বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপসর্গ

মোট প্রশ্ন১,২৬৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপসর্গ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ১০১২০০ / ১,২৬৬

১০১.
বিপরীত ভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) বিক্ষেপ
  2. খ) বিশৃঙ্খল
  3. গ) বিরাগ
  4. ঘ) বিকার
ব্যাখ্যা
• বিপরীত ভাব অর্থে তৎসম ‘বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিরাগ শব্দে।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ
- বিদেশি উপসর্গ ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গতৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। ]

• বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

অন্যদিকে,
• গতি অর্থে তৎসম 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিক্ষেপ শব্দে।
• অপ্রকৃতিস্থ অর্থে তৎসম 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিকার শব্দে।
• অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে - বিশৃঙ্খল শব্দে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি – ড. হায়াৎ মামুদ।
১০২.
কোনটি তৎসম উপসর্গ নয়?
  1. নির
  2. ভর
  3. দুর
  4. অধি
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

অন্যদিকে,
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৩.
'কদবেল' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) দেশি উপসর্গ
  2. খ) তৎসম উপসর্গ
  3. গ) বিদেশি উপসর্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কদ উপসর্গটি দেশি/বাংলা উপসর্গ।
- কদ উপসর্গটি ‘নিন্দিত’ অর্থে কদবেল, কদাকার এবং কদর্য শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

- উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ ।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। প্র, পরা, অপ, সম, নি,
- তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৪.
'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. একটি 
  2. দুইটি 
  3. তিনটি 
  4. চারটি 
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিবিধান' শব্দটিতে - তিনটি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অপ্রতিবিধান' শব্দের উপসর্গ বিশ্লেষণ:
অপ্রতিবিধান = অ + প্রতি + বি।

এখানে,
অ, প্রতি, বি- তিনটি উপসর্গ।

উৎস:
১। ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১০৫.
নিচের কোনটি উপসর্গের কাজ নয়?
  1. ক) নতুন শব্দ তৈরি করা
  2. খ) শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা
  3. গ) অর্থের সম্প্রসারণ করা
  4. ঘ) ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
ব্যাখ্যা
- উপসর্গের কাজ নয় ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন

• উপসর্গের কাজ:
- নতুন শব্দ তৈরি করা।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
- অর্থের সম্প্রসারণ করা
যেমন:
সম্+বাদ = সংবাদ।
বি+বাদ = বিবাদ।
উপরের ‘বাদ' শব্দের সঙ্গে 'সম্' এবং 'বি' উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ ‘সংবাদ' ও ‘বিবাদ' তৈরি হলো।

• উপসর্গের আরো একটি কাজ হচ্ছে শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
সু+নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন)।
সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ)।
গর+হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১০৬.
কোনটি বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ?
  1. অপয়া
  2. অপবাদ
  3. অপমান
  4. অধিকার
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অপয়া

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - অধিকার, অপমান, অপবাদ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০৭.
নিচের কোন দুটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) অনা, কদ
  2. খ) পরা, অধি
  3. গ) অজ, অভি
  4. ঘ) অঘা, প্র
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি,পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
বাংলা উপসর্গ সাধারণত বাংলা শব্দের পূর্বেই যুক্ত হয়ে থাকে।

১০৮.
'নির্বাসন' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
- 'নির্বাসন' শব্দটি সংস্কৃত উপসর্গ 'নির' যোগে গঠিত শব্দ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• 'নির' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে - নিরব, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ধন 
- নিশ্চয় অর্থে - নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর।
- বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে - নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১০৯.
"নিরেট" - শব্দটিতে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নাই
  2. কম
  3. নিন্দিত
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা

• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নাই' অর্থে:
- নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১১০.
'কারদানি' শব্দে 'কার' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশেষ অর্থে
  2. খ) কাজ অর্থে
  3. গ) আধীন অর্থে
  4. ঘ) অর্ধেক অর্থে
ব্যাখ্যা
'কারদানি' শব্দে 'কার' উপসর্গটি একটি ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।
'কার' উপসর্গটি 'কাজ অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন- কারচুপি, কারদানি, কারবার, কারসাজি, কারখানা। 


আরও কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ- 
ফি - প্রত্যেক অর্থে= ফি-বছর, ফি-হপ্তা, ফি-রোজ, ফি-সব।
না - না অর্থে = নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার।
কম - কম অর্থে = কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর।
ব - সাথে অর্থে = বকলম, বনাম, বমাল। 
নিম - অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 
দর - অধীন অর্থে = দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
কোন শব্দটিতে পর্যন্ত অর্থে ‘আ’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আগাছা
  2. আরক্ত
  3. আসমুদ্র
  4. আধোয়া
ব্যাখ্যা
'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
• আধোয়া, অভাব অর্থে 'আ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• আগাছা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• আরক্ত, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• আসমুদ্র,পর্যন্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১২.
'অঝোর' শব্দে 'অ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রমাগত
  2. বিক্ষিপ্ত 
  3. অভাব
  4. নিন্দিত
ব্যাখ্যা

'অ' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত কিছু শব্দ: 
• 'নিন্দিত' অর্থে- অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
• 'অভাব' অর্থে- অচিন, অজানা, অথৈ। 
• 'ক্রমাগত' অর্থে- অঝোর, অঝোরে। 

-----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৩.
'কারসাজি'- শব্দে কোন ভাষার উপসর্গ রয়েছে?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. সংস্কৃত
  4. পালি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজ অর্থে ‘কার’ ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ- কারসাজি, কারবার, কারচুপি, কারখানা।

------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৪.
'অভিযান' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক অর্থে
  2. খ) আতিশয্য অর্থে
  3. গ) সম্যক অর্থে
  4. ঘ) গমন অর্থে
ব্যাখ্যা
'অভিযান' শব্দে 'অভি' উপসর্গটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ। 

বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার।
- সম্যক অর্থে           অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিসার, অভিনিবেশ  
- বিশেষ অর্থে           অভিধান, অভিনয়, অভিনেতা, অভিভাবক
- গমন অর্থে             অভিযান, অভিকেন্দ্র, অভিবাসী, অভিবাসন 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
নিচের কোন শব্দে একাধিক উপসর্গ রয়েছে?
  1. ক) সম্প্রদান
  2. খ) বিবাদ
  3. গ) সংবাদ
  4. ঘ) সম্পূর্ণ
ব্যাখ্যা
• ‘সম্প্রদান’ শব্দটিতে একাধিক উপসর্গ রয়েছে ।

উপসর্গ: 
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে ।
যেমন:
- অজানা = অ + জানা;
- বেতার = বে + তার।

• অনেক সময় শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
যেমন:
‘সম্প্রদান’ শব্দে ‘দান’ এর আগে ‘সম্‌’ এবং ‘প্র’ - এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১১৬.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপকার
  2. অকেজো
  3. অপমান
  4. পরাক্রান্ত
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
= অচেনা, অকেজো
আন = আনকোরা।
ইতি = ইতিকথা, ইতিহাস।

অন্যদিকে,
তৎসম উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
পরা = পরাক্রান্ত
অপ = অপমান, অপকার

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৭.
কোন শব্দে অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিশুষ্ক
  2. খ) বিধৃত
  3. গ) বিবর্ণ
  4. ঘ) বিচরণ
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ:
বিশেষ রূপে:
- বিধৃত
- বিশুদ্ধ
- বিজ্ঞান
- বিবস্ত্র
- বিশুষ্ক

অভাব:
- বিনিদ্র
- বিবর্ণ
- বিশৃঙ্খল
- বিফল

গতি:
 - বিচরণ
 - বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থ: বিকার

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
১১৮.
উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের কয় ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
শব্দগঠনের অর্থের দিক থেকে বৈচিত্র্য আনাই উপসর্গের কাজ । উপসর্গ যুক্ত হলে শব্দের পাঁচ ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন -
• নতুন অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি হয়। যেমন : ছায়া থেকে প্রচ্ছায়া ।
• শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত হয়। যেমন : তাপ থেকে প্রতাপ, পরিতাপ ।
• শব্দের অর্থ পরিপুর্ণ হয়ে উঠে। যেমন : পুষ্টি থেকে পরিপুষ্টি ।
• শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত হয়। যেমন : রাজি থেকে নিমরাজি
• শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যেমন : কথা থেকে উপকথা 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৯.
যে শব্দাংশ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত না হয়ে অন্য শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অব্যয়
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে যারা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না, বরং অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করতে পারে তাদের উপসর্গ বলা হয়।
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই, কিন্তু নতুন নতুন শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা হয়- উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২০.
বিফল শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
যেহেতু আ সু বি নি - এই চারটি বাংলা ও সংস্কৃত দুটোতে আছে সেহেতু মূল শব্দের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এখানে ‘ফল’ মূল শব্দটি তৎসম। তাই উপসর্গও তৎসম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১২১.
উপসর্গ কোন ধরনের শব্দাংশ?
  1. সর্বনাম 
  2. ক্রিয়া 
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন:
- 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২২.
কোন উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপনেতা
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• উপভোগ শব্দে 'উপ' উপসর্গ 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
উপনেতা, উপসাগর, উপগ্রহ শব্দে 'উপ' উপসর্গ 'ক্ষুদ্র' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২৩.
'সাজোয়ান' শব্দে 'সা' উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট অর্থে
  2. ভিন্ন অর্থে
  3. নিন্দিত অর্থে
  4. অস্পষ্ট অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২৪.
শব্দের পূর্বে বসে কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. অনুসর্গ
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

২. খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

৩. বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• বিভক্তি:

- বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদেও বিভক্তি বলে।
যেমন:
- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
বাক্যাটিতে ছাদে (ছাদ +এ বিভক্তি); শিশুকে )শিশু + কে বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
- সুতরাং বলা যায় বিভক্তি শব্দের পরে বসে।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• প্রত্যয়:
- যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৫.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত ইংরেজি উপসর্গ কোনটি?
  1. সাব
  2. কার
  3. ফি
  4. বে
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৬.
‘উৎপাদন’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘উৎ’ যোগে গঠিত শব্দ - উৎপাদন।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [উৎ+√পাদি+অন]
অর্থ: নির্মাণ, সৃষ্টি, জনন, জন্মদান, নির্মিত বস্তু।

===========

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ।
১২৭.
'বেতার' শব্দের 'বে' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবী
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) ফার্সি
ব্যাখ্যা
'বেতার' শব্দের 'বে' ফার্সি উপসর্গ।
এখানে 'বে' উপসর্গটি না অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ নিম্নরূপ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
'কদর্য' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. আরবি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ‘কদ’ উপসর্গযোগে সৃষ্ট শব্দ - কদর্য

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৯.
'ক্ষুদ্র অর্থে' 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) উপবন
  2. খ) উপনেতা
  3. গ) উপভোগ
  4. ঘ) উপকূল
ব্যাখ্যা
• বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার-
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন। 
ক্ষুদ্র অর্থে = উপস্রহ, উপসাগর, উপনেতা। 
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩০.
বাংলা ও তৎসম উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়-
  1. ক) আ, সু, বি, নির
  2. খ) বি, নি, আ, সু
  3. গ) আ, সু, নির, অধি,
  4. ঘ) অপ, স, বি, নি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩১.
'অনামুখো' শব্দে 'অনা' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. অশুভ
  3. অস্পষ্টতা
  4. নিন্দিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। 
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
'অভাব' অর্থে -  অনাবৃষ্টি, অনাদর। 
'ছাড়া' অর্থে - অনাছিষ্টি, অনাচার। 
'অশুভ' অর্থে - অনামুখো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩২.
‘অপকার' শব্দের ‘অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. বিকৃত অর্থে
  2. অভাব অর্থে
  3. নিকৃষ্ট অর্থে
  4. বিপরীত অর্থে
ব্যাখ্যা
- 'অপ' একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- অপকার শব্দে 'বিপরীত' অর্থে অপ’ এর ব্যবহার হয়েছে।
এরূপ,
- অপকার,
- অপচয়,
- অপবাদ ইত্যাদি।

নিকৃষ্ট অর্থে : অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ
স্থানান্তর অর্থে  : অপসারণ, অপহরণ, অপনােদন
বিকৃত অর্থে : অপমৃত্যু

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ]
১৩৩.
'পরাকাষ্ঠা' শব্দে 'পরা' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. অল্পতা
  3. আতিশয্য
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'পরাকাষ্ঠা' শব্দে 'পরা' উপসর্গটি 'আতিশয্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'পরা' উপসর্গ:
আতিশয্য অর্থে - পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ। 

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৩৪.
'আগমন' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অভাব
  2. বিপরীত
  3. পর্যন্ত
  4. ঈষৎ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
- পর্যন্ত অর্থে- আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে- আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে- আদান, আগমন।

---------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দূর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৩৫.
প্র, পরা, অপ- এগুলো
  1. সংস্কৃত উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. বাংলা উপসর্গ
  4. উপমান স্থানীয় অব্যয়
ব্যাখ্যা

• প্র,পরা, অপ ইত্যাদি সংস্কৃত উপসর্গ।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৬.
'আমমোক্তার' শব্দে 'আম' কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• 'আমমোক্তার' শব্দে 'আম' 'আরবি' উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৭.
"নিষ্কাম" শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিষেধ
  2. অভাব
  3. আতিশয্য
  4. নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

তৎসম 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৮.
‘বিভুঁই’ শব্দে ‘বি’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গতি
  2. ঈষৎ
  3. ভিন্নতা
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই, কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বি + ভুঁই = বিভুঁই ('বি' উপসর্গটি 'ভিন্ন' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৯.
কোন উপসর্গটি 'সামীপ্য' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপবন
  2. উপদ্বীপ
  3. উপকূল
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

• তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪০.
'অভাব অর্থে' বাংলা উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ নিচের কোনটি?
  1. ক) অফুরন্ত
  2. খ) অকাল
  3. গ) অচিন
  4. ঘ) অযাচিত
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- যেসব অব্যয় জাতীয় শব্দ বা শব্দাংশ বাংলা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
১. বাংলা উপসর্গগুলোকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ নামে অভিহিত করা হয়।
২. বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয় জাতীয় শব্দ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না ।
৩. এগুলো সাধারণত নাম শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়।
৪. এদের খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
বাংলা উপসর্গ একুশটি। এগুলি হলো-
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊনা, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উপসর্গ ⇒ ব্যবহৃত অর্থ ⇒ উদাহরণ- 
অ ⇒ নিন্দিত অর্থে ⇒ অকাজ, অকেজো, অকাল, অপয়া, অকাট, অপাত্র ইত্যাদি।
অভাব অর্থেঅচিন, অজানা, অথৈ।
⇒ না অর্থে ⇒ অখুশি, অদেখা, অচেনা, অমিল, অমর, অবলা, অযাচিত
⇒ পরিমাণ অর্থে ⇒ অঢেল, অগুনতি, অফুরন্ত। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪১.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিরহঙ্কার
  2. দুর্নাম
  3. অবমাননা
  4. গরমিল
ব্যাখ্যা
আরবি উপসর্গ:
• আম: আমদরবার, আমমোক্তার। 
• খাস: খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 
• লা: লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা। 
• গর: গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

অন্যদিকে,
• 'অব' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে হীনতা অর্থে গঠিত শব্দ- অবজ্ঞা, অবমাননা। 
• 'দুর' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে মন্দ অর্থে গঠিত শব্দ- দুর্ভাগ্য, দুর্দশা, দুর্নাম। 
• 'নির' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে অভাব অর্থে গঠিত শব্দ- নিরব, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়, নির্ধন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৪২.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?
  1. উপনেতা
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে ক্ষুদ্র অর্থে “উপ” তৎসম উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• অন্যদিকে,
 উপভোগ শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি “বিশেষ” অর্থ প্রকাশ করে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৩.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অবরোধ
  2. অনুশোচনা
  3. আবছায়া
  4. অধিকার
ব্যাখ্যা
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবছায়া।

অন্যদিকে,
সাম্যক অর্থে ‘অব’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবরোধ।
পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুশোচনা।
অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিকার।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৪.
'হররোজ' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা উপসর্গ
  2. খ) তৎসম উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) উর্দু- হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'হররোজ'- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ। 
- এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা ইত্যাদি। 

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি:
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গঃ হর।
• ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৫.
'পরিভ্রমণ' শব্দটি কোন উপায়ে গঠিত?
  1. উপসর্গ দ্বারা
  2. সমাস এর সাহায্যে
  3. কোনটিই নয়
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• 'পরিভ্রমণ' শব্দটি উপসর্গ দ্বারা এবং সমাস এর সাহায্যে গঠিত হয়।  
-------------
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যথা:
প্র (প্রকৃষ্ট ) যে বচন = প্রবচন,
পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ
--------------
• বিভিন্ন অর্থে 'পরি' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিশেষ রূপ = পরিপক্ব, পরিপূর্ণ।
- শেষ অর্থে = পরিশেষ।
- সম্যক রূপে = পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা।
- চতুর্দিক অর্থে = পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৬.
ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করেছে কোন উপসর্গ যুক্ত শব্দটি?
  1. ক) আখাম্বা
  2. খ) উপকূল
  3. গ) অবদান
  4. ঘ) আরক্ত
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ। 

• 'আরক্ত= আ+রক্ত ' শব্দে 'আ' শব্দটি 'ঈষৎ' অর্থে দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- 'আখাম্বা = আ+ খাম্বা'  শব্দে 'আ' শব্দটি 'সদৃশ' দ্যোতনার সৃষ্টি করেছে।
- অবদান বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'উপকূল' নিকট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৭.
‘দরপাট্টা’ শব্দটিতে ’দর্’ উপসর্গটি কোন অর্থে যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) সাধারণ
  2. খ) আধা
  3. গ) সহিত
  4. ঘ) অধীন
ব্যাখ্যা

ফারসি উপর্গের প্রয়োগ -
উপসর্গ   -    যে অর্থে প্রযুক্ত      -    উদাহরণ
কার        - কাজ                       - কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার।
দর         - মধ্যস্থ,অধীন             - দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
নিম্        - আধা                       - নিমরাজি, নিমখুন।
ফি         - প্রতি                        - ফি-রোজ, ফি-বছর, ফি-মাস।
বদ্         - মন্দ                        - বদমেজাজ, বদরাগী, বদহজম, বদনাম।
বে          - না                          - বেআদব, বেকসুর, বেতার, বেকার।
বর         - বাইরে,মধ্যে             - বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
ব্           - সহিত                     - বমাল, বনাম, বকলম।
কম্        - স্বল্প                        - কমজোর, কম্বখত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
'অপব্যয় দারিদ্র্য ডেকে আনে।' - বাক্যে 'অপব্যয়' শব্দটির 'অপ' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'অপব্যয় দারিদ্র্য ডেকে আনে।' বাক্যে 'অপব্যয়' শব্দটির 'অপ' 'তৎসম বা সংস্কৃত' উপসর্গ।

'অপ' উপসর্গ দিয়ে গঠিত কিছু শব্দ:
- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ, অপকর্ম, অপব্যয়, অপযশ, অপব্যাখ্যা, অপসারণ, অপমৃত্যু।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৪৯.
কোনটি সংস্কৃত উপসর্গ?
  1. অনা
  2. অনু
  3. আন
  4. ঊন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ - অনু

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে। যথা:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
‘আন’ কোন প্রকারের উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫১.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সরাজ
  2. বিজ্ঞান
  3. প্রবেশ
  4. বেকার
ব্যাখ্যা
• ‘বেকার’ শব্দটি ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
- ‘প্রবেশ’ ও ‘বিজ্ঞা ‘ শব্দদুটি সংস্কৃত উপসর্গ ‘প্র’ ও ‘বি’ যোগে গঠিত।
- ‘সরাজ’ শব্দটি খাাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘স’ যোগে গঠিত।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫২.
'প্রপৌত্র' - শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুগামিত
  2. খ্যাতি
  3. সম্যক
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা

'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে = প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত।
- খ্যাতি অর্থে = প্রসিদ্ধ, প্রতাপ, প্রভাব।
- আধিক্য অর্থে = প্রগাঢ়, প্রচার, প্রবল, প্রসার।
- গতি অর্থে = প্রবেশ, প্রস্থান।
- ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিত অর্থে = প্রপৌত্র, প্রশাখা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৩.
নিম্নের কোন শব্দে সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) উপকরণ
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) উপদ্বীপ
  4. ঘ) উপনেতা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার- 

- সম্যক অর্থে উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার। 
- ক্ষুদ্র অর্থে উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
- সামীপ্য অর্থে উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর। 
- সদৃশ অর্থে উপদ্বীপ, উপবন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
'বেদখল' শব্দে 'বে' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জোর
  2. বহির্ভূত
  3. হৃত
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা
যেসকল অর্থহীন শব্দ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে উপসর্গ বলে । 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব তৈরীতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৫.
নিচের কোনটি একটি উপসর্গ নয়?
  1. বে
  2. তরে
  3. অভি
ব্যাখ্যা
• ‘অ, বে, অভি’ উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তরে - অনুসর্গের উদাহরণ।
---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৬.
কোন শব্দটিতে 'অব' উপসর্গটি 'অধোমুখিতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবমাননা
  2. অবসান
  3. অবগত
  4. অবতরণ
ব্যাখ্যা

অবমাননা - 'হীনতা' অর্থে
অবসান - 'অল্পতা' অর্থে
অবগত - 'সম্যকভাবে' অর্থে
অবতরণ - 'অধোমুখিতা' অর্থে

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১৫৭.
‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিপত্য
  2. উর্ধ্বমুখিতা
  3. উত্তম
  4. প্রভাব
ব্যাখ্যা
• ‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ খাঁটি বাংলা উপসর্গটি উর্ধ্বমুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৮.
কোন চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসমে আছে?
  1. ক) আ, সু, বি, ব
  2. খ) আ, সু, বি, বে
  3. গ) সু, বি, নি, আ
  4. ঘ) সু, বি, নি, অ
ব্যাখ্যা
চারটি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই আছে। যেমন : আ, সু, বি, নি 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১৫৯.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অব
  2. আড়
  3. অপ
  4. অনু
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬০.
'আখাম্বা' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অভাব অর্থে
  2. খ) বাজে অর্থে
  3. গ) সদৃশ অর্থে
  4. ঘ) ঈষৎ অর্থে
ব্যাখ্যা
'' উপসর্গের ব্যবহার:
আখাম্বা, সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আলুনি, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আগাছা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আরক্ত, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
'সুখবর' শব্দের 'সু' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. ইংরেজি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'সুখবর' শব্দের 'সু' উত্তম অর্থে- বাংলা উপসর্গ। 

• উত্তম অর্থে 'সু' উপসর্গযুক্ত কিছু শব্দ:
- সুনজর, সুখবর, সুদিন, সুনাম, সুকাজ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গঃ হর।
- ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬২.
'কুনজর' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. তৎসম উপসর্গ 
  2. বাংলা উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

'কুনজর' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'কু' উপসর্যোগে গঠিত আরো কিছু শব্দ: কুঅভ্যাস, কুকথা, কুসঙ্গ, কুনজর, কুকাম।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১৬৩.
কোনটি বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ নয়?
  1. উপ
  2. ফুল
  3. হাফ
  4. সাব
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বাংলা উপসর্গ - উপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৪.
'নেই এমন' অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গ যুক্ত শব্দটি?
  1. ক) নিখাদ
  2. খ) নালায়েক
  3. গ) নিদারুণ
  4. ঘ) নাহক
ব্যাখ্যা
- নি+খাদ = নিখাদ, যা 'নেই এমন' অর্থ প্রকাশ করছে।

অন্যান্য অপশন:
- ন+লায়েক = নালায়েক, অপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে।
- না+হক = নাহক, নেতি অর্থ প্রকাশ করছে।
- নি+দারুণ = নিদারুণ, যা অতিশয় অর্থ প্রকাশ করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৬৫.
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাদর
  2. অনুকরণ
  3. আড়মোড়া
  4. অজানা
ব্যাখ্যা
• পশ্চাৎ অর্থে তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুকরণ।

অন্যদিকে,
খাাঁটি বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-
অভাব অর্থে ‘অনা’ উপসর্গযোগে - অনাদার।
আধা বা প্রায় অর্থে ‘আড়’ উপসর্গযোগে - আড়মোড়া।
অভাব অর্থে ‘অ’ উপসর্গযোগে - অজানা।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৬.
বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. পরা
  2. অঘা
  3. অপ
  4. খাস
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: - অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: - প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: আম, খাস, লা, গর, বাজে, বদ, বে, বর, ব, হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৭.
নিমরাজি শব্দটি নিম কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) কম
  3. গ) অর্ধ
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
এটি ফারসি উপসর্গ। এটি অর্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিম' অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমোলাস্ন

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৬৮.
কোন শব্দটিতে "বিশেষ রূপ" বোঝাতে 'পরি' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরিশেষ
  2. পরিপূর্ণ
  3. পরিমাণ
  4. পরিমণ্ডল
ব্যাখ্যা

”পরি” উপসর্গটি যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়:
• ”বিশেষ” অর্থে: পরিপক্ব, পরিপূর্ণ, পরিবর্তন।
• ”শেষ” অর্থে: পরিশেষ
• ”সম্যক” অর্থে: পরিশ্রান্ত, পরীক্ষা, পরিমাণ
• ”চতুর্দিক” অর্থে: পরিভ্রমণ, পরিমণ্ডল

উল্লেখ্য,
- ”পরি” একটি তৎসম উপসর্গ।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি, যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১৬৯.
’অনুক্ষণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাৎ
  2. সাদৃশ্য
  3. সঙ্গে
  4. পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা

- ’অনুক্ষণ’ শব্দে ’অনু’ উপসর্গটি ’পৌনঃপুন’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ’অনু’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়”

- ’পশ্চাৎ’ অর্থে: অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- ’সাদৃশ্য’ অর্থে: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- ’পৌনঃপুন’ অর্থে: অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- ’সঙ্গে’ অর্থে - অনুকূল, অনুকম্পা।

উল্লেখ্য,
- ’অনু’ একটি তৎসম উপসর্গ
- তৎসম উপসর্গ বিশটি:
যথা-
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭০.
অভাব অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) হাঘরে
  2. খ) বিফল
  3. গ) কদাকার
  4. ঘ) কুকাজ
ব্যাখ্যা
•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- অভাব অর্থে ব্যবহৃত খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘হা’ যোগে গঠিত শব্দ - হাভাত, হাঘরে, হাপিত্যেশ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭১.
ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দটি?
  1. অভিজ্ঞ
  2. আরক্ত
  3. আখাম্বা
  4. তুল্য
ব্যাখ্যা
আরক্ত দ্বারা ঈষৎ অর্থ প্রকাশ করছে।
আরক্ত অর্থ হচ্ছে রক্তিম আভাযুক্ত।

• আ-
- অর্থদ্যোতকতা: ঈষৎ
- উদাহরণ: আ+রক্ত = আরক্ত

অন্যান্য অপশন:
• অভি-
- অর্থদ্যোতকতা: সম্যক
- উদাহরণ: অভি+জ্ঞ = অভিজ্ঞ

• আ-
- অর্থদ্যোতকতা: সদৃশ
- উদাহরণ: আ+ খাম্বা = আখাম্বা

• প্রতি-
- অর্থদ্যোতকতা: তুল্য
- উদাহরণ: প্রতি+ধ্বনি = প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১৭২.
কোনটি উপসর্গ নয়?
  1. প্র
  2. পরা
  3. পরি
  4. আমি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ নয় - আমি।
- ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা ইত্যাদি। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৩.
"আম, খাস" - কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. উর্দু উপসর্গ
  4. হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৪.
'অথই' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছাড়া
  2. অশুভ
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
ব্যাখ্যা
'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
অভাব অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৫.
নিচের কোন শব্দগঠনে তৎসম উপসর্গ ব্যবহার করা হয়েছে? 
  1. অনুশোচনা
  2. দুশ্চিন্তা
  3. বরখাস্ত
  4. হাজিরা
ব্যাখ্যা

অনুশোচনা তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং
- সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে—যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- অনুশোচনা = 'অনু' (উপসর্গ) + 'শোচনা' (মৌলিক শব্দ), তাই এটি তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত।
- কিছু তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
• অনুমান: 'অনু' (উপসর্গ) + 'মান' (মৌলিক শব্দ);
• পরিষ্কার: 'পরি' (উপসর্গ) + 'ষ্কার' (মৌলিক শব্দ);
• অবরোহণ: 'অব' (উপসর্গ) + 'রোহণ' (মৌলিক শব্দ);
• অধিগমন: 'অধি' (উপসর্গ) + 'গমন' (মৌলিক শব্দ)।
---------------------------------------------------------
• উপসর্গ:
- উপসর্গ হলো অর্থহীন অব্যয়সূচক শব্দাংশ।
- এটি মূল শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থযুক্ত শব্দ গঠন করে। 
- এটি শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটায়। 
- যেমন— ‘অ’ + কাজ = অকাজ, ‘সু’ + দিন = সুদিন, ‘প্র’ + সরণ = প্রসারণ। 
- উপসর্গ একা ব্যবহৃত হতে পারে না, অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থবহ শব্দ তৈরি করে।
- বাংলা ভাষায় তিন ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়।
- খাঁটি বাংলা,
- সংস্কৃত বা তৎসম,
- এবং বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১৭৬.
'অপহরণ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ 
  2. সংস্কৃত উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

'অপ' সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ ।
- নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন ।
- বিকৃত অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৭৭.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গুণমান
  2. অনুমান
  3. চলমান
  4. বুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
খ) অনুমান - উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

ব্যাখ্যা:
অনুমান = অনু (উপসর্গ) + মান (মূল শব্দ)।
- এখানে 'অনু' একটি সংস্কৃত উপসর্গ যার অর্থ 'পশ্চাৎ, অনুসরণ, সদৃশ'। 'মান' মূল শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে 'অনুমান' (অনুমান করা, আন্দাজ করা) শব্দটি গঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
- পশ্চাৎ অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৭৮.
'দরপাট্টা' শব্দের 'দর' উপসর্গ কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. ক) সহিত
  2. খ) মধ্যস্থ
  3. গ) আধা
  4. ঘ) অল্প
ব্যাখ্যা
- 'দরপাট্টা' শব্দের 'দর' উপসর্গ মধ্যস্থ অর্থে নির্দেশ করে।

• কয়েকটি ফারসি ভাষার উপসর্গ ও অর্থ- 
- কার (কাজ)- কারখানা, কারসাজি, কারবার।
- দর (মধ্যস্থ)- দরদালান, দরপাট্টা।
- না (না)- নারাজ, নাখোশ, নালায়েক।
- নিম (আধা)- নিম্রাজি, নিমখুন।
- ফি (প্রতি) - ফিবছর, ফিহপ্তা।
- বদ (মন্দ)- বরখাস্ত, বদমেজাজ, বদরাগী।
- বে (নাই)- বেয়াক্কেল, বেশরম, বেহায়া, বেয়াদব।
- বর (বাইরে)- বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
- ব (সহিত/দ্বারা)- বকলম, বমাল।
- কম (অল্প)- কমজোর, কমবখত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৭৯.
উপসর্গ কোন জাতীয় শব্দাংশ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন -
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন -
→ 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮০.
'আধোয়া' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. বিপরীত
  3. নিন্দিত
  4. অভাব
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

বিভিন্ন অর্থে খাঁটি বাংলা 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- অভাব অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আধোয়া, আলুনি, আকাঁড়া।
- নিকৃষ্ট অর্থে 'আ' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ-  আগাছা, আকাঠা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২-সংস্করণ)।
১৮১.
'উপদ্বীপ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ অর্থে
  2. সদৃশ অর্থে
  3. সম্যক অর্থে
  4. সামীপ্য অর্থে
ব্যাখ্যা
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮২.
‘ফুল, হাফ’ কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘ফুল, হাফ’- 'ইংরেজি'  উপসর্গ। 

• বিদেশি উপসর্গ: 

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৩.
নিচের কোন শব্দে সংস্কৃত উপসর্গ আছে?
  1. আবডাল
  2. অনাদার
  3. অতিকায়
  4. অঘারাম
ব্যাখ্যা
• আধিক্য / আতিশয্য অর্থে ‘অতি’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- অতিকায়।

অন্যদিকে,
• 'আবডাল' শব্দে ‘আব’ বাংলা উপসর্গটি অস্পষ্টতা অর্থ প্রকাশ করে।
• অভাব অর্থে ‘অনা’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনাদার।
• বোকা অর্থে ‘অঘা’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অঘারাম।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাং
লায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৮৪.
অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে কার?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা

উপসর্গ অব্যয়সূচক বাক্যাংশ যা শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে।
উপসর্গের প্রভাবে শব্দের ৫ ধরনের পরিবর্তন হয়। যথা:
ক. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
খ. অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
গ. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
ঘ. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে।
ঙ. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে বা নতুন শব্দ সৃজনের ক্ষমতা থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি

১৮৫.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অনু
  2. ভর
  3. অব
  4. নির
ব্যাখ্যা

বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮৬.
নিচের কোনটিতে একাধিক উপসর্গ রয়েছে?
  1. ক) সংবাদ
  2. খ) সম্পূর্ণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) বিবাদ
ব্যাখ্যা
‘সম্প্রদান’ শব্দটিতে একাধিক উপসর্গ রয়েছে ।
উপসর্গ: 
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নত্ন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
যেমন -
- অজানা = অ + জানা
- বেতার = বে + তার 

• অনেক সময় শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে।
যেমন - 
‘সম্প্রদান’ শব্দে ‘দান’ এর আগে ‘সম্‌’ এবং ‘প্র’ - এই দুটি উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
১৮৭.
‘প্রতিমাসে হিসেবে গরমিল থাকলে খাসমহল লাটে উঠবে।’ বাক্যটিতে কয়টি উপসর্গজাত শব্দ রয়েছে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

'প্রতিমাসে হিসেবে গরমিল থাকলে খাসমহল লাটে উঠবে।'
বাক্যটিতে মোট ৩টি উপসর্গজাত শব্দ রয়েছে।
প্রতিমাস - মাসের আগে 'পৌনঃপুন' অর্থে তৎসম উপসর্গ 'প্রতি' যোগ হয়েছে।
গরমিল - মিলের আগে 'অভাব' অর্থে আরবি উপসর্গ 'গর্'‌ যোগ হয়েছে।
খাসমহল - মহলের আগে 'বিশেষ/সাধারণ' অর্থে আরবি উপসর্গ খাস যোগ হয়েছে
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৮.
'বিবর্ণ' শব্দে 'বি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আতিশয্য
  2. খ) অভাব
  3. গ) সহজ
  4. ঘ) গতি
ব্যাখ্যা
• 'বিবর্ণ' শব্দে 'বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে 'বি' একটি সংস্কৃত শব্দ। 

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গতৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।] 

• বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান ('বি' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + বর্ণ = বিবর্ণ ('বি' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + চরণ = বিচরণ ('বি' উপসর্গটি 'গতি' অর্থে ব্যবহৃত)।
বি + কার = বিকার ('বি' উপসর্গটি 'অপ্রকৃতস্থ' অর্থে ব্যবহৃত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৯.
নিচের কোনটি আরবি উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ফুল
  2. গর্
  3. নিম্
  4. বদ্
ব্যাখ্যা

- ’গর্’একটি আরবি উপসর্গ।
------------------------
• আরবি উপসর্গ: ৬টি।
যথা:
- আম, খাস, লা, গর্, খয়ের, বাজে।

অন্যদিকে,
• ’নিম্, বদ্’ ফারসি উপসর্গ।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১৯০.
কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে প্রযুক্ত?
  1. উপগ্রহ
  2. উপনেতা
  3. উপসাগর
  4. উপবন
ব্যাখ্যা
• উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে ক্ষুদ্র অর্থে “উপ” তৎসম উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।

• অন্যদিকে,
 'উপবন' - শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি “সদৃশ” অর্থ প্রকাশ করে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯১.
‘সন্নিবেশ’ শব্দে কয়টি উপসর্গ আছে?
  1. একটিও না
  2. একটি
  3. দুইটি
  4. তিনটি
ব্যাখ্যা
সন্নিবেশ শব্দে দুটি উপর্সগ আছে। সম ও নি - এই দুটি উপসর্গ রয়েছে।
১৯২.
‘অবমূল্যায়ন’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?  
  1. বিকৃত 
  2. নিকৃষ্ট
  3. হীনতা 
  4. সম্যক রুপে 
ব্যাখ্যা

‘অবমূল্যায়ন’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গটি হীনতা, হ্রাস বা নিচে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
----------------------------------------- 
• ‘উপসর্গ’:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘অবমূল্যায়ন’ শব্দে ‘অব’ উপসর্গ হীনতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে ‘মূল্যায়ন’ অর্থ মূল্য বা গুরুত্ব কমানো।
- মূল্যায়নের সাথে ‘অব’ উপসর্গযোগে গঠিত অবমূল্যায়ন শব্দটি হীনতা, অবমাননা, অসম্মান বা হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ প্রকাশ করছে।
-------------------------------------------
উল্লেখ্য, 
- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে।
- পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- আরবি: আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
- ফারসি: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু: হর।
- ইংরেজি: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস:
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৩.
‘উনপাঁজুরে’ শব্দের ‘উন’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) দুর্বল
  2. খ) কম
  3. গ) হীন
  4. ঘ) নীচ
ব্যাখ্যা
এটি বাংলা উপসর্গ। 
'উন' কম অর্থে - উনিশ, উনবর্ষা, উনপাঁজুরে

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৯৪.
'অনু' উপসর্গটি দ্বারা কোন শব্দদ্বয়ে 'পৌনঃপুন অর্থ' বুঝানো হয়েছে-
  1. অনুতাপ, অনুকরণ
  2. অনুরূপ, অনুবাদ
  3. অনুক্ষণ, অনুদিন
  4. অনুকূল, অনুকম্পা
ব্যাখ্যা

অনুতাপ, অনুকরণ - পশ্চাৎ - অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনুরূপ, অনুবাদ - সাদৃশ্য - অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনুক্ষণ, অনুদিন - পৌনঃপুন - অর্থে  ব্যবহৃত হয়েছে।
অনুকূল, অনুকম্পা - সঙ্গে - অর্থে  ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১৯৫.
'লাওয়ারিশ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. উর্দু উপসর্গ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আরবি উপসর্গ:
আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার। 
খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার। 
লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা। 
গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি। 

--------------
বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৯৬.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. খাসমহল
  2. বেগতিক
  3. হররোজ
  4. গরমিল
  5. লাজওয়াব
ব্যাখ্যা

ফার্সি উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ = বেগতিক।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯৭.
পুরনো অর্থে নিচের কোন উপসর্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. উন
  2. ইতি
  3. অজ
  4. আন
ব্যাখ্যা

উৎস : এস এস সি পাঠ্য বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
'উপকণ্ঠ’ - শব্দে ব্যবহৃত ’উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সদৃশ
  3. সামীপ্য
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা

• ’উপকণ্ঠ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সামীপ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উল্লেখ্য,
- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য" অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’ অর্থে- উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯৯.
কোনটি ফারসি উপসর্গ নয়?
  1. কম্
  2. দর্
  3. ফি
  4. লা
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথাঃ প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• আরবি উপসর্গ- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ হর।
• ইংরেজি উপসর্গ হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০০.
'উৎফুল্ল' শব্দের 'উৎ' উপসর্গটি কোন্ অর্থ ধারণ করেছে?
  1. আতিশয্য
  2. ঊর্ধ্বমুখিতা
  3. অপকর্ষ
  4. ঈষৎ 
ব্যাখ্যা

• 'উৎ' একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

'উৎ' উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• 'ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
'আতিশয্য' অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• 'প্রস্তুতি' অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• 'অপকর্ষ' অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।