• 'আমদরবার' শব্দে 'আম' — আরবি ভাষার উপসর্গ।
আরবি উপসর্গ:
আম - সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমােক্তার।
খাস - বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসদখল, খাসকামরা, খাসদরবার।
লা - না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা।
গর - অভাব অর্থে - গরমিল, গরহাজির, গররাজি।
----------------------------
উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।।
- এদের প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
- উপসর্গ অব্যয়সূচক শব্দাংশ।
- যেমন: 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’ – যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ। এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে: বাংলা, তৎসম (সংস্কৃত) এবং বিদেশি উপসর্গ।
১. বাংলা উপসর্গ:
• বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি:
• অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
২. তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
• তৎসম উপসর্গ বিশটি:
• প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
৩. বিদেশি উপসর্গ:
• ফারসি উপসর্গ: কার্, দর্, না, নিম্, ফি, বদ্, বে, বর্, ব্, কম্।
• আরবি উপসর্গ: আম্, খাস, লা, গর্।
• ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।