বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৭৮০

৫০১.
কোনটি মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান?
  1. আধ্যাত্মিক চেতনা
  2. শিল্প ও সংগীত
  3. প্রথা ও ঐতিহ্য
  4. আইন ও বিধি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- 'প্রথা ও ঐতিহ্য' হল মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি বা উপাদানগুলি নিম্নরূপ:
১. সামাজিক উপাদান:
- পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার
- সামাজিক রীতিনীতি
- প্রথা ও ঐতিহ্য
- সামাজিক নিয়মকানুন
- সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ

২. ধর্মীয় উপাদান:
- ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শ
- ধর্মীয় বিধি-নিষেধ
- নৈতিক মূল্যবোধ
- ধর্মীয় রীতিনীতি
- আধ্যাত্মিক চেতনা

৩. শিক্ষাগত উপাদান:
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
- চারিত্রিক শিক্ষা
- নৈতিক শিক্ষা
- জীবন দক্ষতা শিক্ষা
- সচেতনতামূলক শিক্ষা

৪. সাংস্কৃতিক উপাদান:
- ভাষা ও সাহিত্য
- শিল্প ও সংগীত
- লোকজ ঐতিহ্য
- জাতীয় সংস্কৃতি
- সাংস্কৃতিক উৎসব

৫. মানবিক উপাদান:
- করুণা ও সহানুভূতি
- ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
- সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- মানবতাবোধ

৬. রাষ্ট্রীয় উপাদান:
- আইন ও বিধি
- নাগরিক অধিকার
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- দেশপ্রেম
- সামাজিক দায়বদ্ধতা

৭. অর্থনৈতিক উপাদান:
- কর্মনৈতিকতা
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
- সামাজিক দায়িত্ববোধ
- সততা ও বিশ্বস্ততা

৮. পরিবেশগত উপাদান:
- প্রকৃতি সংরক্ষণ
- পরিবেশ সচেতনতা
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন

৯. বৈজ্ঞানিক উপাদান:
- যুক্তিবাদী চিন্তা
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত জ্ঞান
- বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

১০. নৈতিক উপাদান:
- সত্যবাদিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- সততা
- শৃঙ্খলাবোধ
- দায়িত্বশীলতা

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৫০২.
মূল্যবোধ (Values) কী?
  1. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
  4. শুধুমাত্র মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা
ব্যাখ্যা
⇒ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

এছাড়াও,
- সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে সমাজের পরিবর্তনশীলতা কে বুঝায়।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই। এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫০৩.
সমাজে মূল্যবোধ দৃঢ় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. শিক্ষার মাধ্যমে
  4. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫০৪.
'মিথ্যাকে মিথ্যা বলা' নাগরিকের কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫০৫.
মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে কোনটির অভাবে?
  1. আইনের শাসন
  2. সহনশীলতা
  3. সুশৃঙ্খল পরিবেশ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৬.
‘The elements of Ethics' গন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলী
  3. গ) জন স্টুয়ার্ড মিল
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
উক্ত গন্থের রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল। তার রচিত অন্যান্য গন্থ হলো- Power: A New Social Analysis,The elements of Ethics, Human Society in Ethics and Politics, Moral and others, Introduction to Mathomatical Philosophy etc.
রেফারেন্সঃ ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৫০৭.
'মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ'— উক্তিটি কার?
  1. এম. ডাব্লিউ. পামফ্রে
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. আর. টি. শেফার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

উল্লেখ্য,
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

এছাড়াও,
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৮.
কোনটি নারীর প্রতি একটি ভয়াবহ সহিংসতা?
  1. ক) এসিড নিক্ষেপ
  2. খ) সম্পত্তির অধিকারের বঞ্ছনা
  3. গ) শিক্ষা বঞ্ছনা
  4. ঘ) অত্যাধিক কাজে বাধ্য করা
ব্যাখ্যা
এসিড নিক্ষেপ নারীর প্রতি একটি ভয়াবহ সহিংসতা। বর্তমানে বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাধারণত নারীদের উপরই এসিড নিক্ষেপের ঘটনা অধিক ঘটে থাকে। প্রেম ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে এসিড নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে ৷ 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (নবম - দশম শ্রেণি)
৫০৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১০.
নিচের কোনটি ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে?
  1. আইন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মুল্যবোধ মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতির পার্থক্য নিরূপণ করে। এসবের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : মো. মোজাম্মেল হক)
৫১১.
মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকলে সুশাসন কী হয়?
  1. সহজ হয়
  2. দুর্বল হয়
  3. শক্তিশালী হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড তথা মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকলে সুশাসন দুর্বল হয়। সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সততার অভাবে সুশাসন ভেঙে পড়ে। মূল্যবোধ শিক্ষা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অন্যায় হ্রাস করে যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। মূল্যবোধ মানুষকে নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫১২.
চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্য ও ন্যায়
  2. সংস্কৃতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৩.
কোন মূল্যবোধ সহজাত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  3. আধুনিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এগুলো নিম্নরূপঃ

⇒ ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্ৰদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

⇒ আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না।
- গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১৪.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো- 
  1. আচরণধারা
  2. মানদণ্ড
  3. গোষ্ঠীগত কল্যাণ
  4. পারস্পরিক প্রত্যাশা
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values):
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু আচরণ, বিশ্বাস ও নীতি, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুযায়ী-
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড।"

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।''

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।''

•  স্টুয়ার্ট সি. ডড -এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেই সকল রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।''

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫১৫.
আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা সৃষ্টি হয়- 
  1. আইনের শাসন থেকে
  2. মূল্যবোধ থেকে
  3. সুশাসন থেকে
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫১৬.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক
  2. মানুষের আচরণের মানদণ্ড
  3. কর্মের পরিসেবা
  4. সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের মানদণ্ড।
- সার্বিকভাবে, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস। 
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৭.
মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়ন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
- মুল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সহায়ক।
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মূল্যবোধের শিক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গতি সঞ্চার করে।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৮.
‘সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা‘ নাগরিকের কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক কর্তব্য (Social Duties):
- মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করে, সমাজেই লালিত- পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে।
- এজন্যই এরিস্টটল বলেছেন যে, 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা।'
- সমাজ জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মানুষের তাই কর্তব্যও রয়েছে।

সামাজিক কর্তব্য:
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা,
→ সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং পরিচালনা করা,
→ সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অংশগ্রহণ করা,
→ সন্তান-সন্ততিকে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা,
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা ইত্যাদি হলো একজন নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৯.
নিচের কোনটি পেশাগত মূল্যবোধের একটি উপাদান?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. পারিবারিক ঐতিহ্য
  3. ব্যক্তিগত চিন্তাধারা
  4. শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের প্রকারভেদ:
- সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
১. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস, রুচি, নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্ট মূল্যবোধ। এটি ব্যক্তির আচরণ ও জীবনকে প্রভাবিত করে। পরিবার থেকে এর শিক্ষা শুরু হয়।
২. সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজের কল্যাণে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ন্যায়পরায়ণতা, সততা, শিষ্টাচার, বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা ইত্যাদি এর উদাহরণ।
৩. ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও নির্দেশনা থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ। এটি ব্যক্তির আদর্শ ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে।
৪. পেশাগত মূল্যবোধ: পেশায় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেয়। এটি ব্যক্তির পেশা বাছাই ও কাজের মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, 
- পেশাগত মূল্যবোধ বলতে পেশায় সঠিক ও নৈতিক আচরণ, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বকে বোঝায়। এর মধ্যে শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এটি একজন পেশাদার ব্যক্তির কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলার মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে।

অন্যদিকে,
ক) ধর্মীয় বিশ্বাস: এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ, যা পেশাগত মূল্যবোধের সরাসরি উপাদান নয়।
খ) পারিবারিক ঐতিহ্য: এটি ব্যক্তির পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের অংশ, পেশাগত নয়।
গ) ব্যক্তিগত চিন্তাধারা: এটি ব্যক্তির নিজস্ব মতামত বা দর্শন, যা পেশাগত মূল্যবোধের অংশ নয়।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা পেশাগত মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৫২০.
নিচের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা
  2. আইন মেনে চলা
  3. বাল্যবিবাহ বন্ধ করা
  4. বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা

• আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৫২১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীসের মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে?
  1. ব্যক্তিগত সফলতার
  2. শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার
  3. সামাজিক রীতিনীতি ও আদর্শের
  4. কেবলমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২২.
'রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ,
▪ পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ,
▪ ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
৫২৩.
'অন্যায়ের বিরোধিতা করা' কোন মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 

মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ-
সামাজিক মূল্যবোধ: শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ।
নৈতিক মূল্যবোধ: সত্যবাদিতা, ভাল-খারাপ জ্ঞান, অন্যায়ের বিরোধিতা, সাহায্য করা।
গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাক্-স্বাধীনতা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা।
আধুনিক মূল্যবোধ: সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল (যৌতুক প্রথা বাতিল করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহপ্রথা বন্ধ)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৫২৪.
দেশের মঙ্গলের জন্য নাগরিকের দায়িত্ব পালনে প্রেরণা যোগায় কোন মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে।
- দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫২৫.
মূল্যবোধ মানুষের কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) আত্মিক
  3. গ) অভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ মানুষের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণকে নিয়ন্ত্রন করে। মূল্যবোধ ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির এবং ব্যক্তির সাথে সমাজের আচরণ বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। মানুষের সমাজ জীবনকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিময় করতে মূল্যবোধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন)
৫২৬.
কোন মূল্যবোধ সহজাত?
  1. ব্যক্তিগত
  2. পারিবারিক
  3. আধুনিক
  4. আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. আইনের শাসন এড়িয়ে চলা
  3. জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা
  4. সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের চিন্তাভাবনা, আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড যে নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৈশিষ্ট্য:
- নির্বাচনি রায় মেনে নেওয়া: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা করতে শেখায়।
- সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ: নির্বাচিত সরকার নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পায়।
- শান্তিপূর্ণ সরকার গঠন ও পরিবর্তন: সহিংসতা ছাড়াই নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা হয়।
- ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে বৃহত্তর স্বার্থ: ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে রাষ্ট্র ও জাতির কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
- পরমতসহিষ্ণুতা: ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং গণতান্ত্রিক বিতর্কের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য, 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা, যা নির্বাচন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
গণতন্ত্রে জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মো. ইউনুস আলী দেওয়ান ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২৮.
কোন মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৯.
“সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।” -  উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. হ্যারল্ড লাস্কি
  3. এফ ই মেরিল
  4. এমিল দুর্খেইম
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩০.
কোনো ব্যক্তির বিশ্বাস ও নীতি-নৈতিকতা থেকে কোন ধরনের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩১.
মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড হচ্ছে -
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের সংজ্ঞা:
- এইচ. ডি. ষ্টেইন (H.D. stain)-এর মতে, "জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।"
- এম. আর. উইলিয়াম M.R. william)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।"
- এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।"
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon)-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচারআচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩২.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে?
  1. ন্যায় ও অন্যায়
  2. ভালো ও মন্দ
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত। 
অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ , নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে ।

মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৩.
'উদারতাবাদ' নিম্নের কোন ধরনের মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

⇒ উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়।
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৩৪.
মূল্যবোধ কী?
  1. সমাজের মানুষের কার্যাবলি
  2. আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি
  3. ব্যক্তির মৌলিক বৈশিষ্ট্য
  4. আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫৩৫.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য কি?
  1. ক) সামাজিক মাপকাঠি
  2. খ) নীতিবোধ
  3. গ) শৃঙখলাবোধ
  4. ঘ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, পরিবর্তনশীলতা, নৈতিক প্রাধান্য ইত্যাদি। বাকি তিনটি অপশন মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৫৩৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই
  2. মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
  3. সুশাসন থাকলে মূল্যবোধ শিক্ষা অপ্রয়োজনীয়
  4. মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে প্রযোজ্য, রাষ্ট্রের জন্য নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, অংশগ্রহণমূলক নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো গুণাবলি প্রয়োজন হয়, যা মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে বিকশিত হয়।
- যদি মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকে, তাহলে প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে, আইন থাকলেও তা কার্যকর হবে না এবং জনগণের কল্যাণ ব্যাহত হবে।
- এভাবে, মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং একটি ন্যায়সংগত, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের উপাদান নয়?
  1. ক) সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান বলে স্বীকার করা হয় তা হলো:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৫৩৮.
Principia Ethica গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) এম ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) জর্জ এডওয়ার্ড মুর
  4. ঘ) নিকোলা মেকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
Principia Ethica গ্রন্থটি রচনা করেন ব্রিটিশ অ্যানালিটিক্যাল ফিলোসফার জর্জ এডওয়ার্ড মুর। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে নীতিবিদ্যা'র বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে জি.ই. মুর এর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থেই জি ই মুর প্রথম পরানীতিবিদ্যা বা Metaethics এর সূত্রপাত করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৫৩৯.
একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো-
  1. ক) সাম্যবাদ
  2. খ) উপযোগবাদ
  3. গ) স্বর্গীয় রাষ্ট্র
  4. ঘ) সুবর্ণ মধ্যক
ব্যাখ্যা

- 'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা।
- যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।

৫৪০.
মূল্যবোধ নামক প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে -
  1. ক) নীতি, মান ও বিশ্বাস
  2. খ) শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলা
  3. গ) শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদন
  4. ঘ) সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও বিনোদন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস
▪ মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
▪ আপনার মূল্যবোধ কী হবে তার ব্যাখ্যা প্রদানে আপনার পিতা-মাতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
▪ তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
▪ মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস
▪ এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা।
▪ এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব কী?
  1. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করা
  2. সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা
  3. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল। 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব -
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি।
২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি।
৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে।
৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে।
৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়।
৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ।
৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে।
৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৪২.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. নৈতিক জীবনযাপন
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. ধর্মীয় অনুশাসন শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি বা নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো সামাজিক অবক্ষয় বা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৪৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীসের বিকাশে সহায়তা করে?
  1. ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সচেতনতা
  2. ধর্মীয় বিশ্বাস
  3. প্রযুক্তিগত দক্ষতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৪৪.
কোন প্রতিষ্ঠানের সফলতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
  1. ক) শাসনকার্য
  2. খ) ফলপ্রসূ শাসনকার্য
  3. গ) ব্যাক্তিস্বার্থ
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৫৪৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. কঠোর অনুশাসন
  2. গণতন্ত্রের চর্চা
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. সীমিত ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন- ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:

- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।

⇒ গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৬.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য কোনটি?
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৭.
“Nicomachean Ethics” - কার লেখা বই?
  1. ক) Bartrand Russell
  2. খ) Aristotle
  3. গ) Plato
  4. ঘ) James Rachels
ব্যাখ্যা
গ্রীক ভাষায় প্রকাশিত দার্শনিক এরিস্টটলের লেখা বই - Nicomachean Ethics। তার লেখা অন্যান্য বিখ্যাত বই -
Politics,
The Rhetoric/The Poetics,
Metaphysics ইত্যাদি।
৫৪৮.
মানবিক মূল্যবোধ কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে
  2. ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
  3. সামাজিক উন্নয়ন করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ:
- মানবিক মূল্যবোধ হচ্ছে শৃঙ্খল ও ন্যায় সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত।
- মানবিক মূল্যবোধ বলতে কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে বুঝায়।
- যে চিন্তা–ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মানবিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, তাদের সেবা করা, উত্তম ব্যবহার, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা প্রভৃতি মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৫৪৯.
নাগরিকের কর্তব্যকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যা সব দায়িত্ব পালন করে, তাকে কর্তব্য বলে। নাগরিকের কর্তব্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় —নৈতিক কর্তব্য ও আইনগত কর্তব্য। [পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণী]
৫৫০.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া
  2. সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ
  3. বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করা
  4. সততা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫১.
‘Moralitas'- ল্যাটিন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) নৈতিক
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) চরিত্র
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫২.
‘বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রধান না করা’- কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,রাজনৈতিক সহনশীলতা, দায়িত্বশীল নীতি কার্যকর করা, বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা, নির্বাচনে জয় পরাজয় কে মেনে নেওয়া ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫৩.
কোন ধরনের মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) জাতীয় মূল্যবোধ
  2. খ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) আধুনিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

• মূল্যবোধ:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ঠ্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদন্ড।

- এসব মূল্যবোধের আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতিনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
- সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও সুশাসনের প্রাণ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
কোনটি মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান?
  1. প্রথা ও ঐতিহ্য
  2. শিল্প ও সংগীত
  3. আইন ও বিধি
  4. আধ্যাত্মিক চেতনা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'প্রথা ও ঐতিহ্য' হল মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান।

মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি বা উপাদানগুলি নিম্নরূপ:
১. সামাজিক উপাদান:
- পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার
- সামাজিক রীতিনীতি
- প্রথা ও ঐতিহ্য
- সামাজিক নিয়মকানুন
- সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ

২. ধর্মীয় উপাদান:
- ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শ
- ধর্মীয় বিধি-নিষেধ
- নৈতিক মূল্যবোধ
- ধর্মীয় রীতিনীতি
- আধ্যাত্মিক চেতনা

৩. শিক্ষাগত উপাদান:
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
- চারিত্রিক শিক্ষা
- নৈতিক শিক্ষা
- জীবন দক্ষতা শিক্ষা
- সচেতনতামূলক শিক্ষা

৪. সাংস্কৃতিক উপাদান:
- ভাষা ও সাহিত্য
- শিল্প ও সংগীত
- লোকজ ঐতিহ্য
- জাতীয় সংস্কৃতি
- সাংস্কৃতিক উৎসব

৫. মানবিক উপাদান:
- করুণা ও সহানুভূতি
- ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
- সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- মানবতাবোধ

৬. রাষ্ট্রীয় উপাদান:
- আইন ও বিধি
- নাগরিক অধিকার
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- দেশপ্রেম
- সামাজিক দায়বদ্ধতা

৭. অর্থনৈতিক উপাদান:
- কর্মনৈতিকতা
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
- সামাজিক দায়িত্ববোধ
- সততা ও বিশ্বস্ততা

৮. পরিবেশগত উপাদান:
- প্রকৃতি সংরক্ষণ
- পরিবেশ সচেতনতা
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন

৯. বৈজ্ঞানিক উপাদান:
- যুক্তিবাদী চিন্তা
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত জ্ঞান
- বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

১০. নৈতিক উপাদান:
- সত্যবাদিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- সততা
- শৃঙ্খলাবোধ
- দায়িত্বশীলতা

এই সকল উপাদান পরস্পর সম্পর্কিত এবং একে অপরের পরিপূরক।
এগুলির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সমৃদ্ধ মূল্যবোধ, যা সমাজ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৫৫৫.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত?
  1. আচরণ
  2. অভ্যাস
  3. নৈতিকতা
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- আচরণ মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫৬.
 নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. আচরনগত মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ 
ব্যাখ্যা

আচরনগত মূল্যবোধ নামে কোন মূল্যবোধ নেই।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।

•মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫৭.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সংস্কৃতি চর্চায় বাধা প্রদান
  2. বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ
  3. অপসংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান
  4. অন্য সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে।
- সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
- সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
- সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।
- তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫৮.
মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় কীভাবে?
  1. জন্মগতভাবে
  2. রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে
  3. আচরণের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হচ্ছে বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫৯.
'অন্যায়কে অন্যায় বলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
• সত্যকে সত্য বলা,
• মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
• অন্যায়কে অন্যায় বলা,
• অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
• দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
• বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
• অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৬০.
“Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” -উক্তিটি কার?
  1. ক) হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলী
  3. গ) লর্ড অ্যাক্টন
  4. ঘ) গ্ল্যাডস্টোন
ব্যাখ্যা
- “Power tends to corrupt and absolute power corrupts absolutely” –উক্তিটি লর্ড জন অ্যাক্টনের।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৫৬১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কী প্রশমিত হয়?
  1. উন্নতি
  2. উত্তেজনা
  3. সম্প্রীতি
  4. অগ্রগতি
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হচ্ছে উদারতাবাদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
- এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

⇒ উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়।
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৬২.
মূল্যবোধগুলো সমাজে কী হিসেবে ভূমিকা পালন করে?
  1. অর্থনৈতিক শক্তি
  2. ব্যক্তিগত লাভ
  3. সামাজিক বিভিন্নতা সৃষ্টি
  4. সামাজিক সেতুবন্ধন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬৩.
কোনটির মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. আইন প্রয়োগ
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৬৪.
মূল্যবোধের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা দেখা যায় কীসের ভিত্তিতে?
  1. স্থানভেদে
  2. কালভেদে
  3. পারিপার্শ্বিকতাভেদে
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
= মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬৫.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের _______ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  1. সামরিক শক্তির
  2. সার্বিক উন্নয়নের
  3. শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার
  4. কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। এগুলোর প্রভাব শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো খাতে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক- সবক্ষেত্রে পড়ে।

সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ-
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: সুশাসন রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন: নৈতিকতা ও সুশাসন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এবং দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।
সামাজিক উন্নয়ন: মূল্যবোধ শিক্ষা নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সামাজিক সমতা নিশ্চিত করে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৬.
মূল্যবোধ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. শিক্ষা সনদ দ্বারা
  2. প্রচলিত আইন দ্বারা
  3. আচরণের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় আইন দ্বারা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৬৭.
’সৎ ভাবে বাঁচতে চাওয়া’ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 

- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
৫৬৮.
ন্যায়পরায়ণতার একটি মূলনীতি হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  2. সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধি
  3. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রাধান্য
  4. ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচার
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।
- আইনের শাসন।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৬৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা কী প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. ন্যায়বিচার
  2. আইনের শাসন
  3. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন,  সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে সুশাসন নিশ্চিত করে।

মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:

• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত ও বিকশিত করে।

• কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে:
- কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। কর্তব্যবোধ না থাকলে সুশাসন ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্যই নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধকে নাগরিকের অন্যতম গুণ বলা হয়।

• সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা:
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতাকে মূল্যবোধের যেমন উপাদান মনে করা হয় তেমনি তা সুশাসনের ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য মনে করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭০.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি মৌলিক সততা নয়?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) পরোপকারিতা
  4. ঘ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
- মৌলিক সততা বলতে সেসব সদগুণাবলীকে বুঝায় যা বিভিন্ন শ্রেণীর সদগুণাবলির ভিত্তি।
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা চারটি। এগুলো হলো:
- জ্ঞান
- সাহসিকতা
- আত্মসংযম ও
- ন্যায়পরায়ণতা।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫৭১.
'অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধ্যাত্মিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৫৭২.
সুশাসনের জন্য অপরিহার্য নয় কোনটি?
  1. ক) বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. খ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. ঘ) জবাব্দিহিতামূলক সরকার
ব্যাখ্যা
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৫৭৩.
সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের -
  1. সোপান
  2. প্রাণ
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭৪.
ব্যক্তি জীবনে মূল্যবোধ অর্জনের সর্বোত্তম সময় কোনটি?
  1. শিশুকাল
  2. শিক্ষাজীবন
  3. চাকরিজীবন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭৫.
সুবর্ণ-মধ্যক কী?
  1. ক) একটি নক্ষত্র
  2. খ) একটি দার্শনিক ধারণা
  3. গ) গাণিতিক পরিভাষা
  4. ঘ) সমবাহু ত্রিভূজের মধ্যমা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন। দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে। (সূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৫৭৬.
নীতিগত ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি সমাজে কী ইঙ্গিত করে?
  1. শিক্ষার অবক্ষয়
  2. আইনের অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. সুশাসনের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। যেমন- ইভ-টিজিং পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় ফলে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
- এটি সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব তৈরি করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
নৈতিক মূল্যবােধের উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবােধের উৎস নৈতিক চেতনা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭৮.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।” উক্তিটি কার?
  1. নিকোলাস রেসার
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ।
- এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

এছাড়াও,
- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।”

- নিকোলাস রেসার (Nicholas Rescher)-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয় ।"

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭৯.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন?
  1. সুশাসন ছাড়া মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
  2. মূল্যবোধ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
  3. মূল্যবোধ ও সুশাসন একে অপরের জন্য নিরপেক্ষ।
  4. সুশাসনের জন্য আইনই যথেষ্ট, মূল্যবোধের প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন হলো একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য শাসন ব্যবস্থা, যা নীতি, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নৈতিক আদর্শ এবং নীতি, যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং পরস্পরকে সমর্থন করে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য, কারণ এটি শাসক ও জনগণের আচরণকে নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করে।
- সুশাসন তখনই কার্যকরী হতে পারে, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়।
- সুশাসন এবং মূল্যবোধ একে অপরকে শক্তিশালী করে, যা সমাজের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮০.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আপেক্ষিকতা
  2. আইনের শাসন
  3. নাগরিক সচেতনতা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত-  আপেক্ষিকতা।

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- সামাজিক মাপকাঠি
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
- বিভিন্নতা
- নৈতিক প্রাধান্য
- আপেক্ষিকতা, ইত্যাদি।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান :
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা এবং
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮১.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) সাংস্কৃতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৫৮২.
সমাজ বা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে কোনটির অভাব দেখা দেয়?
  1. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ
  2. ব্যক্তি নিরাপত্তা
  3. ব্যক্তিগত মতামত
  4. ব্যক্তি সচেতনতা
ব্যাখ্যা
শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজ বা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়।
- এর ফলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৩.
নিম্নলিখিত কোন মূল্যবোধ অতীতে ছিল কিন্তু এখন নেই?
  1. স্কুল শিক্ষার গুরুত্ব
  2. মানবাধিকারের স্বীকৃতি
  3. সতীদাহ প্রথা
  4. স্বাস্থ্য সচেতনতা
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে বোঝায় এমনসব নীতি ও মানদণ্ড যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, যুক্তি, বিজ্ঞান, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, সহনশীলতা, ও প্রগতিকে গুরুত্ব দেয়; যা প্রথাগত ধারণার বদলে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়, যেখানে আইন ও নাগরিক সচেতনতা, শ্রমের মর্যাদা, এবং নৈতিকতা আধুনিক জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

উল্লেখ্য,
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই। মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮৪.
মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার হয় কীসের দ্বারা?
  1. পেশিশক্তির দ্বারা
  2. টাকা পয়সার দ্বারা
  3. বংশ মর্যাদার দ্বারা
  4. ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা
ব্যাখ্যা
মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার হয় ইচ্ছা ও ঔচিত্যবোধের মাপকাঠি দ্বারা।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৫.
কোনটি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সাদৃশ্য নির্দেশ করে?
  1. উভয়ই আচরণ সংক্রান্ত ধারণা
  2. উভয়ই কেবল ব্যক্তিগত
  3. উভয়ই অপরিবর্তনীয়
  4. উভয়ই ধর্মনির্ভর
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- নৈতিকতা সার্বজনীন। 
- নৈতিকতা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ। 
- নৈতিকতা এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ। 
- নৈতিকতা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সামষ্টিক বিষয়। 
- মূল্যবোধ মানুষের অবশ্য পালনীয় আচরণ। 
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক। 
- মূল্যবোধ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। 
- মূল্যবোধের সাথে ধর্মের সম্পর্ক আছে। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার। 
- মূল্যবোধ শুধু বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৬.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. পরোপকারিতা
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. সত্যবাদিতা
  4. আইন মান্য করা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- পরমতসহিষ্ণুতা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আইন মেনে চলা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত।
অন্যদিকে,
- শ্রমের মর্যাদা হলো সামাজিক মূল্যবোধ
- পরোপকারিতা ও সত্যবাদিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৫৮৭.
Morality শব্দটি কোন শব্দ হতে এসেছে?
  1. ক) ল্যাটিন Moralita
  2. খ) গ্রীক Moralitas
  3. গ) ল্যাটিন Moralitas
  4. ঘ) গ্রীক Moralita
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে। যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র। গ্রিক দর্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরত্বারোপ করেন। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৮.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।' - উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. মেরিল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।"
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮৯.
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা কোনটি?
  1. ক) যৌতুক
  2. খ) কুসংস্কার
  3. গ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি 
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
 বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যা হলো :
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি 
- বাল্যবিবাহ
- কুসংস্কার 
- দারিদ্র 
- যৌতুক
- নিরক্ষতা 

 (উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সপ্তম শ্রেণি)।
৫৯০.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ”—উক্তিটি কার?
  1. এইচ এম জনসন
  2. এফ ই মেরিল
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. ক্লাইড ব্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯১.
সামাজিক মূল্যবোধ একটি ব্যক্তির কোন আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোন জিনিসের অভাবে বিকশিত হয় না?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) জনকল্যাণমুখীতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র সফল বা অর্থবহ হয়ে উঠে না৷ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো বিকশিত হয় না।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৫৯৩.
যেসব মনোভাব এবং আচরণ মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে তা হচ্ছে -
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. পারিবারিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৯৪.
কোন মূল্যবোধের জন্য মানুষ সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
৫৯৫.
আইনগত সাম্যের মূল কথা হচ্ছে -
  1. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
  2. সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা
  3. আইনের চোখে সকলেই সমান
  4. সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা।
- সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৬.
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে'' - উক্তিটি কে করেছেন?  
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. এইচ. ডি. ষ্টেইন
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৫৯৭.
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয় -
  1. যোগ্যতা
  2. মূল্যবোধ
  3. ন্যায়বিচার
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয় - মূল্যবোধ।

মূল্যবোধ:
→ মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত কর এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠ করে।
→ সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
কিসের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করা যায়?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. সততা
  4. কর্তব্যবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।  সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৯৯.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি? 
  1. সুশাসন
  2. সংস্কৃতি
  3. উন্নয়ন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬০০.
সংস্কৃতিকে বলা হয় মূল্যবোধের -
  1. প্রাণ
  2. সোপান
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।