাদর
  4. সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘স’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- সঠিক, সরব, সরোজ, সপাট।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত উপসর্গ ‘সম্’ যোগে গঠিত শব্দ- সম্পূর্ণ, সমাদর ও সমৃদ্ধ।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫১৭.
‘আন, ভর, সা’ কোন শ্রেণির উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত উপসর্গ
  2. বিদেশী উপসর্গ
  3. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• আন, ভর, সা ইত্যাদি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১৮.
নিচের কোন উপসর্গটি বাংলা ও তৎসম উভয়ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না?
  1. ক) আ
  2. খ) বি
  3. গ) অপ
  4. ঘ) সু
ব্যাখ্যা
- 'অপ' - সংস্কৃত উপসর্গ। অপমান শব্দে বিপরীত অর্থে অপ’র ব্যবহার হয়েছে।
-উপসর্গের ক্ষেত্রে বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায় এমন উপসর্গের সংখ্যা ৪ টি।

• সেগুলো হলো-
- আ
- সু
- বি
- নি

সেক্ষেত্রে-
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা। যেমন- আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলো বাংলা উপসর্গ।
- আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
৫১৯.
‘ইতিকথা’ শব্দে ‘ইতি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দা
  2. বিশিষ্ট
  3. অস্পষ্ট
  4. পুরনো
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'ইতি' উপসর্গের ব্যবহার:
- এ বা এর অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে। 
- পুরনো অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২০.
’অবেলা’ শব্দে ’অব’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. হীনতা
  2. সম্যকভাবে
  3. অধোমুখিতা
  4. অল্পতা
ব্যাখ্যা
’অবেলা’ শব্দে ’অব’ উপসর্গটি ’অল্পতা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ’অব’ একটি তৎসম উপসর্গ।

• ’অব’ উপসর্গটি ’অল্পতা’ অর্থে ব্যবহৃত।
যেমন:
- অবশেষ,
- অবসান,
- অবেলা।

এছাড়াও
------------
• ’অব’ উপসর্গটি ’হীনতা’ অর্থে ব্যবহৃত।
যেমন:
- অবজ্ঞা, অবমাননা।

• ’অব’ উপসর্গটি ’সম্যকভাবে’ অর্থে ব্যবহৃত।
যেমন:
- অবরোধ, অবগাহন, অবগত।

• ’অব’ উপসর্গটি ’নিম্নে/অধোমুখিতা’ অর্থে ব্যবহৃত।
যেমন:
- অবতরণ, অবরোহণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৫২১.
'বদরাগী' শব্দে কোন ভাষার উপসর্গ রয়েছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘বদরাগী’ শব্দে ফারসি ভাষার 'বদ' উপসর্গ রয়েছে।

• ফারসি উপসর্গ:
- ফারসি ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।

- ফারসি উপসর্গগুলো হলো - 
যথা:
১. কার্ - কারখানা, কারসাজি।
২. দর্ - দরপত্তনী, দরপাট্টা।
৩. না - নারাজ, নালায়েক।
8. নিম্ - নিমরাজি, নিমখুন।
৫. ফি - ফি-রোজ, ফি-হপ্তা।
৬. বদ্ - বদমেজাজ, বদনাম, বদরাগী।
৭. বে - বেকসুর, বেতার।
৮. বর্ - বরখাস্ত, বরবাদ।
৯. ব্‌ - বনাম, বকলম।
১০. কম্ - কমজোর, কমবখ্‌ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২২.
'অনাবৃষ্টি' শব্দটিতে 'অনা' কোন উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) তৎসম বা সংস্কৃত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
'অনাবৃষ্টি' শব্দটিতে 'অনা' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
'অনাবৃষ্টি' শব্দটিতে 'অনা' অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাঁকে উপসর্গ বলে।
- বাংলা ভাষার উপসর্গ ৩ প্রকার:
» খাঁটি বাংলা: ২১টি। 
» তৎসম উপসর্গ: ২০ টি।
» বিদেশি উপসর্গ।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২৩.
'বেকার' শব্দের উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মন্দ অর্থে
  2. না অর্থে
  3. স্বল্প অর্থে
  4. সহিত অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'বেকার' শব্দের 'বে' উপসর্গটি 'না' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
এখানে, বে - ফারসি উপসর্গ। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহার: 
- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। 
- বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৫২৪.
'গরমিল' শব্দের 'গর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি 
  2. আরবি
  3. তৎসম 
  4. খাঁটি বাংলা 
ব্যাখ্যা

• 'গরমিল' শব্দের-  'গর' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫২৫.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. বে
  2. হর
  3. বাজে
  4. গর
ব্যাখ্যা
• 'বে' একটি ফারসি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম্‌, ফি, বদ, বে, বর্‌, ব, কম্‌।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫২৬.
বর্গের নাম হয় -
  1. ক) পদ অনুযায়ী
  2. খ) বাক্য অনুযায়ী
  3. গ) ধ্বনি অনুযায়ী
  4. ঘ) বর্ণ অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গ হলো ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কীত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক।
মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন,
মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সমানে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।

কোনো একটি বর্গ বাক্যের মধ্যে যে পদের মতো আচরণ করে, সেই পদের নাম অনুযায়ী বর্গের নাম হয়।
উদাহরন অনুযায়ী 'মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ; 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ, 'খুব সকালে' ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং 'উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
৫২৭.
‘প্রদীপ’ শব্দে ‘প্র’ কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত
  2. ফারসি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• ‘প্রদীপ’ শব্দে ‘প্র’ একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = (প্র + √দীপ্ +ত)।

⇒ উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫২৮.
‘অপকর্ম’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ ‘অপ’ যোগে নিকৃষ্ট অর্থে - অপকর্ম শব্দটি গঠিত।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

- [বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫২৯.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বলক
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

• উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।(২০২২ সংস্করণ)

৫৩০.
নিচের কোন উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বাজেজমা
  2. খ) খাসমহল
  3. গ) বাজেখরচ
  4. ঘ) গরমিল
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'গরমিল' গঠিত শব্দটি 'গর' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'গর' হচ্ছে আরবি উপসর্গ যা অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• আরবি ভাষায় ব্যবহৃত অর্থসহ উপসর্গ:
- আম (সাধারণ) > আমজনতা, আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস (বিশেষ) > খাসমহল, খাসদরবার।
- বাজে (বিবিধ) > বাজেখরচ, বাজেকাজ, বাজেজমা।
- লা (নাই) > লাপাত্তা, লাখেরাজ।
- গর ( অভাব) > গরমিল, গররাজি। 
- খয়ের (ভাল) > খয়ের খাঁ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৩১.
'সাব-ইন্‌সপেক্টর' শব্দের 'সাব’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পূর্ণ
  2. ফুল
  3. আধা
  4. অধীন
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ইংরেজি উপসর্গ দেওয়া হলো:
- ফুল, আধা, প্রধান, অধীন, হাফ ইত্যাদি।

• 'সাব' উপসর্গের ব্যবহার:
- অধীন অর্থে = সাব-অফিস, সাব-জাজ, সাব-ইন্‌সপেক্টর
• ফুল উপসর্গের ব্যবহার:
- পূর্ণ অর্থে = ফুল-হাতা, ফুল শার্ট, ফুল-বাবু, ফুল-প্যান্ট।
• হাফ উপসর্গের ব্যবহার:
- আধা অর্থে = হাফ-হাতা, হাফ-টিকেট, হাফ-স্কুল, হাফ প্যান্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩২.
তৎসম উপসর্গ যোগে 'অবসান' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অল্পতা অর্থে
  2. হীনতা অর্থে
  3. অধোমুখিতা অর্থে
  4. সম্যক অর্থে
ব্যাখ্যা
• "তৎসম/সংস্কৃত" উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

• তৎসম উপসর্গ বিশটি। এগুলো হলো-   প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অব- তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
• 'হীনতা' অর্থে - অবজ্ঞা, অবমাননা। 
• 'সম্যক' অর্থে - অবরোধ, অবগাহন, অবগত। 
• 'নিম্নে/অধোমুখিতা' অর্থে - অবতরণ, অবরোহণ। 
• 'অল্পতা' অর্থে - অবশেষ, অবসান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩৩.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপয়া
  2. অধিকার
  3. অপমান
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩৪.
'কুনজর' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। এগুলো হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ-
- কুঅভ্যাস,
- কুকথা,
- কুনজর,
- কুসঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৩৫.
'অপচয়' শব্দে 'অপ' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা 
  2. আরবি 
  3. ফারসি
  4. তৎসম 
ব্যাখ্যা

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে। তৎসম উপসর্গ বিশটি।

যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' তৎসম উপসর্গের ব্যবহার:
• বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
• বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৩৬.
"বিপ্রযুক্ত" শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বিপ্রযুক্ত' শব্দটিতে — ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'বিপ্রযুক্ত' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- বি + প্র।

এখানে,
• 'বিপ্রযুক্ত' শব্দের অর্থ:
- সংযোগহীন, বিযুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩৭.
'অধিবর্ষ' শব্দে 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট অর্থে
  2. আধিপত্য অর্থে 
  3. ব্যাপ্তি অর্থে
  4. অতিরিক্ত অর্থে 
ব্যাখ্যা

• 'অধিবর্ষ' শব্দে 'অধি' উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
--------------------------
• উপসর্গ:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
• বিদেশি উপসর্গ।
-------------------------------------------
- 'অধি' তৎসম বা  সংস্কৃত উপসর্গের উদাহরণ। 

• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

- অধি উপসর্গ:
- অধি উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে, ব্যাপ্তি অর্থে, আধিপত্য অর্থে ব্যবহার করা হয়।
- তবে অধিবর্ষ শব্দে অধি উপসর্গটি অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অতিরিক্ত অর্থে ব্যবহৃত অধি উপসর্গটির কিছু উদাহরণ- অধিকর্ম, অধিহার। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;  
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৩৮.
'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোন শব্দে ?
  1. নিবারণ
  2. নিবৃত্তি
  3. নিষ্কলুষ
  4. নিদাঘ
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।
-----------------
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩৯.
”উৎপীড়ন”শব্দে ’উৎ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. অতিশয্য
  2. প্রস্তুতি
  3. ঊর্ধ্বমুখিতা
  4. উপকর্ষ
ব্যাখ্যা

• ‘উৎপীড়ন’ শব্দে ’উৎ’ উপসর্গটি ’অতিশয্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। 

- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’অতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’উপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৫৪০.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) আমমোক্তার
  2. খ) কদর্য
  3. গ) নিখুঁত
  4. ঘ) উনপাঁজুরে
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা উপসর্গ,
- তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

আমমোক্তার = আরবি 'আম' উপসর্গযোগে গঠিত। 
আমমোক্তার শব্দে  'আম' উপসর্গটি 'সাধারণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কদর্য, নিখুঁত ও উনপাঁজুরে = বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪১.
’নালায়েক’ শব্দের ’না’ উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নিঁখুত
  2. অপূর্ণ
  3. মন্দ
  4. অল্প
ব্যাখ্যা

’নালায়েক’ শব্দের ’না’ উপসর্গটি ’অপূর্ণ’ অর্থ প্রকাশ করে।

’না’ একটি ফারসি উপসর্গ।
---------------------------------------------------------
• ফারসি উপসর্গ গুলো হলো:
- কার্;
- দর্;
- না;
- নিম্;
- ফি;
- বদ্;
- বে;
- বর্;
- কম্।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৫৪২.
'আবছায়া' শব্দের 'আব' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. অস্পষ্টতা
  3. পুরনো
  4. কম
ব্যাখ্যা
• 'আবছায়া' শবটিতে 'আব' উপসর্গটি 'অস্পষ্টতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'এখানে 'আব' বাংলা উপসর্গ।

এরূপভাবে,
• 'আবডাল' শব্দে 'আব' শব্দটি অস্পষ্টতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহার: 
- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। 
- বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৫৪৩.
"উৎপীড়ন" শব্দে উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অপকর্ষ
  2. প্রস্তুতি
  3. ঊর্ধ্বমুখিতা
  4. আতিশয্য
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে  'উৎ' উপসর্গটির ব্যবহার: 
ঊর্ধ্বমুখিতা অর্থে = উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
আতিশয্য অর্থে = উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন
প্রস্তুতি অর্থে = উৎপাদন, উচ্চারণ।
অপকর্ষ অর্থে = উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

তৎসম উপসর্গ: 
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৪.
নিখুঁত শব্দটির 'নি' উপসর্গটি কোন প্রকার?
  1. ক) অর্ধতৎসম
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট শব্দের "নি" উপসর্গটি খাটি বাংলা উপসর্গ।
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৫৪৫.
কোন শব্দটি উপসর্গ দিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. আয়না
  2. আঘাটা
  3. সদ্যোজাত
  4. প্রথম
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা ‘আ’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- আঘাটা।
- এখানে ঘাটা (ঘাট; নৌকাদি ভিড়বার জায়গা) বাংলা শব্দের পূর্বে 'আ' উপসর্গযোগে আঘাটা (অব্যবহার্য ঘাট; ব্যবহারের অযোগ্য ঘাট) শব্দটি গঠিত হয়েছে।

• অপশনের অন্য শব্দগুলো - উপসর্গযোগে গঠিত হয় নি।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৪৬.
‘আলুনি’ শব্দটিতে ব্যবহৃত উপসর্গের নাম কী?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. বিদেশি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• “আলুনি” শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

• 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- আখাম্বা, সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আলুনি, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আগাছা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আরক্ত, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৭.
'অথৈ' শব্দে 'অ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. গভীর 
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
ব্যাখ্যা

'অ' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ: 
• 'নিন্দিত' অর্থে- অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
'অভাব' অর্থে- অচিন, অজানা, অথৈ। 
• 'ক্রমাগত' অর্থে- অঝোর, অঝোরে। 

-----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৪৮.
বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অতিশয়
  2. অজানা
  3. নিরব
  4. অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
• 'অজানা' বাংলা 'অ' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'অ' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ: অকেজো, অচেনা,অচিন, অজানা, অথৈ।

অন্যদিকে,
- 'অতিশয়' - সংস্কৃত 'অতি' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'নিরব' - সংস্কৃত 'নির' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'অবজ্ঞা' - সংস্কৃত 'অব' উপসর্গযোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৪৯.
'অনু' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ মোট ২০টি।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
• পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
• সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
• পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
• সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৫০.
‘কারখানা’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. খাঁটি বাংলা
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কারখানা’ শব্দটি ফারসি উপসর্গ ‘কার’ যোগে গঠিত

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫১.
'সুদিন' শব্দের 'সু' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
- 'সুদিন' শব্দের 'সু' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সুদিন' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• উত্তম অর্থে ব্যবহৃত আরো কিছু শব্দ:
- সুনজর,
- সুখবর,
- সুনাম,
- সুকাজ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫২.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুতাপ
  2. অনাদর
  3. আনকোরা
  4. অজমূর্খ
ব্যাখ্যা

• 'অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে 'পশ্চাৎ' অর্থে গঠিত শব্দ- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ। 

অন্যদিকে, 
• 'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর। 
• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ- আনকোরা। 
• 'অজ' বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ- অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৫৩.
‘অবরোধ’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্যকভাবে
  2. হীনতা
  3. অধোমুখিতা
  4. অল্পতা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• সম্যকভাবে অর্থে অবরোধ, অবগাহন, অবগত।  
অন্যদিকে: 
- হীনতা অর্থে অবজ্ঞা, অবমাননা।
- নিম্নে/অধোমুখিতা অর্থে অবতরণ, অবরোহণ
- অল্পতা অর্থে অবশেষ, অবসান, অবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৪.
'হরহামেশা' - শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. তৎসম
  3. বাংলা
  4. উর্দু-হিন্দি
ব্যাখ্যা

• 'হরহামেশা' এটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হররোজ ইত্যাদি।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি:
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
বাংলা উপসর্গ ২১ টি:
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৫.
কোনটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ?
  1. দুর
  2. ভর
  3. অপ
  4. অভি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৬.
কোন অর্থে 'অধি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়?
  1. গ্রহণ
  2. মধ্যে
  3. সদৃশ
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'অধি' উপসর্গটি মধ্যে অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
- কর্তৃত্ব অর্থে = অধিকার।
- মধ্যে অর্থে = অধিবাসী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৫৭.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপয়া
  2. অধিকার
  3. অপমান
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৮.
'নিরবকাশ' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• 'নিরবকাশ' শব্দটিতে ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'নিরবকাশ' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- নির্‌ +অব।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৯.
সাম্যক অর্থে তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুচর
  2. অবগত
  3. অধিপতি
  4. আবডাল
ব্যাখ্যা
• সাম্যক অর্থে ‘অব’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।

অন্যদিকে,
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
• অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিপতি।
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬০.
পদের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের অংশ উপসর্গ ও প্রত্যয়।

পদ:
১. শব্দ যখন বাক্যে স্থান পায়, তখন তার নাম হয় পদ।
২. বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৩. পদের অংশ বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।
৪. গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের: অলগ্নক পদ ও সলগ্নক পদ ।
৫. পদ একইসঙ্গে রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬১.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. অধি
  2. পরা
  3. কদ
  4. উপ
ব্যাখ্যা
'কদ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি নিন্দিত অর্থে- কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬২.
কোন চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে?
  1. ক) অপ, পরা, পরি, নির
  2. খ) প্রিয়, পরা, পরি, নির
  3. গ) প্র, অপ, পরি, নি
  4. ঘ) প্র, পরা, পরি, নির
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬৩.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ঊন
  2. উপ
  3. উৎ
  4. সম
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৪.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. ক) আকাঁড়া
  2. খ) অবেলা
  3. গ) অপমান
  4. ঘ) অভিশয়
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
- 'আ' একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

এর কয়েকটি অর্থদ্যোতকতা হচ্ছে: 
- 'অভাব' অর্থে -- আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি
- 'বাজে/নিকৃষ্ট' অর্থে -- আকাঠা, আগাছা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৫.
কোন শব্দটি উপসর্গযুক্ত শব্দ?
  1. সমৃদ্ধি
  2. গমন
  3. হাজিরা
  4. লতানো
ব্যাখ্যা
• উপসর্গযুক্ত শব্দ: 'সমৃদ্ধি'।
- 'সমৃদ্ধি' শব্দের 'স' একটি বাংলা উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
----------------
অন্যদিকে,
• '√ গম্ + অন = গমন'- 'গম্' ধাতু প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ৷ 
• আ- প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: হাজির + আ = হাজিরা।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫৬৬.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৮টি
  2. ২১টি
  3. ২৩টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উল্লেখ্য,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬৭.
"অনুজ" শব্দের উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. পৌনঃপুন
  4. সঙ্গে
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'পশ্চাৎ' অর্থে: অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- 'সাদৃশ্য' অর্থে: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- 'পৌনঃপুন' অর্থে: অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- 'সঙ্গে' অর্থে অনুকূল, অনুকম্পা।

উল্লেখ্য,
'অনু' একটি তৎসম উপসর্গ
তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬৮.
'উপসর্গ' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ' ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়।

রূপতত্ত্ব
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
 
অর্থতত্ত্ব
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

ধ্বনিতত্ত্ব
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫৬৯.
নিচের কোনটি উপসর্গের কাজ?
  1. ক) অর্থের সংকোচন
  2. খ) অর্থের প্রসারন
  3. গ) অর্থ পরিবর্তন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য- 
১. উপসর্গের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
২. এরা নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরি করে।
৩. উপসর্গগুলাে বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. উপসর্গগলাে অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
৫. এগুলাে নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. কারখানা
ব্যাখ্যা

• ফারসি উপসর্গ ‘কার’ যোগে গঠিত শব্দ- কারখানা।

অন্যদিকে,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আনমনা ও নিখুঁত।
• তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- অবহেলা।

• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৭১.
'গরহাজির' শব্দের 'গর' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পুরোপুরি
  2. বিপরীত
  3. সম্পূর্ণ
  4. সংকোচন
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোেগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।
- অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
- যেমন, 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে 'সম্' এবং 'প্র' – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ।
- যেমন - সম্+বাদ = সংবাদ, বি+বাদ = বিবাদ।
- 'বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ 'সংবাদ' ও 'বিবাদ' তৈরি হলো।
- উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।

যেমন-
- সু+নজর = সুনজর ( সংকোচন);
- সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ ( সম্প্রসারণ);
- গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৭২.
নিচের কোন শব্দে ’অভি’ উপসর্গটি 'সম্যক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভিজ্ঞ
  2. অভিযান
  3. অভিমুখ
  4. অভিজাত
ব্যাখ্যা
- ’অভিজ্ঞ’ শব্দে ’অভি’ উপসর্গটি সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- অভি একটি- তৎসম উপসর্গ। 

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ :
- বাংলা ভাষায় যেসকল উপসর্গ তৎসম শব্দ থেকে এসেছে সেগুলোকে তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম উপসর্গ মোট ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, সু, উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অপি, অভি, অতি, আ।

• অভি উপসর্গের ব্যবহার :
- সম্যক অর্থে- অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত।
- উত্তম অর্থে - অভিজাত।
- সম্মুখ অর্থে - অভিমুখ, 
- গমন অর্থে - অভিযান, অভিসার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৫৭৩.
নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয় নিম্নের কোনটি?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শব্দ ও পদের গঠন
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে। শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি। ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু। নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়। নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়:

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৭৪.
'কষ্টসাধ্য' অর্থে 'দুর' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. দর্ভাগ্য
  2. দুর্নাম
  3. দুর্গম
  4. দুর্দশা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

'দুর' সংস্কৃত উপসর্গ:
'মন্দ' অর্থে- দর্ভাগ্য, দুর্দশা, দুর্নাম। 
'কষ্টসাধ্য' অর্থে- দুর্লভ, দুর্গম, দুরতিক্রম্য। 

-----------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৫৭৫.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. আম
  2. অপ
  3. অনু
  4. আব
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'আব, খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'অনু' 'অপ' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭৬.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপমৃত্যু
  2. প্রগাঢ়
  3. সমাদর
  4. হাভাতে
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ 'হা' যোগে গঠিত শব্দ 'হাভাতে'।

• 'হা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- হাপিত্যেশ,
- হাভাতে,
- হাঘরে

অন্যদিকে,
অপমৃত্যু, প্রগাঢ়, সমাদর যথাক্রমে অপ, প্র ও সম তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৭৭.
নঞ্‌ অর্থের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে কোন উপসর্গটি?
  1. অজ
  2. সম্‌
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) স।

--------------------
• নঞ্‌ (না-বাচক) উপসর্গ:
অ, অন্, অনা, আ = নেই, নাই অর্থে (নেতিবাচক);
উদাহরণ:
অজ্ঞ (জ্ঞান নেই),
অশান্তি (শান্তি নেই)।

• "স" উপসর্গ:
নঞ্‌ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে = আছে, সহিত, সমেত অর্থে (ইতিবাচক); 
উদাহরণ:
- সজ্ঞান = জ্ঞান আছে (অজ্ঞান এর বিপরীত)।
- সশস্ত্র = শস্ত্র সহ (অস্ত্রহীন এর বিপরীত)।
- সশব্দ = শব্দ সহ (নিঃশব্দ এর বিপরীত)।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭৮.
আরবি উপসর্গ কোনটি?
  1. আমদরবার
  2. কমজোড়
  3. হেডপণ্ডিত
  4. অজমূর্খ
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘আম’ যোগে গঠিত শব্দ- আমদরবার।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অজ’ যোগে গঠিত শব্দ- অজমূর্খ।
ফারসি উপসর্গ ‘কম’ যোগে গঠিত শব্দ- কমজোড়।
ইংরেজি উপসর্গ ‘হেড’ যোগে গঠিত শব্দ- হেডপণ্ডিত।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৯.
'হর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• উর্দু / হিন্দি উপসর্গ (হর):
'হর' উপসর্গযোগে প্রত্যেক অর্থে গঠিত শব্দ - হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

অন্যদিকে, 
• বাংলা উপসর্গ: বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গ: আম্, খাস, লা, গর্ ইত্যাদি। 

• তৎসম উপসর্গ: তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৮০.
'গরহাজির' শব্দে গর উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অল্প অর্থে
  2. খ) অভাব অর্থে
  3. গ) বিকৃত অর্থে
  4. ঘ) বিপরীত অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'গরহাজির' শব্দটির বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'গরহাজির' শব্দটির বিপরীত শব্দ 'হাজির'।

• গরহাজির, গরহাজীর (বিশেষ্য)
- অর্থ উপস্থিতির অভাব; অনুপস্থিত
- যেমন: কোন ছাত্র কয়দিন হাজির গরহাজির হল।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নতুন সংস্করণ) নবম ও দশম শ্রেণি।
৫৮১.
‘প্রবল’ শব্দের ‘প্র’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. খ্যাতি
  2. ধারা-পরম্পরা
  3. আধিক্য
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে

অন্যদিকে,
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮২.
সংস্কৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. অজ
  2. অধি
  3. আড়
  4. আব
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৮৩.
‘প্রকাশ’ শব্দে প্র উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) গতি
  3. গ) প্রকৃষ্ট
  4. ঘ) খ্যাতি
ব্যাখ্যা
‘প্রকাশ’ শব্দে প্র উপসর্গ গতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এরূপ: প্রবেশ, প্রদান ইত্যাদি।  

আধিক্য অর্থে প্র উপসর্গের ব্যবহার হলো: প্রগাঢ়। গতি অর্থে প্রবেশ, প্রস্থান, প্রচার ও প্রবাহ। খ্যাতি অর্থে প্রশংসা, প্রসিদ্ধ ইত্যাদি।

(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৫৮৪.
'লা, গর, বাজে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৫.
'অনুশোচনা' শব্দে 'অনু' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. পৌনঃপুন
  4. সঙ্গে 
ব্যাখ্যা

• অনু উপসর্গ: 
- পশ্চাৎ - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য - অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন - অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৮৬.
কারখানা, কারসাজি, কারচুপি প্রভৃতি শব্দের 'কার্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) স্থান
  2. খ) অধীন
  3. গ) সহিত
  4. ঘ) কাজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাজ অর্থে ‘কার্‌’ উপসর্গের ব্যবহার- কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
৫৮৭.
'মিতা রিতার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।' - বাক্যে 'আড়চোখ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'মিতা রিতার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আছে।' বাক্যে 'আড়চোখ' শব্দটি খাঁটি বাংলা 'আড়' উপসর্গযোগে গঠিত।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮৮.
সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. আড়নয়নে
  2. পাতিলেবু
  3. গরমিল
  4. পরাজয়
  5. দরপত্তনী
ব্যাখ্যা
• ‘পরা’ সংস্কৃত উপসর্গটি বিপরীত অর্থে-  পরাজয় ও পরাভাব শব্দদ্বয় গঠিত।

অন্যদিকে,
• অভাব অর্থে ‘গর’ আরবি উপসর্গযোগে অন্যান্য শব্দ - গরহাজির, গররাজি, গরমিল।
• ক্ষুদ্র অর্থে বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত- পাতিলেবু।
• বক্র অর্থে বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত- আড়নয়নে, আড়চোখে।
• অমধ্যস্থ অর্থে ফারসি উপসর্গ ‘দর্’ যোগে গঠিত- দরপত্তনী, পরপাট্টা, দরদালান।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৮৯.
কোন শব্দটি উপসর্গযুক্ত?
  1. চালানো
  2. কেষ্টা
  3. সুলভ
  4. হাজিরা
ব্যাখ্যা
• সুলভ - শব্দের 'সু' একটি উপসর্গ।  
- এখানে 'সহজ' অর্থে 'সু' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।  
-------------------- 
অন্য অপশনে,
• 'চালানো - চাল +আনো'; কৃৎ প্রত্যয়সাধিত শব্দ। 
• 'কেষ্টা - কেষ্ট + আ'; 'আ' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ।  
• 'হাজিরা' শব্দের সাথে 'আ'  প্রত্যয়যোগে হাজিরা শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯০.
‘লাওয়ারিশ’ শব্দটির আরবি উপসর্গ ‘লা’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) অভাব
  3. গ) নিষেধ
  4. ঘ) বিশেষ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে উল্লেখিত ‘লা’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দটি:
অর্থদ্যোতকতা - না  অর্থ প্রকাশ করছে। 
- এটি একটি আরবি উপসর্গ।
এরকম আরো কিছু শব্দ হলো: - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা ইত্যাদি।

• উপসর্গ:
শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে।
এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।

• উপসর্গ তিন প্রকার: 
- সংস্কৃত,
- বাংলা,
- বিদেশি। 

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর সঙ্গে কিছু বিদেশী উপসর্গও রয়েছে। 
- আরবি বহুল প্রচলিত আরবি উপসর্গ হলো- আম্‌,খাস, লা, গর্‌।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫৯১.
কোনটি আরবি উপসর্গের উদাহরণ?
  1. খয়ের
  2. বদ
  3. ভর
  4. অপি
ব্যাখ্যা
• ‘খয়ের’ আরবি উপসর্গের উদাহরণ।

------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯২.
'পাতি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা যায়?
  1. নিম্ন
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিপরীত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন- 
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
• যেমন- পাতি + হাঁস = পাতিহাঁস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৩.
'আমন্ত্রিত অতিথি সমভিব্যাহারে মন্ত্রী মহোদয় মঞ্চে আরোহণ করলেন'। এ বাক্যে উপসর্গ আছে
  1. ক) চারটি
  2. খ) ছয়টি
  3. গ) সাতটি
  4. ঘ) আটটি
ব্যাখ্যা
সমভিব্যাহার শব্দে মোট চারটি উপসর্গ আছে - সম্, অভি, বি, আ। 
আমন্ত্রিত শব্দে একটি আ উপসর্গ আছে।
আরোহন শব্দে একটি আ উপসর্গ আছে।
অতিথি শব্দে একটি অ উপসর্গ আছে। 
------------ 
অতএব, উক্ত বাক্যে মোট ৭টি উপসর্গ আছে। 
৫৯৪.
'সুচরিত্র' শব্দে ‘সু’- উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. সম্পূর্ণ
  3. উত্তম
  4. চমৎকার
ব্যাখ্যা
'সুকৌশল' শব্দে 'সু' উপসর্গটি 'চমৎকার' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'সুচরিত্র' শব্দে 'সু' উপসর্গটি 'উত্তম' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুগম, এখানে 'সু' উপসর্গটি 'সহজ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুচতুর, এখানে 'সু' উপসর্গটি 'আতিশয্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৫.
বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিবারণ 
  2. নিদারুণ 
  3. নাচার
  4. নিলাজ 
ব্যাখ্যা

• 'নাচার' শব্দটি 'না' ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত। 

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'নিদারুণ' ও 'নিবারণ' তৎসম উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত শব্দ। 
• 'নিলাজ' বাংলা উপসর্গ 'নি' যোগে গঠিত শব্দ। 

-------------------
• উপসর্গ: 

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. খাটি বাংলা উপসর্গ, 
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং 
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। 
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। 
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: 
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। 
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। 
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৯৬.
উপসর্গ বিষয়ে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. শব্দের পরে বসে।
  2. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
  3. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
  4. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন- অজানা (অ + জানা), বেতার (বে তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'বে' হলো উপসর্গ।
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন ঘটে:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
২. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
৩. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
৪. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়।

অন্যদিকে,
-----------------
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের কিছু উদাহরণ :
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, - ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৭.
কোন দুইটি তৎসম উপসর্গ?
  1. অঘা, অজ
  2. ভর, রাম
  3. আড়, আন
  4. অব, নির
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯৮.
‘উপকূল’ শব্দে ‘উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. বিপরীত
  3. অপূর্ণ
  4. নিকট
ব্যাখ্যা
• 'উপ' সংস্কৃত উপসর্গের উদাহরণ। 
• নিকট অর্থে 'উপ' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ ‘উপকূল’।

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৯.
অর্থবোধকতা না থাকলেও অর্থদ্যোতকতা আছে কোনটির?
  1. ক) অনুসর্গের
  2. খ) উপসর্গের
  3. গ) প্রত্যয়ের
  4. ঘ) সম্যসের
ব্যাখ্যা
উপসর্গ
- অব্যয়সূচক বাক্যাংশ যা শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে।

• উপসর্গের প্রভাবে শব্দের ৫ ধরনের পরিবর্তন হয়। যথা:
- নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
- অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
- শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
- শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
- শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

• উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০০.
"বেকায়দা" - শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা

• 'বে' ফারসি উপসর্গযোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ:
- বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:

আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।