বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৩০১৪০০ / ১,২৬৬

৩০১.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপভোগ
  2. পরিমাণ
  3. কমজোর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।

- 'কম' উপসর্গটি একটি ফারসি উপসর্গ। 
- 'কমজোর' শব্দটিতে ‘কম' উপসর্গটি স্বল্প অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াত মাহমুদ।
৩০২.
উপসর্গ বিষয়ে অশুদ্ধ তথ্য কোনটি?
  1. উপসর্গের নিজের অর্থ আছে। 
  2. শব্দের পূর্বে বসে।  
  3. উপসর্গ নতুন শব্দ তৈরি করে। 
  4. অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে। 
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ বিষয়ে অশুদ্ধ তথ্য- উপসর্গের নিজের অর্থ আছে।

-----------------
• উপসর্গ:

- কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে যারা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, বরং অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করতে পারে তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• উপসর্গের নিজের অর্থ নেই, কিন্তু নতুন নতুন শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
• তাই বলা হয়- উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০৩.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কদবেল
  2. অপচয়
  3. অনাচার
  4. কমজোর
ব্যাখ্যা
• বিপরীত অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অপচয়।

অন্যদিকে,
• নিন্দিত অর্থে ‘কদ্’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - কদবেল।
• ছাড়া অর্থে ‘অনা’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনাচার।
• স্বল্প অর্থে ‘কম্’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- কমজোর।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৪.
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ কোনটি?
  1. অজ
  2. অনু
  3. আড়
  4. কদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৫.
অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. বিজ্ঞান
  2. বিশৃঙ্খল
  3. বিধৃত
  4. বিক্ষেপ
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ:
বিশেষ রূপে:
- বিধৃত
- বিশুদ্ধ
- বিজ্ঞান
- বিবস্ত্র
- বিশুষ্ক

অভাব:
- বিনিদ্র
- বিবর্ণ
- বিশৃঙ্খল
- বিফল

গতি:
 - বিচরণ
 - বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থ: বিকার

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
 
৩০৬.
'প্রতিমূর্তি' শব্দে উপসর্গ ‘প্রতি’ কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সদৃশ
  2. খ) বিরোধ
  3. গ) পৌনঃপুন
  4. ঘ) অনুরূপ কাজ
ব্যাখ্যা

উপসর্গঃ শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে। এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।
উপসর্গ ৩ প্রকার।
- সংস্কৃত
- বাংলা
- বিদেশী

সংস্কৃত উপসর্গঃ প্র, পরা, অপ, সম্‌, নি, প্রতি এ রূপ বিশটি (২০) টি উপসর্গ রয়েছে।
বাংলা উপসর্গ বাংলা শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে।

প্রতি
অর্থদ্যোতকতা - সদৃশ
উদাহরণ - প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী

৩০৭.
'অপচয়' শব্দে 'অপ' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা 
  2. আরবি 
  3. ফারসি
  4. তৎসম 
ব্যাখ্যা

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে। তৎসম উপসর্গ বিশটি।

যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' তৎসম উপসর্গের ব্যবহার:
• বিপরীত অর্থে: অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• নিকৃষ্ট অর্থে: অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• স্থানান্তর অর্থে: অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
• বিকৃত অর্থে: অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩০৮.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) নিজস্ব অর্থ নেই
  2. খ) অর্থদ্যোতনা তৈরির ক্ষমতা আছে
  3. গ) নতুন শব্দ তৈরি করে
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ। 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধশতাধিক উপসর্গ রয়েছে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৯.
'অপমৃত্যু' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. স্থানান্তর
  3. বিপরীত
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি।

 যেমন:
- প্র,পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

• 'অপ' উপসর্গের ব্যব্যহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপবাদ, অপকার।
- স্থানান্তর অর্থে = অপহরণ, অপনোদন, অপসারণ।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১০.
নিচের কোন শব্দে 'উপ' উপসর্গটি ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপদ্বীপ
  2. উপবন
  3. উপভোগ
  4. উপনেতা
ব্যাখ্যা
• উপনেতা শব্দটিতে ক্ষুদ্রার্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- 'উপদ্বীপ' ও 'উপবন' শব্দে সাদৃশ্য অর্থে 'উপ' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'উপভোগ' শব্দে বিশেষ অর্থে 'উপ' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে -  উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ। 

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩১১.
বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়- 
  1. আ, সু, বি, স 
  2. প্র, পরা, অপ, সম 
  3. সু, নি, আ, বি 
  4. আ, সু, পরা, বি
ব্যাখ্যা

সু, নি, আ, বি - এই চারটি উপসর্গ- বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গেই পাওয়া যায়।
-------------------------
• ‘উপসর্গ’:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ,
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।
----------------------------- 

উল্লেখ্য,
• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে।
- পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- আরবি: আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
- ফারসি: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু: হর।
- ইংরেজি: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;  
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১২.
‘পর্যবেক্ষণ’ শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. ক) একটিও না
  2. খ) দুইটি
  3. গ) একটি
  4. ঘ) তিনটি
ব্যাখ্যা
পর্যবেক্ষণ শব্দে ‘পরি’ ও ‘অব’ এই দুটি উপসর্গ আছে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৩.
‘প্রতিদিন’ শব্দে ‘প্রতি’ কি ধরণের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) বিদেশী
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩১৪.
কোন শব্দটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ভরদুপুর
  2. অবহেলা
  3. বিফল
  4. খাসজমি
ব্যাখ্যা

 ‘খাসজমি’ শব্দটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ ।

অন্যদিকে,
- তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- অবহেলা।
- বিফল- শব্দের 'বি' হলো বাংলা উপসর্গ।
- ‘ভরদুপুর’ শব্দের 'ভর' হলো বাংলা উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১৫.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অনু
  2. ভর
  3. অব
  4. দুর
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১৬.
ফারসি উপসর্গ নিচের কোনটি?
  1. খাস
  2. লা
  3. সাব
  4. নিম
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

অন্যদিকে,
- আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
         ২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩১৭.
'খাসখবর' শব্দে ব্যবহৃত 'খাস' -
  1. দেশি উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. বাংলা উপসর্গ
  4. সংস্কৃত উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'খাসখবর' শব্দে ব্যবহৃত 'খাস' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৮.
ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নির্ধারণ
  2. বিজ্ঞান
  3. বেকার
  4. দুর্গম
ব্যাখ্যা
• ফারসি ‘বে’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-  বেকার।

অন্যদিকে,
‘নির’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - নির্ধারণ।
‘বি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - বিজ্ঞান।
‘দুর’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - দুর্গম।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৯.
'নিন্দিত' অর্থে বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি? 
  1. অকাজ
  2. অঢেল
  3. অজানা
  4. অযাচিত
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ: 
- যেসব অব্যয় জাতীয় শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য: 
১. বাংলা উপসর্গগুলোকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়। 
২. বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয় জাতীয় শব্দ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না। 
৩. এগুলো সাধারণত নাম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়। 
৪. এদের খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। 
- বাংলা উপসর্গ একুশটি। 
যেমন - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অ উপসর্গ: 
ব্যবহৃত অর্থ ⇒ উদাহরণ: 
⇒ নিন্দিত অর্থে ⇒ অকাজ, অকেজো, অকাল, অপয়া, অকাট, অপাত্র ইত্যাদি। 
⇒ অভাব অর্থে ⇒ অচিন, অজানা, অথৈ ইত্যাদি। 
⇒ না অর্থে ⇒ অখুশি, অদেখা, অচেনা, অমিল, অমর, অবলা, অযাচিত ইত্যাদি। 
⇒ পরিমাণ অর্থে ⇒ অঢেল, অগুনতি, অফুরন্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২০.
‘অনাচার’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যতীত অর্থে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘অনা’ যোগে গঠিত শব্দ - অনাচার।

==========
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২১.
তৎসম উপসর্গ কোনটি?
  1. গর
  2. অনা
  3. লা
  4. সম
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ - সম।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।

যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
- আরবি উপসর্গ - গর, লা।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ - অনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২২.
'বদ' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. হিন্দি
  3. আরবি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• 'বদ' ফারসি ভাষার উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৩.
‘পাতিলেবু’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

পাতিলেবু শব্দটি বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত।

• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩২৪.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. রামছাগল
  2. সাজিরা
  3. প্রচলন
  4. সার্বভৌম
ব্যাখ্যা

• সার্বভৌম - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- 'সার্বভৌম' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : সর্বভূমি  + ষ্ণ।

অন্যদিকে,
- রামছাগল - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'রাম' রয়েছে।
- সাজিরা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'সা' রয়েছে।
- প্রচলন - তৎসম উপসর্গ 'প্র' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২৫.
‘খয়ের’ শব্দটি কোন দেশীয় উপসর্গ?
  1. ক) উর্দু
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বিদেশি উপসর্গ নিম্নরূপ 
হিন্দি/উর্দু - হর।
আরবি - আম, খাস, লা, গর, খয়ের 
ফারসি - কার, কদ, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ডঃ সৌমিত্র শেখর।

৩২৬.
অবলম্বনের 'অব' উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. নিম্নে
  2. সম্যকভাবে
  3. প্রতিকূল
  4. প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
• 'অবলম্বন' শব্দে 'অব' উপসর্গটি 'সম্যক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার:
- অল্পতা অর্থে = অবশেষ, অবসান, অবেলা।
- হীনতা অর্থে = অবজ্ঞা, অবমাননা।
- নিম্নমুখী অর্থে = অবতরণ।
- সম্যকভাবে অর্থে = অবরোধ, অবগাহন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৭.
'বর, ব, কম' কোন শ্রেণির উপসর্গ?
  1. দেশি উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• বর, ব, কম - বিদেশি উপসর্গ (ফারসি উপসর্গ)।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৮.
"অনুতাপ" শব্দে 'অনু' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পৌনঃপুন
  2. সঙ্গে
  3. পশ্চাত
  4. সাদৃশ্য
ব্যাখ্যা
'অনু' উপসর্গের ব্যব্যহার:
পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৯.
'সাজিরা' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'সাজিরা' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'সা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - সাজোয়ান, সাজিরা।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩০.
'প্রতাপ' শব্দে ‘প্র’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য অর্থে
  2. পরম্পরা অর্থে
  3. সম্যক অর্থে
  4. খ্যাতি অর্থে
ব্যাখ্যা
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩১.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভরপুর
  2. গরমিল
  3. আনকোরা
  4. উপনয়ন
ব্যাখ্যা
• আরবি উপসর্গ ‘গর’ যোগে গঠিত শব্দ- গরমিল।

অন্যদিকে,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - ভরপুর ও আনকোরা।
• তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- উপনয়ন।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩২.
বাংলা উপসর্গ মোট কয়টি?
  1. ১৯ টি
  2. ২০ টি
  3. ২১ টি
  4. ২২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৩৩.
'হরহামেশা' শব্দের 'হর' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. ফারসি
  3. উর্দু-হিন্দি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

- হর একটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গ।
- প্রত্যেক অর্থে হরহামেশা, হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৪.
অস্পষ্টতা বোঝাতে খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অবগত
  2. উপবন
  3. আবডাল
  4. অনুচর
ব্যাখ্যা
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।

অন্যদিকে,
• সাম্যক অর্থে ‘অব’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।
• সদৃশ অর্থে সংস্কৃত ‘উপ’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - উপবন।

-------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৫.
‘অবেলায় আমি দিলেম পাড়ি, অথৈ সাগরে' এখানে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) একটি
ব্যাখ্যা
• ‘অবেলায় আমি দিলেম পাড়ি, অথৈ সাগরে' - দুইটি উপসর্গ রয়েছে।
- বাক্যে 'অবেলা', 'অথৈ' শব্দদ্বয় এ 'অ' উপসর্গটি রয়েছে।
- 'অ' - একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ সংখ্যা - ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 - বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে।
 - অর্থাৎ ৪টি উপসর্গ বাংলা ও তৎসম উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৩৩৬.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. সম
  2. পরা
  3. দুর
  4. অজ
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৭.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. প্রতি
  2. ইতি
  3. অপি
  4. অতি
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ - অতি, অপি, প্রতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৮.
"ভরসন্ধ্যা" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• "ভর" একটি বাংলা উপসর্গ।
- "ভর" উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: ভরপুর, ভরপেট, ভরদুপুর, ভরসন্ধ্যা, ভরদিন, ভরসাঁঝ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৯.
কোনটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) ভরদুপুর
  2. খ) পরাজয়
  3. গ) প্রতিবাদ
  4. ঘ) বাজেখরচ
ব্যাখ্যা
'বাজেখরচ' - শব্দটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

'বাজে' - আরবি উপসর্গ।
- ‘পরাজয়’, ‘প্রতিবাদ’ = তৎসম উপসর্গ 
- ‘ভরদুপুর’ = বাংলা

বিদেশি উপসর্গ :
বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি উপসর্গেরও আগমন ঘটেছে । বাংলা ভাষার সঙ্গে এসন উপসর্গ ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেছে ।

- ইংরেজি : ফুল, হাফ, হেড, সাব।
- আরবি : আম, খাস, গর, লা, খয়ের, বাজে।
- ফারসি : কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু ও হিন্দি : হর, হরেক।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪০.
'সুনজর' শব্দের 'সু' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্প্রসারণ
  2. পুরোপুরি
  3. সংকোচন
  4. সম্পূর্ণ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোেগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।
- অনেক সময়ে শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
- যেমন, 'সম্প্রদান' শব্দে 'দান'-এর আগে 'সম্' এবং 'প্র' – এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় – উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ।
- যেমন - সম্+বাদ = সংবাদ, বি+বাদ = বিবাদ।
- 'বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ 'সংবাদ' ও 'বিবাদ' তৈরি হলো।
- উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।

যেমন-
- সু+নজর = সুনজর ( সংকোচন);
- সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ ( সম্প্রসারণ);
- গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৪১.
নিচের কোন শব্দটি গঠনে খাঁটি বাংলা উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আবছায়া
  2. পরামর্শ
  3. অপমান
  4. দুর্ভাগ্য
ব্যাখ্যা
• আবছায়া শব্দটি গঠনে খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'আব' ব্যবহৃত হয়েছে।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
পরামর্শ, অপমান ও দুর্ভাগ্য যথাক্রমে সংস্কৃত পরা, অপ ও দুর উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরাঅপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪২.
'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. বিদেশি উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা

'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ - অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৪৩.
বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) কু
  2. খ) প্র
  3. গ) অনু
  4. ঘ) অপ
ব্যাখ্যা
'কু'- বাংলা উপসর্গ।

•বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৪.
কোনটি তৎসম উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. ইতিহাস
  2. অনুবাদ
  3. গরমিল
  4. পাতিলেবু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অনুবাদ' শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গ 'অনু' দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
• 'ইতিহাস' শব্দের 'ইতি' হলো - খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘পাতি’ যোগে গঠিত শব্দ - পাতিলেবু।
-'গরমিল' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' - বিদেশি উপসর্গ। এটি আরবি উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৫.
‘সুনিপুণ’ শব্দটিতে তৎসম উপসর্গ ‘সু’ কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উত্তম
  2. সহজ
  3. আতিশয্য
  4. প্রকৃষ্ট
  5. নিশ্চয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ২০টি তৎসম উপসর্গ রয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে 'সু' উপসর্গযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ ও উপসর্গটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় - তা নিচে দেওয়া হলোঃ
১. উত্তম অর্থে -- সুকণ্ঠ, সুকৃতি, সুচরিত্র, সুপ্রিয় ইত্যাদি।
২. সহজ অর্থে -- সুগম, সুসাধ্য, সুলভ ইত্যাদি
৩. আতিশয্য অর্থে -- সুচতুর, সুকঠিন, সুধীর, সুনিপুণ, সুতীক্ষ্ণ ইত্যাদি।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
৩৪৬.
''খয়ের খাঁ'' শব্দে 'খয়ের' কোন উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফারসি উপসর্গ হলো - কার, দর্, না, নিম্, ফি, বদ, বে, বর্, কম্, ব্ ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু আরবি উপসর্গ হলো - আম্‌, খাস, লা, গর্‌, খয়ের, বাজে ইত্যাদি।
খয়ের আরবি উপসর্গ।
অর্থদ্যোতকতা - ভাল।
যেমনঃ খয়ের খাঁ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৪৭.
কোন উপসর্গগুচ্ছটি তৎসম?
  1. কু, নি, পাতি
  2. অপি, অভি, উপ
  3. বি, ভর, রাম
  4. অঘা, অজ, অনা
ব্যাখ্যা

• অপি, অভি, উপ - গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৮.
’লা-মজহাব’ শব্দে 'লা' উপসর্গটি কোন প্রকার উপসর্গের উদাহরণ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• ’লা-মজহাব’ শব্দে 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গের।

• লা আরবি উপসর্গ যা ’না’ অর্থে ব্যবহৃত। 

• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

এছাড়াও , 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩৪৯.
'অপচয়' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. বিপরীত
  3. স্থানান্তর
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩৫০.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. ইতি
  2. ভর
  3. দুর
  4. বর
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
অন্যদিকে,
- 'ইতি, ভর' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'দুর' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫১.
উপসর্গের ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) উপসর্গগুলাে বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. খ) এগুলাে নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
  3. গ) উপসর্গের নিজস্ব কোনাে অর্থ আছে।
  4. ঘ) এরা নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরি করে
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ হলাে কতগুলাে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি।
- যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বিভিন্ন অর্থের সৃষ্টি করে, তাকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
উপ + হার = উপহার,
বি + হার = বিহার,
প্র+ হার = প্রহার ইত্যাদি;

নিচে উপসর্গের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেয়া হলাে- 
১. উপসর্গের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
২. এরা নতুন অর্থবােধক শব্দ তৈরি করে।
৩. উপসর্গগুলাে বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪. উপসর্গগলাে অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
৫. এগুলাে নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫২.
‘উৎপাদন’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. উর্দু
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘উৎ’ যোগে গঠিত শব্দ - উৎপাদন।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [উৎ+√পাদি+অন]
অর্থ: নির্মাণ, সৃষ্টি, জনন, জন্মদান, নির্মিত বস্তু।

===========

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ।
৩৫৩.
নিচের কোন উপসর্গটি তৎসম এবং খাঁটি বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে?
  1. অনা
  2. সম
  3. সু
  4. অধি
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৫৪.
'উপদেশ' শব্দটিতে 'উপ' পূর্বপদটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক
  2. খ) ক্ষুদ্র
  3. গ) সামীপ্য
  4. ঘ) সদৃশ
ব্যাখ্যা
'উপদেশ' শব্দটিতে 'উপ' পূর্বপদটি 'সম্যক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার- 
সম্যক অর্থে - উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার।
ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
সামীপ্য অর্থে - উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর।
সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
নিচের কোন উপসর্গগুচ্ছ সংস্কৃত?
  1. পরি, প্রতি, অভি
  2. বি, ভর, রাম
  3. অনা, অজ, পরি
  4. স, সা, হা
ব্যাখ্যা
• পরি, প্রতি, অভি সংস্কৃত উপসর্গ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: আম, খাস, লা, গর, বাজে, বদ, বে, বর, ব, হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৬.
'নিভাঁজ' - শব্দের উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিন্দিত
  2. নাই
  3. ক্ষুদ্র
  4. কম
ব্যাখ্যা

• 'নিভাঁজ' শব্দে 'নি' উপসর্গটি 'নাই' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে 'নি' একটি বাংলা উপসর্গ।

'নি' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৭.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অধিকার
  2. অতিকায়
  3. অপমান
  4. আনচান
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আন’ যোগে গঠিত শব্দ - আনচান।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ: অধিকার, অপমান, অতিকায়।

----------------------------
উপসর্গ
:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৮.
বাংলা ভাষায় কয় প্রকার উপসর্গ আছে?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে। যথা:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫৯.
খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাচার
  2. অনুতাপ
  3. অপচয়
  4. অবগত
ব্যাখ্যা
• ছাড়া অর্থে ‘অনা’ খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনাচার।

অন্যদিকে,
• বিপরীত অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অপচয়।
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুতাপ।
• সাম্যকভাব অর্থে ‘অব’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অবগত।

-----------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৬০.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মেঘলা
  2. নিবৃত্তি
  3. দোকানি
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।

অন্যদিকে,
• বাবুয়ানা = বাবু + (আনা) - তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• দোকানি = দোকান + (ই) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• মেঘলা = মেঘ + লা - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৬১.
ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) উপশহর
  2. খ) উপকূল
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) উপবন
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হলো: উপগ্রহ, উপনেতা, উপদল, উপসাগর ইত্যাদি। অন্যদিকে উপশহর ও উপবন শব্দে সদৃশ অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। সমীপ্যে অর্থে ‘উপ’ উপসর্গ ব্যবহার হলো উপকূল, উপকণ্ঠ ইত্যাদি।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৩৬২.
কোন শব্দে বিশেষ অর্থে উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপশহর
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন,
উপকূল- উপ + কূল; এখানে 'উপ' একটি উপসর্গ। 
এখানে, 'উপ' তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার -
সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ। 
সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন। 
ক্ষুদ্র অর্থে - উপশহর, উপসাগর, উপনেতা। 
বিশেষ অর্থে - উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩৬৩.
‘বেতার’ এখানে ‘বে’ উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি এবং আরবি
  4. ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফারসি উপসর্গ হলো- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
এখানে বেতার শব্দটিতে ‘বে’ ফারসি উপসর্গ।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৪.
"আড়পাগলা" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• "আড়পাগলা" শব্দটি 'বাংলা উপসর্গ' উপসর্গযোগে গঠিত।

উপসর্গ 'আড়' যোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- আড়চোখে, আড়নয়নে, আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৫.
'গরমিল' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. বিদেশি উপসর্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' শব্দে ব্যবহৃত 'গর্‌' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৬.
'অনুতাপ' শব্দে 'অনু' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সঙ্গে অর্থে
  2. পৌনঃপুন অর্থে
  3. সাদৃশ্য অর্থে
  4. পশ্চাৎ অর্থে
ব্যাখ্যা

'অনু' তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
পশ্চাৎ অর্থে- অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ। 
• সাদৃশ্য অর্থে- অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার। 
• পৌনঃপুন অর্থে- অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন। 
• সঙ্গে অর্থে- অনুকূল, অনুকম্পা। 

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৬৭.
'বিপ্রকর্ষণ' শব্দটি কয়টি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• 'বিপ্রকর্ষণ' শব্দটি ২টি উপসর্গযোগে গঠিত।

• 'বিপ্রকর্ষণ' শব্দটি ভাঙলে দাঁড়ায় - বি + প্রকর্ষণ।
এখানে, 'বি' ও 'প্রকর্ষণ' শব্দের 'প্র' সংস্কৃত উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৮.
'অনুদিন' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাদৃশ্য
  2. পশ্চাত
  3. সঙ্গে
  4. পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা

'অনু' উপসর্গের ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৯.
'আবডাল' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. নিন্দিত
  3. অস্পষ্টতা
  4. বিক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'আব' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'অস্পষ্টতা' অর্থে - আবছায়া, আবডাল

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৭০.
ভিন্নার্থে প্রযুক্ত উপসর্গ কোনটি?
  1. অপকর্ম
  2. অপনোদন
  3. অপসংস্কৃতি
  4. অপসৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• ভিন্নার্থে প্রযুক্ত উপসর্গ - অপনোদন

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩৭১.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিমরাজী
ব্যাখ্যা
• ফারসি উপসর্গ ‘নিম’ যোগে গঠিত শব্দ- নিমরাজী।

অন্যদিকে,
• খাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - আনমনা ও নিখুঁত।
• তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- অবহেলা।

----------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭২.
নিচের কোনটি উপসর্গ?
  1. অবধি
  2. বিনা
  3. ছাড়া
  4. বাজে
ব্যাখ্যা
• ‘বাজে’ আরবি উপসর্গের উদাহণ।

অন্যদিকে,
• অবধি, ছাড়া, বিনা ইত্যাদি অনুসর্গের উদাহরণ।

------------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৩.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে কোন শব্দটি গঠিত?
  1. পরাকাষ্ঠা
  2. অবজ্ঞা
  3. আবছায়া
  4. প্রভাব
ব্যাখ্যা

• ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবছায়া।
 
অন্যদিকে,
- ‘পরা’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - পরাকাষ্ঠা।
- ‘অব’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবজ্ঞা।
- ‘প্র’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - প্রভাব।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

৩৭৪.
কোন গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ?
  1. কু, নি, পাতি
  2. অব, নির, দুর
  3. বি, ভর, রাম
  4. অঘা, অজ, অনা
ব্যাখ্যা

অব, নির, দুর - গুচ্ছটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৫.
'অপসংস্কৃতি' এর 'অপ' উপসর্গটি কি অর্থে ব্যবহ্নত?
  1. নিকৃষ্ট
  2. বিপরীত
  3. আতিশয্য
  4. বিকৃত
  5. স্থানান্তর
ব্যাখ্যা

'অপ' একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। এই উপসর্গযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ যে অর্থে ব্যবহার হয় তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো -

যে অর্থে ব্যবহৃত হয় -------- নতুন শব্দ
বিপরীত ------------ অপমান, অপকার, অপচয় ইত্যাদি।
নিকৃষ্ট -------------- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ ইত্যাদি।
স্থানান্তর ------------ অপসারণ, অপহরণ ইত্যাদি।
বিকৃত --------------- অপমৃত্যু

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।

৩৭৬.
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ক) পনেরটি
  2. খ) উনিশটি
  3. গ) বিশটি
  4. ঘ) একুশটি
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৭.
কোন দুটি বাংলা উপসর্গ?
  1. আন, আব
  2. বি, অধি
  3. অতি, অপি
  4. অপি, অভি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৮.
উপসর্গ কোন জাতীয় শব্দাংশ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন -
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

• ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন -
• 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭৯.
'বাড়িটা কোথায়?' বাক্যে বাড়ি শব্দের শেষে 'টা 'এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) শব্দ প্রত্যয়
  4. ঘ) পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
'বাড়িটা কোথায়?' বাক্যে বাড়ি শব্দের শেষে 'টা' পদাশ্রিত নির্দেশক। 

যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বােঝায়, সেগুলােকে নির্দেশক (পদাশ্রিত নির্দেশক)  বলে।
যেমন - -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

-টা, -টি
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর: -টো ও টে।
যেমন -
বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮০.
’অনুকরণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পৌনঃপুন
  2. সঙ্গে
  3. সাদৃশ্য
  4. পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা

- ’অনুকরণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি ’পশ্চাৎ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ’অনু’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়”

- ’পশ্চাৎ’ অর্থে: অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- ’সাদৃশ্য’ অর্থে: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- ’পৌনঃপুন’ অর্থে: অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- ’সঙ্গে’ অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উল্লেখ্য,
- ’অনু’ একটি তৎসম উপসর্গ
- তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮১.
‘আবছায়া ও অবগাহন’ শব্দদুটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত ও বাংলা
  2. বাংলা ও ফরাসি
  3. সংস্কৃত ও আরবি
  4. বাংলা ও সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা ‘আব’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ আবছায়া। এবং সংস্কৃৃত উপসর্গ ‘অব’ যোগে গঠিত শব্দ অবগাহন।
- সুতরাং ‘আবছায়া ও অবগাহন’ শব্দদুটি খাঁটি বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গযোগে গঠিত।

-------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮২.
'লাওয়ারিশ' শব্দে 'লা' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'লাওয়ারিশ' শব্দের 'লা' একটি আরবি উপসর্গ।
- 'লাওয়ারিশ' শব্দের 'লা' উপসর্গটি 'নাই' অর্থ প্রকাশ করেছে।

'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

• নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হলো: আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৩.
'বেআইন' শব্দে ব্যবহৃত 'বে' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. হৃত
  2. বহির্ভূত
  3. ভিন্ন
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা
• বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। 

• আরো কিছু উপসর্গের ব্যবহার: 
- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
- বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
- বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৪.
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ-
  1. অনা
  2. আব
  3. নির
  4. পাতি
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম,
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৫.
'উপগ্রহ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সম্যক
  3. বিশেষ 
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।  
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৬.
নিচের কোনটিতে উপসর্গ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) গ্রহ
  2. খ) চন্দ্রগ্রহণ
  3. গ) তারা
  4. ঘ) উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
'উপ' সংস্কৃত উপসর্গ। সমীপ্য অর্থে শব্দ গঠন উপকূল, উপকণ্ঠ। সদৃশ্য অর্থে উপদ্বীপ, উপবন। ক্ষুদ্র অর্থে উপগ্রহ, উপসাগর এবং বিশেষ অর্থে উপনয়ন, উপভোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩৮৭.
'আড়পাগলা' শব্দে 'আড়' বাংলা উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বক্র
  2. আধা
  3. অভাব
  4. নিন্দিত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'আড়' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ-
• 'বক্র' অর্থে - আড়চোখে, আড়নয়নে। 
'আধা, প্রায়' অর্থে - আড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা। 
• 'বিশিষ্ট' অর্থে - আড়কোলা (পাথালিকোলা), আড়গড়া (আস্তাবর), আড়কাঠি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৮৮.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) বিশুদ্ধ
  2. খ) বমাল
  3. গ) বিচরণ
  4. ঘ) বিফল
ব্যাখ্যা
'বমাল' শব্দের 'ব্‌' ফারসি উপসর্গ।
- 'বমাল' শব্দের অর্থ মালামাল এর সহিত। এখানে 'ব্‌' উপসর্গ 'সহিত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়া-
- বিশুদ্ধ- শব্দের 'বি' হলো তৎসম উপসর্গ।
- বিচরণ- শব্দের 'বি' হলো তৎসম উপসর্গ।
- বিফল- শব্দের 'বি' হলো বাংলা উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। 

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৩৮৯.
‘আগাছা’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে। যেহেতু আ সু বি নি - এই চারটি বাংলা ও সংস্কৃত দুটোতে আছে সেহেতু মূল শব্দের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এখানে ‘গাছা’ মূল শব্দটি বাংলা। তাই উপসর্গও বাংলা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আরও উদাহরণ :
'আ' না অর্থে - আকাড়া, আলুনি, আচালা, আঁছাকা, আঢাকা
'আ' নিকৃষ্ট অর্থে - আকাঠ, আগাছা, আকথা, আকাল, আঘাটা

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৯০.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ-যুক্ত শব্দ?
  1. অবগাহন
  2. হরবোলা
  3. আকাল
  4. পরাজয়
ব্যাখ্যা
• ‘হর’ বিদেশি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ হরবোলা।

অন্যদিকে,
তৎসম ‘পরা’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ পরাজয়।
তৎসম ‘আ’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ আকাল।
তৎসম ‘অব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ অবগাহন 

=============
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯১.
'ফি-রোজ', 'ফি-হপ্তা' ইত্যাদি শব্দে 'ফি' উপসর্গ টি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
'ফি-রোজ', 'ফি-হপ্তা' ইত্যাদি শব্দে 'ফি' উপসর্গ টি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত। 

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে। এর কতগুলাে খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলাে বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এ সঙ্গে কতগুলাে বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। 

ফি-রােজ, ফি-হস্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস ইত্যাদি শব্দে 'প্রতি' অর্থে ফারসি 'ফি' উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯২.
বাংলা উপসর্গ সাধারণত যুক্ত হয় কোথায়?
  1. ক) ক্রিয়ামূলের আগে
  2. খ) বাংলা ধাতুর আগে
  3. গ) সংস্কৃত শব্দের আগে
  4. ঘ) বাংলা শব্দের আগে
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ সাধারণত যুক্ত হয় বাংলা শব্দের আগে।

- বাংলা উপসর্গ প্রায়ই বাংলা শব্দের আগে বসে; অন্যদিকে তৎসম উপসর্গ সাধারণত তৎসম ধাতু বা শব্দের আগে বসে।
- তবে বাংলা উপসর্গ হিসেবে আ, সু, বি, নি— এই চার উপসর্গ তৎসম উপসর্গেও পাওয়া যায়।
- যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা হয়; আর সে শব্দ বা ধাতুটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 
যেমন-আগাছা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ এগুলো মূলত বাংলা শব্দ।

সুতরাং এই আ, সু, বি, নি— উপসর্গগুলোও বাংলা। এভাবে আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। ফলে আ, সু, বি, নি উপসর্গগুলো তৎসম উপসর্গ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৯৩.
'হরকিসিম' কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. উর্দু-হিন্দি 
ব্যাখ্যা
• 'হরকিসিম' শব্দটি উর্দু-হিন্দি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।
- এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হররোজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি:
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গ ২১ টি:
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯৪.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. কদ
  2. দুর
  3. কার
  4. সম
  5. ভর
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৫.
নিচের কোন দুটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ নয়?
  1. ক) আ, অনা
  2. খ) কু, নি
  3. গ) সম, অব
  4. ঘ) আড়, আন
ব্যাখ্যা
- খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংজ্ঞা : যেসব অব্যয় জাতীয় শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গগুলোকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ একুশটি।
- এগুলি হলো : 
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ : যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি। 
- এগুলো হলো : প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

 

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ না?
  1. ক) অপ
  2. খ) সম্‌
  3. গ) আড়
  4. ঘ) প্র
ব্যাখ্যা
আগাছা শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে। অ, আ, আড়, অনা, অজ, অঘা এগুলো খাটি বাংলা উপসর্গ৷ প্র, পরা, অপ, সম্‌, নি ইত্যাদি সংস্কৃত উপসর্গ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
৩৯৭.
'প্রভাব' শব্দটিতে কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. তৎসম বা সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'প্রভাব' শব্দটিতে তৎসম বা সংস্কৃত 'প্র' উপসর্গ রয়েছে।
----------------
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:

যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

• বিভিন্ন অর্থে - 'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- সম্যক অর্থে - প্রভাব, প্রচলন;
- উৎকর্ষ অর্থে - প্রজ্ঞা, প্রভাত, প্রদর্শন;
- আধিক্য অর্থে - প্রখর, প্রতাপ, প্রবল, প্রকোপ;
- খ্যাতি অর্থে - প্রভাব, প্রখ্যাত, প্রশংসা, প্রকীর্তি;
- গতি অর্থে - প্রস্থান, প্রকাশ, প্রচলন, প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৮.
সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. উপসাগর
  2. উপবন
  3. উপনেতা
  4. উপকূল
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।  
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

উল্লেখ্য,
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯৯.
‘আমমােক্তার’ শব্দে ব্যবহৃত 'আম্‌' কোন বিদেশি উপসর্গ? 
  1. ক) ফারসি
  2. খ) ইংরেজি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
আরবি উপসর্গ:
আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার
খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার
লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪০০.
সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি নিচের কোন শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপকূল
  2. উপবন
  3. উপগ্রহ
  4. উপনয়ন
ব্যাখ্যা

• 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে - উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে -  উপদ্বীপ, উপবন। 
- ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে - উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।