বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭৮০

৬০১.
একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কী?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. অর্থনৈতিক সম্পদ
  3. রাজনৈতিক সম্পদ
  4. সামাজিক সম্পদ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। 

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

→ জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

→ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

→ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে।

→ সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে।
- এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

→ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬০২.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় কোথায়?
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. রাষ্ট্র
  4. কর্মক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৬০৩.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) কি?
  1. ক) সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. খ) একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
  3. গ) ত্রিভুজের দুটি বাহন ভূকেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. ঘ) দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক একটি দার্শনিক প্রতিশব্দ, যার মাধ্যমে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝিয়েছেন।
৬০৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. পরমতসহিষ্ণুতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
একটি শিশু নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রথম কোথায় পায়?
  1. পরিবারের কাছে
  2. শিক্ষকের কাছে
  3. সমাজের কাছে
  4. রাষ্ট্রের কাছে
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৬.
মানুষের নৈতিকতাবোধ জাগ্রত ও শাণিত হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষার ফলে
  2. খ) মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে
  3. গ) মূল্যবোধের চর্চার ফলে
  4. ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও চর্চার ফলেই মানুষের নৈতিকবোধ জাগ্রত ও শাণিত হয়।
৬০৭.
যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে কী বলে?
  1. প্রথা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ বিষায়ক কয়েকটি সংজ্ঞা:

- রীতিনীতি: সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যবহার ও অনুশীলনের উপর যে অলিখিত সাধারণ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রীতিনীতি বলে। 
- প্রথা: যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে প্রথা বা Custom বলে। 
- সংস্কৃতি: একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর মুল্যবোধ, আদর্শ, রীতিনীতি, প্রথা, শিল্প, নৈপুন্য ইত্যাদিকে এক কথায় সংস্কৃতি বলা হয়।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- সমাজবিজ্ঞানী আর টি শেফার মতে, "ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬০৮.
একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারে না-
  1. অর্থের অভাবে
  2. মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে
  3. প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাবে
  4. উচ্চশিক্ষার অভাবে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একজন ব্যক্তির নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা গড়ে তোলে।
- একজন ব্যক্তি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে না পারার প্রধান কারণ হলো মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব।
- যদি কেউ মূল্যবোধ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হতে পারে এবং ন্যায়-অন্যায় বোঝার ক্ষমতা হারাতে পারে। - ফলে, সে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমতো পালন করতে পারে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কীরুপ সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) নিবিড়
  2. খ) বিপরীত
  3. গ) ধারাবাহিক
  4. ঘ) প্রান্তিক
ব্যাখ্যা
▪ মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
▪ সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।  
▪ সুশাসন পেতে হলে মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
▪ এজন্যই বলা হয় যে, ব্যক্তিগত, সমাজজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক খুবই নিবিড়।    

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬১০.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. বিদ্যালয়
  2. সহপাঠী
  3. পরিবার
  4. কর্মক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৬১১.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কিসের মাধ্যমে?
  1. সুশাসনের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. সংস্কৃতির মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬১২.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বিভিন্নতা
  2. আপেক্ষিকতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
• 'স্থিতিশীলতা'- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

⇒ নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
⇒ নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
⇒ বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
⇒ আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। 
⇒ সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
⇒ পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
⇒ সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
Legitimacy হলো-
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) বৈধতা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
Legitimacy হলো বৈধতা।
Transparency হলো স্বচ্ছতা।
Rule of Law হলো আইনের শাসন।
Morality or honesty হলো ন্যায়পরায়ণতা।
৬১৪.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. স্বাধীনতা
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. জনপ্রিয়তা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা (Tolerance):
- ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা ও চিন্তাভাবনার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে সহ্য ও সম্মান করার গুণই হল সহনশীলতা।
- সহনশীলতা হলো সামাজিক মূল্যবোধের একটি মৌলিক ও শক্তিশালী ভিত্তি।
- এটি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্নমত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে।
- সহনশীলতা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে মূল্য দেওয়া হয়, যা সহনশীলতার মাধ্যমেই সম্ভব।
- সহনশীল ব্যক্তিরা সহিংসতা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে, ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
-  সহনশীলতা না থাকলে সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ ও সংঘাত বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- সহনশীলতা কেবল একটি চারিত্রিক গুণ নয়, এটি সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
- তাই, সহনশীলতা-ই সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা একজন নাগরিকের কোন বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে?
  1. ভোগবাদিতা
  2. প্রতিযোগী মনোভাব
  3. ব্যবসায়িক দক্ষতা
  4. সামাজিক দায়িত্ববোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
মানুষের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্য ও ন্যায়
  2. সংস্কৃতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৭.
জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-
  1. ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ম্যল্যবোধের শিক্ষা এবং সুশাসিন প্রতিষ্ঠিত হলে তা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ এর ফলে সবাই পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার শিক্ষা লাভ করে।
৬১৮.
'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন' করা হয় কবে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৬১৯.
মূল্যবোধ হল -
  1. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  4. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৬২০.
মূল্যবোধ কী?
  1. ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক
  2. আদর্শহীন কাজে সম্পৃক্ততা
  3. রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথে বাধা দেওয়া
  4. ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির আচরণের নিয়ন্ত্রক।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- এনথনি জি ক্যাটান্স।
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- ফ্রাঙ্কেল এর মতে, ''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করে
  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  3. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬২২.
সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. আইন
  2. অর্থনীতি
  3. মূল্যবোধ
  4. শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হচ্ছে বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৩.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে কী দেখা দেয়?
  1. নৈতিকতার বিকাশ
  2. ন্যায়বিচার বৃদ্ধি
  3. স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  4. বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যেখানে সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা বিদ্যমান, সেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। 
- কিন্তু এগুলোর অভাব থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয়।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- যখন নৈতিক শিক্ষা ও সুশাসন কার্যকর থাকে না, তখন সমাজে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচার বৃদ্ধি পায়।

যেমন-
: মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে মানুষ সৎ ও ন্যায়পরায়ণ থাকার পরিবর্তে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
: সুশাসনের অভাবে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দেখা দেয়, যা সমাজের একটি বড় অংশকে অবহেলিত করে রাখে।
: নৈতিক মূল্যবোধ না থাকলে আইন ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৬২৪.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. রাজনীতিচর্চা
  3. সামাজিক সাম্য
  4. আইনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও
পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৫.
"সতীদাহ প্রথা রহিত করা" কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা - আধুনিক মূল্যবোধ।

• আধুনিক মূল্যবোধ:
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে কোন দিকটি উদ্ভব ঘটায়?
  1. বিবেকবোধ
  2. স্বজাতিবোধ
  3. অহংকারবোধ
  4. বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে বিবেকবোধের উদ্ভব ঘটায়।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৭.
সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে নিম্নের কোনটি সৃষ্টি হয়?
  1. ক) উন্নয়ন
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। 
- কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। 
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক বুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায় -
  1. ক) আচার অনাচারের সমষ্টি
  2. খ) আইন
  3. গ) অর্থ উর্পাজনের মাধ্যম
  4. ঘ) সমাজের রীতিনীতি
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব আচার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬২৯.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।" – এই উক্তিটি কার?
  1. এফ. এল. ডানকান
  2. হ্যারল্ড লাস্কি
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩০.
মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে -
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) সরকার
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) পরিবার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
৬৩১.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতির অংশ?
  1. দর্শন
  2. পোশাক
  3. চিন্তাভাবনা
  4. রীতিনীতি
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. বিদ্যালয়
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ :
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩৩.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?  
  1. দানশীল হওয়া
  2. বড়দের সম্মান করা
  3. আতিথেয়তা 
  4. ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা

- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি। 

সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

 পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ-সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির কোন বিকাশ ত্বরান্বিত করে?
  1. শারীরিক
  2. মানসিক
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩৫.
মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. ক) ১০ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১১ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ২৫ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।”

অন্যদিকে,
- ১০ নং অনুচ্ছেদ : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- ১২ নং অনুচ্ছেদ : ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ : আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান
৬৩৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ নিচের কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. রাজনীতি
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক রয়েছে, যথা-সামাজিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রভৃতি।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলা হয়।

সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ গণতন্ত্র।  
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুশাসনের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩৭.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কী?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. ধর্মীয় আচার
  3. রাষ্ট্রীয় আইন
  4. নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৮.
মূল্যবোধ না থাকলে কোনটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ঐক্য
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৩৯.
সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে কোন উপাদানটি প্রভাব বিস্তার করে? 
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. স্থানীয় কৃষ্টি
  3. জলবায়ু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের সমাজে কারো সাথে কুশল বিনিময়ে সালাম, নমস্কার অথবা আদাব দেয়া হয়।
- অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে good morning, good afternoon অথবা good evening বলা হয়ে থাকে।
- অর্থাৎ একটি সমাজের মূল্যবোধগত রীতি আরেকটি সমাজ হতে আলাদা করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪০.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. জনকল্যাণমুখিতা
  2. সহমর্মিতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

» মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। সামাজিক মাপকাঠি
২। যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
৩। নৈতিক প্রাধান্য
৪। বিভিন্নতা
৫। বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা
৬। পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৪১.
শৈশবে নারীর প্রতি বঞ্ছনার অভিজ্ঞতা একজন পুরুষকে সহিংস করে তোলে। এর মূল কারণ হলো-
  1. ক) ত্রুটিপুর্ণ সামাজিকীকরন
  2. খ) আধিপত্য
  3. গ) গোঁড়ামি
  4. ঘ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
শৈশবে নারীর প্রতি বঞ্ছনার অভিজ্ঞতা একজন পুরুষকে সহিংস করে তোলে। এর মূল কারণ হলো -  আধিপত্য
⇒ আমাদের সমাজে অনেক পুরুষ নারীকে দুর্বল ও অবলা হিসেবে মনে করে ।গ্রামীন ও শহুরে সমাজের কতিপয় পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি হলো গৃহে রান্না-বান্না, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন সবজি বাগান করা, গবাদিপশু পালন, শিশুকে পাঠদান, শারীরিক শুশ্রুষা করা প্রভৃতি। 
⇒ পুরুষতান্ত্রিক অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি, যেমন- পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, নারীরা স্বামীর সেবাদাসী, স্বামীর পদতলে স্ত্রীর বেহেস্ত প্রভৃতি মনোভাব থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতার সৃষ্টি হয়।
⇒ আবার শৈশবে নিজ পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে একজন পুরুষকে সহিংস করে তুলতে পারে।
⇒ কন্যা সন্তানকে শিক্ষা দানের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, কন্যা সন্তানের প্রতি মা-বাবার উদাসীনতা, পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেওয়া, বিবাহে কন্যার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করার মনোভাব প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতাকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয় ৷

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (নবম - দশম শ্রেণি)
৬৪২.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে? 
  1. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  2. ভালো ও মন্দ
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে।

⇒ মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৩.
মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো মূল্যবোধভিত্তিক প্রশাসন।
- সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ইত্যাদি মূল্যবোধ না থাকলে দুর্নীতি, অসাম্য ও অস্থিরতা বাড়ে।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি ব্যক্তিকে সুনাগরিক করে তোলে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।
- মূল্যবোধের অভাবে সমাজ অবক্ষয়ের দিকে যায়।

⇒ মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
• ধর্মীয় মূল্যবোধ,
• সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
• নৈতিক মূল্যবোধ,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,
• আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও
• আধুনিক মূল্যবোধ,
• সামাজিক মূল্যবোধ,
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ,
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৬৪৪.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ক) দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার
  2. খ) জীবনের অধিকার
  3. গ) অবকাশ লাভের অধিকার
  4. ঘ) নির্বাচনে ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- অধিকারের বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
এর মধ্যে সামাজিক অধিকারসমূহ হলো:
- জীবনের অধিকার
- মত প্রকাশের অধিকার
- সভা-সমিতির অধিকার প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার হলো নৈতিক অধিকার।
- নির্বাচনে ভোটাধিকার হলো রাজনৈতিক অধিকার।
- অবকাশ লাভের অধিকার হলো অর্থনৈতিক অধিকার।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৪৫.
ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে-
  1. কর্তব্যবোধ 
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. পাঠ্যবই
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তি সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে মূল্যবোধ শিক্ষা থেকে।
- সহনশীলতা অন্যতম প্রধান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- সহনশীলতা মানে হলো অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
- অন্যকে মতপ্রকাশ করতে দেওয়া।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহনশীলতার বিকাশ ঘটায়।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

৬৪৬.
কার মাধ্যমে শূন্যবাদ ধারণাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. ক) জেরেমি বেন্থাম
  2. খ) ফ্রেডেরিখ নীটশে
  3. গ) জ্যা জ্যাক রুশো
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬৪৭.
সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, টার্মিনাল মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. অর্থনৈতিক সাফল্য
  3. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান
  4. জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধরন:
- মূল্যবোধ হলো এমন নীতি ও মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি কিছু বিশেষ চিন্তা ও অভ্যেসের সমষ্টি, যা সময়ের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজের নিয়ম, প্রথা ও আদর্শ তৈরি করতে সাহায্য করে।

- সামাজিক মনোবিজ্ঞানী মিল্টন রকিচ (Milton Rokeach) এর মতে, মানুষের মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের মূল্যবোধ বিদ্যমান।
- একটি হচ্ছে টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) এবং অপরটি ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) ।

→ টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values):
- এটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গঠিত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, ব্যক্তি তার জীবনে যে চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সেটিই তার টার্মিনাল মূল্যবোধ।

→ ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values):
- এটি টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য গৃহীত আচরণগত মূল্যবোধ।
- অর্থাৎ, মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে নীতিগত ও আচরণগত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, সেটিই ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ।

অর্থাৎ,  টার্মিনাল মূল্যবোধ (Terminal Values) হল এমন মূল্যবোধ যা মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা আদর্শের প্রতি নির্দেশিত। এটি সেইসব উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য, যা একজন ব্যক্তি তার জীবনে অর্জন করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, সুখ, শান্তি, সফলতা বা মানসিক শান্তি—এই ধরনের মূল্যবোধগুলি টার্মিনাল মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এগুলি ব্যক্তি জীবনে দীর্ঘমেয়াদী এবং চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, ইন্সট্রুমেন্টাল মূল্যবোধ (Instrumental Values) হল সেই আচরণ বা নীতিগুলি, যা টার্মিনাল মূল্যবোধ অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে -
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবরোধ রক্ষণ করা
  4. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

• সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪৯.
'Man multiplies like mice in a bran.' উক্তিটি কার?
  1. ক) উইলিয়াম
  2. খ) ফ্রাঙ্কেল
  3. গ) কনটিলন
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
কনটিলনের বিখ্যাত উক্তি, 'Man multiplies like mice in a bran.'

অন্যদিকে,
- উইলিয়াম বলেছেন, 'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।'
- ফ্রাঙ্কেলের উক্তি, 'মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।'
- প্লেটো বলেছেন, 'শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক।'
৬৫০.
মূল্যবোধ (Values) বলতে কী বোঝায়?
  1. মানুষের বাহ্যিক রূপ
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  4. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৫১.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন-এর মতে সামাজিক মূল্যবোধ কী?
  1. বিশ্বাসের এক প্রকৃতি
  2. একটি মানদন্ড
  3. ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ
  4. সমাজের প্রচলিত আইন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

এছাড়াও বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর মতে, 
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫২.
'মায়ের প্রতি সম্মান' মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ?
  1. আপেক্ষিকতা
  2. নির্দিষ্টতা
  3. সামাজিক মানদণ্ড
  4. বিভিন্নতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৩.
ধর্মীয় মূল্যবোধের উদাহরণ নিচের কোনটি?
  1. ক) নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  2. খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা
  3. গ) আর্থিক লেনদেন ও ক্রয়-বিক্রয় করা
  4. ঘ) অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
» সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন,
» অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা,
» অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া,
» রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ না ভাবা এবং
» সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
৬৫৪.
মূল্যবোধ পরীক্ষা করে -
  1. ভালো ও মন্দ
  2. ন্যায় ও অন্যায়
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা সবগুলোই পরীক্ষা করে।

​মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৫৫.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো- 
  1. সমাজ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- সমাজ সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি।

• সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধার প্রথা সংস্কৃতির উন্নত
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মরে আমরা যাতা যনো সংস্কৃতি এবং আমরা য ব্যবহার করি তা ধনো সভ্যতা)
-স্কটের মতে সহাতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোর মতে সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টদেমূহের সমন্বয়।
- জেরি এবং জেরি বলেন, সভ্যতা হচ্ছে সাস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন।
- নীতি-নৈতিকতার সমচিত এগ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এব। বৃষএর সমাজ
- সব মিনিয়ে নরা ধায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধর। প্রথ্য সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমগ্রিলে যোগায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রধিকতা অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রণয়িত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সলতার সম্পর্কে হারনা পাপ্রয়া যায়।

উৎস:  সমাজবিজ্ঞান , এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৬.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে" - কে বলেছেন?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. এইচ. ডি. ষ্টেইন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ: 
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart c. Dodd) বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫৭.
কোন ধরনের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে-
  1. কর্মমুখী শিক্ষা
  2. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. ধর্মীয় শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, সহনশীলতা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৬৫৮.
স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ____________ ভিন্ন হয়ে থাকে।
  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য:
১. সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সমাজের সদস্যদের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি।
২. ইহা মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করে।
৩. মানুষের আচরণ বিচারের মানদন্ড হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাপকাঠিতে মানুষের কাজের ভাল-মন্দ বিচার করা হয়।
৪. সামাজিক মূল্যবোধ মূলতঃ বিমূর্ত, অলিখিত এবং সংখ্যা গরিষ্টের সমর্থিত আচরণ বিধি।
৫. স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সামাজিক মূল্যবোধ ভিন্ন হয়ে থাকে। সামাজিক পরিবর্তনের সাথে এর মধ্যেও পরিবর্তন আসে।
৬. সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিটি সমাজেই থাকে।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
– যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
– সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
– স্টুয়ার্ট সি. ডড বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হল সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে”।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান বলে স্বীকার করা হয় সেগুলো হলো:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা
৭. আইনের শাসন
৮. নাগরিক সচেতনতা
৯. কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬০.
নিচের কোনটির অভাবে ব্যক্তি সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না? 
  1. সহমর্মিতা 
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

মূল্যবোধের উপাদান: 

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

•  নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না।
- তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত।
- সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

• সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬১.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
  1. ক) সুশাসনের মাধ্যমে
  2. খ) ধর্মের মাধ্যমে
  3. গ) গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে 
  4. ঘ) শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের আচার-আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।
- মূল্যবোধ জাতীয় জীবনের দর্পণ স্বরুপ।
- মূল্যবোধ দৃঢ় হয় শিক্ষার মাধ্যমে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক হিসেবে নৈতিক মূল্যবোধ কী ধরনের আচরণের বিকাশ ঘটায়?
  1. নেতিবাচক আচরণ
  2. নিরপেক্ষ আচরণ
  3. সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:

- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক এবং একে অপরের পরিপূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ নেতিপরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৬৬৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. পরিবার
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. প্রাথমিক বিদ্যালয়
  4. গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা, আদর্শ ও সামাজিক মানদণ্ড বিকাশ করে।
- এর প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবারের কাছ থেকে একজন মানুষ প্রথম মূল্যবোধ শিখে।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৬৪.
পরিবর্তনশীলতা নিচের কোনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য?
  1. মূল্যবোধ
  2. কর্তব্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য,
৪. বিভিন্নতা,
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে মূল্যহীন।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬৫.
কোনটি সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান?
  1. সাম্য
  2. স্বাধীনতা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ কাঠামো মূলত কিছু মৌলিক উপাদানের ওপর গড়ে ওঠে, যা সামাজিক সম্পর্ক ও সংগঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো "মূল্যবোধ"।
- এটি সমাজের নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণ পরিচালিত হয় সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে।
- এটি সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তোলে, যা অন্য উপাদানগুলোর বিকাশে সহায়ক হয়।
- ন্যায়বিচার, সততা, সম্মান, সহযোগিতা, ও দায়িত্ববোধের মতো বিষয় সমাজ কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
সাম্য (ক):
সাম্য একটি আদর্শ সমাজব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তবে এটি সমাজ কাঠামোর একমাত্র ভিত্তি নয়। সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলেও সমাজ টিকে থাকতে পারে, যদিও তা ন্যায়ের ভিত্তিতে নাও গড়ে উঠতে পারে।

স্বাধীনতা (খ):
স্বাধীনতা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে সমাজ কাঠামোর জন্য এটি একমাত্র অপরিহার্য উপাদান নয়। কিছু সমাজে ব্যক্তিস্বাধীনতা সীমিত থাকলেও সমাজ কাঠামো টিকে থাকে।

কর্তব্যবোধ (ঘ):
কর্তব্যবোধ সমাজের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি মূল্যবোধের একটি অংশ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৬৬.
স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ - 
  1. ক) সমাজতন্ত্র
  2. খ) রাজতন্ত্র
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) অভিজাততন্ত্র
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ বলা হয় গণতন্ত্রকে।

গণতন্ত্র:

- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্রকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
-  প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
-  পরোক্ষ গণতন্ত্র
- পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকেই বোঝায়।
- পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই প্রচলিত রয়েছে।
- প্রাচীন আমলে গ্রিসে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

উৎস: একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র)।
৬৬৭.
”মূল্যবোধ হলো আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ”- উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. জন লক
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. উইলিয়াম জেমস
ব্যাখ্যা

- ফ্রাঙ্কেল এর মতে,"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ"।

• ভিক্টর ফ্রাঙ্কেল (Viktor Frankl)
- অস্ট্রিয়ান স্নায়ুবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে ফেরা মনীষী।
- "যার বেঁচে থাকার জন্য একটি 'কেন' (উদ্দেশ্য) আছে, সে প্রায় যেকোনো 'কিভাবে' (পরিস্থিতি) সহ্য করতে পারে।"

অন্যদিকে,
- জন লক (John Locke)
- ব্রিটিশ দার্শনিক এবং 'উদারনীতিবাদের জনক' হিসেবে পরিচিত।
- "শিক্ষা মনের বিকাশ ঘটায়, কিন্তু চিন্তা ও গবেষণা যা শেখা হয়েছে তাকে নিজের করে নেয়।"
- "আইন যেখানে শেষ হয়, স্বৈরাচার সেখান থেকে শুরু হয়।"

• আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln)
-যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা।
- "জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার—পৃথিবী থেকে কখনো মুছে যাবে না।"
- "ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তা নিজে তৈরি করা।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৬৬৮.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কী লালন করে?
  1. গোষ্ঠীগত আধিপত্য
  2. রাষ্ট্রীয় নীতি
  3. সমাজের নিয়ন্ত্রণ
  4. ব্যক্তি স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
‘The Value Base of Social Work’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. Robert L Barker
  2. Charles S Levy
  3. W A Friedlander
  4. Wilbert E Moore
ব্যাখ্যা
সমাজকর্ম মূল্যবোধ:
- সমাজকর্ম অনুশীলনে পেশাগত মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সমাজকর্ম অনুশীলনে সমাজকর্মীর জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থান-কাল-পাত্র নিরপেক্ষ কিছু মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে, যা পেশাগত আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাধারণত যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের উপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয় সেগুলোর সমষ্টিই হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।

⇒ সমাজকর্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে জুডিথ সেভেন ও অন্যান্যরা তাঁদের "Social Work Skill: Demonstrated Begining Direct Practice" গ্রন্থে বলেন, "সমাজকর্ম একটি অনুশীলনধর্মী পেশা, যা কিছু মৌলিক মূল্যবোধ যেমন- আত্মনিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতায়ন, গোপণীয়তা এবং সকল মানুষের মূল্য ও মর্যাদার বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।"

⇒ সমাজবিজ্ঞানী চালর্স এস লেভী (Charles S. Levy) তাঁর "The Value Base of Social Work" গ্রন্থে বলেন, "জনগণের পছন্দ, ফলাফল, তাদের অধিকতর পছন্দের ধারণা ও জনগণের সাথে কাজ করার রীতিগত সমষ্টি হলো সমাজকর্ম মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজকর্ম একটি মানবকল্যাণমুখী পেশাগত কর্মকাণ্ড।
- সমাজকর্ম অনুশীলন ও সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা প্রদান ও পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সমাজকর্ম মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- যেমন- ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকার, সকলের সমান সুযোগ দান, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ইত্যাদি।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
নিচের কোনটি অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. অসততা
  2. অসংযম
  3. শৃঙ্খলা
  4. অবাধ্যতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
• শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• এছাড়াও মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার - সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিচের কোনটি প্রতিবন্ধক?
  1. ক) পেশাদারিত্ব
  2. খ) দারিদ্র
  3. গ) উন্নত কৌশল
  4. ঘ) সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হল ব্যক্তিপূজা, স্বজনপ্রীতি, দারিদ্র।
সুশাসনের একটি উপাদান হলাে পেশাদারিত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মােঃ মােজাম্মেল হক।
৬৭২.
রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে নিচের কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা
  2. খ) সামাজিকক স্বাধীনতা
  3. গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. ঘ) আইনগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক, সামাজিক, আইনগত, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশের জন্যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আবশ্যক।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে হলো যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৭৩.
কোনটি মূল্যবোধের সারসত্তাকে প্রতিফলিত করে?
  1. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত নিয়ম
  2. নৈতিক নির্দেশ ছাড়া প্রথা ও ঐতিহ্য 
  3. নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি
  4. সামাজিক শৃংখলার আইনি বাধ্যবাধকতা
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধের সারসত্তাকে প্রতিফলিত করে - নৈতিক আচরন নির্দেশক বিশ্বাস ও নীতি।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের অন্তর্নিহিত বিশ্বাস, আদর্শ ও নৈতিক নীতিমালা, যা তার আচরণ, সিদ্ধান্ত ও জীবনদৃষ্টিকে পরিচালিত করে।
- এটি কোনো বাহ্যিক নিয়ম, আইন বা প্রথা দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং সামাজিকীকরণ, সংস্কৃতি চর্চা ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা, কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধের সারসত্তা হলো তার অভ্যন্তরীণ, অকৃত্রিম ও চিরন্তন দিক যা মানুষের আচরণকে নৈতিকভাবে পরিচালিত করে।
- এটি বাহ্যিক চাপ বা বাধ্যবাধকতা নয় বরং অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস ও নীতি যা নৈতিক আচরণকে নির্দেশ করে।
- এই বিশ্বাস ও নীতি থেকেই সততা, ন্যায়, দায়িত্ববোধ, সমতা ইত্যাদি মূল্যবোধ উদ্ভূত হয় এবং প্রতিফলিত হয়।

অন্যদিকে,
- কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত নিয়ম: এটি আইন বা বিধি, যা বাহ্যিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়, মূল্যবোধের অভ্যন্তরীণ সার নয়।
- নৈতিক নির্দেশ ছাড়া প্রথা ও ঐতিহ্য: প্রথা ও ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক হতে পারে, কিন্তু নৈতিক নির্দেশ ছাড়া এতে মূল্যবোধের সারসত্তা থাকে না।
- সামাজিক শৃঙ্খলার আইনি বাধ্যবাধকতা: এটি সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে, কিন্তু মূল্যবোধের অন্তর্নিহিত সারসত্তা নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৭৪.
সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা কোন দুটি উপাদানের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
  2. শুধুমাত্র মূল্যবোধের
  3. শুধুমাত্র সুশাসনের
  4. মূল্যবোধ ও সুশাসনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।

• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে:
- কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।

• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা:
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৭৫.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক নয়?
  1. ক) ঐতিহ্য
  2. খ) ইতিহাস
  3. গ) সামাজিক রীতি-নীতি
  4. ঘ) আইনসভা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষার নির্ধারক সমূহ হলোঃ সামাজিক রীতিনীতি, আইন, ঐতিহ্য, ইতিহাস, প্রথা, বিশ্বাস। ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৭৬.
নিম্নের কোনটিকে 'উপযুক্ততা মূল্যবোধ' বলা হয়?
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) সক্ষমতা
  3. গ) সুখ
  4. ঘ) সাম্যতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ (Values) :মানুষের মধ্যে কিছু স্থায়ী প্রত্যাশা থাকে যা ভাল বলে প্রতীয়মান হয়, তা-ই মূল্যবোধ। এগুলো মানুষের নৈতিক মান গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মূল্যবোধকে “অন্তর্নিহিত বিশ্বাস” বলে আখ্যায়িত করা যায় যা মানুষের মনোভাব ও কার্যকে প্রভাবিত করে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১। শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ (Terminal Values) : শেষপ্রান্ত মূল্যবোধ বলতে এমন কতগুলো প্রত্যাশাকে বুঝায় যা মানুষ সারাজীবনে অর্জন করতে চায়। অর্থাৎ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ সে-ই সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়। যা জীবনের শুরুতেই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
২। ব্যক্তিক মূল্যবোধ (Personal Values) : প্রতিটি মানুষের কিছু একান্ত প্রত্যাশা থাকে যা নিজের জীবনের জন্য অর্জন করতে চায়, তা-ই ব্যক্তিক মূল্যবোধ। যেমন- আরাম-আয়েশপূর্ণ জীবন, স্বাধীনতা, সুখ প্রভৃতি।
৩। যান্ত্রিক মূল্যবোধ (Instrumental Values) : এটি এমন মূল্যবোধ যা ব্যবহার করে মানুষ তার জীবনের শেষ প্রান্তের মূল্যবোধকে অর্জন করতে চায়। যেমন- আচরণের ধরন, কাজের ধরন প্রভৃতি ।
৪। নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values) : নৈতিক মূল্যবোধ হলো মানুষের আন্তঃব্যক্তিক গুণাবলি, যা তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। যেমন- সততা, উৎফুল্লতা, সাহসিকতা, অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা প্রভৃতি। এ সকল নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ কোনো খারাপ কাজে ব্যথিত হয় ।
৫। উপযুক্ততা মূল্যবোধ (Competence Values) : এটি এমন কতগুলো উপাদানের সমাহারকে বুঝায় যা মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। যেমন- উচ্চাভিলাষী, সক্ষমতা, মেধা, দায়-দায়িত্ব প্রভৃতি। এ সকল গুণ যাদের মধ্যে বিদ্যমান তারা খারাপ কাজে লজ্জিত হয়।
৬। সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values) : মানুষ সামাজিক জীব। তাই তারা সমাজে বসবাস করে। তাই সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। এ জন্য কতিপয় মূল্যবোধ জাগিয়ে রাখতে হবে। যেমন- সাম্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা, বিশ্ব শান্তি প্রভৃতি।
 
উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৭৭.
মূল্যবোধকে কোনটি সুদৃঢ় করে?
  1. পরিবার
  2. শিক্ষা
  3. ঐক্য 
  4. সামাজিক বণ্টন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৭৮.
কোন ধরনের মূল্যবোধ আধুনিক বিশ্বে সর্বাধিক প্রাধান্য পাচ্ছে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৯.
নিচের কোন গুণের চর্চার মাধ্যমে 'উদারতাবাদ' প্রকাশ পায়?
  1. ক) ব্যক্তিস্বাধীনতা
  2. খ) সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ
  3. গ) পারস্পরিক সম্মতি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:  
• বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
• নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়। একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
• সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
• মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
• মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চচার্ই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
• গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।        

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮০.
নিচের কোনটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) ন্যায়বিচার বোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) অধিকার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
⇨ এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
⇨ মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চার ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
⇨ এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮১.
কোন প্রকারের মূল্যবোধ সুশাসনের মানদণ্ড হিসাবে বিবেচিত?
  1. ক) নৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গ) ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. ঘ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সুসাশনের মানদণ্ড।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু আদর্শ ও নিয়মনীতি থাকে। যার দ্বারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।

৬৮২.
Nihilism অর্থ কী?
  1. ক) শূন্যবাদ
  2. খ) মধ্যমপন্থা
  3. গ) উত্তম আচরণ
  4. ঘ) চরমপন্থা
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬৮৩.
'ন্যায়পরায়ণতা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৪.
মূল্যবোধকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ব্যক্তিগত আবেগ
  2. আচরণের সামাজিক মাপকাঠি
  3. অর্থনৈতিক সূচক
  4. রাজনৈতিক মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো- 
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উল্লেখ্য
- এস সি ডডের ভাষায়,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে,
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
  1. মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকাশের শিক্ষা
  2. ধর্মীয় শিক্ষা
  3. পেশাগত প্রশিক্ষণ
  4. কেবল নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা বলতে বোঝায় মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকাশের শিক্ষা।

• মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ন্যায়পরায়ণতার মতো মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকশিত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি হিসেবে কাজ করে, যা ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তৈরি করে। এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৬৮৭.
'সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত'- এটি কার ভাষ্য?
  1. ক্লাইড কুখোন
  2. স্টুয়াট সি. ডড
  3. এইচ. ডি. স্টেইন
  4. মিশেল ক্যামডেডাস
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ক্লাইড কুখোন বলেন,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে স্টুয়াট সি. ডড এর ভাষ্য হলো,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৮৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল -
  1. পরমত সহিষ্ণুতা
  2. শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন
  3. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
  4. সুগঠিত রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিম্নে আলোচনা করা হল:-
পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা।
স্বচ্ছতা: রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ।
আইনের শাসন: সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়।
ন্যায়পরায়ণতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়।
সচেতনাবোধ সৃষ্টি: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।
দায়বদ্ধতা: নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৯.
মূল্যবোধ একটি -
  1. প্রাতিষ্ঠানিক গুণাবলী
  2. রাজনৈতিক গুণাবলী
  3. সামাজিক গুণাবলী
  4. মানবিক গুণাবলী
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯০.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values) এর কারণে মানুষ -
  1. সৎভাবে বাঁচতে চায়
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করে
  3. অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

৬৯১.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. শঠতা
  2. অসহিষ্ণুতা
  3. ন্যায়
  4. সার্থকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৯২.
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে কীভাবে?
  1. ক) সামাজিক বিবাদ প্রবর্তনের মাধ্যমে
  2. খ) পারিবারিক বিবাদ দূর করার মাধ্যমে
  3. গ) ব্যাক্তিগত জীবনাদর্শের সংঘাত প্রশমিত করে
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ব্যাক্তিগত জীবনাদর্শের সংঘাত, পারিবারিক কলহ, সামাজিক বিবাদ ইত্যাদি প্রশমিত করে জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে মূল্যবোধের শিক্ষা৷
৬৯৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়
  2. এটি সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে
  4. এটি স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে "এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়" মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ মূল্যবোধ স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়।
অর্থাৎ সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব, স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হওয়া মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। 

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ মানুষের আচরণের নৈতিক দিক নির্ধারণ করে।
২. নির্দিষ্টতা: সমাজে মূল্যবোধের নির্দিষ্ট কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা থাকে।
৩. বিভিন্নতা: সমাজ, সংস্কৃতি এবং অঞ্চলের পার্থক্য অনুসারে মূল্যবোধের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
৪. আপেক্ষিকতা: সময়, স্থান এবং প্রেক্ষাপট অনুসারে মূল্যবোধের ধারণা পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. সামাজিক মানদণ্ড: মূল্যবোধ সমাজে ভালো-মন্দ বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
৬. পরিবর্তনশীলতা: সমাজের পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের ধারা ও ধারণা পরিবর্তিত হয়।
৭. সম্পর্কের সেতু: মূল্যবোধ মানুষকে একত্রিত করতে সাহায্য করে এবং সমাজে সম্পর্ক স্থাপন করে।

মূল্যবোধের উপাদান:
১. নীতিবোধ: সমাজে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি।
২. শৃঙ্খলা: সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ।
৩. সহমর্মিতা: অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি এবং সাহায্যের ইচ্ছা।
৪. সৌজন্যবোধ: মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতা প্রদর্শন।
৫. মানবিকতা: মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ।
৬. শ্রমের মর্যাদা: কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬৯৪.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- 
  1. রাজনীতি
  2. সংস্কৃতি
  3. সুশাসন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৯৫.
কোনটি সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) পরশ্রীকাতরতা
  4. ঘ) আত্মভরিতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ যা সমাজের নাগরিকদের মধ্যে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম প্রভৃতি গুণাবলি স্পষ্ট করে তোলে। মূল্যবোধের শিক্ষা ব্যক্তি সমাজ থেকে লাভ করে এবং সমাজ তা ব্যক্তির নিকট থেকে প্রত্যাশা করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৯৬.
কোনটির ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) বিশ্বাস
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) ভাবাবেগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্বাসের ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো। 
- মানুষ তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করে। 
- জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে মূল্যবোধকে প্ৰয়োগ করে।
 
যেমন:
একজন ব্যক্তি মানবিকতায় বিশ্বাসী। তিনি জীবজগতের প্রতি সব সময়ই সহানুভূতিশীল। এখানে তার বিশ্বাস তাকে এই মানবিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, সে কারণে তিনি মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেন বা মূল্য দেন । এটাই তার মূল্যবোধ ।
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৬৯৭.
নিম্নের কোনটি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ?
  1. ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করা
  3. অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 
- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৬৯৮.
কোনটির নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই?
  1. ক) শিক্ষার
  2. খ) মূল্যবোধের
  3. গ) ন্যায়বিচারের
  4. ঘ) মানবাধিকারের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য
▪ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
▪ মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চচার্ ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
▪ তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা
  3. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  4. নৈতিকতা ও সততা তৈরি করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে-
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭০০.
’দাসপ্রথা বন্ধ করা’ কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- দাসপ্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ মূল্যবোধের উদাহরণ। 

আধুনিক মূল্যবোধ:

- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
-  দাসপ্রথা ,বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।