বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা৭৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ৭০১৭৭৮ / ৭৮০

৭০১.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে _________ রাষ্ট্র গঠন হয়।
  1. অস্থিতিশীল
  2. কল্যাণমূলক
  3. দুর্নীতিপরায়ণ
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।
- যখন সমাজে নৈতিকতা, সততা এবং সহানুভূতির মতো মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মানুষ আইন মেনে চলে এবং অপরাধ কমে যায়।
- যা সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসন কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা হয়, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, এবং সমাজে সমতা ও সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে।
- এছাড়া, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এভাবে, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন হয়, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে, যা সকল সদস্যের মঙ্গল নিশ্চিত করে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো-
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. গ) আনুগত্য প্রদর্শন
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় সম্পদের সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
- কর্তব্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব।
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি এর মতে,
- “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গণ কল্যাণের জন্যে কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বুঝায়।”
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো আনুগত্য প্রদর্শন।
অন্যান্য কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মান্য করা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
- রাষ্ট্রের সেবা করা
- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না করা
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৭০৩.
'সতীদাহ প্রথা রহিত করা' কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ।

আধুনিক মূল্যবোধ:
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য:
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭০৪.
ফ্রান্সিস ই. মেরিল (Francis E. Meril) এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ কী?
  1. ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য গৃহীত নীতি
  2. শুধুমাত্র পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ
  4. মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের প্রকারভেদ ও সামাজিক মূল্যবোধ:
সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
যথা-ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে ফ্রান্সিস ই. মেরিল (Francis E. Meril) এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ হলো-মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য গৃহীত আচরণ সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৭০৫.
নিচের কোনটি সামাজিক নৈতিকতা?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ আইন নয়, এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধবোধ আছে বলে মানুষ এটা মেনে চলে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র) বই।
৭০৬.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কী প্রশমিত হয়?
  1. উত্তেজনা
  2. জাতীয় ঐক্য 
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. দায়িত্বশীল আচরণ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭০৭.
নিম্নের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ?
  1. সৌজন্যবোধ
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টূয়ার্ট সি.ডড-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো  সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা  ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন-এর মতে,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ  প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৭০৮.
কোন ধরনের মূল্যবোধ স্থান কিংবা সময়ের ব্যবধানে একই থাকে?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. গ) সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক যা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন বা পরিবর্তন হতে পারে। তবে কিছু কিছু মূল্যবোধ স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সর্বত্রই অস্তিত্বশীল ধাকে। এসব মূল্যবোধ সার্বজনীন মূল্যবোধ নামে পরিচিত।
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ হিসেবে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৭০৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের মধ্যে কোনটি জাগ্রত করে না?
  1. ক) স্বদেশপ্রেম
  2. খ) স্বজাতিপ্রেম
  3. গ) স্বার্থপরতা
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ নাগরিকদেরকে সুশৃঙখল করার মাধ্যমে স্বজাতি ও স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে জাতীয় উন্নয়নে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করে।
৭১০.
'বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে'- এটি মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য?
  1. সেতুবন্ধন
  2. বিভিন্নতা
  3. নৈর্ব্যক্তিকতা
  4. যোগসূত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

অন্যদিকে,
• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১১.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) কী?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তির স্বপ্ন ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণ
  3. ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গঠিত মূল্যবোধ
  4. সমাজে শিষ্টাচার বজায় রাখার জন্য মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধরন:
- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

→ এছাড়া, সমাজ জীবনে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা, নীতি-নৈতিকতা, বিশ্বাস ও আচরণের মাধ্যমে গঠিত মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, যেমন—সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা ও শিষ্টাচার।
- ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় অনুশীলন, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ: কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার উপর ভিত্তি করে গঠিত মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৭১২.
"ব্যক্তিগত মূল্যবোধ" কোন ধরনের মূল্যবোধকে লালন করে? 
  1. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে
  4. সামাজিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে সামাজিক মূল্যবোধকে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৩.
সামাজিক অবক্ষয় বলতে নিম্নের কোনটি বুঝায়?
  1. সামাজিক রীতিনীতির অনুপস্থিতি
  2. মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
  3. অর্থনৈতিক উন্নতির অভাব
  4. মৌলিক শিক্ষার অভাব
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"

⇒ সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৪.
নিচের কোনটি মানবীয় আচরণের ভালো-মন্দকে নির্দেশ করে?
  1. সংস্কৃতি
  2. মূল্যবোধ
  3. আইন
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতি পার্থক্যকারী হলো মূল্যবোধ। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৭১৫.
'আমরা যে সমাজেই বসবাস করি না কেন, আমরা সকলেই ভালো নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা করি'। এটি - 
  1. নৈতিক অনুশাসন
  2. রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. আইনের অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- উপর্যুক্ত মূল্যবোধগুলো ভালো নাগরিক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১৬.
সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ব্যক্তির অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  2. একটি মানদন্ড
  3. ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন - 

• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটির উন্নতি ঘটায়?
  1. শৃঙ্খলাহীনতা
  2. নাগরিক চেতনা
  3. সমাজে অস্থিরতা
  4. ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিপূর্ণতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও চেতনা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নাগরিক চেতনার উন্নতি ঘটায়।
- এটি মানুষের মধ্যে সঠিক আচরণ, নৈতিকতা, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- নাগরিক চেতনা বৃদ্ধি পেলে মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরি হয়।
- এর ফলে সমাজে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা তাই একটি সুশৃঙ্খল ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে পালন করে?
  1. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
  2. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
  3. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
  4. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
- সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
- ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা কোন ধরনের শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) বৃত্তিমূলক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
মূল্যবোধের শিক্ষা আমরা লাভ করি পরিবার, সমাজ, বিদ্যালয়, সামাজিক প্রথা প্রভৃতি থেকে। এগুলো অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৭২০.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সত্যি নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
  2. খ) মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
  3. গ) মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
  4. ঘ) মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত এবং সর্বজনীন প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে। মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার (total belief system) কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়। বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলোঃ
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

সুত্রঃ সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২১.
একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে-
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭২২.
মূল্যবোধ (Values) বলতে কী বোঝায়?
  1. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
  2. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. মানুষের বাহ্যিক রূপ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭২৩.
কোন ধরনের মূল্যবোধকে সুশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সুসাশনের মানদণ্ড।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু আদর্শ ও নিয়মনীতি থাকে। যার দ্বারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
৭২৪.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. গণমাধ্যম
  3. স্থানীয় সরকার
  4. জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৭২৫.
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী- 
  1. নীতি
  2. মানদণ্ড
  3. দর্শন
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২৬.
সৎ প্রতিবেশি নীতি'র প্রবক্তা কে?
  1. ক) আব্রাহাম লিঙ্কন
  2. খ) ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
  3. গ) কিম দামে জং
  4. ঘ) মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সৎ প্রতিবেশি নীতির প্রবক্তা। ১৯৩০-৪০ এর সময়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণে রুজভেল্ট পূর্বেকার হস্তক্ষেপ নীতির বিপরীতে এই নীতি প্রবর্তন করে। ১৯৩৩ সালে প্রথম এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এন্টি-কমিউনিষ্ট নীতির ফলে সৎ প্রতিবেশি নীতি গুরুত্ব হারায়। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৭২৭.
'পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য'-উক্তিটি কী নির্দেশ করে?
  1. সব পেশার মূল্যবোধ একই
  2. পেশাগত মূল্যবোধ কেবল ব্যক্তিগত বিষয়
  3. পেশাগত মূল্যবোধ পেশাভেদে ভিন্ন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে। যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৮.
আধুনিক বিশ্ব কোন ধরনের মূল্যবোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
-  ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। 
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৯.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) সহনশীলতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) শৃঙ্খলাবোধ
  4. ঘ) সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩০.
মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ কী নির্ধারণ করতে পারে?
  1. সঠিক ও ভুল
  2. জ্ঞান ও অজ্ঞতা
  3. আনন্দ ও দুঃখ
  4. শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
​- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
​- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
​- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
​- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-​ তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

​উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

৭৩১.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. বিদ্যালয়
  3. পরিবার
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩২.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে কী থেকে বিরত রাখে?
  1. সততা
  2. দায়িত্ববোধ
  3. সহমর্মিতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড তথা মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সততার অভাবে সুশাসন ভেঙে পড়ে। মূল্যবোধ শিক্ষা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অন্যায় হ্রাস করে যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। মূল্যবোধ মানুষকে নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সততা, সততা, ও নৈতিকতার মাধ্যমে দুর্নীতি থেকে দূরে রাখে। এটি ছোটবেলা থেকেই ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, এবং সামাজিক জবাবদিহিতার চর্চা নিশ্চিত করে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৩৩.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. সামাজিক ন্যায় বিচার
  3. মূল্যবোধ
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজি ন্যায়বিচারের অর্থ ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধনের সকলের প্রতি বিচারের মানদন্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচার।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৩৪.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. রাজনীতি চর্চা
  3. সামাজিক সাম্য 
  4. আইনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও
পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:  i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৫.
ব্যক্তির কোন আচরণের উপর সামাজিক মূল্যবোধ প্রভাব বিস্তার করে?
  1. ধর্মীয়
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা

⇒ ব্যক্তির ব্যক্তিগত আচরণের উপর সামাজিক মূল্যবোধ প্রভাব বিস্তার করে

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৬.
মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় কোথায়?
  1. বিদ্যালয়ে
  2. পরিবারে
  3. সমাজে
  4. ধর্মীয় সংগঠনে
ব্যাখ্যা

পরিবার ও সামাজিক মুল্যবােধ:
- পরিবার হলো মানুষের সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা তাদের সন্তান, পিতা-মাতা এবং অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করেন।
- পরিবার তাদের সদস্যদের পারিবারিক আদর্শ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি শেখায়।
- পরিবার শিশুদের প্রথম শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের জায়গা।
- এখানে তারা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রাথমিক ধারণা পায় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আচরণ শেখে।
- অর্থাৎ, একজন মানুষের মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রথম বিকাশ ঘটে পরিবারের মধ্যে।
- পরিবারে শিশুদের নৈতিক চেতনা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে আরও বিকশিত হয়।

অন্যদিকে,
- বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল্যবোধ শিক্ষার আনুষ্ঠানিক/প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
- পরিবার শাশ্বত ও চিরন্তন প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৭.
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' উক্তিটি কার?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) স্বামী বিবেকানন্দ
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
ব্যাখ্যা
'সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা' এটি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের উক্তি। 'জ্ঞানই পূণ্য' এবং 'নিজেকে জানো' উক্তি দুটি সক্রেটিসের। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৭৩৮.
আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় কোন মূল্যবোধের ওপর?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. পেশাগত মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com

৭৩৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. ক) বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  2. খ) পরিবর্তনশীল
  3. গ) সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে
  4. ঘ) সারা বিশ্বের সব সমাজে মূল্যবোধ একই
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।    

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:- 
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪০.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক নয়?
  1. ক) ঐতিহ্য
  2. খ) ইতিহাস
  3. গ) ন্যায়পাল
  4. ঘ) সামাজিক রীতি-নীতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক সমূহ হলোঃ সামাজিক রীতিনীতি, আইন, ঐতিহ্য, ইতিহাস, প্রথা, বিশ্বাস। ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪১.
মূল্যবোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল হয়?
  1. আচরনের
  2. সহমর্মিতার
  3. নৈতিকতার
  4. সামাজিক রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
→ নৈতিক প্রাধান্যমূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
→ নির্দিষ্ট ও সাধারণ: কিছু মূল্যবোধ নির্দিষ্ট, যেমন মায়ের প্রতি ভালোবাসা।
- আবার কিছু সাধারণ, যেমন প্রতিবেশীর প্রতি সহযোগিতা।
→ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের পার্থক্য।
→ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ স্থান, কাল, ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
- একই বিষয় এক দেশে গ্রহণযোগ্য, অন্য দেশে নাও হতে পারে।
→ সামাজিক মানদণ্ড: সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, ও চিন্তাধারার মান মূল্যবোধের মাধ্যমে বোঝা যায়।
- যেমন, কৃষি নির্ভর সমাজের মূল্যবোধ শিল্পসমৃদ্ধ সমাজ থেকে ভিন্ন।
→ পরিবর্তনশীলতা: দীর্ঘদিন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
→ সম্পর্কের সেতু: একই মূল্যবোধ থাকা অপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
- যেমন, বিদেশে দুই বাংলাদেশির মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪২.
একজন ব্যক্তি কোনটি থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. মূল্যবোধের শিক্ষা
  3. আইনের শাসন
  4. কর্মমুখী শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা একটি নৈতিক গুণ যা একজন ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা (Values Education) থেকে অর্জন করে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ধৈর্য, শ্রদ্ধাবোধ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতি সহনশীলতা গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় ।
- রাগ, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা কমিয়ে সহিষ্ণু হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধকে উৎসাহিত করে।

অন্য বিকল্পগুলো:
কর্তব্যবোধ (ক) – এটি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়, তবে সরাসরি সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আইনের শাসন (গ) – এটি শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, কিন্তু সহনশীলতার শিক্ষা দেয় না।
কর্মমুখী শিক্ষা (ঘ) – এটি পেশাগত দক্ষতা বাড়ায়, তবে নৈতিক গুণাবলি বা সহনশীলতা গড়ে তোলে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৩.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে কোনটির বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. ক) শৃঙ্খলাবোধ
  2. খ) মানবিকতা
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের উপাদান:
মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। 

- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
৭৪৪.
আতিথেয়তা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক
  2. ধর্মীয়
  3. ব্যক্তিগত
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
আতিথেয়তা হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ:

 যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৫.
কোন ধরনের সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রের নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে?
  1. রাজনৈতিক সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. আইনগত সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• সাম্যের প্রকারভেদ:

- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথাঃ
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

• সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

• রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

• অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৬.
’জামিন পাওয়ার অধিকার’ কোন ধরনের স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  2. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 
- অধ্যাপক লাস্কি স্বাধীনতার তিনটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা-
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বুঝায়।
- ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি উত্তম উদাহরণ।
- তাছাড়া গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা- 
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- বস্তুত অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসগৃহ ও চিকিৎসার সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে "অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।"

• সামাজিক স্বাধীনতা- 
- সমাজ যে সমস্ত অধিকার সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে তা উপভোগের ক্ষমতাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- এগুলো সভ্য সমাজ ব্যবস্থার শর্ত। বিবাহ, সম্পত্তি অর্জন, বসতবাটি নির্মাণ, লেখাপড়া শেখা ইত্যাদিকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৭.
মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে _____ অর্জন করতে সহায়তা করে।
  1. ক) জ্ঞান
  2. খ) বাস্তবতা
  3. গ) কর্মদক্ষতা
  4. ঘ) মনুষত্ব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্বে অর্জন করতে সহায়তা করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন।
- কিন্তু সমাজে এই শিক্ষার খুবই অভাব রয়েছে। তবে একজন সুশিক্ষিত মানুষের ন্যায়টাই তার জীবনের মূল হাতিয়ার।
- বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে আর সুশিক্ষার ব্যাখ্যার সঙ্গে মানুষকে মেলালে সমাজে সুশিক্ষা আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)
৭৪৮.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) একমুখী
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) ঘনিষ্ঠ
  4. ঘ) পারস্পরিক বিপরীত
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
-মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
- সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৭৪৯.
আধুনিক বিশ্ব যে ধরনের মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে সেটি হলো -
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫০.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সহমর্মিতা
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

⇒ সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৫১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. আইনের শাসন
  3. রাজনৈতিক দল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি।
- আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না।
- সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা?
  1. ক) নগরায়ন
  2. খ) কিশোর অপরাধ
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
ব্যাখ্যা
অপ্রাপ্তবয়স্ক (৭-১৬ বছর) ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ। এটি আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা।
- এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। এছাড়া খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনের অভাব, আদর-যত্নের অভাব, সামাজিকীরণের অনুকূল পরিবেশের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কিশোর অপরাধ সংঘটনের জন্যে দায়ী।
অন্যদিকে,
- প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা অর্থনৈতিক সমস্যা। ছাত্র রাজনীতি কোন সমস্যা নয়। তবে অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি রাষ্ট্রের জন্যে সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। নগরায়ন ইতিবাচক সূচক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৭৫৩.
"পেশা পরিবর্তনের সুযোগ" কোন ধরনের সাম্য?
  1. অর্থনৈতিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. সামাজিক সাম্য
  4. ব্যক্তিগত সাম্য
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সাম্য:
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
- ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৪.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো -
  1. কর্মদক্ষতা 
  2. ক্ষমতা
  3. জনকল্যাণ 
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা। প্রশাসকের প্রতিটি কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত, যাতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

অন্যদিকে,
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি এটি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। প্রশাসকের কাছে থাকা ক্ষমতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
- কর্মদক্ষতা প্রশাসকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মৌলিক মূল্যবোধ নয়। এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক উপাদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৫.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. ক) দুর্নীতি দূর হয়
  2. খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয় রোধ হয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ঠ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পুড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প কারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৭৫৬.
ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ হতে সাহায্য করে -
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধানতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি হলো মূল্যবোধ।
- ব্যক্তির মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির মনোভাব জাগ্রত হয় মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে।

উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)
৭৫৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সততা
  2. সহনশীলতা
  3. শিষ্টাচার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৫৮.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. সংবিধান
  3. আইনের শাসন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৯.
কোনটি মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম নয়?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  3. গ) সভা
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। এগুলো মানুষ প্রথমে পরিবার থেকে শিখে। পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৭৬০.
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো -
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে- মূল্যবোধ শিক্ষা।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৬১.
সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে -
  1. ক) প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  2. খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  3. গ) সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে।
  4. ঘ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- একটি পরিস্থিতি যেখানে দুটি ভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বা লক্ষ্য ভিন্ন।
⇒ নির্বাচিত কর্মকর্তা বা কর্পোরেট লবিস্টদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের অফিসিয়াল ক্ষমতায় গৃহীত কর্ম বা সিদ্ধান্ত থেকে  ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের অবস্থানে থাকে।
এ ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় সঠিক উত্তর “সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।”

উৎস: লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭৬২.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার বিকাশের সহায়ক নয়?
  1. রীতিনীতি
  2. আদর্শ
  3. প্রথা
  4. অন্নচিন্তা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''- উক্তিটির কার?
  1. উইলিয়াম
  2. গার্নার 
  3. আবারাহাম লিংকন 
  4. ফ্রাংকেল 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ ফ্রাঙ্কেল এর মতে,
- ''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৪.
কোনটি মানব আচরণের অলিখিত দলিল?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল।
- মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত।
- সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
- মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ।
৭৬৫.
কোন মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ তৈরি হয়?
  1. ক) ধর্মীয়
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) গণতান্ত্রিক
  4. ঘ) নৈতিক
ব্যাখ্যা
⇒ সামাজিক মূল্যবোধ:
• সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী রীতিনীতির সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে -
- শিষ্টাচার,
- সততা,
- ন্যায়পরায়ণতাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতাবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সৌজন্যবোধ।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
• যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে। যেমন -
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- পরমতসহিষ্ণুতা,
- বিরোধী মতকে প্রচার প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর রাখা।

['রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ' হচ্ছে রাজনৈতিক মূল্যবোধ। কিন্তু অপশনে রাজনৈতিক মূল্যবোধ না থাকায় সামাজিক মূল্যবোধের সাথে অধিক সম্পৃক্ত হওয়ায় উত্তর হিসেবে 'সামাজিক মূল্যবোধ' নেওয়া হয়েছে।]

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৬৬.
কোন ধরনের অনুভূতি সমাজের ভিত্তি মজবুত করে?
  1. সহমর্মিতা
  2. কর্তব্যবোধ
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. সচেতনতা
ব্যাখ্যা

• সহমর্মিতা: 
- সহমর্মিতা একটি অন্যতম মানবীয় গুন।
- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যকে আমরা পরের তরে, এটা সহমর্মিতার মূল কথা।
- সহমর্মিতার অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

অপরদিকে, 
- সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ  নাগরিকের অন্যতম গুন।
- সব ধরনের শ্রমের মর্যাদার প্রতি  শ্রদ্ধা করাকে শ্রমের মর্যাদা  বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭৬৭.
মূল্যবোধ কীভাবে সুদৃঢ় হয়?
  1. প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. আইন প্রয়োগের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি। 
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৬৮.
কোন মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজে সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও বাঞ্চিত পরিবর্তন নিশ্চিত করে?
  1. ক) সামাজিক মূল্যবোধ
  2. খ) পারিবারিক মূল্যবোধ
  3. গ) ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় জীবনের মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজে সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও বাঞ্চিত পরিবর্তন নিশ্চিত করে; ফলে সমাজ হয় সুশৃঙ্খল, সুসংহত এবং উন্নত।
৭৬৯.
কোথা থেকে শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়?
  1. ক) গৃহ শিক্ষক
  2. খ) সমাজ
  3. গ) স্কুল
  4. ঘ) পরিবার
ব্যাখ্যা
⇨ মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
⇨ মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
⇨ এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।      

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭০.
সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয়? 
  1. কর্তব্যবোধ
  2. শৃঙ্খলা
  3. যোগ্যতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয় মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।


• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৭৭১.
বয়সের সাথে কিসের পরিবর্তন ঘটে?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭২.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-এটি কার অভিমত?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. ক্লাইড ব্লুখোন
  3. নিকোলাস রেসার
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেনন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. সমাজ
  2. গোষ্ঠী
  3. পরিবার
  4. বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ :
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৭৪.
মূল্যবোধের ভিত্তি নয় কোনটি?
  1. পরশ্রীকাতরতা
  2. সহনশীলতা
  3. সহমর্মিতা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ পরশ্রীকাতরতা মূল্যবোধের ভিত্তি নয়।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাব্দিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৭৫.
নিচের কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত নয়?
  1. সত্যকে সত্য বলা
  2. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. আর্থিক লেনদেন
  4. অন্যায়কে অন্যায় বলা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে নৈতিক মূল্যবোধ।

• নৈতিক মূল্যবোধ: 
- সত্যকে সত্য বলা,
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা,
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা
- এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
- বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
- ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,

উল্লেখ্য,
- আর্থিক লেনদেন অর্থনৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭৬.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
  2. বিমূর্ত, লিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  3. পরিবর্তনশীল
  4. আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৭.
জাতীয় সত্ত্বার বিকাশ সাধিত হয় কিসের প্রতিষ্ঠার ফলে?
  1. ক) আইন
  2. খ) শাসন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
সমাজ তথা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই জাতীয় সত্ত্বার বিকাশ সাধিত হয়।
৭৭৮.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের শ্রেণি বিভাগ নয়?
  1. ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ
  2. খ) জাতীয় মূল্যবােধ
  3. গ) রাজনৈতিক মূল্যবােধ
  4. ঘ) আধুনিক মূল্যবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবােধের শ্রেণিবিভাগ গুলাে হলাে-
- সামাজিক মূল্যবােধ,
- রাজনৈতিক মূল্যবােধ,
- গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ,
- ধর্মীয় মূল্যবােধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবােধ,
- নৈতিক মূল্যবােধ,
- অর্থনৈতিক মূল্যবােধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবােধ ও
- আধুনিক মূল্যবােধ।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মােঃ মােজাম্মেল হক।