বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৪০১৫০০ / ১,২৬৬

৪০১.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. প্রভাব
  2. দুর্নাম
  3. বিধৃত
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা
• হিমালয় - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- 'হিমালয়' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : হিম  + আলয়।
- যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে।
- কিন্তু, এখানে 'হিম' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
- 'প্রভাব' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'প্র'  যোগে গঠিত।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
- 'বিধৃত' শব্দটি তৎসম উপসর্গ 'বি’ যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০২.
পশ্চাৎ অর্থে 'অনু' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) অনুদান
  2. খ) অনুবাদ
  3. গ) অনুজ
  4. ঘ) অনুশীলন
ব্যাখ্যা
- অনুজ শব্দে 'অনু' উপসর্গটি পশ্চাৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
পশ্চাৎ অর্থে - অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে - অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার, অনুদান।
পৌন:পুন্য অর্থে - অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৩.
’অপহরণ’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. নিকৃষ্ট
  2. বিপরীত
  3. বিকৃত
  4. স্থানান্তর
ব্যাখ্যা

• ‘অপহরণ’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি ’স্থানান্তর’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’অপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’বিপরীত" অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• ’নিকৃষ্ট’ অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• ’স্থানান্তর’ অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন।
• ’বিকৃত’ অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৪০৪.
'আগমন' শব্দের 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'আগমন' শব্দের 'আ' - সংস্কৃত উপসর্গ।
- 'আগমন' শব্দের 'আ' বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৫.
‘অপমৃত্যু’ - শব্দের ‘অপ’ উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) নিকৃষ্ট
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) বিকৃত
  4. ঘ) হীনতা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার -
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ। 
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু। 

উৎস: ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৪০৬.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অতি
  2. অনু
  3. দুর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়
- উপরিউক্ত অপশনে সবগুলোই -  তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০৭.
'আড়মোড়া' শব্দে 'আড়' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. বক্র
  3. আধা
  4. সমূহ
ব্যাখ্যা

'আড়' বাংলা উপসর্গের ব্যবহার:
'বক্র' অর্থে - আড়চোখে, আড়নয়নে। 
'আধা, প্রায়' অর্থে - আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা। 
'বিশিষ্ট' অর্থে - আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি। 

বাংলা উপসর্গ:
 - বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪০৮.
‘উপাচার্য’ শব্দটি কোন উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত বা তৎসম
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
‘উপাচার্য’ শব্দটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ‘উপ’ যোগে গঠিত।

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

 সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৯.
'অনুশীলন' শব্দটি কোন উপসর্গ দিয়ে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
- 'অনুশীলন' শব্দের 'অনু' উপসর্গটি একটি তৎসম উপসর্গ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 
 
• 'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১০.
"অনুপ্রবেশ" শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• 'অনুপ্রবেশ' শব্দটিতে — ২টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অনুপ্রবেশ' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
- অনু + প্র।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১১.
'আশৈশব' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. বিভক্তি দ্বারা
  2. উপসর্গ দ্বারা
  3. সন্ধি দ্বারা
  4. বলক দ্বারা
ব্যাখ্যা

• 'আশৈশব' শব্দটি গঠিত হয়েছে- উপসর্গ দ্বারা।

ব্যাখ্যা:
আশৈশব = আ + শৈশব।
এখানে "আ-" একটি উপসর্গ, যা "থেকে / আরম্ভকাল" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থাৎ আশৈশব = শৈশবকাল থেকেই।
------------ 
• 'আশৈশব' শব্দের বিশ্লেষণ:
- আ+শৈশব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

৪১২.
কোন গুচ্ছটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অঘা, রাম, অনা
  2. রাম, স, অধি
  3. অপ, রাম, অতি
  4. আব, ইতি, অভি
ব্যাখ্যা

অঘা, রাম, অনা - গুচ্ছটি বাংলা উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪১৩.
'বকলম' শব্দে ব্যবহৃত উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বাইরে
  2. না
  3. সহিত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• 'বকলম' শব্দে 'ব' উপসর্গটি 'সহিত' অর্থ প্রকাশ করে।
- 'ব' উপসর্গটি  ফারসি উপসর্গ।
- সহিত অর্থে গঠিত শব্দ- বকলম, বমাল, বনাম ইত্যাদি।
- 'বকলম' শব্দের অর্থ - লিখতে অক্ষম এমন ব্যক্তির পরিবর্তে যে লেখে বা সই করে।

• কিছু বিদেশি উপসর্গ: 
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, বাজে, গর।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বড়, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
হিন্দি: হর, হরেক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ও অভিগম্য অভিধান।
৪১৪.
‘অবেলা’ শব্দে ‘অ’ উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. ক্রমাগত
  3. অভাব
  4. সময়
ব্যাখ্যা
'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
অভাব অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৫.
আরবি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বেহায়া
  2. বরখাস্ত
  3. বকলম
  4. বাজেখরচ
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘বাজে’ যোগে গঠিত শব্দ - বাজেখরচ।

অন্যদিকে,
- ফারসি ‘ব’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বকলম।
- ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বেহায়া।
- ফারসি ‘বর’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বরখাস্ত।

--------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৬.
‘পাতিহাঁস’ শব্দে ব্যবহৃত ‘পাতি’ কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. খাঁটি বাংলা
  3. তৎসম
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘পাতিহাঁস’ শব্দে ছোটো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• যেমন- পাতি+হাঁস = পাতিহাঁস। 

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১৭.
'বদনাম' শব্দের 'বদ' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম উপসর্গ
  2. খ) বাংলা উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'বদনাম' শব্দের 'বদ' ফারসি ভাষার উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৮.
কোন শব্দটিতে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আভাস
  2. খ) গরমিল
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) বেমালুম
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অ’ খারাপ বা নিন্দিত অর্থে, না অর্থে এবং ক্রমাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- অকাজ, অপয়া, অঘাটা, অজানা, অচেনা, অদেখা, অচল, অঝর, অফুরন্ত, অঘোর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা দ্বিতীয়পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৪১৯.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ কোনটি?
  1. অধিকার
  2. কদর্য
  3. অপমান
  4. দুদর্শা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ‘কদ’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - কদর্য

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত ‘অধি’, ‘অপ’, ‘দুর’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান, দুদর্শা।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২০.
উপসর্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. অব্যয়সূচক শব্দাংশ
  2. স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  3. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  4. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে
ব্যাখ্যা
• ''স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়'' - বাক্যটি উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক নয়।  
------------- 
• উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরণের পরিবর্তন ঘটে:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি হয়।
২. শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়।
৩. শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়।
৪. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়।
----------------- 
অন্যদিকে, 
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রুপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গের কিছু উদাহরণ : 
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২১.
'উপনয়ন' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. আরবি উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

- তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৪২২.
'বেকার' শব্দে 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি 
  3. তৎসম 
  4. আরবি 
ব্যাখ্যা

'বে'  ফারসি উপসর্গ যোগে না অর্থে গঠিত শব্দ- বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার। 

• বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২৩.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অজ
  2. উপ
  3. অপ
  4. অনু
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২৪.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. সলাজ
  2. দুর্নাম
  3. নিরেট
  4. নিশপিশ
ব্যাখ্যা
নিশপিশ: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে কোনো ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।

অন্যদিকে,
- সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
• নিরেট শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৫.
'অধিরোহণ' শব্দটিতে 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. মধ্যে
  2. সদৃশ
  3. উপরি
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা

• 'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি 'উপরি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি।
• 'উপরি' অর্থে- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিবাস, অধিগত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২৬.
উপসর্গের কাজ কোনটি?
  1. ক) স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা
  2. খ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  3. গ) শব্দের পরে বসে
  4. ঘ) শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই, কিন্ত নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উপসর্গের কাজ,
- নতুন শব্দ তৈরি করা।
- শব্দের অর্থ তৈরি করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৭.
‘প্রতিধ্বনি’ শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. ব্যাপ্তি
  3. বিপরীত
  4. গতি
ব্যাখ্যা
• সদৃশ অর্থে ‘প্রতি’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- প্রতিধ্বনি।

---------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৮.
কোন শব্দটি তৎসম উপসর্গ দিয়ে গঠিত
  1. সজ্ঞান
  2. উৎফুল্ল
  3. পাতকুয়া
  4. হাহুতাশ
ব্যাখ্যা
• "উৎ' একটি তৎসম উপসর্গ।
- 'উৎ' উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ:
- উৎসব, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপাদন, উচ্চারণ, উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে,
- 'হাহুতাশ' শব্দে 'হা' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'পাতকুয়া' শব্দে 'পাতি ' একটি বাংলা উপসর্গ।
- 'সজ্ঞান' শব্দে 'স' একটি বাংলা উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪২৯.
'সাজোয়ান' - শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ফারসি
  3. বাংলা 
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' - বাংলা উপসর্গ
- 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৩০.
'নিদাঘ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
তৎসম উপসর্গ: 
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ যেমন বাংলা শব্দের আগে বসে, তেমনি তৎসম উপসর্গ তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের আগে বসে।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

যেমন-
- আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। কাজেই এসব শব্দের উপসর্গ আ, সু, বি, নি-ও তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩১.
বাংলা ভাষায় কয়টি তৎসম উপসর্গ আছে?
  1. উনিশ টি
  2. কুড়ি টি
  3. বাইশ টি
  4. একুশ টি
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা:
→  অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
→  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪৩২.
বাংলা ভাষায় খাটি বাংলা উপসর্গ কতটি?
  1. ২১টি
  2. ৩৯টি
  3. ১৯টি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩৩.
’অঘারাম’ শব্দের ’অঘা’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. নঞথর্ক
  2. বিয়োগান্তক
  3. বোকা
  4. নিতান্ত
ব্যাখ্যা
• ’অঘারাম’ শব্দের ’অঘা’ উপসর্গটি  ’বোকা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

’অঘা’ উপসর্গটি  ’বোকা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
অঘারাম, অঘাচন্ডী।

• ’অঘা’ একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা:
→  অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪৩৪.
‘বিনির্মাণ' শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', ‘অভি’, ‘বে’ হলো উপসর্গ।

- অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
- যেমন, ‘সম্প্রদান' শব্দে ‘দান’-এর আগে ‘সম্’ এবং ‘প্র’ – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
- একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে ‘মান’-এর আগে বসেছে ‘বি’ এবং ‘নির্’ উপসর্গ (দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে)।

- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে ৷

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩৫.
‘অবশেষ’ শব্দটিতে ‘অব’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্যক 
  2. প্রতিকুল
  3. অল্পতা
  4. নিম্নে
ব্যাখ্যা

• 'অব' একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার:
- অল্পতা অর্থে = অবশেষ, অবসান, অবেলা। 
- হীনতা অর্থে = অবজ্ঞা, অবমাননা। 
- নিম্নমুখী অর্থে = অবতরণ। 
- সম্যকভাবে অর্থে = অবরোধ, অবগাহন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩৬.
"অবমাননা" শব্দে কোন ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. বিদেশি
  3. তৎসম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "অবমাননা" শব্দে তৎসম উপসর্গ "অব" ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে, হীনতা অর্থে 'অব' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।
------------ 
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৩৭.
'অপ' কী ধরণের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. বিদেশি
  3. সংস্কৃত
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• ‘অপ’ - সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৩৮.
'দুর্দিন' শব্দে 'দুর্‌' উপসর্গটি কোন অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে?
  1. মন্দ
  2. অধিক
  3. অল্প
  4. পুরোপুরি
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 
উদাহরণ -
- দুঃশাসন = দুঃ + শাসন,   'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুর্মূল্য = দুর্‌ + মূল্য,  'অধিক' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুষ্প্রাপ্য = দুস্‌ + প্রাপ্য   'অল্প' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- দুর্দিন = দুর্‌ + দিন 'মন্দ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৩৯.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ হলো-
  1. পরিচ্ছেদ
  2. বেকার
  3. নিরেট
  4. অনাবৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• 'পরিচ্ছেদ' হলো তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
- 'নিরেট' নাই অর্থে বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।
- ফারসি ‘বে’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- বেকার।
- 'অনাবৃষ্টি' শব্দটিতে 'অনা' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪০.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অবমাননা
  2. আনমনা
  3. অনুতাপ
  4. অভিসার
ব্যাখ্যা
• বিক্ষিপ্ত অর্থে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আন’ যোগে গঠিত শব্দ- আনমনা।

অন্যদিকে,
• ‘অব’, ‘অনু’ ও ‘অভি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- অবমাননা, অনুতাপ ও অভিসার।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪১.
বিদেশী উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নারাজ
  2. খ) বিকার
  3. গ) নিদাঘ
  4. ঘ) নিবার
ব্যাখ্যা

ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ-
১) কার (কাজ)- কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর (মধ্যস্থ, অধীন)- দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না- নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম (আধা) নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি)- ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ (মন্দ)- বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না)- বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর (বাইরে, মধ্যে)- বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব (সহিত)- বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম (স্বল্প)- কমজোর, কমবখত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪২.
‘সম্প্রদান' শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', ‘অভি’, ‘বে’ হলো উপসর্গ।

- অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
- যেমন, ‘সম্প্রদান' শব্দে ‘দান’-এর আগে ‘সম্’ এবং ‘প্র’ – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
- একইভাবে 'বিনির্মাণ' শব্দে ‘মান’-এর আগে বসেছে ‘বি’ এবং ‘নির্’ উপসর্গ।

- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে ৷

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৪৪৩.
‘নির্জীব’ শব্দে ‘নির’ উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অভাব
  2. মন্দ
  3. নিকৃষ্ট
  4. বিকৃত
ব্যাখ্যা
• ‘নির্জীব’ শব্দে তৎসম ‘নির’ উপসর্গটি অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

তেমনি,
- নিশ্চয় অর্থে ‘নির’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর শব্দে।
- বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে ‘নির’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন শব্দে।

----------------------

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৪.
কোন উপসর্গটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে?
  1. অনু
  2. আম
  3. উৎ
  4. সম
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪৫.
‘সুনিপুণ’ শব্দে 'সু' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আতিশয্য
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) নিশ্চয়
  4. ঘ) উত্তম
  5. ঙ) বিশেষ
ব্যাখ্যা
আতিশয্য অর্থে ‘সু’ উপসর্গের ব্যবহার- সুচতুর, সুকঠিন, সুধীর, সুনিপুণ, সুতীক্ষ্ণ।
৪৪৬.
নিচের কোনটি বিদেশি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) উপমন্ত্রী
  2. খ) প্রশংসা
  3. গ) ইতিহাস
  4. ঘ) গরমিল
ব্যাখ্যা
বিদেশি বাংলা উপসর্গযুক্ত শব্দ: গরমিল
- আরবি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: গরমিল। 

তাছাড়া,
তৎসম উপসর্গ 'উপ' যুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ: উপমন্ত্রী 
তৎসম উপসর্গ 'প্র' যুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ: প্রশংসা
বাংলা উপসর্গ 'ইতি' যুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ: ইতিহাস, 

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা থেকে যে সকল উপসর্গ বাংলায় এসেছে তাদের বিদেশি উপসর্গ বলে।
যেমন: ফুল, হাফ, হেড, সাব, বে, বাজে, আম, খাস, লা, গর ইত্যাদি। বিদেশি উপসর্গের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪৭.
বিপরীত অর্থে 'অপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. অপসৃষ্টি
  2. অপযশ
  3. অপকর্ম
  4. অপবাদ
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৪৪৮.
নিচের কোন শব্দটি আরবি উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. বেআদব
  2. বদমেজাজ
  3. খাসখবর
  4. নারাজ
ব্যাখ্যা
• 'খাসখবর' আরবি উপসর্গ 'খাস' যোগে গঠিত হয়েছে।

• আরবি উপসর্গ:
- আম - আমদরবার, আমমোক্তার
- খাস - খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার
- লা - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
- গর - গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

অন্যদিকে,
- বেআদব, বদমেজাজ ও নারাজ ফারসি উপসর্গ যথাক্রমে বে, বদ ও না যোগে গঠিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৪৯.
'উপভোগ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামীপ্য অর্থে
  2. সম্যক অর্থে
  3. সদৃশ অর্থে
  4. বিশেষ অর্থে
ব্যাখ্যা
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫০.
”ইতি” উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. অভাব
  2. অস্পষ্টতা
  3. পুরনো
  4. বিক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

”ইতি” উপসর্গটি ’পুরনো’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’ইতি’ একটি বাংলা উপসর্গ।

’ইতি’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’পুরনো" অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস ।
• ’এ বা এর’ অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে।

উল্লেখ্য,
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি ।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৪৫১.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. দুর্ঘটনা
  2. সরব
  3. ভরপুর
  4. পাতিলেবু
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা ২০টি। এগুলো তৎসম শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

• দুর্ (দুঃ) তৎসম উপসর্গ:
• মন্দ অর্থে: দুর্ভাগ্য, দুর্দশা, দুর্নাম, দুরাত্মা, দুর্ঘটনা, দুর্জন, দুর্বৃত্ত, দুশ্চরিত্র।
• কষ্টসাধ্য অর্থে: দুর্লভ, দুর্গম, দুরূহ, দুর্জয়, দুর্নিবার, দুর্বোধ্য, দুর্ভেদ্য।

অন্যদিকে, 
সরব, ভরপুর ও পাতিলেবু খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স, ভর, পাতি' যোগে গঠিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫২.
‘না’ কোন ধরনের উপসর্গ?  
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. বিদেশি উপসর্গ
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।   
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে। 

♠ বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।   

১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি: 
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।  

২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি:  
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি,  অপি, অভি, উপ, আ। 

৩. বিদেশি উপসর্গ: 
• ফারসি উপসর্গ: কার্‌, দর্‌, না, নিম্‌, ফি, বদ্‌, বে, বর্‌, ব্‌, কম্‌।  
• আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর্‌।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৩.
কোনটির নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই?
  1. উপসর্গ
  2. সমাস
  3. অব্যয়
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।
- এ উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অন্য শব্দের আগে যুক্ত হলে এদের অর্থদ্যোতকতা বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা।
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৪৫৪.
নিচের কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) অনু
  2. খ) অধি
  3. গ) অনা
  4. ঘ) অপ
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 


বাংলা উপসর্গ:
যেসব অব্যয় জাতীয় শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
১. বাংলা উপসর্গগুলােকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়।
২. বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয় জাতীয় শব্দ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। |
৩. এগুলাে সাধারণত নাম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়।
৪. এদের খাটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ একুশটি।
এগুলি হলাে- 
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম ও খাঁটি বাংলা উভয় উপসর্গে পাওয়া যায় = সু, বি, নি, আ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
'আমরণ' শব্দে 'আ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'আমরণ' শব্দে 'আ' একটি তৎসম উপসর্গ।
• 'আমরণ' একটি তৎসম শব্দ।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

 • উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৫৬.
'সে লাপাত্তা'- এখানে 'লা' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) আরবী
  2. খ) ফারসি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের ইত্যাদি হলো আরবি উপসর্গ। অর্থাৎ, 'লাপাত্তা' শব্দের 'লা' আরবি ভাষা থেকে এসেছে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
৪৫৭.
বিদেশি উপসর্গ কোনটি?
  1. অনা
  2. অধি
  3. পরি
  4. আম
ব্যাখ্যা

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৫৮.
'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে ?
  1. ক) নিদারুন
  2. খ) নিষ্কলুষ
  3. গ) নিদাঘ
  4. ঘ) নিবারণ
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।
-----------------
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৯.
তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পরাজয়
  2. ইতিকথা
  3. ভরসন্ধ্যে
  4. রামবোকা
ব্যাখ্যা
• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি। যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দূর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• 'পরা' উপসর্গ যোগে আতিশয্য অর্থে গঠিত শব্দ- পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ। 
• 'পরা' উপসর্গ যোগে শব্দবিপরীত অর্থে গঠিত শব্দ- পরাজয়, পরাভব। 

অন্যদিকে, 
• 'ইতি' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে, ইতিকথা, ইতিহাস। 
• 'ভর' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- ভরপেট, ভরসাঁঝ, ভরপুর, ভরদুপুর, ভরসন্ধ্যে। 
• 'রাম' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- রামছাগল, রামদা, রামশিঙ্গা, রামবোকা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৬০.
'প্রতি' ও 'অতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. বিদেশি উপসর্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশ (২০) টি।
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উল্লেখ্য, 
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশ (২১) টি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি- এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে। 
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে। 
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।
- এরূপ- বেহায়া, বেনজির, বেশরম, বেকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪৬১.
"আ, সু, বি, নি" - এই চারটি কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে।

বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬২.
'নিকৃষ্ট' অর্থে 'অপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে? 
  1. অপযশ
  2. অপবাদ
  3. অপমৃত্যু
  4. অপহরণ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ
- স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

----------------
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৪৬৩.
'নির্জীব' শব্দটিতে উপসর্গ কোনটি?
  1. নি
  2. নির
  3. অব
  4. জীব
ব্যাখ্যা
• 'নির্জীব' শব্দটিতে উপসর্গ - নির
- 'নির্জীব' শব্দটির 'নির' অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৪.
উপসর্গ কোনটি?
  1. হতে
  2. পথে
  3. প্রতি
  4. চেয়ে
ব্যাখ্যা
‘প্রতি’ একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ,আ।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ্‌, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- বাংলা উপসর্গের ৪টি উপসর্গ  তৎসম  শব্দে ও পাওয়া যায়, যথা:  আ, সু, বি, নি।

অন্যদিকে, 
হতে ও চেয়ে হচ্ছে অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৬৫.
'অনাদর' শব্দে 'অনা' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- অনাবৃষ্টি, অনাদর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৪৬৬.
উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. সহ
  2. ইতি
  3. পরি
  4. অধি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ নয়- সহ। 
- 'সহ' একটি অনুসর্গের উদাহরণ। 

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৭.
'অপনোদন' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানান্তর
  2. বিপরীত
  3. বিকৃত
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৪৬৮.
কোনটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. হরতাল
  2. ঢাকাই
  3. বিকাশ
  4. হরহামেশা
ব্যাখ্যা
• 'হরহামেশা' শব্দটি  হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত।

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ:
- হর: প্রত্যেক অর্থে হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা।

অন্যদিকে,
- বিকাশ, ঢাকাই, হরতাল উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নয়।
- হরতাল - গুজরাটি শব্দ।
- ঢাকাই প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
- বিকাশ প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬৯.
কোন শব্দ গঠনে বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরাকাষ্ঠ
  2. পরিশ্রম
  3. অনাদর
  4. অভিব্যক্ত
ব্যাখ্যা
- অনাদর শব্দ গঠনে বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।
- অনাদর শব্দে ’অনা’ একটি বাংলা উপসর্গ।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে অনাদর অর্থ:
 ১ আদরের অভাব; অযত্ন।
২ উপেক্ষা; অবজ্ঞা।
৩ অসম্মান।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:

- খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা:
→  অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭০.
বাজে, গর, খয়ের কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত বা তৎসম
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে বাজে, গর, খয়ের আরবি উপসর্গ। 

• উপসর্গ: 
- ভাষায় ব্যবহৃত অব্যয়সূচক শব্দাংশের নাম উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে।
যেমন:
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ (২১টি)। 
• তৎসম উপসর্গ (২০টি)। 
• বিদেশি উপসর্গ। 

- বিদেশি উপসর্গে আরবি, ফারসি, হিন্দি ও ইংরেজি বহুকাল হতে প্রচলিত হয়ে আসছে।

• আরবি ভাষায় ব্যবহৃত কয়েকটি অর্থসহ উপসর্গ  নিচে দেয়া হল-
- আম (সাধারণ) > আমজনতা, আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস ( বিশেষ) > খাসমহল, খাসখবর।
- বাজে ( বিবিধ) > বাজেখরচ, বাজেকাজ।
- লা (না) > লাপাত্তা,লাখেরাজ।
- গর ( অভাব) > গরমিল,গররাজি। 
- খয়ের ( ভাল) > খয়ের খাঁ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭১.
'কদ্‌বেল' কোন উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) বিদেশী
  2. খ) তৎসম
  3. গ) বাংলা
  4. ঘ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে।
- এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।

বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী উপসর্গ ৩ প্রকার: 
- সংস্কৃত
- বাংলা
- বিদেশী 

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
- বাংলা উপসর্গ বাংলা শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে।

কদ্‌ 
অর্থদ্যোতকতা - নিন্দিত
উদাহরণ - কদ্‌বেল, কদর্য, কদাকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৭২.
"হররোজ" - শব্দের উপসর্গ 'হর' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অধীন
  2. প্রত্যেক
  3. মধ্যস্থ
  4. আধা
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'। 
- 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
উদাহরণ:
- হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 
---------------
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৩.
নিচের কোন শব্দটিতে উপসর্গ রয়েছে?
  1. সুন্দর
  2. অয়ন
  3. অজানা
  4. নমুনা
ব্যাখ্যা
অজানা→ উপসর্গযুক্ত শব্দ
এখানে, 
অজানা → শব্দটিতে "অ" একটি উপসর্গ (অভাব অর্থে ব্যবহৃত) + "জানা" (মূল শব্দ)।

অন্যদিকে, 
সুন্দর → এখানে কোনো উপসর্গ নেই।
অয়ন → "অয়ন" একটি স্বতন্ত্র শব্দ, এতে উপসর্গ নেই।
নমুনা → এটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ, এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭৪.
'অজমূর্খ' শব্দের 'অজ' কোন জাতের উপসর্গ?
  1. তৎসম 
  2. আরবি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. ফারসি
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ - অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৭৫.
‘কদবেল’ শব্দে ব্যবহৃত ‘কদ’ উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. কম
  2. নিন্দিত
  3. আধা
  4. উত্তম
ব্যাখ্যা
• কদ উপসর্গটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি নিন্দিত অর্থে- কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

=============
⇒ উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭৬.
সংস্কৃত উপসর্গ কোনগুলো?
  1. ক) আব, ইতি, পাতি
  2. খ) আড়, কদ, রাম
  3. গ) প্র, পরা, অপ
  4. ঘ) অঘা, অজ, অনা
ব্যাখ্যা
প্র, পরা, অপ হলো সংস্কৃত উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি। এগুলো হলোঃ আ, অপ, অব, অতি, অধি, অপি, অনু, উপ, উৎ, নি, নির, প্র, পরা, সম, দুর, বি, সু, পরি এবং প্রতি।
বাংলা উপসর্গ হলো ২১টি৷ যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু এবং হা।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৭৭.
‘উপসাগর’ শব্দে ‘উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সামীপ্য
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৭৮.
'উপক্ষয়' শব্দটিতে 'উপ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. কষ্টসাধ্য অর্থে
  2. অতিশয় অর্থে
  3. উপরে অর্থে
  4. অপকর্ষ অর্থে
ব্যাখ্যা

• উপক্ষয়[উপ+ক্ষয়]:
- অর্থ: ক্ষতি, অপচয়, হানি।
• 'উপ' উপসর্গ 'অপকর্ষ' বা 'অবনতি'  অর্থে ব্যবহার হয়েছে।

অপকর্ষ অর্থ:
১) হীনতা, নিকৃষ্টতা।
২) পতন, অবনতি।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

৪৭৯.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাসৃষ্টি 
  2. অভিব্যক্তি
  3. অত্যাচার
  4. পরাকাষ্ঠা
ব্যাখ্যা

’অনাসৃষ্টি’ শব্দটি বাংলা উপসর্গ ’অনা’ যোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
’অভিব্যক্তি, অত্যাচার, পরাকাষ্ঠ, ’ শব্দগুলো (অভি, অতি, পরা) তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪৮০.
'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. সম্পূর্ণ
  3. নিতান্ত
  4. অস্পষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' বা মন্দ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' (মন্দ) অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ:
যেমন-
অজপুকুর, অজমূর্খ, ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮১.
'পরা' সংস্কৃত উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পরাজয়
  2. পরাকাষ্ঠা
  3. পরাক্রান্ত
  4. পরায়ণ
ব্যাখ্যা
• 'পরা' উপসর্গযোগে আতিশয্য অর্থে- পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ। 
• 'পরা' উপসর্গযোগে বিপরীত অর্থে- পরাজয়, পরাভব। 

----------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)
৪৮২.
‘ঊনআশি’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) বাংলা
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘ঊনআশি’ শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘ঊন’ যোগে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪৮৩.
'প্রায়' অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নালায়েক
  2. খ) নিমখুন
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) আকন্ঠ
ব্যাখ্যা
- 'অপূর্ণ' অর্থে 'না' উপসর্গের ব্যবহার: নালায়েক, নাখোশ।
- 'প্রায়' অর্থে 'নিম' উপসর্গের ব্যবহার: নিমখুন, নিমরাজি।
- 'ক্ষুদ্র' অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার: উপগ্রহ, উপনেতা।
- 'পর্যন্ত' অর্থে 'আ' উপসর্গের ব্যবহার: আকন্ঠ, আসমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. ঊন
  2. আব
  3. ইতি
  4. উৎ
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ নয়- উৎ। 
- 'উৎ' সংস্কৃত উপসর্গ। 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪৮৫.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি ?
  1. নালায়েক
  2. সদ্ভাব
  3. গোলাপ
  4. কুদরতি
ব্যাখ্যা
ফারসি ‘না’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নালায়েক।

অন্যদিকে,
সৎ + ভাব = সদ্ভাব; সন্ধি সাধিত শব্দ।
গোলাপ মৌলিক শব্দ।
• কুদরত + ই = কুদরতি; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

-----------------------
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।+্
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন, 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৪৮৬.
অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. প্রস্ফুটিত
  2. প্রচলন
  3. প্রসিদ্ধ
  4. প্রশাখা
ব্যাখ্যা
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৭.
'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. দেশি উপসর্গ
  4. বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৮.
কোনটি ফারসি উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. লাপাত্তা
  2. দরপত্তনী
  3. খাসমহল
  4. আমদরবার
ব্যাখ্যা
• 'দরপত্তনী' - শব্দের 'দর্‌' -'ফারসি' উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ:
১) কার (কাজ): কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর্‌ (মধ্যস্থ, অধীন): দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না (না): নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম্‌ (আধা): নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি): ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ্‌ (মন্দ): বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না): বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর্‌ (বাইরে, মধ্যে): বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব্‌ (সহিত): বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম্‌ (স্বল্প): কমজোর, কমবখত।

অন্যদিকে, 
আরবি উপসর্গের প্রয়োগ: 
উপসর্গ -- যে অর্থে প্রযুক্ত -- উদাহরণ-

ক. আম্ -- সাধারণ -- আমদরবার, আমজনতা, আমমোক্তার।
খ. খাস -- বিশেষ -- খাসমহল, খাসকামরা, খাসখবর।
গ. লা -- না -- লাপাত্তা, লাওয়ারিশ, লাজওয়াব।
ঘ. গর -- অভাব -- গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৯.
নিচের কোন শব্দে অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিচরণ
  2. খ) বিফল
  3. গ) বিধৃত
  4. ঘ) বিকার
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ:
বিশেষ রূপে:
- বিধৃত
- বিশুদ্ধ
- বিজ্ঞান
- বিবস্ত্র
- বিশুষ্ক

অভাব:
- বিনিদ্র
- বিবর্ণ
- বিশৃঙ্খল
- বিফল

গতি:
 - বিচরণ
 - বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থ: বিকার

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪৯০.
‘সু’ উপসর্গযোগে গঠিত ‘সুনজর’ শব্দটিতে অর্থের কী ঘটেছে?
  1. সম্প্রসারণ
  2. সংকোচন
  3. সংযোজন
  4. কাছে আসা
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।

• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ।
যেমন:
- সম্ + বাদ = সংবাদ;
- বি + বাদ= বিবাদ।

• উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
যেমন:
- সু + নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন)।
- সম্ + পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ)।
- গর + হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৪৯১.
'সুডৌল' শব্দের কোন প্রকার উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সুডৌল' শব্দের 'বাংলা' উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে।
- 'সু' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ -সুখবর, সুদিন, সুনজর, সুনাম, সুডৌল।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৯২.
'গরমিল' শব্দে 'গর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' শব্দে 'গর' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪৯৩.
বিদেশি উপসর্গযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. প্রতিধ্বনি
  2. বকলম
  3. উপসাগর
  4. কদবেল
ব্যাখ্যা
• "বকলম" শব্দটি বিদেশি (ফারসি) উপসর্গ "ব-" দিয়ে গঠিত।
- ফারসি ভাষা থেকে আগত এই উপসর্গটি "সহিত" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• "বকলম" অর্থ:
"বকলম" শব্দের অর্থ হলো "কলমের মাধ্যমে।"

অন্য অপশনে,
• প্রতিধ্বনি:
"প্রতি-" একটি সংস্কৃত উপসর্গ, যা 'সদৃশ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• উপসাগর:
"উপ-" একটি সংস্কৃত উপসর্গ, যা 'ক্ষুদ্র' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• কদবেল:
"কদ-" একটি বাংলা উপসর্গ, যা 'নিন্দিত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯৪.
উপসর্গ সম্পর্কে নিচের কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. ক) উপসর্গ শব্দের অর্থের সংকোচন করে
  2. খ) উপসর্গ শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে
  3. গ) উপসর্গ শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ করে
  4. ঘ) উপসর্গ শব্দের পরে বসে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্যে শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন- নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়, শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়, শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে, শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৫.
'নিম' যে ভাষার উপসর্গ -
  1. ক) উর্দু
  2. খ) ফারসি
  3. গ) গুজরাটি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা

উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

বিদেশী উপসর্গঃ
- ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- উর্দু উপসর্গ হর।
- ইংরেজি উপসর্গ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৬.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ফি, বদ, বে হচ্ছে ফারসি উপসর্গ।
  2. অজ, কদ, হা হচ্ছে বাংলা উপসর্গ।
  3. কার, দর, না হচ্ছে আরবি উপসর্গ।
  4. বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
ব্যাখ্যা
• কার, দর, না হচ্ছে আরবি উপসর্গ। এটি সঠিক নয়। 
-  কার, দর, না হচ্ছে ফারসি উপসর্গ।   

• বাংলা উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৭.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?
  1. উপনেতা
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে ক্ষুদ্র অর্থে “উপ” তৎসম উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• অন্যদিকে উপভোগ শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি “বিশেষ” অর্থ প্রকাশ করে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৯৮.
নিচের কোনটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গ?
  1. হের
  2. হর
  3. কার
  4. হেড
ব্যাখ্যা
• 'হর' - উর্দু-হিন্দি উপসর্গ।
- প্রত্যেক অর্থে - হরহামেশা, হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম ইত্যাদি।

বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৯.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. হর
  2. কার
  3. আম
  4. গর
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫০০.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ইতিহাস
  2. আমদরবার
  3. পরস্পর
  4. পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• 'পরস্পর' উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়। এটি একটি সন্ধি সাধিত শব্দ। 
- 'পরস্পর' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: পর্ + পর = পরস্পর।
- যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। এখানে 'পর্‌' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
'ইতি' বাংলা উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
•'পুরনো" অর্থে- ইতিকথা, ইতিহাস।
• 'এ বা এর' অর্থে- ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে।

• 'আম্‌' আরবি উপসর্গ যোগে 'সাধারণ' অর্থে গঠিত শব্দ- আমদরবার, আমমোক্তার
• 'পরি' তৎসম উপসর্গ যোগে 'বিশেষ রূপ' অর্থে গঠিত শব্দ- পরিপক্ক, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।